Golpo কষ্টের গল্প নদীর ওপারে সুখ

নদীর ওপারে সুখ পর্ব ৬


#নদীর_ওপারে_সুখ
#সিমরান_মিমি
#পর্বসংখ্যা_০৬

“ হঠাৎ টিউশনের কথা বলছো কেন? তোমার কি টাকা লাগবে, নিভি? কত লাগবে, দাঁড়াও আমি দিচ্ছি। ”

অনামিকা ফোন রেখে বিছানা ছেড়ে উঠলো। এদিক ওদিক তাকিয়ে অবশেষে সোফার উপর হ্যান্ডব্যাগ’টি দেখতে পেলো। তাকে টাকা গুণতে দেখে নিভি কিছুক্ষণের জন্য কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে গেলো।

“ আপু, কি করছেন! আমার টাকা লাগবে না। শুধু একটা টিউশন খুঁজে দিন। ”

“ কেউ কখন টিউশন করাতে চায়? যখন তার টাকা লাগে। তাহলে আমি যদি তা দেই, তবে আপত্তি কিসের? ”

ফোস করে একটা নিঃশ্বাস ফেললো নিভি। বিছানায় বসে চোখ বন্ধ করে কথা গুছিয়ে নিলো। বললো,

“ আপু, আমি একটু স্বাবলম্বী হতে চাই। এখানে নতুন, আশেপাশের কিছুই চিনিনা। দু-একটা ছোটোখাটো টিউশন করালে অন্তত রাস্তাঘাট গুলো পরিচিত হয়ে উঠবে। ”

অনামিকা টাকা হাতেই বিছানায় বসলো। মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানিয়ে বললো,

“ তা ঠিক। কিন্তু এতে আব্বু, ছোট আব্বু রেগে যাবেন। কষ্টও পাবেন খুব। তুমি কি তা চাও? ”

“ হাত খরচের জন্য অন্যের কাছে হাত পাততে আমিও ভীষণ কষ্ট পাবো। ”

হেসে ফেললো অনামিকা। টাকা দেখিয়ে বললো, “ তাহলে তুমি এই টাকাটা নেবে না, তাইতো। ”

চোখ নামিয়ে আঙুলের সঙ্গে আঙুল ঘষতে লাগলো নিভি। কিছুক্ষণ নিরব থেকে শীতল কন্ঠে বললো,

“ আমার এই মুহুর্তে লাগবে না। আপনি রেখে দিন, প্রয়োজন পড়লে আমি নিজেই চেয়ে নেবো। ”

পুণরায় টাকা’টা ব্যাগে ভরতে ভরতে অনামিকা দু-কাঁধ নাঁচিয়ে বললো,

“ ওকে, এজ ইউওর উইশ! ”


গোধূলির আকাশে কমলাটে আভা। কোথাও কোথাও ছাইরঙা বর্নও দৃশ্যমান। যেনো শিল্পী ছবি আকতে গিয়ে ভুল ক্রমে কালি ফেলে দিয়েছে। সন্ধ্যা পূর্বের এই সময়টা অনামিকা’র ভীষণ প্রিয়। প্রায় সময়ই পান্নাকে লুকিয়ে ছাদে চলে যায় উপভোগ করতে।

লিখন রেলিং এর কাছে অনামিকা’কে দেখে ছাদের দরজা থেকেই ফিরে আসে। মনের মধ্যটা খচখচ করছে। কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছে না এমন কবুতরের মতো বাচ্চা মেয়েটা মিথ্যেবাদী। তবুও বড় ভাই আপত্তি জানিয়েছে। নানাভাবে সবাইকে মেয়েটার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু লিখন তা চায় না। দ্রুত এর একটা সুরাহা করতে হবে। আর এর জন্য প্রধান কাজ হলো নিভি’র সঙ্গে পরিচিত হওয়া। হুট করেই কাউকে গিয়ে সে সত্যি কিনা এই প্রমাণ চাওয়া অনুচিত। নিভি এতে লজ্জা পাবে। এর চেয়ে বরং আগে একটা সুসম্পর্ক বজায় রাখা উচিত। তারপর জিজ্ঞেস করা যাবে।

লিখন বড় বড় পা ফেলে অনামিকার রুমের সামনে দাঁড়ালো। পকেটে একহাত রেখে অন্য হাতে ঠেলে সামান্য দরজা খুলে ভেতরে উঁকি দিলো। নিভি শুয়ে আছে।

“ অনামী, আসবো? ”

দরজার উপর কয়েকটা টোকা এবং পুরুষালি কন্ঠের আওয়াজ পেতেই ধড়ফড়িয়ে উঠে বসলো নিভি। আশেপাশে তাকিয়ে লিখনের উদ্দেশ্যে বললো,

“ আপু ঘরে নেই। ”

“কোথায় গেছে? ”

“ আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। ঠিক বলতে পারবো না। ”

“ কিন্তু ওকে তো কিছুক্ষণ আগেই দেখে গেলাম। ”

নিভি বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। ওড়না’টা ঠিকভাবে গায়ে-মাথায় দিয়ে সেভাবেই দাঁড়িয়ে রইলো। উত্তর দিলো না। লিখন দরজা নাড়াতে নাড়াতে ওপাশ থেকে বললো,

“ আমি কি ভেতরে আসবো? ”

“না। ”

না – উত্তর দিতে নিভি সেকেন্ড ব্যয় ও করলো না। সে অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছে। বাড়ির এতোগুলো ঘর, এতোগুলো মানুষ থাকতেও সম্পূর্ণ অচেনা যুবক হয়ে রুমে আসতে চাইছে। আর তাতে অনুমতি দেওয়াটা অনুচিত মনে হলো।

লিখন হতবাক হয়ে বললো, “ আসবো না? ”

“ পরে আসুন। আপু আসলে আমি আপনার কথা বলে দেবো। ”

“ আসলেই আসতে পারবো না? ”

কি আশ্চর্য! নিভি বিভ্রান্ত হয়ে দরজার দিকে তাকালো। লোকটার হাত দেখা যাচ্ছে শুধু। তবে বোঝা যাচ্ছে সে বাইরে দাঁড়িয়ে। নিভি আগের মতোই দৃঢ় কন্ঠে বললো,

“না। ”

লিখন ঠোঁট টিপে হেসে ফেললো।

“ সত্যিই আসবো না? ”

এক মুহুর্তের মধ্যে রাগে শরীর জ্বলে উঠলো নিভির। সে চুপ করে রইলো। লোকটা কি তার সঙ্গে রসিকতা করছে? কিন্তু তাদের মধ্যে তো এমন সম্পর্ক নেই। তবে কেনোই বা শুধু শুধু বিরক্ত করছে। সে পণ করলো আর উত্তর দেবে না। চুপ করে বসে থাকবে। দরজার ওপাশ থেকে আবারো লিখনের গলা ভেসে আসলো।

“তুমি কি আমাকে ভয় পাচ্ছো, নিভি? আরে, আমি তোমার কাজিন হই। একটু আলাপ তো করা উচিত। ”

“জি, আসসালামু আলাইকুম। আপনি পরে আসুন। ”

থতমত খেয়ে গেলো লিখন। মেয়েটা কি ক্ষেপে গেলো তার উপর। আহা, কি মুছিবত টাই না হলো! কি বলতে এসে কি বলে ফেললো? আর রাগানো যাবে না। সে চলে আসলো দরজার সামনে থেকে। পরক্ষণেই দু পা পিছিয়ে পুণরায় বললো,

“ ছাদে আমার একজোড়া কবুতর আছে। ওদের মধ্যে মেয়ে কবুতর’টা ঘাড়ত্যাড়া। ডাকলে কাছে আসে না। আরো ভেতরে গিয়ে রেগে গুড়ুম গুড়ুম শব্দ করে। ঠিক তোমার’ই মতো। ”

নিভি কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে বসে রইলো। এরপর অনেকক্ষণ লিখনের কোনো আওয়াজ না পেয়ে দরজা মেলে উঁকি দিলো বাইরে। নাহ, কেউ নেই। লোকটা নিজের খেয়াল খুশিমতো বিরক্ত করে চলে গেছে। নিভি সস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। এ বাড়িতে সে অচেনা, আশ্রিতা। তাই প্রতি পদক্ষেপে সতর্ক থাকতে হবে। এক্ষুনি লিখন মাহমুদ যে কথাগুলো বললো, এগুলো হয়তো খুব একটা আপত্তিকর কিছু নয়। কিন্তু যখনই বাড়ির বড়রা দেখবে ফাঁকা ঘরে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নিভি লিখনের সঙ্গে কথা বলেছে — তখনই ব্যাপারটা গুরুতর হয়ে উঠবে। শেষমেশ চরিত্রে দাগ পড়বে নিভির’ই।

আপাতত মাথা থেকে সে এসব ঝেড়ে ফেলেছে। ভেতরে ভেতরে কিছু গুরুতর সিদ্ধান্ত নিয়েছে । অনামিকা’র সঙ্গে কথা বলার পর নিভি বুঝে গেছে স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্রে মামা বা অনামিকা কোনো সাহায্য করতে পারবে না। বরং রেগে যাবে, কষ্ট পাবে। অন্যদিকে বড় মামার ছেলে হিমাদ্রি মাহমুদ। প্রতিনিয়ত বাড়ির সকলের মধ্যে বিষ ছড়াচ্ছে। অপমান করছে, সন্দেহ করতে বাধ্য করছে। নিভি কখনোই কাউকে সম্পর্কের প্রমাণ দিতে যাবে না। এতোটা ছোটো হওয়ার চেয়ে এ বাড়ি ছাড়া অধিক উত্তম। এতো অপমানিত হয়েও সে আর এ বাড়িতে দুদিন থাকবে। এ দুদিনে দিনের বেলা নিজে থেকে আশপাশ’টা ঘুরবে। টিউশন বা অন্যান্য ছোটোখাটো চাকরি খুঁজবে। এরপর আস্তে করে সম্মান নিয়ে চলে আসবে চৌধুরী বাড়ি থেকে। যদি রাতে মাথা গোজার কোনো ঠাই থাকতো, তবে এক্ষুনি বেরিয়ে আসতো।
প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। নিভি ভাবলো, একবার বাড়ির চারপাশটা দেখে নেবে৷ তাই গুটিগুটি পায়ে বেরিয়ে এলো রুম থেকে।

ড্রয়িংরুম পুরোপুরি খালি। বাড়ির সদস্যরা কেউ নেই। নিভি আশেপাশে তাকিয়ে দেখছে কেউ আছে কি-না। এরপর সদর দরজা দিয়ে মুহুর্তেই বেরিয়ে পড়লো। ভ্রুঁ যুগল কুচকে ফেললো হিমাদ্রি। সন্দেহ ক্রমশ দৃঢ় হচ্ছে। সে দ্রুত গায়ে টিশার্ট জড়িয়ে নেমে পড়লো নিচতলায়। নিভি ধীর পায়ে বাড়ির চারপাশটা দেখলো। এরপর বাগানের ফুলগাছ গুলো নেড়ে চেড়ে গেটের দিকে এগিয়ে গেলো। দারোয়ান নেই। কেন নেই সেই প্রশ্ন তার মনে জাগলো না। সে উদাস মনে গেট দিয়ে উঁকি দিলো বাইরে। কোন দিক থেকে এসেছিলো, তা মনে করতে চাইলো।

“ উঁকিঝুঁকি মারছো কেনো? ”

আকস্মিক পেছন থেকে পুরুষালী গম্ভীর আওয়াজ পেয়ে নিভি চমকে গেলো। সামনে হিমাদ্রি দাঁড়িয়ে আছে কপাল কুঁচকে। তাহলে কি আবারো সন্দেহ করছে। নিভি কি উত্তর দিবে বুঝতে পারলো না। বিব্রত হয়ে চেয়ে রইলো।

“পালানোর পথ খুঁজে রাখছো? নাকি বাড়ির জিনিস সরিয়ে বাইরে লুকিয়ে রাখছো? কি আছে হাতে, ওড়নার নিচে কি ঢেকে রেখেছো? ”

হতভম্ব হয়ে গেলো নিভি। তাকে সরাসরি চোর বললো! অপমানে থমথমে হয়ে মুখশ্রী। তবুও ক্ষিপ্ত হলো না। শান্ত কন্ঠে বললো,

“ আপনি ভুল ভাবছেন। আমি পালাবো কেন? আর বাড়ির জিনিস বাইরেও বা লুকাবো কেন? ”

ক্রুর হাসলো হিমাদ্রি। কপালের মাঝখানটা আঙুল দিয়ে ঘষে রগচটা কন্ঠে বললো,

“ অভিনয় করো না। তুলে একটা আঁছাড় মারলে এসব কাজ করার সাহস হবে না কোনোদিন। দ্রুত বলো, কোন গ্যাঙের তুমি। ”

“আপনি আমাকে এভাবে অপমান করতে পারেন না। ”

অপমানে নিভির চোখ জ্বলছে। এতো বড় অপবাদের জন্য জুতো খুলে মুখের উপর ছুড়তে ইচ্ছে করছে। কতটা বিশ্রী মানুষিকতার হলে, অপরিচিত একটা মেয়ের সঙ্গে এভাবে কেউ কথা বলে।

নিভির কন্ঠে তেজ পেয়ে হিমাদ্রি একটু অবাকই হলো। বললো,

“ অপমান! রাতের মধ্যে বাড়ি ছাড়বে তুমি। ভেবো না তোমার বানোয়াট কথা গুলো বাড়ির সবাই বিশ্বাস করেছে। তুমি যাকে মৃত বলে সবার থেকে সহানুভূতি নিচ্ছো, সে আমার ফুপি। সাবধান করছি, চলে যাও। নাহলে তুমি সুদ্ধ তোমার পুরো গ্যাঙকে ধরবো। ”

নিভি রেগে গেলে তা লুকিয়ে রাখতে পারে না। সেটা তার চোখে মুখে ফুটে ওঠে। চোখ -নাক লাল হয়ে যায়। হাত পা কাঁপতে শুরু করে। দাঁতের সঙ্গে দাঁতের চেপে ধরে বসে থাকে। হিমাদ্রি দু-পা এগিয়ে গিয়েও আবার ফিরে আসলো। নিভির ওড়নার দিকে তাকিয়ে সন্দেহ নিয়ে বললো,

“ হাতের নিচে কি লুকিয়ে রেখেছো? — অস্ত্র! আজই কি তোমার দলের লোক আসবে নাকি? বাকি ছুরি-চাকু কোথায় রেখেছো — ব্যাগে? ”

যথেষ্ট হয়েছে। আর হজম করতে পারলো না । ওড়নার নিচ থেকে হাত বের করে সে মুঠো ফোনটা দেখালো। এরপর ক্ষিপ্ত পায়ে বাড়ির সদর দরজার দিকে গেলো। মাগরিবের আজান দিয়েছে। প্রত্যেকে নামাজ পড়ে ড্রয়িংরুমে বসেছে নাস্তার জন্য। সিনিওরা, অনামিকা, পান্না লিখন সোফায় বসে আছে। জ্যোতি এবং সেজুতি গেছেন নাস্তা বানাতে। ইখতিয়ার মাহমুদ এবং বখতিয়ার মাহমুদ বাড়িতে নেই। বিকেলেই ফ্যাক্টরিতে চলে গেছেন। সকলের মধ্য থেকে হনহন করে দোতলায় উঠলো নিভি। সিনিওরা, অনামিকা ডাকলেও জবাব দিলো না। ফিরে এলো কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে। এরপর সিঁড়িতে দাঁড়িয়েই তেজ নিয়ে ছুঁড়ে মারলো হিমাদ্রির সামনে। রাগে চোখ ফেটে পানি পড়ছে টপটপ করে। বাড়ির সবাইকে শুনিয়ে চিৎকার করে বললো,

“ নিন, চেক করুন। এটাই আমার ব্যাগ। দেখুন ভেতরে কত অস্ত্র আছে। ”

হিমাদ্রি এক মুহুর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলো। নিভি’র স্পর্ধা দেখে সে হতবাক। চোয়াল শক্ত করে রাগন্বিত দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো । জ্যোতি, সেঁজুতি ছুটে এসেছে রান্নাঘর থেকে। প্রত্যেকে হতভম্ব। হিমাদ্রি ব্যাগ খুলছে না দেখে নিভি এগিয়ে গেলো। ক্ষিপ্ত হাতে ব্যাগের চেইন খুলে একে একে জামা-কাপড় গুলো বের করে ঝেড়ে ঝেড়ে সবাইকে দেখালো। অনামিকা ছুটে গিয়ে দুহাতে জাপটে ধরলো নিভিকে। বললো,

“ কি করছো এসব? জামা-কাপড় কেনো ছড়াচ্ছো নিভি? কি হয়েছে? “

নিভি নিজেকে সজোরে ছাড়িয়ে নিলো অনামিকার সামনে থেকে। এরপর হিমাদ্রির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, চোখে চোখ রেখে, তেজী কন্ঠে বললো,

“ যে মানুষটা পাঁচদিন আগে ক্যান্সারে মারা গেছে, সে আমার মা। মা চেনেন তো? চোখের সামনে টানা দু বছর ধরে ছটফট করার পর মরে গেছে। তার মৃত্যুর পাঁচদিন পর আমি দুপুরে দুটো ভাত খেলাম কেনো এ নিয়ে আপনার তুমুল অভিযোগ। আমি তার মেয়ে হতেই পারি না। আপনার প্রিয় ফুপুকে নিয়ে আমি মিথ্যা কথা বলছি। সুযোগ নিয়ে এ বাড়িতে ঢুকেছি চুরি করতে। এতোটাই প্রিয় ফুপু আপনার, যে আজ এতোগুলো বছরেও একটা খোঁজ ও নেন নি আদৌ বেঁচে আছে কি-না! লজ্জা করেনা? নিজেদের দোষ ঢাকতে আমায় দোষী বানাচ্ছেন। চোর, ডাকাত, খুনী যা নয় তাই বলে অপমান করছেন। রাতের মধ্যে বাড়ি ছাড়ার হুমকি দিচ্ছেন সন্ত্রাসীদের মতো। আমার ভুল হয়েছে। বোঝা উচিত ছিলো, মা যাদের সাথে এতো বছরেও একবার যোগাযোগ করেনি, তারা কেমন মানুষ হতে পারে। ভুল করেছি, মায়ের মৃত্যুর কথা জানিয়ে। তার কবর দেখার যোগ্যতাও আপনার নেই।

থেমে,

“ অনামিকা আপু, মামাদের বলে দিও — বোনের কবর দেখার ইচ্ছে হলে যেনো পিরোজপুরে যায়। ”

এরপর পুণরায় হিমাদ্রির উদ্দেশ্যে বললো,

“ আপনাকে আমি মানবিক’ই মনে করি না। আপনার মতো একজন অমানবিক মানুষের কাছে নিজেকে প্রমাণ দেবো, বলবো — “ আমি সায়মা মাহমুদের মেয়ে ” এতে আমার রীতিমতো ঘৃণা করবে। ছিহ! ”

হিমাদ্রি প্রচন্ড রেগে গেছে। জ্যোতি তা বুঝতে পেরে ছেলেকে টেনে দোতলায় নিয়ে গেলো। যা হয়েছে হোক, বিচার বখতিয়ার এসে করবে। কিন্তু এক্ষুনি ছেলে রেগে গেলে এমন কিছু করে বসবে, যার দায় এড়ানো অত্যন্ত মুশকিল। নিভি দ্রুত হাতে জামাকাপড় পেঁচিয়ে ব্যাগে তুললো। এরপর চলে যেতে চাইতেই সিনিওরা কেঁদে উঠলেন। তিনি অনেকভাবে বোঝালেন, এর বিহিত করবেন। হিমাদ্রি নিভিকে আর অপমান করবে না। কিন্তু তাতে কি এসে যায়? সেজুতি, অনামিকা অনেকবার আটকানোর চেষ্টা করলো। কিন্তু সফল হলো না। নিভি কাউকে মানলোই না। টেনে হিচড়ে বেরিয়ে গেলো সদর দরজার দিকে। অবশেষে লিখন আটকালো। বললো,

“ নিভি শোনো, যেওনা। হিমাদ্রি ভাই এমনি ভালো। ওর কথায় তুমি কিছু মনে করো না। ওর একটু সমস্যা আছে। ”

“ লিখন ভাইয়া খবরদার! বড় ভাইয়ার নামে একটাও বাজে কথা বলবে না৷ ”

অনামিকা রেগেমেগে দোতলায় চলে গেলো। লিখন আর কিছু বললো না। অনুরোধ করলো,

“ আব্বু আসুক, তারপর ডিসিশন নাও। ”

নিভি কারোর কথাই শুনলো না। যা হওয়ার হয়ে গেছে। যথেষ্ট কথা শুনিয়েছে হিমাদ্রি নামক মানুষকে। এরপর বড় মামী, অনামিকা তাকে একটুও ভালো চোখে দেখবে না, তাতে নিশ্চিত। বাদবাকি রইলো, মামা। নিভি চায় না তার জন্য পরিবারের মধ্যে মান-অভিমান জন্মাক। এতোসেতো অপমানের পর এ বাড়িতেই বা থাকে সে কি করে? এসব ভেবে ঝোঁকের মাথায় বেরিয়েই পড়লো বাড়ি থেকে।

সিনিওরা কাঁদছেন। তাকে নিয়ে সকলে চিন্তিত। সেঁজুতি দ্রুত শাশুড়ীকে ঘরে নিয়ে গেলো। ঘরে গেলে পরিচিত পরিবেশে তিনি অল্প সময়েই শান্ত হয়ে যান। লিখন এবার চিন্তিত হয়ে পড়লো। কিছুক্ষণ ভেবে দ্রুত কল লাগালো বাবার নাম্বারে।

চলমান…..

( একটু অনুরোধ — আপনারা যারা পড়বেন, তারা একটু কষ্ট করে চার পাঁচটা করে স্টিকার কমেন্টস করবেন। রিচ কম থাকায়, পর্ব গুলো সবার ফিডে পৌঁছায় না।)

বার্তা : অনেক নতুন পাঠক #নদীর_ওপারে_সুখ উপন্যাসটা পড়ছেন। তাই তারা আমাকে ব্যক্তিগত ভাবে জানেন না। আমি পড়াশোনা, রান্নাবান্না যাবতীয় কিছু সামলে লেখালেখি করার সময় খুবই কম পাই। তবুও প্রতিদিন পর্ব দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু আপনারা তাতে সন্তুষ্ট নন। বড় বড় পর্ব চান, আবার প্রতিদিনও চান। সেক্ষেত্রে আমার জন্য চাপ হয়ে যায়। এবার আপনারাই সিদ্ধান্ত নিন।

১/ প্রতিদিন রাত আটটা-নয়টার মধ্যে ১৮০০-২০০০ শব্দের পর্ব চান?

২/ নাকি একদিন পর পর রাত আটটায় ২৬০০- ৩০০০ শব্দের পর্ব চান। এক্ষেত্রে একদিন গ্যাপ পড়লে আমার জন্যেও ভালো হয়। লেখালেখি মনস্তাত্ত্বিক বিষয়। মন না চাইলে লিখতে ভালো লাগে না। লেখা এলোমেলো হয়। যদি একটু সময় পাই তাহলে ভেবে চিনতে পর্বগুলোকে আরো সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতে পারি।

আশা করছি, আপনারা দ্বিতীয়টাই পছন্দ করবেন। কারন একদিন অপেক্ষা করে যদি অনেক বড় পর্ব এবং গোছালো লেখা পান — তবেই তো তৃপ্তি। 🌼

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply