Golpo romantic golpo মাই টক্সিক হাসব্যান্ড

মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২৮


মাই টক্সিক হাসব্যান্ড

পর্ব_২৮

কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা

     হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫

হেলিকপ্টারের প্রপেলারের শব্দ পুরো লাক্কাতুরা চা-বাগান কাঁপিয়ে তুলছিল।

হেলিকপ্টার মাটিতে নামতেই প্রথম দরজা খুলল আবরার।তার সঙ্গে নেমে এলো সারি সারি দেহরক্ষী—একসাথে পাঁচশোর মতো নিরাপত্তাকর্মী বাগানের চারদিক ঘিরে ফেলল।সবাই টানটান সতর্কতায়, আত্মবিশ্বাসে, চোখে আগুন জ্বালিয়ে।

কিন্তু আবরারের মুখে এখন শুধু একটাই ভাব তার পাখি নিরাপদ আছে তো?

ফোনের লোকেশন হাতে নিয়ে সে লম্বা ছায়ার মতো দ্রুত হাঁটতে লাগল সজীব সবুজ পাতার সারি পেরিয়ে, সরু কাঁচা রাস্তা মাড়িয়ে।অবশেষে পৌঁছাল একটি পুরোনো টিনের ঘরের সামনে।
দরজাটা বাহিরে থেকে লাগনো, চারপাশে অস্বাভাবিক নীরবতা।

এক সেকেন্ডও অপেক্ষা করল না আবরার।
দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে গেল।

টিনের ক্যাঁচাৎ শব্দে ঘরের ভেতর কুহেলি চমকে মাথা তোলে।তার চোখে ভয়, অস্থিরতা, অজানা দুঃস্বপ্নের ছাপ—আর দরজায় দাঁড়িয়ে আছে সেই মানুষটি,যার কণ্ঠই তাকে একটু আগে শান্ত করেছিল যাকে সে অসম্ভবভাবে খুঁজছিল।

মুহূর্তটুকু যেন অনেকগুলো সেকেন্ডের মতো লম্বা হয়ে গেল।

তারপর—কুহেলি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না।চেয়ারের পাশ থেকে উঠে, প্রায় দৌড়ে এসে
আবরারের সামনে এসে দাঁড়াল।

এক মুহূর্ত আর তারপর তার মন ভেঙে গেল।

কুহেলি নিজের সব ভয়, সব কাঁপুনি, সব অভিমান ভর করে আবরারের বুকে মাথা লুকিয়ে দিলো।

তারপর কুহেলি আবরারের বুকে মুখ গুঁজে ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললো,তার কাঁধ দুটো কাঁপছে একদিকে ভয়, অন্যদিকে অভিমানের ঝড়।হঠাৎ ও আবরারের গলার কাছে শার্ট মুঠো করে ধরে মাথা তুলে তাকাল।চোখ দুটো লাল, জল জমে আছে, কণ্ঠ রাগে আর কষ্টে কাঁপছে।

আপনি খুব খারাপ হ্যাসব্যান্ড..!
শব্দগুলো তীরের মতো বেরিয়ে এল তার মুখ থেকে।

আবরার স্তব্ধ।কুহেলি থামল না, আরও কাছে ঝুঁকে তিরিক্ষি কণ্ঠে বলল—আপনি না গ্যাংস্টার?
তাহলে এতো দেরি লাগলো আমাকে খুঁজতে কেনো?আপনি জানেন আমি কত ভয় পেয়েছি?
আমার তো দমই বন্ধ হয়ে আসছিলো!

তার কণ্ঠের কাঁপুনি আবরারের বুক ভেদ করে গেল।কুহেলি আবরারের গলার কাছের শার্ট আরো শক্ত করে চেপে ধরল, চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।

আপনি… আপনি আমাকে খুঁজেননি তাই না?
তার দৃষ্টি কেঁপে উঠল।আর খুঁজবেনই বা কেনো আমি কি আপনার কিছু হয় নাকি..?!

অভিমান তার চোখে জমে উঠেছে,আরও এক ফোঁটা চোখের জল গলিয়ে বুকে পড়ে।ঘরের নিস্তব্ধতা যেন কুহেলির অভিযোগে ভারী হয়ে উঠল।

কুহেলির কথা গুলো শুনে আবরার ওকে আরও নিজের সাথে আরো শক্ত করে জরিয়ে ধরলো যেনো ছেড়ে দিলে কেউ ওর থেকে কেড়ে নিবে সেই ভয়ে।আবরারের কণ্ঠ গভীর, ভারী তাতে অসহায়তা আর ভালোবাসা দুই-ই মিশে ছিল।তুমি যে আমার কাছে কী সেটা তুমি নিজেও জানো না, আমার অভিমানী বউ।

কুহেলির সাদা চুলে মুখ ডুবিয়ে ভাঙা গলায় বলতে লাগল,

তোমাকে না পেয়ে সারা দেশ খুঁজেছি কারণ তুমি এখন আমার অভ্যাস, শ্বাস, নেশা— সবকিছু।

কুহেলি থমকে গেল।আবরারের বুকের ভেতর ঢেউয়ের মতো ওঠানামা করছে নিঃশ্বাস।

আমার মনে হচ্ছিলো যেন শরীর থেকে আত্মা হারিয়ে ফেলেছি আমি।আবরার চোখ বন্ধ করে শক্ত করে ধরে রাখল কুহেলি কে।ইস..কী ভয়ানক অনুভূতি ছিল ঐটা!যেন আমি বেঁচে আছি,কিন্তু ভিতরে কিছুই নেই।

কুহেলির চোখ আবার ভিজে উঠে, কিন্তু এবার ভয়ের জন্য নয় তার এই মানুষটার ভয়,যন্ত্রণা, কষ্টের জন্য।

আবরার আলতো করে তার কপালে চুমু খেল।
বউ… আই’ম সরি।গলা কেঁপে উঠল।এরপর থেকে তোমার ব্যাপারে আরও সতর্ক থাকব।এবারই শেষ আমাকে আরেকবার ক্ষমা করে দাও।

আবরার কুহেলিকে এমনভাবে বুকে আগলে রাখল,যেন তাকে ছাড়লেই আর ফিরত পাবে না তাকে এই পৃথিবী থেকেই হারিয়ে যাবে…!

আবরারের কথা গুলো শুনে কুহেলি থমকে গেল।
তার চোখদুটো বিস্ময়ে বড় হয়ে উঠল—এই মানুষটা?যে সব সময় পাথরের মতো গম্ভীর,
যার এক দৃষ্টি দেখেই কানাডা থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত মাফিয়া দুনিয়া কেঁপে ওঠে সেই মানুষ সরি বলতে পারে?

তার ওপর—তাকে না পেয়ে পুরো দেশ তন্নতন্ন করে খুঁজে বেড়িয়েছে?এ যেন কুহেলির কাছে কোনো স্বপ্নের মতোই লাগছে।কুহেলি ধীরে ধীরে আবরারের বুকে মাথা রেখে বলল,

আচ্ছা চলুন না, বাড়ি যাই।এখানে আর ভালো লাগছে না।

আবরার কুহেলির মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল,
হঠাৎ সে থেমে গেল।কুহেলিকে আলতো করে একটু দূরে সরিয়েতার চোখে সরাসরি তাকাল।

একটা কথা বলো,
যে তোকে কিডন্যাপ করেছিল সে কোথায়?

কুহেলি চোখের পাতা ফেলল কয়েকবার। তারপর বললো,

জানি না..!

তার কণ্ঠে হতবাকভাব মিশে ছিল।
আমাকে খাবার দিয়ে কোথায় যেন চলে গেল।
আমিও বুঝতে পারছি না।

আবরারের চোখ তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল।চোয়ালের পেশী শক্ত হয়ে গেল তারপর রাগি কন্ঠে বললো,

আমার বউ কে কিডন্যাপ করেছে তাকে আমি কখনোই ছাড়বো না। সে পৃথিবীর সেই প্রান্তেই থাকুক…!

ঠিক তখনই আবরারের ফোন বেজে উঠল।
চারপাশের সব যেন থমকে গেল।কুহেলি আঁতকে উঠে আবরারের হাত শক্ত করে ধরল।

আবরার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে দেখল অচেনা নাম্বার আবরার ফোন টা ধরে বললো, কে..?

ওপাশে সঙ্গে সঙ্গে ভেসে এল ফাহিমের ব্যঙ্গাত্মক, তীক্ষ্ণ কণ্ঠ—কিরে?বউ পেয়েছিস?

এক মুহূর্তেই আবরারের রক্ত ফুটে উঠল।
তার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল, চোখে আগুন।

ঐ হারামজাদা,তোর সাহস থাকলে সামনে আয়।
পালালি কেন? কাপুরুষের মতো?

ওপাশে হঠাৎ জোরে,পাগলাটে হাসি ভেসে এল।
এমন হাসি,যা রক্তকে বরফ বানিয়ে দিতে পারে।
আবরারের রাগ গলা পেরিয়ে মাথায় উঠে গেল।

ফাহিম হাসি থামিয়ে ঠান্ডা গলায় বলল,

একটা বলি কথা শুন,
আমি চলে আসছি।কারণ দুই দিন পর তুই নিজেই আমাকে খুঁজবি।এখন তো মারার জন্য খুঁজছিস
পরে আদর করার জন্য খুঁজবি।

কথাগুলো ছুরি হয়ে বাতাস কেটে আবরারের কানে ঢুকল।এরপর কোনো কথা না বলে
ফাহিম ফোন কেটে দিল।

আবরার কিছু সেকেন্ড স্থির দাঁড়িয়ে রইল মনে হচ্ছিল তার চারপাশের বাতাস ঝলসে যাচ্ছে।

এক ঝটকায় সে ফোনটা মাটিতে ছুঁড়ে আঘাত করল।দম বন্ধ করা রাগে তার বুক উঠানামা করছে।

ফোন আছড়ে ভাঙার পরও আবরারের বুক ওঠানামা করছিল।তার চোখে তখনো ফাহিমের কথার বিষ ছটফট করছে—রাগে যেন শরীরটা আগুন হয়ে গেছে।

হঠাৎই সে দেখলো পেল—কুহেলি এক কোণে দাঁড়িয়ে আতঙ্কে জমে গেছে।তার দু’চোখ বিস্তৃত, যেন আবরারের এই রূপ কোনোদিন দেখেনি।

আবরার এক সেকেন্ডের জন্য স্থির হয়ে গেল।
তার দৃষ্টি নরম হলো।কুহেলি ভয়ে এক পা পিছনে সরে গেল।

কোনো সতর্কতা ছাড়াই—আবরার এগিয়ে গিয়ে এক ঝটকায় কুহেলিকে কোলে তুলে নিল।এত দ্রুত, এত দৃঢ়তায় যে কুহেলির নিশ্বাস যেন থেমে গেল এক মুহূর্ত।

কোনো কথা নেই।
কোনো ব্যাখ্যা নেই।

শুধু শক্ত, নিরাপদ দুই হাতের বাঁধন—যেন কিছুতেই তাকে আর ছেড়ে দেবে না।

ঘর থেকে বেরিয়ে সে সরাসরি হেলিকপটারের দিকে হাঁটতে লাগল।চারদিকের বডিগার্ডদের ভিড় পথ খুলে দিচ্ছিল দলবাঁধা নীরবতায়।শুধু আবরারের বুটের শব্দ আর হেলিকপটারের ব্লেড ঘোরার আওয়াজ।

কুহেলি কোনো শব্দ করল না।অভিমান, ভয়, বিস্ময়—সব মিলেমিশে সে চুপচাপ।

তার ছোট্ট শরীরটা আবরারের বুকে সেঁধিয়ে রইল,
যেন ভয় পেলে বিড়ালছানা মালিকের বুকের ভাঁজে লুকিয়ে পড়ে।

আবরারের বাহু শক্ত হলো আরও—যেন ঘোষণা দিচ্ছে,এবার কেউ আমারটাকে ছুঁতে পারবে না।

~~

রাত বারোটা..!
পুরো শহর নিস্তব্ধ।শুধু আবরারের হেলিকপটারের ব্লেড থেমে যাওয়ার শব্দটা যেন অন্ধকারে বিলীন হয়ে গেল।

আবরার কুহেলিকে এখনো কোলে রেখেই নিচে নামল।সব গার্ড দূরত্বে দাঁড়িয়ে আছে—কারণ তাকে দেখে বুঝা যায়, আজ তার চোখে আগুন জ্বলছে।

একটাও কথা না বলেসে সোজা বাড়ির ভিতরে হাঁটতে লাগল।পা ফেলার শব্দে পুরো করিডোর যেন কেঁপে উঠছিল।বেডরুমে ঢুকেই কুহেলিকে আলতো করে বিছানায় বসালো।তারপর একবারও পেছনে না তাকিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল—ফ্রেশ হওয়ার অজুহাতে নিজের রাগ-কষ্ট ধুয়ে ফেলতে।

কুহেলি চুপচাপ বসে রইল।হাতের আঙ্গুলগুলো জোড়া লাগিয়ে বসে আছে—মনে হচ্ছে বুক ধকধক করছে।

আবরার বেরিয়ে এল কয়েক মিনিট পর।ভেজা চুল, কালো টি-শার্ট, গভীর চোখ—কিন্তু মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই।

সে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে ঘড়ি খুলছে, হাত মোছার তোয়ালে ভাঁজ করছে—ঠিক যেন নিজের রাগটাকে ভেতরে তালাবদ্ধ করে কাজ করছে।

কুহেলির হৃদস্পন্দন আরও বেড়ে গেল।
সে বুঝতে পারছে না—আবরার এখনও রেগে আছে,নাকি নিজের ভেতরের ঝড়টাকে জোর করে থামিয়ে রেখেছে।

সাহস সঞ্চয় করে কুহেলি আস্তে করে উঠে দাঁড়াল।
ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে আবরারের পাশে দাঁড়াল।

তার কণ্ঠ কাঁপা, খুব হালকা—
আপনি… কি এখনো রেগে আছেন?

আবরার হঠাৎ থেমে গেল। চোখে ছিলো চাপা অস্থিরতা।কুহেলি কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে দু’হাতে কুহেলির কোমর ধরে হালকা শক্তিতে তাকে ড্রেসিং টেবিলের উপর বসিয়ে দিল।পুরো ঘটনাটা এত দ্রুত ঘটল যে কুহেলির বুক ধুকপুক করে উঠল।

ভয়ে-চমকে কুহেলি আবরারের শার্টের কলারে হাত চেপে ধরল—ঠিক যেন তাকে আঁকড়ে ধরলে একটু নিরাপদ লাগবে।

আবরার কুহেলির দুই পায়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে কুহেলির কোমড় শক্ত করে ধরে একদম নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো।মুখটা খুব কাছে, নিঃশ্বাস গরম, কিন্তু গলাটা নরম—অস্থির হলেও রাগ নেই। তারপর বললো,

পাখি তুমি কি একটুও বুঝতে পারছো আমি কতটা চিন্তায় ছিলাম?তার কণ্ঠে এক অদ্ভুত কাঁপুনি।

ফাহিমের বলা কথাগুলো যেন বারবার মাথায় ঘুরছে।যেন কোনো অদেখা আশঙ্কা তাকে গ্রাস করেছে।

ওই ছেলেটা তোমার সঙ্গে এমন কিছু করেছে, যেটার জন্য তুমি অসুস্থ হতে পারো? কোনো সমস্যা হয়েছে?আবরারের চোখে আতঙ্ক।
কুহেলি দ্রুত মাথা নাড়ল—দুই দিকেই—না, কোনো সমস্যা হয়নি।

কিন্তু আবরার শান্ত হতে পারছে না। ফাহিম ঐ কথা বলল কেন? কী বোঝাতে চেয়েছিল?

কুহেলির কণ্ঠ ভেঙে গেল,
আপনি… আমার ওপর রাগ করেছেন?

আবরার ধীরে এক নিঃশ্বাস ছাড়ল। কুহেলির হাত নিজের হাতে নিয়ে খুব শান্ত স্বরে বলল,

না পাখি। তোমার ওপর রাগ করতে পারি আমি? তোমাকে নিয়ে ভয় পেয়েছি সেই জন্যই এত উত্তেজিত হয়ে গেছি।

তার চোখে তখন শুধু একটারই ছাপ,
ভালবাসা, দুশ্চিন্তা, আর হারানোর ভয়।

আবরারের এই ব্যাকুলতা দেখে কুহেলির যেমন ভালো লাগলো আবার খারাপও লাগলো ইস মানুষ টা না জানি কতো টা কষ্ট পেয়েছে এই কয়েক ঘন্টায়…!তারপর আস্তে করে আবরারের গলার কাছের শার্টের কলার ধরে আরো কাছে টান দিলো আবরার ঠিক বুঝতে পারছে না কুহেলি কি চাই..?! কুহেলি হঠাৎ আবরারের ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দিলো আবরার বিস্মিত হয়ে চোখ বড় বড় করে ফেললো, এটা কি সত্যি..!আবরারের সময় লাগলো লাগলো নিজের বিস্মিয়করতা কাটাতে।অতপর আবরার নিজের হাত রাখলো কুহেলির পৃষ্ঠা দেশে..!একদম নিজের সাথে মিশিয়ে দিলো এক ইঞ্চি দুরুত্ব রাখলো না।

আবরার এবার উন্মাদের মতো চুম্বন শুরু করে।কুহেলি হাঁফিয়ে উঠে কিন্তু নিজেকে আজকে আর সরায় না আবরারের থেকে আর কোনো বাঁধা দেয় না।নিজে কে সর্বোচ্চ ভাবে টেনে নিয়ে যেতে চাই আবরারের সাথে তাল মিলিয়ে কিন্তু আদোও কি তা সম্ভব.? কখনো না তবুও চেষ্টা করছে।আবরার পুরু মাতোয়ারা হয়ে গেছে কুহেলির অধর খানার উপরে। সাথে কুহেলির ছোট্ট বদনের অস্বাভাবিক ভাবে বিচরণ করছে। কুহেলি এবার নিজেকে সামলাতে আবরারের ঘাড়ে নখ দিয়ে খামচে দেয় আবরারের সেই দিকে খেয়াল নেয় ওর ধ্যান জ্ঞান সব কুহেলির মধ্যে….!

কিছু ক্ষণ পর কুহেলি ব্যাথাতুর শব্দ তোলে। আবরার সাথে সাথে নিজেকে কুহেলি কে ছেড়ে দিয়ে তাকায় কুহেলির দিকে। কুহেলি লজ্জায় একদম লজ্জাবতী গাছের ন্যায় নেতিয়ে পড়ে গাল দুটো লাল টকটকে হয়ে গেছে।

আবরার তা দেখে হাসে তারপর কুহেলির গালে বড় আঙ্গুল দিয়ে স্লাইড করতে করতে বলে, পাখি তুমি কি ঠিক আছো এভাবে আজকে আমার কাছে আসলে..?!

কুহেলি আরো লজ্জা পেয়ে আবরারের বুকে মুখ লুকিয়ে বলে, আমারো আপনাকে আদর করতে মন চাচ্ছিলো তাই করলাম কেনো আপনি খুশি না..?!

আবরার হাসলো শান্তির হাসি তারপর কুহেলির চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো, আমি এতো টা খুশি কোনো দিন হয় নি পাখি যতো টা খুশি আমি আজকে হয়েছি। কিন্তু আজকে তুমি অসুস্থ ঘুমিয়ে নেও অন্য দিন আদর করবে..!

কথা খানা শেষ করেই আবরার কুহেলি কে কোলে তুলে নেয়। কুহেলি নিজের ভারসাম্য রাখতে আবরারের গলা জরিয়ে ধরে আর পা দিয়ে ওর কোমর।

আবরার কুহেলি কে বেডে শুয়ে দেয় তারপর অতিরিক্ত লাইট অফ করে জিরো লাইট দিয়ে কুহেলির পাশে শুয়ে কুহেলি কে নিজের কাছে এনে কুহেলির গ্ৰীফদেশে মুখ গুঁজে দেয়। সাথে সাথে কুহেলির সারা শরীর শিহরণ করে উঠে। আবরার কুহেলি কে আরো শক্ত করে নিজের সাথে মিশিয়ে গ্ৰীবদেশে মুখ রেখেই ফিসফিস করে বলে,

আমি খুব ক্লান্ত পাখি একটু শান্তি চাই প্লিজ মাথায় বিলি কেটে দাও।

আবরারের আবদার একদম বাচ্চাদের মতো।কুহেলি আর প্রত্যাখ্যান করতে পারে না।আস্তে করে তার চিকন আঙ্গুল গুলো দিয়ে আবরারের চুলগুলো বিলি কাটতে থাকে। আবরার মুচকি হেসে গ্ৰীবদেশে কয়েক টা চুমু খেয়ে আস্তে আস্তে চোখ বন্ধ করে। কুহেলিও বিলি কাটতে কাটতে কখন যে ঘুমিয়ে যায় নিজেও জানেনা….!

                       চলবে.....!

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply