মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
পর্ব_৩১
কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা
হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫
অফিসের করিডোর জুড়ে হঠাৎ অদ্ভুত এক শব্দ ছড়িয়ে পড়ল দৌঁড়ানোর শব্দ।
যে মানুষটা সবসময় পাথরের মতো স্থির, যার চলা-ফেরা রাজাদের মতো ধীর ও সুশৃঙ্খল
সে আবরার আজ যেন উন্মাদের মতো ছুটছে।
কেবিনের ভেতর থেকে বেরুতেই কর্মচারীরা হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।প্রতিদিনের সেই গম্ভীর মুখ, ঠান্ডা চোখ, হিসেব করে পা ফেলা মানুষটা আজ মুখের রঙ লাল, চোখে আতঙ্ক, নিঃশ্বাস ছুটছে।
কেউ কিছু জিজ্ঞেস করার সাহস পেল না।
আবরার ইতিমধ্যেই লিফট দিয়ে নিচে নেমে পড়েছে।একটাই নাম ওর মাথায় ঝড় তুলে দৌঁড়াচ্ছে—তার পাখি।বাড়ি যায়নি। কোথায় সে?
বাইরে বেরোতেই গেটের সামনে দাঁড়ানো গার্ড আর ড্রাইভাররা হতভম্ব।আবরার নিজের গাড়ির দরজা খুলে হুড়মুড় করে ঢুকে একটানে ইঞ্জিন স্টার্ট দিলো।
স্টিয়ারিং ধরতেই ওর চোখে শুধু ভয়, যে ভয় আবরারকে কেউ কখনো দেখেনি।
পেছন থেকে ফেটিক্স আর শায়লা দৌঁড়ে বেরিয়ে এলো।দেখলো আবরার ইতি মধ্যে বেরিয়ে গেছে গাড়ি নিয়ে আর এদিকে গার্ড আর ড্রাইভার হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
ফেটিক্স আর সময় নষ্ট করলো না।শায়লাকে নিয়ে দ্রুত গাড়িতে ওঠে ড্রাইভারকে চিৎকার করে নির্দেশ দিলো,
গাড়ি স্টার্ট! আবরার স্যারের গাড়ি ফলো কর।
আর পাঁচটা গাড়ি বের করো আর কিছু বডিগার্ড আসো!
হেড ড্রাইভার হাত কাঁপা কাঁপা অবস্থায় ওয়্যারলেসে বার্তা দিলো।কিছু সেকেন্ডের মধ্যেই পাঁচটি সিকিউরিটি গাড়ি সারিবদ্ধভাবে বেরিয়ে এলো।
শায়লার চোখে আতঙ্ক জমতে লাগলো।
ও বুঝতে পারছে—কুহেলির সাথে কিছু ঘটেছে।
সামনের দিকে আবরারের গাড়ি তীব্র গতিতে রাস্তা চিরে এগিয়ে যাচ্ছে।পেছন থেকে ফেটিক্সের গাড়ি এবং আরও পাঁচটি কালো গাড়ি,সবগুলো একসাথে আবরারের গাড়ির পেছনে সাপের মতো বাঁক নিয়ে ছুটছে।
~~
আবরারের গাড়ি এসে থামল কুহেলির ইউনিভার্সিটির সামনে। সঙ্গে সেই ছয়টি অনুসরণকারী গাড়িও থামল,কিন্তু আবরারের দৃষ্টি ওদিকে গেল না। তার চোখে এখন একটাই দৃশ্য অন্ধকারে ডুবে যাওয়া ক্যাম্পাস আর তালাবন্ধ প্রধান ফটক।
সন্ধ্যা সাতটা।চারদিকে নীরবতা,কেবল বাতিস্তম্ভের আলো মাটিতে লম্বা ছায়া ফেলেছে।আবরার গাড়ি থেকে নামতেই যেন নিয়ন্ত্রণহীন এক ঝড় তার ভেতর থেকে ছুটে বেরোল।দৌড়ে গিয়ে দাঁড়াল তালার সামনে। বুকের ভিতর ধুকপুকানি এত জোরে যে মনে হচ্ছিল অন্ধকারে তার শব্দ ছড়িয়ে পড়ছে।
পাখি…!এক নিঃশ্বাসে নামটা ফিসফিস করে উচ্চারণ করল আবরার।
তারপর হঠাৎই ঘুষি মারল তালায়। একবার… দুইবার….তিনবার…!
ধাতব শব্দে চারপাশ কেঁপে উঠল। তৃতীয় ঘুষির সঙ্গে সঙ্গেই তার হাতের গিট খুলে গিয়ে রক্ত বের হয়ে এলো।ব্যথা লাগছে কি না নিজেই বুঝতে পারছে না সে।
এই সময় ফেটিক্স দৌড়ে এসে তার হাত ধরে ফেলল।
স্যার, আপনি কি করছেন? ম্যাডাম এখানে থাকবেন কীভাবে? তালা লাগানো মানে ও ভিতরে নেই।
আবরার চোখ রক্তবর্ণ করে গর্জে উঠলে বললো,
আমি জানি আমার পাখি ভিতরেই আছে! ফেটিক্স, আমি তালা ভাঙবো!আমাকে আটকাবি না!
ফেটিক্স মুহূর্তের জন্য শিউরে উঠল।আবরারের কণ্ঠে ভয়ংকর এক আতঙ্ক মিশে আছে এমনভাবে সে আগে কখনো কাউকে ডাকেনি।
স্যার, আপনার হাত রক্ত পড়ছে। আপনি একটু শান্ত হন। আমি ভেঙে দিচ্ছি।বলেই সে আবরার কে সামান্য সরিয়ে দাঁড় করাল।
তারপর এক গার্ডকে চোখের ইশারা দিল—
-“তালা ভাঙো। এখনই।”
গার্ড এগিয়ে গেল,আর আবরার স্থির দাঁড়িয়ে তালার দিকে তাকিয়ে রইল। বুকের ভেতর তার আতঙ্ক, রাগ আর ভালোবাসা মিলে এক অদ্ভুত কম্পন সৃষ্টি করেছে। তার পাখি কোথায় কেনো ফোন ধরছে না কেনো বাড়ি ফেরেনি—এসব হাজারটা প্রশ্ন তার মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগল।
আকাশের কালচে অন্ধকারে শুধু একটা জিনিসই স্পষ্ট—আবরার তার পাখিকে খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত থামবে না।
ইউনিভার্সিটির তালা ভাঙার সাথে সাথে আবরার যেন আর থামতেই পারে না।ভেতরে ঢুকেই সে ছুটে গেল সরাসরি কুহেলির ক্লাসরুমের দিকে। অন্ধকারে ডুবে থাকা ক্লাসরুমটা ফাঁকা নীরব, ঠাণ্ডা, আর ভৌতিক নিস্তব্ধ।
পেছনে ফেটিক্স আর কয়েকজন গার্ড টর্চলাইট জ্বালিয়ে দ্রুত ক্লাসরুমে ঢুকলো। আলো এদিক-ওদিক ছড়ালো,কিন্তু কুহেলির ছায়াও নেই।
আবরারের গলা শুকিয়ে এল। বুকের ভেতরটা যেন ধপধপ করে জ্বলছে।
পাখি কোথায় তুমি..?!
তার কণ্ঠস্বর ফেটে গেল, কিন্তু কোনো প্রতিধ্বনিও ফিরলো না।
ফেটিক্স দেরি না করে বললো,
স্যার, ইউনিভার্সিটির প্রতিটা রুম চেক করি।
তারা তিন ভাগে ভাগ হয়ে উন্মাদের মতো পুরো বিল্ডিং খুঁজতে লাগলো,লাইব্রেরি,করিডোর, ল্যাব, ক্যানটিন, ছাদ—একটির পর একটি দরজা খুলছে, আবার বন্ধ হচ্ছে কিন্তু কুহেলি নেই। কোথাও নেই।
প্রতিটা ব্যর্থ প্রচেষ্টায় আবরারের মুখের রঙ আরও ফ্যাকাশে হতে লাগলো।তার চোখের মধ্যে আতঙ্ক, রাগ আর অসহায়তা এমনভাবে মিশে যাচ্ছে,যেন যে কোনো মুহূর্তে বিস্ফোরণ ঘটবে।
শেষে সে আর থাকতে না পেরে দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে গেল।রাত ঘনিয়ে এসেছে,বাতি জ্বলছে রাস্তায় রাস্তায়,কিন্তু আবরারের চোখে এখন শুধু অন্ধকার।
সে গাড়িতে উঠে স্টিয়ারিং চেপে ধরলো এমন শক্তিতে, যেন সেটাই তার শেষ ভরসা।গাড়িটা গর্জে উঠলো,আর পরের মুহূর্তেই অন্ধ গতিতে ছুটে গেলো সামনে।
ফেটিক্স দ্রুত নির্দেশ দিল,
সব গাড়ি প্রস্তুত! স্যারের গাড়ি ফলো করো!
হুড়োহুড়ি করে বডিগার্ডরা পাঁচটা গাড়ি নিয়ে ছুটে গেল আবরারের পেছনে।ফেটিক্স আর শায়লাও উঠে পড়লো আরেকটা গাড়িতে।
শায়লা জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আবরারের পাগলের মতো ছুটে যাওয়া গাড়িটা দেখছিলো।তার মনে একটাই কথা ঘুরপাক খাচ্ছে,
একজন মাফিয়ার ভালোবাসা এতটা তীব্র হতে পারে..!?এতটা উন্মাদ,এতটা নিখাদ..?!
আবরারের মুখে কখনো দেখা যায় না এমন ভয়, এমন অসহায়তা।তার ভালোবাসা যেন আজ তীব্র আগুন হয়ে তাকে পুড়িয়ে দিচ্ছে—
কারণ কুহেলি নেই।এবং আবরার জানে—কুহেলি না থাকলে তার পুরো পৃথিবী ফাঁকা।
~~
আবরার প্রায় এক ঘণ্টা ধরে শহরের প্রতিটি রাস্তা, গলি,মোড় উল্টেপাল্টে খুঁজে বেড়াচ্ছিলো কুহেলিকে।তার চোখে ক্লান্তির দাগ, শ্বাস ভারী কিন্তু থামার নাম নেই।চারদিকে দৌঁড়াদৌঁড়ি করে গার্ডরাও হাঁপিয়ে উঠেছে,অথচ আবরারের গতি কমেনি এক মুহূর্তও।
শেষমেশ বাসস্ট্যান্ডের কাছে গাড়ি থামিয়ে আবরার দু’হাত ব্রেক ধরে কিছুটা ঝুঁকে শ্বাস নিলো। মাথা ঘুরে আসছিলো,কিন্তু কুহেলির কথাই মনে পড়ে আরেকবার শক্ত হলো তার দৃষ্টি।
ঠিক তখনই একটি বাসের জানালায় যেন স্বপ্নের মতো ভেসে উঠলো একটি পরিচিত মুখ।
কুহেলি।
চোখ বড় হয়ে গেলো আবরারের। মুহূর্তেই ক্লান্তির জায়গা দখল নিলো রাগ আর আহত অনুভূতি। ও আমার পাখি?বাসে?আমাকে না বলে?এভাবে ধোঁকা দিলো আমাকে?
এক সেকেন্ডও দেরি না করে দরজা খুলে দৌঁড় দিলো আবরার। বাসে উঠে যেন ঝড়ের মতো পৌঁছে গেলো কুহেলির সামনে।কেউ বুঝে ওঠার আগেই আবরার তার হাত ধরে দাঁড় করালো।
তুই আমাকে না বলে চলে যাচ্ছিলি বেইমানি!আবরারের কণ্ঠ রুদ্ধ,রাগ আর কষ্ট মিশে।
পরের মুহূর্তেই আবরারের হাত উঠে গেলো,আর কুহেলির গালে নিজের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে চড়ে দিলো।চড়ের আওয়াজে পুরো বাস কেঁপে উঠলো। যাত্রীরা স্তব্ধ।সবাই তাকিয়ে রইলো দু’জনের দিকে।
কুহেলি হতভম্ব। গালে হাত দিয়ে টলমল চোখে আবরারের দিকে তাকিয়ে শুধু বললো
আপনি কে?আমাকে কেন মারছেন? আমি আপনার কী ক্ষতি করেছি?
কুহেলির এই বাক্য যেন আবরারের বুকের ভেতর বজ্রপাত করিয়ে দিল।
ওর কণ্ঠে ভয়,অবিশ্বাস আর সবচেয়ে খারাপ ওর চোখে আবরারকে না-চেনার শূন্যতা।
আবরারের রক্ত গরম হয়ে উঠলো।সে দু’হাত দিয়ে কুহেলির বাহু ধরে ঝাঁকিয়ে বললো,
এভাবে অভিনয় করছিস?আমাকে চিনিস না? আমাকে ভুলে গেছিস?!এই বান্দির বাচ্চা আমাকে কিভাবে ভুলে গেলি..?অভিনয় বাদ দে তর জন্য অনেক শাস্তি অপেক্ষা করছে..!বাড়ি চল তকে আমি দেখাবো আমার আগের রুপ,একটু আর করেছি কিনা তাই তো এভাবে ফালাফালি শুরু করেছিস আর তকে আদর করা যাবে না তুই মাইরের যোগ্য আদরের না..!
তার গম্ভীর গর্জন বাসভর্তি লোকের নিঃশ্বাস আটকে দিল।কিন্তু কুহেলির শরীর হঠাৎই ঢলে পড়লো। মাথা পিছলে আবরারের বুকে ঠেকলো।
আবরার স্থির হয়ে গেল।
এক সেকেন্ড.. দু’সেকেন্ড…
তারপর তার ভিতর থেকে যেন প্রাণ বেরিয়ে গেল—
পাখি?রোজ..?! এই হারামির বাচ্চা চোখ খোল আমাকে মেরে ফেলবি নাকি এভাবে..! সাড়া দে দেখ আমার নিঃশ্বাস নিতে প্রবলেম হচ্ছে খোল না চোখ এই জান খোল না..!
কোনো সাড়া নেই।
আবরারের চোখ বড় হয়ে গেল।
হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়ে উঠলো।হাত কাঁপতে লাগলো।
তারপর আর এক মুহূর্ত দেরি না করে সে কুহেলিকে বুকের কাছে টেনে তুলে কোলে নিলো এমনভাবে যেন পৃথিবীটাকে হারাতে বসেছে।
বাসের যাত্রীরা হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো কেউ ফিসফিস করছে, কেউ ভয়ে সরছে—কিন্তু আবরারের কানে কিছুই পৌঁছাচ্ছে না।
সে শুধু বলতে বলতে দ্রুত নেমে যাচ্ছে,
পাখি,তুই একবার প্লিজ চোখ খোল—প্লিজ!
পিছনে ফেটিক্স আর গার্ডরা ছুটে যাচ্ছে, কিন্তু আবরারের গতি ধরে রাখা কঠিন।সে বাস থেকে নেমেই সরাসরি নিজের গাড়ির দিকে রওনা দিলো, কুহেলিকে শক্ত করে ধরে।
তার চোখে তখন শুধু একটাই ভয়
সে কুহেলিকে হারাতে পারে।
আবরার গাড়ির দিগে এগিয়ে যেতে একজন গার্ড
দরজা খুলে দিলো আবরার কুহেলি কে কোলে নিয়ে গাড়িতে বসলো সাথে সাথে ড্রাইভার গাড়ি স্টার্ট দিলো,গাড়ি ছুটে গেলো রাতের আঁধারে লাইটের ঝলক যেন কুহেলির নিঃশ্বাসের জন্য পথ খুঁজছে।
আবরারের চোখ তখন রাঙা হৃদয় কাঁপছে মনে শুধু একটাই কথা
পাখি,প্লিজ আমাকে ছেড়ে যেও না..!
রাস্তায় ফেটিক্স ডা.আসিফা কে সব কিছু জানিয়ে দিয়েছে। ডা.আসিফা দ্রুত পরিস্থিতি বুঝতে পারলো নিশ্চই আজকে রাতে হাসপাতালের উপরে দিয়ে যেন একটা ঝড় যাবে কারণ আবরারের রাগ আর উৎকণ্ঠা পুরো জায়গা কাঁপাচ্ছে বাধ্য তাই তিনি আর দেরি না করে নিজেই চুপচাপ কেবিন ঠিক করতে লাগলেন,
নিজের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নিলেন,কারণ তিনি বুঝতেছে পেরেছেন আবরার এই মুহুর্তে যেমন আছে,তা কোন সাধারণ পরিস্থিতি নয়।হলোও তাই আবরার হসপিটালে ঢুকেই চিৎকার করতে লাগলো।ডা.আসিফা দৌড়ে আসে তারপর কুহেলিকে দ্রুত চেকআপ রুমে নিয়ে যায়।আবরার যেতে চাইলেও,ফেটিক্স অনেক বুঝিয়ে তাকে থামালেন।তারা চুপচাপ এক ঘন্টা অপেক্ষা করলেন,যাতে কুহেলি সম্পূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।
এক ঘণ্টা পর ডা.আসিফা চেকআপের কেবিন থেকে বেরিয়ে এলেন।আবরার দৌড়ে তার দিকে গিয়ে রাগ আর উদ্বেগের মিশ্রণ কণ্ঠে কিছু বলার চেষ্টা করল, কিন্তু ডা.আসিফা আগে থেকে বললেন,আপনি চিন্তা করবেন না,স্যার। আমরা সবরকম চেকআপ করেছি।ম্যাডাম কে এখনই কেবিনে নেওয়া হবে। আজকের রাতটা হাসপাতালে থাকুন,রিপোর্ট আসবে দুই দিনের মধ্যে।
ডা.আসিফা চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কুহেলিকে কেবিনে নেওয়া হলো।আবরার পিছনে পিছনে গিয়েছিলেন, কণ্ঠে এখনও উৎকণ্ঠা,চোখে উদ্বেগ, কিন্তু এ বার কেবল কুহেলির নিরাপত্তা ও সুস্থতার জন্য।পুরো ঘটনা যেনো এক নিঃশ্বাসের মধ্যে শেষ হলেও, আবরারের মন শান্তি পায়নি কেবল কুহেলিকে নিজের চোখের সামনে দেখার তাগিদই তাকে সামাল দিচ্ছিল।
কুহেলিকে রেখে সবাই চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবরার ধীর পায়ে কুহেলির শিউরে এগিয়ে বসলো।তার হাত নরমভাবে কুহেলির হাতের ওপর পড়লো,যেনো এমনভাবে ধরছে যেন সে যেনো নিজের পৃথিবীর সবকিছুই ছেড়ে কেবল কুহেলিকে ধরতে চায়। কুহেলি এখনও অজ্ঞান তার কোমল গালে আবরারের দেওয়া চড়ের পাঁচ আঙ্গুলের দাগ পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে।
আবরারের কণ্ঠে তীব্র কষ্ট আর মমতা মিশ্রিত হয়ে বললো,পাখি তুমি কি আমাকে সত্যি চিনতে পারছো না?
হঠাৎ কুহেলি চোখ ফেলে পিটপিট করতে করতে তাকালো,কপাল কুঁচকে কেবিনের চারপাশ দেখে বিস্মিত হয়ে বললো,আমি এখানে কেনো,মাফিয়া সাহেব?আর আপনি এভাবে এলোমেলো কেনো?
আবরার হতভম্ব হয়ে রইল আজকের দিনের ঘটনা, তার পাগলামি, কুহেলিকে খুঁজে পাওয়া, সব কিছুর স্মৃতি কুহেলির মনে নেই! কুহেলি যেনো যেনো অচেনা জগতে এসেছে,আর আবরারের চোখে উদ্বেগ আর কষ্টের মিশ্রণ ফুটে উঠলো।
আবরার অবাক কন্ঠে বললো, তোমার কিচ্ছু মনে নেই পাখি..?!
কুহেলি কপাল কুঁচকে বললো, আজব তো আমার কি মনে থাকবে.? আমি তো ইউনিভার্সিটি গেছিলাম তারপর গেটের সামনে গেলাম তারপর তারপর আর মনে পড়ছে না।
বলেই দুই হাত দিয়ে মাথা চাপ দিয়ে ধরলো।
আবরার সাথে সাথে কুহেলি কে শুয়া থেকে টেনে তুলে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো কুহেলির ছোট দেহ খানা তারপর শান্ত কন্ঠে বললো,
রিলাক্স পাখি কিচ্ছু হয় নি, তারপর ইউনিভার্সিটি থেকে আমি তোমাকে বাড়ি নিয়ে যায়।তারপর তুমি অজ্ঞান হয়ে গেছিলে খাওয়া দাওয়া ঠিক মতো না করার কারণে তাই আমি বার বার বলি খাওয়া দাওয়া ঠিক মতো করতে করো কিন্তু আমার কথা শুনো না তো..!
আবরারের কথা কুহেলি বিশ্বাস করলো কারণ আসলেই ও ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করে না।
চলবে....!
Share On:
TAGS: তাসনিম তালুকদার বুশরা, মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২০
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৮
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৩৪
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৪(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪৬
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৩৮
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১২
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৫