কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ ⚠️
খাঁচায় বন্দী ফুল
jannatul_ferdous_জান্নাতুল_ফেরদৌস
পর্ব – ১৭
বাইক টেনে চলে এলো রাতুলদের পুরনো গ্যারেজ এ। জং ধরা গ্রিলের গেইট টা পেরিয়ে বাইক নিয়ে ভিতরে ঢুকলো তুমুল। বড় লোহার ভিতরে ঢোকার গেটের সামনে বাইক দাড় করিয়ে তুমুল ভিতরে ঢুকলো।
সুফিয়ানকে শিকল দিয়ে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। নাক মুখ দিয়ে চুইয়ে পড়ছে র’ক্ত। শরীরেও বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত। পোষাক ও ছেড়া জায়গায় জায়গায়। তার পাশেই সোফায় বসে আয়েশি ভঙ্গিতে সিগারেট টানছে তুযা।
তুমুল গিয়ে তুযার পাশে শান্ত ভাবে বসলো। তুযা একটা সিগারেট তুমুলের দিকে বাড়িয়ে দিলো। তুমুল সিগারেটের দিকে একবার তাকিয়ে বলল
“ আমি এসব খাইনা ভাইজান।”
তুযা সিগারেট টা পুনরায় রাখলো টেবিলে। তুমুল কে বলল
“ বড় ভরসা করে বোনটাকে তোমায় দিলাম। রানী করে রেখো রেখো আমার বোন টাকে।”
তুমুল মাথা নিচু করে রইলো। তুযা গলা উচিয়ে মানিক কে ডাকে
“ পরের টাকে নিয়ে আয়। আবার মুড এসে গেছে কেলানোর”
মানিক আর দুজন মিলে সুফিয়ানকে শিকল থেকে ছাড়ালো। ধপাস করে পড়লো সুফিয়ান। অমিত কে ধরে আনলো। হাত দুটো পিছনে বাধা। কিল ঘু’ষি ভালোই খেয়েছে। এবার ফাইনাল ডোজের পালা। তুমুল তুযা কে বলল
“ আপনি না থাকলে আজ অনেক বড় অঘটন ঘটে যেতো ভাইজান। আপনাকে ধন্যবাদ জানানোর ভাষা খুজে পাচ্ছি না”
তুযা ফিচেল হাসলো। তুমুল ফের বলল
“ কিন্তু এত কিছু আপনি কি করে জানলেন?”
তুযা সিগারেটের শেষাংশে একটা টান দিয়ে ফেলে দিলো
“ নদী আমাকে কল করে বলেছিলো। তারপর আমি ওর মুখেই শুনি সব ঘটনা। এও বললো যে তুমি সবটা প্রমাণ করেছো। কিন্তু কে এসব করেছে তা জানা যায়নি। তারপর হোটেলে গিয়ে রিসেপশনিস্ট এর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে, সেদিনের চেক ইন রেকর্ড দেখলাম। ফুটেজও দেখলাম। মেয়েটা নষ্টা। খুজে বার করতে সময় লাগলো। না”
হাত পা ঝাড়া দিলো তুযা। ফের বললো
“ কয়েকটা চাপড় মারতেই গড়গড় করে সব বলে দিলো। কিরে তাড়াতাড়ি কর। ঝুলা ওটাকেও।”
হাসনাত বলল
“ ভাই মেয়েটাকে কি করবো।?”
“ওরে মারিস না। ওরে দিয়ে এই পুরা গ্যারেজ পরিষ্কার করামু”
অবনিকেও বেধে রেখেছে চেয়ারের সাথে। তুযা তুমুলকে বলল
“ তুমি বাড়ি যাও ভাই। আপাদত কাওকে কিছু বলো না। নদী থাক কয়দিন ওই বাড়িতে। তারপর এর টা আমি দেখমুনি”
তুমুল আর কথা বাড়ালো না। তুযাকে বিদায় জানিয়ে বেরিয়ে এলো। তুমুল কল্পনাও করেনি শক্ত খোলসের ভিতরে তুযার এমন একটা রুপ আছে।কৃতজ্ঞতায় ভরে উঠলো চোখ দুটো। বাইক নিয়ে আবার চলে গেলো ওদের উত্তরার বাড়িটাতে। এ কদিন এখানেই থাকবে। নদীর কাছাকাছি।
তুমুলের বাড়ি পৌছাতে রাত হলো। ফিরেই আবার অফিসের মিটিং। নদী পৌছেছে কিনা খবরও নেওয়া হয়নি। গোসল করে এসে মাথা মুছতে মুছতে মাত্রই ফোনটা হাতে নিয়েছে তুমুল। নদীকে ফোন করবে বলে। ও ফোন করার আগে নদীই ফোন করলো। তুমুল হাসি মুখে ফোনটা রিসিভ করে বলল
“ হেই বউজাআআআআন”
তুমুলের মুখে এত বড় বউ জান শুনে নদী লাজুক হাসলো। জানালার কাছে ঘেষে দাড়িয়ে বলল
“যেই বিয়ে হয়ে গেলো, ওমনি ফোন করা কমে গেছে তাই না?”
তুমুল তোয়ালে টা রেখে সোফায় গা এলিয়ে দিলো
“ কি বলছো এসব?”
নদী অভিমানী গলায় বলল
“ সেই সন্ধ্যা থেকে অপেক্ষা করছি”
তুমুল আদুরে গলায় বলল
“ সময় পাইনি বাবুই। কি করছো?”
নদী মন খারাপ করে বলল
“ আমার না খুব ভয় করছে। সবাই যদি জেনে যায়?”
“ জেনে গেলে যাবে। তখন অন্তত বউটাকে কাছে পেয়ে যাবো”
নদী কথা বলছে না। চুপ করে আছে। তুমুল ফের ডেকে বলল
“ বাবুই? ও ময়না? পাখি শুনছো? মন খারাপ হয়ে গেলো বুঝি? আচ্ছা কি করলে তোমার মন ভালো হবে বলো তো”
নদী এবার একটু দুষ্টুমি করলো
“ উমমমমম, এমন একটা গান শোনান যেটাতে আমার নাম আছে”
তুমুল হাসলো। ভারিক্কি গলায় সুর তুললো
শুধু তুমি চাও যদি..
সাজাবো আবার নদী
শুধু তুমি চাও যদি
সাজাবো আবার নদীইইইই।
এসেছি হাজার বারণে
শুধু তোমারই জন্যে।
শুধুওওও তোমারই জন্যেএএ।
নদী খিল খিল করে হেসে উঠলো।
“ বাহহহ আপনি এত সুন্দর গান গাইতে পারেন আগে কেন বলেননি?”
তুমুল মজার সুরে বলল
“ আগে বুঝি বউ ছিলে?”
হঠাৎ তুমুল কেমন নেশা ভরা কন্ঠে ডেকে উঠলো
“ এইইইইইই”
নদী ছোট করে আওয়াজ দিলো
“ হুমম”
তুমুল হাস্কি স্বরে বলল
“ আজ না আমাদের বাসর রাত”
“ তো?”
তুমুল দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মনে মনে বলল
“ তোমার মতো আন রোমান্টিক মহিলা এসব বুঝবে না”
মুখে বলল
“ সেই সুবাদে একটা গান শুনো তাহলে”
নদী হাসলো
“শোনান”
তুমুল কথা বলতে বলতে কিচেন থেকে কফিও বানিয়ে নিয়েছে। কফির কাপটা হাতে নিয়ে রুমে আসতে আসতে গেয়ে উঠলো
এই মধু রাতে, কেন কাছে পেতে
মন চায় তোমাকে, বলো না
বলোওও না।
নদী তুমুলের গান শুনে লজ্জায় লাল হয়ে যায়। মাথা নিচু করে মুচকি মুচকি হাসতে লাগে। সায়রা এসে নদীর কান্ড দেখে দরজার সামনেই দাড়িয়ে রয়েছে। এমন ভাবে মেয়েকে জীবনেও দেখেনি। এভাবে লজ্জা পেয়ে হেসে হেসে কার সাথে কথা বলছে?
“ কিরে?”
সায়রার গলা পেয়ে চমকে উঠে নদী। দরজা খোলা রেখেই বরের সাথে দিব্যি প্রেম করছিলো। ফোনটা চট করেই কান থেকে নামায়। ওপাশ থেকে এখনো লাইনে আছে তুমুল। সায়রা কপাল কুচকে রুমের ভিতর ঢুকে বলল
“ কার সাথে কথা বলছিস এভাবে”
নদী আমতা আমতা করে বলল
“সি…সিমি। সিমি। সিমির সাথেই বলছিলাম।”
সায়রা গোল গোল চোখে তাকিয়ে আছে নদীর দিকে। নদী মায়ের দিকে তাকিয়ে শুকনো ঢোক গিলল। সায়রা নিজের হাতের ফোনটা নদীর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল
“ এই নে ধর। তোর ফোন ওয়েটিং পেয়ে আমার ফোনে কল করেছে সিমি”
নদীর চোখ তখন কপালে উঠে গেছে। কি ধরা টাই না পড়লো। সায়রা কথা বাড়ায় না। ফোনটা রেখেই চলে যায়। নদী ফোন কানে সিমি কে বলে
“আমার ফোন ব্যাস্ত পেলেই তোর মা কে ফোন দিতে হবে?”
ওপাশ থেকে সব শুনছে তুমুল। মিটি মিটি হাসছে নদীর কান্ডে। নদী সিমির কল কেটে নিজের ফোন কানে নিলো। তুমুল ঠাট্টা করে বলল
“ কি ম্যাডাম? ধরা পরে গেছেন?”
নদী মুখ কালো করে বলে
“ মানুষ কি সুন্দর প্রেম করে।বাড়ির কেউ বুঝতেও পারে না। আর আমি একটা মিথ্যা বললেই ধরা পড়ে যাই”
তুমুল শব্দ করে হেসে ফেললো। নদী বলল
“ রাখছি এখন।”
তুমুল সাফ বলে দিলো
“ ১২ টা অবদি কথা বলবো তারপর ঘুমাবো। এর আগে কল কাটলে, আমার বউ আমি গিয়ে নিয়ে আসবো। কেউ বাধা দিলে শুনবো না বলে দিলাম”
নদী ফোস করে নিশ্বাস নিয়ে বলল
“ ক্ষুধা পেয়েছে”
তুমুল কানে ফোন নিয়ে ল্যাপটপে কাজ করছে
“ ওকে। ২০ মিনিট সময় দিলাম। খেয়ে এসে আবার কল দিবে। যদি ১ সেকেন্ডও পার হয়। আমি কিন্তু আমার বউ নিয়ে আসবো বলে দিলাম।”
কল রেখে নদী তারাতাড়ি ডাইনিং এ গিয়ে বসলো। তুমুলকে বিশ্বাস নেই। যদি সত্যি সত্যি তাই করে। চটপট নিজের প্লেটে খাবার নিয়ে নিলো নদী। আঞ্জুমান নদীর কান্ড দেখছে। এমনিতে জিদ করে মা কাকি দের সাথে বসবে। জোর করে যে মেয়েকে খাওয়ানো যায় না। সে এতো তারাতাড়ি করে খাচ্ছে। আঞ্জুমান বলল
“ আস্তে খা। এত তারাহুরো করছিস কেন?”
নদী এবার কি করে বলবে। তার প্রাণের স্বামী তাকে ২০ মিনিট সময় দিয়েছে খাবার খেতে। স্মিত হেসে বলল
“ খাওয়া শেষে পড়তে হবে। সামনে এক্সাম।”
অদিতি আর সাইফ যায়নি কক্সবাজার। তুযা চলে গেছে বলে ওদেরও যাওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। সাইফ খাচ্ছে বসে। অদিতি আঞ্জুমান এর সাথে খাবার পরিবেশন করছে। হাসান চৌধুরী খাবার খেতে খেতে বলল
“ নদীর জন্য একটা ভালো সম্বন্ধ পেয়েছি”
নদী খাওয়া বন্ধ করে তাকালো হাসান চৌধুরীর দিকে। হাসান চৌধুরী ফের বলল
“ ছেলে ভালো। পরিবারও ভালো। নিজেদের ব্যাবসা আছে”
নদী সামান্য খাবার প্লেটে অবশিষ্ট রেখেই উঠে দাড়ালো। হাসান চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বলল
“ আমি এখন বিয়ে করবো না চাচ্চু। সামনে আমার পরীক্ষা। পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট হবে”
আর এক মূহুর্তও দাড়ালো না নদী। বেসিন থেকে হাত ধুয়ে রুমে চলে গেলো। ভিতর থেকে ছিটকিনি তুলে দিয়ে বসে পড়লো বিছানায়। তুমুলকে কল দিলো। কিন্তু ফোন ধরছে না। নদী মন খারাপ করে বিছানায় বসে রইলো। ২ মিনিট পর ফোনে একটা মেসেজ এলো
“ মিটিং এ আছি বাবুই। একটু পর কল দিচ্ছি”
রাতে অদিতির গা কাপিয়ে জ্বর এলো। সাইফ কপালে জলপট্টি দিয়ে দিচ্ছে। ডবল কম্ফর্টার গায়ে জড়িয়েও ঠান্ডা নিবারণ হচ্ছে না অদিতির। গা পুড়ে যাচ্ছে তাপ এ। খাবার খেয়ে ওষুধ ও খেয়েছিলো। তবুও কমছে না জ্বর। সাইফ অদিতি কে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়লো। কপাল প্রচন্ড তাপ। জ্বরে পোড়া কপালে আলতো করে চুমু খেলো সাইফ। মনে নানান ভাবনা। তুযা তো গেছে, কিন্তু অকারণে গেছে বলে মনে হচ্ছে না সাইফের। ও নিশ্চয়ই বড় কোনো চাল চালবে এবারে। অদিতি কে বুকের মধ্যে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো। জ্বরের ঘোরে হুশ নেই অদিতির। সাইফ মনে মনে গাঢ় সংকল্প করলো। যত যাই হয়ে যাক, নিজের সর্বস্ব দিয়ে হলেও অদিতিকে রক্ষা করবে সে।
—
রাত তিনটা। নদীর ফুরফুরে বাতাসে হাড়ে কাঁপন ধরে যাবার জো। সেখানে টানটান হয়ে শুয়ে আছে তুযা। অগত্যা মানিকেরও থাকতে হচ্ছে তুযার সাথে। রাতের ভেজা বালিতে চিৎ হয়ে শুয়ে আছে তুযাউন। মানিক ওর ভাবগতি বুঝছে না। তুযা নিজের শাল টাও মানিক কে দিয়েছে। মানিক শাল পেচিয়ে হাতে একটা হারিকেন নিয়ে দাড়িয়ে কাপছে শীতে। তুযা কি মনে করে হেসে উঠলো জোরে জোরে। মানিক হারিকেন টা পাশে নামিয়ে পকেট থেকে সিগারেট বার করে তাতে আগুন লাগালো। বাতাসে লাইটারের আলো সরে যাচ্ছে বারবার। হাত ছাপিয়ে জ্বালালো সিগারেট টা। তুযার ঠোটে ধরিয়ে দিলো।
তুযার পাশে পাটের একটা বস্তা পেতে তার ওপর বসলো মানিক। সাহস করে বললো
“ ভাইজান, ওরে তো লইয়া আইতেই পারতেন। ভালো সুযোগ আছিলো। আনলেন না ক্যান?”
তুযা ধোয়া উড়াচ্ছে বাতাসে। হেসে বলল
“বইন এর ভালো ডা দেখলাম। ভাইয়ের ডা দেহন লাগবো না? আমি তো ওগো বড় ভাই। ওগো লাইগা জীবনে কিছু করতেও পারি নাই। দুই টাকা ইনকাম ও করি না। বইন গো নিজের পয়সায় কিছু কিনাও দিবার পারি নাই।”
মানিক মুখ কাচুমাচু করে বল
“ তাই ওরে ছাইড়া দিলেন?”
“ এইডা কত সাল রে মানিক?”
“ ২০১৮ ভাই।
“হোন মানিক। তোরে একখান ঘটনা কই-
তখন ২০০৮ সাল। আমার বয়স ২০ বছর। তখনো ঘুরি ফিরি আর খাই। ওই বছর আমাগো ডাঙ্গায় প্রচুর মাছ আটকায় ছিলো। মাছ ধরার বড় নেশা ছিলো আমার। মাছ ধরবার যাইতাম। রোজ শেষ রাইতে আযান পড়তো ফজরের। ওই সময় যাইতাম। ফিরতাম বেলা করে। ডাঙ্গায় যাওয়ার পথে একটা বাড়ি পড়তো। আমাগো গেরামের স্কুলের মাস্টার আক্কাস স্যার এর বাড়ি। আক্কাস স্যারের একটা মাইয়া আছিলো। নাম আছিলো জোৎস্না। ভালোই দেহা যাইতো। মাথা ডা ভরা লম্বা লম্বা চুল আছিলো। ডাগর ডাগর চোখ। আর ম্যালা ফর্সা। তহন অল্প বয়স আছিলো আমার… ভালোই লাগতো ছেড়ি ডারে। বয়স আছিলো ১৮। মেট্রিক দিছে তহন। সেই সময়ে ওই বয়সি মেয়ে আইবুড়ো দেখা যাইতো না বললেই চলে। কিন্তু মাস্টার এর মেয়ে তো। মাস্টার পড়াইতো।”
মানিক এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে তুযার কথা শুনছে। তুযা আবার বলতে শুরু করলো
প্রথমে একটু একটু ভাল্লাগতো। পরে ভালো লগার পরিমান বাড়লো। আরো বেশি ভাল্লাগতো। কইলাম একদিন যাইয়া নির্লজ্জের মতো। তোমারে ভালোবাসি। হেইদিন লজ্জা পাইয়া মুখ খানা যা হইছিলো না ওর।
তুযা অনেকটা সময় নিয়ে হাসলো। মানিক খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছে কথা গুলো।
“ তারপর কি হইলো ভাই”
তারপর আমিও বুজলাম। আমি একলা না। ওয় ও ভালোবাসে আমারে। শুরু হইলো আমাগো প্রেম। মাছ ধরার মৌসুম গেলো গা। তাও আমি যাইতাম ডাঙ্গায়। ও আবার আমার মতো আকাইম্মা আছিলো না। বড় লক্ষী আছিলো। আমারে খালি কইতো যেন কোনো কাম করি। সেইবার শরৎ গেলো, হেমন্ত আইলো। হালকা হালকা কুয়াশা পড়ে সকালে। প্রায় ৪-৫ দিন জোৎস্নার সাথে দেখা হয়না। শহরে কলেজে ভর্তি হইছে। ওইখানে পরীক্ষা চলে। সকালে বাপের সাথে যায়। আসতে সন্ধ্যা হয়।
পরীক্ষা শেষে দেখা করতে আইলো। আমগো পুরান ভিটায় দেখা করতাম বেশি। সেইখানে যাওয়ার জন্যে খবর পাঠাইলো আমগো এক কর্মচারীর কাছে। আমি খুব খুশি। গেলাম।
আমার আগেই ও বসে আছে। প্রায় ১ সপ্তাহ পর আমাগো দেখা। আমি কইলাম ‘ভালোই তো দিনকাল যাইতেছে। দেখা করবারও সময় হয় না।
দেখলাম ও কানতেছে মাথা নিচু কইরা। মেলা দিন পর দেখা হইছে তো। আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে নাই। বুজলাম এই কয়দিনে আমার থিকা বেশি ওর বুক পুড়ছে আমারে দেখবার লাইগা। গাছের গোরায় শান বাধানো। সেই খানে বসে আছে মাথা নিচু কইরা। আমি ওর পাশে বইসা কইলাম। হইছে আর কাইন্দো না। ও চোখ দুই খান মুইছা আমার কাধে মাথা রাখলো। আর কইলো ‘অনেক প্রেম করছি। এইবার বিয়া করো’। আমি কইলাম বেশ তো। চলো কালকেই বিয়ে করি। ও কইলো আগে যানি আমি কোনো কাম করি। তারপর বিয়া। বাপের কোনো একটা ব্যাবসায় লাগতে কইলো। আমি কইলাম আমার কাম কাইক মনে ধরে না।
ও কইলো, তাইলে তোমার কি মনে ধরে। আমি ওর কোলে মাথা দিয়ে শান এর ওপরে শুয়ে কইলাম। আমার তোমার সাথে সংসার করবার মনে ধরে।
ও লজ্জা পাইলো ঠিকই। কিন্তু মাথা নিচু করতে পারলো না। কারণ ওর কোলে আমার মাথা। নিচে তাকাইলেই আমার চোখে চোখ পড়বো। ওর আবার পেটের বেদনা আছিলো। তাই নিয়া চিকিৎসা করতে শহরে যাইতো মাঝেমধ্যে।
আমারে তাড়া দিলো উঠতে। বাড়ি যাইবো। সন্ধ্যা হইয়া যাইতেছে। আমি কইলাম কেউ কি তোমারে কিছু কয়? আমার লগে কথা কও যে। ওয় হাইসা কইলো ‘ছোট সাহেবের সাথে আইছি, কারো কিছু কওয়ার সাহস আছে নাকি?”
আমারে মেলা কইতো। আবার যাতে কলেজে ভর্তি হই। কিন্তু আমার তো পড়াশোনা মনে ধরতো না। জিগাইলে কইতাম আমার তোমার লগে সংসার করতে মনে ধরে। পড়াশোনা মনে ধরে না।
আরো এক মাস গেলো। ও খুব কম দেখা করতো আমার লগে। মন মরা হইয়া থাকতো। জিগাইলে কইতো না। তখন শীত ভালোই পরছে গই-গ্রামে। একদিন আইলো বাসন্তী রঙের একখান কাপড় পিন্দা। গতরে কালা রঙের শাল। ভালোই দেখাইলো। কিন্তু মুখ খানা খুব ভাড়। জিজ্ঞাইতেই কইলো আমার বিয়া ঠিক হইছে। আমি কইলাম তাইলে কালকেই আব্বা রে নিয়া তোমাগো বাড়িত আইতেছি। ও কইলো না আব্বা তোমার লগে বিয়া দিবো না। মামা আমার বিয়া শহরে ঠিক করছে। ওই জায়গায় ই দিবো। আমি কইলাম, আমার লগে না দেওয়ার কারণ কি? আমরা জমিদার এর বংশধর, তুমি তো সুখেই থাকবা। ও কইলো কি মানিক জানস?”
মানিকের চোখের পাতা ভিজে উঠেছে।
“ কি কইলো ভাইজান?”
“কইলো যে ওরে ওই খানে বিয়া দিলে, তারা ওর বড় ভাইরে শহরে বড় চাকরি দিবো। আমি ওর হাত ধইরা কইলাম। আমি তো তোমারে ছাড়া থাকতে পারুম না জোৎস্না। ও কইলো, আমি নাকি দুই দিন গেলেই ওরে ভুইলা যামু। ও নাকি আরেক বেডার লগে সংসার করবো। আমার গায়ে আগুন ধরাই দিলো। আমিও কইলাম, যদি ওর বাপে ওরে আমার সাথে বিয়া না দেয়। তাইলে আমি ওর বাপ ভাই কাওরে ছাড়ুম না। সাথে সাথে ও আমার গালে একটা থাপ্পর মারলো। আমার তাও রাগ হইলো না। আমি ওর পায় ধইরা বইসা পড়লাম। কইলাম, তুমি আমারে যা শাস্তি দেওনের দেও। কিন্তু অন্য কারো লগে বিয়া বইসো না। আমি মইরা যামু। ও কইলো কেউ নাকি কারো অভাবে মরে না। কথা ডা কি সত্যি মানিক?”
মানিক কথা বলতে পারে না। চোখের পাতা মুছে বার বার। তুযা বলল
“ ও আমার কোনো কথা শুনলো না। চইলা গেলো। আমার সাথে তখন শফিক থাকতো। ওয় কইলো ভাই, ভাবি কি আর সত্যিই আইবো না? আমি হাসলাম, ধুররররর! ও আমারে ছাড়া থাকতেই পারবো না। কিন্তু আমি ভুল ছিলাম। পরদিনই ওরা গেরাম ছাইড়া চইলা গেলো। ম্যালা জায়গায় খুজলাম ওরে। আর কোথাও পাইলাম না। ও আমারে ফাকি দিলো।
তুযা থামলো। মানিক এর চোখ বেয়ে অঝোরে পানি পড়ছে। মানিক হারেকেনের আলোয় দেখলো তুযার চোখের কার্নিশ বেয়েও গড়িয়ে পড়ছে নোনাজল। তুযা মুছলো না পানি টুকু আবার বলল
“ এই যে মায় কয়, দাদি কয়, আব্বায় কয়। কাকা কাকিরা সহ কয়। তুযা বিয়া কর, বিয়া কর। আমার তো জোৎস্নার পর আর কাউরে মনেই ধরে নাই রে মানিক। আমি ক্যাম্নে বিয়া করুম ক তো। ভালো না বাসলে সংসার করা যায় নাকি?”
তাই আমি বুঝি হারাইলে কেমন লাগে। তাই অদিতিরে ছাইড়া দিয়া আইলাম। যাহহহ। ও আমার বইন এহন থিকা। নদী দীঘির মতন। মানিকের দিকে তাকিয়ে দেখলো মানিক কান্না করে। তুযা হো হো করে হেসে উঠে বলল
“ এই তুই কান্দস ক্যান মাইয়া গো মতন?”
মানিকের পকেটে ফোন বেজে ওঠে। বের করে দেখে বাড়ি থেকে কল এসেছে। রিসিভ করে তুযার কান এ ধরে। তুযা কানে নিয়েই বলে
“ আমি এই যে বাড়ির কাছেই। কি হইছে কও।”
ফোনের ওপাশে মেহেরজান ইচ্ছে মতো ঝাড়ছে তুযাকে। তুযা বেলেহাজ এর মতো মেহেরজানের গালি খেয়েও হাসে। উঠে বসে ফোনটা মানিক কে দেয়। পিঠ ভিজে উঠেছে পুরো। মানিক দেখে নদীর পারে কেউ পরে আছে
চলবে?
কেমন হইছে জানাইয়ো পাখিরা 🥹🫶
Share On:
TAGS: খাঁচায় বন্দী ফুল, জান্নাতুল ফেরদৌস
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৭
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৪
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৯
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১২
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৫
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৫
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১১
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১০
-
খাঁচায় বন্দী ফুল গল্পের লিংক