#আমি_তোমার_হতে_চাই
#পর্ব_৪
#সুরভী_আক্তার
( অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ
)
ভার্সিটির খুব কাছেই একটা হোস্টেলে থাকছে ভূমি । সেখান থেকে খান বাড়িতে আসতে রিকশা করে মোটামুটি মিনিট দশেক লাগে । রোজ রিকশা করে আসে, আর ফেরার পথে বাড়ির ড্রাইভার পৌঁছে দেয় ওকে । আজও তাই । আসার সময় রিকশায় উঠেছে মেয়েটা । বেশ ঠান্ডা ঠান্ডা ওয়েদার । মিঠে রোদ মাথার উপর । রিকশার হুড নামানো । চঞ্চল চোখে এপাশ ওপাশ দেখছে রমনী ।
তবে ক্ষণিকের মধ্যেই যেনো এই শান্ত চঞ্চলতা টুকু বহাল থাকলো না আর । ধীর গতির রিকশায় চলতি পথে আকস্মিক একটা অঘটন ঘটে বসলো । রাস্তায় বাঁক নিয়ে এপাশ থেকে ওপাশে চাকা ঘোরানোর সময় রিকশার সামনের চাকার সাথে বোধহয় পেঁচালো কিছু একটা । আকস্মিকই কি ঘটলো ঠিক ঠাহর হলো না ।
বেকায়দায় পিচঢালা খটখটে রাস্তায় হুট করেই ডান কাত হয়ে উল্টে পড়লো তিন চাকার রিকশা টা ।
চালক সহ ভূমি ছিটকে পড়লো শক্ত পিচের উপর ।
তাৎক্ষণিক ব্যাথায় কুকিয়ে উঠলো রমনী । খাজকাটা রাস্তায় পড়া মাত্রই মেয়েটার কপাল কেটে মুহুর্তেই রক্ত বেরিয়েছে ফিনকি দিয়ে । রিকশার একাংশ পড়েছে ডান পায়ের কাছটায় । প্রচন্ড ব্যাথা পেয়েছে হাঁটুতেও ।
অকস্মাৎ কি থেকে কি ঘটে গেলো,,, নিজেও বুঝতে পারলো না মেয়েটা । কেবলই চোখ মুখ খিচে গুঙ্গিয়ে উঠলো । গুটি কয়েক মানুষের হৈ হৈ শোনা গেলো অগত্যা । মাথা চক্কর দিয়ে উঠেছে ভূমির । ঝিঁঝিঁ ধরেছে সর্বাঙ্গে ।
মস্তিষ্ক সজাগ হতে সেকেন্ড কয়েক লাগলো তার । কানে বাজলো……
” আপা,,, আপনি ঠিক আছেন ?
আধো আধো চোখ মেলে তাকালো মেয়েটা । ঘোলাটে দৃষ্টি তার । সুনিপুণ কপাল কেটে ধার ঘেঁষে গড়িয়েছে ফোঁটা কয়েক লহু কনা । চোখের সামনে বেশ কজন পথচারী সহ রিকশা ওয়ালা নজরে পড়লো । হতচকিত হয়ে তিনিই প্রশ্নটা করেছেন ।
ভূমি মাথায় হাত চেপে ঘাড় ঝাঁকায় । দৃষ্টি ঝাঁকিয়ে পিটপিট করে তাকায় । পথচারী একজন ভদ্রমহিলা পাশে বসে কাঁধ জড়িয়ে নিয়েছে ওর । তিনি গালে আলতো চাপড় মেরে বললেন বিচলিত হয়ে…..
” ঠিক আছো মা ? ইশশ্, কপাল কেটে গেছে তো । পায়েও ব্যাথা পেয়েছো খুব ? ডক্টরের কাছে নিয়ে যেতে হবে । কেউ একটু সাহায্য করুন । এই মেয়ে, তুমি তাকাও । নাও, পানি খাও আগে ।
একটা বোতল বাড়িয়ে দিলেন তিনি । ভূমি তখনো দিশেহারা । চিনচিনে ব্যথা বাড়ছে কপালে । কোমর চড়কে গেছে, হাঁটু সহ কোমরে ভীষণ যন্ত্রণা অনুভব করলো সে ।
তবুও ঝাপসা চোখে বোতলটা হাতে নিয়ে দু ঢোক গিললো । ঠোঁট ভিজিয়ে পূর্ণ দৃষ্টিপাত করলো আশেপাশে । রিকশা ওয়ালার মুখখানা চুপসে এসেছে । আঘাত পেয়েছেন তিনিও । তবুও ভয়ে ভয়ে বললেন…..
” ক্ষমা কইরা দেন আপা । কি থাইকা কি হইলো, আমি নিজেও বুঝতে পারি নাই । চাকায় কিছু একটা আটকায় গেছিলো মনে হয় । আপনার তো কপাল কাইটা গেছে , চলেন আমি ডাক্তারের কাছে লইয়া যাই । ব্যান্ডেজ কইরা ঔষধ নিয়া দিমু নে । টাকা আমি দিমু আপা ।
ভূমি ঢোক গেলে । পরিস্থিতি বুঝতে পারে । ব্যাথা গিলে বুলি ফুটায় ঠোঁট নেড়ে….
” ইটস্ ওকে,,, ব্যস্ত হবেন না । আমি ঠিক আছি ।
মহিলা টার সাহায্য নিয়ে উঠতে গিয়েও পারলো না রমনী । হাঁটুর ব্যাথায় পা ভেঙ্গে আবারো ধপ করে পড়লো রাস্তায় । রিকশা ওয়ালা টাকে দু-চারজন যাচ্ছে তাই বলে গালবাজি করছেন ।
ভূমি চেয়েও থামাতে পারছে না । কথা উঠছে না গলায় । মাথা ঘুরছে । আকস্মিক কানে একখানা পুরুষালি ভরাট কন্ঠ ভেসে এলো…..
” কি হয়েছে এখানে ? এতো ভিড় কেনো রাস্তায় ?
চকিতে থেমে যায় সকলের মুখের বুলি ।
ঘাড় ফিরিয়ে পেছনে তাকান প্রত্যেকে । টান টান হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এক সুঠামদেহী যুবক । চোখে কালো রোদচশমা । ললাটে ভাঁজ স্তর বিশিষ্ট । পড়নে সাদা শার্ট আর কালো প্যান্ট । হাত দুখানি গম্ভীর ভঙ্গিতে গুটিয়ে রাখা পেছনে ।
লোকটির পেছনে আরো বেশ কজন দেহরক্ষী স্বরুপ দাঁড়িয়ে আছেন ।
তাকে দেখা মাত্রই জায়গা ছেড়ে একপাশে সরে দাঁড়ালেন পথচারীরা । লোকটি এগিয়ে আসলো ।
ভূমি এক ঝলকে দৃষ্টি নামিয়েছে । ব্যাথিত তার মুখাবয়ব । একজন সবটা খুলে বললেন ।
লোকটি এগিয়ে এসে চোখ থেকে একটানে চশমা টা খুলে ফেললো । দৃষ্টি প্রখর করে ভূমির উদ্দেশ্যে বললো মোলায়েম কন্ঠে….
” বেশি ব্যাথা পেয়েছেন কি ? কপাল কেটে গেছে তো ! চলুন, আমি ডক্টরের কাছে নিয়ে যাচ্ছি আপনাকে ।
উপস্থিত মানুষজন প্রশন্য হলেন লোকটার এহেন কথায় । ভূমির পাশে থাকা ভদ্রমহিলা আবার বললেন….
” একটু কষ্ট করে উঠে দাঁড়াও মা,,, উনি তোমাকে ডক্টরের কাছে নিয়ে গিয়ে ক্ষতে ব্যান্ডেজ করিয়ে নিয়ে আসবেন ।
সহসা বাঁধ সাধলো রমনী…..
” না না,, তার কোনো প্রয়োজন নেই । আমি ঠিক আছি । সামনে আমার ফ্রেন্ডের বাসা,,, ওখানেই যাচ্ছিলাম আমি । ওখানে গিয়ে আমি কাঁটা জায়গায় ওয়েনমেন্ট লাগিয়ে নেবো । এতো ব্যস্ত হবেন না । আপনারা যে যার কাজে যেতে পারেন ।
সামনের যুবকটির ইশারা পেতেই বাকিরা মাথা নামিয়ে স্থান ত্যাগ করলেন । মুখ খুললো সেই যুবক…..
” এক্সকিউজ মি মিস,, আপনি তো ঠিকমতো দাঁড়াতেও পারছেন না । ভালোই চোট পেয়েছেন । রক্ত থামছে না । একটু উঠে দাঁড়িয়ে আমার সাথে চলুন । সামনেই ফার্মেসি আছে । ডক্টর দেখানো প্রয়োজন ।
ভূমি ইতস্তত । এখানকার তেমন কাউকেই চেনে না সে । অপ্রস্তুত হলো মেয়েটা । ব্যাথা গিলে ভদ্রমহিলার সহায়তায় কোনো রকমে উঠে দাঁড়ালো কোমরে হাত চেপে ।
লোকটার দিকে তাকাতেই চোখাচোখি হলো । বেশ উজ্জ্বল ফর্সা সুদর্শন এক যুবক । ঠোঁটে মৃদু হাসি ।
আগ বাড়িয়ে সাহায্য করতে আসছেন কেনো, এটাই বুঝতে পারছে না রমনী । মতিগতি ভালো ঠেকছে না এই ভদ্রলোকের । দ্বিতীয় বার বাঁধ সাধতে যাবে, তার আগেই পাশ থেকে ভদ্রমহিলা বললেন…..
” তুমি কি ওনাকে নিয়ে ভয় পাচ্ছো ? পাগল মেয়ে, চেনো না ওনাকে ? উনি নাভিদ ইশরাক । আমাদের সাবেক এমপি আরিফুল ইশরাকের ছেলে । এবারের নির্বাচনে উনিও প্রার্থী । জনসেবাই ওনাদের কাজ । আগ বাড়িয়ে সাহায্য করতে এসেছেন । নিশ্চিন্তে যেতে পারো ।
ভূমি ভ্রু কুঁচকালো । শুধিয়ে বসলো….
” দশ আসনের এমপি তো ওয়াহাজ খান, তাই না ?
” হ্যাঁ,, উনি তো এমপি আছেন এখনো । ওনার আগে আরিফুল ইশরাক ছিলেন । সামনে তো নির্বাচন আসছে আবার । এই নির্বাচনে আরিফুল ইশরাকের ছেলে নাভিদ ইশরাক অংশগ্রহণ করেছেন ওয়াহাজ খানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে । ইনিই সেই নাভিদ ইশরাক । ভালো ছেলে । বড্ড পরোপকারী । এলাকায় সুনাম আছে । তুমি নিশ্চিন্তে ওনার সাথে যেতে পারো মা । উনি তোমাকে ডক্টরের কাছে নিয়ে যাবে । মাথায় গভীর চোট পেয়েছো । ইমিডিয়েট ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন । ডক্টর দেখালে ভালো হবে ।
ভূমি ফের দৃষ্টি তুলে তাকালো ।
খচখচ লাগলো মনে । এদিকে রিকশার সামনের চাকা খুলে গেছে । এই রিকশা যাবে না আর । রমনী হাঁটতেও পারছে না ভালো করে ।
নাভিদের ইশারা পেতেই রিকশা ওয়ালা পিঠ বাঁচিয়ে তড়িঘড়ি করে প্রস্থান করলেন ।
যুবক ভূমিকে আপাদমস্তক পর্যবেক্ষণ করলো । পকেট থেকে একখানা রুমাল বের করে বাড়িয়ে দিয়ে বললো…..
” এটা কপালে চেপে ধরুন আপাতত । আর চলুন আমার সাথে । সামনে ডক্টরের চেম্বার আছে । এই, গাড়ি এগিয়ে আনো কেউ । উনি হাঁটতে পারছেন না ।
ভূমি দ্বিমত করতে পারলো না আর । বিশ্বাস করলো ।
সামনেই একটা মেডিসিন কর্নারের পাশে ছোট খাট ডক্টরের চেম্বার । ভূমিকে সেখানে নিয়ে গিয়ে ওর মাথায় ব্যান্ডেজ করে দেওয়া হলো । ডক্টর দেখিয়ে ঔষধ কিনে দিলেন নাভিদ ইশরাক নিজেই । খুড়িয়ে হাঁটছে রমনী । চেম্বার থেকে বেরিয়েই ব্যাগে হাত ঢোকালো । ফোন বের করতেই তব্দা খেলো মেয়েটা ।
একেই পুরনো একটা স্মার্টফোন ব্যাবহার করতো । রিকশা থেকে ছিটকে পড়ার দরুন ব্যাগটাও পড়েছিলো রাস্তায় কোথায় । ফোনটাতে আঘাত লেগেছে নিশ্চয়ই । আর কাজ করছে না । ডিসপ্লেতে শো করছে না কিছু ।
মুখখানি চুপসে এলো মেয়েটার । আহত হলো চোখজোড়া । বিল মিটিয়ে পেছনে এসেই হাঁক ছাড়লেন সেই ভদ্রলোক…..
” চলুন মিস,,, আপনি কোথায় যাবেন বলুন । আমি পৌঁছে দিচ্ছি ।
ঠান্ডা তার গলার স্বর । ভূমি আলগোছে ফোনটা ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখে । একেই মাথায় চিনচিনে যন্ত্রণা । তার উপর ছিলে যাওয়া হাঁটুতে টান ধরেছে । কোমর টাও সোজা করতে পারছে না । কি ভীষণ যাঁতাকলে পড়লো মেয়েটা । সে চোখ তুলে চাইলো । বললো মলিন কন্ঠে….
” কটা বাজে বলবেন একটু ?
লোকটি নিজের কব্জিতে বাঁধা ঘড়ির দিকে তাকালো এক ঝলক…..
” চারটে বেজে বিশ মিনিট ।
ছ্যাত করে ভূমি । খান বাড়িতে যেতে হবে । মিহাজকে পড়াতে হবে তো । এতক্ষণে পৌঁছাতে পারেনি দেখে দিশা ফোন করেছিলো বোধহয় । ছটফট করে উঠলো মেয়েটা ।
” আমাকে একটা রিকশা ডেকে দিন, আমি যেতে পারবো ।
” রিকশা কেনো, আমি পৌঁছে দিচ্ছি । আপনি গাড়িতে উঠে বসুন ।
” তার প্রয়োজন হবে না । আমি আপনার গন্তব্যের উল্টো দিকে যাবো । হয়তো আপনার অপছন্দনীয় কোনো এক জায়গায় । কারোর এক বাড়িতে ।
যুবকটি ভ্রু গুটিয়ে ফেলে । বেশ রসাত্মক কন্ঠে বলে….
” আচ্ছা ? তা, কার বাড়ি যাবেন শুনি ?
” খান বাড়িতে । ওয়াহাজ খানের বাড়িতে যাবো আমি ।
নাভিদ প্রতিক্রিয়া হীন চেয়ে থেকে সেকেন্ড কয়েক বাদ শব্দ করে হাসলো গা দুলিয়ে । সোজা আপনি থেকে তুমি সম্বোধন করলো এবারে….
” আরে বাহ্, খান বাড়িতে যাবে তুমি ? বেশ ভালোতো । তা তোমার এটা কেনো মনে হলো, যে খান বাড়ি আমার অপছন্দের ?
ভূমি অপ্রস্তুত হয় তুমি সম্বোধনে । মানিয়ে নিয়ে বলে স্বাভাবিক ভাবেই….
” ওয়াহাজ খান আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী । সেক্ষেত্রে পছন্দের কেউ নন নিশ্চয়ই তিনি ।
এবারও শব্দ করে হাসলো নাভিদ । ওর সাথে থাকা সাঙ্গপাঙ্গ স্বরুপ বাকি ছেলে গুলোও । ভূমি আঁখি লতা কুঁচকে ফেলে । বোঝে না এহেন হাসির কারণ । লোকটা হাসি টুকু গিলে বলে মোলায়েম কন্ঠে….
” বাচ্চা মেয়ে,,, তুমি বোঝো এসব ?
ওয়াহাজ খান আমার পরিচিত । সেটা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে । আমরা একে অপরের শুভাকাঙ্ক্ষী । সম্পর্ক ভালো আমাদের । শুধু ভালোই নয়, অনেকটা গভীর । সবার চোখে আর কাছে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও, আমরা আসলে মিত্র । যেটা কেউ জানে না । বুঝলে !
ভূমি না বুঝে মূর্ত বনে তাকিয়ে রয় ।
নাভিদ শুধোয়…..
” বাই দ্যা ওয়ে, খান বাড়িতে তোমার কি কাজ ?
” আ..আমি ওয়াহাজ খানের ছেলেকে পড়াই । আই মিন, টিউশনি করাই । ওয়াহাজ খানের ভাগ্নি দিশা, ও আমার ফ্রেন্ড ।
” ও আচ্ছা চলো, আমি তোমাকে আমার চরম,, মানে মিত্রর বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসি । সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেলো একটা । কি যেনো নাম তোমার ?
” ভূমি ।
” ভূমি ! ওকে,, লেটস গো ।
এতক্ষণে খানিক স্বস্তি পেলো রমনী । ইনি ওয়াহাজ খানের দুশমন নন, এটা ভেবেই ভালো লাগছে । লোকটার বেশ ঠান্ডা স্বভাবের মিশুক আর চঞ্চল ।
খান বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে গাড়ি থামে নাভিদের । শক্ত চোয়াল ঠেলে হাসে যুবক । বলে ভূমিকে,,,
” ভূমি,,, তুমি এখানে নেমে যাও । আসলে বোঝোই তো, উপর উপর হলেও ওয়াহাজ খান আমার বিরুদ্ধ পার্টি । আমাদের মাঝে সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকলেও পাবলিক উল্টো পাল্টা ভেবে নেয় অল্পতেই । আমার আর এগোনো ঠিক হবেনা ।
মিষ্টি হাসলো রমনী….
” ইটস্ ওকে । আমি নেমে যাচ্ছি ।
” আ,,, শোনো ?
” জি, বলুন ।
সময় নেয় যুবক । চিবুকে দুই আঙ্গুল স্লাইড করে বলে….
” আমাদের দেখা হয়েছিলো, এটা কাউকে বলার দরকার নেই । কাউকে না মানে কাউকে না । পরে কোনো একদিন আমাদের পূর্ব পরিচয় নিয়ে সারপ্রাইজ দেওয়া যাবে সবাইকে । কাউকে বলো না কিন্তু ।
কাষ্ট হাসে রমনী । হাসি চওড়া করে হ্যাঁ বোধক সায় দিয়ে নেমে আসে গাড়ি থেকে ।
জানালার কাচ ভেদে বাঁকা চোখে ওকে পেছন থেকে পরখ করে নাভিদ । মুখশ্রী শিথিল থেকে কূটিল হতে সময় লাগে না একটুও । রুক্ষ ঠোঁট দ্বয়ে দেখা মেলে বক্র হাসির ।
দু আঙুলে কপালের ধার চুলকায় যুবক ।
,,,
খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে শরীর টেনে কোনো রকমে খান বাড়ির ভেতরে ঢুকলো ভূমি । লিভিং রুমে ওয়াহিদা খান বসে আছেন । ভূমি হাসার চেষ্টা করে তাকে দেখে…..
” আসসালামুয়ালাইকুম নানু….
মাথা ফেরাতেই চমকে ওঠেন ভদ্রমহিলা । তড়িঘড়ি করে উঠে দাঁড়ান । মেয়েটার মাথায় মোটা ব্যান্ডেজ । একপাশে হেলে কুঁকড়ে আছে ।
” এ কি ভূমি, তোমার এই অবস্থা হলো কি করে ?
দিশা করিডোরে ছিলো ।
বিচলিত কন্ঠ পেয়ে তড়িঘড়ি করে নিচে নামলো সে । আঁতকে উঠলো নিজেও । ছটফট করে ভূমিকে টেনে ফেরালো নিজের দিকে…..
” ভূমি,, কি হয়েছে তোর ? মাথায় ব্যান্ডেজ কেনো ? এতো দেরি হলো কেনো আজ ? কতবার ফোন করেছি তোকে, খেয়াল আছে ? ফোন বন্ধ কেনো ? আর কি হয়েছে তোর ? বলনা….
ব্যস্ত হয়ে পড়লো মেয়েটা । ভূমি সামলায়…..
” আরে ভাই রিল্যাক্স । আমি ঠিক আছি । একচুয়েলি রাস্তায় আমাদের রিকশা টা উল্টে গেছিলো । পড়ে গেছিলাম রিকশা থেকে । মাথায় চোট লেগেছে একটু । ঐ আর কি । ফোনটা নষ্ট হয়ে গেছে, তাই কল আসেনি ।
আঁতকে উঠলো দিশা…..
” হোয়াট ! রিকশা উল্টে গেছে মানে ? ভূমি,,, কতটা আঘাত পেয়েছিস মাথায় ? আর কোথায় কোথায় ব্যাথা লেগেছে ?
” শান্ত হ দিশা । তেমন কিছু হয়নি । ঠিক আছি আমি । কম চোট, সেরে যাবে । ঔষধ কিনেছি ।
ওয়াহিদা খান বলেন…..
” তোমাকে দেখে ঠিক লাগছে না মোটেও । তুমি বসো আগে । আমি আমাদের ফ্যামিলি ডক্টরকে ডাকছি এক্ষুনি….
” না নানু, তার কোনো প্রয়োজন নেই । ডক্টর দেখিয়ে আমি মেডিসিন নিয়েছি তো । মিহাজ কে পড়াতে হবে এখন । দেরি হয়ে গেছে একেই ।
” অতো পড়াতে হবে না । দাঁড়াতে পারছো না ঠিকমতো, আর মাতব্বরি দেখাচ্ছো ? চুপচাপ বসো বলছি….
কড়া জবানে অগত্যা চুপসে যায় রমনী ।
সেই বিকেল গড়িয়ে এখন সন্ধ্যা । মাথা, পা সহ সারা শরীর যন্ত্রণায় ছিঁড়ে যাচ্ছে । এ অবধি কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারছে না রমনী । শরীর টাও গরম হয়ে এসেছে ।
সন্ধ্যা গড়িয়েছে, তবুও খান বাড়ি থেকে বেরোতে পারেনি । এতো এতো অসুস্থতা নিয়ে ওকে কিছুতেই হোস্টেলে ফিরতে দেননি ওয়াহিদা খান । সাথে তো দিশা আছেই ।
সেই যে দোতলায় দিশার রুমে ঢুকেছে রমনী, বিছানা থেকে উঠতেও পারেনি শরীরের চিনচিনে যন্ত্রণায় । জ্বর এসেছে এর মধ্যেই । চোখ দুটি জ্বলছে । মেলতে পারছে না পুরোপুরি । মেডিসিন নিয়েছে, তবুও কাজ হচ্ছে না ।
বিকেলেই খান বাড়ির ফ্যামিলি ডক্টর এসে দেখে গেছেন । তিনিও আলাদা করে জ্বরের ঔষধ লিখে দিয়ে গেছেন ।
মেডিসিন নেওয়ার পর এখনও শুয়ে শুয়ে কাতরাচ্ছে মেয়েটা । শিয়রের কাছে দিশা । অন্যপাশে মলিন মুখে বসে আছে মিহাজ ।
ওষ্ঠ উল্টে আহত ছোট ছোট চোখে ভূমিকে পরখ করছে সে । মেয়েটার উষ্ণ কপালে বেশ কবার হাত ছুঁইয়ে দেখেছে । টেম্পারেচার কমছে না এখনো । ভূমি জ্বরের ঘোরে অর্ধ জ্ঞান শূন্য । অসহায় হয়ে ওকে দেখার মাঝে মিহাজ ডাকলো এতক্ষণে…..
” মিস…..
ভূমির সাঁড়া নেই ।
দিশা ঠোঁটে আঙুল চেপে বাঁধা দিলো সহসা । ফিসফিস করলো….
” ও বোধহয় ঘুমিয়েছে, ডাকিস না ভাই ।
” মিসের খুব কষ্ট হচ্ছে, তাইনা দিশা আপি ।
” অসুস্থ হলে তো কষ্ট হবে । কপাল কেটে গেছে,, পায়ে কোমরে ব্যথা পেয়েছে, সব মিলিয়ে জ্বর এসেছে এখন ।
” জ্বর ঠিক হবে কবে ?
” ঔষধ দিয়েছি তো । খুব তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে যাবে, চিন্তা করিস না ভাই ।
মিহাজ শুকনো মুখে তাকিয়ে রয় । সেই বিকেল থেকে ভূমিকে ফেলে এক পাও নড়েনি বাচ্চাটা । কোত্থাও যায়নি এখনো পর্যন্ত ।
ওয়াহাজ খান বাড়ি ফিরলেন ডিনারের আগে আগে ।
এসব নিয়ে অজ্ঞাত তিনি । খান বাড়িতে ডিনার করা হয় ঠিক আটটা বরাবর । ওয়াহাজ খানের তৈরি নিয়ম মাফিক চলে সব । বাড়ি ফিরে ফ্রেশ হয়ে নিচে নামেন তিনি । মিহাজ কে ঘরে পাননি । তিনি নিচে নামার পর পর দিশার সাথে নিচে নামলো সে । নীলয় নেই কেবল । খাবারের টেবিলে বসেই ভদ্রলোক শুধোলেন রাশভারী গলায়…..
” ওয়াসিফ কোথায়, মা ?
ওয়াহিদা খানের উত্তর…..
” ও তো ফেরেনি এখনো ।
নিজের এবং ছেলের প্লেটে খাবার বেড়ে দিয়েই থমকে গেলেন ভদ্রলোক । হাঁফ ছেড়ে বললেন…..
” এভাবে আর চলবে কতদিন, মা ? বাউন্ডুলে হয়ে ঘুরে বেড়িয়ে সাধ মেটেনি ওর ? আর কত ? বয়স তো কম হয়নি ! নিজের লাইফ নিয়ে ভাববে কবে সে ?
” সেটা সেই জানে । আমার দুই ছেলের ব্যাক্তিগত জীবনে মাথা ঘামিয়েছি কবে আমি ? তুমিও নিজের জীবনে আমাকে এন্টার ফেরার করতে দাওনি কখনো । আর নীলয়ের জীবনে আমি নিজে থেকেই মাথা ঘামাইনি । তোমরা নিজেদের ভালো বুঝতে শিখেছো । তবুও যদি না বোঝো, আমার আর কি করার ?
ওয়াহাজ খান তাকালেন মায়ের দিকে । তাদের মা ছেলের মধ্যকার সম্পর্ক এখন স্বাভাবিক । তবে খুব সুন্দর ছিলো অনেক আগে । যখন নীলিমা বেঁচে ছিলো, তখন ।
নীলিমার মৃত্যুর পর ওয়াহাজ খানকে দ্বিতীয় বিয়ে করাতে চেয়েছিলেন ওয়াহিদা খান । কিন্তু ভদ্রলোক মায়ের কথার বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করেননি ।
একেই নীলিমার সাথে তার বিয়েটা ছিলো প্রেম ঘটিত । এতেও ওয়াহিদা খানের মত ছিলো না । তবুও ছেলের ভালোবাসাকে মেনে নিয়েছিলেন তিনি ।
পরে নীলিমার মৃত্যুর পরও ছেলেকে কবলে নিতে পারেননি আর । হাল ছেড়েছেন এক পর্যায়ে । বড় ছেলের উপর মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পর সেই আক্ষেপে ছোট ছেলের ব্যক্তিগত জীবনে আর হস্তক্ষেপ করেন নি কখনো ।
অবশ্য নীলয় ওয়াহাজের মতো গুরুগম্ভীর নয় । সে বিপরীত পুরো । যাকে বলে ছন্নছাড়া ।
এক্সাট কোনো কাজ বাজ করে না । বাড়িতেও থাকে না অধিকাংশ সময় । কি করে না করে, তার খবর ও জানতে পারেন না কেউ ।
ওয়াহিদা খান খাবার মুখে তুললেন ।
মায়ের থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নীরবে হাঁফ ছাড়লো ওয়াহাজ । প্লেটে হাত নাড়ার আগেই দৃষ্টি পড়লো দিশার দিকে ।
মেয়েটা একটা প্লেটে খাবার সাজিয়ে ট্রেতে তুলে নিলো । অতঃপর পাশ কাটিয়ে সিঁড়ির দিকে এগোতে গেলেই কপাল কুঁচকে ডাকলেন ভদ্রলোক….
” দিশা,,, খাবার সাজিয়ে কোথায় যাচ্ছো ?
থমকায় রমনীর শুকনো কদম । ঘাড় ফিরিয়ে বলে…..
” মামা,, রুমে যাচ্ছি !
” রুমে কেনো ? এখানে কি হয়েছে ?
দিশা অতোকিছু বোঝাতে গেলে পরপর প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে ওকে । তাই সে কিছু না বলে মলিন মুখে ওয়াহিদা খানের দিকে তাকায় । উত্তর করেন ভদ্রমহিলা…..
” ভূমি আছে রুমে । আজ আসার সময় মেয়েটা এক্সিডেন্ট করেছিলো । রিকশা থেকে পড়ে গিয়ে হাত পা ছুলে একাকার করেছে । কপাল কেটে জখম হয়েছে অনেকটা । উঠে দাঁড়াতেও পারছে না । তার উপর সেই সন্ধ্যার আগ থেকে গা কাঁপিয়ে মারাত্মক জ্বর এসেছে । তাই হোস্টেলে ফিরতে দেইনি আর । এ বাড়িতেই থাকতে বলেছি । একা একটা মেয়ে, ওভাবে অসুস্থ অবস্থায় একলা ছাড়ি কি করে ?
কপাল কুঁচকে এলো ওয়াহাজের । ভদ্রমহিলা থেমে বললেন আবার….
” মেয়েটা আসলেই অসুস্থ খুব । নিচে নামতে পারছে না । ওর খাবার নিয়ে দিশা উপরে যাক । একসাথে খেয়ে নেবে ওরা ! দিশা, যাও তুমি ।
আদেশ পেতেই তড়তড় করে উপরে উঠলো রমনী ।
ওয়াহাজ খান সবটা শুনেও চুপ রইলেন । কিচ্ছুটি বললেন না । মনযোগ দিলেন খাওয়ায় ।
এদিকে দিশা উঠে যেতেই আকস্মিক নিজের প্লেটটা হাতে নিয়ে চেয়ার থেকে নামলো মিহাজ । এ বেলায় তড়িতে ছেলের দিকে তাকালেন ভদ্রলোক । কুঞ্চিত হলো ললাট । মিহাজ নিজেও গুটি গুটি পায়ে সিঁড়ির দিকে এগোতে গেলে ওয়াহাজ খান ডেকে উঠলেন ভরা জবানে,,,,
” খাওয়া ফেলে তুমি কোথায় যাচ্ছো ?
মিহাজ থেমে যায় । মাথা নামিয়ে ধীরে বলে…..
” আমিও উপরে গিয়ে দিশা আপি আর নতুন মিসের সাথে খাই ? প্লিজ বাবা !
” কেনো ?
” মিস অসুস্থ ।
” তো কি ? তুমি খাইয়ে দেবে তাকে ? না কি সে তোমায় খাওয়াবে ? চুপচাপ নিজের জায়গায় এসে খেতে বসো । ইউ নো ভেরি ওয়েল, দ্যাট আই ডোন্ট লাইক অল দিস ।
মিইয়ে যায় বাচ্চাটা ।
চিবুক নামিয়ে চুপচাপ এসে আগের জায়গায় বসে ।
ওয়াহিদা দেখলেন এটুকু, তবে কথা বাড়ালেন না তিনি ।
রাতে মিহাজ একা শোয় । ঘুমোনোর আগে রোজ রোজ ছেলের ঘরে যান ওয়াহাজ খান । আজ গিয়ে ছেলেকে ঘরে পেলেন না ।
কপাল কুঁচকে এলো অমনি । করিডোরে দাঁড়িয়ে নিচে তাকালেন একবার । রাত্রি সাড়ে দশটা পেরিয়েছে ।
মিহাজ ঘুমিয়ে যায় এতক্ষণে । ঘরে নেই, তারমানে নিশ্চয়ই দিশার ঘরে আছে ঐ মেয়েটার সাথে । ভাবতে গিয়ে কিঞ্চিত বিব্রত বোধ করলেন তিনি । অসহ্য লাগলো । মেয়েটা এতো সহজে মিহাজকে বশ করলো কি করে ?
থামলেন না ভদ্রলোক । ছেলেকে নিতে সোজা করিডোর পেরিয়ে শেষের ঘরটার সামনে দাঁড়ালেন । কড়া নাড়লেন দরজায় ।
ভেতর থেকে দিশার অনুমতি পেতেই মাথা নামিয়ে ভেতরে ঢুকলেন তিনি । বিব্রত মুখে পরক্ষণে দৃষ্টি তুললেন । চোখ পড়লো বেডের মাঝ বরাবর ।
তার ছেলে ঘুমিয়ে গেছে ইতোমধ্যেই । একপাশে দিশা বসে আছে, অন্যপাশে ভূমি । ছেলে ব্যাতীত কারোর দিকেই চোখ পড়লো না তার । বললেন ভারিক্কি গলায়…..
” মিহাজ ঘুমিয়েছে, আমি নিয়ে যাচ্ছি ওকে !
দিশা মিহি কন্ঠে বলে…..
” ভাই এখানেই থাক মামা । থাকার জন্য বায়না করছিলো, তাই ঘুমিয়েছে এখানে !
” তোমাদের অসুবিধা হয়ে যাবে ।
ভূমি মাথা তুললো এতক্ষণে । বললো ধরা গলায়…..
” হবে না মামা । আপনি চিন্তা করবেন না, আমরা তিনজন থাকতে পারবো একসাথে । মিহাজ থাক এখানে । বাচ্চা তো, একলা থাকে । ভয় পায় নিশ্চয়ই । এতো ছোট বয়সে আলাদা করে দিয়েছেন কেনো ওকে ? আমিই তো নিজেই এখনো একলা ঘরে থাকি না । ভয় লাগে ভীষণ । জানেন,,, হোস্টেলে রুম মেট না থাকলে ফোনে আয়াতুল কুরসি বের করে স্পিকার দিয়ে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যাই আমি । তবুও ভয় লাগে । যদি তেনারা এসে ঘাড়ে চেপে বসেন !
মেয়েটা ভয়ে ভয়ে বকবক করে থামলো ।
মুখখানি ভয়ে ভীত তার । দিশা ঠোঁট কামড়ে হাসলো ওর শেষের কথায় । তবে বিভ্রান্ত হলো ওয়াহাজ ।
না চাইতেও দৃষ্টি ফিরিয়ে তাকালো মেয়েটার দিকে । রমনীর মাথায় মোটা ব্যান্ডেজ । চোখ দুটি সুক্ষ্ম । মুখখানি অন্যদিনের তুলনায় শুকনো । এক ঝলকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলেন ভদ্রলোক ।
দিশার উদ্দেশ্যে বললেন বিব্রত গলায়……
” কাল মিহাজের স্কুল আছে । সকাল সকাল ডেকে দেবে । আমি আসছি…..
প্রত্যুত্তর না শুনে দম্ভভরে পা চালিয়ে বেরিয়ে আসলেন তিনি ।
রাত অনেকটা গভীর । মধ্য রজনী । নিস্তব্ধ শহর, নিস্তব্ধ খান বাড়ি । সবাই বোধহয় গভীর নিদ্রায় শায়িত যে যার ঘরে ।
ওয়াহাজ খানের ঘরে হলদেটে একখানা ড্রিম লাইট জ্বালানো । বেঘোরে ঘুমাচ্ছেন ভদ্রলোক । গুমোট ঘর জুড়ে তার ভারী নিঃশ্বাসের চলাচল । সারাদিনের সব ব্যস্ততা, ক্লান্তি , চিন্তা সব ভুলে রাতটাই তার কাছে শান্তির । আরামদায়ক বটে । কোনো ঝঞ্ঝাট নেই এ সময়ে ।
তবে আজ হিতে বিপরীত । তার ঘুমে বিঘ্ন ঘটিয়ে এই মাঝ রাতে আকস্মিকই ঠাস করে দরজা খুলে হুড়মুড়িয়ে ভেতরে ঢুকলো মিহাজ । নিস্তব্ধতা ভেঙে চেঁচিয়ে উঠলো……
” বাবা !
ওয়াহাজ খানের ঘুম পাতলা বরাবর । এক ডাকেই ঘুম ছুটিয়ে হকচকিয়ে উঠে বসলেন তিনি । চড়কে উঠলো মাথাটা । নিভু চোখ তড়াক করে বৃহৎ হলো অকস্মাৎ । ধড়ফড় করে হাত বাড়িয়ে বেড সাইড হতে ল্যাম্প জ্বালিয়ে দিলেন । দরজার কাছে এই অসময়ে ছেলেকে দেখে আঁতকে উঠলেন ভদ্রলোক । তড়িঘড়ি করে বিছানা ছেড়ে ছুটে গেলেন মিহাজের কাছে । শঙ্কিত হয়ে ছেলের পাতলা দুবাহু আকড়ে ধরে শুধোলেন ব্যস্ত গলায়….
” হোয়াট হ্যাপেন্ড, বাবা ? কি হয়েছে ? এতো রাতে এখানে কেনো তুমি ? আর ইউ ওকে ?
বাপের মুখে বাবা ডাক শুনে আশ্চর্য হয় বাচ্চাটা । আরো বেশি অবাক হয় তার এমন উদ্বিগ্ন মুখাবয়ব দেখে ।
সেকেন্ড দুয়েক অবাক লোচনে চেয়ে থেকে নিজেকে সামলে নেয় । ঢোক গিলে বলে কাঁদো কাঁদো গলায়…..
” বাবা,,, দিশা আপির রুমে চলো প্লিজ । ওখানে….
” ওখানে কি ? কি হয়েছে, বলো ?
মিহাজ হাত টেনে ধরলো বাবার । পিঠ ফিরিয়ে পা বাড়িয়ে বললো…..
” আমার নতুন মিস ঠিক নেই বাবা । কিছু হয়ে গেছে তার । তুমি চলো আগে….
ওয়াহাজ খান দৃষ্টি তীক্ষ্ণ করেন । দাঁড়িয়ে যান ।
ডান হাতের কব্জিতে নীলচে একখানা ওরনা বাঁধা । ছেলের টানে ঘর থেকে বেরোনোর আগে কব্জি থেকে সেটাকে খুলে বিছানার উপর ছুড়ে মারলেন তিনি ।
দ্বিরুক্তি না করে তড়িঘড়ি করে ছেলের পিছু পিছু সেই ঘরে হাজির হলেন ।
ঘরে ওয়াহিদা খান, দিশা সহ বাড়ির আরো কয়েকজন ফিমেল স্টাফ উপস্থিত সেখানে । সবার মুখে আতঙ্কের ছাপ । শিয়রে বসে একাধারে ভেজা গলায় ভূমিকে ডাকছে দিশা । মেয়েটার পায়ের কাছে বসে একজন তার পায়ের তালুতে তেল ঘঁষে দিচ্ছেন, তো আরেকজন হাতের তালুতে । ওয়াহিদা খান ও বসে আছেন মেয়েটার পাশেই ।
ওয়াহাজ কিছু বুঝলেন না । মিহাজ ঘরে ঢুকে তার হাত ছেড়ে ছুট্টে গেলো ভূমির কাছে ।
মেয়েটা জ্ঞান শূন্য । নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে । মোটা কম্ফোর্টার জড়ানো গায়ে । কাঁপছে তবুও । থেমে থেমে আসা ভারী শ্বাসের দরুন ওঠানামা করছে বুক খানি । ওয়াহাজ চোখ সরু করে এগিয়ে যায় । শুধোয় খানিক বিচলিত হয়ে…..
” দিশা,, তোমার বান্ধবীর কি হয়েছে ? মা,, কি হয়েছে তার ?
#আসবো_ফিরে_আবারো কাল আসবে । আজ এটা পড়ুন । রেসপন্স করবেন বেশি বেশি । আর কেমন লাগলো জানাবেন । ওক্কে পাঠক ? 
#চলবে………
Share On:
TAGS: আমি তোমার হতে চাই, সুরভী আক্তার
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৬৫
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৯৪
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫৭
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৬০
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৮৫
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫৩
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫১
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৭০
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১৬
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৯১