Golpo romantic golpo She is my Obsession

She is my Obsession পর্ব ৩২


She_is_my_obsession

পর্ব:৩২

লেখনীতেনবনীতাচৌধুরি

হন্তদন্ত পায়ে আরসালানের কেবিনে প্রবেশ করলো রিজভি।

দরজা ঠেলে কেবিনে ঢুকে অবাক হলো সে। মেঝেতে র*ক্তাত অবস্থায় পড়ে আছে লিয়ানা। জ্ঞান আছে কিনা বুঝতে পারলো না রিজভি। ফারিস মাথা চেপে ধরে সোফায় বসে আছে। লিয়ানার পাশ কাটিয়ে ফারিসের কাছে গেলো রিজভি। আলতো হাতে ফারিসের বাহু ঝাঁকিয়ে ডাকলো সে।

–” বস? কি হয়েছে আপনার?”

–” বস শুনতে পারছেন?”

–” রি..রিজভি পানি দে। ওরা আমার গ্লাসে কিছু মিশিয়েছে।”

ফারিসের আদেশ পেতেই তড়িৎ বেগে। ওয়াশরুম থেকে জগ ভর্তি পানি আর টাওয়াল নিয়ে এলো রিজভি। ফারিস সোজা হয়ে বসলো। সম্পূর্ণ পানি টা মাথায় ঢেলে টাওয়াল দিয়ে মাথা চেপে ধরলো সে। কিছুক্ষণ পর একটু স্থির হলো ফারিস। কয়েকবার মাথা ঝাঁকিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো সে।

–” লিয়ানা কে জুনোর ফ্ল্যাটে নিয়ে যাও। আমি লিটল গার্লের কাছে যাচ্ছি। আমার লিটল প্রিন্সেস ভয় পাবে একা।”

–” ওকে বস। আপনাকে দিয়ে আসবো? যেতে পারবেন।”

–” হুমম।”

দ্রুত পায়ে আরসালানের কেবিন থেকে বেরিয়ে গেলো ফারিস। কেবিনের দরজায় লক প্রেস করতেই দরজা খুলে গেলো। ভেতরে প্রবেশ করতেই বুক কেঁপে উঠলো ফারিসের। তার লিটল গার্ল মেঝেতে পড়ে আছে। তার পুরো পৃথিবী টা ঠান্ডার মধ্যে মেঝেতে পড়ে আছে? মাথার পেছন থেকে ফ্লোরে র*ক্ত গড়ানোর দাগ। বেড সাইড টেবিল থেকে পানির গ্লাস এনে ইসরাহ চোখে মুখে ছিটালো ফারিস। কিন্তু উঠলো না ইসরাহ।

উপায়ান্তর না পেয়ে ইসরাহ কে পাঁজা কোলে তুলে হসপিটালে ছুটে ছিলো ফারিস।


অমানিশার অন্ধকারের মাঝে টিমটিমে আলোর একটা লাল বাতি জ্বলছে।

ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকালো লিয়ানা। অনেকক্ষণ ধরে চোখ বন্ধ থাকায়। চোখে বাল্বের আলো পড়তেই চোখ বন্ধ করে নিলো সে। ফের ধাতস্থ হয়ে চোখ খুললো লিয়ানা। একটা চেয়ারে বাঁধা অবস্থায় বসে আছে সে। এদিক ওদিক তাকালো লিয়ানা।

রুম টা আর পাঁচ টা সাধারণ রুমের মতো না। কেমন ভ্যাপসা উদ্ভট পঁচা গন্ধ আসছে। সে ঠিক বুঝতে পারছে না গন্ধ টা কিসের। এর মধ্যে খট করে একটা শব্দ হলো। ফের চেয়ারে মাথা ফেলে চোখ বন্ধ করে নিলো লিয়ানা। ঘরে কেউ প্রবেশ করেছে।

জুতোর শব্দ আসছে। লিয়ানার তীক্ষ্ম মস্তিষ্কে ধরতে পারলো দু’জন মানুষ আছে এখানে। চোখ খুললো না সে। অজ্ঞান হওয়ার ভান ধরে পড়ে রইলো সে। একটা লোক চেয়ার টেনে তার বরাবর এসে বসলো।

লিয়ানার নাকে পৌঁছালো অর্কিডের মিষ্টি সুভাষ। চট করে চোখ খুলে নিলো সে। মনের অজান্তেই লিয়ানার মুখ দিয়ে বেরোলো একটা নাম।

–” ফারিসসসস??”

ফারিস তখন দু’হাতে কালো গ্লাভস পরতে ব্যস্ত। লিয়ানা অবাক চোখে সামনে বসা মানব কে দেখলো। ফারিসের পরণে কালো হুডি। দু’চোখ ছাড়া সম্পূর্ণ মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা।ফারিসের বাদামি মণির দু’চোখ দেখে তাকে চিনতে কষ্ট হলো না লিয়ানার। ওই দু’চোখ একবার কেউ দেখলে তা ভুলতে পারবে না সে। লিয়ানা ও তার ব্যতিক্রম নয়।

–” এসব কি ফারিস? আমাকে এখানে এনেছো কেনো?”

রিজভি ছোটো একটা টেবিল ভর্তি। মাঝারি থেকে বড় ধাঁচের ছুরি, কাঁচি, মোমবাতি, সহ দিয়াশলাইয়ের বক্স এনে রাখলো ফারিসের পাশে। অবাক চোখে সবটা দেখলো লিয়ানা। এতক্ষণ স্বাভাবিক থাকতে পারলে ও এইবারে আর তা পারলো না সে। বাঁধন থেকে ছাড়া পেতে হাত পা নাড়াতে শুরু করলো লিয়ানা।

–” আমাকে ছেড়ে দাও ফারিস। আমি কিন্তু চিৎকার করবো।”

ফারিস কান দিলো না লিয়ানার কথায়। সে টেবিল টা নিজের দিকে টেনে নিলো। ছু*রি গুলো তুলে ধার দেখতে ব্যস্ত হলো ফারিস। পর পর বিরক্তি নিয়ে রিজভি কে ডাকলো সে।

–” রিজভি!”

–” ইয়েস বস!”

–” শেষ বার ছু*রি গুলো ধার দেসনি? এমন বোতা কেন এগুলো?”

–” বস শেষবার স্টিফেনের সময় ধার দিয়েছিলাম। কিন্তু আপনি তো এসব কিছুই তখন ব্যবহার করেননি। তাই এইবারে আর ছেলেদের এসব ধার দিতে বলিনি।”

বিরক্তিতে ” চ-সূচক ” উচ্চারণ করলো ফারিস। দানবীয় কদমে চেয়ার ছেড়ে ট্রে টা হাতে উঠে গেলো সে। পেছনে রাখা বড় টেবিলের উপর ট্রে টা রেখে দিলো ফারিস। লিয়ানা কিঞ্চিত সাহস করে রিজভি কে ডাকলো;-

–” এসব কি রিজভি?”

–” বস কে সিডিউস করতে চেয়েছিস। এখন সেই সিডিউসের আদর নিবি না?”

–” তুমি আমাকে তুই তুকারি করছো কেন?”

–” ম্যামের জায়গা নেওয়ার খুব ইচ্ছে না?”

কথা শেষ করে লিয়ানার গালে শক্ত হাতের চড় বসালো রিজভি।

–” আহা রিজভি! শক্ত খরচ করছিস কেন?”

–” বস বড্ড ছোপা করছে মেয়ে টা।”

–” তোর এখন কি করতে ইচ্ছে করছে এ কে?”

ফিচেল হাসলো রিজভি।

–” এ কে আমি খু*ন করি বস?”

ফারিস আর জবাব দিলো না। নিজের জায়গায় এসে বসলো সে।

–” র*ক্ত নেওয়া শেষ তো? নাকি তুই সেটা ও ভুলে গেছিস? তাহলে কিন্তু তুই শেষ বার্স্টাড।”

–” জ্বি বস, শেষ। দু’ব্যাগ নিয়েছি।”

–” রেফ্রিজারেশন এ রেখেছিস?”

–” জ্বি,”

–” কিসের রক্তের কথা বলছো তোমরা দুজনে? কার রক্ত নিয়েছো?”

–” আমার ড্রিংসে কি মিশিয়ে ছিলি?”

–” মানে?”

–” সোজা সাপ্টা সত্যি বল। নয়তো নৃশংসতার চিপাগলি দেখাতে আমি বাধ্য হবো। লিটল গার্ল ব্যতীত কোনো নারী শরীর দেখতে আমি ইচ্ছুক নই।”

–” না বললে কি করবে শুনি? আমার বডি দেখবে?”

ফারিস অদ্ভুত হাসলো,

–” রিজভি তোর যা ইচ্ছে কর। আমি গেলাম।”

–” আফ্রো..ডিসিয়াক!”

পা জোড়া থেমে গেলো ফারিসের। ঘুরে দাঁড়ালো সে।

–” আমার দান আমার উপরেই ছুঁড়তে চেয়েছিলি? এসব আফ্রোডিসিয়াক, বা*ল চাল ফারিস জাওয়ানের মেশিন খাড়া করাতে পারবে না।”

–” তার মানে কি তুমি পুরুষ না? আধো ও তোমার মেশিন কাজ করে তো?”

–” চান্স না পেলে কতো কি ই বলে মানুষ। রিজভি ওর বাঁধন খুলে দে।”

ফারিস ফের চেয়ারে বসলো। গ্লাভস পরা বা’হাতে লিয়ানার ডান হাত টা টেনে টেবিলের উপর রাখলো।

–” বাই দ্য ওয়ে, কোন হাত দিয়ে ড্রিংসে ওসব মিশিয়ে ছিলি? এই হাত ই তো তাই না?”

ধারালো ছু*রি দিয়ে লিয়ানার প্রথম আঙুলে আঘাত করলো ফারিস। গগণ বিদায়ী চিৎকার দিলো লিয়ানা। রুম টা সাউন্ড প্রুফ থাকায় সেই চিৎকার বাইরে পৌঁছাতে পারলো না। সারা রুম বেজে ফের ওদের তিনজনের কানে লাগলো। ফিনকি দিয়ে লাল তরল ছুটলো তার আঙুল দিয়ে।

–” খুব সখ না ফারিসের ছোঁয়া পাওয়ার। এই নে,”

একটু পর পরের আঙুলটাতে ও টান বসালো ফারিস।

–” আরেকটু ছোঁয়া!”

একই ভাবে লিয়ানার পুরো ডান হাতে ছুরি দিয়ে আঁচড় টানলো সে। রক্তে সাদা টেবিল টা লাল হয়ে গেলো। ঠোঁট কামড়ে চোখ বন্ধ করে রেখেছে লিয়ানা। বেদনায় নীল হয়ে উঠেছে তার মুখ। অধর জোড়া এতো শক্ত করে কামড়ে ধরেছে যেনো এখনি র*ক্ত বেরিয়ে আসবে। বহু কষ্টে লিয়ানা বললো;-

–” ফারিস তুমি এমন টা করতে পারো না।”

–” আমার লিটল গার্লের কাছ থেকে যেই আমাকে আলাদা করতে চাইবে। তাকেই আমি এমন শাস্তি দিবো। এর থেকে ও বাজে শাস্তি দিবো তাকে। তোর শেষ ইচ্ছে কি?”

–” একবার চুমু খাবো তোমাকে।”

পুনরায় লিয়ানার মুখে চুমু খাবো শুনে। দ্বিগুণ মাথা গরম হয়ে গেলো ফারিসের। শরীরের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে ছু*রিটা মেঝেতে ছুঁড়ে মারলো ফারিস। গমগমে কন্ঠে রিজভি কে বললো সে;-

–” রিজভি ওর ঠোঁটে ছ্যাক দে। যাতে এমন কথা দ্বিতীয় বার উচ্চারণ না করতে পারে।”

ফারিসের পাশ থেকে সরে। রিজভি গরম ছুরিটা চেপে ধরলো
লিয়ানার ওষ্ঠ। চোখ জোড়া চেপে
বন্ধ করে নিলো লিয়ানা। গাল বেয়ে পড়লো গরম নোনা জল। ফারিস
ফের সুধালো;-

–” এইবার বল, তোর শেষ ইচ্ছে কি?”

–” একবার তোমাকে জড়িয়ে
ধরতে দিবে? তোমার বুকে মুখ
গুঁজে একবার তোমার অর্কিড পারফিউমের সুভাষ নিতে দিবে
ফারিস জাওয়ান? মৃত্যু তো আমাকে
দিবেই। তবে শেষ ইচ্ছে টা রাখো? জীবনে অনেক পুরুষের সান্নিধ্যে গিয়েছিলাম। কতো জন চেয়ে ও আমাকে পায়নি। কিন্তু তোমার মতো এতোটা ব্যক্তিত্ববান পুরুষ আমি দ্বিতীয় টি দেখিনি।”

চলবে

( প্রিয় পাঠক মহল,
কেমন হয়েছে জানাবেন কিন্তু! আজ রিচেক দেইনি।🙂 আর ক্রিমিনাল ফারিস জাওয়ান কে কেমন লাগছে?)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply