আদিল মির্জাস বিলাভড
— ২১
রোযা ভেবেই রেখেছিলো পরদিনও গাড়ি চলে আসবে তাকে মির্জা বাড়ি নেয়ার জন্য। তাকে না যাওয়ার জন্য হয়তো-বা ঝামেলা করতে হবে। বা কোনো একটা কাহিনী হবে নিশ্চয়ই! তবে না, তেমন কিছুই হয়নি। আশ্চর্যজনক ভাবে, গাড়িই আসেনি তাকে নিতে। না এসেছে কোনো বডিগার্ড। এতে রোযার গলায় উঠে আসা কাঁটার মতো হৃৎপিণ্ড খানা যেন ঠিক যায়গা গিয়ে বসে পড়ল। হালকা লাগছিলো। ব্রেকফাস্ট ভীষণ আনন্দের সাথে খেতে পারছিলো। নিপা বেগম আড়চোখে কয়েকবার মেয়ের উৎফুল্ল আচরণ লক্ষ্য করে প্রশ্ন করেই বসলেন –
‘আজ যেতে হবে না? ছুটি?’
রোযা খেতে খেতে টেলিভিশন দেখছে। তামিলের একটা মুভি চলছে। আপাতত অ্যাকশন পজিশনে আছে। ভীষণ মনোযোগ রেখেছে টিভির পর্দায়। নিপা বেগমের জবাব টিভির পর্দায় রেখেই দেয় –
‘হু।’
এসম্পর্কে আর কথা বাড়ালেন না ভদ্রমহিলা। অন্য আলাপ তুললেন, ‘তুই নাকি বেরুবি?’
‘হু। জিহাদদের বাসায় যাবো।’
আজিজুল সাহেব একটু অন্যমনস্ক হয়েই বললেন –
‘ওকে বলিও ওর বাবা-মা নিয়ে বাড়ি আসতে। সামনের শুক্রবারে ভাবছিলাম তোমাদের ঘরোয়া বিয়েটা সেরে ফেলতে।’
রোযার দৃষ্টি সরল টিভির পর্দা থেকে। তাকাল আজিজুল সাহেবের দিকে। ভদ্রলোক চা খাচ্ছিলেন আনমনা। রোযাও ভাবল কিছুক্ষণ। মাথা দুলিয়ে বলল,
‘আমি এইজন্যই যাচ্ছি। অনেকদিন দেখা হচ্ছে না। আন্টি-আংকেল ফিরেছেন কি-না জানা দরকার তো! শুনেছিলাম ওর কাজিন অসুস্থ! সেই সম্পর্কেও তেমন খোঁজখবর রাখতে পারিনি।’
নিপা বেগম একটু বিরক্তই হলেন মেয়ের ওপর –
‘এতো হেলাফেলা করলে তো হয় না! ছেলেটা তো বিয়ের জন্য ঘুরল পাগলের মতো। তুই তো রাজি হলি না। এবারে আর কোনো অযুহাত দিস না। ও যেভাবে বলে শোন।’
বিপরীতে রোযা আর কথা বলতে পারল না। জানাল না তার সন্দেহের চিন্তাভাবনা। শুধু সন্দেহ ধরে এসব বলে সম্পর্ক নষ্ট করার কোনো মানেই হয় না। শুরু থেকেই জিহাদ আর তার সম্পর্ক অনেকটা একপাক্ষিক। বরাবরই ছেলেটাই সম্পর্ক টেনে এতদূর এনেছে। রোযার অনুভূতি ভীষণ ম্লান। কী জানি কেনো! ও বরাবরই একটা ছন্নছাড়া ভাব রেখে এসেছে। কেন যেন উপন্যাসের পাতায় বর্ণিত ওই ভুবন ভুলানো অনুভূতি অন্তরে লালন করতেই পারেনি। তবে মায়া জন্মেছে। দায়িত্ব হিসেবে সবসময় সৎ থেকেছে। তার মাথায় সবসময় ছিলো নিজের এবং পরিবারের জন্য একটা সুষ্ঠু জীবন গড়ে বিয়েটা জিহাদকেই করবে। দু-পরিবারের এই নিয়ে আলাপও হয়েছে। ভালো একটা সম্পর্কও ছিলো।
অথচ একদম পরিষ্কার সবকিছু এখন কেমন এলোমেলো লাগছে। মনে হচ্ছে, এতোদিন চোখের পর্দায় একটা আলগা কাপড় ছিলো। যা ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে….
.
কয়েকদিন ধরে রূপচর্চা করতে পারেনি রোযা। জীবন নিয়ে বড়ো ব্যস্ত ছিলো। সময় কোথায় ছিলো? আজ বেশ সময় নিয়ে নিজের যত্ন নিয়েছে। চুলে হেয়ারপ্যাক লাগিয়েছে। চেহারায় ফেসিয়াল মাস্ক রেখেছে অনেকটা সময়। এরপর লম্বা সময় ধরে গোসল নিয়ে যখন বেরিয়েছে ঘড়ির কাঁটা দুটো চারে। রাজু তখন রোযার রুমের দুয়ারের সামনে দাঁড়িয়েছিলো। মুখটা হা করে রেখেছে। ওর ওমন হতবিহ্বল মুখ দেখে বিরক্তই হলো রোযা। চোখ রাঙিয়ে তাড়াতে চাইল,
‘এখানে ভ্যাবলার মতো দাঁড়িয়ে আছিস কেন? যা ভাগ।’
রাজু হতবাক সুরে কলকল করে বলে গেলো, ‘আপু, তুমি কি মানুষ? আমার সন্দেহ আছে এতে। কোনো মানুষ কি দেড়-দেড়টা ঘণ্টা ওয়াশরুমে কাটাতে পারে?’
মুহূর্তে চটে গেলো রোযা। চুল মোছা রেখে ছুটে গিয়ে ধরল রাজুর কান। কান মলে দিতেই ছেলেটা হাহাকার করে উঠল। ব্যথায় প্রায় ঝুঁকে গেলো। আওয়াজে দৌড়ে এলেন নিপা বেগম। তার হাতে ঝাড়ু। রাজু আর্ত নাদ করতে করতে বিদ্রুপ করা ছাড়ল না –
‘মা, এই তোমার কোনো সাধারণ মেয়ে নয় লা। এ হচ্ছে দেড় ঘণ্টা লাগিয়ে গোসল করা এক ভূতম মেয়ে তোমার।’
নিপা বেগম ধমকালেন ছেলেকে। নিজেই কান টেনে ধরে নিয়ে গেলেন সাথে করে। রোযা চোখমুখ রাঙিয়ে দরজা আটকে দিলো। গিয়ে বসল ড্রেসিং টেবিলের সামনে। হেয়ারড্রায়ার দিয়ে চুল শুকাতে শুকাতে চোখ গেলো বেডের সাইড টেবিলের ওপরের ফ্রেমে। এক নজর চেয়ে আর চাইলো না। কী দরকার? মেয়েটাকে দেখলেই বুক ভার হয়। মনে পড়ে। গতকাল যখন ফিরে এলো একবার বলেও আসেনি। নিশ্চয়ই তাকে খুঁজেছিলো? কে বলেছে ওমন এক লাফাঙ্গারই মেয়ে হতে? নিজে একটা জাদরেল হলে কী হবে? জন্ম দিয়েছে একটা সুইটেস্ট পরীকে। হুহ!
রোযা নিজের জীবনে এবার নজর দিবে। অন্যদিকে সময় খরচ করার বয়সও তার নেই যে! এখন বিয়েশাদি করে সেটেল্ড হবার পালা। নিজের বাচ্চা নেয়ার পালা। আর না! ভাবতে ভাবতে ভীষণ হালকা একটু মেক-আপ করে নিলো। লিপস ড্রো করে, একটা পিংক রঙের লিপগ্লোস দিয়ে উঠে দাঁড়াল। কাবার্ডের কাপড়চোপড় ঘাটতে গিয়ে ধরল মেরুন রঙের সিল্কের শাড়িটা। জিহাদ ভীষণ পছন্দ করে মেরুন রঙ। আর ওর পছন্দের পোশাক হচ্ছে শাড়ি। রোযা শাড়ি পরলেই ছেলেটা ভ্যাবলার মতো চেয়ে থেকে বলতো –
‘আমার বিশ্বাসই হয় না, তুমি আমার।’
আজ রোযা বিশ্বাস করাবে। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আর হেলাফেলা করবে না। অগত্যা জিহাদের পছন্দের রঙের, পছন্দের পোশাক অর্থাৎ শাড়িই পরল ম্যাচিং ব্লাউজ দিয়ে। ব্লাউজের হাতা শর্ট, গলাটা শার্ট কলার। একজোড়া পাথরের দুল পরে, পারফিউম ছিটিয়ে নিলো। হিল পরে.. পার্স হাতে নিতেই ভাবল দুটো ছবি তোলা যাক। ডাকল রাজুকে। রাজু আবার ফটোগ্রাফিতে বেশ পটু। সুন্দর সুন্দর ছবি তুলতে পারে। ও এসে আঁকাবাঁকা হয়ে নানান ভাবে কিছু ছবি তুলে দিলো। ছবি তোলা শেষে দ্রুতো হাত পেতে ফেলল।
‘আমার সম্মানি প্লিজ!’
দীর্ঘশ্বাস ফেলল রোযা। ওর হাতে একশো টাকার নোট দিতেই ছেলেটা ছুটে বেরিয়ে গেলো। সম্ভবত দোকানে যাবে। রোযা ফোনের পাশাপাশি গাড়ির চাবি হাতে তুলে নিয়ে কদম বাড়াল রুমের বাইরে। বেরুতে বেরুতে উচ্চকণ্ঠে জানাল নিপা বেগমকে। নিপা বেগম দ্রুতো বললেন –
‘জিহাদকে সাথে আনিস।’
রোযা ইতোমধ্যে বেরিয়ে এসেছে। পার্কিং এরিয়া থেকে নিজের লাল রঙের গাড়ির ড্রাইভিং-য়ে উঠে বসল। হিল খুলে গাড়িতে রাখা স্লিপার পরে নিলো। গাড়ি গেইট দিয়ে বের করতে করতে গান ছাড়ল। আজকের আবহাওয়া কিছুটা মেঘাচ্ছন্ন। রোমান্টিক ওয়েদার বলা যায়। বৃষ্টি হবে সম্ভবত। ওয়েদার অ্যাপ তাই জানাচ্ছে। ছয়টা থেকে নয়টা পর্যন্ত নাইন্টি নাইন পার্সেন্ট বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
— —
এই বাংলোটা বারিধারার কোনো এক সীমানাতেই অবস্থানরত। চতুর্দিকে শুধু গাছ আর গাছ। বলা যায়, ছোটোখাটো একটা জঙ্গলের মধ্যে এই বাংলো। বাংলোর সামনে বেশ বড়ো করে ফাঁকা জায়গা রাখা আছে। একটা হেলিকপ্টার সোজা এখানে অনায়সে নামতে পারবে। বাংলোর মালিক অন্যকেউ নয়, স্বয়ং বাংলাদেশের ভদ্রসমাজে শিল্পপতি আর আড়ালে সন্ত্রাস নামক আদিল মির্জার। যে কালো এক জগতে ‘লায়ন’ নামেও পরিচিত। এই জগতে যেমন তাকে ভয় করার অজস্র বিত্তশালী লোকজন আছে, তেমনি মে রে ফেলার জন্যও। এখানের বাতাসেও এক খেলা চলে, মৃ ত্যুর খেলা। লা শে র পর লা শ পড়ার এবং বেআইনি সব কর্মকাণ্ডের আস্তানা।
আদিলের পায়ের কাছটায় র ক্তা ক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা লোকটার ঠিক মাথায় গু লি করা হয়েছে। তাজা র ক্ত এখনো গল গল করে বেরুচ্ছে। একটা বিদঘুটে গন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছে রুম জুড়ে। গু লিটা করেছে শান্ত। কিছুক্ষণ আগেই। গু লি করে ও আবার স্ট্যাটুর মতো আদিলের ডান পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। জমিনে নড়চড় বিহীন জখ মিত লোকটা বিপরীত চেয়ারে বসা আইনমন্ত্রী আব্দুল মান্নানের একজন বডিগার্ড। কিছুক্ষণ আগেই লোকটা নিজের হাতের রাইফাল তাঁক করে আদিলের দিকে। শাসানো সুরে চারটা বাক্য বলতেই বিনা দ্বিধায় নিজের রাইফেল দিয়ে লোকটাকে শ্যু ট করে দেয় শান্ত। আদিলের চোখের পলকও পড়ে না। থামে না ড্রিংকের গ্লাস নাড়ানো হাতটা। উশৃংখল ভাবে পায়ের ওপর পা রেখে বসা ভঙ্গিটার নড়চড় হয় না। এযাত্রায় একটানে শেষ করে গ্লাসের ম দটুকু। ফাঁকা গ্লাসটা আলগোছে নিয়ে নেয় এলেন।
মান্নান সাহেব নিজের রাগ গিলে খেলেন। কটমট করে তাকালেন শুধু। শান্ত অনুভূতিহীন ওতে। নির্বিকার মুখ শুধু দাঁড়িয়ে। জোরে শ্বাস নিলেন মান্নান সাহেব। রাগে হৃদয়হিসহিসিয়ে উঠলেও মুখে মীমাংসা করতে চাইলেন –
‘এসব নিয়ে আর না পড়ে থাকি! আদিল মির্জা! বড্ড নাম তোমার! সামনাসামনি সাক্ষাৎ করতে পেরে ভালো লাগছে। যেই বিষয়ের জন্য আসা সেই সম্পর্কেই কথা আগাতে চাই। পুরো ব্যাপারটা কন্ট্রোল করার দায়িত্ব আমার। তুমি শুধু তোমার লোকজন দিয়ে ট্রাক গুলো সহিসালামত দেশের বর্ডার ক্র স করাবে। যা চেয়েছো, আমি তাতে রাজি।’
আদিল হাত বাড়াল। ইশারা বুঝে চটপট একটা সিগারেট ধরিয়ে দিলো শান্ত। সিগারেট ঠোঁটে চেপে মৃদুস্বরে হাসে আদিল। হাসতে একপলক তাকায় মান্নান সাহেবের দিকে। দুষ্টু রকমের ইঙ্গিত দিয়ে বলেই বসে –
‘নাইস। ভালো উন্নতি হয়েছে মন্ত্রী সাহেব। আই লাইক ইট।’
মান্নান সাহেবের পিত্তি জ্বলে গেলো। মন চাইলো একটানে আদিলের হাস্যোজ্জ্বল মুখটা টেনে ছিঁ ড়ে ফেলতে। কিন্তু আপাতত সেই শ ক্তি তার নেই।
পজিশন নড়বড়ে। কোটি কোটি টাকার ঝামেলা চলছে। মাথা নত করতেই হবে। তাই মুখে শুধু কুলুপ এঁটে থাকলেন।
লাইটার জ্বালিয়ে ধরেছে শান্ত। ঠোঁটে সিগারেট রেখেই, মাথাটা বাড়িয়ে সিগারেটের মাথা ধরায় আদিল। সিগারেট আঙুলের ফাঁকে চেপে টান দেয়। বলে,
‘বেশ রি স্ক। আমার ছেলেদের জা নের ঝুঁকি। ওদের কিছু খরচাপাতি দিলে ভালো হয়। কী বলিস তোরা?’
স্বপণ, ক্লান্ত, রাদিন, জাকির, রনি সহ সবগুলো হৈহৈ করে ওঠে। খুশি ভীষণ! আদিল ডান ভ্রু তুলতুলে তাকাল। ওর কঠিন দৃষ্টির ধূসর চোখে চেয়ে মান্নান সাহেব গিলে নিলেন ক্ষো ভ। সে বাধ্য! তার হাতপা বাঁধা যে! কোনোভাবেই আদিল মির্জা ব্যতীত এই ট্রাকগুলো বর্ডার পার করানো সম্ভব না। অগত্যা দাঁতে দাঁত পিষে বলেন –
‘ঠিক আছে। তবে আমার একটা রিকোয়েস্ট আছে।’
আদিল হাসে শব্দ করে। বলে, ‘মন্ত্রী সাহেব, আপনার কী মনে হয়? আপনার রিকোয়েস্ট করার মতন পজিশন আছে?’
‘আদিল! বাড়াবাড়ি করছো। মাথায় চড়ে বসো না।’
আদিল প্রত্যুত্তরে কিছু বলে না। নির্জীব চোখে শুধু চেয়ে রয়। মান্নান সাহেব শ্বাস ফেললেন। ঢোক গিললেন। বলতে নিলেন –
‘লিসে…’
আদিলের পার্সোনাল ফোন বেজে ওঠে। ফোনটা ছিলো এলেনের কাছে। এলেন স্ক্রিনের নাম দেখে মুখটা বাড়িয়ে আদিলকে জানায়। আদিল হাত বাড়াতেই ফোনটা হাতে দেয়। ফোন কানে চাপতেই ওপাশ থেকে কিছু বোধহয় জানানো হয়। আদিল শক্ত মুখে বলে –
‘পাঠা।’
পরপর হোয়াটসঅ্যাপের টোন বেজে ওঠে। আদিল উদ্বিগ্ন হয়ে পাঠানো ছবিটি দেখে মুগ্ধ হওয়ার বদলে স্পষ্ট বিরক্ত হয়। ছবিটি রোযার। গাড়ি বের করছে বাড়ির গেইট থেকে। ছবিতে রোযা ড্রাইভ করছে। সম্ভাবত পরনে শাড়ি। এতো সেজেছে কী ওই মদনের জন্য? আদিলের ইচ্ছে করল এই এক্ষুনি মদনটাকে উড়িয়ে দিতে। অথচ সে জানে আজকের পর ওই মদন সারাজীবনের জন্য রোযার জীবন থেকে গায়েব হয়ে যাবে। তারপরও তার রাগ হচ্ছে! মনে হচ্ছে তার আশেপাশে আগুন ধরানো হয়েছে। জ্বলছে সব।
কিছুক্ষণ নিস্তব্দ হয়ে থাকল চারিপাশ। মান্নান সাহেব সতর্ক হলেন। সামান্য কৌতূহলও। ঘাড় বাড়িয়ে দেখতেও চাইলেন। অথচ চোখের পলকে আদিলের সামনে এসে দাঁড়াল। মুহূর্তে মুখটা কালো হয়ে এলো মান্নান সাহেবের। আদিলের সবগুলো ছেলেদের মধ্যে সবচেয়ে ফালতু হচ্ছে এইটা! সুযোগ পেলেই ওর মাথার খু লি উড়িয়ে দেবেন তিনি। হতচ্ছাড়া একটা!
আদিল পুনরায় ফোন কানে চাপল। মেজাজ সামলে বলল,
‘ফলো হার।’
— —
রোযা গাড়ি থামিয়েছে মাঝরাস্তায়, সাইড করে। গোলাপ ফুলের তোড়া বিক্রি করা হচ্ছে। আটশো পঞ্চাশ টাকা দিয়ে রোযা একটা কিনে ফের উঠে বসল। সামান্য হাসলও কারণ ফুল বিক্রি করা মহিলা ভীষণ স্নিগ্ধ চোখে চেয়ে বলেছেন –
‘ম্যাডাম, আপনারে ভীষণ সুন্দর দেখাইতেসে।’
রোযার মন ভালো হয়ে গিয়েছে কয়েকগুণে। সে গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে বাকিটা পথ ড্রাইভ করল। জিহাদদের বাড়িটা একতলা। বাগান সহ বেশ জায়গা নিয়ে বানানো। রোযাদের বাসা থেকে গাড়ি দিয়ে ত্রিশ মিনিটের রাস্তা মাত্র। বাড়ির কেচিগেইট আপাতত খোলাই। গাড়ি রাখার জায়গা নেই বাড়ির ভেতরে। তাই বাইরেই একদম দেয়াল ঘেঁষে পার্ক করল। হিল পরে, ফুলের তোড়া হাতে বেরিয়ে এলো। এই এলাকাটা দুমুখো। সামনাসামনি বাড়ি। মধ্যে সরু রাস্তা গিয়েছে। আপাতত সব নির্জন। মেঘ ডাকছে। চারপাশ অন্ধকার হয়ে আছে। কিছুক্ষণ আগেই আজান পড়েছে মাগরিবের। রোযা ঢুকল ভেতরে।
মৃদু গুঞ্জন ভেসে আসছে ভেতর থেকে। সম্ভবত ফিরে এসেছে জিহাদের বাবা-মা। এতে আরও হালকা লাগছে রোযার। সন্দেহ মুছে গিয়েছে একেবারে। হাসতে হাসতে দুয়ারে এসে দাঁড়াল। দরজাটা ঠেলতেই খুলে গেলো। ভেতর দেখে চমকে গেলো দৃষ্টি। ড্রয়িংরুমে সবাই বসে আছে। সব স্বাভাবিক! শুধু একজন বাদে! ইতোমধ্যে কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছে ভেতরে এতক্ষণ ধরে আলাপ করা বাকিরাও। জিহাদ লাফিয়ে দাঁড়িয়েছে একরকম। ভয়ে শুকিয়ে গিয়েছে মুখ খানা!
‘ত…তুমি!’
রোযা আশ্চর্য। ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে হতবিহ্বল চোখে তাকাল মেয়েটির দিকে। চোখমুখে আতঙ্ক নিয়ে জিহাদের পাশে দাঁড়িয়ে আছে রিধিমা। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে মেয়েটার পেট। গর্ভবতী মহিলাদের মতো বড়ো। প্রায় সাত-আট মাস হবে সম্ভবত! বড়োদের সালাম করার কথা ভুলে গেলো রোযা। বেকুবের মতো শুধু প্রশ্ন করল –
‘ওর বিয়ে কবে হলো? আমি জানি না কেনো?’
কাজল বেগম জোরপূর্বক হাসলেন। ছুটে এসে ধরলেন রোযার ফাঁকা সুন্দর হাতটা। ভেতরে নিতে নিতে বললেন –
‘সব বলছি। তুমি আগে বসো, মা।’
জিহাদ দ্রুতো এগিয়ে এসে ছুটিয়ে নিলো মায়ের থেকে রোযার হাত। কথা ঘুরিয়েফিরিয়ে একরকম ওকে টানতে চেয়ে বলল,
‘আসো। বেরোই। আজ ছুটি ছিলো?’
রোযা একঝটকায় নিজের হাত ছুটিয়ে নেয়। তাকায় রিধিমার দিকে। মেয়েটা অশ্রুসিক্ত চোখে চেয়ে আছে জিহাদের দিকে। মনে হচ্ছে ওর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। রোযার ভেতরটা ভয়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। গলা শুকিয়ে আসে। হাত থেকে পড়ে যায় ফুলের তোড়াটা। জিহাদ একঝটকায় তুলে নেয় ফুলের তোড়া। যত্ন করে বুকে পিষে অন্যহাতে টেনে ধরে রোযার হাত। আকুতি করে –
‘কোনোসময় আমার একটা কথা তুই শুনিস না। আজ শোন প্লিজ? বেরিয়ে আয় আমার সাথে।’
রোযা ফিরে তাকাল না। দেখল না জিহাদের আতঙ্কিত মুখ। ছেলেটা র ক্তচোক্ষু নিয়ে ক্রমান্বয়ে বাবা-মাকে ইশারা করছে। জয়নাল সাহেব কাশলেন সামান্য। আদেশ করলেন –
‘জিহাদের মা, রিধিমাকে নিয়ে রুমে চলো। জিহাদ, রোযা কথা বলুক একটু।’
রোযা চিৎকার করে ওঠে। উনিশ-বিশ আর ভাবে না। সোজা জানতে চায়,
‘স্টপ। কোথাও যাবে না এই মেয়ে! ওর পেটে বাচ্চা কার?’
মুহূর্তে আঁতকে ওঠে জিহাদ। চমকায় কাজল বেগম। ছেলের দিকে তাকিয়ে ভয়ে সিঁটিয়ে গেলেন। জিহাদ প্রায় পা গল হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায়। ছেলের জীবন নিয়ে কোনো রিস্ক নিতে রাজি নন তিনি। দ্রুতো বলেন –
‘কার হবে মা? ওর স্বামীর! লুকিয়ে গ্রামে বিয়ে দিয়েছিলা….’
তিনি শেষ করতে পারেননি। রিধিমা বসে পড়ে ফ্লোরে। ও ডুকরে ওঠে, ‘কেনো মিথ্যে বলছো তোমরা? আমার পেটের বাচ্চা কার? নিজেদের র ক্ত তোমরা এভাবে অস্বীকার করবে!’
পেছনে নিঃশব্দে চোখ বুজে ফেলে জিহান। চোখের কোণে জল জমে। হাঁত কাঁপে। বড়ো করে শ্বাস টেনে নেয়। রোযা তখন দিশেহারা প্রায়। কম্পিত কণ্ঠে প্রশ্ন করে –
‘জিহাদের?’
রিধিমা কাঁদতে কাঁদতে মাথা দোলায়। রোযার শরীর জমে গেলো। নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারল না। ঠাঁই হয়ে দাঁড়ানো ওকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে জিহাদ তড়িঘড়ি করে বলল –
‘রোযা, লিসেন টু মি। আমি ইচ্ছে করে করিনি। বিশ্বাস করো। ইউ না, হাউ মাচ আই লাভ ইউ? সেদিন আমি ড্রাংক ছিলাম। বাসায় আম্মু-আব্বু ছিলেন না। ও আমার রুমে আসে। এরপর….’
চ ড়ের শব্দে কেঁপে ওঠে বাতাস। ডান দিকে হেলে পড়েছে জিহাদের মাথা। রোযা পুনরায় হাত তুলে। দ্বিতীয়বার চ ড় মে রেও ও শান্ত হয়। ক্ষো ভে কাঁপতে কাঁপতে চিৎকার করে,
‘হাউ ডেয়ার ইউ! হাউ ডেয়ার ইউ! আমাকে চিট করা! এই রোযা তালুকদারকে!’
রোযা বলতে বলতে পায়চারি করে পেলো ব্যাট। ওটাই তুলে নিলো হাতে। সজোরে বাড়ি বসাল জিহাদের গায়ে। জিহাদ চোখ বুজে দাঁড়িয়ে আছে প্রত্যুত্তরে। কাজল বেগম হাহাকার করে উঠলেন। দ্রুতো এসে রোযাকে খামচে ধরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতে চাইলেন। ওসময় বাইরে থেকে চারটা কালো পোশাকের লোক এসে দাঁড়ায়। একজন এগিয়ে এসে হাওয়ার মতো টেনে সরিয়ে দেয় কাজল বেগমকে। জয়নাল সাহেব আশ্চর্য, হতবিহ্বল! চওড়া গলায় প্রশ্ন করে গেলেন –
‘কে তোমরা!’
জবাব নেই। রোযা সুযোগ পেয়ে আরও কয়েক ঘা লাগাতেই জিহাদ এবার বিপরীতে ব্যাট ধরতে চাইলে তার পেছনে দাঁড়ানো বডিগার্ড সহজেই হাঁটুতে বসিয়ে ফ্লোরে। রোযা ব্যাট ফেলে দেয়। শব্দ হয় তীব্র। চোখে একফোঁটা জলও নেই। অথচ র ক্তিম হয়ে আছে। যেকোনো সময় জল গড়িয়ে পড়বে। অথচ মেয়েটা জেদ ধরে দাঁতে দাঁত পিষে রেখেছে। কোনোরকমে ঘৃণা নিয়ে বলল –
‘এই মুখ কখনো আমাকে দেখাতে আসবি না। যেদিন আসবি আই’ল কিল ইউ বাস্টার্ড।’
রোযা ফিরল। জল ভাসা চোখে খুঁজতে চাইল পার্স, গাড়ির চাবি। একটা বডিগার্ড এসে বাড়িয়ে দিলো হাত। লোকটার হাতে রোযার চাবি, পার্স। রোযা নিলো তবে তাকাল না। কোনো প্রশ্নও করল না। বেরুনোর পথে দুয়ারে একদলা থু থু ফেলল। মেইন গেইট পেরুতেই দু-গাল ভিজে গেলো। অপমানে, অসম্মানে তা পুরো শরীর জ্বলে যাচ্ছে! চোখের জলে আশপাশ কেমন ভাসা ভাসা লাগল। রোযা দ্রুতো গাড়ির ড্রাইভিং সিটে উঠে বসল। গাড়ি স্টার্ট করতে গিয়ে দেখল গাড়ি স্টার্ট নিচ্ছে না। কয়েকবার চেষ্টা করেও গাড়ি স্টার্ট নিলো না। রোযা শব্দ করে কেঁদে ফেলল। এখানে এক সেকেন্ডও সে থাকতে পারবে না। তার দমবন্ধ হয়ে আসছে। বাড়ির ভেতর থেকে জিহাদের কণ্ঠ ভেসে আসছে। ও সমানে ডাকছে কিন্তু আসতে পারছে না। দুয়ারে বডিগার্ডস।
রোযা বেরিয়ে এলো গাড়ি থেকে। রা গে লা থি মার ল নিজের ভালোবাসার গাড়িকেই। গাড়ির চাবি, পার্স হাতে ওভাবেই পা গলের মতো হেঁটে চলল। এখানে একমুহূর্ত না!
.
তীব্র এক বজ্রপাত পড়ল আশেপাশে কোথাও। বজ্রপাত রোযা ভয় করে। অথচ আজ খোলা আকাশের নিচে থেকেও ভয় পেলো না। মেইনরোড দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। এসময়ে ঝুম বৃষ্টি নামল। বড়ো বড়ো বৃষ্টির ফোঁটা চোখের পলকে রাস্তাঘাট ভিজিয়ে দিলো। ভিজেছে রোযাও। ওভাবেই হাঁটছে সমানে। উঁচু জুতোয় ঘর্ষণ খেয়ে ফর্সা পা প্রায় ছিলে গেছে। তাতেও কোনো অনুভূতি অন্তর ছুঁতে পারল না। মেরুন রঙের সিল্কের আঁচলটা বড়ো, বিশাল। প্রায় জমিন ছুঁইছুঁই হয় আছে। পেছনে একগুচ্ছ গাড়ির আওয়াজ ভেসে এলো। গাড়িদের দ্রুতোতায় জমিনও কাঁপল বোধহয়। একটা গাড়ি এসে সোজা থামল রোযার সামনে। রোযা ভেজা চোখ তুলে তাকাল। গাড়ির ড্রাইভিং সিট থেকে বেরিয়েছে শান্ত। বেরিয়েছে এলেনও। বাকি গাড়িগুলো থেকে একগাদা বডিগার্ড দিয়ে রাস্তাটাই ব্লকড হওয়ার পথে। শান্তর হাতে ছাতা। দ্রুতো গাড়ির ব্যাকডোর খুলে ছাতাটা মেলে ধরল। আদিল বেরিয়ে এলো। তার দৃষ্টি গাড়ির ভেতর থেকেই রোযার ওপরে। রোযা শুধু নির্বিকার চোখে একমুহূর্ত দেখে। পরমুহূর্তেই গাড়ি পাশ কাটিয়ে সামনে হাঁটা ধরে। মুখটা সামান্য ফাঁক হয় শান্তর। এরচেয়ে বেশি বাকিদের মুখের অবস্থা হয়।
আদিল বৃষ্টির মধ্যে ভারী কদম বাড়াতেই পেছন পেছন কদম বাড়ায় শান্তও ছাতা ধরা শান্তও। বসকে একচুল ভিজতে দিচ্ছে না। আদিল সাবলীলভাবে ডাকল –
‘রোযা!’
সামনে হাঁটতে থাকা নারী উত্তর দেয়া দূরের ব্যাপার ফিরেও তাকাল না। একই গতিতে হাঁটছে। আদিল রেগেই যায়।
‘রোযা!!’
এবারও কোনো জবাব আসে না। আদিল নিজের রাগ গিলে নিলো। একটা ধাক্কা খেয়েছে যেহেতু মাফ করাই যায়! নিজেকে বুঝিয়ে একই গতিতে পেছনে হাঁটতে আদেশ করল –
‘গাড়িতে উঠে বসো।’
রোযা ফিরে তাকায় না। যেন শোনেওনি। রাস্তা জুড়ে তখন এক অদ্ভুত দৃশ্য। একগাদা কালো গাড়ি দাঁড় করানো। রাস্তার মধ্যে হাঁটছে কালো পোশাকের বডিগার্ডস। বডিগার্ডসদের সামনে আদিল। আর আদিলের সামনে হাঁটছে রোযা। এমন দৃশ্যে দু-একটা যাতায়াত করা মানুষ, গাড়ি দাঁড়াতে চাইলে বডিগার্ড গুলো হুমকিধামকি দিয়ে রাস্তা ক্লিয়ার করে ফেলছে।
অন্যদিকে আদিল আজ ধৈর্য্যবান পুরুষ। মেজাজ, রাগ নিয়ন্ত্রণে রেখে দাঁতে দাঁত পিষল। শান্তর থেকে ছাতা নিজ হাতে নিলো। বাড়িয়ে ধরল রোযার মাথার ওপর। আস্তে করেই বলল –
‘ভিজছো কেনো তুমি? ডিড ইউ সি ইউরসেল্ফ? হুম?’
এমনিতেই সিল্কের পাতলা শাড়ি পরনে। তারওপর বৃষ্টিতে ভিজে শরীরে লেপ্টেছে। অঙ্গের প্রত্যেকটি ভাঁজ সু স্পষ্ট। আদিল নিজের রাগ সংবরণ করে। হাঁটতে হাঁটতে অন্যহাতে খোলে গায়ের কোট। আদেশ ছুঁড়ে –
‘স্টপ রোযা।’
রোযা এবারে চোখ রাঙিয়ে ফিরল। চোখ লাল, নাক লাল। তিরতির করে কাঁপছে ঠোঁট, শরীর। শীতে নীল হয়ে গিয়েছে প্রায়!
‘আপনার সমস্যা কী? হু আর ইউ টু মি মিস্টার মির্জা? ওয়েল ইউর ওউন মেশিন। আর আপনাকে এখানে পেয়ে ভালোই হলো। পরিষ্কার করে শুনে রাখুন, আমি আর আপনার বাড়িতে কাজ করব না। আপনি কী করবেন আমিও দেখে নেবো!’
রোযা আর একমুহূর্ত দাঁড়ায় না। সজোরে ঘুরে পা বাড়াতেই মাথাটা ঘুরে ওঠে। বৃষ্টির শব্দে সব কেমন ঘোলা ঘোলা লাগে। নিজেকে সামলে দ্রুতো পা বাড়াতে চাইলে বাঁধা পায়। পেছন থেকে শক্ত, রুক্ষ হাত খামচে ধরেছে তার হাতটা। বাজে এক টানে হুমড়ি খেয়ে এক শক্তপোক্ত বুকে ওপর পড়ে মেয়েটা। তার দুনিয়াটাই যেন দুলে ওঠে। আদিল রূঢ় ভাবে কোট খানা দিয়ে প্যাঁচিয়ে ফেলে রোযার শরীর। হিমশীতল কণ্ঠে বলে –
‘কাজ করতে হবে না। রাজ করো।’
পরমুহূর্তেই রোযার চোখ বুজে আসে। মাথাটা দুলে পড়ার আগ মুহূর্তে এক নিমিষেই পাজাকোলে ওকে তুলে ফেলল আদিল। ছাতাটা পড়ে আছে মেঝেতে। পাশেই রোযার উঁচু জুতোজোড়া। এলেন হাতে তুলে নিয়েছিলো। আদিল ঘুরে হাঁটা ধরল গাড়ির দিকে। হাঁটতে হাঁটতে তাকাল রোযার মুখের দিকে।
চলবে ~~~
® #নাবিলা_ইষ্ক।
Share On:
TAGS: আদিল মির্জাস বিলাভড, নাবিলা ইস্ক
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ১৬
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ২
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ৭
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ৪
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ১০
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ১৪
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ১৩
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ২০
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ১৫
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ১১