ভালোবাসার_সমরাঙ্গন ||২০||
দেওয়ান মির্জার কথা খানা বৃহৎ ড্রয়িংরুমে আলোড়ন তুললো সেই সাথে বজ্রপাতের ন্যয় আঘাত হানলো রুলির মুখের উপর।আদনান মির্জা কাজ ফেলে নিজের বাবার কঠিন গম্ভীর মুখের পানে স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো।মুখের সমস্ত ভাষা যেনো কোথায় গায়েব হলো।রেহনুমা কিছুটা লজ্জিত হলেন,যেন অপমান তার মাথা কাটা গেলো ।কিন্তু ঠোঁট টিপে হেসে চামেলি বলে উঠলো
“দুধ চা আনি নানা জান?আফনের গলাডা হুকায় গেছে তো।
দেওয়ান মির্জা দাম্ভিক চলনে সোফায় বসতে বসতে রেহনুমার উদ্দেশ্যে বললো
“কোন সংস্কারে ছেলেকে মানুষ করেছো তা নিশ্চয়ই ভুলে যাওনি রেহনুমা।আজ পর্যন্ত শাড়ি স্যালোয়ার কামিজ ছাড়া কোনো খোলামেলা শহুরে পোশাক এ বাড়ির বউ ছেলে মেয়েরা পড়েনি।সেখানে এমন লাল চুল ওয়ালা বউ কি করে তোমার ছেলের জন্য পছন্দ করতে চাও তুমি?চুপ করে না থেকে জবাব দাও আমায়।
রেহনুমা মাথার ঘোমটা টা আরেকটু ভালো করে টেনে সম্মানের সহিত বলে উঠলো
“আপনার নাতির মত ছাড়া আমি কিছুই করবো না আব্বা।
“নাতির মতের আগে আমার মত নিতে হবে তোমাদের রেহনুমা।
আদনান মির্জা ইতস্তত গলায় বলে উঠলেন
“আব্বা যুগ পাল্টাচ্ছে।আপনি এতো হাইপার হবেন না।
নিজের লাঠি ছেলের মুখের সামনে উঁচিয়ে বৃদ্ধ বলে উঠলো
“আমাকে যুগ বোঝাতে এসো না।সভ্য ভদ্র পুরুষ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে জীবন সঙ্গী নির্বাচন করে না।আর তোমার ছেলে নিশ্চয়ই চাইবে না তার বউএর পেট,নাভি,গলা তার আগে অন্য কেউ দেখে মজা লুটুক।
আদনান মির্জা মাথা নিচু করে চুপ করে রইলো।করিডোরে দাঁড়িয়ে তাচ্ছিল্য হাসলো মৌনতা।রুলির পাশেই অপরাধীর ন্যয় দাঁড়িয়ে আছে কোয়েল।ঠোঁটের কোণে কপট হাসি ফুটিয়ে মৌনতা নেমে এলো সিঁড়ি ধরে।এরপর কোয়েলের সম্মুখ বরাবর সোফায় বসে হেঁয়ালি করে বলে উঠলো
“রণ ভাইয়ের বউ হতে হলে চুল গুলো কালো করে বোরকা পড়ার অভ্যাস করতে হবে তোমাকে কোয়েল আপু।মাছি পড়া খোলা জিনিস রণ ভাই ঘেন্না করে।যেমন তেমন ঘেন্না না।একদম ডায়রিয়া যুক্ত পাতলা পায়খানার মত ঘেন্না।
চাঁদ হীন মেঘ যুক্ত ঘুটঘুটে অমানিশা।ভ্যাপসা গরমে প্রাণীকুল হাঁসফাঁস করছে।যেন বাতাসের অস্তিত্ব পৃথিবী থেকে বিলীন হয়েছে।থেকে থেকে বিদ্যুৎ চমকের দমকে মনে হচ্ছে বৃষ্টি হবে।সেই বৃষ্টি কারো জন্য স্বস্তির আবার কারো জন্য ভোগান্তির।
লোক সমাগমের শহর ছেড়ে বেশ দূরে জঙ্গলের কাছে পরিত্যক্ত একটি গুদাম ঘর।পূর্বে এটি পাটকল হিসেবে ব্যবহৃত হত।তখন এখানে মানুষের সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো।কালের বিবর্তনে হঠাতই অজানা কারণে বন্ধ হয়ে যায় সেই পাটকল।লোক মুখে শোনা যায় এক রাতের ব্যবধানে এখানে খুন হয় এগারো জন কারখানা শ্রমিকের।এরপর পুলিশি তদন্ত হলেও মিলেনি কিছু।খুনি বড্ড শেয়ানা।একটা প্রমান তো দূর ডেড বডির শরীরে ফিঙ্গার প্রিন্ট পর্যন্ত রেখে যায় নি।মানুষ ভয়ের চোটে ধীরে ধীরে এই কারখানায় যাতায়াত বন্ধ করে দেয়।একসময় মানুষের চলাচল হাসি ঠাট্টায় মুখরিত পাট কল ভুতের বাড়ির ন্যয় স্তব্ধ হয়ে যায়।ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায় এখানে আসা যাওয়ার রাস্তা সেই সাথে প্রকৃতি দখল করে নেয় পুরো কারখানার এরিয়া। সাধারণ মানুষেরও কোনো লেনদেন নেই এই পাটকল এর সাথে।সেই সুযোগ ই লুফে নিয়েছে কিছু স্বার্থ অন্বেশী মানুষ রুপি অমানুষ।যারা ভুত,প্রেত এমনকি শয়তানের চাইতেও ভয়ংকর।
ধীরে ধীরে প্রকৃতির রূপ হিংস্র হলো।জোরে জোরে মেঘ গর্জে চলেছে সেই সাথে বইছে ভারী বাতাস।মেঘের গর্জনের সাথে পাল্লা দিয়ে হঠাৎ শো শো বাতাসে ভেসে এলো ছোট শিশুর নীরব কষ্ট যুক্ত কান্না।ভালো করে কান পাতলে স্পষ্ট হয় সেই করুন আর্তনাদ।
বৃহৎ গুদাম ঘরের মেঝেতে হাত পা বেঁধে ফেলে রাখা হয়েছে ছোট ছোট শিশু বাচ্চাকে।গণনার হিসেবে একশত’র উপরে।শিশু গুলোর বয়স পাঁচ থেকে সাতের ঘরে।প্রত্যেকের চোখে মুখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট।কেউ কেউ কেঁদে কেটে একাকার আবার কেউ কেউ খিদের যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে।কান্না করার শক্তি টুকুও তার মধ্যে অবশিষ্ট নেই।এতো কিছুর ভেতরে সবার মধ্যে বসে আছে একটা সাত বছরের বাচ্চা।নাম তার আন্দ্রেই।চাকমা সম্প্রদায়ের মানুষ সে।তার স্বচ্ছ চোখ দুটোতে না আছে ভয় না আছে কান্নার ছাপ।এই ঘর বন্দি অন্ধকার পরিস্থিতি ও যেন তাকে ভীত করতে পারছে না সামান্য।সকলের কান্নারত চোখ মুখ দেখে ছেলেটি কম্পিত শ্বাস ফেললো।এরপর নিজের হাতের মুঠোয় নজর দিলো।হাতে এখনো গত কালের কেনা চকলেট।চকলেট গুলো খাওয়ার সৌভাগ্য হয় নি তার।তার আগেই কেউ অজ্ঞান করে তুলে নিয়ে এসেছে তাকে।যখন জ্ঞান ফিরেছে তখন যে ভয়ানক অপরিচিত অরণ্যে।জায়গা টা আন্দ্রেই চিনে না।কিন্তু তার স্বচ্ছ চোখ পরিচিত এক জিনিস দেখে ফেলেছে। এই অপরিচিত অরণ্যে।আন্দ্রেই জানে ওই সবুজ পোশাকের মানুষের পরিচয়।তার বাবার সাথে গভীর অরণ্যের ঝিরিতে কাঁকড়া খুঁজতে গিয়ে বহুবার এমন অদ্ভুত মানবের দেখা পেয়েছে সে।উৎসুক চোখ মুখে তার বাবার কাছে ওই মানব গুলোর পরিচয় জানতে চাইলে তার বাবা হেসে জবাব দিয়েছে
“তারা আমাদের রক্ষক।পাহাড়ে ঘুরে বেড়ানো ভয়ানক রাক্ষসের হাত থেকে এরাই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে।যদি তুমি কোনো দিন হারিয়ে যাও তবে ওই অদ্ভুত মানুষ তোমাকে খুঁজে ঠিক বাড়ি নিয়ে আসবে।
“যদি কোনো নিশানা না থাকে তবেও কি পারবে আবা?
“পারবে।কিন্তু তোমার কাছে যদি নিশানা দেবার মত কিছু থাকে তবে তুমি নিশানা রেখে যেও।তাদের সুবিধা হবে।
অন্দ্রেই এর সরল মন বললো ওই অদ্ভুত জংলী মানব তাকে বাঁচাতে আসবে।কারন আন্দ্রেই নিশানা রেখে এসেছে।কিন্তু পরক্ষণেই অন্দ্রেই এর মনে হলো
“আমাদের যখন সন্ত্পর্নে এখানে ধরে আনা হচ্ছিল তখন মানুষটা গাছে হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছিলো।ঘুম ভেঙে যদি সে অন্য কোথাও চলে যায়?যদি এই পথে না আসে?
এবার আন্দ্রেই এর ভয় হলো।বাড়িতে তার মা আর বাবা নিশ্চিত তার জন্য কান্না করছে।বাবার সাথে সারাদিন কাঁকড়া শামুক কুড়িয়ে বাজারে বিক্রি করে তারা বাপ ছেলে।আন্দ্রেই কে ছাড়া কাঁকড়া আর শামুক কুড়াতে নিশ্চিত কষ্ট হচ্ছে তার বাবার।বাজারে একদিন কাঁকড়া বিক্রি করতে না পারলে পেটে দানা পড়েনা।সেখানে দুদিন ধরে আন্দ্রেই বন্দি এখানে।তার বাবা মা কি তবে না খেয়ে কেঁদে বুক ভাসাচ্ছে?
গুদাম ঘরের বাইরে ছোট আরেকটা ঘর।এখানে পাট কলের ম্যানেজার ঘুমাতেন।আজ এই ঘর ফাঁকা।শুধু ম্যানেজার এর ভাঙা লোহার মরিচা ধরা খাটটা অনাদরে পরে রয়েছে।সেই ভাঙা খাটে হেলান দিয়ে বসলো অজ্ঞাত এক ব্যক্তি।কালো পোশাকে আবৃত থাকার কারনে তার চেহারা বা বয়স কিচ্ছু বোঝা যাচ্ছে না।তবে ভারী গম্ভীর ঠান্ডা গলায় মনে হচ্ছে সে যৌবন বয়সী পোক্ত সামর্থ্য পুরুষ।
আগন্তুক চোখ বুজে কিছু ভাবছে।এমন সময় ভেতরে এলো এক মাঝবয়সী লোক।এসে মাথা নিচু করে ইতস্তত গলায় বলল
“হারিয়ে যাওয়া ডলারের বাকি অংশ কোত্থাও নেই মালিক।অনেক খুঁজেছি।আমার মনে হয় ওটা সেই বট তলায় হারায় ই নি।ওটা অন্য কোথাও পড়েছে।
মাঝ বয়সী মানুষটার কথা পছন্দ হলো না আগন্তুকের।সে কোমরে গুঁজে রাখা বন্দুক বের করে দয়ামায়া হীন গুলি চালিয়ে দিলো মানুষটার বুকে।মুহূর্তেই চিৎ হয়ে মাটিতে পরে ছটফট করতে লাগলো সে।এরপর গুঙিয়ে কিছু বলতে চাইলো।পারলো না।মৃত্যু দূত এসে নিয়ে গেলো তার প্রাণ।
বিদ্যুৎ চমকের আলোয় দৃশ্যমান হলো প্রাণ হীন দেহ টা।আগন্তুক সেই নিষ্প্রাণ দেহের পানে তাকিয়ে তাচ্ছিল্য গলায় বলে উঠলো
“এমন ভাবে বলছে যেনো দুটাকার ছেড়া নোট!
কথাটি বলেই উঠে দাঁড়ালো আগন্তুক।এরপর হনহন করে বাইরে এসে একটা সিগারেট ধরালো।সিগারেট এ লম্বা টান দিয়ে তাকিয়ে রইলো বাচ্চা ভর্তি গুদাম ঘরের দিকে।হারিয়ে যাওয়া অর্ধ ডলার ছাড়া বাচ্চা গুলোকে বিদেশে পাঠাতে পারবে না সে।ওই ডলারে যেই নম্বর দেয়া আছে তার সাথে বাকি ডলারের নম্বর মিলতে হবে।নয়তো ক্যানসেল হবে সমস্ত ডিল সাথে প্রাণ যাবে বেঘোরে।
এবার বিল্লাল নামক ছেলেটির উপর চরম ক্রোধ জন্মালো আগন্তুকের।ছেলেটি সেদিন পথের মাঝখানে বা হাত না ঢোকালে এত কিছু হতোই না।
বিতৃষ্ণায় সিগারেট ফেলে দিয়ে আগন্তুক ডেকে উঠলো
“সেলিম
মুহূর্তেই দৌড়ে এলো সেলিম নামক এক যুবক।আগন্তুক হিসহিস করে বলে উঠল
“ভোর হবার আগেই বাচ্চা গুলোকে পতেঙ্গা পৌঁছে দে।জাহাজে তুলে দুবাই পাঠাবো এদের।বেশি দেরি হলে রিস্ক হয়ে যাবে।থানা পুলিশ সামলানো গেলেও শুয়ো রের বাচ্চা মিলিটারি গুলোকে সামলানো যাচ্ছে না।একদম হাত ধুয়ে পিছে লেগেছে।
বলেই গুদাম ঘরে ঢুকলো।ঢুকে দেখতে পেলো বাচ্চা গুলো হাউমাউ করে কাঁদছে।বাচ্চাদের কান্নায় আগন্তুকের মনে পৈশাচিক আনন্দ হলো।মনে খুশি অনুভূত হলো।চোখ বুজে নীরব হয়ে সেই কান্না শুনে হাতের বন্দুক দিয়ে ফাঁকা গুলি করে বাচ্চা গুলোকে আরেকটু ভয় দেখালো সে।বন্দুকের গুলির শব্দ আর বজ্রপাতের শব্দে বাচ্চা গুলো ডুকরে চিৎকার শুরু করলো।বাচ্চাদের কান্নার শব্দে কিটকিটিয়ে হাসলো আগন্তুক।কিন্তু সেই হাসি মুহূর্তেই ক্রোধে রূপান্তর হলো।দাঁতে দাঁত চেপে আগন্তুক বাচ্চাদের ভিড় সরিয়ে আন্দ্রেই এর সামনে এসে হাটু মুড়ে বসলো।এরপর বন্দুক কপালে ছুঁইয়ে বলে উঠলো
“কাঁদছিস না কেনো?আমাকে দেখে ভয় করছে না তোর?
আন্দ্রেই নির্ভয়ে মাথা দোলালো।এরপর বললো
“তোমাকে দেখে আমার মোটেও ভয় করছে না।
আগন্তুক দাঁত চেপে গর্জে শুধালো
“কেনো?
“কারণ সে আসছে।”
মুহূর্তেই সপাটে চড় পড়লো আন্দ্রেই এর গালে।গাল চেপে রক্ত চক্ষু নিয়ে শক্ত আসনে বসে রইল আন্দ্রেই।এক ফোটা জল গড়াতে দিলো না চোখ থেকে।সে লাল পাহাড়ের মানুষ।তার শরীর মন দুই ই পাহাড়ের মাটির মতো শক্ত।যার জন্ম বেড়ে উঠা সংগ্রামের মধ্যে সে কেনো সামান্য এক রাক্ষসের ভয়ে ভীত হয়ে কাঁদবে?
মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে।বৃষ্টিতে পাহাড় বড্ড ঝুঁকির জায়গা।যেকোনো মুহূর্তে ধ্বসে যেতে পারে।রণ,রাশেদ সেই ঝোপ টার্গেট করে বুকে ভর দিয়ে শুয়ে আছে।দৃষ্টি বন্দুকের স্কোপে।বর্ষণ ধারায় বুকের নিচের মাটি ধুয়ে যাচ্ছে।এর জন্য বার বার পজিশন চেঞ্জ করতে হচ্ছে।রণ আর রাশেদ কে কভার করছে দুজন সোলজার।স্যাটেলাইট হেডসেট ডিভাইসে বার বার বার্তা পাঠাচ্ছে কর্নেল মেহেরাব।
স্কোপে দৃষ্টি রেখেই রাশেদ বলে উঠলো
“আদৌ এখানে কিছু আছে?এতক্ষন ধরে বসে আছি।কোনো মানুষের আনাগোনা নেই।
রণ উঠে দাঁড়ালো।এরপর রাশেদ কে বলল
“তুমি নীচে নেমে এসো রাশেদ।বাকি রা এখানেই পজিশন নিক।আমি ঝোপের ঐ পাতাল সারফেস এ নামবো।
রাশেদ ফট করে বলে উঠলো
“ভেতরেও তো কেউ থাকতেও পারে! একা রিস্ক হয়ে যাবে আপনার জন্য।আমরাও যাই।
“এমন রিস্কি জায়গায় আমার ঢোকার অভ্যেস আছে রাশেদ।তুমি ঝোপের বাইরে পজিশন নাও।চলো।
ধীরে ধীরে পাহাড় বেয়ে নেমে এলো রণ আর রাশেদ।বৃষ্টির জল উপেক্ষা করে তাদের পদচ্ছাপ শোনা গেলো না।নাইট ভিশনের তীক্ষ্ণ সবুজ আলোয় সন্ত্পর্নে ঝোপের কাছে এলো রণ।এরপর নীচে নামার আগে রাশেদকে বলে উঠলো
“আমি নামতেই যেমন ছিলো উপরের শাটার গুলো ঠিক তেমন করেই বসিয়ে রাখবে।
বলেই শব্দহীন ধীরে ধীরে সরালো কাঠের পাটাতন।এরপর নিচের সিঁড়ি ধরে নেমে গেলো সাবধানে।
ভেতরে ঢুকেই মাথা ঘুরে গেলো রণ’র।নীচে বৃহৎ জায়গা।সেই জায়গা জুড়ে বিভিন্ন জিনিস দিয়ে ভর্তি কার্টন আর নেশা দ্রব্যের ছড়াছড়ি।আরেকটু ভালো করে নজর দিতেই চোখে পড়লো সুড়ঙ্গের ন্যয় পথ।রণ সাবধানে হেটে হেটে সেই সুড়ঙ্গ দিয়ে চলতে লাগলো।মিনিট দশেক হাঁটার পর তার মনে হলো এখানে আরো বিস্তর সুড়ঙ্গ পথ আছে।তাই নিজের স্যাটেলাইট ফোন কানেক্ট করে বলে উঠলো
“ফলো মি।
মুহূর্তেই পাহাড় থেকে ঝাঁপিয়ে ঝাঁপিয়ে নামলো সোলজার দুটো সেই সাথে পাটাতন সরালো রাশেদ।সোলজার দুজন আগে ঢুকলো এরপর রাশেদ ঢুকে পাটাতন পূর্বের ন্যয় টেনে টেনে বসালো।অতঃপর ছুটলো দৌড়ে।টানা এক ঘন্টা হাঁটার পর সুড়ঙ্গ পথ শেষ হলো।যেখানে সুড়ঙ্গ শেষ হলো সেখানে এসে রণ বলে উঠলো
“স্যার আমাদের অবস্থান ট্র্যাস করুন।এই মুহূর্তে আমরা কোথায় আছি?
কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে মেহেরাব জানালো
“এটা চন্দ্রঘোনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাই ওয়ে রোডের আশেপাশে।পাশেই একটা পরিত্যক্ত পাট কল আছে।আগে ব্যবহৃত হতো।কিন্তু দীর্ঘ বছর ধরে একদম পরিত্যাক্ত।এখানে কোনো গাড়ি থামে না।কারন চারপাশে ধূধূ পাহাড়ি জঙ্গল।আশেপাশে কোনো বাড়ি ঘরের উঅস্থিতি নেই।এই রাস্তায় সব সময় মালবাহি কন্টেইনার,কার্গো ট্রাক চলাফেরা করে।
আর কিছু জানতে চাইলো না রণ।মুহূর্তেই চোখের সামনে সব স্পষ্ট ফুটে উঠলো।লাইন ডিসকানেক্ট করে রণ নিকটস্থ আর্মি ক্যাম্পে ওয়াটকি তে যোগাযোগ করলো
“পয়েন্ট জিরো সেভেনে এসে চারপাশ ঘেরাও করা হোক।সন্দেহ জনক কাউকে দেখলেই সরাসরি শুট করার অর্ডার দেয়া হলো।
(প্রচন্ড ব্যাস্ততার মাঝে এই টুকু লিখলাম ।কি লিখলাম নিজেও জানিনা।ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।ধন্যবাদ)
Share On:
TAGS: ভালোবাসার সমরাঙ্গন, সারিকা হোসাইন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৭
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৬
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৭
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৩
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২১
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৮
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৫
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১০
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৭
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৯