আদিল মির্জাস বিলাভড
— ১৮
‘কী করতেসি মানে? সিনেমা বানাচ্ছি। রোমান্টিক সিনেমা। নায়ক আমি আর নায়িকা এক আ’গুন সুন্দরী মেয়ে। ধবধবে ফর্সা গায়ের রং। চমৎকার ফিগার। কোমর ধরে ড্যান্স করে এলাম। ক্লিপ সেন্ড করব?’
শান্তর ট্রেনের গতিতে ছোটা কথাগুলো প্রভাবে ওপর পাশটা বড্ড নীরব। ঘনঘন শ্বাস নেয়ার শব্দ ব্যতীত আর কোনো শব্দই শোনা গেলো না। অনেকটা সময় নিয়ে একটি বিড়ালের মতো মিউমিউ করা কণ্ঠ ফ্যাচফ্যাচ করে বলল –
‘আমি কিন্তু মামাকে বিচার দেব।’
শান্ত গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়াল। অদূরে দাঁড়ানো এলেনকে একটু অপেক্ষা করার ইশারা করল। ফোনটা ভালোভাবে কানে চেপে মুহূর্তে ধমকে উঠল –
‘ওই, মামার চামচি! ভয় পাই নাকি আমি তোর মামাকে? যা বিচার দে। বল গিয়ে, আমি ঢাকায় এক সুন্দরী মেয়ের সাথে ফষ্টিনষ্টি করছি। খুব শীঘ্রই এখানে বিয়েটা সেরে সংসার পাতব। তোর মতন বলদ, গাধা আমি বিয়ে করছি না।’
ওপাশে এক কাঁদোকাঁদো কণ্ঠ ফিসফিস করে বলল –
‘ত-তবে আমার সাথে ওসব জোরপূর্বক করলে কেনো তুমি? এখন অন্য কাউকে বিয়ে করলে তাকে ঠকানো হবে না? আগে বললে তো আমি কখনো আমাকে ছুঁতে দিতাম না। বাবা যাকে দেখাল তাকেই নাহয় বিয়ে করে ফেলতাম।’
শান্তর মাথার ভেতরটা ভনভন করল যেন। তার আয়ু একমুহূর্তে কমে গেছে। হড়বড়িয়ে আরামদায়ক অবস্থা থেকে সটানভাবে দাঁড়াল। কটমট করে উঠল –
‘কী বললি তুই? আবার বল! কোন ছেলে আর কীসের বিয়ে? থা’পড়ে তোর চোদ্দগুষ্টির নাম ভুলিয়ে দেব।’
ওপাশের রমণী আজ আর ভয় পেলো না। কেমন মিনমিন করে বলে গেলো –
‘তুমি একটা মিথ্যেবাদী। প্র’তারক! সবাই ঠিক বলতো। তুমি কখনো গ্রামে ফিরে আমাকে বিয়ে করবে না। শহরের কোনো মেয়েকেই দিনশেষে বিয়ে করবে। বোকার মতো আমি শুধুই অপেক্ষা করলাম।’
শান্তর মাথায় আস্তো এক আকাশ ভেঙে পড়ল। সে দিকবিদিকশুন্য হয়ে পা’গলের মতো পায়চারি করতে করতে ধমকে গেলো আতঙ্কিত কণ্ঠে –
‘এই, এই ফাজিলের বাচ্চা! তুই এসব কার থেকে শিখেছিস, হ্যাঁ? কার শিখিয়ে পড়িয়ে দেয়া কথা ফটরফটর করে বলতেছিস? খালার? ঝুমুর, আ্মাকে উল্টাপাল্টা বলে রাগাস না। গ্রামে ফিরলে কিন্তু তোকে আমি চিবিয়ে খাবো। মাথায় তুলে আছাড় মা’রব।’
ফের ফিসফিস করেই মেয়েটা বলল –
‘আমাকে এসে পেলে তো? পৃথিবীতে এমন কেউ নিশ্চয়ই আছে যে জেনেশুনে আমাকে বিয়ে করবে? কিছু চ – চ – চু- চুমুই তো খেয়েছো। এর থেকে বেশি কিছু তো না। এতটুকুর জন্য নিশ্চয়ই বিয়ে আটকে থাকবে না। কেউ না কেউ নিশ্চয়ই আমাকে বিয়ে করবে।’
শান্ত এতো জোরসে গা’লি দিলো যে ওপাশে ঝুমুর আতঙ্কে খামচে ধরেছে বান্ধবীর হাত। ভয়ে থরথর করে কাঁপছে বেচারির ডান হাতটা। হাঁসফাঁস করছে মুখ হা করে। শান্ত চিবিয়ে চিবিয়ে বলে যাচ্ছিল –
‘তোর বিয়ের শখ আমি মেটাচ্ছি —’
কল কেটে দিলো ঝুমুর। পরপর ফোন বন্ধ করে ফেলল। শান্ত পুনরায় কল লাগাল। একের পরে এক! ওকে না পেয়ে নিজের বাবাকে কল লাগাল। ওদিকে এলেন ডেকে যাচ্ছে। শান্ত হাত উঠিয়ে ইশারা করল। কল রিসিভ হতেই শান্ত গলা কাটা মুরগির মতো ছটফট করে বলল –
‘তোমার গুণধর বোনঝি কোথায়? ওকে বাসায় তুলে আনো। এক্ষণ লোক পাঠাও। আমি এই সপ্তাহের মধ্যে ছুটি নিয়ে আসতেসি। আমি না আসা অবধি ও আমাদের বাসাতেই থাকবে। সবকিছুর ব্যবস্থা করো। বিয়ে করবো আমি।’
সোবহান সিকদার হতবিহ্বল হয়ে পড়লেন, ‘হইছে কী? ভালোভাবে কউ। কিছু হইছে?’
‘তোমারে যা বলছি করো বাবা। এখুনি লোক পাঠাও। আমি দুপুরে কল দেব। ওরে যেন বাসায় পাই।’
.
‘কীরে! মুখের এই অবস্থা কেনো? মনে হচ্ছে মশা খাইছিস।’
শান্ত আ’গু’ন চোখে সামনে চেয়ে আছে। সে পারলে এখুনি গ্রামে ফিরে ফাজিল মেয়েটাকে চার-পাঁচটা চ’ড় মা রে। ওর বিয়ের শখ মিটিয়ে দেয়! ইতরের ঘরে ইতর! মুখে আওড়াল –
‘কিছু না। চল।’
তারা দুজন আপাতত রোযাদের বাড়ির সামনে। ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে বেলা নয়টায়। নিপা বেগম আজও দরজা খুলে হতভম্ব হয়েছেন। এতোগুলো কালো পোশাকের লোকদের একসাথে দেখলে কোনো স্বাভাবিক মানুষ আর স্বাভাবিক থাকতে পারে না। তবে প্রথম দিনের মতো আতঙ্কে ধড়ফড়িয়ে ওঠেননি। এবারে নিজেকে বেশ সামলে নিয়েছেন। তোতলালেন সামান্য –
‘আমা-আমার মেয়েটা কোথায়? এখনো তো ফিরল না! ওর ফোনে কলও ঢুকছে না। বা- বাবা একটু কথা বলিয়ে দিন না। ওর কণ্ঠ শুনলে অন্তত শান্তি পেতাম।’
আজিজুল সাহেব, রাজুও এসে দাঁড়িয়েছে। কেউই সারারাত ঘুমোতে পারেনি বোঝা যাচ্ছে। আজিজুল সাহেবের গলার স্বরে অবশ্য মিনতির চেয়ে কঠোরতা বেশি ছিলো –
‘ও তো কখনো রাত করে থাকেনি। এই প্রথম! তার ওপর ফোন বন্ধ। কোনো যোগাযোগ নেই। এইটা কেমন কথা? হয় মেয়ের সাথে কথা বলিয়ে দেন নাহলে আমাকে নিয়ে চলুন।’
শান্ত নিজেকে স্বাভাবিক করে নিয়েছে। বসের হয়ে ব্যাপারেটা সে আপাতত ধামাচাপা দিতে ব্যাকুল। আর মিষ্টিমিষ্টি কথা বলে মানুষকে বেকুব বানানো তার অন্যতম গুণ। শান্ত হেসে এগুলো দু-কদম। ধরল আজিজুল সাহেবের হাত। তাকে সাহায্য করে ভেতর নিতে নিতে ধীর গতিতে বলতে থাকল –
‘স্যার, আপনি তো জানেন আমাদের প্রিন্সেস কতোটা পা’গল মিস রোযার? চোখে হারায় তাকে। এর আগের সব জন্মদিন দেশের বাইরে পালন করা হয়েছিল বিধায় জন্মদিন গুলোতে মিস রোযার সঙ্গ প্রিন্সেস পায়নি। এবারই প্রথম! তাইতো গতকাল রাতে ভীষণ কান্নাকাটি করছিল। কোনোভাবে ছাড়বে না। অগত্যা মিস রোযা বাধ্য হয় থাকতে। সাথে ঘুমোয়। আর উনার ফোন সম্ভবত আপনাদের কাছে। তাই যোগাযোগ করতে পারছেন না। তবে আমি ফিরে কথা বলিয়ে দেব। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন!’
আজিজুল সাহেবের বিচলিত হৃদয় শান্ত হয় সামান্য। রাজু এসে দেখায় বড়ো বোনের ফোনটা। যা তার কাছে ছিলো। এতে পুরোপুরি শান্ত হোন নিপা বেগম। একটু লজ্জিত ভঙ্গিতেই বলেন –
‘বসেন না বাবারা! আসলে মেয়েটা কখনো বাড়ির বাইরে রাত কাটায়নি তো। চিন্তা হচ্ছিল!’
শান্ত ভীষণ বিনয়ের সাথে বলল, ‘হাইপার হবেন না, ম্যাম। চিন্তার কোনো কারণ নেই। মিস রোযা সুরক্ষিত আছেন। আমি ফিরেই কথা বলিয়ে দেব।’
শান্ত ইশারা করতেই হাত ভরতি বক্স নিয়ে ঢুকছে বডিগার্ডস। ড্রয়িংরুমে সাজিয়ে রেখে একইভাবে বেরিয়ে গেলো। এলেন তখনো শান্তর পাশে। মিষ্টি কথা সে বলতে পারে না। তাই এই সময়গুলোতে মুখ বন্ধ রাখাই শ্রেয়। শান্ত আরও নরম ভাবে দুটো আলাপের কথাবার্তা বলে তবেই বেরিয়ে এলো। হাস্যোজ্জ্বল মুখটা মুহূর্তে থমথমে হলো। নির্বিকার ভাবে উঠে বসল ড্রাইভিং সিটের পাশে। এলেন ড্রাইভিং-য়ে বসেছে। পেছনে বাকি বডিগার্ডস। গাড়িটা একটানে চলল মির্জা বাড়ির উদ্দেশ্যে।
–
জানালার পর্দা ভেদ করে প্রবেশ করছে সকালের নরম সূর্যের কিরণ। শোনা যাচ্ছে পাখিদের ডাক। বাতাসের শব্দ। পিনপতন নীরবতা ভেঙে রোযা গোঙাল মৃদুস্বরে। নড়েচড়ে উঠল। মরিয়ম বেগম তখন বসেছিলেন ছোটো সোফাটায়। চোখজোড়া বুজে আছে। শব্দে চোখ মেলে তাকালেন। দ্রুতো উঠে দাঁড়ালেন। বিছানার পাশে এসে বসলেন রোযার মাথার কাছে। হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে দিলেন মাথাটা। ডাকলেন ধীর গলায়। রোযা আধো আধো চোখ মেলে তাকাল। অস্পষ্ট ভাবে দেখল মরিয়ম বেগমকে। নিজের অবস্থান বুঝতে সময়ের প্রয়োজন পড়ল না। আতঙ্কে ধড়ফড়িয়ে শোয়া থেকে উঠতে চাইলে বাঁধ সাধলেন মরিয়ম বেগম। ঠেলে শুইয়ে দিলেন দ্রুতো। চিন্তিত হয়ে বললেন –
‘ওঠো না। শুয়ে থাকো।’
রোযা কথা শোনে না। উঠে বসে। নিজের শরীরের কাপড়চোপড় লক্ষ্য করে আরও ঘাবড়ে ওঠে। নীল হয় চোখমুখ। রোযার আশঙ্কা বুঝে মরিয়ম বেগম মৃদু হেসে আশ্বস্ত করলেন –
‘শরীর মুছে, আমি পরিবর্তন করে দিয়েছি। এখন ফ্রেশ লাগছে না?’
রোযা স্বস্তির শ্বাস ফেলল। তবে ভালো দুটো কথা প্রত্যুত্তরে বলতে পারল না। তার ভেতরে যে তাণ্ডব চলছে। ভয়ে এইটুকুন হয়ে আছে তার সত্তা। চোখে ভাসছে ঘটে যাওয়া সব দৃশ্য। আনমনা হাত চলে গেলো গলায়। র ক্ত আর নেই। কিন্তু এখনো মনে হচ্ছে, ভয়ংকর শক্তিশালী একটা পুরুষালি রুক্ষ হাত থাবা দিয়ে ধরেছে গলাটা। যেন এখুনি টিপে দমবন্ধ করে তাকে মে রে ফেলবে!
রোযার গলার দিকে তাকালেন মরিয়ম বেগমও। পাঁচটা আঙুলের স্পষ্ট ছাপ পড়ে আছে। কাপড়চোপড় বদলানোর সময় রোযার পেটেও দেখেছিলেন। বুদ্ধিমতী ভদ্রমহিলা এই সম্পর্কে একটা প্রশ্নও করলেন না। দেখালেন না কোনোরকমের আগ্রহ। বরং উঠে গিয়ে এক গ্লাস পানি এনে ধরলেন মেয়েটার সামনে। রোযা বাড়িয়ে ধরা গ্লাস নিলো। একটানে পুরো গ্লাসের পানি শেষ করল। কোনোরকমে দুটো শব্দ আওড়াল –
‘থ্যাংকিউ, মিসেস মরিয়ম।’
মৃদু হেসে ফাঁকা গ্লাসটা নেন মরিয়ম বেগম। অন্যহাতে ছুঁয়ে দেন রোযার মাথা। বুলিয়ে দেন ধীর গতিতে। শান্ত করতে চান যেমন। বুঝতে পারেন রোযার অবস্থা! এতে কিছুটা শান্ত হয় মেয়েটা। বড়ো করে শ্বাস টেনে নিচ্ছিল ভেতরে —ওসময় পুনরায় চোখ গেলো নিজের পরনের কাপড়চোপড়ের দিকে। মুহূর্তে শিউরে ওঠে কিছু একটা ভেবে। গা ছমছম করে কেমন! নিজের শরীরে দৃষ্টি বুলিয়ে টেনে ধরে ধরে দেখে পরনের সাদা শার্ট-প্যান্ট। ফ্যাকাসে মুখে ফিসফিস করে –
‘কা.. কার কাপড়চোপড়?’
জবাবে মরিয়ম বেগম নীরব রইলেন। তার নীরবতাতেই যেন জবাবটা আছে। রোযা তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়ল। সাদা শার্ট এসে ছুঁয়েছে তার ঊরু। প্যান্টের ল্যান্থ জমিন ছুঁয়েও কয়েক ভাঁজ পড়েছে নিচে। কোমরে প্যান্ট-টা বেল্ট দিয়ে বাঁধা। নাহলে নির্ঘাত খুলে পড়ে যেতো এতক্ষণে। রোযা দ্রুত এদিক-ওদিক চেয়ে প্রশ্ন করল –
‘আমার কাপড় কোথায়?’
মরিয়ম বেগম জানালেন, ‘নোংরা বলে ওয়াশে দিয়েছি।’
এখন কি রোযা বলবে আমাকে ওই নোংরা, র ক্তাক্ত কাপড়চোপড় এনে দিন? আমি ওগুলোই পরব? তা তো সম্ভব না! আর নাই-বা সম্ভব গায়ের এই কাপড়চোপড় আর একমুহূর্ত পরে থাকা। তার পুরো শরীর কেমন শিরশির করছে। রোযা অনুনয় করল –
‘আপনার কিছু নেই? আমাকে আপনার থেকে কিছু একটা দিন প্লিজ!’
‘মরিয়ম বেগম অসহায় হয়ে বললেন, ‘আমার কিছু নেই এখানে। এইজন্যই তো স্যারে….’
মরিয়ম বেগম থেমে গেলেন। বাক্য সমাপ্ত করলেন না। রোযার গা কাঁটা দিলো। কিছুক্ষণ আগে তাকে মে রে ফেলতে চাওয়া লোকের কাপড়চোপড় পরে আছে সে ভাবতেই মাথা ভনভন করছে। আরও ভনভন করছে এই ভেবে যে —সে এখনো এই বাড়িতে আছে। আদিল মির্জার অধীনে! রোযা এখান থেকে যদি একবার বেরুতে পারে, ম রে গেলেও আর কখনো আসবে না। খুব শিক্ষা পেয়েছে! যদি আগেই জিহাদের কথা শুনতো আর কাজটা ছেড়ে দিতো। তাহলে আজ তার এমন দুর্গতি হতো না।
মরিয়ম বেগম দীর্ঘশ্বাস ফেলে ছোটো করে প্রশ্ন করে বসলেন, ‘কী করেছো? স্যার কেনো রেগেছেন?’
মরিয়ম বেগম জানেন, কোনো কারণ ব্যতীত ঝামেলা করার লোক আদিল মির্জা না। কতোগুলো বছর ধরেই তো এই বাড়িতে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। অল্প হলেও জানেন, বোঝেন। যেহেতু ঝামেলা হয়েছে তারমানে রোযাই কোনো একটা ভুল করেছে। নাহলে হঠাৎ এমন কেনো করবেন? কী কারণ? বোঝাই যাচ্ছে রোযার গলা টিপে ধরা হয়েছিল। কোমরের ব্যাপারটা ভাবতেও গেলেন না ভদ্রমহিলা। ওটা বেশ এড়িয়ে গেলেন নিজ ভাবনাতেও। অন্যদিকে রোযা হতবিহ্বল নিজের ওপরও। চ’ড় মেরেছিল সে। আদিল মির্জাকে! ভাবতে ভাবতে ধপাস করে বসল বিছানায়। দু-হাতে মুখ ঢেকে ফেলল। মূল সমস্যাটা হচ্ছে, রোযার অনুশোচনা যে হচ্ছে না। উল্টো তার ভেতরের শয় তান বলছে, আরও দুটো একসাথে দিতি! যেহেতু তোকে মা রবেই, আরও চার-পাঁচটা চ’ড় দিয়েই না-হয় ম রতি। একটা কম হয়ে গেলো না? রোযা কি শুধু শুধু মে রেছে? অসভ্য, অভদ্রের মতোন ওভাবে তার কোমর হাতাচ্ছিল কেনো? সাহায্যের নামে একরকম হ্যারেসমেন্ট ছিলো ওটা। তাই মাথা কাজ করার আগে তার হাত কাজ করেছে। তখন চ’ড় মে রে অনুশোচনা হলেও এখন আর হচ্ছে না। এখন আরও কয়েকটা মা রতে ইচ্ছে করছে। অসভ্য , বেয়ারা এক স’ন্ত্রা’স কোথাকার! রোযার কান্না পাচ্ছে। চোখে ভাসছে পিস্তল হাতে থাকা আদিল মির্জা। কানে ভাসছে গু লির শব্দ। মনে হচ্ছে এইতো গু লি করে তাকে মে রে ফেলবে। তার মতন নগন্য এক রোযাকে মে রে বালিচাপা দেয়া তো চুটকির ব্যাপার। ইশ, এতো তুচ্ছ রোযা? এতো অসহায়? আজ গরীব বলেই মুখ বুজে সব সহ্য করে নিতে হচ্ছে।
মরিয়ম বেগম নরম হয়ে বললেন, ‘কিছু এনে দিই? খেয়ে নাও।’
রোযা মাথা নাড়াল। যার মাথায় পিস্তল সেই মানুষ কীভাবে খাবে? গলা দিয়ে নামবে খাবার? নামবে না। রোযা উঠে দাঁড়াল। এসে ধরল মরিয়ম বেগমের হাত। আলতোভাবে ফিসফিস করে বড়ো আশা নিয়ে জিজ্ঞেস করল-
‘আমি কি চাইলে বেরিয়ে যেতে পারব?’
মরিয়ম বেগম বেচারির আশা নষ্ট করতে চাইলেন না। বললেন –
‘দেখতে পারো।’
‘কেউ আছে বাইরে?’
হাসেন মরিয়ম বেগম। বলেন, ‘নেই। দরজায় গার্ডস শুধু।’
ব্যস, রোযা তখুনি বেরুলো রুম ছেড়ে। এই গেস্টরুম সিঁড়ির পাশে। বেরিয়েই দেখা গেলো ফাঁকা লিভিংরুম। রোযা হুড়োহুড়ি করে ছুটল দরজার দিকে। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলো স্বপণ, ক্লান্ত সহ আরও কয়েকজন। রোযাকে দেখে সবগুলো সোজা হলো। দৃষ্টি নামাল। ভুলবশতও দৃষ্টি তোলার সাহস করে না। রোযার সেদিকে নজর নেই। দু-হাতে প্যান্ট তুলে দ্রুতো বেরিয়ে যেতে চায়। তখুনি স্বপণ নির্বিকার মুখে বলে –
‘আপনার বেরুনোর পারমিশন নেই, ম্যাডাম।’
রোযা প্রথমে চমকাল বেরুনোর পারমিশন নেই শুনে। এরচেয়েও বেশি চমকাল সম্বোধন শুনে। ম্যাডাম? কে ম্যাডাম? মিস রোযা থেকে সোজা ম্যাডাম! রোযা হতভম্ব হয়ে ছেড়ে দিলো তুলে ধরা প্যান্ট। ওমনি জমিন ছুঁলো সাদা প্যান্টের লেন্থ। সেই দৃশ্যে স্বপণ সহ ক্লান্ত মুখ লোকাল। রোযা ম্যাডাম ফ্যাডাম ডাকের আপাতত ধার ধারল না। নিজের আতঙ্ক লুকিয়ে স্বাভাবিকভাবে বলল –
‘আমার বাসায় যেতে হবে। সরুন।’
ক্লান্ত আরও বিনয়ের সাথে বলল, ‘পারমিশন নেই, ম্যাডাম। আপনার কী প্রয়োজন বলুন!’
রোযার মেজাজ খারাপ হলো ওমনি, ‘ম্যাডামের গুষ্টি কিলাই। ম্যাডাম কে! কল মি রোযা। আর বেরুতে পারবো না কেনো? আমার ইচ্ছে মানে আমি বেরোব। সরুন।’
স্বপণ আর ক্লান্ত শুনেও শুনল না। সৈনিকের মতো দাঁড়িয়ে থাকল। রোযা আরও তর্ক করবে বা জোরপূর্বক বেরুনোর চেষ্টা করব ওসময় প্রবেশ করল শান্ত-এলেনদের গাড়ি। গাড়িটা শব্দ করে এসে থামল বাড়ির সামনে। শান্ত আর এলেন একটু হলেও রোযার পরিচিত। তাই দ্রুতো ডাকল রোযা –
‘এইযে শুনুন! হ্যাঁ, আপনি আপনি। এদিকে আসুন।’
শান্ত এগিয়ে আসতেই বলল, ‘আমাকে বেরুতে দেয়া হচ্ছে না কেনো? আমি বাসায় ফিরব। লোকদের সরে যেতে বলুন।’
শান্ত আবার স্বপণ, ক্লান্তর চেয়ে বিপরীত। নির্বিকার মুখে নয় বরঞ্চ মিষ্টি করে হাসতে হাসতে নরম গলায় বলল –
‘ম্যাডাম, আপনার বসের পারমিশন লাগবে। আপনি এখানে সময় অপচয় না করে তার সাথে কেনো কথা বলছেন না?’
রোযা চোখ গরম করে তাকাল। নিজেকে সামলে পরমুহূর্তেই অনুনয়ের সুরে বলল –
‘হঠাৎ মা কল দিয়ে জানালেন খুব অসুস্থ তিনি। আমার ইমার্জেন্সি বেরুতে হবে। আমি পরে স্যারের কথা বলে নেব।’
শান্ত আরও মিষ্টি করে বলল, ‘কিন্তু ম্যাডাম আপনার ফোন তো আপনার কাছে নেই। আপনার ফ্যামিলির কাছে। আর তারা চমৎকার আছে। মাত্রই দেখে এলাম তাদের।’
রোযা রাগে থরথর করে কাঁপল। আঙুল তুলে চিৎকার করল একরকম –
‘হোয়াট ইজ দিস বিহেভিয়ার?’
প্রশ্নটির পর কেমন এক থমথমে নীরবতা বয়ে গেল। সেই নীরবতা ভাঙল বেশ দূর থেকে আসা এক ভারিক্কি কণ্ঠে। আদিল সেই তিনতলার করিডোরের রেলিঙের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বিকার গলায় শান্তকে প্রশ্ন করল –
‘হোয়াট ইজ শি সেয়িং?’
শান্তর মিষ্টি হাসি মুছে গেছে। শক্তপোক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। বসের সুরে সুর মিলিয়ে থমথমে মুখে জবাবে জানাল –
‘বস, মিস রোযা বলেছেন, হোয়াট ইজ দিস বিহেভিয়ার।’
রোযার চোয়াল কাঁপে রাগে। টগবগ করে র ক্ত। নিজের এমন দুর্ভাগ্যর ওপর লানত! তাকে এতো অপমান, এতোটা অসম্মান করা মানুষটাকে সে কিছু বলতে পারছে না, কিছু করতে পারছে না – এই য’ন্ত্রণায় তার কান্না পাচ্ছে। সে কেনো এতো সামান্য? রোযা দাঁতে দাঁত পিষে আওড়ায় –
‘আই ওয়ান্ট টু শ্যুট ইউ, আদিল মির্জা।’
.
শান্তর কথার কোনো প্রত্যুত্তর করে না আদিল। তবে সরেও না। দাঁড়িয়ে থাকে। ওখান থেকেই নির্নিমেষ দেখে রোযাকে। তার ব্যবহার করা কাপড়চোপড়ই রোযার গায়ে বিদ্যমান। সাদা শার্টটা সম্ভবত গত পরশুও আদিল পরেছিল। তার কাপড়চোপড় মানেই ওমন হ্যাংলাপাতলা রোযার শরীরের জন্য সুবিশাল। কেমন পুরো ওর অস্তিত্ব হারিয়ে গেছে প্যান্ট-শার্টে নিচে। শার্টের দু-হাতা ঝুলছে। হাত হারিয়ে গেছে হাতার ভেতর। শুধু বড়ো লাল নখের একটু চিকচিক করছে। আদিলের পুরো শরীরে যেন আ’গুন লেগে গেছে। দমবন্ধ হয়ে আসার মতন অনুভূতি গ্রাস করে নেয় তাকে। কেমন অন্ধকার চোখমুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটা। শুধু পারছে না চোখ তুলে আ’গুন ছুঁড়তে। আদিল কিছুক্ষণ উপভোগ করে ঘুরে ভেতরে যাওয়ার ভং ধরতেই রোযা তড়িঘড়ি ভেতরে এলো। ডাকল কাঁপা কাঁপা গলায় –
‘স.. স্যার। স্যার!’
আদিল ফিরল না। তবে দাঁড়াল। রোযা ওপরে তাকিয়ে ভ্যাবাচেকা খেলো। একটা উদোম চওড়া পিঠ তার দিকে। দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে বলল –
‘স্যার, আমি বাসায় ফিরতে চাচ্ছি। আমাকে যেতে দিন।’
আদিল জবাব দিলো না। সরে এলো। রোযা নিচ থেকে কয়েকবার ডাকল। সিঁড়ি ধরে ওপরে উঠতে চাইতেই দেখল স্বতঃস্ফূর্ত এক পুতুল ছুটে আসছে ঝড়ের গতিতে। পারছে না হাওয়ায় উড়ে রোযার কোলে ঝাপাতে।
‘স্নো-হোয়াইট!’
রোযার এবার সত্যি সত্যি কান্না পেলো। এই পুতুলের জন্যই তো তার এতো মসিবত কপালে! কেনো এই পুতুলকে ওই বদমায়েশ লোকটার মেয়ে হতে হলো? কেনোও?
চলবে ~~
® #নাবিলা_ইষ্ক।
Share On:
TAGS: আদিল মির্জাস বিলাভড, নাবিলা ইস্ক
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ২১
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ৯
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ১৭
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ২৩
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ২
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ১৫
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ১৩
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ১৯
-
আদিল মির্জাস বিলাভড গল্পের লিংক
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ৮