মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
পর্ব_৪২
কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা
হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫
আবরারের কথাই কুহেলির গাল লাল টকটকে হয়ে যায় লজ্জাই তবুও অযথা রাগ দেখানোর ভান ধরে বললো,
আপনি কি চুপ করবেন?কুহেলি প্রায় চিৎকার করেই বলল,লজ্জা-শরম বলে কি কিচ্ছু নেই আপনার?আপনার সাথে আমি আর থাকবই না! অসভ্য লোক!
কথাগুলো বলেই কুহেলি উঠে দাঁড়িয়ে দ্রুত পা বাড়াল দরজার দিকে।কিন্তু পরক্ষণেই আবরার তার হাতটা শক্ত করে ধরে ফেলল।আবরারের চোখে তখন বিস্ময় আর তাড়াহুড়োর ছাপ।
শোনো,আমার হৃদয়ের মহারানী এভা…
কথা টা শেষ করার আগেই হঠাৎ দরজায় ঠুক করে আওয়াজ পড়ল।দু’জনেই চমকে উঠল। মুহূর্তের জন্য রুমটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল।আবরার আর কিছু না বলে ধীরে ধীরে কুহেলির হাত ছেড়ে দিল।কুহেলি গভীর নিশ্বাস নিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
দরজা খুলতেই দেখা গেল,এক তরুণী মেইড নত চোখে দাঁড়িয়ে আছে।
কি হয়েছে?
কুহেলি সংক্ষিপ্ত স্বরে জিজ্ঞেস করল।
মেইডটা ভদ্রভাবে বলল,
ম্যাডাম, আপনার বান্ধবী এসেছেন।
এই কথা শোনা মাত্রই কুহেলির মুখের ভাব বদলে গেল। আর এক মুহূর্তও দেরি না করে সে দৌড়ে বেরিয়ে গেল রুম থেকে।পায়ের শব্দ দ্রুত প্রতিধ্বনিত হতে লাগল সিঁড়ির ধাপে ধাপে।
সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে তার বুকের ভেতরটা অজানা আশঙ্কায় ভারী হয়ে উঠল।নিচে পৌঁছেই সে তাকিয়ে দেখল ড্রয়িংরুমের সোফায় গুটিশুটি মেরে বসে আছে শায়লা।শায়লার মুখখানা অস্বাভাবিকভাবে ফ্যাকাসে, চোখ দুটো ফাঁকা দৃষ্টিতে মেঝের দিকে স্থির।যেন শরীরটা এখানে, কিন্তু মন কোথাও অনেক দূরে।
কুহেলির বুকটা ধক করে উঠল।
শায়লা..!
কুহেলির কণ্ঠস্বর কানে যেতেই শায়লা ধীরে ধীরে মাথা তুলল।ফ্যাকাসে মুখটার ওপর ভর করে দু’চোখে জমে থাকা ভয় আর ক্লান্তি স্পষ্ট হয়ে উঠল। সেই দৃষ্টিটুকু দেখামাত্রই কুহেলির বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠল।
এক মুহূর্ত দেরি না করে কুহেলি দৌড়ে গেল শায়লার কাছে।বসে থাকা শায়লাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল সে।যেন অনেকদিনের জমে থাকা আতঙ্ক আর চিন্তাকে একসাথে বুকে চেপে ধরেছে।
শায়লা…তুই ঠিক আছিস তো?
কুহেলির গলা ভেঙে এল।এতদিন আমাকে কিছু বলিস নি কেন?আমি ফোন না দিলে তো জানতেই পারতাম না!
শায়লা কুহেলির বুকের কাছে মুখ লুকিয়ে মিনমিন করে বলল,
ভাইয়া কে খুব ভয় লাগে আমার,কুহেলি।যদি আবার কিছু বলে তাই তোকে বিরক্ত করিনি।
কথাগুলো শোনামাত্রই কুহেলি ধীরে ধীরে শায়লা কে ছেড়ে দিল।চোখে তখন মায়ার জায়গা নিয়ে নিয়েছে হালকা রাগ।ঠোঁট দুটো চেপে ধরে সে গম্ভীর মুখে বলল,
শোন, আমার জামাই একদম খারাপ না। ভালোই আছে সে।
একটু থেমে যোগ করল,
আর বিরক্ত?আমি কখনোই হই না,বুঝলি?
এই কথা বলেই কুহেলি শায়লার পাশে গাল ফুলিয়ে বসে পড়ল।রাগ দেখালেও তার চোখের গভীরে লুকিয়ে ছিল নিখাদ চিন্তা আর আপন জনের জন্য নিঃশব্দ ভালোবাসা।
কুহেলিকে এমন বাচ্চাদের মতো গাল ফুলিয়ে বসে থাকতে দেখে শায়লার ঠোঁটের কোণে হালকা একটা হাসি ফুটে উঠল।এতক্ষণ বুকের ভেতর জমে থাকা ভয় আর অস্থিরতার ফাঁকে সেই হাসিটুকু যেন খানিকটা স্বস্তি এনে দিল।
শায়লা আলতো গলায় বলল,
আচ্ছা বাবা,সরি।আর এরকম কথা বলব না।
একটু দুষ্টুমি মিশিয়ে যোগ করল,এবার সারাদিন-রাত তোকে জ্বালাবো।এখন খুশি তো?
কুহেলি ভুরু কুঁচকে তাকালেও ঠোঁট চেপে রাখা হাসিটা আর লুকিয়ে রাখতে পারল না।
-“অবশ্যই!”
সে সংক্ষেপে বলল।
শায়লা একটু গা ঘেঁষে এসে জিজ্ঞেস করল,
আচ্ছা,কি জন্য তুই আমাকে ফোন দিলি?
কুহেলি হালকা ভঙ্গিতে গলা নামিয়ে বলল,
আসলে তোর ভাইয়ার জন্মদিন তো এক জানুয়ারি।সেই নিয়েই একটু প্ল্যান করব ভাবছিলাম।
শায়লার চোখে মুহূর্তেই কৌতূহল জ্বলে উঠল।
আচ্ছা,তাহলে এখনই করবি?
কুহেলি মাথা নাড়িয়ে বললো,
না রে,আগে তুই ফ্রেশ হয়ে খাবার খা।তারপর না হয় বসে গল্প করব।একটু থেমে মৃদু হেসে যোগ করল,আরো অনেক কথা বাকি আছে তোকে বলার।
শায়লা শান্ত স্বরে বলল,
—”আচ্ছা।”
তারপর উঠে দাঁড়িয়ে বলল,আমি তাহলে ফ্রেশ হতে গেলাম।তারপর একসাথে খাবো।
—”আচ্ছা।
কুহেলি সম্মতি জানাল।শায়লা ধীরে ধীরে গেস্ট রুমের দিকে এগিয়ে গেল।তার পায়ের শব্দ মিলিয়ে যেতে না যেতেই কুহেলি কিচেনের দিকে ঘুরে দাঁড়াল।রান্নাঘরের উষ্ণ আলোয় ঢুকে সে গভীর নিশ্বাস ফেলল।
বাড়িটা আবার ধীরে ধীরে ভরে উঠছিল পরিচিত শব্দ আর আপনজনের উপস্থিতিতে। অথচ সেই শান্তির আড়ালেই কোথাও যেন লুকিয়ে ছিল আসন্ন দিনের অজানা গল্প।
বিশ মিনিট পর…!
ড্রয়িং টেবিলের চারপাশে নরম আলো ছড়িয়ে পড়েছে।ফাহিম আর শিশা এসে চুপচাপ বসলো টেবিলের এক পাশে।বাড়ি জুড়ে তখন হালকা খাবারের সুগন্ধ ভাসছে,যা ক্ষুধার সঙ্গে সঙ্গে মনকেও টেনে আনছে।ঠিক তখনই কিচেন থেকে বেরিয়ে এসে কুহেলি এসে বসলো ফাহিমের সামনের চেয়ারটায়।
ফাহিম অবাক হয়ে তাকিয়ে হেসে বলল,
আরে কুহেলি,তুমি কিচেনে এতক্ষণ কি করছিলে?
কুহেলি উত্তর না দিয়ে পাশেই দাঁড়ানো এক মেইডের দিকে ইশারা করল,খাবারগুলো টেবিলে পরিবেশন করতে বলার ইঙ্গিতে।এক এক করে টেবিলে উঠতে লাগল খাবারের পসরা সাদা ঝরঝরে পোলাও,মশলায় কষানো গরুর মাংস রোস্ট,সোনালি করে ভাজা ইলিশ মাছ,আর সঙ্গে গরম গরম বুটের ডাল।খাবারের গন্ধে পুরো বাড়ি টা যেন আরও আপন
খাবারের গন্ধে পুরো ঘরটা যেন আরও আপন হয়ে উঠল।
এই সবগুলোই শায়লার পছন্দের খাবার।শায়লা আসবে বলছি তাই কুহেলি নিজে থেকেই মেইড কে এসব রান্না করতে বলে দিয়েছিল।
আর একটা কারণ ছিলো!এই সব খাবার দেখে ফাহিমের প্রতিক্রিয়া কেমন হয়,কুহেলি সেটাই লক্ষ্য করছিল।কিন্তু ফাহিম বিশেষ কোনো ভাব প্রকাশ না করেই চুপচাপ হাত বাড়িয়ে খেতে লাগল।না বিস্ময়,না প্রশ্ন স্বাভাবিক গম্ভীর মুখেই যেন সবকিছু মেনে নিল।
কুহেলি একটু সাহস সঞ্চয় করে বলল,
ভাইয়া, একটা কথা বলার ছিল..!
ফাহিম চোখ না তুলেই সংক্ষেপে বলল,
বলো।
ঠিক সেই মুহূর্তেই সিঁড়ির দিক থেকে পায়ের শব্দ শোনা গেল।আবরার এসে কুহেলির পাশের চেয়ারে বসে পড়ল তার উপস্থিতিতেই টেবিলের চারপাশের বাতাসটা যেন মুহূর্তে বদলে গেল।তিনজনের মধ্যেই অজান্তে একটা নড়েচড়ে ওঠা তৈরি হলো।অবাক করার বিষয়,আবরার কোনো কথা বলল না।শুধু পাশেই দাঁড়ানো মেইডের দিকে চোখের ইশারা করল।মেইড সঙ্গে সঙ্গে তার প্লেটে খাবার দিতে শুরু করল।
কুহেলি বুঝে গেলো আবরার এখন কিছু বলার মুডে নেই।তার নীরবতাই যেন অনেক কিছু বলছিল।পরিস্থিতির ভার নিজের কাঁধে নিয়ে কুহেলি আবার মুখ খুলল।গলা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলেও ভেতরের অস্থিরতা চাপা থাকল না।
ফাহিম ভাইয়া শায়লা কোথায়?
ঠিক সেই মুহূর্তে শায়লা সিঁড়ির সামনে এসে দাঁড়াল।ধবধবে পরিষ্কার থ্রি-পিসে তাকে আজ আরও ফ্যাকাসে লাগছিল।সে থমকে দাঁড়িয়ে রইল,ড্রয়িং টেবিলের দিকে তাকিয়ে।অথচ আশ্চর্যের বিষয় কেউই তাকে খেয়াল করল না।
এই অদ্ভুত নীরবতার মাঝেই ফেটিক্স এসে এক চেয়ারে বসে পড়ল।চেয়ার টানার মৃদু শব্দে ফাহিম একটু চমকে উঠল।এক মুহূর্তের জন্য তার চোখে অস্বস্তির ছাপ ফুটে উঠল,কিন্তু পরক্ষণেই সে মুখে একটা কৃত্রিম হাসি এনে বলল,
আসলে শায়লা বাড়িতেই আছে।মায়ের কাছেই তো থাকবে,আর কোথায় থাকবে?হালকা হাসি দিয়ে যোগ করল,
তুমি যে কি প্রশ্ন করো কুহেলি!
কুহেলি ধীরে ধীরে কপাল কুঁচকে তাকাল ফাহিমের দিকে।তার চোখে তখন সন্দেহ আর অবিশ্বাস স্পষ্ট।গলা ঠাণ্ডা রেখেই সে প্রশ্ন করল,
সত্যি করে বলুন তো আপনার মা বেঁচে আছেন?
এই প্রশ্নে ফাহিম এবার আরও বেশি থতমত খেয়ে
হাত টা মুহূর্তের জন্য থেমে গেল খাবারের মাঝ পথে।চোখ দুটো দ্রুত অন্যদিকে সরিয়ে নিয়ে সে খানিকটা বিরক্ত স্বরে বলল,
এসব দিয়ে তুমি কি করবে?
তার কথার সুরে ছিল অস্বস্তি,আর চোখের এড়িয়ে যাওয়া দৃষ্টিতে লুকিয়ে ছিল অনেক না বলা কথা।
সিঁড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা শায়লা নিঃশব্দে সব শুনছিল।তার আঙুলগুলো অজান্তেই মুঠো হয়ে গেল। বুঝে গেল এই বাড়ির ভেতরে শুধু মানুষ নয়, জমে আছে বহুদিনের চাপা পড়ে থাকা সত্যও।
কুহেলির চোখে তখন আর রাগ লুকোনোর কোনো চেষ্টা নেই।চেয়ার থেকে সামান্য সামনে ঝুঁকে সে এক নিশ্বাসে বলে উঠল,
আপনি এই বাড়িতে আছেন,অথচ শায়লাকে ওই বাড়িতে রেখে আসছেন কেন?তার কণ্ঠ ধীরে ধীরে ভারী হয়ে উঠল।ও তো আপনার বোন।তাহলে কেন এমন একটা সময়ে ওকে একা ফেলে রাখলেন,যখন আপনাকে ওর সব থেকে বেশি প্রয়োজন ছিল?কুহেলি থামল না। গলার স্বর এবার কেঁপে উঠল যন্ত্রণায়।আপনার মা মারা গেছেন অথচ আপনি ওকে একা রেখে এই বাড়িতে চলে এলেন?চোখ দুটো শক্ত করে ফাহিমের দিকে রেখে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল,এরকম কেন করলেন আপনি?
ড্রয়িং টেবিলের চারপাশে হঠাৎ নিস্তব্ধতা নেমে এলো।শিশা,ফেটিক্স সবাই বিস্ময়ে ফাহিমের দিকে তাকিয়ে রইল।এমন প্রশ্নের মুখে মানুষ সাধারণত আত্মপক্ষ সমর্থন করে,নরম হয় কিন্তু ফাহিম সবাইকে অবাক করে দিয়ে সম্পূর্ণ উল্টো প্রতিক্রিয়া দেখাল।সে ধীরে চেয়ারে হেলান দিয়ে ঠাণ্ডা গলায় বলল,
মা মারা গেছে তো বোন দেখার দায়িত্ব কি আমার?
একটু থেমে ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটিয়ে যোগ করল,না তো! আমি মা’কে দেখেছি।ওকে আমি দেখতে পারব না।কথাগুলো যেন ছুরি হয়ে কেটে গেল ঘরের বাতাস।ফাহিম নির্বিকারভাবে আবার বলল,আর আমি তো ওকে টাকা পাঠাবো বলছি। আর কি চাই?এই একটিমাত্র বাক্যে তার মানসিকতার সমস্ত নির্মমতা প্রকাশ পেয়ে গেল।
কুহেলির চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।বিশ্বাস আর বাস্তবতার মাঝখানে সে যেন মুহূর্তেই দুলে উঠল। সিঁড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা শায়লার চোখ ভিজে উঠল,কিন্তু সে একটা শব্দও করল না।তার নীরবতাই তখন সবচেয়ে জোরালো চিৎকার হয়ে উঠল।
ফাহিম পুনরায় বললো,
আর তোমাকে এসব বলেছে?কি পরিমান জানোয়ার!
ঠিক সেই মুহূর্তেই পেছন দিক থেকে ঝনঝন করে কিছু ভাঙার শব্দ ভেসে এলো।সবাই চমকে পেছনে তাকাল।সিঁড়ির কাছেই রাখা ফুলদানিটা শায়লার দৌড়ের চাপে উল্টে পড়ে ভেঙে গেছে।ভাঙা কাঁচের টুকরো ছড়িয়ে আছে মেঝেতে,ঠিক যেমন শায়লার ভেতরের ভাঙা মনটা ছড়িয়ে ছিল নীরবে।
শায়লা দাঁড়ায়নি।এক মুহূর্তও থামেনি।চোখে জমে থাকা জল আর বুকের ভেতরের চাপা কান্না নিয়ে সে দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে গেল।
আবরার আর কুহেলি বাদে বাকিরা সবাই হতভম্ব।
শায়লা এই বাড়িতে কখন এলো?এই প্রশ্নটাই যেন সবার চোখে মুখে ভাসছিল।কুহেলি ধীরে ধীরে ফাহিমের দিকে তাকাল।তার চোখে তখন শুধু রাগ নয়, গভীর হতাশা।
আপনার কাছ থেকে এটা আশা করিনি, ভাইয়া ছিঃ।
এই একটামাত্র শব্দেই ছিল তীব্র ঘৃণা আর ভেঙে যাওয়া বিশ্বাস।
কুহেলি উঠে যেতে উদ্যত হতেই আবরার হঠাৎ তার হাত ধরে ফেলল।স্পর্শটা শক্ত নয়, বরং শান্ত।
খাবার খেয়ে নাও, পাখি,
আবরার নিচু স্বরে বলল।
আর শায়লাকে এখন একা থাকতে দাও।ওর এখন একা থাকাটাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
কুহেলি আর কিছু বলল না।ধীরে চেয়ারে বসে পড়ল।কিন্তু তার মন পড়ে রইল সিঁড়ির ওপারে যেখানে একা বসে আছে শায়লা,ভাঙা ফুলদানির কাঁচের মতোই ভাঙা অনুভূতি নিয়ে।ফেটিক্স উঠতে চাইল।শায়লার পেছনে যেতে ইচ্ছে করছিল প্রবলভাবে।কিন্তু কী বলবে?
কোন ভাষায় একজন মানুষের এতটা শূন্যতা ছুঁয়ে যাওয়া যায় সেটা ভেবে না পেয়ে সে আবার চুপচাপ বসে রইল।
ড্রয়িংরুমে তখনও খাবার টেবিল সাজানো।
কিন্তু কেউ আর খেতে পারছিল না।কারণ আজ এই বাড়িতে শুধু ফুলদানি নয় ভেঙে গেছে সম্পর্ক,
ভেঙে গেছে দায়িত্ববোধ,আর সবচেয়ে বেশি ভেঙে গেছে একটা মেয়ের বিশ্বাস।
ড্রয়িংরুমে খাবারের গন্ধ তখনও ভাসছিল, কিন্তু সেই উষ্ণতার ভেতর দিয়ে ছড়িয়ে পড়ছিল সম্পর্কের পচা গন্ধ যেখানে রক্তের বন্ধনকেও টাকার অঙ্কে মাপা হয়।
১৫৩৯+শব্দ
চলবে...!!
Share On:
TAGS: তাসনিম তালুকদার বুশরা, মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৩৬
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৭
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২৫
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৬
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২৬
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৩৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১১
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২২
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১০