মাইটক্সিকহাসব্যান্ড
পর্ব৩৯অংশ_১
কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা
হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫
আবরারের অতীতের ভারী কথাগুলো শেষ হতে না হতেই কুহেলি হঠাৎ ফুঁপিয়ে উঠলো।প্রথমে শুধু চোখের পানি,তারপর শব্দহীন কান্না আর শেষমেশ হেঁচকি যেন বুকের ভেতর জমে থাকা সব যন্ত্রণা একসাথে বেরিয়ে আসছে।ওর কাঁপতে থাকা কাঁধ দেখতে দেখতে আবরার থেমে গেল।ক্ষতবিক্ষত অতীতের কথা বললেও এতক্ষণ তার চোখে জল ছিল না কিন্তু কুহেলির চোখ বেয়ে পড়ে যাওয়া দুই ফোঁটা অশ্রু আবরারের কঠিন মুখের কোণে আশ্চর্যভাবে একটুকরো হাসি এনে দিল।
একটা গভীর, নরম, অদ্ভুত হাসি যেন কুহেলির কান্নাই তাকে বুঝিয়ে দিলো সে একা না ওর ব্যথা অন্য কেউ অনুভব করছে।
কুহেলি আবার হেঁচকি তুলে ফেললো।ওর মুখটা লাল হয়ে গেছে কান্নায়,আওয়াজটা ভাঙা আর সেই দৃশ্য দেখে আবরার হঠাৎ এক টানে কুহেলি কে নিজের কোলে তুলে নিলো।এক মুহূর্তেই কুহেলি হালকা হয়ে উড়ে এলোআবরারের শক্ত বাহুর ভেতর।সে কুহেলিকে উঁচু করে নিজের কোলে বসিয়ে নিলো এমনভাবে,যেন এতক্ষণ ধরে ঠিক এই জায়গাটাই খালি ছিল তার।
কুহেলি আর সামলাতে পারলো না নিজেকে ওর দুই হাত যেন নিজের ইচ্ছাতেই উঠে গিয়ে
আবরারের গলায় জড়িয়ে গেল।তার কাঁধে মুখ গুঁজে কুহেলি হেঁচকি তুলতে তুলতে বললো,
আপনি এতো কষ্টে ছিলেন..!তাহলে আমাকে বলেন নি কেনো?আপনি কি আমাকে একটুও ভরসা করেন নি?
আবরার দম আটকে শুনছিলো।ওর চোখের কোণে কুহেলির অশ্রু এখনো ঝুলে আছে যেন প্রতিটা ফোঁটা তার বুকের ওপর সরাসরি খসে পড়ছে।
কুহেলি আবরারের গলা আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।তার সারা শরীরটা কেঁপে উঠছে কান্নায়।
আমাকে বললে তো..আমি কখনোই আপনার সাথে এভাবে ব্যবহার করতাম না।আপনি এত ছোটবেলায় এত কষ্টে ছিলেন আমি জানতামই না!
আবরারের বুকের ভেতর যেন কিছু গলে যেতে লাগলো।এ মেয়ে এত সহজে তাকে ব্যথাহীন করতে পারে এটাই যেন তার জন্য বিস্ময়।
কুহেলি মাথা তুলে আবরারের দিকে তাকালো।
তার চোখে ভয় নয়, ঘৃণা নয় অপরিমেয় মায়া, দুঃখ আর একটু অপরাধবোধ মিশে থাকা স্নিগ্ধতা।
আমি আর কখনোই আপনার সাথে খারাপ ব্যবহার করবো না।আমি আপনাকে অনেক আদর করবো খুব যত্ন করবো।যেন আপনি আপনার অতীতটা ভুলে যেতে পারেন যেন আর কখনো একা মনে না হয়!
কথাগুলো বলেই কুহেলি আবার আবরারের বুকে মুখ গুঁজে দিলো।আবরারের হাত ধীরেসুস্থে তার পিঠে রাখা কঠিন মানুষটির বুকের ভেতর আজ অদ্ভুত শান্তির ঢেউ ওঠা-নামা করছে।
আবরার কোনো কথা বললো না।শুধু কুহেলির চুলে হাত বুলাতে বুলাতে ধীরে, নিঃশব্দে, নিঃশ্বাসের মতো ফিসফিস করে বললো,
পাখি আমার জীবনে এতদিন কেউ ছিলো না
যাকে আমি বলতে পারতাম।কিন্তু এখন তুমি আছো।তোমাকে আমার সব বলতে পারবো!
এরপর আবরার স্থির হয়ে বসে আছে।চারদিকে নিস্তব্ধতা,শুধু কুহেলির হেঁচকি তোলা কান্নার শব্দ ভেসে আসছে।যেখানে কান্না করার কথা আবরারের সেখানে কুহেলিই যেন ওর সব ব্যথা নিজের ভেতর টেনে নিচ্ছে।
আবরার বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে কুহেলির দিকে।
মেয়েটা সত্যিই কি এতোটা ব্যথা অনুভব করছে তার জন্য?কান্নায় ভেজা মুখে কুহেলির দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে,কিন্তু তার কান্নাটাই যেন আবার আবরারের ভিতরের শক্তি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
অদ্ভুত ব্যাপার নিজের অতীতের কালো দাগগুলো মনে করে ও ব্যথা পেলো ঠিকই,কিন্তু এখন এই মেয়ে যে ভাবে কান্না করছে,তা দেখে তার নিজের চোখের পানি যেন শুকিয়ে গেলো।
আবরার একটু চিন্তায় পড়ল এই পাগলিটারের কান্না থামাবে কীভাবে?ও কোনোদিন এ ধরনের নরম মুহূর্ত সামলাতে শেখেনি কঠোরতা,প্রতিশোধ মারপিঠ খুন এসবই তার জগত।মায়া? আদর? আবেগ?এগুলো যেন তার অভিধানে ছিলোই না।
কুহেলির হেঁচকি আরও জোরে শোনা যাচ্ছে।
ওর মাথা আবরারের বুকে লেগে আছে,দুখে ভেজা সেই নিশ্বাস আবরারের বুকের ভাঁজে কাঁপছে।
হঠাৎ আবরারের চোখে দুষ্টুমিভরা এক ঝিলিক দেখা দিলো।
তারপর আবরার ঝুঁকে এল খুব ধীরে তার গলা নামলো গভীর, নরম, রুক্ষ এক স্বরে যে স্বর কুহেলির বুকের ধকধক বন্ধ করে দিতে পারে।
কুহেলির কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বললো,
মাই ফা*কিং হোয়াইট রোজ তুমি সত্যিই আমাকে অনেক আদর করবে?
কুহেলি এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল।এই কথা সে একেবারেই আশা করেনি বিশেষ করে এমন মুহূর্তে,যখন তার চোখ এখনো কান্নায় ভেজা
আর গলা হেঁচকিতে কাঁপছে।
ওর কান্না থেমে গেল ঠিক ওখানেই।ধীরে ধীরে মাথা তুলে আবরারের দিকে তাকালো চোখ দুটো বড় হয়ে গেছে বিস্ময়ে।
তারপরই রাগে কুঁচকে গেলো ভ্রু,আর ফোলা নাকটা আরও গোল হয়ে উঠলো।
অসভ্য লোক! ইমোশনাল সময় কেউ এসব কথা বলে নাকি?কুহেলি ফুঁসতে ফুঁসতে বললো।
ওর নাকে রাগে হালকা পাটা ফুলে উঠেছে এই দৃশ্যটা এমনই মায়াবী,যে আবরারের ঠোঁটের কোণে অগোচরে একটা নরম হাসি ফুটে উঠলো।
তারপর আবরার ওর লাল টকটকে মনিওয়ালা চোখ দিয়ে কুহেলির মায়াবী চেহারার দিকে তাকালো কুহেলিও তাকালো দুই জনি কত ক্ষণ তাকিয়ে থাকলো তা জানা নেই!তারপর আবরার কুহেলির কপালে পড়ে থাকা এলোমেলো সাদা চুল গুলো ঠিক করে দিতে দিতে বললো,
প্রিয়র চেও প্রিয় হোয়াইট রোজ আমার অন্ধকার জীবনে তোমার আগমন ছিল পূর্ণিমার চাঁদের আলোর মতো, যখন দেখি তোমার মায়া ভরা মুখটা আমার নিঃশাস থেমে যাই নিজেকে আবারো নতুন করে জীবন দিতে ইচ্ছে হয়ে ছিল, তোমার ওই দুটো চোঁখ আমার জীবনে শেষ চোঁখ হতে চাই তুমি আমার না চাইতেও তোমাকে আমি খুব করে চেয়ে ফেলেছি, খুব ভালোবাসি তোমায় my faking hoiet roj 🌹 “(একজন পাঠিকা কবিতা টা দিয়েছিলো গল্পে ব্যবহারের জন্য তাই দিলাম!)”
কুহেলি অবাক হলো আবরারের এরকম কবিতা শুনে!কুহেলি কে অবাক হতে দেখে আবরার কুহেলির কপালে গাঢ় চুম্বন করে তারপর ফিসফিস করে বললো,
তুমি ছাড়া আমি নিঃস্ব মাই লিটল বার্ড!তোমাকে আমার লাগবে অমৃত লাগবে!তুমি আমার জীবনের একমাত্র পবিত্র অস্তিত্ব!যাকে হারালে আমি আর নিজেকে সামলাতে পারবো না!শেষ হয়ে যাবো!
কথা দাও তুমি আমাকে ছেড়ে যাবে না!
কুহেলি মুচকি হেসে কাঁপা কন্ঠে বললো,
যখন প্রথম আমার আপনার সাথে বিয়ে হলো তখন আমার উদ্দেশ্য ছিলো আপনাকে মেরে ফেলা!কারণ আমি জানতাম আপনি আমার বাবা কে মেরেছেন!পরে জানতে পারলাম না আপনি মারেন নি!বরং আমার সব থেকে কাছের মানুষ এই কাজ করেছে!তারপর রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে তাকে মেরে ফেললাম নিজের হাতে!তাকে মারা পরে ভেবেছিলাম আর কখনোই জীবনে নতুন কোনো বসন্ত আসবে না আর জীবনে ভালোবাসা আসবে না!কিন্তু না আমার ভাবনা ভুল ছিলো!আমি আপনাকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছিল মিস্টার ক্রিমিনাল হাসব্যান্ড আপনাকে ছাড়া আমি আর থাকতে পারবো না! আপনি যেমনি হন!আমার আপনাকেই লাগবে!আপনার এই বুকে আবরারের বুকে তর্জনী আঙ্গুল ঠেকিয়ে বললো কুহেলি!এখানে যে শান্তি টা আমি পাই তা আর দুনিয়ার কোথাও পাই না!তাই আপনি যদি আমাকে ভালো না বাসেন তবুও আমি আপনার কাছে থেকে যাবো!শুধু বিনিময়ে আমাকে প্রতি রাতে আপনার এই বুকে ঘুমানোর পার্মিশন দিবেন ব্যাস আর কিচ্ছু চাই না মিস্টার ক্রিমিনাল হাসব্যান্ড!কি দিবেন তো আপনার এই বুকে আমাকে জায়গা!!
কথা গুলো বলে কুহেলি আবরারের মুখের দিকে বাচ্চা বাচ্চা ফেইস করে তাকালো উত্তরের অপেক্ষায়!!
৯৯৫+শব্দ
চলবে....!
#মাই_টক্সিক_হাসব্যান্ড
#পর্ব_৩৯_অংশ_২
#কলমে_তাসনিম_তালুকদার_বুশরা
হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫
কুহেলি বাচ্চাদের মতো ফেইস করে তাকিয়ে আছে ভ্রু দুটো সামান্য কুঁচকে,চোখে এখনো কান্নার ছাপ,
নাকটা লাল টকটকে হয়ে আছে তাতে যেনো আরো বেশি মায়াবী লাগছে কুহেলি কে!এই চেহারাটা দেখেই আবরারের ভেতরটা কেমন করে উঠলো।হৃদস্পন্দন কেঁপে উঠলো!আর সাথে কুহেলি কে অস্বাভাবিক রকম ভালো।
আবরার মনে মনে ভাবলো,একজন মানুষ এতটা সুন্দর কীভাবে হতে পারে?যে কিনা ওর মতো পাথরের মনও গলিয়ে দিতে পারে।
আবরার ধীরে কুহেলির কপালের সাথে নিজের কপাল ঠেকালো।কণ্ঠটা তখন আর কঠিন নেই বরং নরম, গভীর, কন্ঠে বললো,
তুমি আমার হৃদয়ের মহারানী,তোমার জায়গাটা সবসময় আমার মনের ভেতরেই থাকবে এটা জেনে রেখো।তোমাকে ছাড়া আমাকে কল্পনাই করা যায় না।জানো, তুমি কত বড় অপরাধ করেছো?তুমি আমার মতো একজন পাষণ্ড মানুষের হৃদয় পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিয়েছো।যাকে দেখে পুরো কানাডা থেকে শুরু করে বাংলাদেশ পর্যন্ত মানুষ ভয় পায়,
কথা বলার সময় শ্বাস আটকে রাখে সেই মানুষটাকেই তুমি বদলে দিয়েছো।তোমার জন্য বেপরোয়া করে দিয়েছো!!
এক মুহূর্ত থেমে, আবরার আরও নিচু স্বরে বললো,
এই অপরাধের শাস্তি একটাই তোমাকে সারাজীবন আমার কাছেই থাকতে হবে।আমার পাশে আমার জীবনের অংশ হয়ে।
কুহেলি স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো।আবরারের কথাগুলোতে ভয় নেই আছে অধিকার আর গভীর বিশ্বাসের দাবি।
কুহেলি মুচকি হেসে বললো, এরকম সুখের শান্তি আবার হয় নাকি? আমার তো জানা ছিলো না ক্রিমিনাল হাসব্যান্ড!আপনি যদি আমাকে এভাবে সুখের শাস্তি দেন তাহলে আমি বিনা দ্বিধায় মেনে নিবো!!
আবরার এক চিল হাসলো তারপর হঠাৎ করে কুহেলি কে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলো!কুহেলি টাল সামলাতে না পেরে আবরারের গলা শক্ত করে জরিয়ে ধরে বললো, আরে এভাবে হঠাৎ উঠলেন কেনো বলে তো উঠবেন!
আবরার রুমের দিকে যেতে যেতে বলে, বউ কে আদর করতে মন চাইছেন তাই না আর কথা বলার সময় পাই নি!
কুহেলি হঠাৎ লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে হয়ে আবরারের বুকে মুখ গুঁজলো! তা দেখে আবরার বললো, আচ্ছা বউ এতো এতো আদর করার পরেও যদি এতো লজ্জা থাকে তাহলে আমাকে বলে দাও প্লিজ তোমার ফাইনাল লজ্জা কিভাবে ভাঙ্গবো..?!লজ্জা না দিয়েই যদি লজ্জা পাও!তাহলে আমি সারাদিন বেশি বেশি লজ্জা দিবো তোমাকে!কারণ তাতে লজিক থাকবে লজ্জা পাওয়ার!এখন তো লজিক নেই লজ্জা পাওয়ার!!
এতোক্ষণে রুমে পৌঁছে কুহেলি কে বিছানায় শুয়ে দিয়ে নিজেও কুহেলির উপরে শুয়ে গলায় মুখ খুঁজে আবরারের ভার নিঃশ্বাসে কুহেলির ছোট্ট বদন খানা বারংবার কেঁপে উঠতে থাকে তবুও কুহেলি দাঁতে দাঁত চেপে ফিসফিস কন্ঠে বলে,
লজ্জা পাওয়ার জন্য আবার লজিক লাগে নাকি?!
আবরার কুহেলির গলদেশে ছোট্ট ছোট্ট চুম্বন একে দিতে দিতে বললো,হু লাগে মাই ফা*কিং স্কোয়াব!
কুহেলি কিছু বলতে যাবে তার আগেই অনুভব করলো ওর পাতলা অধর খানায় উষ্ণতার স্পর্শ!কুহেলির বুক ছলাৎ করে উঠলো!শরীর শিউরে উঠলো মুহূর্তে!ছোট্ট বদন খানায় কম্পন যেনো দ্বিগুন বাড়লো!তবে কুহেলি আজকে বাঁধা দিলো না বরং নিজের নিজের সব টা দিয়ে আবরারের সাথে তাল মিলালো!সময় বাড়তে থাকে আবরারের যেনো আরো বেপরোয়া হতে থাকে! কুহেলি যেনো এবার হাপিয়ে গেলো নিঃশ্বাস নিতে এখন কষ্ট অনুভব করছে তবুও নিজেকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে!আবরারের শক্ত পোক্ত হাতের আঁকা বাঁকা স্পর্শে মেয়েটা যেনো নেতিয়ে পড়ছে!
অনেক সময় গড়ালো! কুহেলির হাঁসফাঁস করতে দেখে আবরার এবার কুহেলির উষ্ঠদ্বয় ছেড়ে দিলো!পরপর দুইজনি লম্বা করে শ্বাস নিলো!কুহেলির ছোট্ট বদন খানা যেনো থরথর করে কাঁপছে! আবরার তা দেখে কুহেলির ঠোঁটে হাত দিয়ে স্নান করতে করতে বললো,
ইউ নিড টু বি স্ট্রংগার, মাই ফা*কিং হোয়াইট রোজ, ক'জ আই গেট অ্যানয়েড হোয়েন ইউ গ্যাস্প আ লিটল ইন থ্রিল!
আবরারের সরাসরি এরকম কথা শুনে কুহেলি যেনো আরো লজ্জা পেলো!আবরারের বুকে হালকা কিল দিয়ে বলে, অসভ্য মাফিয়া খালি আমাকে লজ্জা দেওয়া বাহান খুঁজেন তাই না!
আবরার মুচকি হেসে বললো,
বিশ্বাস করো জানপাখি তোমার লজ্জা মাখা ঐ মুখ খানা দেখতে এত্তো মায়াবি লাগে যে আমি তোমার প্রেমে পড়তে বাধ্য হয়েছি!
কুহেলি দুষ্টামি করে আর কিছু?
আবরার কুহেলির চোখে চোখ রেখে বলে,
জানো পাখি!এই পৃথিবীর ভিড়ে তোমার মতো করে
আমাকে আর কেউ ছুঁতে পারে না চুপচাপ, নিঃশব্দে, ঠিক হৃদয়ের ভেতরটা।
আবরারের কথা গুলো শুনে কুহেলির হৃদয়ে যেনো আনন্দে ঢেউ বয়ে যাচ্ছে!নিজেকে আজকে পৃথিবীতে সব থেকে ভাগ্যবতী নারী মনে হচ্ছে!
আবরার পুনরায় কুহেলির মাঝ ডুব দিলো রাত যতো গভীর হতে থাকে ওদের প্রণয় তত বাড়তে থাকে আবরার পুরো বেপরোয়া উন্মাদ ভাবে মেতে উঠে কুহেলির মাঝে!মাতাল উন্মাদ বেপরোয়া আবরার কে সামলাতে সীমাহীন বেগ পেতে হচ্ছে কুহেলি কে!হাতের গঢ় পীড়ায় আর চুমুর বর্ষণে অবস্থা কাহিল!কুহেলির অস্ফুস্থ শব্দ মিলিয়ে যায় কোথাও!শুধু কানে আসে আবরারের ভারাক্কি নিঃশ্বাসের আওয়াজ!অতপর সুন্দর আর শান্তিম এক অসাধারণ মধুর রাত্রি!!!🙈
~~
সকালের হালকা রোদ জানালার পর্দা ভেদ করে রুমে ঢুকতেই আবরারের ঘুম ভেঙে গেলো।চোখ পিটপিট করে খোলার সঙ্গে সঙ্গে দেখে কুহেলি ওর বুকের মধ্যে বিড়াল ছানার মতো লেপে আছে সাদা চুল গুলো গলা গাড়ে পড়ে আছে!আর সাথে ওর দেওয়া কালকে রাতের অসংখ্যা আদরের চিহ্ন দেখে আবরারের ঠোঁট নিজে নিজে কামড়ে হাসলো।
মনের ভেতর অদ্ভুত উচ্ছ্বাস।কালকের রাতের অসংখ্য নরম আদরের চিহ্ন নরম থেকে তীব্র ছোঁয়া,হালকা জড়ানো,আর চোখের ছোটখাটো খেলাচ্ছল সব মিলিয়ে তাকে আজও হঠাৎ করে ধক্কা দিলো।
আবরার ধীরে কুহেলির কপালের ওপর একটা গাঢ় চুম্বন এঁকে দিলো।কুহেলি না হালকা নড়লো তবে উঠলো না!আবরার উঠে ওয়াশরুমের দিকে যেতে যেতে ভাবলো মেয়ে টা ঘুমাক কালকে রাতে কম ধকল যায় নি ওর উপরে দিয়ে!
আবরার কিছুক্ষণ পর ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এলো।পরনে শুধু একটা প্যান্ট আর কাঁধে ভেজা টাওয়ার!ভেজা চুলগুলো আলতো করে মুছতে মুছতে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে আবরার আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখলো।সাথে সাথে
ঠোঁট কামড়ে হাসি হাসলো!কালকের রাতের স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে উঠল।
পুরো পিঠে ঘাড়ে কুহেলির নখের ছোট ছোট চিহ্ন ছোট ছোট দাগ,যা কালকের আদরের প্রমাণ হয়ে গেছে,এগুলো দেখেই আবরারের ভেতরে অদ্ভুত এক উত্তেজনা জাগল।
ধীরে ধীরে সে একটা আরামদায়ক টি-শার্ট পড়ে নিলো।কেউ দেখে না, শব্দ নেই কেবল নিজেকে সামলে শিথিল করা মুহূর্ত।
রুম থেকে বাহিরে বের হওয়ার সময় আবরার চুপচাপ করিডর পেরিয়ে সিঁড়ি ধরে নিচে নামতে শুরু করলো।সিঁড়ির ধাপে ধাপে পা নামাচ্ছিলো,
তখনই চোখ পড়লো ড্রয়িং টেবিলে শিশা আর ফাহিম বসে আছে।মেইড খাবার পরিবেশন করছে।
ফাহিম হঠাৎ বলল,
কুহেলি আসুক, আমরা একসাথে খাবো।
আবরারের বুকের ভেতরে অদ্ভুত উত্তেজনা রাগ আর অস্বস্তি, দুটো একসাথে জেগে উঠলো।
কিন্তু সে নিজেকে সামলে নিল।মুহূর্তের মধ্যেই ঠোঁটে দুষ্টু হাসি ফুটল।হেসে হেসে সে ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে দুই পকেটে হাত দিয়ে তারপর একজন মেইড কে উদ্দেশ্য করে বললো,
তোমার ম্যামের উপরে দিয়ে কালকে সারারাত অনেক ঝড় গেছে তাই ওর খাবার উপরে নিয়ে আসো!!!
চলবে...!!
মাইটক্সিকহাসব্যান্ড
পর্ব৩৯শেষাংশ
কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা
হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫
আবরারের কথার ইঙ্গিত বুঝে সবাই মুহূর্তেই চুপ হয়ে গেল।মেইডরা মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল, তারপর নিঃশব্দে খাবার সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।
লিভিং রুমের বাতাসটা হঠাৎ কেমন ভারী হয়ে উঠলো যেন কথার আড়ালেই লুকিয়ে আছে আরেকটা লড়াই।
ফাহিম চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়াল।এক পা এগিয়ে এসে আবরারের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কটমট করে বললো,
আমিও দেখবো এইসব আলতো, ফালতু নাটক করে তুই কুহেলিকে কতদিন নিজের কাছে ধরে রাখতে পারিস।
তার গলায় ছিল চ্যালেঞ্জ, চোখে ছিল জেদ।
আবরার এক মুহূর্তও থমকালো না।বরং ঠান্ডা মাথায় ফাহিমের কাঁধে হাত রেখে, অদ্ভুত শান্ত ভঙ্গিতে বললো,
চিন্তা করিস না।আমি কিছু না করলেও পাখি আমার কাছেই থাকবে।
তারপর ঠোঁটের কোণে হালকা বাঁকা হাসি এনে যোগ করলো,
তার চেয়ে ভালো কর ভালো কোনো মেয়ে দেখে বিয়ে করে নে।অযথা আমাদের মাঝে এসে
কাবাব মে হাড্ডি হয়ে কী লাভ?
ফাহিম চোখ সরাল না।বরং ঠোঁট চেপে ধরে বললো,
দেখা যাক।এখনো উত্রিশ দিন বাকি।
এই কথাটায় যেন অদৃশ্য একটা টাইমার চালু হয়ে গেল।
আবরার আর কোনো কথা বললো না।শুধু সেই চেনা স্নান হাসিটা রেখে ধীরে ধীরে সিঁড়ির দিকে পা বাড়ালো।
পিছনে, তিনজন মেইড একসাথে খাবার তুলে নিয়ে উপরে উঠতে শুরু করলো কিন্তু সিঁড়ির প্রতিটা ধাপে ধাপে মনে হচ্ছিল এক নতুন লড়াই শুরু!
আবরার সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে যেতেই লিভিং রুমের ভেতরের বাতাসটা হঠাৎ বিস্ফোরণের মতো ভারী হয়ে উঠলো।ফাহিম দাঁতে দাঁত চেপে কাচের গ্লাসটা তুলে নিল এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো, এখনই সেটা দেয়ালে ছুড়ে মারবে।
ঠিক সেই সময় শিশা ঝাঁপিয়ে পড়ে তার হাত থেকে গ্লাসটা শক্ত করে ধরে ফেললো।
কাম ডাউন, ফাহিম!
শিশার কণ্ঠটা নিচু, কিন্তু দৃঢ়।
রাগ দিয়ে এখন কিছু করা যাবে না।
ফাহিমের চোখ লাল।সে ঝাঁঝালো গলায় বললো,
কাম ডাউন?!কি করে মাথা ঠান্ডা রাখবো?
ওই আবরার..!ও আমার পাখিকে স্পর্শ করেছে,
আর তারপর এসে আমাকে শুনাচ্ছে!
কথাগুলো বলতে বলতে তার বুক উঠানামা করছে।জেদের সাথে অপমান, ঈর্ষার সাথে অসহায়ত্ব সব একসাথে গলা বেঁধে আছে।
শিশা এক মুহূর্ত চুপ করে রইলো।
তারপর ধীরে ধীরে বললো,
এতে আমারও কষ্ট হচ্ছে, ফাহিম। কথা খানা বলতে বলতে চোখ নামিয়ে নিল শিশা।আমিও আবরারকে ভালোবাসি।তাই বলছি ও যেভাবে ঠান্ডা মাথায় খেলছে,আমাদেরও ঠিক সেভাবেই খেলতে হবে।
ফাহিম হঠাৎ তাকালো শিশার দিকে।
তার চোখে এবার বিস্ময়।
কি বলতে চাও?
কণ্ঠটা চাপা, সন্দেহভরা।
শিশার ঠোঁটে ধীরে ধীরে একটা বাঁকা হাসি ফুটে উঠলো যে হাসিতে মায়া নেই,আছে হিসাব।
শিশা খুব আস্তে কিছু বললো এমন কিছু,যা ঘরের দেয়াল পর্যন্ত শুনতে পেল না।ফাহিম কিছুক্ষণ নিশ্চুপ রইলো।তারপর চোখের ভেতরের আগুনটা ধীরে ধীরে বদলে গেল রাগের জায়গা নিলো পরিকল্পনা।
একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে সে মাথা নাড়লো।
ফাহিম রাজি হয়ে গেল।
লিভিং রুমে ভেতর তখন আর কোনো শব্দ নেই—
শুধু দুটো মানুষের ঠান্ডা মাথার ষড়যন্ত্র নীরবে জন্ম নিচ্ছে।
~~
রুমে এসে মেইড চুপচাপ খাবার রেখে বেরিয়ে গেল।দরজা বন্ধ হতেই রুমটায় আবার নরম নীরবতা নেমে এলো।আবরার ধীরে ধীরে কুহেলির পাশে এসে বসলো।ঘুমন্ত কুহেলিকে দেখে তার মুখে আপনাআপনি একরাশ মায়া জমে উঠলো।
সে খুব সাবধানে কুহেলিকে তুলে নিল একদম ছোট বাচ্চাদের মতো করে নিজের কোলে।
কুহেলি সামান্য নড়েচড়ে উঠলো,ভ্রু কুঁচকে যেন কিছু একটা অনুভব করলো,কিন্তু ঘুম ভাঙলো না।
বরং আরও গা ঘেঁষে এল আবরারের বুকে।
আবরার কুহেলির কপালে পড়ে থাকা সাদা চুলগুলো আলতো করে সরিয়ে দিলো।তার চোখে তখন কঠিন কোনো ছায়া নেই শুধু নির্ভেজাল আদর।
তারপর হালকা হাস্কি কণ্ঠে সে ফিসফিস করে বললো,
মাই ফা*কিং হোয়াইট রোজ ওঠো।তোমাকে খাবার খাইয়ে আমাকে অফিসে যেতে হবে।আজ একটু কাজ আছে।
কুহেলি চোখ পিটপিট করে খুললো,আবার বন্ধ করে ফেললো।ঘুমে জড়ানো মুখটা আবরারের বুকে গুঁজে দিয়েনরম, টেনে টেনে বলা কণ্ঠে বললো,
আর একটু ঘুমাই না, আবরার..!
কুহেলির ঘুমজড়ানো কণ্ঠটা আবরারের ভেতরে অদ্ভুত এক আলোড়ন তুলে দিল।আবরার নিজেই বুঝতে পারছিল না কেন এই মেয়েটার সামান্য একটা কথা,একটা আবদার তার বুকের ভেতর এত গভীরভাবে নড়ে ওঠে।আবরার মনে মনে ভাবলো এর আগেও তো সে অনেক মেয়ে মানুষ দেখেছে অনেক মেয়ের সঙ্গে কথা বলেছে,কিন্তু কখনোই এমন অনুভূতি হয়নি।তাহলে আজ কেন?এই মেয়েটার ক্ষেত্রেই বা কেন সবকিছু এত আলাদা?
এক মুহূর্তের জন্য তার মনে হলো যদি কুহেলি তার জীবনে না আসতো,তাহলে হয়তো সে কখনোই
এই নরম, শান্ত, গভীর অনুভূতির সাথে পরিচিতই হতো না।একটা হালকা নিঃশ্বাস ফেললো আবরার।ভাগ্যিস মেয়েটা তার কাছে এসেছিলো!এই ভাবনাগুলোর মাঝেই আবরার কুহেলির কপালে একটা গাঢ়, যত্নভরা চুম্বন এঁকে দিল।তারপর ধীরে ধীরে কুহেলিকে কোলে তুলে নিল একদম সাবধানে, যেনো কোনো পুতুল কে কোলে নিচ্ছে!
তারপর আবরার হাঁটতে হাঁটতে, নরম কিন্তু দৃঢ় স্বরে বললো,
মাই লিটল বার্ড,আজ তোমার এই আবদারটা রাখতে পারছি না।এর জন্য আমি সত্যিই সরি।
কুহেলি তখনো আধো ঘুমে।চোখ পুরোপুরি খোলা নয়,তবুও আবরারের কথা গুলো শুনছে!
আবরার কথা চালিয়ে গেল,
আজ তোমার হাসব্যান্ডের অফিসে অনেক কাজ আছে।তাই তোমাকে তাড়তাড়ি খাইয়ে যেতে হবে!
এই কথাটা বলতে বলতে সে কুহেলিকে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকলো।বেসিনের সামনে খুব যত্ন করে তাকে দাঁড় করিয়ে দিল যেন কোনো দায়িত্বের ভার নয়,বরং ভালোবাসার যত্নটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।
কুহেলি আয়নায় নিজের ঝিমুনি মুখটা দেখে
আবার চোখ বন্ধ করলো।
কুহেলির এই আধো-ঘুমে, এলোমেলো অবস্থাটা দেখে আবরারের ঠোঁটের কোণে আপনাআপনি একটা মুচকি হাসি ফুটে উঠলো।এই মেয়েটা ঘুমন্ত অবস্থাতেও কী অসম্ভব আপন লাগে!
আবরার ব্রাশে পেস্ট লাগিয়ে খুব যত্ন করে কুহেলির দাঁত-মুখ পরিষ্কার করে দিল।কুহেলি তখনো ঠিকঠাক জেগে ওঠেনি,চুপচাপ ওর ওপর ভরসা করে দাঁড়িয়ে আছে একদম শিশুর মতো।
সব শেষ হলে আবার কোলে তুলে আবরার কুহেলি কে নিয়ে এল রুমে।ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসিয়ে
প্রথমে নরম কাপড়ে কুহেলির মুখটা মুছিয়ে দিল।
তারপর আঙুল দিয়ে আলতো করে সাদা চুলগুলো গুছিয়ে নিতে লাগলো যেন কোনো অমূল্য জিনিস সাজাচ্ছে।
কিন্তু বিপত্তিটা বাঁধলো ঠিক তখনই,
যখন চুল বাঁধার পালা এলো।
আবরার একবার চেষ্টা করলো,তারপর আরেকবার।কখনো বেনি করতে গিয়ে জট পাকিয়ে ফেলছে,কখনো খোঁপা বানাতে গিয়ে চুল এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।কয়েকবার চেষ্টা করেও
কিছুতেই ঠিকঠাক হলো না।
হিমশিম খেতে থাকা আবরারকে
আয়নায় দেখে কুহেলি হেসে উঠলো।
হালকা বিরক্তি আর মজা মেশানো গলায় বললো,
হয়েছে, আপনি পারবেন না। দিন, আমি করছি।
আবরার অবাক হয়ে চুল ছেড়ে দিল।
কুহেলি নিজের হাতেই খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে
কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটা পরিপাটি খোঁপা করে ফেললো।
আবরার তাকিয়ে রইলো,
একেবারে হতভম্ব।
তারপর একটু ধীর স্বরে বলে উঠলো,
এটা যদি এতই ইজি হয়,তাহলে আমি পারলাম না কেন?
কুহেলি মুচকি হেসে খুব স্বাভাবিকভাবেই বললো,
এটা আপনার কাজ না,তাই পারেন নি। এতে মন খারাপ করার কিছু হয়নি।
কথাটা শুনে আবরার আর কিছু বললো না।
শুধু মাথা নেড়ে কুহেলিকে আবার কোলে তুলে নিয়ে বিছানার ধারে বসালো।খাবারের প্লেট টা টেনে নিয়ে নিজের হাতে করে কুহেলিকে খাওয়াতে লাগলো।মাঝে মাঝে নিজেও দু’এক লোকমা খাচ্ছে সবকিছুতেই এক অদ্ভুত সংসারী ছোঁয়া।
খাওয়া শেষ হলে মেডিসিন বের করে নিজের চোখের সামনেই কুহেলির মুখে তুলে দিল।কুহেলি আর কোনো কথা না বলে চুপচাপ মেডিসিন খেয়ে নিল।
তারপর হঠাৎ করেই আবরার কুহেলিকে শক্ত করে বুকে টেনে নিল।এমনভাবে জড়িয়ে ধরলো
যেন ছেড়ে দিলে কুহেলি হারিয়ে যাবে।
নরম অথচ ভারী কণ্ঠে একটা শব্দ বেরিয়ে এলো
“বউ…”
এই একটামাত্র ডাক কুহেলির ভেতরটা কেঁপে উঠলো।হৃদয়ের গভীর কোনো জায়গায়
আচমকা আলো জ্বলে উঠলো যেন।
কুহেলি খুব ছোট করে বললো,
“হু…”
আবরার একটু থেমে তারপর এমন কণ্ঠে বললো
যেখানে শক্ত মানুষের সব শক্তি ভেঙে পড়ে,
“তুমি তো আমাকে ভালোবাসো, তাই না?”
কুহেলি আবারো বললো,
“হু…”
আবরার বুকের ভেতর জমে থাকা ভয়টা
অবশেষে মুখে আনলো তাহলে বলো তুমি আমাকে ছেড়ে যাবে না।কখনোই না।
এই কথাটার মানে কুহেলি এবার পুরোপুরি বুঝে গেল।এটা প্রশ্ন না এটা ভয়।
একটা ভাঙা অতীত থেকে জন্ম নেওয়া ভয়।
কুহেলি আর এক মুহূর্তও দেরি করলো না।সে আবরারকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।
নিজের মাথা ওর বুকের মধ্যে চেপে ধরে স্পষ্ট, দৃঢ় অথচ নরম কণ্ঠে বললো,
আমি কখনোই আপনাকে ছেড়ে যাবো না,মিস্টার মাফিয়া।আপনাকে যখন ভালোবাসি,তখন ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।আমি থাকবো সব সময় থাকবো। আপনি অযথা দুশ্চিন্তা করবেন না।
কথাগুলো বলার সময় কুহেলির কণ্ঠে ছিল দৃঢ়তা, যেন সে নিজেকেও আবার নতুন করে আশ্বস্ত করছে।আবরারের বুকের ভেতর অদ্ভুত এক শান্তি নেমে এলো।এই মানুষটা যাকে সবাই ভয় পায়, যার নামেই কেঁপে ওঠে শহর এই মুহূর্তে শুধু একজন স্বামী,যে নিঃশ্বাসের ভেতর ভরসা খুঁজে পেয়েছে।
হঠাৎ কুহেলির চোখে দুষ্টুমির ঝিলিক খেলল। সে হালকা হাসি চেপে রেখে বলল,
আর তা ছাড়া….!
আবরার ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
তা ছাড়া কী?
কুহেলি দুষ্টামির কন্ঠে বললো,
আমার তো অনেক দিনের একটা স্বপ্ন আছে আমি আমার জামাইকে শাড়ি পরাবো,সুন্দর করে মেকআপ করবো,চুল বেঁধে দেবো তারপর ছবি তুলবো!
আবরার সঙ্গে সঙ্গে কুহেলিকে ছেড়ে দিয়ে বিস্ময়ে বলে উঠল,
হোয়াট?!
তার সেই মুখভঙ্গি দেখে কুহেলি খিলখিল করে হাসতে লাগলো একেবারে বাচ্চাদের মতো হাসতে হাসতে বলল,
হ্যাঁ! আপনি যত বড় মাফিয়াই হন না কেন বউ যা বলবে, সেটাই তো করতে হবে!
আবরার কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। তারপর হালকা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাথা নাড়ল।ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল।এই মেয়েটাই পারে তাকে এভাবে হার মানাতে ভয় দিয়ে নয়, ভালোবাসা দিয়ে।
আবরার পুনরায় কুহেলির কোমর জরিয়ে ধরে নিজের সাথে!তারপর কুহেলির নাকের সাথে নিজের নাক ঘষতে ঘষতে বললো, অনেক দুষ্ট হয়ে গেছো পাখি!তারপর ঠোঁটের হালকা করে ঠোঁট ছোঁয়ে দিয়ে বললো, আচ্ছা এখন রেস্ট নাও পরে কথা হবে আমার অনেক কাজ আছে অফিসে বলেই কুহেলি কে ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো!
কুহেলি বললো, আচ্ছা মিস্টার ক্রিমিনাল হাসব্যান্ড সাবধানে যাবেন আর তাড়াতাড়ি ফিরে আসবেন আমি আপনার জন্য অপেক্ষা করবো!
অপেক্ষা করবো কথা খানা যেনো আবরারের বুকে লাগলো!আর সাবধানে যেতে বলছে কেউ তার মানে ওর একজন নিজস্ব মানুষ আছে যে ওর জন্য চিন্তা করে এসব ভাবতেই আবরারের বুকে খুশির স্রোত বয়ে গেলো!ঠোঁটে মুচকি হাসি টেনে বললো, আচ্ছা “বউ” তুমি সাবধানে থেকো! তারপর রুম থেকে বেরিয়ে গেলো!!
চলবে...!!
Share On:
TAGS: তাসনিম তালুকদার বুশরা, মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৫১(সমাপ্ত)
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২৭
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৬
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪১
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২১
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৫
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪৮(প্রথমাংশ + শেষাংশ)
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২৬