খাঁচায় বন্দী ফুল
জান্নাতুল_ফেরদৌস
পর্ব – ৫
আজ অনেক দিন পর নদী সাইফের ফেসবুক প্রফাইলে ঢুকেছে। প্রফাইলে সাইফের হাসোজ্জল একটা ছবি। গত মাসে দুবাই গেছিলো। সেখান থেকেই ছবিটা তোলা। নদী ছবিটাতে ক্লিক করে স্ক্রিনে আনলো ছবিটা। সাইফের সাথে এড নেই তার। প্রফাইল আনলক বলে চাইলেই প্রফাইলে ঢুকতে পারে। ছবিটাকে জুম করে দেখছে সে। হাসলে চোখ দুটো কেমন ছোট দেখায় সাইফের। এই ছবিটা যখন নদী প্রথম দেখেছিলো, মনে মনে সাইফের পাশে নিজেকে কল্পণা করে লাজে রক্তিম হয়ে উঠেছিলো বারংবার।
কথা গুলো মনে হতেই চোখ গুলো ঝাপসা হয়ে আসে পানিতে। পাতা ফেলতেই মুক্তোর দানার মতো ঝড়ে পরে দুফোটা পানি মোবাইলের স্ক্রিনে। স্বযত্নে সেই পানি টুকু ওড়না দিয়ে মুছে নেয় সাইফের ছবি থেকে।
খুব চেষ্টা করছে নিজেকে শক্ত করবার। কিন্তু ওদের সামনে গেলেই তার সব কেমন এলোমেলো লাগে। বিয়ে করে সাইফ খুব গুছিয়ে গেছে দু দিনেই। ছন্নছাড়া থেকে হঠাৎ কেমন কেয়ারিং হাসবেন্ড হয়ে উঠলো। এর সবটা নদী খেয়াল করে। ছোট ছোট কেয়ার, অদিতির হয়ে কতা বলা, অদিতির যত্ন নেওয়া, কোনো টাই চোখ এড়ায় না নদীর।
কিন্তু কিচ্ছু করার নেই তার। মনে মনে ভাবে
” আমি অদিতির মতে অতো সাহসি নাকি? ও তো সব ছেড়ে ছুড়ে সাইফ ভাইয়ের সাথে চলে এসেছে। আর আমি? আমি একই ছাদের নিচে থেকেও মনের কথাটা তাকে বলতে পারিনি”
কিন্তু এখন এই বিষ দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে নদীর জন্য। ওদের জুটি এক সাথে দেখলেই কেমন বুকের মধ্যে চিনচিনে ব্যাথা হয়। হাহাকারে ভরে উঠে বুকটা।
বাইরে জোরে কোনো শব্দে চমকে উঠে নদী। মোবাইলের স্ক্রিন অফ করে চোখ মুছতে মুছতে ছুটে যায় ড্রইং রুমের দিকে। গিয়ে দেকে আঞ্জুমান এর আনা ফুলদানিটা ফ্লোরে টুকরো টুকরো হয়ে পড়ে আছে। পাশেই ভয়ার্ত চোখে দাড়িয়ে অদিতি। নদী বলল
” ব্যাথা পেয়েছো? এটা পড়লো কীভাবে? “
অদিতি নদীর কাছে এগিয়ে এসে ভয়ে ভয়ে বলল
” আপু আমি আপনার কাছেই যাচ্ছিলাম। ভুল বসত এটা আমার কাছ থেকে ভেঙে গেছে।”
অদিতির চোখের পাতা ভিজে উঠলো কথা টা বলতে বলতে। এমনিতেই এ বাড়ির লোক গুলো কেমন একটা। অত দামি ফুল দানিটা ও ভেঙে ফেলেছে।
নদী ওকে শান্তনা দিতে বলল
” আচ্ছা ঠিক আছে। চুপ করো”
আঞ্জুমান চেচাতে চেচাতে এলো
” কিসের শব্দ হলো এখানে?”
অদিতি কে এখানে দেখে আঞ্জুমান আরো জলে উঠলো। নিশ্চয়ই এই মেয়েটাই ভেঙেছে আমার অত শখের ফুলদানি। কড়া চোখে অদিতির দিকে তাকাতেই অদিতি নদীর পিছনে লুকিয়ে পড়লো।
আঞ্জুমান রেগে বলল
” কি করে ভাঙলো এটা?”
নদী বলল
” মনি মা আমি পা ফসকে পড়ে গেছিলাম। দেখো না ভেঙে গেলো তোমার ফুল দানিটা।”
আঞ্জুমান এর মুখভঙ্গি মূহুর্তের মধ্যে পরিবর্তন হয়ে গেলো
” আহারে লাগেনি তো তোর কোথাও মা? আর এই মেয়ে দাড়িয়ে দেখছো কি ফ্রিজ থেকে আইস নিয়ে এসো। কোথায় ব্যাতা পেয়েছে লাগাতে হবে”
” না না মনি মা। আমি ঠিক আছি। লাগেনি। তুমি যাও।”
আঞ্জুমান চলে গেলো। নদী অদিতির দিকে ফিরে বলল
” এখন বলোতো, আমায় কেন খুজছিলে?”
অদিতি মাতা নিচু করে মিনমিনে গলায় বলল
” একটা জিনিস লাগতো”
নদী জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল
” কী?”
অদিতি এদিক ওদিকে তাকিয়ে বলল
” আমার পিরিয়ড হয়েছে। এ বাড়িতে আপনি ছাড়া কারও সাথে তো সেরকম…… “
” ভাইয়াকে বলতে পারতে”
অদিতি ভ্রু কুচকে বলে
” কাকে?”
নদী বলল
” সাইফ ভাইয়াকে মানে তোমার স্বামীকে”
এখন অদিতি কি করে বলবে। তার যে বিয়েই হয়নি এখনো। সাইফ খুব করে সাবধান করেছে যেন কাওকে এ কতা না বলে। এমনকি নদী আপুকেও না। নইলে সবাই মিলে অদিতিকে আবার সেই খারাপ জায়গায় জোর করে দিয়ে আসবে।
নদী অদিতি কে ডাকতেই অদিতি চমকে উঠলো
” কি হলো? কোনো সমস্যা? “
অদিতি দুদিকে মাথা নাড়লো। নদী ফোস করে নিশ্বাস নিয়ে বলল
” আচ্ছা এসো।”
” কোথায়?”
নদী পিছন ফিরে বলল
” কোথায় আবার আমার ঘরে”
নদীর পিছন পিছন অদিতি চলে গেলো। রুমে গিয়ে নদী অদিতিকে ন্যাপকিন দিয়ে দিলো। মনে মনে খুত খুত করছে। কেমন অদ্ভুত লাগলো না বিষয় টা? পিরিয়ড এর কথা নিজের স্বামী কে না বলে ওকে বলতে এসেছে।
অদিতি চলে যেতে নিলে নদী আবার ডাকলো
” শোনো “
দুটো ওষুধ অদিতির হাতে দিয়ে বলল
” পেইন কিলার, খেয়ে নিও। আরাম পাবে”
অদিতি ঘার কাত করে চলে গেলো। নদীর ঘর পেরিয়ে ড্রয়িং রুমে আসতেই দেখা হলো হাবিব চৌধুরীর সাথে। চোখ গরম করে তাকিয়ে আছে অদিতির দিকে। যেন এক্ষুনি খেয়ে ফেলবে। অদিতি ভয়ে দ্রুত হাটা শুরু করলো। সিড়ি পেরিয়ে রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো। বুকে হাত দিয়ে জোরে করে শ্বাস টানলো। মনে মনে বলছে
” এরা এত ভয়ানক কেন?”
দরজা ছেড়ে পিছনে ঘুরতেই কারো শক্ত পোক্ত বুকের সাথে নাক টা ঠুকে গেলো। ইশশ কি ব্যাথা। নাকে হাত দিয়ে ওপরে তাকাতেই দেখলো সাইফ ভ্রু কুচকে ওরই দিকে তাকিয়ে আছে।
অদিতি একটু পেছনে সরে বলল
” সরি “
সাইফ একই ভঙ্গিতে দাড়িয়ে
“কোথায় গেছিলে?”
অদিতি মাথা নিচু করে জবাব দিলো
” নদী আপুর ঘরে। কারণ জানতে চাইবেন না দয়া করে। আমি বলতে পারবো না”
” কেন পারবে না শুনি?”
সাইফ অদিতির দিকে এগিয়ে আসতেই অদিতি দু পা পিছিয়ে গেলো। হাতে থাকা ন্যাপকিন এর প্যাকেট টা পিছনে লুকিয়ে ফেললো। কিন্তু বিষয়টা সাইফ দেখে ফেলেছে। আরো কাছে এগিয়ে এসে বলল
” হাতে কি? কি লুকাচ্ছো দেখি”
অদিতি যত পিছিয়ে যাচ্ছে সাইফ ততই এগিয়ে যাচ্ছে অদিতির দিকে।
” দেখাও কি এনেছো”
” না না না প্লিজ। আমি দেখাতে পারবো না। এটা আমার পারসোনাল জিনিস প্লিজ সরে যান”
অদিতি দরজার সাথে ঠেকে গেলো। সাইফ ও অদিতির গা ঘেষে দাড়ালো। পিছনে থাকা হাত দুটো দুই হাত দিয়ে ধরে সামনে আনতেই অদিতি চোখ মুখ খিচে বন্ধু করে ফেলল।
সাইফ ও ন্যাপকিনের প্যাকেট টা দেখে বোকা বনে গেলো। এরকম কিছু যে হবে সেটা সাইফ ভাবেও নি। চট করে অদিতির হাত ছেড়ে দিলো। পকেট থেকে মোবাইল বের করে চলে গেলো ব্যালকনিতে। মনে মনে ভাবলো
” এবার একটু হলেও বুদ্ধিমানের কাজ করেছে।”
হাবিব চৌধুরী অদিতি কে নদীর ঘর থেকে বেরোতে দেখে নদীর কাছে গেলো। দরজা খেলাই আছে। তবুও ডাকলো
” নদী”
নদী দীঘির জামা কাপড় ভাজ করে দিচ্ছে।
” হ্যা বাবা। এসো। কিছু বলবে?”
হাবিব চৌধুরী শক্ত গলায় জিজ্ঞেস করলো
” ওই মেয়ে তোর ঘরে কি করছিলো?”
নদী হাসি মুখে জবাব দিলো
” ওর মাথা ব্যাথা করছিলো। তাই ওষুধ নিতে এসেছিলো। কেন বলোতো?”
হাবিব চৌধুরী কন্ঠ নিচু করে বলল
” না এমনি। আবার হয়তো তার স্বামী এসে বলবে ওষুধের বদলে বিষ দিয়েছিস।”
নদীর হাত থামলো। কাপড় হাত থেকে নামিয়ে বাবার মুখোমুখি দাড়িয়ে কৌতূহলি হয়ে জিজ্ঞেস করলো
” আচ্ছা বাবা, মা কি কাল সত্যি অদিতির খাবারে কিছু মিশিয়েছিলো?”
হাবিব চৌধুরী থতমত খেয়ে গেলো। সে সচরাচর বড় মেয়ের সামনে মিথ্যা বলে না। কারণ নদী শান্ত স্বভাবের হলেও, বেশ বিচক্ষণ। মিথ্যা বললে ঠিক ধরে ফেলে।
মেয়ের মাথায় হাত দিয়ে বললেন
” তুই তো জানিস ই। কত নাম ডাক আমাদের পরিবার এর। তোর চাচ্চু এদেশের একজন মন্ত্রী। যাকে তাকে কি আর এ বাড়ির বউ হিসেবে এলাউ করা যায় রে মা? আর তাছাড়া ভাই জান ভেবে রেখেছিলো সাইফের বিয়েটা তোর সাথে দিতে। আমিও তাই চেয়েছিলাম। সেক্ষেত্রে… “
” কিন্তু বাবা ওদের বিয়ে তো হয়ে গেছে। এখন মেয়েটার ক্ষতি করাটা বোকামি হবে না বলো?”
হাবিব মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল
” তুই অত শত ভাবিস না। আসছি আমি”
বিকেলে তুযা এসেছে বাবার ঘরে তার সাথে দেখা করতে। নক না করে হুরহুর করে ঢুকে পরা তার স্বভাব। ওয়াহাব চৌধুরী সংবাদ পত্র পড়ছিলেন। তুযা বাইকের চাবি দিয়ে কান খোচাতে খোচাতে রুমে ঢুকলো।
ওয়াহাব চৌধুরী তুযা কে বহু বার বলেছে কারো রুমে যাতে নক করে ঢুকে। গরম হয়ে বললেন
” তোমাকে কত বার বলেছি কারো ঘরে ঢুকতে হলে পারমিশন নিতে হয়, নক করতে হয়।”
তুযা বিছানায় আধশোয়া হয়ে বালিশের নিচে রিমোট খুজছে টিভি অন করবে বলে
” যার তার ঘরে তো ঢুকিনি। ঢুকেছি তো তোমার ঘরে।”
ওয়াহাব চৌধুরী বললেন
” আমার ঘরে আসো আর যার ঘরেই যাও, নক করে আসতে কি খুব অসুবিধে হয়?”
রিমোটে কাজ না করায় তুযা সেটাকে চাপড় মরছে। বলল
” কেন ঘরে কি লেংটা হয়ে থাকো? যে আসার আগে নক করতে হবে। আর কেউ আসছে বুঝে ওমনি পোষাক পড়ে নেবে। এই বা ল এর রিমোট কাজ করে না কেন?”
ওয়াহাব চৌধুরী ছেলের লাগামহীন কথাবার্তা শুনে প্রসঙ্গ পাল্টালো। এর সাথে তর্কে উনি পারবেন না।
” তোমাকে কতক্ষণ আগে বলেছি দেখা করতে। এখন সময় হলো?”
তুযা টিভির দিকে তাকিয়েই বলল
” আমি আসলে টিভি দেখতেই এসেছি। তুমি যে ডেকেছিলে এটা তুমি বলার পর মনে পড়লো”
সাউন্ড বাড়িয়ে তুযা টিভিতে 9xm চ্যানেলে চিকনি চামেলি গান ছাড়লো। ওয়াহাব চৌধুরী বিরক্ত হচ্ছে ওর এই ব্যাবহার এ।
” ওটা বন্ধ করো। আগে আমার কথা শোনো”
তুযার নজর সম্পূর্ণ টিভিতে ক্যাথরিনা কাইফ এর নাচে। মুখে বলল
” বলো শুনছি তো”
” আমাদের যে ফ্যাক্টরি আছে সেটা কি ভুলে গেছো?”
তুযা মুখ বাকিয়ে বলল
” ও বা ল আবার মনে রাখার কি আছে? আর ভুলবোই বা কেন?”
” সামনের মাস থেকে তুমি ওটার দায়িত্ব নেবে”
তুযা টিভির স্ক্রিনে মত্ত। ওয়াহাব চৌধুরী আবার বললেন
” শুনতে পেয়েছো কি বলেছি?”
” তুমি বেচে থাকতে আমি কেন অফিসে বসবো? তুমি মরলে না হয় একটা কথা……”
তুযার মুখ বন্ধ হয়ে গেলো। টিভি ছেড়ে বাবার দিকে চাইলো। বলতে বলতে বেশি বলে ফেলেছে বুঝতে পেরে চট করে টিভি টা বন্ধ করে দিলো। ওয়াহাব চৌধুরী বিরক্তির স্বরে বলল
” আকবর কে বলে দিচ্ছি। ও তোমাকে সব দেখিয়ে দেবে। সামনের মাস থেকে নিয়মিত তুমি ফ্যাক্টরি দেখা শোনা করবে।”
তুযা মাফলার গলায় পেচাতে পেচাতে বেড়িয়ে গেলো। রুমের সামনেই আকবর এর সাথে দেখা। তুযা আকবরের চোখ থেকে চশমা খুলে নিজের চোখে পড়ে বলল
” শোনো আকবর, অফিসে সব কচি কচি মেয়েদের নিয়োগ দাও। ১ তারিখ থেকে আমি অফিসে বসবো”
আকবর হা করে তাকিয়ে বলল
” কিন্তু স্যার, আমাদের অফিসে কমবয়সী মেয়ে দের কাজ দেওয়া তো নিষেধ।”
তুযা চোখ থেকে চশমা খুলে, বাংলা সিনেমার ভিলেনের পাট নিয়ে বলল
” নিষেধ মানে? কার নিষেধ?কোন লেউরার ঘরের লেউড়া নিষেধ করেছে। ওর পাখিটা কাইট্টা কঞ্চির মাথায় করে মধ্যে জমিতে রোদে দিলেই অফিসে মেয়ে নিয়োগ আবার চালু হবে। আকবর তুমি খালি নাম ডা কও।”
আকবর এদিক ওদিক তাকিয়ে বলল
” আজ্ঞে আপনার বাবা “
তু্যা খপ করে আকবরের মুখ চেপে ধরলো। ভিতর থেকে সব কতাই শুনেছেন ওয়াহাব চৌধুরী। তুযা আড় চোখে একবার রুমের ভিতর দেখে বলল
” ছি ছি আকবর। তুমি আমার বাবার সম্বন্ধে এত খারাপ কতা বললে? এসব শোনার আগে আমার বাবার মৃ’ত্যু হলো না কেন?”
ওয়াহাব চৌধুরী বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে। তুযা মিন মিন করে বলল
” আবার ভুল বলে ফেললাম নাকি?”
ওয়াহাব আকবর কে বললেন
” আকবর তোমাকে যে জন্য ডেকেছি সেটা শুরু করো। কি ওখানে ফালতু সময় নষ্ট করছো? ওর সাথে কথা বলা মানে জঙ্গলের সাথে জড়াজড়ি করা। এসো”
তুযা চলে যেতে নিলে আকবর টেনে ধরলে
” স্যার আমার চশমা টা”
তুযা ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত আকবর কে দেখে কিছু বলতে যাবে এমন সময় আকবর বলল
” আসলে স্যার এটা ১৩ তম বিবাহ বার্ষিকী তে বউ এটা গিফট করেছিলো”
তুযা চশমা টা দিয়ে বেরিয়ে গেলো। যাওয়ার সময় সোফায় বসে থাকা মেহের জান কে একটা উড়ন্ত চুমু দিলো। মেহেরজান ওর সাথে কথা বলবে না পণ করেছে নেহাৎ। নয়তো বাড়িতে আরেক তরফা ঘূর্ণিঝড় হয়ে যেত।
বাইকে উঠে বাইক টেনে তুযা চলে গেলো হাওরের পারে। এই শীতের মৌসুমে সেখানে কনকনে বাতাসে মানুষ দাড়াতে পারে না। সেখানেই দলবল নিয়ে আড্ডা দেয় তুযা। মানিক আসলো চা নিয়ে। তুযা বাইকে হেলান দিয়ে সিগারেট টানছে। মানিক চা দিয়ে দাতের উচু পাটি বের করে হেসে বলল
” ছোট সাহেব আমনে অহন আইলেন”
” ক্যান আগে আইলে কি তোর বউরে আমার লগে থাকতে দিতি?”
মানিক হাসলো
” আমি বউ পামু কইত্তে? এদিকে বিশাল এক কান্ড ঘটেছে”
তুযা সিগারেট এর বাকি অংশ মানিক কে দিয়ে বলল
” কি?”
মানিক সিগারেটে একটা টান দিয়ে বলল
” মোকছেদ মাস্টারের মেয়ে উধাও “
তুযা অবাক হয়ে বলল
” মোকচুইদ্দার মাইয়া শান্তা তো আমগো কালেকশনে নাই”
” হেই ডাই তো কইতাছি ছোট সাহেব। তার মানে এই গেরামে নতুন দল ঢুকছে মাইয়া অপহরণ করার। কোনোভাবে অদিতি ওদের কাছে নাই তো আবার?”
তুযা সিরিয়াস হলো।
” ওঠ বাইকে ওঠ। চল জঙ্গলের ভিতর আমগো ফরেস্ট হাউসে যামু”
মানিক ভয়ে ভয়ে বলল
” সেদিনের কথা ভুলে গেছেন ভাই? আরেকটু হলে সবাই…… “
মানিকের কথা শেষ হওয়ার আগে তুযা চোখ রাঙানি দেয়।
চলবে?
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৫
Share On:
TAGS: খাঁচায় বন্দী ফুল, জান্নাতুল ফেরদৌস
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৭
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৬
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১০
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৯
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৪
-
খাঁচায় বন্দী ফুল গল্পের লিংক
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৪
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৬
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৩
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৭