পরগাছা |৮|
ইসরাত_তন্বী
(অনুমতি বিহীন কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ)
গুঞ্জরিকা তখন ষোড়শী কিশোরী। বনে, বাদাড়ে ছুটে খেলে তার সময় কাটে। সেবছর নদীর বানে ভেসে গেল ওদের গ্রামখানা। ওত ভয়াবহ বন্যা নিজের ছোট জীবনে আর দেখেনি গুঞ্জরিকা। কোমর ছুঁই ছুঁই পানি গ্রামের চতুর্দিকে। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা মনিকাঞ্চন নদীর উপছে পড়া জলের স্রোতের তোপে পড়ে মাত্র এক সপ্তাহে গ্রামবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠল। কুসংস্কারে বিশ্বাসী মানুষগুলো নিজেদের কলুষিত মন নিয়েই আল্লাহর নাম জপতে শুরু করল। তাছাড়া তো আর কোনো উপায় ছিল না। কোথায় যাবে? কী খাবে? অনাহারে তো মারা যাবে সকলে। আমরা মানবকুল বিপদে পড়লেই কেবল সৃষ্টিকর্তার দ্বারস্থ হই। তাছাড়া সবসময় তো থাকে আমাদের ক্ষমতার বড়াই।
একেবারে পনেরো দিনের মাথাতে গ্রামের পানির স্তর কমল। সেইবার ওই ভয়াবহ বন্যা ও পারেনি উড়নচণ্ডী গুঞ্জরিকাকে ঘরবন্দি করতে। মেয়েটা সাঁতার জানত তো তাই ভয় ডর কম ছিল। ওই হাঁটু সমান পানি উপেক্ষা করে ছুটে বেড়াত এদিকে সেদিকে। বরশি দিয়ে মাছ ধরত। তাইমুর বোনের এত হেঁয়ালিপূর্ণ আচরণে একপ্রকার তিতিবিরক্ত ছিল। একদিন গুঞ্জরিকা বরশি নিয়ে মাছ ধরতে বেরোবে সেই সময় পথ আটকাল তাইমুর। ভ্রু কুঁচকে বোনের দিকে তাকিয়ে রইল। গুঞ্জরিকা ভাইজানকে দেখতেই আলাভোলা হাসল। চারপাশ সাবধান দৃষ্টিতে দেখল। আব্বা, মা থাকলে মুশকিল। মাছ ধরতে যাওয়ার বারোটা বেজে যাবে। ভাইজানকে সামলিয়ে নিলেও তাদের সামলানো সম্ভব নয়। গুঞ্জরিকা দুই পা এগিয়ে এসে তাইমুরের কানের কাছে মুখটা নিল। ফিসফিস করে বলল,
“মাছ বিক্রি করলে যা আসবে তার অর্ধেক টাকা তোমার ভাইজান। মাছের বড়ো মাথাটাও তুমি খাবে। এখন আমাকে যেতে দাও কেমন?”
তাইমুরের ভ্রু জোড়া অধিকতর কুঁচকে গেল। গম্ভীর কণ্ঠে প্রশ্ন করল, “তোর এই মাছ বিক্রি করে কত টাকা আসে? আর কোথায় বিক্রি করিস?”
ভাইজানের প্রশ্নে গুঞ্জরিকা হেসে ফেলল। চাপা কণ্ঠে জবাব দিল, “এই ধরো ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ টাকা আসে। আর ওই যে চৌধুরী, শেখরা কিনে আমাদের থেকে।”
তাইমুর ভ্রু তুলে বলল, “বারে! ভালোই তো পাস। কী করিস এত টাকা দিয়ে?”
ভাইজানের এমন প্রশ্নে গুঞ্জরিকার মুখটা শুকিয়ে এল। চোখের কোণে জল জমল। হঠাৎ বোনের এমন পরিবর্তনে তাইমুর অবাক হলো বৈকি। গুঞ্জরিকা রয়ে সয়ে প্রত্যুত্তর করল, “আব্বার শরীর ভালো না ভাইজান। আব্বাকে চিকিৎসার জন্য নগরে নিয়ে যেতে হবে। আব্বা নিজের প্রতি বড্ড উদাসীন। তুমি তো পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকো। তুমি পড়ো ভাইজান। তোমাকে অনেক বড়ো হতে হবে। আব্বার অনেক স্বপ্ন তোমাকে নিয়ে। সংসার আমি ঠিক সামলিয়ে নিব। শুধু তুমি সবসময় পাশে থেকো।”
তাইমুর পড়াশোনা ব্যতীত জগৎ সংসারে আর কিছুই দেখে না। বড্ড মনোযোগী সে পড়াশোনায়। সবসময় বইয়ের মাঝে ডুবে থাকে। আব্বার ঘাম ঝরানো পরিশ্রম সে কখনোই বৃথা যেতে দিবে না। ছেলেটার অধরপল্লবে সন্তুষ্টির হাসির রেশ ছড়াল। বোনের মাথায় স্নেহের হাত রাখল, “সবসময় পাশে আছি বোন। আচ্ছা তোর পড়তে ইচ্ছে হয় না গুঞ্জ?”
গুঞ্জরিকা মলিন হাসল, “ইচ্ছে হয় তো। কিন্তু আমি পড়লে আমাদের কপালে আর ভাত জুটবে না ভাইজান। আর তাছাড়া দুদিন পরে বিয়ে করে শ্বশুর বাড়ি চলে যাব। মন দিয়ে সংসার করব। তুমি পড়লেই হবে ভাইজান। তুমিই না হয় আমার হাতে কলমের শিক্ষাটা দিও।”
তাইমুর মৃদু আওয়াজে হেসে ফেলল, “তোর এত বিয়ের শখ রে গুঞ্জ? আব্বাকে বলব নাকি ছেলে দেখতে? তুই বাড়ি থেকে গেলে সব আমার হবে। তোর আর কোনো প্যানপ্যানানি শুনতে হবে না। আহা কী শান্তি।”
ভাইজানের কথাতে গুঞ্জরিকা ঈষৎ লজ্জা পেল। ওকে ক্ষ্যাপাতেই যে এগুলো বলছে সেটা খুব করে বুঝল মেয়েটা। মাথা নুইয়ে ফেলল, “আমার শখ নেই ভাইজান। চন্দ্রা বলে আমি খুব গুণী মেয়ে। খুব ভালো একজন বউমা হবো।”
তাইমুরের ঠোঁটের কোণে দৃশ্যমান হাসি বাড়ল। চন্দ্রা ভুল কিছু বলে নাই। রুপে গুণে পরিপূর্ণ তার বোন। কোনো কমতি নেই। মুখে বলল, “এখন থেকে আমার কাছে প্রতি রাতে পড়তে বসবি কেমন? আর তোর ওই সখী আসবে কি এখন?”
শেষের কথাটা একটু ইতস্তত করেই শুধাল তাইমুর। গুঞ্জরিকা খিলখিলিয়ে হেসে উঠল, “আসবে, আসবে। ওরে ছাড়া আমি একা মাছ ধরি না ভাইজান।”
তাইমুর শুনল তবে ভাব ধরল শুনেনি। ঘরের দিকে হাঁটা ধরল। গুঞ্জরিকা হাসতে হাসতেই ঘরের দাওয়া থেকে পানির মধ্যে নেমে দাঁড়াল। সম্মুখে অগ্রসর হলো। তৎক্ষণাৎ পিছন থেকে তাইমুরের ব্যস্ত কণ্ঠ ভেসে এল, “গুঞ্জ আমিও যাব তোর সাথে। দাঁড়া তুই। আমি আমার বরশি নিয়ে আসছি।”
গুঞ্জরিকা দাঁড়িয়েছে ততক্ষণে। জমিয়ে রাখা হাসি টুকু আর ধরে রাখতে পারল না। উচ্চ শব্দে হেসে ফেলল। চারপাশ মুখরিত হলো রিনরিনে হাসির আওয়াজে। বোনের হাসিতে তাইমুরের অধরযুগলেও হাসির দেখা মিলল। ভাই-বোনের ভালোবাসা ভীষণ সুন্দর।
অতীত এত সুখকর হয় কেন? কোথায় গেল সেই সুবর্ণ দিনগুলো? কোথায় গেল গুঞ্জরিকার ভাইজান? সবাই কেন ফাঁসির কাঠগড়ায় ওকে দাঁড় করিয়ে হারিয়ে গেল? গুঞ্জরিকার বড়ো স্বপ্ন ছিল মিষ্টি একটা বউ হওয়ার। পরিবারের সবাইকে মাথায় তুলে রাখার। কিন্তু ভাগ্য সেই সুযোগ আর কোথায় দিল? ভাগ্য তো তার বহুরুপ দেখাতে ব্যস্ত। গুঞ্জরিকা ছলছল লোচন জোড়া নিয়ে বিড়বিড় করে আওড়াল,
“যারে আমি আপন ভেবে দিলাম বুকে ঠাঁই।
সেই আমারে সবার আগে করল পর।”
আকাশ কুসুম ভাবনার মাঝেই গুঞ্জরিকার চোখে ঘুম ধরা দিল। মাত্রই নিদ্রার আবেশে আঁখি জোড়া বুজেছে অমনিই অদিতির কণ্ঠস্বর কর্ণগোচর হলো,
“ভাবীজান কোথায় তুমি? আমায় শাড়ি পরিয়ে দাও। তোমার অপেক্ষায় সেই কখন থেকে নিচে বসে আছি।”
গুঞ্জরিকার মাথাটা বড্ড ধরেছে। খুব কষ্টে নেত্রপল্লব মেলে চাইল। তবে অপরপক্ষকে তা বুঝতে দিল না। সেই বিকালে ঘরে এসে ঘাঁটি বেঁধেছে আর বেরোয়নি বাইরে। এমনকি ঘরের দুয়ারের কপাট লাগাতেও ভুলে গেছে। আজকাল কল্পনার জগতে এতটাই মজেছে গুঞ্জরিকা। পাশ ফিরে দেখল চৌকাঠের সামনেই অদিতি মন ভার করে দাঁড়িয়ে আছে। গুঞ্জরিকা শোয়া থেকে উঠে বসল। মুখে হাঁসি ফুটিয়ে বলল, “আরে অদিতি ওখানে দাঁড়িয়ে আছ কেন? ভেতরে এসো।”
অদিতি গুটি গুটি পায়ে কক্ষের ভেতরে প্রবেশ করল। হাতে শাড়ি, গয়না সহ সাজুগুজুর সরঞ্জাম দেখা যাচ্ছে। এগিয়ে এসে ওগুলো পালঙ্কে রাখল। পুনরায় যেয়ে দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে এল। বসল গুঞ্জরিকার সম্মুখে। জবাব দিল, “তুমি এমন চুপচাপ হয়ে যাচ্ছ কেন? এই সংসার তোমার স্বামীর। তোমার অধিকার সবচেয়ে বেশি ভাবীজান।”
মেয়েটার এহেন বাচ্চামো কথায় গুঞ্জরিকা মাথা নেড়ে ক্ষীণ হাসল, “যেই স্বামীই আমার নেই তার সংসারে আমার আবার কীসের অধিকার? আজ আছি হয়ত কাল থাকব না।”
অদিতির হঠাৎ কী হলো কে জানে? নিঃশব্দে গুঞ্জরিকার কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়ল। নেত্র যুগল বুঁজে নিল। মুখ ফুটে কোনো কথা বলল না। নীরবতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল বদ্ধ ঘরের চারপাশ। গুঞ্জরিকা নিশ্চুপ থেকে অদিতির চুলে বিলি কেটে দিতে লাগল। মেয়েটার মনের অবস্থা ঠিকই বুঝেছে। বাপের বাড়িকে পর করে নতুন অচেনা একটা বাড়িকে আপন করা একটু কষ্টের বটে। যেই বাড়িতে নিজের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত, নিজের শৈশব কাটে সেই বাড়ির অতিথি হওয়ার গল্পটা যে এতটা সহজ হয় না। কত সুক্ষ্ম বুকব্যথার গল্প রয়ে যায় লোকচক্ষুর অন্তরালে। নারী জীবন বড্ড অদ্ভুত। গুঞ্জরিকার বুক চিরে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল।
কিছুক্ষণের ব্যবধানে অদিতি আঁখি মেলে চাইল। ম্লান গলায় শুধাল, “ভাবীজান মেয়েদের জীবন এমন অদ্ভুত কেন? তোমাকে দেখে আমার খুব ভয় হয়। আমি বিয়ে শব্দটাকে ভয় পাই। মায়ের সব খারাপ কাজ আমার উপরে বর্তাবে নাতো ভাবীজান? একটা সুন্দর সংসার আমার হবে তো?”
গুঞ্জরিকা একটু অন্যমনস্ক ছিল। এমন কথাতে নজর ফিরিয়ে অদিতির আননে তাকাল। হাসিমুখে আশ্বস্ত করল, “ভালো দের সাথে খারাপ হয় না গো। আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী। ভয় পেও না তুমি। ইন শা আল্লাহ ভালো কিছুই হবে। দেখো তোমার খুব সুন্দর একটা সংসার হবে।”
“অথচ তোমার সাথে যে দিব্যি খারাপ হলো ভাবীজান?”
অদিতির কেশে চলমান গুঞ্জরিকার হাতটা থেমে গেল। তৎক্ষণাৎ ফিরতি কোনো জবাব দিল না। কিয়ৎসময় পেরোল। মেয়েটা কথা ঘোরানোর প্রয়াস চালাল, “এই অদিতি সময় তো পেরিয়ে যাচ্ছে। মাগরিবের নামাজের সময় ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। উঠো জলদি। শাড়ি পড়বে না? অতিথিরা এল বলে।”
উত্তর থেকে গুঞ্জরিকার পালিয়ে যাওয়ার বৃথা চেষ্টাটা ঠিকই বুঝল অদিতি। কিছুক্ষণ নিশ্চুপ রইল। অকস্মাৎ জানতে চাইল, “আচ্ছা তোমার কি জীবনে আর কোনো ইচ্ছা নেই ভাবীজান? মনে হয় না একটাবার সবটা পুনরায় নিজের মতো করে, নতুন করে সাজানোর কথা?”
গুঞ্জরিকার ঠোঁটজোড়া দুপাশে প্রসারিত হলো। মৃদু হাসল। একটু ভাবুক হলো, “ইচ্ছা? আছে তো। কেউ যদি আমার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে জিজ্ঞাসা করত আমি কেমন আছি? আমি জবাবে খুব কাঁদতাম, খুব কাঁদতাম। ব্যস! এতটুকুই ইচ্ছে।”
অদিতি এমন অদ্ভুত ইচ্ছার কথা এই জীবনে প্রথম শুনল। হতভম্ব হয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল। মেয়েটার গাল বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল। গুঞ্জরিকা হেসে ফেলল, “আরে পাগলী মেয়ে কাঁদে না। সুখের সময়ে কাঁদতে নেই। ওই সময়টুকুতে কেবল হাসবে। কাঁদানোর জন্য অন্যরা তো আছেই। এখন দ্রুত ওঠো। হাতে অনেক কাজ।”
মুখের কথাতে ইতি টেনে একপ্রকার জোর করেই অদিতিকে তুলে সাজানো শুরু করল গুঞ্জরিকা। পাক্কা ত্রিশ মিনিট সময় নিয়ে মেয়েটাকে সাজিয়ে দিল। তার কিছুক্ষণ পরেই সারথী এসে অদিতিকে নিজের সঙ্গে নিয়ে গেল। গুঞ্জরিকা মন থেকে দোয়া দিল মেয়েটাকে। এই পরিবারের এই একটা মানুষ কখনো ওর সঙ্গ ছাড়েনি। ভালো, মন্দ কোনো অবস্থাতেই না। আল্লাহ মেয়েটার খুব ভালো করুক। কোনো খারাপ কখনো যেন মেয়েটাকে ছুঁতে না পারে।
গুঞ্জরিকা আপাতত নিজের কক্ষে একাকী বসে আছে। একটু বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন। সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত। বড়ো কথা এইসব অনুষ্ঠানে এই বাড়িতে থাকতে একটুও মন টানছে না। দমবন্ধ হয়ে আসছে। প্রকৃতির সংস্পর্শে যাওয়ার বড্ড প্রয়োজন। যেই ভাবা সেই কাজ। পালঙ্ক থেকে নেমে টেবিলের উপরে থাকা লণ্ঠনটা হাতে উঠিয়ে নিল। পায়ে পায়ে কক্ষ ত্যাগ করল। সিঁড়ির কাছটাই আসতেই চন্দ্রার মুখোমুখি হলো। দুজনেই থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। দৃষ্টি নিবিষ্ট হলো একে অপরের মুখমণ্ডলে। চন্দ্রা নিজ থেকেই প্রথমে জিজ্ঞাসা করল, “নিচে কোথায় যাচ্ছিস? আজ না তোর নিচে যাওয়া নিষেধ গুঞ্জ?”
গুঞ্জরিকার মাঝে কোনো পরিবর্তন দেখা গেল না। যৎকিঞ্চিত পরিমাণ হাসল অবধি না। শান্ত কণ্ঠের জবাব ছুটে গেল চন্দ্রার দিকে, “এখন আমি কোথায় যাব না যাব সেটাও কি তুই ঠিক করে দিবি?”
“তা হবে কেন? আম্মা তো তখন এটাই বলল তাই তোকে বলছি।”
“আচ্ছা, জানানোর জন্য ধন্যবাদ। এখন সামনে থেকে সরে দাড়া।”
“আজকাল নিজেকে খুব রুপবতী মনে করছিস মনে হচ্ছে? তিন বেলায় রঙ বেরঙের নতুন নতুন শাড়ি পড়ছিস। ভীষণ সুন্দর লাগে কিন্তু তোকে।”
প্রতিটা কথার আড়ালে সুক্ষ্ম খোঁচা। অথচ গুঞ্জরিকা এইসব পরোয়া করলে তো? এই পর্যায়ে না চাইতেও হাসল, “তুই তো নিজেই বলতিস, রুপে গুণে আমার ধারে কাছে তুই নেই।”
চন্দ্রার হাসি মুখটা মলিন হয়ে উঠল। দাঁতে দাঁত চেপে সবটা হজম করে নিল। ছোট্ট করে বলল, “নিজে জিততে আমাকে ছোট করছিস তুই গুঞ্জ? এতটা পরিবর্তন তোর?”
“তুই যদি ভেবে থাকিস আমি সতীন নিয়ে সংসার করব তাহলে সবটা ভুল ধারণা। আমি এখন এই পরিবারে দুই দিনের অথিতি মাত্র। তোর সংসার তোরই থাকবে। প্রতিযোগিতায় না নেমে ভালোবেসে সবটা নিজের আপন করে নে।”
কথাগুলো বলেই গুঞ্জরিকা চন্দ্রার পাশ কাটিয়ে নিচের উদ্দেশে হাটা ধরল। চন্দ্রা খুশি হলো নাকি বেজার হলো ঠিক বোঝা গেল না। মেয়েটা আচমকা ক্রোধান্বিত স্বরে বলে বসল, “তুই চলে যা গুঞ্জ। আর কখনো ফিরে আসিস না এখানে। তুই থাকলে আমি কখনো ভালো থাকতে পারব না।”
কথাটা হয়ত অপরপক্ষের ঠিকই কর্ণগোচর হলো। চন্দ্রার শ্রবণেন্দ্রিয়ে প্রবেশ করল অপ্রত্যাশিত কিছু কথা,
“আমার উপস্থিতি, অনুপস্থিতি কোনটাতেই তুই ভালো থাকতে পারবি না। ভালো থাকতে যৎসামান্য হলেও পুণ্য জমাতে হয় নিজের ঘটিতে।”
চলবে
(আজ রিচেক নেই। ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। প্রিয় পাঠক, আপনাদের সকলের রেসপন্স ও গঠনমূলক মন্তব্যের আশা রাখি।)
Share On:
TAGS: ইশরাত জাহান জেরিন, পরগাছা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৪+৫
-
প্রেমতৃষা পর্ব ১৫+১৬
-
প্রেম আসবে এভাবে পর্ব ১
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৩১+৩২
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৩৩+৩৪
-
প্রেমতৃষা সমাপ্ত পর্ব (১ম অংশ+ শেষাংশ)
-
প্রেমতৃষা ৪২ (প্রথম অর্ধেক)
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৪৭
-
প্রেমতৃষা পর্ব ২+৩
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৪৫