Golpo কষ্টের গল্প খাঁচায় বন্দী ফুল

খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৮


কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ ⚠️

খাঁচায় বন্দী ফুল

লেখিকা: #jannatul_ferdous_জান্নাতুল_ফেরদৌস

পর্ব – ৮

সাইফ তুযা কে নিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্যত হতেই তুযা বলল
” কোথায় যাবো এখন আবার?”

ওয়াহাব চৌধুরী বললেন
” কোথায় আবার? বললাম বউ মার সাথে দেখা করে এসো”

তুযা শাল গায়ে জড়াতে জড়াতে বলল
” আমার অন্যের বউ এর প্রতি কোনো ইন্টারেস্ট নেই। আট এখন না বের হলে ফিরতে অনেক রাত হয়ে যাবে। পরে মেহের আবার দরজা খুলবে না”

নিজের দাদির নাম তুযার মুখে এভাবে শুনে নদী ফিক করে হেসে ফেললো। সবাই চট করে নদীর দিকে তাকালো। নদী বিষয়টা খেয়াল করে হাসি থামানোর চেষ্টা করে হাত দিয়ে নিজের মুখ ঢাকলো।
এমনি তে নদী খুবই শান্ত আর গম্ভীর কিন্তু এখন কোনো ভাবেই হাসি আটকাতে পারলোনা। সরে গেলো সেখান থেকে।

সবাই তুযার আচরণ সম্পর্কে জানে। তবে মেহেরজান কে সবাই খুবই ভয় পায় এবং সম্মান করে। তাকে নিয়ে এমন কোনো কথা বলা কেবল তুযার পক্ষেই সম্ভব।

সবাইকে বিদায় জানিয়ে তুযা আর ওয়াহাব চৌধুরী বেরিয়ে গেলো। আকবর গাড়ি চালাচ্ছে। তুযা পাশে বসে আছে আর ওয়াহাব চৌধুরী পিছনে।

হঠাৎ তুযা বলল
” আচ্ছা আকবর বলোতো, আমার দাদার নাম কি ছিলো।”

আকবর হেসে বলল
” কেন ছোটসাহেব, প্রধান হাশেম চৌধুরী “

তুযা আবার বলল
” তাহলে বলো আমার দাদির বাপের নাম কি ছিলো”

পিছন থেকে ওয়াহাব চৌধুরী বললেন
” তোমার বাজে কতা বন্ধ করো ছেলেটাকে গাড়ি চালাতে দাও।”

কিছুদুর যেতেই আবার জ্যামে আটকে গেলো গাড়ি। তুযা জানালার কাচ দিয়ে বার বার মাথা বের করছে। আকবর বলল
” ছোট সাহেব, আপনি বারবার মাথা কেন বাইরে বের করছেন?”

” দেখছি কোনো মেয়ে দেখা যায় নাকি”

ওয়াহাব চৌধুরী আকবর কে ধমক দিয়ে বলল
” তোমাকে কতবার বলেছি আকবর, ওর সঙ্গে কথা বলবে না”

আকবর চুপ করে গেলো। মিনিট খানিক পর একজন সাংবাদিক এলো। তুযাকে অর্ধেক গাড়ির বাইরে দেখে রিপোর্টার তুযার সামনে মাইক ধরে বলল
” স্যার আপনি নিশ্চয়ই জ্যামে পড়ে ভীষণ বিরক্ত বোধ করছেন?”

তুযা এক গাল হেসে বলল
” না না। আমার তো সেই ভাল্লাগতাসে। আকবর তো নাচতেই চাইছিলো। বলো আকবর।”

রিপোর্টার আবার বললেন
” স্যার প্রতমে আপনার নিজের বিষয়ে কিছু বলুন এবং তারপর জ্যামে আপনাদের ভোগান্তি সম্পর্কে কিছু বলুন।”

তুযা ছেলেটার মাথা থেকে পা ওবদি দেখে বলল
” আগে নিজের সম্বন্ধেই বলি কেমন”

“জ্বী”
তুযা সামান্য গলা খাকারি দিয়ে বলল
” হ্যালো আমি তুযাউন চৌধুরী। আমি চুমু খেতে ভালোবাসি। যাকে তাকে না শুধু মেয়েদের। মেয়ে দেরও আমি খুব ভালোবাসি…….

কথা বলতে বলতে জ্যাম ছেড়ে দিলো। আকবর আহম্মদ হয়ে গেছে তুযার কথায়।

তাদের বাড়ি ফিরতে রাত নয়টা বেজে গেছিলো। ঘরে ফিরে দেখে মেহেরজান তখনো সোফায় বসে। তুযা সোজা ঘরে গিয়ে পোষাক পাল্টে। মাফলার পেচাতে পেচাতে বের হচ্ছে। তুযার মা জিজ্ঞেস করলো
” এখন আবার কোথায় যাচ্ছিস?”

মেহেরজান পান চিবুতে চিবুতে বলল
” কোথায় আবার? যাবে সেই ন*টি খানায়।”

তুযা ঠোট কামড়ে পিছনে ঘুরে বলল
” মায়ের সামনে কিচ্ছু বললাম না। আমি যাচ্ছি মোকছেদ মাস্টারের বাড়ি। বাবা যেতে বলেছে বলে”

মেহেরজান চেচিয়ে বলল
” সে বাড়িতে তোর কি রে “

কোনো জবাব না দিয়ে তুযা চলে গেলো।
বাইক স্টার্ট করতে করতে বলল
” মধু, মধু। রসমালাই”

বাড়ি থেকে মেহমান পাতলা হতেই হাসান চৌধুরী আলোচনায় বসেছে। ড্রইং রুমে সবাইকে উপস্থিত হতে বলেছে সে। হাসান চৌধুরী আর আঞ্জুমান পাশাপাশি বসে। হাবিব আর সায়রা ও আছে নদী বাবার পিছনে দাড়িয়ে। সকলের সামনে দাড়িয়ে অদিতি আর সাইফ।

অদিতির চোখে ভীতি। মনে ভয়। ভিতরে আতঙ্ক। কি হতে চলেছে আজ। উনিও কি আজ অদিতি কে তাড়িয়ে দেবে? সেই চিন্তায় অদিতির বুক বারবার কেপে কেপে উঠছে।

কিন্তু সাইফের চোখ মুখ একদম শক্ত। সে তার সিদ্ধান্তে অনড়। হাসান চৌধুরী কপালে হাত দিয়ে বলল
” ছি ছি ছি। আমার একমাত্র ছেলে কিনা নিষিদ্ধ পল্লি থেকে মেয়ে কিনে এনে বিয়ে করেছে। এ কথা মিডিয়ার কানে গেলে কি হবে ভেবে দেখেছো? আমার সমস্ত রেপুটেশন, মান ইজ্জত সব ধূলোয় মিশে যাবে।”

হাবিব চৌধুরী বলল
” খারাপ কথা ছড়ায় গাছের আগায়। এ কথা পাচকান হতে সময় নিবে না ভাইজান”

আঞ্জুমান বলল
” তাহলে এখন উপায়?”

সবার চোখ সাইফের দিকে। অদিতিরও। সাইফের উত্তরের আশায় চেয়ে আছে সকলে। সাইফ নিরবতা ভেঙে বলল
” আমি অদিতি কে ছাড়বো না বাবা। তোমরা মান ইজ্জত এর কথা ভাবলে। একটা বারও এটা ভাবলে না যে ওর কি দোষ এখানে। এই টুকু একটা মেয়ে। ওর সৎ বাবা ওকে বেচে দিলো। আমি ওকে সেখান থেকে বাচিয়ে এনেছি। এতে আমার ভুলটা কোথায় বাবা?”

সাইফ একটু থামলো। ফের বলতে শুরু করলো
” এখন আমি তোমাদের কথা শুনে মেয়েটাকে বাড়ি থেকে যদি বের করে দেই, কি হবে এতে? ওর তো যাওয়ার জায়গা নেই। একদল শকুন ওকে ছি’ড়ে খাবে।নয়তো আবার সেখানে যেতে হবে যেখানে যাওয়ার মেয়ে ও নয়। এর থেকে বাবা ও যদি এ বাড়িতে থেকে যায় এ বাড়ির বউ হয়ে তাতে কি এসে যায়?”

হাসান চৌধুরী এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সাইফের দিকে। সাইফ ঠিকই বলছে। তেমন কোনো ক্ষতি তো হয় না। হাবিব চৌধুরী কিছু বলবে এমন সময় সাইফ বলল
” ব্যাস কাকাই! এবার শুধু বাবা বলবে। আর কউ কিচ্ছু বলবে না। বাবা যদি এখন বলে অদিতি কে এ বাড়িতে রাখবে না। তাহলে তাই সই। ওকে নিয়ে আমি এক্ষুণি এই মূহুর্তে এক কাপড়ে বাড়ি ছেড়ে দেবো। কারন আমি ওর সৎ বাবার মতো ওকে মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে ঠকাতে পারবোনা। তুমি বলো বাবা”
। হাসান চৌধুরীর নিজের একমাত্র ছেলেকে হারানোর ভয়ে হলেও বলতে হলো
” আচ্ছা ঠিল আছে। মেনে নিলাম আমি সবটা। তবে একটা গেট টুগেদার অ্যারেঞ্জ করতে হবে। আমার অনেক পরিচিত এবং এলাকার সম্মানিত লোকজন আছে যাদের সাথে তোমাদের পরিচয় করাতে হবে।”

সাইফের ঠোট জোড়া প্রশস্ত হলো। হাবিব চৌধুরী অবাক হয়ে বলল
” এ তুমি কি বলছো ভাইজান।”

হাসান চৌধুরী উঠে দাড়ায়।
” আমার কথা শেষ। এ নিয়ে কেউ কোনো কথা বলবে না। ও আমাদের বউ মা। পুরনো সব কিছু ভুলে যাও।”

হাসান চৌধুরী ঘরে চলে গেলো। আঞ্জুমান ও গেলো পিছন পিছন। নদী নিজের ঘরে চলে গেলো সায়রা কে নিয়ে। সোফায় বসে রইলো শুধু হাবিব চৌধুরী। সাইফ হাবিব এর সামনে অদিতির হাত ধরে রুমে নিয়ে গেলো।

সাইফের মাথায় এখন একটাই টেনশন। অদিতির ব্যাপারে যখন কাকা এত কিছু জানতে পেরেছে। বিয়ে যে হয়নি এটা জানতেও সময় লাগবে না। এখন বিয়ের ব্যাপারটা আগে মিটমাট করতে হবে। রুমে গিয়ে অদিতি কাচুমাচু হয়ে দাড়িয়ে আছে। সাইফের দিকে তাকিয়ে ভাবছে ড্রইং রুমে বলা কথা গুলো। এই মানুষটার প্রতি অদিতি সত্যিই কৃতজ্ঞ। তার জীবন বাচিয়েছে, আবার প্রতিনিয়ত তার জন্য পরিবারের সাথে লড়াই করে যাচ্ছে। অদিতির চোখ পানিতে ভরে আসে।

সাইফ খেয়াল করে বলে
” এখন তো সব ঠিকঠাক আছে। এখন কাদছো কেন?”

এরই মধ্যে নদী দরজায় টোকা দিলো। সাইফ দরজা খুলতেই দেখলো হাতে একটা খাবারের ট্রে। নদী ভিতরে এসে ট্রে টা টেবিলে রাখলো। সাইফ বিরক্তি নিয়ে বলল
” আবার খাবার এনেছিস কেন। আমি না খেয়ে এলাম”

নদী অদিতির দিকে তাকাতেই সাইফের খেয়াল হলে। বড় আব্বুদের সাথে সাইফ খেলেও অদিতি খায়নি। সকাল থেকে না খেয়ে আছে। সাইফ নদীর দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল
” নদী, তুই এত ভালো কেন? বল তো। আমিই ভুলে গেছি যে ও খায়নি। তোর কি করে মনে আছে?”

নদী খাবার গুলে প্লেটে বেড়ে দিতে দিতে বলল
” কারন একজন ক্ষুধার্তই আরেকজন ক্ষুধার্ত ব্যাক্তির খবর রাখে”

নদী যাওয়ার আগে বলল
” চাচ্চু আপনাকে রুমে যেতে বলেছে সাইফ ভাই”

সাইফ ভাবলো এখন আবার কি কাজে বাবা ডাকছে। সাইফ নদীর পিছন পিছন ই গেলো। হাসান চৌধুরীকে রুমের সামনে থেকে ডাকলো
” বাবা আসবো?”

” এসো?”

সাইফ গিয়ে বাবার আরাম কেদারার পাশে হাটু মুড়ে বসলো। হাসান চৌধুরী ছেলের হাত ধরে বলল
” তুই এত বড় কবে হয়ে গেলি?”

সাইফ বুঝে না বাবার কথার মানে। হাসান চৌধুরী আবার বলে
” আজ তোকে কিছু কথা বলি। যদিও এগুলো বাপ ছেলের কথা নয়। তবুও বলি। আজ থেকে বহু বছর আগে, এক মেয়েকে আমি ভালোবাসতাম।”

সাইফ ভ্রু কুচকে তাকিয়ে রইলো হাসান চৌধুরীর দিকে। এভাবে কখনো কথা বলেনি তো তার সাথে। হাসান চৌধুরী আবারও বললেন
” তোদের দাদু ছিলো গ্রামের প্রধান। খুবই সৎ আর ন্যায়বিচারক ছিলেন তিনি। তোর বড় আব্বুও তোর দাদুর মতোই হয়েছে।”

সাইফ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বাবার দিকে
” আমি যাকে ভালোবাসেছিলাম, সে ছিলো খুবই দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। সুন্দরীও আহামরি নয় তবে তাকে খুব ভালো লাগতো। একদিন সাহস করে ভালোবাসার কথা জানাই তাকে। সেও কিছুদিন পর সম্মতি দিলো।”

খানিক থেমে হাসান চৌধুরী বললেন
” কিন্তু বাবার ভয়ে তটস্থ ছিলাম আমি। কয়েক মাস পর এলাকায় প্রচার হয়ে গেলো সেই মেয়েটি নাকি ধ’র্ষ’ণের শিকার হয়েছে। আর আমার সাথে দেখা করতো না মেয়েটি। আমি দেখা করতাম নারে, ওই নোংরা মেয়েকে কে বিয়ে করবে?”

সাইফ কৌতূহলি হয়ে জিজ্ঞেস করলো
” তারপর?”

” তারপর কয়েকদিন গেলো। আমার বাবা আমাকে ডেকে বলল, তোমার নাকি মোহনের মেয়ের সাথে সম্পর্ক আছে? তাকে নাকি ভালোবাসো? আমি বললাম, আগে বাসতাম বাবা এখন বাসি না”

” আমার বাবা তখন আমার গালে কষে একটা চ’ড় মেরেছিলো। কারন এতে তো সেই মেয়েটার কোনো দোষ নেই। তার জীবনে একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেছে বলে তাকে ছেড়ে দেওয়া যাবে?”

সাইফ বলল
” তাকে আর খুজে পাওনি বাবা?”

” সেদিন রাতেই বাবা আমাদের বিয়ে করিয়ে দেয়। আর সেই মেয়েটিই তোর মা”

সাইফের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো। এতবড় ঘটনা ঘটে গেছে তার বাবা মায়ের জীবনে। হাসান চৌধুরী ছেলের মাথায় হাত দিয়ে বলল
” অদিতি কি নদীর ঘরে ঘুমাতে পাঠা।”

“কেন?”

হাসান চৌধুরী মুচকি হেসে বলল
” তোর কি মনে হয়? তুই বিয়ে করলে আমি জানবো না? বিয়ের আগে দুজনের এক ঘরে থাকতে নেই।”

সাইফ শুকনো ঢোক গিলল। বাবা জেনে গেছে তাহলে। হাসান চৌধুরী সাইফের কাধে চাপড় দিয়ে বলল
” অত চিন্তা করিস না। নদী দীঘির মতো অদিতিও আজ থেকে এই বাড়ির মেয়ে। তোর বিয়ে নিয়ে কাল সবার সাথে কথা বলবো। যাহহ এখন।”

বলে হাসান চৌধুরী ও আরাম কেদারা থেকে উঠলো। সাইফ বেড়িয়ে গেলো, দরজার সামনে থেকে আবার ফিরে এলো। হাসান চৌধুরী কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো
” সরি বাবা। আমি তোমাকে বুঝতে পারিনি এত দিন। আই প্রমিস বাবা, আমি সব থেকে ভালো ছেলে হয়ে দেখাবো।”

হাসান চৌধুরী হেসে বলেন
” শুধু ভালো ছেলে না। ভালো স্বামীও হতে হবে”

সাইফ হাসলো। হাসান চৌধুরী বলল
” তবে এত সহজে ছাড় পাবে ভেবো না।”

সাইফ রুমে চলে যায়। হাসান চৌধুরী চশমা খুলে চোখের পাতায় জমে থাকা অশ্রু টুকু মুছে নেয়। আঞ্জুমান বাবা ছেলের কথা শেষ হলে ঘরে আসে। হাসান চৌধুরীর হাতে হাত রেখে বলে
” আমাদের ছেলেটা একদম আপনার মতো হয়েছে বলুন”


সাইফ রুমে গিয়ে অদিতি কে কোলে তুলে ঘোরাতে থাকে। অদিতি অবাক হয়ে বলে
” কি করছেন নামান আমাকে, পড়ে যাবো তো”

সাইফ হেসে বলে
” হেহে বাবা সব জেনে গেছে আর মেনেও নিয়েছে। কাল আমাদের বিয়ের কথা হবে।”

অদিতি তো অবাক
” সত্যি বলছেন?”

সাইফ আচমকা ঘোরানো থামায়। চট করে কোল থেকে নামায় অদিতি কে। শয়তানি হাসি দিয়ে বলে
” কেন বিয়ের জন্য তর সইছে না?”

অদিতি লজ্জা পায়। মাথা নিচু করে ফেলে। সাইফ বুকে হাত ভাজ করে দাড়ায়
” আচ্ছা তুমি এত সুন্দর কেন? এক্কেবারে পরির মতো।”

অদিতি কোনো কথা বলে না। সাইফ হাফ ছেড়ে বলে
” যে কয়দিন আমাদের বিয়ে না হচ্ছে তোমাকে নদীর সাথে থাকতে হবে।”

অদিতির কোনো সমস্যা নেই। নদী আপু কে তার ভালোই লাগে। বালিশ নিয়ে চলে গেলো নদীর ঘরে।

হাবিব চৌধুরীর মাথা ফেটে যাচ্ছে চিন্তায়। এই মেয়ে এই বাড়ির বউ হলে তার স্বার্থ হাসিল হবে না কোনো ভাবেই। কিন্তু তার মাথায় ঘুরছে অন্য প্ল্যান। এই মেয়েকে সরাতে হবে। কিন্তু এই বাড়িতে থেকে তার একার পক্ষে এই কাজ সম্ভব নয়। অনেক ভেবে চিন্তে হাবিব দেখেছে। তাকে তুযার সাহায্য নিতে হবে।

মোবাইল থেকে কল করলো তুযার নাম্বারে। পরপর দুইবার রিং হওয়ার পর কল রিসিভ করলো
” হ্যা কাকাই বলো”

” কোথায় তুই বাবা?”

তুযা শয়তানি করে বললল
” এই একটু পরোপকার করার নাটক করতে এসেছি। বলো”

হাবিব খুব সতর্ক ভঙ্গিতে বলল
” একটা মেয়েকে তোমার হাতে তুলে দিতে চাই। আমাকে সাহায্য করবে?”

তুযা যেন নিজের কান কে বিশ্বাস করতে পারছে না।
” সত্যি বলছো? আজ থেকে তুমি আমার কাকা না। আমার আব্বা। বলো আব্বা, কি করতে হবে।”

হাবিব চৌধুরী বাকা হেসে বলল
” মেয়েটা অসম্ভব সুন্দর। তুমি নিয়ে যাবে, তবে তারপর যেন আর কখনো দুনিয়ার আলো না দেখতে পারে।”

” ওসব তোমায় বলতে হবে না। কি করতে হবে সেটা বলো।”

হাবিব চৌধুরী বলল
” কাল এসো তুমি। ভাইজানকে না জানিয়ে। বাকি সব ব্যাবস্থা আমি করে দিবো। “

“আচ্ছা কাল আসছি আমি”

চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply