Golpo romantic golpo আমি তোমার হতে চাই

আমি তোমার হতে চাই পর্ব ৮


#পর্ব_৮

#সুরভী_আক্তার

( অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ ❌ )

যুবকের সোজাসাপ্টা ঠান্ডা কথায় কিছুটা অপ্রস্তুত হয় দিশা । দৃষ্টি নত করে । পরক্ষণে কথা মোতাবেক ওরনা টেনে পেঁচিয়ে নেয় মাথায় । অরিধ দৃষ্টি সরিয়েছে অনেকক্ষণ । রমনী ডেকে বললো…..

” দেখুন তো,, ভালো লাগছে ?

সূক্ষ্ম নেত্রে তাকায় যুবক । উত্তর করে সংক্ষিপ্ত….

” হু !

মুখ ফসকে বলা উত্তরে হকচকিয়ে যায় রমনী । ঠোঁটে দেখা মেলে এক পশলা হাসির রেশ । দৃষ্টি ছলকে শুধোয়….

” সত্যিই ভালো লাগছে ?

অরিধ আর বিশেষ পাত্তা দিলো না । ঢোক গিলে কড়া নাড়লো দরজায় । সেকেন্ড কয়েকের মাথাতেই দরজায় খট করে শব্দ হতেই এক কদম এগিয়ে দিশাকে আড়াল করে সামনে দাঁড়ালো সে । নিজের শরীরের আবডালে ঢেকে দিলো রমনীর অনুচ্চ কায়া ।

দরজা খুলেছেন এক যুবক । বয়স ত্রিশোর্ধ হবে । এই পঁয়ত্রিশ কিংবা ছত্রিশের দাড়ে । পড়নে সাদা ধবধবে পাঞ্জাবি । ঘন দাড়ি চোয়ালে । অরিধ কে দেখেই গলা চড়িয়ে হাসলেন তিনি । কাঁধে চাপড় মারলেন…..

” আরে শালা বাবু,, এতক্ষণে আসার সময় হলো ? বোনের বিয়ের থেকে কি নির্বাচন আর খান সাহেব আগে ? কতক্ষন ধরে অপেক্ষা করছি । তোমার বোন তো পাগল হয়ে গেছে তোমার জন্য ।

অরিধ মৃদু হাসার চেষ্টা চালায়….

” স্যরি #হাসিব ভাই, একটু দেরি হয়ে গেলো ।

কথা শুনে দরজা থেকে সরে ভেতরে ঢোকে হাসিব । এই ফাঁকে চট করে পিছু ফেরে অরিধ । এই প্রথম দিশার দিকে ঝুঁকে আসে একটু । চটপট করে ফিসফিসে নিচু গলায় বলে……

” দিশা, উনি আমার দুলাভাই ! আই মিন, আমার বড় আপার হাসবেন্ড । চোখ তুলবেন না ওনার সামনে । মনে থাকবে ?

বলতে বলতে আরেকবার ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকালো সন্ত্রস্ত দৃষ্টিতে ‌। ভেতরের পরিস্থিতি দেখে নিয়ে পরক্ষণে আবার রমনীর দিকে ফিরলো । আচমকাই হাত তুলে ওর মাথার ওরনাটা টেনে দিলো কপাল অবধি । আওড়ালো গলা নামিয়ে….

” এবার ঠিক আছে !

পরপর আশ্চর্যে কিংকর্তব্য বিমূঢ় বনে যায় রমনী । লোকটা এতো কাছে আসলো ওর ? ছুঁয়ে দিলো এভাবে ?

এই এক্ষুনি লোকটার উষ্ণ নিঃশ্বাস আছড়ে পড়লো রমনীর মসৃন ত্বকের উপর । তাৎক্ষণিক বোধহয় অদ্ভুত শিহরণ বয়ে গেলো সর্বাঙ্গে । এই প্রথম খুব কাছ থেকে সে অনুভব করলো লোকটার শরীরের ঘ্রাণ । চোখাচোখি হলো নিবিড় ভাবে । দৃষ্টিতে অদ্ভুত ঘোর, সন্দিহান তা । আকস্মিক অরিধের এমন বদলে যাওয়া ব্যবহার হজম করতে কিছুটা বেগ পেলো মেয়েটা ! শিহরণ বাড়লো জোড় পাল্লায় ।

পরক্ষণে শিহরণ সামলে চোখ নামিয়ে নেয় রমনী । ঢোক গিলে মাথা কাত করে সেই শেষ প্রশ্নে সায় দেয় । অরিধ ও ভ্যাবাচ্যাকা খায় কিছুটা । দ্রুত বেগে ছিটকে পিছিয়ে আসে ‌। অতঃপর গলা ঝেড়ে মেয়েটাকে নিয়ে পা বাড়ায় ভেতরে ।

হাসিব এতক্ষণ ধরে বকবক করেছে, সেসব কিছুই কানে পড়েনি । অরিধ পেছন থেকে কিছু বলার আগেই চোখ পড়লো সিঁড়িতে । দোতলা হতে নেমে আসছেন ওর মা #জাহানারা_বেগম । দৃষ্টি তীক্ষ্ণ তার । ছেলের পাশে অপরিচিত এক মেয়েকে দেখেই মেজাজ চটে গেলো নিমিষেই । ঝটপট নেমে ভারী গলায় বলে উঠলেন…..

” অরিধ, ও কে তোমার সাথে ?

দিশা চমকে গুটিয়ে যায় বেশ অনেকটা । দৃষ্টি নত করেছে সেই শুরুতেই ।

এতক্ষণে হাসিব ও দিশার দিকে তাকালো এক ঝলকের জন্য । অরিধ ঢোক গেলে । নরম কন্ঠে বলে…..

” আম্মা,, উনি দিশা । ওয়াহাজ খানের ভাগ্নি !

” কিন্তু ও তোমার সাথে কেনো ?

কন্ঠ চড়া । আলগোছে চোখ তোলে দিশা । মধ্যবয়স্ক এক ভদ্র মহিলা । ছয় কাট গোল জামা পড়নে । লম্বায় অনেকটা পায়ের পাতা অবধি বিস্তৃত । বিশাল ওরনা দুকাধ জড়িয়ে মাথায় পেঁচিয়ে রাখা । ঠিক যেনো নামাজ সেরে উঠে আসলেন এক্ষুনি । বেশ রাগী রাগী ভাব মুখাবয়বে !

দিশা সালাম দিতে চাইলো । তবে তার কঠোর মুখাবয়ব দেখে ক্ষণিকেই ফুস করে চুপসে গেলো মেয়েটা । কন্ঠ রুদ্ধ হয়ে এসেছে যেনো । ভদ্রমহিলা বোধহয় গুরুগম্ভীর । স্বল্প ভয়ে জবান উঠলো না রমনীর । চোখ নামিয়ে নিলো আবার । অরিধ মৃদু স্বরে প্রত্যুত্তর করে…..

” আসলে আমি ওনাকে ভার্সিটি থেকে ড্রপ করতে গেছিলাম । সে সময় #অহি ফোন করেছে । ওর প্রয়োজনীয় জিনিস গুলো কিনে তক্ষুনি আসতে বললো । সোজা বাড়িতে এসেছি । তাই ওনাকে আর খান বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় নি ।

” তুমি খান সাহেবের এসিস্ট্যান্টই তো ? নাকি তার ভাগ্নির ড্রাইভার ?

দিশা ভীষণ লজ্জায় পড়ে । অরিধ উত্তর করে তৎক্ষণাৎ….

” তেমন কিছু না আম্মা ! আজ শহরের পরিস্থিতি ভালো না, তাই ওনাকে ড্রপ করতে গেছিলাম আমি ! এখন অহিকে ওর এসব জিনিস দিয়ে ওনাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসতে হবে । অহি কোথায়….

ভদ্রমহিলা দিশাকে আপাদমস্তক পর্যবেক্ষণ করলেন । গলা নরম করলেন । ডাকলেন কারোর নাম ধরে…..

” #ইফতি….

অগত্যা সাঁড়া দিয়ে ছটফট করে উপর থেকে নিচে নেমে আসলো এক অষ্টাদশী রমনী । ভদ্রমহিলা বললেন নরম গলায়….

” এই মেয়েটাকে নিয়ে তোমাদের ঘরে যাও । আমি নাস্তা পাঠাচ্ছি । মেহমান আসলে তাকে খালি মুখে ফেরাতে নেই । অরিধের সাথে আমার একটু কথা আছে । ও এখন বেরোতে পারবে না কোথাও ।

একটু থেমে দিশাকে শুধোলেন…..

” একটু পর তোমাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসা হবে । অরিধের কাজ আছে । দেরিও হতে পারে ! এখন ওর সাথে উপরে যাও ! আপাতত আমাদের বাড়িতে কিছুক্ষণ থাকলে সমস্যা হবে তোমার ?

দিশা চোখ তুলে মিনমিন করলো কিছু না ভেবেই…..

” না আন্টি !

” তাহলে উপরে যাও ওর সাথে । ইফতি, নিয়ে যাও ওকে !

তাৎক্ষণিক আদেশ তামিল করে দিশাকে নিয়ে উপরে উঠতে লাগলো ইফতি । পেছন থেকে অরিধ ডাকলো । ইফতির হাতে কিনে আনা ব্যাগ গুলো ধরিয়ে দিয়ে উপরে যাওয়ার জন্য ইশারা দিলো ।

সিঁড়ি উঠতে গিয়ে পিছু ফিরে অরিধের দিকে আধো চোখে একঝলক তাকালো দিশা । লোকটা বোধহয় আস্থা দিলো চোখের ইশারায় ।

দোতলার শুরুতেই একটা ঘর ।

দিশাকে নিয়ে ভেতরে ঢুকেই গলা বাড়িয়ে চেঁচিয়ে ওঠে ইফতি…..

” অহি,, দেখ ভাইয়া ফুল মেহেদি সব এনেছে ।

হকচকিয়ে পিছু ফেরে অহি । অরিধের একমাত্র আদরের ছোট বোন সে । বেশ শান্ত হয়ে বসে ছিলো । ইফতির এমন উচ্চস্বরে পিছু ফিরতেই প্রথমে দিশাকে দেখতে পেলো সে । অপরিচিত মুখাবয়ব দেখে কুঁচকে আসলো কপাল । ইফতির লাফালাফিতে তোয়াক্কা না করে শুধালো আগ্রহী হয়ে….

” উনি কে ?

ইফতি নিজেও জানে না ।

দিশা মুচকি হাসে । এগোতে এগোতে বলে….

” আমি #দিশা_আফরিন । তোমরা আমাকে চিনবে না । ওয়াহাজ খানকে চেনো নিশ্চয়ই ? উনি আমার মামা হন । জাওয়াদ সাহেব , মানে তোমাদের ভাইয়ার সাথে এখানে এসেছি । একটু পর ফিরে যাবো । বাই দ্যা ওয়ে,, তুমি অহি ? আর তুমি ইফতি ? মানে অরিধ জাওয়াদের বোন তোমরা ? অ্যাম আই রাইট ? কিন্তু আমি তো শুনেছিলাম ওনার একটা বোন । তাহলে তিনটে হলো কি করে ?

অহি – ইফতি দুবোন একে অপরের দিকে চাওয়া চাওয়ি করে গোল গোল চোখে । এই অপরিচিত মেয়েটার এমন সহজ আচরন বেশ অবাক করলো ওদের । তার চেয়ে বেশি অবাক হলো, কারন অরিধের সাথে এই মেয়ে এ বাড়িতে এসেছে । এটা বেশ অবিশ্বাস্য লাগলো বটে ।

সন্দেহ ভুলে অহি বলে ওঠে…..

” আমি অহি । ভাইয়ার একমাত্র আপন বোন । আর ও আমার চাচাতো বোন ইফতি ।

” তাহলে নিচে যে দুলাভাই কে দেখলাম, উনি কে ? কার হাসবেন্ড ?

” উনি ইফতির বড় বোন, #রেশমা আপার স্বামী । রেশমা আপা আর ইফতি ওরা আমাদের বাড়িতেই বড় হয়েছে । চাচা চাচি তো মারা গেছে অনেক আগেই । আমরা ছাড়া ওদের আর কেউ নেই । আমার বিয়ের জন্য আপা আর দুলাভাই এসেছে এ বাড়িতে ।

দিশার মুখখানা আহত হয়ে আসলো । সে জানে অরিধের বাবা নেই । বোন আর মা আছে । তবে চাচাতো বোন আছে, আর সে এ বাড়িতেই থাকে, এটা জানা ছিলো না রমনীর । সে ইফতিকে দেখলো এক পলক । বেশ মিষ্টি একটা মেয়ে । তবে অহি আরো বেশি । খুব সুন্দর, গুলুমুলু, আদুরে একটা মেয়ে । এদের দু’টোরই বয়স কাঁচা । দেখে একদম বাচ্চা বাচ্চা লাগছে । তার উপর দুজনের মাথাতে একই ভাবে ওরনা পেছানো । অবিকল পুতুল পুতুল লাগছে একদম ।

এই চার দেয়ালের মাঝেও মাথায় ওরনা পেঁচিয়ে রেখেছে । এটা নিয়ে বেশ ভাবুক হলো দিশা ।

” বুঝেছি, তাহলে তুমিই অহি ! খুব মিষ্টি দেখতে ! কাল তাহলে তোমারই বিয়ে ? দেখে তো বাচ্চা বাচ্চা লাগছে ! বয়স কত তোমার ?

” আঠারো !

চমকে যায় দিশা…..

” সবে আঠারো ? এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে করছো ?

ভ্যাবাচ্যাকা খায় অহি । ইফতি মুখ টিপে ফিক করে হাসে । মেয়েটা বলে মিনমিন করে…..

” আমার বিয়ে তো আরো এক বছর আগে হয়ে গেছে, আপু । ইসলামে কালবিলম্ব না করে মেয়েদের খুব তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়ার নির্দেশ আছে । সেই অনুযায়ী দেখতে গেলে দেরি হয়ে গেছে আমার বিয়ের ।

এসব ছাড়ুন আপু, আপনি মেহেদি পড়াতে পারেন ? কাল আমার বিয়ে, একটু মেহেদি পড়বো না ? ভাইয়া বোধহয় ব্যস্ত আছে । আপনি একটু পড়িয়ে দেবেন ? শুধু একহাতে পড়িয়ে দিন, অন্যহাতে ভাইয়া পড়িয়ে দেবে ! আসলে আমি না এসব পারি না । আর এই গাধা টাও পারে না কিচ্ছুটি ।

শেষে ইফতিকে তিরষ্কার করলো সে ।

অমনি মুখ কুঁচকে বিকৃত করে ফেললো মেয়েটা ।

অহির কথায় বেশ অনেক গুলো মেহেদি কিনে এনেছে অরিধ । এখন সে ব্যস্ত ভীষণ । বাড়ির বাইরে যে প্যান্ডেল সাজানো হয়েছে, সেদিক টাতেই তদারকি করছে । বেশ কিছু কাজ বাকি ছিলো । ডেকরেশন থেকে লোক এসেছেন । যুবক এতো সহজে ব্যস্ততা কাটাতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না ।

অহির একহাতের পিঠে মেহেদি পড়ানো শেষ । হাতের তালুতে প্রায় অর্ধেকটা চলে ।

মনযোগ দিয়ে সেটাই আঁকতে আঁকতে দিশা বলে ওঠে কৌতুহল না দমিয়ে….

” আচ্ছা অহি, তোমরা ঘরের ভেতরেও মাথায় ওরনা পেঁচিয়ে রাখো এভাবে ? সবসময় ? উশখুশ লাগে না ?

মেয়েটা একটু হাসে । নিজের হাতের পানে তাকিয়ে থেকেই বলে সাবলীল ভাবে….

” অভ্যাস হয়ে গেছে, আপু । এমনিতে সবসময় এমন থাকি না । আসলে হাসিব ভাই বাড়িতে আছেন তো, তিনি পরপুরুষ ! তাই এভাবে আছি । নয়তো যদি হুট করে সামনে পড়ে যায়, তাহলে আম্মা বকবে । এমনিতে আমাদের বাসায় আর কোনো পরপুরুষ নেই !

” আম্মা খুব কঠোর, তাই না ?

রমনীর মুখে আম্মা সম্বোধন শুনে তাৎক্ষণিক কপাল গুটিয়ে আসে অহির । সাথে সাথে ইফতির দিকে তাকায় সে । হয়তো কথার পৃষ্ঠে বেখেয়ালে বলে ফেলেছে । তাই খুব বেশি গায়ে মাখলো না ওরা । বললো স্মিথ স্বরে…

” ওই একটু আধটু শাসন করে । তবে কঠোর নন । আম্মা খুব নরম । এসব বেলাল্লাপনা পছন্দ করেন না ।

দিশা মনযোগ দিয়ে শুনলো সব ।

পরক্ষণে আলগোছে অহির হাতে মেহেদি পড়িয়ে দিতে মগ্ন হলো । ওর মধ্যেই রেশমা এসে টুকটাক নাস্তা দিয়ে গেছে । দেখে গেছে দিশাকে ।

বেশ অনেকটা সময় পেরোলো । খেয়ালের বশে লক্ষ্য করা হয়নি প্রায় দেড় ঘন্টা কেটে গেছে ।

কিছুক্ষণ পর কড়া নেড়ে ঘরে ঢোকে অরিধ । কাজের পর মায়ের সাথে জরুরি কিছু আলাপ শেষে ফ্রেশ হয়ে এ ঘরে আসলো সে ।

গলা খাঁকারি দিতেই ধ্যানে বিঘ্ন ঘটিয়ে চট করে ঘাড় ঘোরালো দিশা । অমনি স্তব্ধ হলো চোখ জোড়া । এই প্রথম ভারী শুট বুটের আস্তরণ ছাড়িয়ে একটা পাতলা টিশার্ট আর ট্রাউজার পরিহিত শ্যাম পুরুষ অরিধ জাওয়াদকে দেখতে পেলো সে । দৃষ্টি আটকালো না চাইতেও । যুবকের পড়নে অফ হোয়াইট রঙের একটি টিশার্ট আর কালো প্যান্ট । সুঠাম যুবকের পেটানো বাহু পেশি উন্মুক্ত । গোছানো চুল গুলো এই প্রথম এলোমেলো তার । খানিক ভেজা, লেপ্টে রয়েছে কপালে ।

তব্দা বনে ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে রয় দিশা । অরিধ চঞ্চল কদমে তেড়ে আসে । হাতে একটা খাবারের ট্রে ।

এসেই থামলো বিছানার পাশে । দিশাকে ভ্যাট ভ্যাট করে তাকিয়ে থাকতে দেখে গলা খাঁকারি দিয়ে নরম কন্ঠে বললো…..

” আ’ম স্যরি দিশা,, দেরি হয়ে গেলো !

বিজি ছিলাম একটু । খান সাহেব ফোন করেছিলেন, আমি বলেছি সবটা । আপনি তো দুপুরে খাননি কিছু । আপাতত খেয়ে নিন । আমার আরেকটু কাজ আছে, তার পর আপনাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসবো !

সম্বিত ফেরে দিশার । চোখ নামিয়ে ঢোক গেলে । আকস্মিক কম্পন অনুভব করে শরীরে । এই লোকটা এমন কেনো ? কি আছে তার মাঝে ? তাকে দেখলেই এতো উচাটন জাগে কেনো মনে ? ইশশ্, কি বেসামাল অনুভুতি ! সেকেন্ড কয়েক চোখ খিচে রাখলো মেয়েটা । পরক্ষণে ধীরে বললো…..

” ইটস্ ওকে !

ট্রে খানা টেবিলের উপর রেখে এক লাফে বোনের পাশে বিছানার উপর উঠে বসে অরিধ । হাসি প্রসারিত করে ঠোঁটে । হাতের দিকে তাকিয়ে মেহেদির ডিজাইন দেখে মুগ্ধ হয়ে বলে…..

” মেহেদি দিচ্ছো ? বাহ্, সুন্দর হচ্ছে !

দিশা নড়েচড়ে আরো বেশ কবার ঢোক গেলে । এর মাঝেই অরিধ পরখ করেছে তাকে । দিশাকে থামতে দেখে অহি ডাকলো……

” আপু, থেমে গেলেন কেনো ? বাকিটা শেষ করুন । ভাইয়া দেখো, উনি কি সুন্দর মেহেদি পড়াতে পারেন । তোমার থেকেও ভালো । ভালো করেছো ওনাকে নিয়ে এসে । উনি এক হাতে পড়িয়ে দিক,, তুমি আমার এই হাতে পড়িয়ে দাও ।

মুখ ফিরিয়ে নিলো যুবক…..

” আমার থেকে ভালো উনি পারছেন, তাহলে ওনার থেকেই পড়িয়ে নাও । আমি পারবো না ।

” ভাইয়া,,‌

মেয়েটার আহ্লাদী ডাক ।

অরিধ ঠোঁট ঠেলে হাসে । আলগোছে বোনের মাথায় টোকা মারে ।

ছোট বেলা থেকেই অহি’র সমস্ত পৃথিবী গড়ে উঠেছে এই ভাইকে ঘিরে । মায়ের পর বাবা হীনা বোনের একমাত্র অবলম্বন এই যুবক ।

বোনের সাথে কথা কাটাকাটি করে বেশ কিছুক্ষণ খুনসুটি করলো, হাসাহাসি করলো । দিশা আশ্চর্য হয়ে দেখে, এই লোক এভাবে হাসতেও পারেন বুঝি ?

লোকটা একটা মেহেদির কোণ তুলে নিলো হাতে । বোনের হাত টেনে কোলে রাখলো । এই মেহেদি পড়িয়ে দেওয়ার জন্যই অহি জরুরি তলব করেছিলো তখন ।

দিশার পাশাপাশি খুব অল্প সময়ে বেশ সংক্ষিপ্ত একটা ডিজাইন এঁকে দিলো বোনের হাতে । হাঁফ ছেড়ে বললো….

” নাও, হয়ে গেছে ।

হাতের মাঝামাঝি ভুজুং ভাজুং একটু আঁকি বুকি করেছে কেবল । সেটাই চমৎকার লাগলো অহির নিকট । খুশিতে গদগদ হলো সে ।

দিশা নিশ্চুপ দর্শক । দেখে যাচ্ছে শুধু । অহির মতো করে রাহিও বায়না জুড়লো । ওর হাতেও ঝটপট আঁকি বুকি করে দিলো যুবক । যেনো বড্ড তাড়া আছে তার ।

দিশা আর চুপ থাকতে পারে না । শুধিয়ে বসে…..

” আপনি মেহেদিও পড়াতে পারেন ?

অহি’র উত্তর তৎক্ষণাৎ…..

” ভাইয়া সব পারে, আপু । জানেন, ছোটবেলা থেকে ঈদের সময় ভাইয়াই আমাদের হাত রাঙিয়ে দিতো সবসময় । দেখুন, সুন্দর হয়েছে না ?

দিশা আলগোছে মাথা ঝাঁকায় । অরিধ নিজেকে ভার করে তাগাদা দেয় এবার….

” আচ্ছা, আমি বাইরে যাচ্ছি এখন । অনেক কাজ আছে । দেরি হয়ে যাচ্ছে । দিশা, আপনি খেয়ে নিন । একটু পর এসে আপনাকে বাড়িতে পৌঁছে দিতে হবে ।

মেয়েটার মুখ শুকনো । তাড়া টুকু গায়ে পড়লো না । নিজের হাতের দিকে তাকালো সে । পরক্ষণে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললো হুটহাট…..

” হাতটা ফাঁকা ফাঁকা লাগছে ‌। যাওয়ার আগে আমার হাতেও একটু মেহেদি পড়িয়ে দিন না, প্লিজ !

যেনো আবদার করলো রমনী । কন্ঠে দ্বিধা নেই ক্ষণমাত্র । অরিধ চট করে দৃষ্টি তোলে । থেমে যায় । অপ্রস্তুত হয় বোনদের সামনে । বাঁকা চোখে দেখে নেয় ওদের । কন্ঠে সন্দেহ প্রকাশ করে…

” আমি ?

” তা নয় তো কে ?

” আমার কাজ আছে ।

” উফফফ ভাইয়া, আপু যখন চাইছে একটু পড়িয়ে দাও না ।

অরিধ দিশার দিকে তাকালো এক ঝলকের জন্য । সংশয় কাটিয়ে কোলের উপর একটা কুশন টেনে নিলো । বললো নরম কন্ঠে….

” আচ্ছা,, এখানে হাত রাখুন !

ধড়ফড় করে উঠলো রমনী । আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো উৎকন্ঠা জাগলো মনে । ভেতর ঘরে বয়ে গেলো হীম শীতল শিহরণ ।

ঢোক গিলে চট করে কুশনের উপর হাত রাখতে বিলম্ব করলো না । একটা ছোট লোটাসের ডিজাইন ওর হাতের পিঠে এঁকে দিলো অরিধ । এ বেলায় সময় নিয়ে খুব যত্ন করে আঁকলো । অবশ্য হত কাঁপছে ।

ডিজাইনের বাকিটা প্রসারিত করার আগেই কানে ভেসে আসলো জাহানারা বেগমের ডাক । ছেলের নাম ধরে ডাকলেন তিনি । অমনি ধড়ফড় করে ওঠে অরিধ । হাতের কাজ ফেলে বিছানা থেকে নেমে সাঁড়া দেয় প্রথমে । বাইরে যাওয়ার আগে বলে যায়…..

” আমার কাজ আছে,, বাকি টুকু আপনি নিজে শেষ করে নিন ।

বলেই হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে গেলো যুবক ।

দিশা হাতের পানে চেয়ে মুচকি হাসে ।

অরিধ কাজ থেকে উদ্ধার হতে হতে অনেকটা বিকেল গড়িয়েছে ।

অতঃপর দিশাকে নিয়ে বেরিয়েছে সে । হাতের মেহেদি শুকিয়ে গেছে, ওঠানো হয় নি এখনো । গাঢ় রং আসবে নিশ্চিত ! ফেরার পথে গাড়িতে উঠে মুচকি মুচকি হাসছে দিশা । বড্ড আনন্দ লাগছে মনে মনে । ইশশ্, এ আবার নতুন অনুভূতি ! সে আর চেপে রাখতে পারলো না ! লোকটার সাথে কথা বলার পাঁয়তারা করলো । কোনো প্রসঙ্গ না পেয়ে অরিধের দিকে ফিরে প্রফুল্ল চিত্তে বললো…..

” জাওয়াদ সাহেব, আপনাদের বাড়িটা কিন্তু বেশ সুন্দর !

অরিধ ধ্যান দিতে চাইলো না ওর কথায় । এমনিতেই আজ গদগদ হয়ে গেছে খুব বেশি । এটা ঠিক হচ্ছে না । আবার পৃষ্ঠে কিছু না বললেও বেমান দেখায় । তাই মুখ খুললো আনমনে….

” পছন্দ হয়েছে ?

দিশার বেখেয়ালে ছটফটে উত্তর তাৎক্ষণিক…..

” হু, ভীষণ । আপনি চাইলে আর আপনাকে সাথে পেলে সারাজীবন নির্দ্বিধায় কাটাতে পারবো এখানে ।

অরিধ স্টিয়ারিং চেপে ধরলো এহেন কথায় । নরম চোয়াল শক্ত করলো । মেয়েটাকে কি আশকারা দিয়ে ফেলছে সে ? কিন্তু এটা তো হওয়ার নয় । সম্ভব নয় ।

দিশা নিজেও ভ্যাবাচ্যাকা খেয়েছে । অবাধ্য জিভ তার । কথা উড়িয়ে চুপটি মেরে গুটিয়ে গেছে পরক্ষণে ।

,,,,

আগের দিন খান বাড়িতে এসে দিশাকে পায়নি ভূমি । সেই মেয়ে ফিরতে ফিরতে ভূমি মিহাজ কে পড়িয়ে হস্টেলে ফিরে এসেছিলো । একটু তাড়া ছিলো ওরো ।

তবে আজ শুক্রবার, এই দিনেও ছুটি নেই মেয়েটার । যে রিকশায় উঠেছিলো, খান বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে ওকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে সেই রিকশা থেকে ।

এমনিতে বাকি দিন গুলোতে এক বাক্যে মূল ফটকের সামনে এসে নামিয়ে দেওয়া হয় । খান বাড়ির কথা বললে যে কেউ তড়তড় করে রাজি হয়ে যান । তবে আজ ভিন্নতা রেখে একটু দূরে নামিয়ে দেওয়া হলো ওকে ।

ভূমি কিছুটা ভীত । কাঁধের ব্যাগটা চেপে ধরে হনহনিয়ে হাঁটছে ত্রম্ভ পায়ে । বারবার মনে হচ্ছে, কেউ বোধহয় পিছে আসছে ওর । রিকশায় উঠেও এমন মনে হচ্ছিলো, যেনো কেউ পিছু নিয়েছে । কিন্তু এই অচেনা অজানা শহরের ভিড়ে কেই বা পিছু নেবে ওর ?

ভূমি বিশেষ তোয়াক্কা করে নি । তবে পরক্ষণেই ঘাবড়ে গেছে । কদমের গতি বাড়িয়ে বারংবার পিছু ফিরে তাকাতে তাকাতে আকস্মিক চোখে কিছু ছেলে-পেলের দল‌ নজরে আসলো ।

ভূমি পিছু ফিরে তাকাতেই দমে গেলো ওরা । যেনো স্বাভাবিক হওয়ার ভান করে নিজেদের মাঝে আড্ডা পাড়লো ।

বিংশী রমনীর নির্মল হৃদয় ভড়কে যায় । ঝটপট ঢোক গিলে পায়ের গতি বাড়িয়ে এক প্রকার ছুটে খান বাড়িতে ঢোকে । ভয়ের চোটে ছোটার দরুন হাঁপিয়ে উঠেছে তখন । ঘেমে গেছে মুখ মন্ডল ।

বাড়ির সবাই লাঞ্চ সেরে সবে উঠেছেন টেবিল থেকে । ওয়াহাজ খান গিয়ে বসলেন সোফায় । হাতে ফোন তুলে নজর দিলেন সেথায় । নীলয় হেলে দুলে সিঁড়ির দিকে এগোনোর মাঝেই হন্তদন্ত ভূমিকে দেখতে পেলো বাড়ির ভেতরে ঢুকতে । অমনি চিকচিক করে উঠে ওষ্ঠ প্রসারিত করে হাঁক ছাড়লো….

” আরে ভূমিকা, হোয়াটসঅ্যাপ ? এসে গেছো ?

ওয়াহাজ খান শুনেও শুনলেন না । ভূমি তাকে না দেখার ভান করে এগিয়ে যায় সিঁড়ির দিকে । ভয় গিলে কাষ্ট হাসে । হাঁসফাঁস করে ঘন ঘন শ্বাস ফেলে কপালের ঘাম মুছে নেয় হাতের উল্টো পিঠে । কিছু বলার আগেই ওর তটস্থ মুখাবয়ব ধারালো দৃষ্টিতে পরখ করে নীলয় । আঁখি লতা গুটিয়ে ফের শুধোয়……

” কি হয়েছে ? ভয় পেয়ে আছো মনে হচ্ছে,,, এভাবে ঘামছো কেনো ভূমিকা ?

মেয়েটা ঢোক গেলে । চোখ তুলে তাকায় । না লুকিয়ে মিনমিন করে আড়ষ্ট স্বরে…..

” ছোট মামা,,, ওই বাইরে……

” বাইরে কি ? কোনো প্রবলেম ?

” আসার সময় মনে হলো, কেউ বোধহয় আমাকে ফলো করছিলো !

বাক্যটি ওয়াহাজ খানের কানেও পৌছালো । কপালে ভাঁজ ফেলে তাৎক্ষণিক ফোন হতে দৃষ্টি তুললেন তিনি ।

নীলয় বোঝার চেষ্টা করে । জানতে চায়…..

” ফলো করছিলো মানে ? কাউকে দেখেছো ?

” একদল ছেলে……

মেয়েটার কথা ফুরোতে দিলো না যুবক । ফুল স্লিভের টিশার্ট টার হাতা গুটিয়ে উপরে তুলতে তুলতে হম্বিতম্বি করলো চোয়াল শক্ত করে….

” পাড়ার ছেলে গুলো ডিস্টার্ব করেছে ? কি বলেছে হ্যাঁ ? ওয়েট, ওদের তো দেখে নিচ্ছি আমি !

বলতে বলতে সরে আসতে গেলো । মুখো ভঙ্গিমা নিরেট করে কিছু না শুনেই এগোতে গেলো সদর বরাবর । অমনি বেখেয়ালে ওকে আটকাতে পেছনে থেকে যুবকের হাত টেনে ধরে ভূমি…..

” আরে শুনুন তো আগে,, ডিস্টার্ব করেনি কেউ । ওদের তো আগে কখনো দেখিও নি আমি । আজই প্রথম দেখলাম । সেই হস্টেল থেকে বেরোনোর পর থেকেই মনে হচ্ছিলো ওরা আমার পিছু নিয়েছে ! বখাটে ছেলে হয়তো !

যুবক দমে যায় ‌। নিরেট মুখাবয়ব শিথিল করে নিজের হাতের দিকে তাকায় চট করে । অমনি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে দ্রুত ওর হাত ছাড়ে ভূমি । চোখ নামিয়ে আমতা আমতা করার মাঝেই ওয়াহাজ খানের কন্ঠ চিরে চড়া ধমক বেরিয়ে আসলো…..

” কি হচ্ছে টা কি এখানে ?

চমকে ওঠে ভূমি । নীলয় ভাইয়ার দিকে ফেরে এক ঝটকায় । ভদ্রলোকের কানে সব পৌঁছেছে । তিনি স্বভাব সুলভ গুরুভার দৃষ্টিতে চেয়ে রয়েছেন । সাফাই গাইতে চাইলো যুবক…..

” ভাইয়া, কেউ মেবি ওর পিছু নিয়েছিলো । আমি দেখে আসবো গিয়ে ?

” প্রয়োজন নেই । তোমাকে কেউ দেখতে বলে নি এসব ।

তাকে তার কাজ করতে দাও । তাকে বলো উপরে যেতে ।

নীলয় ফিরেই চোখ টিপে ইশারা দিলো । সহসা দু’জনে একসাথে কদম চড়ালো উপরের দিকে । পেছনে ওয়াহাজ খান বোধহয় ফোন কানে ঠেকালেন ।

উঠতে উঠতে ভূমি চাপা গলায় বলে….

” ছোট মামা,, আপনার ভাইয়া আগের জন্মে কি ছিলো বলুন তো ? মানুষ এতোটা গম্ভীর হয় কি করে ? একটুও রসকস নেই গলায় । গুলটে মামা কোথাকার ! উপস স্যরি, মামা বললে তো আবার ক্ষেপে যাবেন ! মামাকে মামা বলবো না তো কি বলবো বলুন তো ?

নীলয় শব্দ করে হেসে ওঠে । পরক্ষণে ঠোঁটে চেপে ধরে হাত ! প্রসঙ্গ ঘোরায়….

” ভূমিকা,, তাই বলে গুলটে মামা বলবে ভাইয়াকে ? আচ্ছা সেসব ছাড়ো, চুইংগাম খাবে ?

বলতে বলতে ব্যাগি প্যান্টের পকেটে হাত পুড়লো যুবক । উত্তর না শুনে একটা চুইংগাম বের করে বাড়িয়ে দিলো….

” নাও, চিবিয়ে দাঁতের শক্তি বাড়াও । ভবিষ্যতে হাসবেন্ডের মাথা চেবানো সহজ হবে এতে !

ফিক করে হেসে ওঠে বিংশী রমনী ।

করিডোরে নীলয়ের সাথে দূরত্ব বাড়িয়ে মিহাজের ঘরে ঢোকে । এদিকে নিজের ঘর থেকে বেরোতেই ওদের দুটোকে একসাথে দেখে এক মুহুর্তের জন্য চোখ সরু করলেন ওয়াহিদা খান । পরক্ষণে চোখ নামিয়ে মুচকি হাসলেন কিছু একটা ভেবে ।

,,,,,

মিহাজকে পড়ানোর জন্য ঘরে ঢুকে ঠিকঠাক বসতেও পারে নি ভূমি ‌। তার আগে কোথা থেকে হামলে পড়লো দিশা । মেয়েটাকে হিড়হিড়িয়ে টানতে টানতে ঘর থেকে বের করে নিয়ে গেলো নিজের ঘরে ।

বিছানার উপর ওর একেকটা ড্রেস ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে । খানিকক্ষণের মধ্যেই রেডি হয়ে বিয়ে বাড়িতে যাবে সবাই । এ বাড়ি থেকে বেরোবে চারটার দিকে । তার আগে রেডি হতে হবে তো ?

বিছানার উপর এলোমেলো সব ড্রেস দেখে চোখ কপালে উঠলো রমনীর । আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলো…..

” দিশা,, এতো এতো ড্রেস বের করেছিস কেনো ? আর এভাবে অগোছালো করেই বা ছড়িয়ে রেখেছিস কেনো বলতো ?

” আরে ভুলে গেলি, আজ না জাওয়াদ সাহেবের বোনের বিয়ে ! ইনভাইট করলো না সেদিন ? ওখানে যেতে হবে তো !

মাথায় হাত তোলে ভূমি । ইশশ্, বেমালুম ভুলে গেছিলো । আবার হুট করেই মনে পড়লো, কাল রাতে দিশা ফোন করে ওকে কিছু বলেছিলো । সবটা খোলসা করে বলে নি । বলেছে সামনাসামনি বলবে আজ ।

ভূমি ব্যাকুল হয়ে পড়ে এটা মনে পড়তেই……

” দিশা, তুই কাল আমাকে কি যেনো বলতে চেয়েছিলি ! কি হয়েছে ? অরিধ ভাইয়ার সাথে কোথায় গেছিলি কাল তুই ? তোদের মাঝে কি চলছে বলতো ?

দিশা চিবুক নামিয়ে লাজুক হাসে । যেনো ভারী লজ্জা পেলো । ভূমি আনচান করে উঠলো ওর এহেন লাজুকতায় । ঝাকালো ওকে….

” ভাইইইই, কি হয়েছে বল না !

দিশা নিজের ডান হাত বাড়িয়ে দেয় সামনে । উপরি পিঠে অর্ধেকটা মেহেদির ডিজাইন লাগানো । ফর্সা চামড়ায় বেশ গাঢ় রং এসেছে । তবে ডিজাইন পুরোটা করা হয় নি ।

ভূমি বিষয়টা ধরতে না পেরে নির্বোধের ন্যায় শুধোয়….

” মেহেদি পড়েছিস ? কিন্তু অর্ধেক কেনো ?

” পড়িনি,, উনি পড়িয়ে দিয়েছেন !

রমনীর আড়ষ্ট স্বর । ভূমি এক মুহুর্তের জন্য হতচকিত হয়ে পড়ে । উদ্বিগ্ন হয়ে চেঁচিয়ে ওঠে…..

” উনি মানে ? মানে, অরিধ ভাইয়া ?

বিপরীতে মাথা নাড়ে দিশা । মুচকি হেসে বলে নত স্বরে….

” ভূমি, ইউ নো,,, আমি বুঝে গেছি উনি কেনো আমাকে এভাবে এড়িয়ে চলেন । আর এটাও বুঝে গেছি, উনি ঠিক কেমন ! আজ থেকে আমি ওনার মতো, ওনার পছন্দ মতো হওয়ায় চেষ্টা করবো ।

” সেটা কিভাবে ?

” সেটা দেখতেই পারবি !

আগে এখান থেকে দুটো ড্রেস পছন্দ করে দে । কোনটা পড়বো বলতো, বুঝতে পারছি না ।

ভূমি খুঁজে খুঁজে দুটো হালকা কাজের থ্রি পিস বের করলো । তার চোখে গর্জিয়াস জিনিস ধরে না । ছিমছাম হালকা জিনিস পছন্দ ।

ড্রেস দুটো দিশার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো….

” এ দুটোর মধ্যে যেকোনো একটা পড়ে নে । দুটোই সুন্দর !

” যেকোনো একটা বেছে দে । কোনটা বেশি সুন্দর ?

ভূমি ঠোঁট কামড়ে ড্রেস দুটোর দিকে তাকায় । ওর চোখে অলিভ রঙা ড্রেস টা খুব বেশি ভালো লাগলো ।

সেটা বাড়িয়ে দিয়ে বললো….

” এটা পড়তে পারিস !

দিশা উল্টো হাতের ড্রেস টা টেনে নেয় । সেটা খয়েরী রঙের । বাড়ানো বাকিটা ভূমির দিকে ঠেলে দিয়ে বলে,,

” তাহলে এটা তুই পড়বি ! খুব সুন্দর লাগবে !

” আমি কেনো ?

” ওমা, বিয়ে বাড়িতে যাবি না ? তোকেও তো ইনভাইট করেছে ! নানু বলেছে, আজ কোনো পড়াশোনা হবে না । রেডি হতে বলেছে তাড়াতাড়ি । দেরি হয়ে যাবে নয়তো । এবার তাড়াতাড়ি চেঞ্জ করে এটা পড়ে নে তো ।

” কিন্তু ভাইইই,, আমি তো যাবো না ।

” তুই যাবি না, তোর ঘাড় যাবে । ঝাড়ি খেতে চাইছিস মামার কাছে ? তোকেও সাথে নিতে বলেছেন তিনি । অবাধ্য হলে তুই ধমক খাবি ।

আশ্চর্য বনে যায় রমনী । ওকে আর দ্বিমত করার সুযোগই দিলো না দিশা । ঠেলে ঠুলে পাঠালো ওয়াশরুমে ।

চারটে বাজার আগ থেকেই ওয়াহাজ খান তাড়া দিতে শুরু করেছেন । ভূমি দোনামোনা করেও কিছুতেই পার পায়নি । শেষ মেষ রেডি হয়ে মিহাজের কাছে গেলো সে ‌। ওয়াহিদা খান নাতিকে তৈরি করাচ্ছেন । ভূমি আমুদে গলায় বলে পেছন থেকে….

” নানু, আপনি নিচে যান । আমি ওকে নিয়ে আসছি ।

তাকালেন ভদ্রমহিলা । নিমিষেই মুগ্ধতা ছড়ালো নয়নে ।

” বাহ্ ভূমি,, খুব সুন্দর লাগছে তোমায় ।

রমনী লাজুক হাসে । চোখ নামায় ।

মিহাজ ও পিটপিট করে তাকিয়ে আছে । রেডি হওয়া শেষ মোটামুটি । ভূমি একটা হেয়ার ব্রাশ নিয়ে ওর চুল আঁচড়ে দিলো । গালে আর নাকের ডগায় আলগোছে টোকা মেরে বললো…..

” কিউট বয়, খুব সুন্দর লাগছে । একদম পরিপাটি…..

এরমধ্যেই কানে ভেসে আসলো গমগমে স্বর । দরজার কাছে থেকে ছেলেকে ডাকতে ডাকতে ঘরে ঢুকলেন স্বয়ং ওয়াহাজ খান…..

” মিহাজ,, আর ইউ রেডি ? লেইট হচ্ছি আমরা…..

🛑 অনেক বড় পর্ব এটাও । রেসপন্স করবেন প্রিয় পাঠক ! লাভিউউ 🫶🏻! 🛑

#চলবে…….

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply