খাঁচায় বন্দী ফুল
জান্নাতুল_ফেরদৌস
পর্ব -৬
সকাল সকাল সুফিয়ান এসেছে চৌধুরী বাড়িতে। গাড়ি থেকে নেমে সাইফকে কয়েকবার কল দিলো। রিং হচ্ছে রিসিভ হচ্ছে না। পাশের ফ্ল্যাটে উকি ঝুঁকি দিলো কোথাও চামেলি কে দেখা যায় কিনা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে না। সাইফও বাইরে আসছে না।
হঠাৎ কোনো মেয়েলি হাত সুফিয়ান এর পিঠ স্পর্শ করলো। চমকে তাকাতেই দেখতে পেলো তার কামনাকৃত মানুষটি। সুফিয়ান হেসে বলল
” আরররেে চামেলি ভাবি। আজ তো তোমায় খুব সুন্দরী লাগছে।”
রোজকার মতো পিঠখোলা ব্লাউজ, কোমড় আর বুকের ভাজ উন্মুক্ত রেখে শাড়ি পড়েছে। চামেলি সুফিয়ানের গালে চুলের বেণি দিয়ে আলতো বাড়ি দিয়ে বলল
” শুধু সুন্দরী? “
সুফিয়ান চোখ টিপে বলল
” আর সেক্সি ও”
চামেলি সুফিয়ানের বাহুতে মৃদু ধাক্কা দিয়ে বলল
” যাহহহ দুষ্টু”
” ভাবিইইইই। দেখো না দিন দিন কেমন শুকিয়ে যাচ্ছি।”
সুফিয়ান নিজের বুকে হাত দিয়ে বলল কথাটা। চামেলি কে মাথা থেকে পা পর্যন্ত ভালো করে দেখে বলল
” তোমার কোমড়ের কাছের তিলটা কি সত্যি? “
চামেলি চুলের বেনি ঘুরাতে ঘুরাতে ভেংচি কেটে বলল
” আমার বাপু অতো সময় নেই তোমার সাথে রসের গল্প করার”
কোমড় দুলিয়ে দুলিয়ে হেটে গেলো চামেলি। সুফিয়ান বাড়িতে ঢুকে আবার গাড়িতে বসলো।
সকাল সকাল চৌধুরী বাড়ির পরিবেশ জাঁকজমক। এবাড়ির ছোট কন্যা দীঘির ১৬ তম জন্মদিন। বাড়িতে বেশ ভালোই আয়োজন করা হয়েছে। তবে অনুষ্ঠান টা ঘরোয়া। শুধু পরিবার আর আত্মীয়দের নিয়ে।
পুরো বাড়িটা বেলুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। নদী, মা কাকির হাতে হাতে সব কাজ করে দিচ্ছে। আর বার বার সিড়ির দিকে তাকাচ্ছে, কখন সাইফ নামবে। কিন্তু আজ যে সাইফ একা না, বউ সঙ্গে নিয়ে নামবে। কালো আনারকলি জামা পরেছে নদী। গলায় স্বর্ণের চেইন টা জ্বলজ্বল করছে। আধুনিক যুগের হয়েও বড্ড সাদা মাটা মেয়েটা। বলতে গেলে ন্যাচরাল সুন্দর।
সায়রা নদীকে বলল
” বাড়িতে ফোন করেছিলি? তোর কাকাই, বড় মা সবাই আসছে তো?”
নদী সাইফ আর অদিতির ভাবনায় এতটা ডুবে যে মায়ের কথা কানেই যায়নি। সায়রা পুনরায় ডেকে বলল
” কি রে। মন কোথায় তোর?”
আঞ্জুমান নদীর হয়ে বলল
” এত চোটিস না তো ছোটো। মেয়েটা সারাদিন কত কাজ করে, কত দ্বায়িত্ব বান আমার বাচ্চা টা। আরেক হয়েছে এ বাড়ির বউ। ও তো শুধু নামেই বউ। এত বেলা হলো এখনো স্বামী নিয়ে বেহায়ার মতো শুয়ে আছে।”
হাবিব চৌধুরী রান্নাঘরে এলো চা চাইতে। সায়রা বলল
” শুনছেন? বাড়ি থেকে সবাই কখন আসবে? “
হাবিব চৌধুরিবললেন
” সবাই বলতে শুধু ভাইজান আর তুযাউন আসবে। সাথে বোধহয় আমাদের আকবর থাকবে। ও এসে যাবে, এসে যাবে। আমাকে কড়া করে এক কাপ চা দাও তো”
নদী একটা পাত্র নিয়ে চা বসালো। চুপচাপ কাজ করছে নদী। মুখটা বড্ড মলিন লাগছে। হাবিব চৌধুরী ছোট মেয়ের তুলনায় বড় মেয়েকে একটু বেশিই ভালোবাসে। তার এমন মনমরা হয়ে থাকার কারণ খুজে পাচ্ছে না। চায়ের কাপটা বাবার হাতে দিয়ে অদিতি আবার কেক এর ব্যাটার রেডি করতে ব্যাস্ত হয়ে পড়লো। হাবিব চৌধুরী ভাবলো আজকের অনুষ্ঠান টা মিটে গেলেই কথা বলবে মেয়ের সাথে।
চোখ ফেরাতেই দেখতে পেলো তার কর্মচারী মেহবুব এসেছে। হাত ইশারা করে ডাকছে। খুব জরুরি। হাবিব চৌধুরী সেদিকে গেলো।
মিনিট পাচেক পরেই অদিতি নামলো নিচে। সাথে সাইফও। নদী খেয়াল ই করে নি। নিজের মত কাজ করছে। আঞ্জুমান বললেন
” ওই যে এলো। যেমন স্বামী তার তেমন স্ত্রী। বেলা ১২ টা বাজে ঘুম ভাঙে তাদের।”
আঞ্জুমান এর কথায় সিড়ির দিকে তাকালো নদী। সাইফ অদিতির কাধে হাত দিয়ে সিড়ি দিয়ে নামছে। একবার দেখেই চোখ সরিয়ে নিলো নদী। অদিতি গিয়ে সালাম দিলো শাশুড়ী দের
” আসসালামু আলাইকুম আম্মা। আসসালামু আলাইকুম কাকিয়া”
আজ সাইফ সাথে আছে বলে বাধ্য হয়ে দুজনেই সালাম নিলো। আঞ্জুমান অদিতি কে বলল
” তুমি আমার ঘরে এসো তো একটু। ও নদী, পায়েস টা দেখিস মা”
সাইফ ভ্রু কুচকে বলল
“কোথায় নিয়ে যাচ্ছো ওকে।”
আঞ্জুমান তাচ্ছিল্যের স্বরে বলল
” শুধু বিয়ে করলেই স্বামী হওয়া যায় না সাইফ। স্বামীর অনেক দ্বায়িত্ব কর্তব্য থাকে। সেগুলোর খেয়াল রাখো?”
সাইফ বুঝলো না
” মানে?”
আঞ্জুমান হাত আচলে মুছতে মুছতে বলল
” একটু পর বাড়িতে আত্মীয় সজন, নদী – দীঘির বন্ধুরা সবাই চলে আসবে। নতুন বউ। নাকে নাক ফুল নেই হাতে চুড়ি নেই। কেমন দেখায় বলোতো। এগুলো খেয়াল করেছো একবারও?”
সাইফ উত্তর দিলো না। পকেট থেকে ফোন বের করে চেয়ারে গিয়ে বসলো। অদিতিকে আঞ্জুমান সাথে করে রুমে নিয়ে গেলো। আলমারি খুলে গহনা বের করছে। সাথে মেরুন রঙের একটা শাড়িও। অদিতি চুপচাপ মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে। আঞ্জুমান শাড়ি আর বেশ কিছু গহনা অদিতির হাতে দিয়ে বলল
” এই নাও। ব্লাউজ দীঘির সাইজে আনিয়েছি। আশা করছি তোমার হয়ে যাবে।”
অদিতি একবার শাড়ি গয়নার দিয়ে তাকালো একবার আঞ্জুমান এর মুখের দিকে তাকালো। আঞ্জুমান আবার বললেন
” কি হলো নাও”
অদিতি কন্ঠ নিচু করে বলল
” মা এতগুলো গয়না যদি আমি হারিয়ে ফেলি। আমি শুধু নাকফুল আর চুড়িই দিন”
আঞ্জুমান এর ভ্রু যুগল প্রশস্ত হলো। যাক মেয়েটা লোভী না।
” সমস্যা নেই তুমি রাখো। তুমি তো আর বাড়ির বাইরে যাচ্ছো না। পড়লে বাড়িতেই কোথাও পড়বে”
অদিতি আর কোনো কথা না বলে সে জিনিস গুলো নিলো। চুপচাপ নিজের ঘরে চলে গেলো। ভয়ে আঞ্জুমান কে বলতে পারেনি যে সে শাড়ি পড়তে পারে না। রুমে এসে খাটের ওপর বসে বসে ভাবছে এখন কি করবে।
” আগে পেটিকোট আর ব্লাউজ পড়ে নিই। তারপর কোনোরকম ভাবে শাড়ি পড়ে ফেলবো।”
কিন্তু যেদিকেই শাড়ি পেঁচাচ্ছে সেদিকেই এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। কুচিও করতে পারছে না। অনেক ক্ষন শাড়ির সাথে যুদ্ধ করে ক্লান্ত হয়ে বিছানায় টানটান হয়ে শুয়ে পড়লো।
সাইফ অনেক ক্ষন নিচে অপেক্ষা করেছে। কিন্তু অদিতি আসেনি। বাধ্য হয়ে নিজেই ওপরে এলো। এসে দেখলো অদিতি এই অবস্থায় শুয়ে আছে। সাইফ কে দেখে চট করে উঠে বসলো। কোনোরকমে শাড়ি পেচিয়ে শরীর ঢাকার চেষ্টা করছে।
সাইফ এর ঠোটে শয়তানি হাসি। পরনের কালো হুডির পকেটে হাত ঢুকিয়ে দরজায় মৃদু হেলান দিয়ে দাড়ালো। পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখলো অদিতির। শাড়িটা গায়ে পেচিয়ে পোল গোল চোখ করে তাকিয়ে আছে তার দিকে।
” ওমন বিড়ালের বাচ্চার মতো জামা পেচিয়ে বসে আছো কেন?”
অদিতি কাদো কাদো হয়ে বলল
” দেখুন না “
সাইফ ওমনি সোজা হয়ে দাড়ালো
” দেখাবে?”
অদিতি সাইফের ইঙ্গিত বুঝে বলল
” ছিঃ। আমি আপনার মতো নির্লজ্জ নাকি? সেদিন যেই কাহিনিটা করলেন”
সাইফ হাসলো
” অনেক বড় চান্স মিস করে ফেলেছেন ম্যাডাম। এরকম চান্স এর আগে আমি কাউকে দিই নি। যাই হোক আপনি কি দেখাতে চাইছিলেন সেটা বলুন।”
অদিতি কিছুটা বিরক্তি নিয়ে বলল
” শাড়ি পড়তে পারছি না। আপনি পড়াতে পারেন?”
সাইফ সোজা সাপটা উত্তর দিলো
” না আমি শুধু খুলতে পারি। এখন নদী কে পাঠিয়ে দিচ্ছে, পরিয়ে দেবে। কিন্তু খোলার সময় কিন্তু আমাকে ডাকবে হু?”
অদিতি হা করে তাকিয়ে দেখলো সাইফের চলে যাওয়া। লোকটাকে কেমন অদ্ভুত লাগে অদিতির। এত বড় বাড়ির ছেলে এত সুন্দর চেহারা। সে কিনা অদিতিকে বউ করতে নিয়ে এসেছে? আবার কৃতজ্ঞতাও বোধ করে। সেদিন সাইফ কিনে না আনলে আজ তার কি করুন দশাই না হতো।
সাইফ নদীকে চোখের ইশারায় ডাকে। নদী গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে আসে। সাইফ নদীর কানে কানে বলে
” যা তোর ভাবিকে একটু হেল্প কর”
নদী সাইফের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। সাইফ ঘরের দিকে ইশারা করে। নদী সেই মতো সাইফের ঘরে চলে যায়।
গিয়ে দেখে অদিতি শাড়ি খাটে রেখে শুধু পেটিকোট আর ব্লাউজ পড়ে দাড়িয়ে আছে। নদীকে দেখেই হাসি ফুটলো অদিতির।
” এসেছেন আপুউউউউ। দেখুন না আমি কিচ্ছু করতে পারছি না এই শাড়িটাকে “
নদী প্রথমে শাড়ির আচল টা মাপ মতো সেফটিপিন এ আটকে রেখে, শাড়ির জমিন অংশ অদিতির পেটিকোটে গুজে দিলো। তারপর দক্ষ হাতে সুন্দর কুচি করে ৫ মিনিটেই অদিতি কে শাড়ি পড়িয়ে দিলো। অদিতি তাকিয়ে দেখলো নদীর দিকে। কত গুণী মেয়েটা। রান্নাবান্না শাড়ি পড়ানো, সব কাজে পারদর্শী।
নদীর কথায় অদিতির ভ্রম ভাংলো
” একটা কথা বলবো”
” বলুন না আপু”
নদী অদিতির কানে কানের দুল পড়াতে পড়াতে বলল
” আরেকটু সকালে ওঠার চেষ্টা করবে। মা, মনি মা খুশি হবে”
অদিতি এখনো অতটা ম্যাচিউর না। কোন কথা বললে কোন দিকে যাবে বিষয়টা অত বোঝে না। বলে ফেললো
” আমি সকালেই উঠি আপু। উনি যেতে দেয় না”
নদীর হাত থামলো অদিতির কথায়। মেয়েটা কি বলে এসব।
” শোনো, এটা আমাকে বলেছো আর কাওকে বলবে না। ঠিক আছে?”
“আচ্ছা”
নদী দেখলো শাড়ি পড়ে কেমন বড় বড় লাগছে মেয়েটাকে। সাইফের পাশে বড্ড মানাবে। আচল দিয়ে মাথায় ঘোমটা টেনে দিয়ে বলল
” মাথায় ঘোমটা দিয়ে থাকবে। মুরব্বি কেউ পরিচিত হতে আসলে সালাম দেবে। বুঝেছো?”
” আচ্ছা আপু”
নদী অদিতিকে সাথে করে নিচে এলো। সাইফের চোখ আটকে গেলো সিড়িতে। কী অপূর্ব লাগছে মেয়েটাকে। শাড়িতে প্রথম দেখলো সাইফ। আঞ্জুমান মুচকি হাসলো অদিতি কে দেখে। মনে মনে মাশাল্লাহ বলল। ছেলেটার পছন্দ আছে বলতে হবে।
অদিতি রান্না ঘরে ঢুকতে গেলে আঞ্জুমান বলল
” তোমার এখানে আসতে হবে না। সোফায় গিয়ে বসো। শাড়ি সামলাতে হিমসিম খাচ্ছো।”
কথাটা অবশ্য মন্দ বলেনি। নদীর বেস্ট ফ্রেন্ড সিমি এসেছে। নদীকে এসে জড়িয়ে ধরলো।
” কোথায় ছিলি এতক্ষণ? কখন এসেছি আমি। তোর জন্য বসে আছি”
নদী কথাটা বলতে অস্বস্তি বোধ করলো। কারণ সিমি সাইফ এর জন্য নদীর অনুভূতি টা জানতো। বেস্ট ফ্রেন্ড হিসেবে সবই সিমিকে বলতো নদী।
” সাইফ ভাই এর বউ কে শাড়ি পড়িয়ে দিতে গেছিলাম”
সিমি ইতিমধ্যেই ফোনে শুনেছে সাইফের করা ঘটনা। নদীর হাত ধরে বলল
” তোর কি ওকে একটুও হিংসা হয় না? ওকে তুই সাজিয়ে দিচ্ছিস? নদী সিরিয়াসলি? “
নদী চোখের পানি টুকু আড়াল করতে বলল
” আমি যাকে ভালোবাসি, সেই ওকে ভালোবাসে। আমি ওকে কি করে হিংসা করবো?”
সিমি নদীকে জড়িয়ে ধরে বলল
” জানিস তোর মতো মহান লোক গুলোই জিবনে বার বার ঠকে। অন্যের জন্য নিজের ভালো লাগা বিসর্জন দিয়ে দিস, দিন শেষে কেউ তোদের জন্য থাকে না”
বড়সড় কিছু একটা পড়ে ড্রইং রুমের কাচের টেবিলটা চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে মেঝেতে ছড়িয়ে পড়লো। সবাই চমকে সে দিকে তাকায়। আচমকা এমন ঘটনায় সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। হাসান চৌধুরী ঘর থেকে ছুটে বেড়িয়ে এলো শব্দে।
এমন কাজটি আর কেউ না হাবিব চৌধুরী করেছে। হাসান চৌধুরী ধমক দিয়ে বলল
” কি হচ্ছে কি হাবিব? পা’গল হয়ে গেছো?”
হাবিব হুংকার দিয়ে বলল
” পা’গল আমি হইনি ভাইজান। সত্যি টা শুনলে পা’গল এবার আপনারা হবেন”
আঞ্জুমান জিজ্ঞেস করলো
” কি সত্যি? কোন সত্যির কথা বলছো?”
হাবিব চৌধুরী আগুন চোখে অদিতির দিকে তাকালো। অদিতি ভয়ে নদীর হাত চেপে ধরেছে। হাবিব চৌধুরী বজ্রকন্ঠে বললেন
” সাইফ এই নোংরা মেয়ে টাকে নিষিদ্ধ পল্লি থেকে কিনে এনেছে”
কথাটা বাজ পড়ার মত পড়লো ড্রইং রুমে। চারিদিকে পরিবেশ থমথমে হয়ে গেলো। কারো মুখেই কোনো কথা নেই। সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে যেন। সাইফ এখনো স্বাভাবিক। সবার দৃষ্টি অদিতির দিকে।
হাবিব চৌধুরী পুনরায় বললেন
” এই নোংরা মেয়ে এই অনুষ্ঠানে এবং এই বাড়িতে কোথাও থাকবে না”
সাইফ কাকার কথার বিপক্ষে বলল
” কাকা ও কোনো নোংরা মেয়ে নয়। ওর সৎ বাবা টাকার জন্য ওকে নিষিদ্ধ পল্লি তে বিক্রি করে দিয়েছিলো। তখনি আমি ওকে নিয়ে এসেছে। ও ঢোকেও নি নিষিদ্ধ পল্লি তে”
হাসান চৌধুরী ক্ষিপ্ত গলায় বলল
” কিন্তু এনেছো তো সেই নষ্ট জায়গা থেকেই”
“কিন্তু বাবা এতে ওর কি দোষ বলো”
” ব্যাস। আর একটা কথাও না সাইফ। সব অতিথিরা এসে পড়ার আগে এই মেয়ে টাকে বিদায় করে দাও। ও এখানে কিছুতেই থাকতে পারবে না।”
সাইফ অদিতির হাত চেপে ধরে বলল
” ও না থাকলে আমিও থাকবো না। চলো অদিতি।”
এই ছেলে একবার বাড়ি ছাড়লে আদৌ কোনোদিন ফেরানো সম্ভব নয়। আঞ্জুমান আটকালো ওদের।
“অনুষ্ঠান শেষে এ নিয়ে কথা হবে। আপাতত বউ নিয়ে ঘরে যাও।”
হাসান চৌধুরীও কিছু বলল না কারন তার বড় ভাই আসছে। সে কোনো ভাবে এই ঘটনা টের পেলে সর্বনাশ হয়ে যাবে । হাবিব চৌধুরী কে সতর্ক করলেন
” বড় ভাইজান যেন কোনোভাবে জানতে না পারে মেয়েটা কোথা থেকে এসেছে।”
লোক দিয়ে সব কাচের টুকরো ভাঙা জিনিস পরিষ্কার করাচ্ছেন। এই এলো বলে তারা। সবাই দ্রুত সব রেডি করতে ব্যাস্ত। একজন স্টাফ এসে খবর জানালেন
এসেগেছে বাড়ি থেকে লোকজন
চলবে?
Share On:
TAGS: খাঁচায় বন্দী ফুল, জান্নাতুল ফেরদৌস
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৩
-
খাঁচায় বন্দী ফুল গল্পের লিংক
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৫
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৬
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১১
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১২
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৭
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৮