Golpo কষ্টের গল্প খাঁচায় বন্দী ফুল

খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১১


কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ ⚠️

খাঁচায় বন্দী ফুল

jannatul_ferdous_জান্নাতুল_ফেরদৌস

পর্ব – ১১

আধা ঘন্টা হয়ে গেছে পাত্রপক্ষ এসেছে। কিন্তু নদী বাইরে বেরোচ্ছে না। হাসান চৌধুরী আঞ্জুমানকে তাড়া দিয়ে বলল
” কিগো আর কতক্ষণ? এবার নদীকে নিয়ে এসো। উনারা অপেক্ষা করছে তো।”

আঞ্জুমান মুচকি হেসে বলল
” সায়রা গেছে নদীকে আনতে। এক্ষুনি চলে আসবে ওরা। আপনারা মিষ্টিমুখ করুন না।”

রাশেদা বেগম বিনয়ের সাথে হেসে বললেন
” আগে মেয়ে আসুক, মেয়ের সাথে গল্প করি তারপর না হয় মিষ্টি খাব।”

নদী জিদ ধরে রুমে বসে আছে। কিছুতেই পাত্রপক্ষের সামনে আসবে না সে। সায়রা হাজার বোঝানোর পরও নদী রাজি হচ্ছে না। কেঁদে কুটে একশার হচ্ছে । সায়রা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন
” দেখ মা নিজের চাচ্চুর সম্মানের কথা ভেবে হলেও চল। দেখতে এলে বিয়ে হয়ে যায় নাকি। তুই ওখানে যাবি দুটো কথা বলবি আর চলে আসবি। চল লক্ষী সোনা মা আমার তুই এরকম করলে তোর বাবা কিন্তু খুব রেগে যাবে আমার উপর।”

নদী নিজের বাবার রাগ জানে। বাধ্য হয়ে চোখ মুখ মুছে নিল, মাথায় ওড়না জড়িয়ে মায়ের পিছন পিছন গেল। গুটি গুটি পায়ে ড্রয়িং রুমের দিকে যতই এগিয়ে যাচ্ছে মনে হচ্ছে আগুনের স্ফুলিঙ্গ থাকে স্পর্শ করছে। মুখে সামন্য মেকাপের প্রলেপ লিপস্টিক কিংবা কাজল কোন রকমের সাজসজ্জা নেই। নদীর একেবারে সাদামাটা।

তুমূল থেকে দেখলে নদী আসছে। তার চোখ স্থির হয়ে গেল নদীর ওপর। লাল চুরিদাড় পরে মাথায় ঘোমটা টেনে গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে আসছে এক শান্ত রমনি। তুমূলের চোখ জুড়িয়ে যায়। আঞ্জুমান এগিয়ে গিয়ে নদীর বাহু ধরে এনে সোফায় তুমুলের মুখোমুখি বসালো। রাশেদা বেগম সশব্দে উচ্চারণ করল
” মাশাল্লাহ “

হাসান চৌধুরী হেসে বললেন
” এই হচ্ছে আমাদের মেয়ে নদী। এবার অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে। আপনাদের কিছু জিজ্ঞাসা করার থাকলে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।”

রাশেদা বেগম হেসে অনুনয় করে বললেন
” আপনাদের পরিবারের আদর্শ নিয়ে আমাদের প্রশ্ন করার কি সাধ্য আছে মিনিস্টার সাহেব। ওসব বলে আর লজ্জা দেবেন না। মেয়ে মাশাল্লাহ খুব পছন্দ হয়েছে আমাদের। এবার ছেলে মেয়ে দুজন দুজনকে পছন্দ করলেই আমরা এগোতে পারি।”

হাসান চৌধুরীর সম্মতি দিয়ে বললেন
” সে তো অবশ্যই “

রাশেদা বেগম হাবিব চৌধুরীর উদ্দেশ্যে বললেন
” ভাই সাহেব আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে ছেলেকে করতে পারে।”

হাবিব চৌধুরী সৌজন্যমূলক হাসি দিল
” ভাইজানের মতামতের সাথে আমার কোন প্রশ্ন নেই। ভাইজান যা বলবে তাই হবে।”

হাসান চৌধুরী বললেন
” আপনার ছেলের বিষয়ে আমরা যথেষ্ট খোঁজখবর নিয়েছি। মাশাল্লাহ সব জায়গায় ছেলের প্রশংসা পেয়েছি। তাছাড়াও তার ব্যবহার শিক্ষা দীক্ষা আমাদের খুব ভালো লেগেছে।”

রাশেদা বেগম তুমুল এর উদ্দেশ্যে বলল
” বাবা তোর কিছু বলার আছে?”

তুমুল মুচকি হেসে না সূচক মাথা নাড়ালো। চৌধুরী হেসে বললেন
” তাহলে কথা এগোনো যাক”

রাশেদা বেগম বললেন
” নদী মায়ের মতামত তো জানা প্রয়োজন। ওর মতামত ই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এখানে।”

নদী মাথা নিচু করে বসে আছে। একবারও পাত্রপক্ষের কারো দিকে তাকাইনি। যার সাথে বিয়ে ঠিক হতে চলেছে সে তার সামনে বসে আছে, তবুও নদী একবার তাকিও দেখেনি। হাসান চৌধুরী নদীর উদ্দেশ্যে বললেন
” তুমি কিছু বলবে না মামনি? বলার থাকলে নির্ভয়ে বলতে পারো।”

সবাই নদীর মতামত দেওয়ার অপেক্ষায় বসে আছে। কিন্তু নদী কোন সারা শব্দ দিচ্ছে না। তুমুল একটু কপাল কুচকালো। তুমূলের ছোট কাকি ইরানি রাশেদা বেগমের উদ্দেশ্যে বললো
” ভাবি আমার মনে হয় তুমুল আর নদী মামনি কে আলাদা কথা বলতে দেওয়া উচিত।”

কথাটা কর্ণপাত হতেই নদী চমকে উঠলো। ছ্যাত করে উঠলো তার বুকের ভেতর। চৌধুরীও সম্মতি জানিয়ে বললেন
” কথাটা মন্দ বলেননি। ওদের একবার নিজেদের মধ্যে কথা বলে নেওয়া উচিত। কারণ সংসারটা তো ওরাই করবে। দুজনেরই নতুন জীবন শুরু হতে চলেছে। কোন ব্যক্তিগত কথা থাকলে ওরা একে অপরকে বলে নেওয়াই ভালো বিয়ের আগে।

আঞ্জুমান নদীর উদ্দেশ্যে বলল
” নদী তুমি ওকে নিয়ে ছাদে যাও। তোমরা কথা বলে এসো।”

নদী যেন আরো পাথর হয়ে গেল। টলোমলো চোখে একবার সাইফের দিকে তাকালো। সাইফ চোখের ইশারায় নদীকে আশ্বস্ত করলো। কিচ্ছু হবে না যা।

নদী ওঠে আস্তে করে হাঁটা শুরু করল। তুমূলও উঠে নদীর পিছন পিছন গেল। নদী ছাদে উঠে জড়সড় হয়ে দাঁড়ালো। যেন সাথে কোন বাঘ ভাল্লুক নিয়ে এসেছে। তুমুল ছাদে ওঠে দুই হাত ছড়িয়ে শরীর টানটান করল। ছাদের চারিপাশে নানা রকমের ফুলের গাছ। তুমুল হেসে উৎফুল্ল গলায় বলল
” গাছগুলো আপনি লাগিয়েছেন? বাহ খুব সুন্দর তো আপনার রুচিবোধ। মাইন্ড ব্লোইং। আই এম ইম্প্রেসড।”

নদী আড় চোখে একবার তাকিয়ে দেখলো ছেলেটার কান্ড। তুমুল বেগুনি রঙের একটা ফুলে হাত দিয়ে বলল
” এটা কি ফুল? “

নদী শান্ত গলায় ছোট্ট করে উত্তর দিল
” চন্দ্রমল্লিকা “

তুমুল চট করে পিছনে ঘুরল। মুচকি হেসে ঘাড় চুলকে বললো
” যাক এতক্ষণ পর আপনার মুখের একটা কথা অন্তত শুনলাম।”

তুমুল চন্দ্রমল্লিকা ফুল গাছের দিকে এগিয়ে গেল। টবে লাগানো একটা গাছ তাতে পনেরো ষোলটা ফুল আর পাচ সাতটা কলি। একটা সুন্দর দেখে ফুল ছিড়লো। নদী পিছন দিকে ঘুরে আছে। নদীর পিছনে দাঁড়িয়ে বলল
” এদিকে একটু ঘোরা যাবে? “

নদী ঘাড় ঘোরাতেই চন্দ্রমল্লিকা ফুলটা গুঁজে দিল নদীর কানের পাশে। তুমুলের আচমকা এমন কাণ্ডে ভরকে গেল নদী। কপাল কুঁচকে চোখ গোল করে তাকিয়ে রইল তুমুলের দিকে। এই প্রথম তাকিয়ে দেখলো তুমুল কে।

ছিপ ছিপে ফর্সা গরন। ঠোট দুটো টকটকে লাল তাতে মনমুগ্ধকর হাসি। দুইপাশে দুটো বাকা দাত। কি যেন বলে, ওই গজদন্ত। এরকম দাঁতের মানুষকে, হাসলে খুবই সুন্দর দেখায়। চোখের মনি দুটো বাদামী।

চুলগুলো একটু বড়ই, তবে খুব সিল্কি। ছাদের বাতাসে উড়ে উড়ে বারবার চোখে কপালে আসছে। নদীর তুলনায় বেশ লম্বা, শক্তপোক্ত পেটানো শরীর। কালো রঙের একটা পাঞ্জাবি পড়েছে। হাতা কনুই ওব্দি গোটানো।

নদী তুমুলের চোখের দিকে তাকাতেই তুমুল ভ্রু নাচলো। নদীর সাথে সাথে চোখ নামিয়ে নিল। তুমুল বুকে হাত গুঁজে চোখ ছোট ছোট করে বলল।
” এবার বলুন তো মিস নদী, আপনি কি আমাকে বিয়ে করতে চান। মানে বলতে চাইছি, আমাকে কি পছন্দ হয়েছে? আসলে আমি ছোটবেলায় আরো ফর্সা ছিলাম, বড় হওয়ার পর রোদে পুড়ে কালো হয়ে গেছি।”

নদী মনে মনে বলল
” ফর্সা মানুষের যত ঢং, উনি নাকি কালো। উনি কালো হলে আমি কি “

নদী মাথা নিচু করে জবাব দিল
” পরিবারের পছন্দই আমার পছন্দ।”

তুমুল মুচকি হেসে বলল
” আপনার জন্য খেজুরের রস নিয়ে এসেছি। এই শীতের মধ্যে ভোরবেলা বাইক চালিয়ে অনেক দূর থেকে এনেছি। খেয়ে দেখবেন। এ বছর শীতে শুনলাম খেজুরের রস খাননি।”

নদী এবার বড় বড় চোখ করে তুমুলের দিকে তাকালো। নদী যে অনেকদিন ধরে খেজুরের রস খেতে চেয়েছিল, তা উনি কি করে জানল।
নদী বিষ্ময়ের সাথে জিজ্ঞেস করল
” আপনি কি করে জানলেন?”

” আপনি তো ফেসবুকে পোস্ট করেছেন সেদিন। যে এ বছর খেজুরের রস খাননি, খেতে ইচ্ছা হয়েছে খুব।”

” আপনার কাছে আমার ফেসবুক আইডি ও আছে?”

তুমুল মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে মুখে হাসি দেখে বলল
” আপনার পছন্দ-অপছন্দের সব লিস্ট আমার কাছে আছে “

নদী এবার আশ্চর্যের সর্বোচ্চ স্তরে। নদীর সম্পর্কে এই লোকটা এত কিছু জানে? নদী অবাক হয়ে বলল
” আর কি কি জানেন?”

তুমুল ছাদের রেলিং হেলান দিয়ে বলল
” অত কিছু এখন বলতে গেলে সবাই আমাদের খুঁজতে ছাদে চলে আসবে।”

নদীর হুট করে খেয়াল হলো। তারা অনেকক্ষণ হয় এসেছে ছাদে। তুমুল সামনের দিকে হাত দেখিয়ে বলল
” তাহলে চলুন যাওয়া যাক”

নদী হাঁটা শুরু করতেই আবার পিছন থেকে ডাকলো।
” এই এই এক মিনিট “

নদীর পা থামল,পিছনে ফিরল। তুমুল নদীর কানের পাশ থেকে ফুলটা খুলে নদীর হাতে দিয়ে বলল
” এমনিতে আপনাকে ফুলটাতে খুব সুন্দর লাগছিল, কিন্তু এভাবে নিচে গেলে সবাই ভাববে আমরা এতক্ষণ ছাদে প্রেম করছিলাম।”

নদী এবার সত্যি লজ্জা পেল। তার খেয়ালী নেই যে কানে ফুল গোজা।তোমার মুচকি হেসে বলল
” যাওয়া যাক”

নদী হাঁটা শুরু করল। মূল্য পিছন পিছন চলে এলো। নদী নিচে নামতেই অদিতি এলো রান্নাঘর থেকে । হাসান চৌধুরীর পাত্রপক্ষের সকলের উদ্দেশ্যে বললেন
” পরিচয় করিয়ে দেই, এই হচ্ছে আমার একমাত্র ছেলের বউ অদিতি চৌধুরী। আমাদের বৌমা।”

নিচের নামের পাশে চৌধুরী খেতাব পেয়ে অদিতি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল হাসান চৌধুরীর দিকে। তুমুলের বাড়ির লোকের উদ্দেশ্যে বলল
” আসসালামু আলাইকুম”

রাশেদা বেগম সালাম নিয়ে বললেন
” মাশাল্লাহ আপনাদের বৌমা তো একদম চাঁদের টুকরো। এত সুন্দর বউ কোথা থেকে এনেছেন ভাই সাহেব”

নিশি সাইফের দিকে তাকিয়ে বলল
” ইনি আবার বিয়ে করেছেন? ভাবলাম পটাবো। ধুর ভাল লাগে না।”

এর মধ্যে নদী আর তুমুল এলো ছাদ থেকে। তোমরা এসে আগের জায়গায় বসল। নদী দাঁড়ালো অদিতির পাশে। রাশেদা বেগম নদীকে ডেকে নিজের পাশে বসতে বলল।
হাসান চৌধুরীর উদ্দেশ্যে বলল
” ভাই সাহেব আপনি সম্মতি দিলে আমরা এনগেজমেন্টের দিন তারিখ টা ঠিক করি “

” নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই”

এ মাসের ১০ তারিখে তাদের এংগেজমেন্ট এর দিন পাকা করা হলো। তার এক সপ্তাহ পরে বিয়ে। সকলে মিষ্টি মুখ করল। রাশেদা বেগম নদী কি মিষ্টি খাইয়ে দিল।

কথাবার্তা শেষ করে সকলে উঠলো।
নদীর মুখ দেখে রাশেদা বেগম নিজের গলা থেকে স্বর্ণের চেইন খুলে নদীর গলায় পরিয়ে দিল। অত বড় বাড়ির মেয়ে হাতে টাকা দিলে কিনা কি মনে করে। মুখ দেখে তো কিছু দেওয়ার নিয়ম আছে।

তুমুল যাওয়ার সময় আরো একবার নদীর দিকে তাকালো। নদী তাকাতে চোখাচোখি হল দুজনের। তোমার চোখ ইশারা দিয়ে বোঝালো “আসছি”
কিছু বলল না। চোখ নামিয়ে নিল। সাইফ আর হাবিব চৌধুরীর সকলকে এগিয়ে দিয়ে আসলো। আঞ্জুমান এবং সাইরা দুজনেই খুব খুশি। পাত্র তাদের খুবই পছন্দ হয়েছে। হাসান চৌধুরী তাদের বাড়ি এবং পরিবার সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন। সবই খুব ভালো। নদী সে বাড়িতে সুখেই থাকবে।

নদীর রুমে গিয়ে পোশাক পাল্টে একসেট সুতির থ্রি পিস করে নিল। খাটের ওপর বসে বসে ভাবছে, ওই লোকটা আমার ব্যাপারে এত কিছু কি করে জানে। তাহলে কি আগে থেকে আমাকে ফলো করছিল। আর মাত্র চারদিন পরে তার এংগেজমেন্ট। তার এক সপ্তাহ পরে বিয়ে। ভাবতেই নদীর গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। তারপরে সাইফ ভাইয়ের থেকে কত দূরে চলে যেতে হবে তাকে। এখন অন্তত চোখের দেখা টুকু দেখতে পায়। সেটুকু খোওয়াতে বসেছে নদী।

তার ভাবনার মধ্যে সাইরা এলো। হাতে পাকা খেজুরের রস। রসের গ্লাসটা নদীর সামনে ধরে বলল।
” এই নে, কবে থেকে রস খেতে চাইছিলি।”

নদী ক্লাস টা হাতে নিল।সায়রা বসলো নদীর পাশে
” বললাম না ছেলেটা খুব ভালো”

নদী কিচ্ছু বললো না। অল্প অল্প করে রসটা খেলো। খাওয়া হয়ে গেলে সায়রা গ্লাসটা নিয়ে চলে গেলো। নদীর হুট করে মনে পড়লো দিঘির কথা।

কাল বোনটাকে মারার পর খুব কষ্ট পেয়েছে মনে মনে। দীঘি সেই যে রাগ করে বসে আছে। তারপর থেকে এখনো পর্যন্ত একবারও নদীর সামনে আসেনি। নদী ওঠে দীঘির ঘরের সামনে গেল। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। নদী দরজায় টোকা দিতে ভিতর থেকে দিঘী বলল
” বিরক্ত কোরোনা তো মা। আমি কিছু খাব না আমার ভালো লাগছে না”

নদী শান্ত গলায় বলল
” দিঘী আমি। দরজাটা খোল “

মিনিট দুয়েক পর দিঘি দরজা খুলল। দরজা খুলে দিয়ে ভিতরে চলে গেল আবার। নদীর পিছন পিছন গেল।
” কেন এসেছো?”

” সরি বোন। কাল আমার মনটা একদমই ভালো ছিল না। হুট করে রাগ উঠে গেছিল।”

দিঘী রেগে বলল
” ঠিক আছে এখন যাও “

নদী দীঘির সামনে দাঁড়িয়ে বলল
” কথা বলবি না আমার সাথে? আচ্ছা না বললি। আর মাত্র ১০-১২ টা দিনই তো, তারপরে তো আমি চলে যাব। আর তো আর থাকবো না তোদের চোখের সামনে।”

দিঘির চোখ পানিতে ভরে গেল। সেজান তো আজ আপুকে পাত্রপক্ষ দেখতে আসবে।
বোনের ওপর রাগ করে ঘর থেকে বের হয়নি। তার মানে দিন তারিখ ঠিক হয়ে গেছে। আপু সত্যিই চলে যাবে। দীঘি হুট করে নদীকে জড়িয়ে ধরল। হাউমাউ করে কান্না শুরু করল।
” আপু তুই চলে গেলে আমি একা একা কিভাবে থাকবো। আমার খুব কষ্ট হবে আপু। তোকে খুব মনে পড়বে খুব মিস করবো তোকে।”

নদী বনের মাথায় হাত বুলিয়ে বলল
” কেন এখন তো নতুন ভাবি আছে ওর সাথে বোনের মত থাকবি।”

দিঘি কাঁদতে কাঁদতে বলল
” ভাবি কি আর বোনের মত হয়? “

নদী দিদিকে বোঝাতে বলল
” খাওয়ালেই হয়। অদিতি খুব ভালো মেয়ে। ওর সাথে মিলেমিশে চলবে, দেখবি ও তোকে আমার মত করেই ভালবাসবে। “

দিঘী বোনকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল
” সে না হয় হবে কিন্তু তোকে পাব কোথায়? “

নদী হেসে বলল।
” আমি ম’$রে গেলে কি করবি?”

দিঘী আরো জোরে করে কেঁদে দিয়ে বলল
” ও কথা মুখেও আনবি না আপু “

“আচ্ছা বাবা ঠিক আছে এবার কান্না থামা”

নদী নিজের ঘরে চলে এলো। এই শীতের মধ্যে টাইলসের ওপর বসে পড়ল। এক যন্ত্রণার ওপর আরেক যন্ত্রণা, এ যেন কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা। প্রথমে যাকে ভালবাসত সে অন্য মেয়েকে বিয়ে করল, এখন আবার তার বিয়ে হচ্ছে আর একজনের সাথে। সাইফ কে হারানোর ক্ষত এখনো সেরে উঠতে পারিনি নদী, তার মধ্যে তাকে বিয়ে দিয়ে যেন সেই ক্ষততে নুনের ছিটে লাগানো হচ্ছে। সে মরে গেলেও অন্য কারো সংসার করতে পারবে না। কিন্তু বাবা কাকার সম্মানের কথা ভেবে কি ছুটি বলতে পারল না মুখে।


“আ’গুন, আ’গুন”
চারিদিকে আ’গুন আ গুন চিৎকারে ভরে উঠেছে গ্রামের পরিবেশ। এই মাঝ রাতে হঠাৎ করে গ্রামের ভিতর কারো বাড়িতে আ’গুন লাগা মোটেও স্বাভাবিক নয়। এই গ্রামে এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। এত ভয়াবহ আ’গুন লাগল কিসের থেকে?

গ্রামের মানুষ বালতি কলসি ভরে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছি না। এত আ’গুন দমকল ছাড়া নিভানো সম্ভব নয়। কিন্তু বাড়ির ভেতর থেকে কারো চিৎকারের শব্দ আসছে না। তাহলে কি বাড়িতে লোক ছিল না? নাকি তারা এতক্ষণে পুড়ে মা’রা গেছে?
এদিকে গ্রামের সব মানুষ আ’গুন নেভাতে ব্যস্ত, ওদিকে তুযা অদিতির সৎ বাবা এবং তার নতুন কম বয়সী স্ত্রীকে গলায় চাপাতি ধরে কপালে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে বাইকে করে নিয়ে যাচ্ছে।

বলসহ বাইক নিয়ে সোজা রওনা হলো ফরেস্ট হাউজের দিকে।


আজ শুক্রবার। সারাদিন সাইফ কে কল করেছে সুফিয়ান। আজ সুফিয়ানের বাড়িতে গিয়ে সাইফের বিয়ে করার কথা। কিন্তু সারাদিন ফোনেই পানি সাহেবকে। উপায় না পেয়ে সাইফের বাড়িতে আসে সুফিয়ান। চামেলি তখন চৌধুরী বাড়ির গেটের সামনে নেচে নেচে রিলস বানাচ্ছে। সুফিয়ান এক গাল হেসে বলল
” তোমার আর আমার মধ্যে কানেকশনটা কি বলতো চামেলি ভাবি “

“ওমা সে কি”

” যখনই আমি এদিকে আসি তোমার সাথে দেখা হয় “

চামেলি দুষ্টু হাসি দিয়ে বলল
” আমি জিনিসটা এরকম। তা কোথায় গেছিলেন সাহেব। সেদিন দেখলাম এক মেয়ের সাথে, গার্লফ্রেন্ড নাকি? “
সুফিয়ান গাড়ি হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে বলল
” হ্যা, এখন আর নেই। চলে গেছে”

চামেলি মোবাইলের স্ক্রিনে নিজেকে দেখতে দেখতে বলল
” তার উঠছিলো যৌবনের জ্বালা। আর তুমি দিছো ভালোবাসা। ছেড়ে তো যাবেই”

সুফিহান হো হো করে হেসে উঠলো চামেলির কথায়। হঠাৎ করে সুফিয়ানের চোখ যায় চৌধুরী বাড়ির পিছনের গেটের দিকে। ৭-৮ জন মুখোশ পড়া লোক কাপড়ের বস্তায় মুড়িয়ে কোনো মানুষকে গাড়িতে উঠাচ্ছে টেনে হিচরে।
দেখে যা বোঝা গেলো কোনো মেয়ে হবে। সুফিয়ান তাড়াতাড়ি সেদিকে ছুটে যায়। ততক্ষণে মুখোশধারী রা গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে।

কি বিচ্ছু কি বিচ্ছু বাপরে। এই সুন্দরী পাঠিকা আর হ্যান্ডসাম পাঠক গুলো ১০ মিনিটেই ১০০ কমেন্ট করেদিলো 👀🌚।
বলি গল্পে কমেন্ট করার সময়ও যেন এমন এনার্জি থাকে। যে রিয়্যাক্ট করবে না, সে তুমূলের খালাম্মা 🐸

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply