মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
পর্ব_৪৯
কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা
হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫
কুহেলির কান্নার শব্দটা ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে এলে কেবিন টা অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতায় ভরে যায়। চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু নিয়েই কুহেলি কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে, নিজেও টের পায়নি। বালিশটা ভিজে আছে, নিঃশ্বাসটা কাঁপা কাঁপা—ঘুমের মধ্যেও বুকের ভেতরটা যেন হাহাকার করছে।
আবরার চুপচাপ বসে থাকে।
একবার তাকায় কুহেলির দিকে, আবার চোখ সরিয়ে নেয়। বুকের ভেতরটা ছিঁড়ে যাচ্ছে—সন্তানের জন্য, কুহেলির জন্য। কিন্তু সেই কষ্টের উপরেই কোথা থেকে যেন জমে উঠেছে এক স্তর অভিমান। অকারণ নয়, তবু বোঝানো কঠিন।
“আগে বললে কি হতো?”—এই একটা প্রশ্ন মাথার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে বারবার।
ঠিক তখনই দরজায় হালকা নক পড়ে।
আবরার চোখ না ঘুরিয়েই গম্ভীর দৃষ্টিতে তাকায়। দরজার ফাঁক দিয়ে ফেটিক্স ঢোকে। ওর মুখে সেই চেনা দৃঢ়তা থাকলেও চোখে আজ একটু দ্বিধা।
আবরারের দৃষ্টি প্রশ্ন ছুড়ে দেয়—কিছু বলার আছে?
ফেটিক্স ধীরে দরজা বন্ধ করে এগিয়ে আসে।
—“কিছু কথা বলার ছিল আপনাকে, স্যার।”
আবরার নিচু গলায় বলে—
—“বলো।”
ফেটিক্স একবার ঘুমন্ত কুহেলির দিকে তাকায়, তারপর কণ্ঠটা আরও নিচু করে শিশার কর্ম কান্ড সব খোলে বলে। সব শুনে আবরারের চোয়াল শক্ত হয়ে যায়। দাঁত চিবিয়ে চিবিয়ে বলে, আমি কিছুক্ষণের জন্য অসুস্থ ছিলাম আর তরা আমার বউ কে সেভ করতে পারিস নি?!
ফেটিক্স বলার মতো কিছু খুঁজে পাই না।
আবরার বলে, এখন শিশা কোথায়?!
ফেটিক্স নিচু কন্ঠে বলে, স্যার গোডাউনে।
আবরার আর বসে না একবার কুহেলির দিকে তাকিয়ে কেবিন থেকে বেরিয়ে যায়।
গোডাউনের ভিতরে….!
গোডাউনের ভেতরটা অদ্ভুত রকম নীরব।
লোহার চাল থেকে ঝুলে থাকা একটামাত্র হলুদ আলো দুলছে হালকা হাওয়ায়। আলো-আঁধারির মাঝখানে চেয়ারে বাঁধা অবস্থায় বসে আছে শিশা। হাত-পা শক্ত করে বাঁধা, মুখ শুকিয়ে কাঠ। চোখের পাতা বারবার কাঁপছে—ভয়ে নয়, আতঙ্কে।
দরজাটা ধীরে খুলে যায়। আবরার ভেতরে ঢোকে।
একদম শব্দ না করে। কালো শার্ট, খোলা কলার। বুকের উপর এখনো ব্যান্ডেজের ছাপ স্পষ্ট। কিন্তু যেটা সবচেয়ে ভয়ংকর—ওর চোখ। লাল টকটকে মনিওয়ালা সেই চোখ দুটো যেন আগুন হয়ে শিশার শরীরে গেঁথে যায়। আজ এখানে কোনো বডিগার্ড এমন কি কেও ফেটিক্সও গোডাউনের ভিতরে আনেনি আবরার একা এসেছে। আর এই একাকীত্বটাই সবচেয়ে ভয়ানক। কারণ আবরার যখন খুব নৃশংস ভাবে কাউকে মারে তখন এরকম কাউকে ভিতরে রাখে না।
এসব ভেবেই শিশার গলা শুকিয়ে আসে। বহুদিন পর সে পুরোনো আবরারকে দেখছে—যাকে সবাই ভুলে গেছে ভেবেছিল। ঘুমন্ত সিংহটা যে জেগে উঠতে পারে, সেটা সে ভুলে গিয়েছিল। ভয়ে আত্মা যেন শরীর ছেড়ে বেরিয়ে যেতে চায়।
আবরার ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে। প্রতিটা পা ফেলার শব্দ শিশার কানে বজ্রপাতের মতো লাগে। চেয়ারের সামনে এসে দাঁড়ায় সে। কোনো তাড়াহুড়ো নেই। কোনো রাগের চিৎকার নেই।
শুধু ভয়ংকর শান্তি। আবরার নিচু, ঠান্ডা কণ্ঠে বলে,
“আমাদের মধ্যে ডিল হয়েছিলো, মনে আছে?
শিশা ঢোক গিলে। কথা বের হয় না।
আবরার মাথা একটু কাত করে, চোখ আরও তীক্ষ্ণ হয়।
তুই আর ফাহিম আমার বাড়িতে এক মাস থাকবি বলেছিলি তাই তো?!
কথাগুলো শুনতে সাধারণ। কিন্তু শব্দের ফাঁকে ফাঁকে লুকিয়ে আছে এমন কিছু, যা শিশার শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত নামিয়ে দেয়।
শিশা কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,
—“হ্যাঁ… হ্যাঁ আবরার… ডিল ছিল…!
গোডাউনের বাতাস হঠাৎ করে আরও ভারী হয়ে ওঠে। ঝুলে থাকা বাতিটা কাঁপে, আলোটা শিশার মুখে এসে পড়তেই তার ফ্যাকাশে চেহারা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আবরার দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
এই ব্যাস্টার্ড তাহলে তুই পাখির গায়ে হাত তুললি কেনো? কণ্ঠটা উঁচু নয়। কিন্তু এই চাপা গর্জনটাই সবচেয়ে ভয়ংকর। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে। একদম ধীর পায়ে। যেন সময় নিয়ে, অনুভব করে প্রতিটা শব্দ উচ্চারণ করছে। শিশায সামনে রাখা চেয়ারটায় বসে পড়ে। বসেই আবার প্রশ্ন করে
বল কোন হাত দিয়ে তুই আমার পাখির গায়ে হাত তুলেছিলি রে?
শিশার শরীর কাঁপতে থাকে। হাত-পা বাঁধা অবস্থায়ও সে নিজেকে গুটিয়ে ফেলতে চায়, কিন্তু পারে না। গলা শুকিয়ে যায়, কথা বেরোতে চায় না। তবুও কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলে,
আ… আমি… আমার ভুল হয়ে গেছে… আজকের মতো মাফ করে দাও… আমি আর জীবনে এমন ভুল করবো না…!
এক মুহূর্ত নীরবতা। তারপর আবরারের ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে একটা হাসি ফুটে ওঠে। কিন্তু সেটা হাসি না। ওটা পৈশাচিক।
—“মাফ?”
শব্দটা এমনভাবে উচ্চারণ করে, যেন শব্দটার মানে সে ভুলে গেছে। আবরার সামনের দিকে একটু ঝুঁকে আসে। চোখ দুটো আগুনের মতো জ্বলছে।
তোর জন্য আমার সন্তান মারা গেছে।
এক সেকেন্ড থামে। গলার স্বর আরও গভীর হয়।
আমার পাখি কষ্ট পাইছে। আর তুই ভাবছিস আমি তোকে ক্ষমা করবো?
গোডাউনের দেয়াল যেন এই কথাগুলো সহ্য করতে না পেরে আরও চুপসে যায়। শিশার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ে। ভয়ে নয় শুধু—অনুধাবনে।
আবরার পাশে রাখা টি-টেবিল থেকে ধীরে ধীরে একটা ধাতব জিনিস তুলে নেয়। আলো পড়তেই সেটার ঠান্ডা ঝিলিক চোখে লাগে।
শিশা সেটা দেখেই আঁতকে ওঠে। চোখ দুটো আরও বড় হয়ে যায়, গলা কেঁপে ওঠে
আ… আবরার! থামো চিমটা দিয়ে কী… কী করবে তুমি?
আবরারের ঠোঁটে সেই চিরচেনা স্নায়বিক হাসি।
কোনো কথা না বলে শিশার বাঁধা হাতের একটা আঙ্গুল ধরলো আবরার! তারপর চিমটা দিয়ে ওর একটা নখ টান দিয়ে তোলে ফেলে,কাঁচা নখ উঠে যায় সাথে সাথে গোডাউনের ভেতরটা কেঁপে ওঠে।
শব্দটা মানুষের না। ওটা কোনো প্রাণীর আর্তচিৎকার। শিশার চিৎকারে দেয়াল পর্যন্ত যেন কেঁপে ওঠে। সে ছটফট করতে থাকে, কিন্তু বাঁধা শরীর তাকে বিশ্বাসঘাতকতা করে। আঙ্গুল দিয়ে গলগল করে রক্ত পড়তে থাকে!
আবরার সেখানে বসেই হাসতে থাকে। ঠিক যেন কোনো খেলনা ভেঙে আনন্দ পাওয়া শিশুর মতো।
—“দেখলি?”
সে হালকা কণ্ঠে বলে,
—“কষ্ট কাকে বলে… এখন বুঝছিস?”
শিশা কাঁদতে কাঁদতে চিৎকার করে ওঠে,
ছেড়ে দাও… প্লিজ… আমি আর কখনো… কখনো তোমাদের সামনে আসবো না…!
কিন্তু আবরার হাসতেই থাকে। ওই হাসিতে কোনো করুণা নেই। ওটা আত্মার শান্তির হাসি। তারপর সে ভারি কন্ঠে বললো,
দেরি হয়ে গেছে! তর জন্য পাখি যখন ব্যাথা পেয়েছে আমার সন্তান যখন দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছে তখনি তর ফেরার রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে।
গোডাউনের আলোটা দুলে ওঠে। বাইরে থেকে শুধু অস্পষ্ট আর্তনাদ শোনা যায়।
ভিতরে—একটা সাইকো মাফিয়া তার প্রতিশোধ শেষ করার পথে এগিয়ে যায়।
আবরার একে একে শিশার সব নখ তুলে ফেলে!
শিশার শরীর কাঁপছে। চেয়ারের সাথে বাঁধা শরীরটা বারবার ছটফট করছে, কিন্তু আবরারের চোখ একবারও নড়ে না। একটার পর একটা নখ তুলতে থাকে শিশার চিৎকার ক্রমেই দুর্বল হয়ে আসে। গলা ফেটে যায়, শব্দ আর ঠিক মতো বের হয় না। আবরার যেন শুনতেই পাচ্ছে না।
তার মুখে সেই একই ঠান্ডা হাসি—যে হাসি দেখে বোঝা যায়, এই মানুষটা এখন আর কাউকে ক্ষমা করে না। শিশার চোখ উল্টে যায়। শ্বাস নিতে পারছে না ঠিক মতো। শরীর নিস্তেজ হয়ে আসছে।
মেঝের দিকে তাকিয়ে আবরার এক মুহূর্ত থামে।
তারপর আবরার হঠাৎ করে হাতের তুড়ে মারতেই পরিবেশটা থমকে গেল। দুই পাশের অন্ধকার থেকে দুইজন বডিগার্ড এগিয়ে এল—তাদের হাতে তিনটে লম্বা বাঁশ। শিশা সেটা দেখেই আঁতকে উঠল।ভয়ে গলা শুকিয়ে এল।
আবরার… বাঁশ দিয়ে… কি করবে?
কথাগুলো ঠিকমতো বেরোতেই পারল না।
আবরার একবার তাকাল।চোখে কোনো আবেগ নেই, নেই রাগ—এই নির্লিপ্ত দৃষ্টিই শিশার বুক কাঁপিয়ে দিল। আবরার ঠান্ডা গলায় বলল,
তোর পাছায় ভরবো!
শিশা কাঁদতে লাগল। হাউমাউ করে, দম আটকে আসা কান্না—বারবার একই কথা, আর হবে না, ভুল হয়ে গেছে, ছেড়ে দাও। কিন্তু আবরার চুপ।
বডিগার্ডরা নীরবে কাজ শুরু করল। দুই পাশে বাঁশ রাখা হলো, ওপরের দিকে আরেকটা শক্ত করে বাঁধা হলো। বাঁশের সাথে দড়ির ঘর্ষণে অদ্ভুত এক শব্দ উঠল— শিশার শরীর সেই শব্দেই শিউরে উঠল। আবরার ইশারা করতেই শিশার হাত‑পা খুলে দেওয়া দিয়ে, তারপর উপেরে বাঁশের সাথে তাকে ওপরে শক্ত করে বেঁধে ফেলা হলো।
—“আবরার! প্লিজ!”
শিশার চিৎকার গোডাউনের দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফিরে এল।
আবরার একটুও নড়ল না। কিছু বলল না।
কিছুক্ষণ পর আরও কয়েকজন সামনে এগিয়ে এল—তাদের হাতে ছিল লাকরি, তা দেখেই শিশা থেমে গেল। কান্না আর শব্দ হলো না। শুধু নিঃশ্বাস এলোমেলো হয়ে গেল। সে বুঝে গেল—এটা ক্ষমা পাওয়ার জায়গা না।
তারপর আবরার তাদেরকে বেরিয়ে যেযে হাত দিয়ে ইশারা করলো সাথে সাথে বডিগার্ড মাথা নিচু করে বেরিয়ে গেলো।
আবার লাকরি গুলো তে আগুন ধরিয়ে দিলো সাথে আগুন শিশার শরীরে লাগে শিশা চিৎকার করতে থাকে কিন্তু আবরারের কানে তা পৌঁছে না ও তৃপ্তি সহকারে উপভোগ করতে থাকে। এমন ভাবে যেনো গ্ৰিল চিকেন বানাচ্ছে।
~~
গুলির ক্ষত এখনো কাঁচা। শরীরের ভেতরটা যেন আগুনে পুড়ছে—একটার পর একটা আঘাত, শারীরিক আর মানসিক মিলেমিশে আবরারকে ভেঙে দিচ্ছে। গোডাউন থেকে বের হওয়ার পর থেকেই শরীরটা আর সায় দিচ্ছিল না। মাথা ঘুরছিল, বুক ভার হয়ে আসছিল। শেষমেশ আবার হাসপাতালে ফিরতে হলো। কেবিনের দরজা খুলতেই আবরারের বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল।
বিছানার ওপর কুহেলি গুটিশুটি মেরে বসে আছে।
দুই হাঁটু বুকের কাছে টেনে এনেছে, মুখটা হাঁটুর ভেতর লুকানো। শরীরটা মাঝে মাঝেই কেঁপে উঠছে—চুপচাপ, নিঃশব্দ কান্না। সেই কান্না যেটা শব্দ করে না, কিন্তু ভেতরটা চিরে ফেলে।
আবরার ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে বেডের ধারে বসল। কিছু বলল না। শুধু বসে রইল। কুহেলি কারো উপস্থিতি টের পেয়ে মাথা তুলল। চোখ দুটো লাল, ফুলে আছে। ঠোঁট শুকিয়ে ফেটে গেছে।
আবরারকে দেখতেই যেন শেষ শক্তিটুকুও ভেঙে পড়ল।ঠোঁট কাঁপল। চোখের পানি আর আটকানো গেল না।
আমাকে এভাবে কেন শাস্তি দিচ্ছেন আপনি?
কথাগুলো বলতে বলতে কুহেলির গলা ভেঙে গেল। আমি তো ইচ্ছে করে কিছু করিনি আমারও তো সন্তান হারিয়েছে। সে দুহাতে নিজের বুক চেপে ধরল, যেন ভেতরের ব্যথা বেরিয়ে আসবে এই ভয়ে। আপনি আমাকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন কেন? আমি কি শুধু দোষীই? হেঁচকি তুলে কান্না করতে করতে বলল, এভাবে করলে আমি বোধহয় আমি বোধহয় মরেই যাবো..! শেষ কথাটা বলার সময় কুহেলির কণ্ঠস্বর এতটাই দুর্বল ছিল যে, মনে হলো শব্দটা বাতাসেই ভেঙে গেল।
সাথে সাথে আবরার এক টান দিয়ে কুহেলিকে নিজের বুকে চেপে ধরে। আবরারের বুকে যেয়ে কুহেলির শরীরটা এক সেকেন্ডে স্থির হয়ে গেল।
তারপর হঠাৎ ঘাড়ে বেথা অনুভব করলো। আবরার দাঁত বসিয়েছে ওর ঘাড়ে ব্যথায় কুঁকড়ে উঠল, কিন্তু চমকে গিয়ে সরানোর সাহস হলো না।
কিছু মুহূর্ত পর আবরার তরল কিছু অনুভব করল রক্ত। সঙ্গে সঙ্গে সে ছেড়ে দিল। কিন্তু রাগ কিছু কমেনি। চোয়াল শক্ত হয়ে গেছে, কপালের রগগুলো ফুঁড়ে উঠছে, চোখে লাল-লাল রশ্মি।
সামনে পড়ে থাকা ছোট্ট ছুরিটা আবরার হাতে তুলে নিল। তারপর কুহেলির গলায় ধরলো কুহেলি চমকে উঠল, ভয়ের কারণে শরীর কেঁপে উঠল।
আবরার দাঁত চেপে চিবিয়ে চিবিয়ে বললো,
এই হারামির বাচ্চা! তর সাহস কি করে হয় মরার কথা বলার? তুই আমার তাই, যখন আমি বলবো, তখন মরবি! আমার অনুমতি ছাড়া তুই মরতে পারবি না! কুহেলি ভয়ে চুপ হয়ে রইল, চোখ মেলতে সাহস পাচ্ছে না। আবরার ধমক দিয়ে জোরালোভাবে বলল, বল! তুই কার? কুহেলি ভয়ভীত গলায় ফিসফিস করে বলল,
আ… আপনার…!
আবরারের চোখে আগুন আরও জ্বলতে লাগল। সে চিৎকার করে বলল, নাম বল! কার?
কুহেলি দম বন্ধ করা কণ্ঠে কাঁপতে কাঁপতে বলল,
মাফিয়া কিং… এরিক আবরার খানের।
আবরারের নিশ্বাস ভারী হয়ে গেছে। সে মুখ চেপে ধরে কিছুক্ষণ দাঁড়ালো, চোখগুলো কুহেলির দিকে আঁটসাঁট লেগে আছে। তারপর চরম সতর্ক এবং কঠোর কণ্ঠে বলল,
আর কখনো মরার কথা বলবি?
কুহেলি চিৎকার না করে, কেবল ‘না’ ফিসফিস
করে বলল।
কিন্তু এতেও আবরারের রাগ কমেনি। তার লাল চোখ, শক্ত চোয়াল, ধমকধারী কণ্ঠ—সবই দেখাচ্ছে, যে শান্তি আর নিরাপত্তা কুহেলির জন্য এখনো অনেক দূরে। কেবিন নীরব, শুধুই কুহেলির কণ্ঠের হাহাকার আর আবরারের তীক্ষ্ণ উপস্থিতি।
আবরার হঠাৎ করেই ছুরিটা মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলল। ধাতব শব্দে কেবিনের ভেতর কেঁপে উঠল নীরবতা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে এক ঝটকায় কুহেলিকে কোলে তুলে নিল। কুহেলির বুকের ভেতরটা দমদম করে উঠল, ভয়ে গলা শুকিয়ে গেল।
কো… কোথায় নিয়ে যাবেন?কাঁপা কণ্ঠে প্রশ্নটা বেরিয়ে এলো।
আবরার একটাও শব্দ করল না। তার মুখে কোনো ভাব নেই, চোখ দুটো কঠিন পাথরের মতো। সে কেবিন থেকে বেরিয়ে দ্রুত হাঁটতে লাগল। করিডোরে দাঁড়ানো বডিগার্ডরা বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল কেউ কিছু বলার সাহস পেল না।
লিফটের দরজা খুলে বন্ধ হলো। কয়েক সেকেন্ড যেন ঘণ্টার মতো দীর্ঘ মনে হচ্ছিল কুহেলির কাছে। লিফট থামতেই আবরার আবার হাঁটা শুরু করল। হসপিটালের ছাদে পৌঁছাতেই ঠান্ডা বাতাস কুহেলির মুখে এসে লাগল। চারপাশে শুধু বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ আর দূরের শহরের আলো।
এই প্রথম কুহেলির ভেতরের ভয় চিৎকার হয়ে বেরিয়ে এলো। সে কেঁদে ফেলল, আঁকড়ে ধরল আবরারের শার্ট। প্লিজ… আমাকে মারবেন না। আমি আর কখনো মরার কথা বলবো না। প্লিজ..!
কিন্তু কে শোনে কার কথা! আবরার ধীর পায়ে ছাদের কিনারার দিকে এগিয়ে গেল। মুহূর্তের মধ্যেই সে হঠাৎ কুহেলিকে নিচের দিকে ঝুলিয়ে দিল। কুহেলির বুক থেকে তীব্র চিৎকার বেরিয়ে এলো। সে নিচে তাকাল—আঠারো তলা নিচে শহরটা খেলনার মতো ছোট। এখান থেকে পড়লে বাঁচার কোনো সম্ভাবনাই নেই।
ভয়ে তার শরীর অবশ হয়ে এলো, চোখে অন্ধকার নেমে এলো। ঠিক তখনই সে টের পেল আবরারের শক্ত হাত তার কবজি আঁকড়ে ধরে আছে। এক চুলও ছাড়েনি। আবরারের কণ্ঠ এবার ঠান্ডা, ভয়ংকরভাবে শান্ত— ভয় পাচ্ছিস, তাই না?
কুহেলি কাঁদতে কাঁদতে মাথা নাড়ল। চোখের জল বাতাসে উড়ে যাচ্ছিল।
আবরার ধীরে বলল,
তুই না মরে যাবি তাহলে ভয় পাচ্ছিস কেনো? আমি তকে আরো সাহায্য করছি। কথাই আছে না শুভ কাজে দেরি করতে নেই চল তকে ফেলে দেই মরে যা। বলেই আবরার ওর হাতের বাঁধন একটা ঢিলে করে দেয়।
কুহেলি সাথে সাথে চিৎকার করে বলে উঠে,
সামিজি আমি এখনি পটল তুলতে চাই না! তখন আবেগের বশে কথা টা বলে ফেলছি। আমাকে মাফ করে দেন…..!
আবরার বলে তর আবেগের মাইয়ের চুদলিং পং করে দিবো খাইস্টা বেডি!
চলবে....!
Share On:
TAGS: তাসনিম তালুকদার বুশরা, মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২৪
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৯
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৫১(সমাপ্ত)
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৫০(১ম+২য়+শেষাংশ)
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪৮(প্রথমাংশ + শেষাংশ)
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড গল্পের লিংক
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৩৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৬