Golpo কষ্টের গল্প নদীর ওপারে সুখ

নদীর ওপারে সুখ পর্ব ৫


#নদীর_ওপারে_সুখ

লেখনীতে #সিমরান_মিমি

#পর্ব_০৫

আজকের আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ। দুপুরের এই রুক্ষ পরিবেশেও খুব একটা গরম লাগছে না। কুসুম রাঙা সূর্যটা আর মাথার উপর নেই। সেটি হেলে পড়েছে পশ্চিমে। রোদের তপ্ততা কমে গেছে। বোঝাই যাচ্ছে, ঘড়ির কাঁটা দুটোকে ছাড়িয়েছে। হঠাৎ ড্রয়িংরুমে টং টং করে জোরালো তিনটা আওয়াজ হলো। ভৌতিক সিনেমায় রাত বারোটা বাজলে ঘড়ি যেমন আওয়াজ করে, ঠিক তেমনি। ঘড়ি’টা বহুদিন পূর্বের, পৈত্রিক সম্পদ । দাদা ইসহাক মির্জার শশুর এটা উপহার দিয়েছিলেন। এটা নওশাদ মাহমুদেরও প্রিয়। সেজন্যই সঙ্গে করে সিনিওরা নিয়ে এসেছেন।

নিভি আওয়াজ শুনে শোয়া থেকে উঠে বসলো। খোলা দরজার দিকে তাকিয়ে একটু কৌতূহলী হতেই অনামিকা রুমে ঢুকলো।

“ দুটো বেজে গেছে নিভি। দ্রুত খেতে চলো। ”

নিভি দাঁড়ালো। কোনো টু শব্দ না করেই অনামিকার পিছু পিছু রুম থেকে বেরোলে। অথচ মনে তার অগাধ প্রশ্ন। তার জানতে ইচ্ছে করছে, দুটো বাজতেই কেনো খেতে হবে? এটা কি এ বাড়ির নিয়ম। তাহলে দুটোর আগে কারোর খিদে পেলে সে অপেক্ষা করবে, নাকি দুটোর পর দেরি করে এলে কেউ খেতে পারবে না? মনের মধ্যে বোকার মতো অজস্র প্রশ্ন। কিন্তু তা সে করার সাহস পেলো না।

“সিনিওরা, খেতে এসো। ”

নিভি পুরুষালি আওয়াজ শুনে দোতলা থেকেই ড্রয়িংরুমে উঁকি মারলো। লম্বা- চওড়া এক তামাটে বর্নের যুবক। পড়নে ঢিলেঢালা ট্রাউজার এবং টিশার্ট। ভেঁজা চুলগুলো দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে। যার দরুন সাদা টিশার্টের পেছনের গলার অংশ ভেঁজা। সে একহাত পকেটে ভরে ড্রয়িংরুমে পায়েচারি করছে। কিছুক্ষণ পরপর সিনিওরা, সিনিওরা বলে ডাকছেও।

নিভি কিছুটা হতভম্ব হলো। সিনিওরা নাম তো তার নানুর। এটা অনামিকা বলেছে। তাহলে মধ্যবয়সী এই যুবক নানুকে নাম ধরে কেন ডাকছে? এবারের প্রশ্নটি গুরুতর। নিভি হজম করতে পারলো না। আলতো করে দুহাত দিয়ে অনামিকার হাত ধরে থামালো। নিচু স্বরে বললো,

“ আপু, উনি কে? নানু’কে নাম ধরে কেন ডাকছেন? ”

অনামিকা হেসে ফেললো।

“ ওটা আমার বড় ভাই। ছোটবেলা থেকেই দেখেছি দাদুমনিকে নাম ধরে ডাকে। এটা নাকি ভাইয়ার পছন্দের নাম। দাদুও ভীষণ পছন্দ করে ওকে। ”

নিভি সামনা-সামনি বিনয়সূচক মৃদু হাসলেও ভেতরে ভেতরে প্রচন্ড বিরক্ত হলো। যুবকটার বয়স কতই বা হবে — ঊনত্রিশ-ত্রিশ! কতটা আদব-কায়দা হীন হলে সত্তর বছরের একজন বৃদ্ধাকে নাম ধরে ডাকে!

সিনিওরা ধীর পায়ে রুম থেকে বের হলেন। বড় নাতিকে দেখে চওড়া হেসে এগিয়ে এলেন ড্রয়িংরুমে। নিভি ডাইনিং টেবিলে বসে নানুকে দেখলেন। এই বয়সী বৃদ্ধারা পান খেয়ে দাঁত খয়েরী করে ফেলেন। অথচ, সিনিওরা পান খান না। বরং যুবতী মেয়েদের মতো ঠোঁটে লিপস্টিক পড়েন। যার দরুন হাসিটা নিভির কাছে চমৎকার লাগলো। সে তাকিয়ে রইলো।

হিমাদ্রি মাহমুদ সিনিওরাকে ধরে পাশের চেয়ারে বসালেন। জ্যোতি এবং সেজুতি এতোক্ষণে সমস্ত খাবার টেবিলে এনেছে। সকলে এসে বসেছে দেখে, এ পর্যায়ে পাতে পাতে বেড়ে দিতে লাগলেন। ইখতিয়ার একটা বড় চিংড়ি মাছ চামচে তুলে নিভির পাতে তুলে দিয়ে বললেন,

“ চিংড়ি খাও তো, মামণি? ”

নিভি অসস্তিতে পড়ে মাথা উপর নিচ নাড়ালো। এতোগুলো মানুষ, বাচ্চা থাকতে মামা তাকে বেড়ে দিচ্ছে – ব্যাপারটার জন্য আবার কারো রোষানলে না পড়তে হয়, সেজন্য আল্লাহ আল্লাহ করলো।

এতোক্ষণে হিমাদ্রি মাহমুদ টেবিলের অপর প্রান্তে বসা নিভিকে সেখলো। সে অনামিকা এবং ইখতিয়ারের মাঝে বসেছে। মাথায় সুতির ওড়না টানা। এতোটাই মাথা ঝুঁকে খাচ্ছে যে ঠিকমতো চেহারা বোঝা যাচ্ছে না। হিমাদ্রি লিখনের দিকে তাকালো। সে থেমে থেমে নিভি’কে দেখছে।

“ ও কে? ”

হিমাদ্রি প্রশ্ন ছুড়লো। নিভি মাথা তুলে একঝলক তাকিয়ে পুণরায় নামিয়ে নিলো। অসস্তিতে খাওয়া বন্ধ করে প্লেটের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করলো। সিনিওরা মিষ্টি করে হাসলেন। বললেন,

“কেন দাদুভাই, চিনতে পারছো না? তোমার সায়মা ফুপির মেয়ে, নিভি। আমার নাতনী। ”

“ ফুপির খোঁজ পেয়েছো? কবে পেলে? আমাকে তো কেউ কিছু জানায়নি। ”

“ খোঁজ তখনই পাওয়া যায়, যখন কেউ খুঁজতে যায়। আমার মেয়েকে তো কেউ খুঁজেই নি৷ নাতনী’টা আমার নিজ থেকে খুঁজতে খুঁজতে এসেছে। ”

সিনিওরা অভিমান জড়িত কন্ঠে বললেন। হিমাদ্রি আরেকবার নিভি’কে দেখলো। এরপর পুণরায় দাদিকে জিজ্ঞেস করলো,

“ ফুপি আসেনি? ”

“ আমার মেয়েটা তো মরেই গেলো, ক্যান্সারে। ”

সিনিওরা হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। সদ্য খাবারে হাত দিয়েছিলেন তিনি। মেয়ের মৃত্যুর কথা মনে পড়তেই উঠে গেলেন টেবিল ছেড়ে। বললেন , তোমরা খাও।

আজকাল সব ভুলে যান সিনিওরা। বৃদ্ধ বয়সে কিছুই মনে থাকে না। মাঝেমধ্যে মনে হয় স্বামী বেঁচে আছেন। কখনো-সখনো ড্রয়িংরুমে এসে বৌমাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ তোমার শশুরের জন্য ইলিশ মাছের পানিখোলা রান্না করবা। মানুষটা খেতে ভীষণ ভালোবাসেন। ” জ্যোতি, সেজুতি দীর্ঘশ্বাস ফেলে ‘ আচ্ছা ’ বলেন। এরপর দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা বোঝানোর পর সিনিওরা মনে করতে পারেন নওশাদ বেঁচে নেই।

সকালে নিভি’কে দেখে অনেক কান্নাকাটি’র পর ঘন্টাখানেক ঘুমিয়েছিলেন। এরপর প্রায় অনেকক্ষণ মনে নেই, মেয়ে মারা গেছেন। নাতি’কে নিয়ে অনেক আহ্লাদ করার পর খাবার টেবিলে মনে পড়লো সায়মা মারা গেছেন।

সিনিওরা রুমে চলে গেলেন। খাবার টেবিলে সকলের খাওয়া বন্ধ হয়ে গেলো। বখতিয়ার, ইখতিয়ারের খাওয়ার ইচ্ছে নেই। আসতেও চেয়েছিলেন না। কিন্তু জ্যোতি বুঝিয়েছে। বলেছে,

“ মেয়েটা এমনিতেই কাউকে চেনে না। কেমন একা চুপ করে বসে থাকে। এরমধ্যে তোমরা যদি টেবিলে না আসো, তবে কি ও খাবে? ”

স্ত্রীর যুক্তি ভুল নয়। বখতিয়ার মেনে নিয়েছেন। এরপর ছোটো ভাইকে নিয়ে অনিচ্ছায় খেতে এসেছেন। কিন্তু মায়ের হঠাৎ কান্নাকাটি’র পর তাদের আর খেতে ইচ্ছে করলো না। কোনোমতে দু লোকমা মুখে তুলে চলে গেলেন রুমে। নিভি সেদিকে তাকিয়ে অল্প অল্প করে মুখে তুললো। তার পেটে ভীষণ ক্ষুধা। মা মারা যাওয়ার রাত থেকে খাওয়া হয়নি। সেদিন মিলাদে দুটো খেয়েছিলো। এরপর আর ঠিকমতো খায় নি। চাচা দুটো ভাত দিলে সেটাও শালিকের মতো খেয়েছিলো কম, ছিটিয়েছিলো বেশি। পেটে এখন ভীষণ ক্ষুধা।

হিমাদ্রি নিগুঢ় দৃষ্টিতে নিভি’কে দেখলো। এরপর লিখনের উদ্দেশ্যে বললো,

“ ও চিনলো কিভাবে বাবাকে। জন্মের পর কোনোদিন দেখা তো দূর, কথাও তো হয়নি বাবার সাথে। ”

“ আরে তেমন কিছুনা, ভাইয়া। ফুপি মারা গেছে, সেই খবর জানাতে এসেছে। লক্ষীপুর গিয়ে ঠিকানা এনে, ঢাকায় এসেছে। বড় আব্বু, চাচা, দাদী ওকে আর যেতে দেবেনা। তাই, এখানেই থাকবে। আমার সাথে। ”

লিখন উত্তর দেওয়ার পূর্বেই অনামিকা বললো কথাগুলো। হিমাদ্রির সন্দেহ কমলো না। সে কোনোমতে খেয়ে বাবার রুমে পা বাড়ালো। প্রায় সকলের খাওয়া শেষ। নিভি আলগোছে উঠে দাঁড়ালো। নিজের এঁটো প্লেটের সঙ্গে একে একে পান্না, অনামিকা, লিখনের প্লেট তুলতে লাগলো।

“ আরে, আরে, আরে করছো টা কি? ”

নিভি অল্পকিছু সময়ের মধ্যে ঘাবড়ে গেলো। ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইলো বড় মামীর দিকে। নিচু আওয়াজে বললো,

“ সবার তো খাওয়া শেষ। এগুলো ধুঁয়ে আনতে যাচ্ছিলাম। ”

“ না না, রাখো রাখো। তোমার কিছু করতে হবে না। এগুলো তানজিলা পরিস্কার করে দেবে। তুমি গিয়ে রেস্ট নাও। ”

নিভি একটু লজ্জা পেলো। প্লেট টেবিলের উপর রেখে এগিয়ে গেলো হাত ধুতে। সকালে দু মামীকে রান্না করতে দেখেছে। এরপর খাবারো তারা দুজন একা একা বাড়লো। ভেবেছিলো এঁটো প্লেটগুলো ধুঁয়ে দিলে তারা খুশি হবে। তাছাড়াও বাড়িতে থাকতে মাকে কতশত সাহায্য করেছে সে। এখন অন্যের বাড়িতে এসে শুধু বসে বসে খাওয়া’টা কেমন লজ্জাজনক। সে হাত ধুয়ে আবারো দোতলায় চলে গেলো।

__________

“ আরে আশ্চর্য ব্যাপার তো! তোমরা এতো বোকা হলে কবে? চেনা নেই, জানা নেই, হুট করে একজন এসে বললো – সে ফুপির মেয়ে। আর তোমরা সবাই তা মেনেও নিলে। এমনকি বাড়িতে থাকার অনুমতিও দিয়ে দিলে। কি করে বুঝলে ও সত্যি সত্যিই ফুপির মেয়ে? আগে কি কখনো ওর সঙ্গে দেখা হয়েছিলো? ”

বখতিয়ার হতভম্ব হয়ে গেলেন ছেলের কথায়। চোখ গরম করে বললেন,

“ আস্তে বলো। আর এগুলো কি ধরনের কথা? ওইটুকু বাচ্চা মেয়েকে দেখে কি তোমার মনে হয় – ও মিথ্যে বলছে? আর তাছাড়াও, ওকে দেখতে অনেকটা সায়মার ছোটোবেলার মতো। কথাবার্তা, চাল-চলন, চেহারা সব এক। তারপরেও সন্দেহ করলে কি করে?”

হিমাদ্রি হতবাক হয়ে গেলো। বললো,

“এর মানে কি বাবা? দেশে কতশত ফর্সা, এমন গড়নের মেয়ে আছে। তারমানে সবাই কি ফুপির মেয়ে? আর ফুপিকে ছাড়া তোমরা ওকে কি করে বিশ্বাস করছো? দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে যোগাযোগ নেই। আদৌ মেয়ে হয়েছে, না ছেলে হয়েছে তাও বা বুঝলে কি করে? আবার বিশ্বাসও করে নিয়েছো ফুপি মারা গেছে!”

ইখতিয়ার রেগে গেলেন। বললেন,

“ এসব কেমন কথা বলছিস তুই? আমরা কি বোকা? ও যদি আমাদের ভাগ্নী না’ই হয়, তবে সায়মাকে চেনে কি করে? আতাউর আর সায়মা’র পালিয়ে বিয়ে করার কথা জানে কি করে? ”

“ আরে, এসব ব্যাপারে জানা কি খুব কঠিন? হতে পারে লক্ষীপুর থেকে জেনে এসেছে। ”

বখতিয়ার ভাবলেন। জিভের ঢগা ভিজিয়ে বললেন,

“ কিন্তু ওতটুকু মেয়ে মিথ্যা বলবেই বা কেন? এতে ওর লাভ কি? ”

“কারেক্ট” — এতোক্ষণে কথা বলে উঠলো লিখন। বিছানা থেকে উঠে হিমাদ্রির মুখোমুখি দাঁড়ালো। অন্ধবিশ্বাসী’র ন্যায় বলে উঠলো,

“ ওই নাদান মেয়েটা ফেক হতেই পারেনা। তুই ওর মুখের দিকে তাকিয়ে দেখেছিস? কি ইনোসেন্ট ফেইস! ফুপির মেয়ে নিভি’ই, তাতে আমি হান্ড্রেড পারসেন্ট শিউর। ”

হিমাদ্রি বিরক্ত হয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিলো। যেনো লিখনের মতামত’কে সে গোনায়’ই ধরে না। বাবা’র উদ্দেশ্যে গম্ভীর স্বরে বললো,

“বাবা, আজকাল এরকম অনেক চক্র বেরিয়েছে। তোমরা একটু সাবধান হও। জিজ্ঞেস করছো না মিথ্যে বলে ওর লাভ কি? আমি তোমায় বলছি — এরকম ইনোসেন্ট মেয়েরা এইসব চক্রের সঙ্গে মিলে থাকে। নানা দুঃখের কথা বলে ইমোশোনাল করবে। এই যে ওকে থাকতে দিয়েছো না, ও এখন থেকে প্রায় চার-পাঁচ দিন পুরো বাড়ি দেখবে। এরপর সুযোগ বুঝে রাতের খাবারে ঘুমের ওষুধ মিলিয়ে গভীর রাতে ঘরের দরজা খুলে দেবে। এরপর দলের লোক সহ বাড়ির কোনায়-কানায় যা কিছু আছে লুটে চলে যাবে রাতের আধারে। টেরটাও পাবে না। তোমরাই বলো না, কোন মেয়ের মা মরে গেলে খাবার মুখে তুলতে পারে? তোমরা, দাদী না খেয়ে চলে গেলে — আর ও মেয়ে হয়ে খেয়েই চললো। একবারও অদ্ভুত লাগলো না?

বখতিয়ার, ইখতিয়ার দুজনেই বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে রইলেন। কিছুক্ষণ নিরব থেকে বখতিয়ার বললেন,

“ তোমার মায়ের স্বভাবকে আকড়ে ধরে থেকো না হিমাদ্রি। এসব সন্দেহ বাদ দাও। আর দ্বিতীয়বার বাজে কথা বলবে না। ”

ইখতিয়ার তেজ নিয়ে বললো,

“ ও আসল হোক, নকল হোক তা নিয়ে আমার কিচ্ছু যায় আসেনা। নিভি আমার ভাগ্নী, ও আমার কাছেই থাকবে। এ বাড়িতেই থাকবে। ”

কথাপোকোথন গুলো ভীষণ বিষাক্ত। নিভি’র চোখে জল এসে গেলো। লজ্জায়, অপমানে বুকের ভেতরটা যন্ত্রণায় ছিড়ে যাচ্ছে। এতোসব ঘৃণ্য কথা বলবে বলেই হয়তো লোকটা আধা খেয়েই ছুটে এসেছে বাবা-চাচার কাছে। নিভি সবটা শুনলো। এরপর আস্তেধীরে এগিয়ে গেলো অনামিকার রুমের দিকে। আল্লাহ, তাকে আর কত অপমান করিয়ে সন্তুষ্ট হবে তা সে জানে না। শুধু মনে হচ্ছে, দুপুরে খেতে যাওয়াটাই ভুল হয়েছে। ওই খাবারটুকুই কি তাহলে কাল হয়ে দাঁড়ালো? চোখের পানি মুছে নিভি রুমে ঢুকলো। অনামিকা বিছানায় উবু হয়ে ফোন স্ক্রল করছে।

সে বারান্দায় গেলো। দুহাতে লোহার শিক ধরে দুরের উঁচু উঁচু বিল্ডিং গুলো দেখতে লাগলো। ভাবলো, এক বেলা খাবার খেতেই এতোটা খোটা — এখানে সে কি করে এতোগুলো দিন থাকবে? খেয়ে-পরে একটু থাকার জন্য প্রতি বেলায় এতোটা অপমানিত সে হতে পারবে না। প্রচন্ডভাবে আত্মসম্মানে লেগেছে। নিভি চোখের জল মুছলো। সে এখানে আর থাকবে না৷ দিনের পর দিন পড়ে থেকে এতো সুন্দর সম্পর্ক টা নষ্ট করবে না। এর চেয়ে খুব দ্রুতই চলে যাবে। কত মানুষ আশ্রয়হীন বেঁচে থাকে। সেও থাকবে। এস এস সি সার্টিফিকেট তো আছেই। দু-দিন ঘুরলে স্বল্প বেতনে হলেও কোনো একটা চাকরি পাওয়া যাবে। মানসম্মত না হোক, মাসশেষে দুটো টাকা তো পাওয়া যাবে।

নিভি আরো কিছুক্ষণ ওভাবে দাঁড়ালো। মন মানছে না। গ্রাম থেকে আসা বুঝি উচিত হয়নি। ওখানে অন্ততপক্ষে কম বেতনে টিউশন পাওয়া যেতো। কোনোভাবে মেশিন চালিয়ে, স্টুডেন্ট পড়িয়ে ভাড়া বাসায় থাকা যেতো৷ হঠাৎ কিছু একটা ভেবে সে রুমে আসে। অনামিকার উদ্দেশ্যে ধীর গলায় বলে,

“ আপু, আমাকে একটা টিউশন খুঁজে দেবেন? ”

চলবে?

বার্তা : সারাদিন শেষে ফিরেছি। ব্যস্ততায় এর চেয়ে বেশি লিখতে পারিনি। আপনারা অপেক্ষা করছেন ভেবে পোস্ট করে দিলাম। তবে হ্যাঁ, আগামীকাল থেকে ব্যস্ততা কমবে। প্রতিদিন রাত আটটার মধ্যে Simran Mimi পেইজে গল্প আপ্লোড করে দেবো। আপনারা নিয়ম মতো পড়ে যাবেন। কোনোদিন গ্যাপ গেলে আমি নিজেই জানিয়ে দেবো। অধৈর্য হবেন না। মনে রাখবেন, অপেক্ষার ফল মিষ্টি হয়।

#কপিবাজদের_উদ্দেশ্যে :

এই যে সারাদিনের ব্যস্ততার পর রান্না না করেই আগে উপন্যাস লিখলাম। একটা একটা করে শব্দ বুনতে তো কম সময় লাগেনি। এগুলো কি জন্য করি?

একটা উপন্যাস পাঠকের ভালো লাগলে সেটার চেয়ে বেশি তৃপ্তিদায়ক আর কিছু নেই। আমার লেখা পাঠক পড়বে, আমাকে জানবে, আমার ছোটো পেইজটা’তে ধীরে ধীরে পাঠক বাড়বে — এ কারনেই। কিন্তু আপনারা কি করেন? বারণ করলেও অনুমতি না নিয়ে গল্প কপি করে নিজেদের পেইজে আপ্লোড করেন। কেউ কেউ নির্লজ্জের মতো হ্যাশট্যাগ কেটে, কাট-ছাট করে নিজের পেইজে আপ্লোড করেন — যাতে পাঠক আমার টিকি টাও না ছুঁতে পারে। দিনশেষে আপনার পেইজে হাজার- হাজার পাঠক। আর আমার পেইজে কাঁচকলা।

এগুলো কেনো করেন আপনারা? আত্মসম্মান নেই, ব্যক্তিত্ববোধ নেই? এই যে কথাগুলো বললাম, এগুলোও আপনারা কেটে নিজেদের পেইজে আপ্লোড করে দেন নির্লজ্জ, বেহায়ার মতো। অথচ গল্প আসবে না বলে একটা পোস্ট করতেও সেটা নিজের পেইজে গর্ব ভরে আপ্লোড করেন। পাঠকদের বলেন, শীঘ্রই আসবে, শীঘ্রই আসবে। যেনো উপন্যাস টা আপনি লিখেছেন৷ কি বিশ্রী বিষয়! অথচ, আপনারা চাইলেই আমার কাছে অনুমতি চাইতে পারতেন।

শুনুন, এতোগুলো কথা বলার পরেও যদি একটু আত্মসম্মানবোধ থাকে তাহলে বারবার বারণ করার পরেও অনুমতি বিহীন আমার উপন্যাসের পর্ব আর নিজেদের পেইজে আপ্লোড করবেন না।

ইদানীং দেখছি পর্ব গুলো ভিডিও আকারে ইউটিউবেও ছাড়া হচ্ছে। মানুষ দিন দিন মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলছে, ভাবতেই খারাপ লাগে। তাদের আচরণ অতি দ্রুত ঠিক হয়ে যাক দোয়া করি।

এটাই লাস্ট ওয়ার্নিং! #রাজনীতির_রংমহল লেখাকালীন এমনই কিছু ঘটনা ঘটেছিলো। ধৈর্যহীন হয়ে যখন পদক্ষেপ নিলাম, তখন এসে ক্ষমা চেয়েছিলো। সেসব ঝামেলায় আর জড়াতে চাই না। আমাকে আমার মতো থাকতে দিন। আমার শ্রমের মূল্য আমাকে পেতে দিন। আমার উপন্যাস দুজন পাঠক পড়লেও, সেটা আমার পেইজে এসে পড়বে, এটাই প্রত্যাশা। ❤️

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply