#বাঁধন_রূপের_অধিকারী
#লেখিকা_সুমি_চৌধুরী
[৫৭]
ইশতিয়াক এখন অনেকটাই সুস্থ। আপাতত হুইলচেয়ারে বসানো যায় তাকে। সীমার সার্বক্ষণিক যত্নে কোনো ত্রুটি নেই। সময়মতো আহার। নিয়মমাফিক ওষুধ। প্রতিটি বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি তার। কখনো বিকেলবেলা ইশতিয়াককে হুইলচেয়ারে বসিয়ে ঘুরে আসে পথঘাট। লোকসমাজের নানা কটুকথা কানে এলেও সেসবের তোয়াক্কা করে না সীমা।
আজ বেশ সকালেই নামাজ শেষে ইশতিয়াককে হুইলচেয়ারে বসিয়ে বাইরে নিয়ে আসে সে। চারপাশ তখনো কুয়াশার চাদরে ঢাকা। ভোরের আবছায়া কাটেনি পুরোপুরি। হাঁটতে হাঁটতে একসময় এসে পৌঁছায় একটি এতিমখানায়।সীমাকে দেখামাত্র ছুটে আসে একঝাঁক শিশু। আনন্দে ঘিরে ধরে তাকে। এর আগেও বহুবার ইশতিয়াককে সঙ্গে নিয়ে এখানে এসেছে সীমা। তাই ছোট্ট মুখগুলোর কাছে সে বেশ পরিচিত।একটি শিশু অভিমানমাখা কণ্ঠে বলে,
” আন্টি৷ তুমি এসেছো। আমরা তো ভাবছিলাম, আমাদের বুঝি ভুলেই গেছো। “
শিশুটির গাল টিপে আদুরে স্বরে জবাব দেয় সীমা,
” তোমরা ভোলার মতো সুইট পাখি নও। আমি কখনোই তোমাদের ভুলব না। “
কথা শেষ করেই নিজের সঙ্গে আনা চকলেটগুলো শিশুদের হাতে তুলে দেয় সীমা। আনন্দে খিলখিলিয়ে হেসে ওঠে ছোট্ট মুখগুলো। তাকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে সবাই। সীমার অধরেও ফুটে ওঠে স্নিগ্ধ হাসি।হঠাৎ ঘুরে তাকায় ইশতিয়াকের দিকে। মানুষটি চোখ বুজে বসে আছে। নেই কোনো নড়াচড়া। নেই কোনো সাড়া। যেন নিথর এক প্রতিমূর্তি।দৃশ্যটি বুকের গহিনে হাহাকার জাগায় সীমার। অজান্তেই গড়িয়ে পড়ে অশ্রুবিন্দু। দ্রুত হাতের পিঠে মুছে নেয় জলটুকু। তারপর ইশতিয়াককে নিয়ে ফিরে আসে বাড়িতে।ড্রয়িংরুমে পা রাখতেই বিস্ময়ে থমকে যায় সীমা। সোফায় বসে আছেন তার বাবা ও মা। দুজনের মুখই গম্ভীর। পাশেই চিন্তিত বদনে বসে আছেন বিলকিস বানু।এত সকালে বাবা-মাকে দেখে কিছুটা বিস্মিত হয় সীমা। এগিয়ে গিয়ে কৌতূহলী কণ্ঠে শুধায়,
” আম্মু। আব্বু। তোমরা এত সকালে? “
সীমার বাবা সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। গম্ভীর মুখে মেয়ের দিকে তাকিয়ে দৃঢ় কণ্ঠে বলেন,
” সীমা। রুমে আয়। তোর সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে। “
কথা শেষ করেই পা বাড়ান ঘরের দিকে। সীমা একবার সবার মুখপানে তাকায়। তারপর ইশতিয়াককে সঙ্গে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে। ভেতরে গম্ভীর বদনে দাঁড়িয়ে আছেন তার বাবা।
কাছে এগিয়ে গিয়ে শান্ত স্বরে বলে সীমা,
” কিছু বলবে আব্বু? “
সীমার বাবা অন্যদিকে ফিরে দাঁড়িয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলেন,
” হুম। তোর সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে। “
সীমা কোমল স্বরে বলে,
” বলো বাবা। “
সীমার বাবা স্পষ্ট কণ্ঠে বলেন,
” আমি তোকে এখান থেকে নিয়ে যেতে চাই। “
বিস্ময়ে থমকে যায় সীমা। অবিশ্বাসভরা কণ্ঠে বলে,
” আমাকে নিয়ে যাবে মানে? “
সীমার বাবা সাইফুল শরীয়ত মেয়েকে বোঝানোর সুরে বলেন,
” মানে৷ আমি তোকে এখান থেকে নিজের সঙ্গে নিয়ে যেতে চাই। আমি চাই না, আমার মেয়েটা একজন অসুস্থ মানুষের সঙ্গে এভাবে সারাজীবন সংসার করুক। “
সীমার ভ্রু যুগল কুঞ্চিত হয়। বিস্ময়ভরা কণ্ঠে বলে,
” বাবা৷ ও তোমার ভাগিনা হয়। “
সাইফুল শরীয়ত গম্ভীর স্বরে জবাব দেন,
” ও আমার ভাগিনা হলেও তুই আমার মেয়ে। ও পরের রক্ত আর তুই আমার নিজের রক্ত। একজন বাবা হয়ে কীভাবে নিজের মেয়েকে কোমায় থাকা একজন মানুষের সঙ্গে এভাবে জীবন কাটাতে দিতে পারি বল? “
বাবার কথার অন্তর্নিহিত অর্থ এবার স্পষ্ট হয় সীমার কাছে। অধরে মৃদু হাসি টেনে বলে,
” ওহ তার মানে তুমি আমাকে ইশতিয়াকের কাছ থেকে আলাদা করে নিয়ে যেতে চাও? “
সাইফুল শরীয়ত সংক্ষিপ্ত স্বরে বলেন,
” হুম। “
সীমা শান্ত কণ্ঠে জানতে চায়,
” নিয়ে গিয়ে কী করবে? “
সাইফুল শরীয়ত দৃঢ় স্বরে জবাব দেন,
” একজন বাবা তার মেয়ের জন্য যা করে, আমিও তা-ই করব। “
সীমা আবার প্রশ্ন করে,
” সেটাই তো জানতে চাইছি। নিয়ে গিয়ে করবে কী? “
সাইফুল শরীয়ত এবার স্পষ্ট কণ্ঠে বলেন,
” তোর ভবিষ্যতের কথা ভেবে ভালো একটা ছেলে দেখে তোকে বিয়ে দেব। এখানে থেকে দিনের পর দিন একজন রোগীর সেবা করে নিজের জীবন কাটাতে হবে না তোকে। “
সীমা তৎক্ষণাৎ কঠিন স্বরে বলে,
” তাহলে শুনে রাখো। ইশতিয়াককে ছেড়ে আমি কোথাও যাব না। “
সাইফুল শরীয়ত ঘুরে দাঁড়ান। মেয়ের মুখোমুখি হয়ে তীক্ষ্ণ কণ্ঠে বলেন,
” যাবি না তো কী করবি? এভাবে একটা পঙ্গু মানুষের সঙ্গে সারাজীবন সংসার করবি? “
কথাটা কানে যেতেই ক্রোধে জ্বলে ওঠে সীমা। কণ্ঠ উঁচিয়ে বলে,
” খবরদার আব্বু। আমার স্বামীকে একদম পঙ্গু বলবে না। ভুলে যেয়ো না, এই ইশতিয়াকই একদিন নিজের জীবন বাজি রেখে তোমার মেয়ের সম্মান রক্ষা করেছিল। “
মেয়ের কথায় সাইফুল শরীয়তের মুখমণ্ডল কিছুটা ম্লান হয়ে আসে। মাথাটাও সামান্য অবনত হয়। কিন্তু পরক্ষণেই ক্ষোভে কণ্ঠ ভারী করে বলেন,
” তুই এখন বাবার মুখের ওপর কথা বলছিস? “
মাথা অবনত করে সীমা মৃদু স্বরে বলে,
” ক্ষমা করো আব্বু। তোমার মুখের ওপর কথা বলার দুঃসাহস আমার নেই। কারণ তুমি আমাকে সেই শিক্ষা দিয়ে বড় করোনি। কিন্তু বাবা… “
কথার রেশটুকু মিলিয়ে যাওয়ার আগেই হাত তুলে মেয়েকে থামিয়ে দেন সাইফুল শরীয়ত। কঠোর কণ্ঠে বলে ওঠেন,
” ব্যস। আর একটা কথাও শুনতে চাই না। আমি যা বলব, এখন থেকে তা-ই হবে। তুই আজই আমার সঙ্গে বাড়ি যাবি। তোকে আমি নিয়েই যাব। প্রয়োজনে জোর করেও নিয়ে যাব। তোর ভবিষ্যৎ সুন্দর করতে যা যা করা প্রয়োজন, আমি সবই করব। খারাপ হতে হলে খারাপই হব। “
বাবার মুখে অনড় সিদ্ধান্ত শুনে স্তব্ধ হয়ে যায় সীমা। মুহূর্তেই দু’চোখ বেয়ে অশ্রুধারা নামে। বুকের ভেতর জমে থাকা যন্ত্রণায় কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে। তবু ভাঙা স্বরে বলে,
” ছোটবেলা থেকে তুমি যা করতে বলেছ, মাথা পেতে সব মেনে নিয়েছি। কখনো তোমার কথার অবাধ্য হইনি। কিন্তু আজ তোমার এই কথাটা রাখতে পারব না আব্বু। আমি কিছুতেই ইশতিয়াককে ছেড়ে যাব না। তুমি শুধু ওর নিথর শরীরটা দেখছ। যে ও আর হাঁটতে পারবে না। কথা বলতে পারবে না। কিন্তু ওর বুকের ভেতর যে প্রাণটুকু এখনো স্পন্দিত হচ্ছে, তা কি একবারও দেখছ? সেই প্রাণের সঙ্গেই যে জড়িয়ে আছি আমি। ওর ওইটুকু প্রাণেই আমার সমস্ত পৃথিবী বেঁচে আছে। ওকে ঘিরেই আমার বেঁচে থাকা। তুমি আমাকে যা-ই বলো, যত জোরই করো, আমি কিছুতেই ইশতিয়াককে ছেড়ে যাব না। “
সাইফুল শরীয়তের মুখমণ্ডল আরও কঠোর হয়ে ওঠে। হুমকিমিশ্রিত স্বরে বলেন,
” যাবি না তো? ঠিক আছে। আজ যদি তুই আমাদের সঙ্গে না যাস৷ তাহলে তোর বাবার মরা মুখ দেখবি। “
কথাটা শুনে শিউরে ওঠে সীমা। বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে। আর্তকণ্ঠে চিৎকার করে ডাকে,
” আব্বু। “
সাইফুল শরীয়ত সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে কঠিন স্বরে বলেন,
” এবার তুই ভেবে দেখ। কাকে বেছে নিবি? দুদিনের এই ভালোবাসাকে, নাকি তোর জন্মদাতা বাবাকে? “
কথা শেষ করেই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি।নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সীমা। নিমিষেপায়ের নিচের মাটি যেন সরে যায়। শেষমেশ হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে। ইশতিয়াকের হাঁটুর ওপর মাথা রেখে বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়ে৷ ইশতিয়াকের উদ্দেশে বলে,
” আপনি কথা বলেন না কেন? একবার কথা বলুন না। আব্বুকে একটু বুঝিয়ে বলুন। আমি আপনাকে ছেড়ে কোথাও যাব না। ভালোবাসি আপনাকে। আপনাকে ছাড়া আমার এই জীবনে অন্য কাউকে জায়গা দেওয়ার সাধ্য নেই। “
নেই কোনো উত্তর। নেই সামান্যতম সাড়াও। নিথর ইশতিয়াকের নীরবতা যেন আরও গভীর করে তোলে সীমার বুকের হাহাকার। কান্নার বেগ বাড়ে। স্বামীর পা দুটো আঁকড়ে ধরে আকুল কণ্ঠে বলে,
” সৃষ্টিকর্তাকে বলুন না। আমি সারাজীবন আপনার সেবা করে কাটিয়ে দেব। আপনার পায়ের কাছেই পড়ে থাকব। বিনিময়ে কিছুই চাইব না। শুধু আমার জীবন থেকে আপনাকে কেড়ে না নিক। আপনাকে ছাড়া অন্য কাউকে নিয়ে বাঁচার কথা ভাবতেও পারি না আমি। যদি কখনো আপনাকে হারিয়ে ফেলি, তবে এই জীবন বয়ে বেড়ানোর শক্তিটুকুও আমার থাকবে না। আমি যে আপনাকে ছাড়া বাঁচতে জানি না। “
অঝোর ধারায় কাঁদতে থাকে সীমা। অশ্রুতে ভিজে যায় স্বামীর পা দুটো। তবু মেলে না কোনো সাড়া। নীরবই থেকে যায় পুরুষটি। আজ যদি ইশতিয়াক জানত, যে নারীকে একদিন কত অবহেলা করেছে। কতবার আঘাত করেছে। আজ সেই নারীই তার পাশে থেকে যাওয়ার আকুতি জানাচ্ছে।সময় গড়িয়ে অনেকটা বেলা হয়। তবু অনড় হয়ে বসে থাকেন সীমার বাবা। মেয়েকে সঙ্গে নিয়েই ফিরবেন তিনি। আর নিজেকে সামলে রাখতে পারেন না বিলকিস বানু। অশ্রুসিক্ত চোখে ছুটে আসেন ঘরে। সীমাকে টেনে বাইরে এনে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেন। কান্নাভেজা কণ্ঠে বলে ওঠেন,
” চলে যা আমার ছেলের জীবন থেকে। কেন পড়ে আছিস ওর জীবনে? কেন আমার এই অসহায় ছেলেটার জীবনটাকে আরও জটিল করে তুলছিস? চলে যা। আর কখনো আমার ছেলের আশপাশেও আসবি না। “
মেঝেতে পড়ে থাকা সীমা অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে তাকায় বিলকিস বানুর দিকে। পরক্ষণেই তাঁর পা দুটো আঁকড়ে ধরে আকুল স্বরে বলে,
” ফুপি, অন্তত তুমি আমাকে বোঝো। আমাকে তাড়িয়ে দিয়ো না। বাবাকে একটু বুঝিয়ে বলো। আমি ইশতিয়াকের কাছেই থাকতে চাই। সারাজীবন ওর সেবা করেই কাটিয়ে দিতে চাই। “
বিলকিস বানু পা ছাড়িয়ে নেন। কান্নাজড়িত কঠিন স্বরে বলেন,
” আবেগ দিয়ে জীবন চলে না সীমা। তোরও একটা ভবিষ্যৎ আছে। সামনে পড়ে আছে অনেকটা জীবন। আমার ছেলে এখন আর তোকে সেই পূর্ণ সুখ দিতে পারবে না, যা একজন স্বামী তার স্ত্রীকে দেয়। তুই চলে যা। গিয়ে কোনো রাজপুত্রের মতো ছেলেকে বিয়ে করে নতুন করে সংসার বাঁধ। তোর এই ফুপির দোয়া সবসময় তোর সঙ্গে থাকবে। “
কথাগুলো শুনে বুকফাটা আর্তনাদে ফেটে পড়ে সীমা। অশ্রুসিক্ত চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে,
” আমার জীবনে অন্য কেউ আসার আগে আল্লাহ যেন আমার নিশ্বাসটুকুই কেড়ে নেন। আমি তাঁর দরবারে এই ফরিয়াদই জানালাম। “
এবার সোফা ছেড়ে উঠে আসেন সীমার বাবা। মেয়ের হাত শক্ত করে ধরে সংক্ষিপ্ত স্বরে বলেন,
” ওঠ। “
কান্নায় ভেঙে পড়া সীমা বাবার দিকে তাকিয়ে কাতর কণ্ঠে বলে,
” আমি যাব না বাবা। “
সীমার বাবা আর কোনো কথায় কর্ণপাত করেন না। জোরপূর্বক মেয়েকে টেনে দাঁড় করান। ততক্ষণে ইসরাত অশ্রুসিক্ত চোখে ইশতিয়াককে ঘর থেকে বের করে এনেছে। বিলকিস বানু আঁচলে মুখ ঢেকে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন।সীমা একবার ইশতিয়াকের মুখপানে তাকায়। অশ্রুভেজা চোখে স্বামীর নিথর মুখখানি দেখে বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে ওঠে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে,
” সুস্থ হয়ে যদি কোনোদিন জানতে পারেন, আমি আর এই পৃথিবীতে নেই, তবে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। আমার প্রতি কোনো অভিমান রাখবেন না। শুধু একবার মনে করবেন, এই পৃথিবীতে একজন নারী ছিল, যে আপনাকে নিজের সমস্তটুকু দিয়ে ভালোবেসেছিল। যার শেষ নিঃশ্বাসেও শুধু আপনারই নাম জড়িয়ে ছিল। “
সাইফুল শরীয়ত মেয়েকে টানতে টানতে বাড়ির সদর দরজার দিকে এগিয়ে যান। সীমার পা দুটো যেন পেছনে আটকে থাকে। বারবার ঘাড় ফিরিয়ে তাকায় ইশতিয়াকের দিকে। অশ্রুর ধারা গড়িয়ে পড়ে গাল বেয়ে। প্রতিটি পদক্ষেপে যেন ছিঁড়ে যাচ্ছে বুকের ভেতর জড়িয়ে থাকা এক একটি বন্ধন।সদর দরজার চৌকাঠ পেরিয়ে বাইরে পা রাখার ঠিক আগমুহূর্তে আর নিজেকে সামলে রাখতে পারে না সীমা। এক ঝটকায় বাবার হাত ছাড়িয়ে দৌড়ে ছুটে আসে পেছনে। পরম আকুলতায় জড়িয়ে ধরে ইশতিয়াকের গলা। বুকে মুখ গুঁজে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে।তার বুকফাটা কান্নায় কেঁপে ওঠে পুরো হলরুম। প্রতিধ্বনিত হয় বিচ্ছেদের এক অসহায় আর্তনাদ।
অবশেষে জোর করেই সীমাকে নিয়ে চলে যান তার বাবা। বিচ্ছেদের আড়ালে হারিয়ে যায় দুটি প্রাণ। দূরত্বের দেয়াল উঠে যায় দুটি অস্তিত্বের মাঝে। অথচ হৃদয়ের বন্ধনটুকু রয়ে যায় আগের মতোই অটুট।
____________
বৃষ্টির আজ গায়েহলুদ। বর্ণিল আলোকসজ্জায় ঝলমল করছে পুরো বাড়ি। আত্মীয়স্বজনের আনাগোনা। বক্সের উচ্চকিত সুর। শিশুদের খিলখিল হাসিতে মুখরিত চারপাশ। উৎসবের আমেজে প্রাণবন্ত হয়ে উঠ শেখ বাড়ি।
রহমান বাড়ি থেকে বাঁধনসহ সবাই এসে পৌঁছেছে। তবে আকাশকে সঙ্গে আনা হয়নি। বিয়ের আগে বর-কনের মুখ দেখাদেখি নিষেধ বলেই তাকে বাড়িতেই রেখে আসা হয়েছে।রূপা এসেই সাজসজ্জায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘরের ভেতর বৃষ্টিকে সাজিয়ে তুলছে সবাই। পাশে রয়েছে শান্তা, অ্যান্সি ও নিক্সি। তারাও শাড়ি পরার আয়োজনে ব্যস্ত। প্রসাধনীর বাহারি আয়োজনে পুরো ঘরটাই যেন রূপসজ্জার আসর হয়ে উঠেছে।
এদিকে বাড়ির প্রবেশদ্বারের কাছে আড্ডায় মেতেছে বাঁধন, অখিল, জেইন ও ওমর। দীর্ঘদিন পর অখিলের সঙ্গে দেখা হয়েছে বাঁধনের। অখিলের চাকরি চট্টগ্রামে টান্সফার হয়েছে৷ তাই এখন দুজনের আর আগের মতো দেখা-সাক্ষাৎ হয় না। আজকের এই আয়োজনে পুরোনো বন্ধুরা মেতে উঠেছে জমজমাট আড্ডায়।
আড্ডার ফাঁকে অখিল বাঁধনের দিকে তাকিয়ে দুষ্টুমি মাখা স্বরে বলে,
” কিরে শালা, আকাশও তো বিয়ে করে ফেলছে। দেখিস, বিয়ে করে বাপ হওয়ার দৌড়ে তোর আগেই না এগিয়ে যায়। তুই যে আস্ত একটা ডিলে মাস্টার। বিয়ে হয়েছে কতকাল, অথচ এখনো সুসংবাদ দিতে পারলি না। হাউ লং উইল ইউ টেক ব্রো? “
বাঁধন কটমট চোখে তাকায় অখিলের দিকে। জেইনও হাসতে হাসতে যোগ করে,
” আরে ভাই, ওকে কিছু বলো না। আমার তো মনে হয় শালার মেশিনেই কোনো টেকনিক্যাল প্রবলেম আছে। “
ব্যস, আর সহ্য হয় না বাঁধনের। জেইনকে ধরে শুরু করে দেয় ধুমধাম কিল-ঘুষি। বন্ধুর হাতের আপ্যায়নে বেচারার মুখখানা মুহূর্তেই চুন হয়ে যায়। ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতে বলে,
” তুই আমার মতো একটা নিষ্পাপ বাচ্চা ছেলেকে মারলি? দাঁড়া, তোকে অভিশাপ দিচ্ছি। তুই জীবনে কোনোদিন বাসর করতে পারবি না। সারাজীবন ভার্জিন হয়েই মরবি শালা। “
বাঁধন জেইনের পিঠে আরও একখানা ঘুষি বসিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
” তোর অভিশাপ তোর মাথায় গিয়েই ফাটবে, শালা লুজার। “
ওদের হাসি-ঠাট্টার মাঝেই বাড়ির ফটকে এসে দাঁড়ায় কালো বোরকা ও নেকাবে আবৃত এক আগন্তুক। দীর্ঘদেহী, প্রশস্ত অবয়ব। পোশাকের আড়ালে বোঝার উপায় নেই, আগন্তুক পুরুষ নাকি নারী। স্থির দৃষ্টিতে একবার বাঁধনদের পরখ করে নেয় সে। পরক্ষণেই দ্রুত পায়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে উদ্যত হয়।ঠিক তখনই ওমরের চোখ আটকে যায় আগন্তুকের দিকে। ঠোঁটে দুষ্টুমির হাসি ফুটিয়ে ডেকে ওঠে,
” এক্সকিউজ মি, আপু? “
আগন্তুকের পা থেমে যায়। ওমর এগিয়ে এসে কিছুটা ইতস্তত করে প্রশ্ন করে,
” বিয়ে খেতে এসেছ বুঝি? “
কথাটা শেষ হতেই জেইন ওমরের মাথায় একখানা থাপ্পড় বসিয়ে বলে,
” না, তোর গলা কাটতে এসেছে। শালা, লজ্জা করে না? এভাবে একটা মেয়ের পথ আটকে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? “
বাঁধনের দৃষ্টি গিয়ে স্থির হয় আগন্তুকের ওপর। তীক্ষ্ণ চোখে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত পরখ করে নেয়। অবয়বের গড়ন দেখে মোটেও নারী বলে মনে হয় না তার। নারী যত দীর্ঘদেহী কিংবা স্থূলকায়ই হোক, এমন গড়ন সচরাচর দেখা যায় না।কৌতূহলী হয়ে কয়েক পা এগিয়ে যায় । আগন্তুককে ঘিরে একবার ঘুরে দাঁড়ায়। ঠিক তখনই অখিল এগিয়ে এসে বিরক্ত স্বরে বলে,
” কী হয়েছে তোদের? সবাই মিলে এভাবে আপুটাকে আটকে রেখেছিস কেন? এটা কোন ধরনের ফাজলামি? “
আগন্তুকের দৃষ্টি একবারও বাঁধনের দিকে ওঠে না। মাথা অবনত করে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকে। বেশ কিছুক্ষণ নিরীক্ষণ করার পর বাঁধনের ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠে এক চিলতে বাঁকা হাসি। একবার চারপাশে চোখ বুলিয়ে নেয়। আশপাশে আপাতত কেউ নেই। সবাই স্টেজের কাছে ব্যস্ত।তারপর পাঞ্জাবির হাতা গুটাতে গুটাতে আগন্তুকের দিকে তাকায়। দুষ্টুমিমাখা কণ্ঠে বলে,
” হেই বিউটি। ইউ লুক সো হট। হাউ অ্যাবাউট উই গো সামহোয়্যার প্রাইভেট? “
বাঁধনের কথা শুনে আগন্তুকের চোখের পাশাপাশি অখিল, জেইন ও ওমরের চোখও বিস্ময়ে বিস্ফারিত হয়ে যায়। অখিল যেন আকাশ থেকে পড়ে। বিস্ময়ভরা চোখে বাঁধনের দিকে তাকিয়ে বলে,
” বাঁধন। এসব কী বলছিস তুই? পাগল হয়ে গেছিস নাকি? “
অখিলের কথায় বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করে না বাঁধন। তার সমস্ত মনোযোগ তখন আগন্তুকের চোখ দুটোয়। ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসি ফুটিয়ে বলে,
” তোমার চোখ দুটো বড্ড চেনা চেনা লাগছে। মনে হচ্ছে আমার খুব কাছের কেউ। সোনা, একটু মুখের নেকাবটা খোলো তো দেখি। তুমি কে? “
আগন্তুকের গলা শুকিয়ে আসে। ঢোক গিলে শক্ত হয়ে যায় তার মুষ্টিবদ্ধ হাত। শরীরী ভাষায় ফুটে ওঠা অস্বস্তিটুকুও বাঁধনের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এড়ায় না।
ওমর জেইনকে ইশারা করে বলে,
” এই মালটাকে ধরে বাড়ির পেছনে নিয়ে আয়। “
অখিলের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। রাগান্বিত কণ্ঠে বলে,
” বাঁধন। কী যা-তা বলছিস? দেখ, ফাজলামি বন্ধ কর। আপুটাকে যেতে দে। “
বাঁধন অখিলের দিকে ফিরেও তাকায় না। আগন্তুকের দিকে তাকিয়েই বলে,
” স্টপ। এত তাড়া কিসের? আগে আপুটাকে বাড়ির পেছনে নিয়ে গিয়ে একটু ভালো করে আদর করব। তারপর ছেড়ে দেব। “
কথা শেষ হওয়ার আগেই আচমকা আগন্তুককে পাঁজাকোলে তুলে নেয় বাঁধন। মুহূর্তেই তার শরীর কেঁপে ওঠে। বাঁধনের এই অবস্থা দেখে জেইন ও ওমর দ্রুত এগিয়ে আসে। দুজনেও আগন্তুককে ধরে তাকে সামলাতে সাহায্য করে।
এদিকে অখিলের রাগ তখন চরমে। কিছু একটা বলতে উদ্যত হতেই বাঁধন, জেইন ও ওমর মিলে আগন্তুককে নিয়ে বাড়ির পেছনে চলে যায়। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে অখিলও তাদের পিছু নেয়।
বাড়ির পেছনে এসেই আগন্তুককে মাটিতে নামিয়ে দেয় বাঁধন। তারপর তার দিকে এমনভাবে তাকায় যেন বহুদিনের হারানো কোনো সম্পদ অবশেষে হাতে পেয়েছে। ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বলে,
” জান, তুমি এত গরম কেন? উফফ, নিজেকে আর সামলাতে পারছি না। “
বাঁধনের কথা শুনে ওমর মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। তারপর মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলে,
” শালা, তোর কী হয়েছে? জ্বর-টর উঠেছে নাকি? নাকি মাথার ভেতরের সব তার ছিঁড়ে গেছে? তুই কি এখন সত্যিই উল্টাপাল্টা কিছু করবি? রূপা মামির কী হবে? ভাবির কথা একবারও মনে পড়ছে না? “
বাঁধন ওমরের দিকে এমনভাবে তাকায় যেন ওমর পৃথিবীর সবচেয়ে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্নটি করেছে। তারপর হাত নেড়ে বলে,
” আরে ধুর, ওসব বাদ দে। চল, এখন সবাই মিলে আপুটাকে একটু আদর করি। “
কথাটা শেষ করেই আগন্তুককে জড়িয়ে ধরতে এগিয়ে যায় বাঁধন। কিন্তু আগন্তুকেরও বোধহয় প্রাণের মায়া আছে। বাঁধনের হাত নিজের দিকে আসতে দেখেই বোরকা সামলে দিল এক দৌড়।
” ও শিট । পালাও কেন? দাঁড়াও জান। “
বাঁধনও পেছন পেছন ছুটল।কিন্তু বোরকা পরে দৌড়ানো যে কত বড় পরীক্ষা, তা আগন্তুকের দৌড় দেখলেই বোঝা যায়। পা দুটো যত দ্রুত চালাতে চাইছে, বোরকা ততই যেন তাকে পেছন থেকে টেনে ধরছে। কয়েক পা যেতেই হাঁপিয়ে ওঠে। আর সেই সুযোগে পেছন থেকে ধরে ফেলে বাঁধন।হাঁপাতে হাঁপাতে বাঁধন বলে,
” হেই জান। পালাচ্ছ কেন? আমি কি বাঘ নাকি? কাছে আসো না। খুব আদর করতে ইচ্ছে করছে তোমাকে। “
ঠিক তখনই অখিল, ওমর ও জেইন দৌড়ে এসে হাজির হয়। দৃশ্যটা দেখে অখিলের চোখ কপালে উঠে যায়। রাগে গর্জে বলে,
” বাঁধন। তুই কিন্তু ভালো করছিস না। আপুকে ছেড়ে দে। নইলে অ্যারেস্ট করব তোকে। “
বাঁধন অখিলের কথায় এমন ভাব করে যেন আশপাশে কোনো মানুষই নেই৷ আগন্তুকের নেকাবের ওপর বাঁধনের হাত পড়তেই শুরু হয় আসল যুদ্ধ। আগন্তুক দুই হাতে নেকাব আঁকড়ে ধরে মুখ বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে। আর বাঁধন নেকাব খোলার জন্য এমন টানাটানি শুরু করেছে যেন নেকাবের ভেতরেই পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান রহস্য লুকিয়ে আছে।ওমর হতভম্ব হয়ে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকে। তারপর জেইনের কানে কানে বলে,
” ভাই, আমার মনে হয় বাঁধন পাগল হয়ে গেছে। ওরে নিশ্চয়ই কোনো খারাপ ভূতে ধরেছে। নইলে এত ভালো একটা ছেলে এত নোংরা হলো কীভাবে? “
জেইনও কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে থেকে বলে,
” ভূত হলে তো পানি পড়া দিয়ে ছাড়ানো যেত। আমার তো মনে হচ্ছে ওর মাথায় সরাসরি কারেন্ট লেগেছে। “
এদিকে অখিলের মাথায় রক্ত চড়ে গেছে। বাঁধনের হাত ধরে টানতে টানতে বলে,
” এই মাদারচো*দ । নেকাব ছাড়। আপুকে ছেড়ে দে বলছি। “
কিন্তু বাঁধন একেবারে নাছোড়বান্দা। এক হাতে আগন্তুককে সামলাচ্ছে, অন্য হাতে নেকাব খোলার চেষ্টা করছে। আগন্তুকও কম যায় না। নেকাব এমনভাবে ধরে রেখেছে যেন ওটা খুলে গেলেই তার জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মসনদ আর বংশপরিচয় সব একসঙ্গে প্রকাশ হয়ে যাবে।ওমর একপাশ থেকে বাঁধনকে টানে। জেইন অন্যপাশ থেকে ধরে। অখিল কোমর বেঁধে বাঁধনকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে। আর মাঝখানে আগন্তুক নিজের মুখ বাঁচাতে প্রাণপণে হাত চালায়।একসময় এমন অবস্থা হলো, কে কাকে ছাড়াচ্ছে আর কে কাকে ধরছে, সেটাই বোঝার উপায় রইল না।ওমর চিৎকার করে বলে,
” আরে কেউ একজন বাঁধনরে ধর। শালা, ও তো আপুর নেকাব খুলতে গিয়ে আমাদের সবার কাপড় খুলে ছাড়বে। “
অখিল দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
” তোরা দুইজন ওকে শক্ত করে ধর। আজকে ওর মাথার ভূত না ছাড়িয়ে আমি এক পা নড়ছি না। “
আগন্তুকও নেকাব আঁকড়ে ধরে প্রাণপণে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে।বাড়ির পেছনের সেই নিরিবিলি জায়গাটা মুহূর্তেই পরিণত হলো এক অঘোষিত কুস্তির ময়দানে। দর্শক তিনজন। প্রতিযোগী পাঁচজন। আর পুরস্কার একটাই এক টুকরো নেকাব।যে দৃশ্য দেখে কোনো কুস্তিগিরও হয়তো নিজের পেশা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বসত।
অবশেষে টানাটানির একপর্যায়ে বাঁধনের হাতেই পরাস্ত হলো আগন্তুকের নেকাব। এক টানে খুলে গেল মুখের আবরণ।আর ঠিক সেই মুহূর্তে যা ঘটল, তার জন্য বোধহয় কেউই প্রস্তুত ছিল না।
আগন্তুকের মুখ উন্মুক্ত হতেই বাঁধন বাধে বাকি তিনজনের চোখ কপালে উঠে গেল। সবার চেহারায় এমন বিস্ময় ফুটে উঠল যেন বিনা টিকিটে, বিনা পরিশ্রমে এক লাফে মঙ্গলগ্রহে পৌঁছে গেছে তারা। কয়েক সেকেন্ডের জন্য তিনজনই বাক্রুদ্ধ। কারও মুখে কথা নেই। শুধু চোখগুলো গোল গোল হয়ে আছে।ওমরের তো অবস্থা আরও ভয়াবহ। চোখ দুটো এমনভাবে টেরা হয়ে গেল যে মনে হলো এখনই চোখের মণি দুটো আলাদা পথে হাঁটা শুরু করবে। বড় বড় চোখ করে আগন্তুকের দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করে বলে,
” ভাই, এই চেহারাটা আমার বড্ড চেনা চেনা লাগছে। কিন্তু কোথায় দেখেছি কিছুতেই মনে পড়ছে না। “
কথাটা শুনে জেইন আর চুপ থাকতে পারে না। ঠাস করে ওমরের মাথায় এক থাপ্পড় বসিয়ে বলে,
” আরে গাধার বাচ্চা, মনে পড়বে কীভাবে? তোর স্মৃতিশক্তি তো জন্মের আগেই ছুটিতে গেছে। ভালো করে চোখ মেলে দেখ। এইটা আর কেউ না। শেখ বাড়ির মালিক হায়দার শেখের একমাত্র কন্যা বৃষ্টি খালার হবু জামাই। বোরকার আড়ালে লুকানো মহামানব, আকাশ রহমান। “
ওমর থাপ্পড় খেয়ে মাথা চুলকায়। তারপর আবারও আকাশের দিকে তাকিয়ে ঢোক গিলে বলে,
” ও মাগো। জামাই সাহেব। আপনি বোরকা পরে এখানে কী করছেন? জামাই থেকে সরাসরি জামাই-আপু হয়ে গেলেন কবে? “
চলবে…!
Share On:
TAGS: বাঁধন রূপের অধিকারী, সুমি চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮৫
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৬৩
-
বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ৪৯
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭৫
-
বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ৪৪
-
বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ৫৪(প্রথম অংশ+)
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোকে পর্ব ৩
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৪৪
-
বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ১৯
-
বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ১০