She_is_my_obsession
পর্ব:২৩
লেখনীতেনবনীতাচৌধুরি
পাঁচ মিনিট পর ফারিস ছাড়লো ইসরাহ কে। ছাড়া পেতেই প্রাণ ভরে শ্বাস টানলো ইসরাহ। এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলো মানুষ তাকিয়ে আছে কিনা।
ফারিস নাফি দিকে তাকিয়ে এগিয়ে গেলো। বিচক্ষণ চোখে, ছেলেটার পা থেকে মাথা অব্দি একবার চোখ বুলিয়ে দেখলো সে। শ্যাম বর্ণের লম্বা গড়নের একটা ছেলে। নেভি ব্লু হুডির সাথে জিন্সের প্যান্ট। চুল গুলো কপালে পড়ে আছে, যথেষ্ট স্মার্ট । ফারিস মনে করার ভঙ্গিমায় ভাবলো ছেলে টা কে? কিন্তু তার মনে পড়লো না। ছোটো বেলাতে দেখেছে কিনা জানা নেই। ফের ইসরাহর পাশে গিয়ে ওর ঘাড়ে হাত রেখে শীতল কন্ঠে সুধালো ফারিস;-
–” এই ভিলেন টা আবার কে লিটল গার্ল?”
ইসরাহ নিচু কন্ঠে জবাব দিলো;-
–” ও আমার কাজিন।”
–” মিন’স আমার শালা?”
নিজের কথায় নিজেই হাসলো ফারিস। এগিয়ে এসে হ্যান্ডশেকের জন্য নাফির দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো সে। নাফি হেসে হ্যান্ডশেক করলো তার সাথে। ফারিস হাসির মাঝেই ছেলেটার হাতে চাপ বসালো জোরে। নাফি নাক মুখ কুঁচকে নিলো।
–” আহ।”
ফারিস বুকে হাত ঠেকিয়ে নাফির উদ্দেশ্যে সুধালো।
–” ব্যথা পেয়েছো শালা? আমি ও এখানে ব্যথা পেয়ে ছিলাম; হঠাৎ করে আমার বউ কে খুঁজে না পেয়ে।”
কিঞ্চিত ঠোঁট এলিয়ে হাসার চেষ্টা করলো নাফি। ছেলেটার কথা গুলো এমন কেন বুঝে এলো না তার।
–” রিজভি!”
ফারিসের ডাকে রিজভি এগিয়ে এলো শান্ত কন্ঠে নীচু মস্তকে উত্তর দিলো সে;-
–” ইয়েস বস?”
–” আমার হ্যান্ডসাম শালাটাকে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করো। কে জানে, সুন্দর দেখে আবার কেউ কিডন্যাপ না করে নেয়!”
–” ওকে বস।”
–” ধন্যবাদ ভাইয়া, কিন্তু প্রয়োজন নেই আমি একাই যেতে পারবো।”
নাফির দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে, ইসরাহ দিকে তাকালো ফারিস।
–” লিটল জান? এবার তাহলে যাই!”
–” কিন্তু,”
ফারিস বাকি কথা শোনার প্রয়োজন বোধ করলো না। ইসরাহ কে কোলে নিয়ে মেঝেতে শব্দ তুলে; সিঁড়ির দিকে হাঁটা দিলো সে। রেস্টুরেন্টে বসা সবাই এতক্ষণের চলমান তামাশা দেখা শেষে চোখ ফিরিয়ে খাবারে মনোনিবেশ করলো।
ফারিস কে যেতে দেখে, রিজভি এগিয়ে এসে নাফির দিকে তাকিয়ে বললো;-
–” আসুন, আপনাকে বাড়ি পৌঁছে দেই।”
–” প্রয়োজন নেই; আমার বাস আছে।”
–” স্যার আমাকে বকবেন। দয়া করে আসুন।”
–” আচ্ছা চলুন।”
রিজভির অসহায় মুখশ্রী দেখে রাজি হলো নাফি। টেবিল থেকে ব্লুটুথ আর ফোন টা তুলে নিয়ে; রিজভির পেছন পেছন নেমে এলো নাফি।
শহরের নীরবতা ছাপিয়ে রাস্তা দিয়ে চলছে ফারিসের গাড়ি টা।
ল্যাম্প পোস্টের মৃদ্যু মন্দ আলোতে ফারিসের নিরট মুখপানে চেয়ে ঢোক গিললো ইসরাহ। ফারিস যে প্রচুর পরিমানে রেগে আছে। তা তার নীরবতা যেনো ক্ষণে ক্ষণে চিৎকার করে জানান দিচ্ছে।
–” ফারিস?”
–” …. “
–” বলছিলাম কি, এমন ভুল আর হবে না।”
এবারে ও ফারিস কিছু বললো না। তবে তার গাড়ির স্পিড বাড়লো। ইসরাহ এক হাতে সিট বেল্ট চেপে ধরলো। অপর হাতে ফারিসের বাম হাতের উপর হাত রাখলো। আচানক ব্রেক কষলো সে। সিট বেল্ট টা টান মেরে খুলে নিলো ফারিস। হিংস্র ভঙ্গিমায় এগিয়ে এসে চেপে ধরলো ইসরাহর অধর। ফারিসের হঠাৎ করা আক্রমণে ইসরাহ গাড়ির জানালার গ্লাসের সাথে চিপকে গেলো। ফারিস দু’হাতে চেপে ধরলো ইসরাহর কোমল গাল। চুমু খাওয়ার মাঝে জোরে কামড় বসালো সে। পর পর সোজা হয়ে ফের গাড়ি স্টার্ট দিলো ফারিস।
সিটে বসে পিঠ ঠেকিয়ে বসে, ওষ্ঠে হাত রাখতেই লাল তরলের অস্তিত্ব বুঝতে পারলো ইসরাহ। ফারিসের দেওয়া শেষ কামড়ে নীচের ঠোঁট টা কেটে গেছে। শব্দ না করে ওড়নার কোনায় র*ক্ত টুকু মুছে নিলো সে।
ফারিস ড্রাইভিং এর ফাঁকে ইসরাহ দিকে তাকিয়ে আবার রাস্তার দিকে তাকালো।
ফারিসের গাড়ি টা এসে থামলো সিকদার ভিলার সদর দরজায়। ডোর খুলে বেরিয়ে এলো ফারিস। ইসরাহর পাশের ডোর টা খুলে ও কে কোলে তুলে নিলো সে।
গটগট পায়ে বাড়িতে প্রবেশ করতেই আসফা বেগমের মুখোমুখি হলো দু’জনে। কোল থেকে নামিয়ে ফারিস ইসরাহ কে পাশে দাঁড় করিয়ে, শক্ত করে কব্জি চেপে ধরলো তার।
–” আপনার থেকে কৈফিয়ত নেওয়ার প্রয়োজন নেই আমার। জাস্ট লিসেন, এক ইন্ঞি ছাড় ও পাবেন না আপনি।”
আসফা বেগম এগিয়ে এলেন। ফারিসের সামনা সামনি দাঁড়িয়ে কাট কাট গলায় তিনি সুধালেন;-
–” ইসরাহ কে ছেড়ে দাও। আমি আর বিরক্ত করবো না তোমাকে। আমার মেয়ে কে মুক্তি দাও এই নোংরা সম্পর্ক থেকে।”
ফারিস কন্ঠে আগুন ঢেলে উচ্চ স্বরে প্রশ্ন করলো:-
–” নোংরা? সিরিয়াসলি, কি নোংরামি দেখেছেন আমাদের সম্পর্কে? ধর্ম মেনে দুই, দুই বার বিয়ে করেছি লিটল গার্ল কে। তার পরে ও আপনার কাছে এই সম্পর্ক নোংরা মনে হচ্ছে?”
–” সৎ ভাই কে বিয়ে করা ভালো? তোমার মেয়ে হলে তুমি কি করতে? পারতে এসব মানতে?”
–” হ্যাঁ মানতাম, কারণ ভালোবাসার আপনি কি বোঝেন? বোঝেন তাকে পাওয়ার জন্য বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করার কষ্ট। কিছুই জানেন না আপনি!”
ফারিস পাঁজাকোলে তুলে রুমে নিয়ে এলো ইসরাহ কে। সারা রাস্তায় ফারিস একটা কথা ও বলেনি। নিচে ও কথা বলার সময় ও সে নিজের মধ্যে ছিলো না। রেস্টুরেন্টে শেষ বার স্বাভাবিক ভাবে কথা বলেছিলো। অতঃপর কোলে তুলে ইসরাহ কে এনে গাড়িতে বসিয়ে দিয়ে ছিলো। ইসরাহর শত ডাকে ও সে জবাব দেয়নি।
রুমে এসে ইসরাহ কে বিছানায় শুইয়ে দিলো ফারিস। ইসরাহ কে শুইয়ে দিয়ে ফারিস সোজা হতে নিতেই ইসরাহ টেনে ধরলো ফারিসের হাত।
–” কথা বলছেন না কেন ফারিস? আমার ভয় করছে আপনার এমন নীরবতা। বকুন আমাকে, যা ইচ্ছে বলুন। তবুও কথা বলুন।”
অদ্ভুত চোখে তাকালো ফারিস। ইসরাহর কপালের চুল গুলো কানের পাশে গুঁজে দিয়ে; বরফ শীতল কন্ঠে সুধালো;-
–” ভয় করছে কেন, লিটল গার্ল? আমি কি তোমাকে মেরেছি?”
ফারিসের এরূপ আচরণে বিছানায় চেচড় কেটে সরে যেতে নিলো ইসরাহ। ফারিস হাসলো। ধীর পায়ে কার্বাডের পাশে এগিয়ে গেলো সে। উপরের তাক থেকে, এক গুচ্ছ রশি নিয়ে ফিরে এলো। দু’হাতে টেনে রশি পোক্ততা যাচাই করলো সে। যথেষ্ট শক্ত রশি গুলো। সহজে ছিঁড়ে যাবে না। ইসরাহ কাঁদো কাঁদো কন্ঠে ডাকলো;-
–” ফা…রিইইসস।”
–” বলো লিটল গার্ল?”
–” আ…পনি কি করবেন রশি দিয়ে?”
–” তোমাকে ভালোবাসবো লিটল গার্ল।”
ফারিস ইসরাহর পায়ের কাছে এসে বসলো। ইসরাহর পা টেনে নিজের সামনে এনে বসালো তাকে। রশির গিট খুলে নিজের হাতে পেঁচালো সে। অতঃপর ইসরাহর পা দুটো চেপে ধরে বেঁধে ফেললো ফারিস। পরপর একই ভাবে হাত দুটো ও বেঁধে নিলো সে।
শরীরে শক্ত লাল রশি গুলোর বাঁধন পড়তেই। ব্যথায় ফুঁপিয়ে উঠলো ইসরাহ।
–” আমি ব্যথা পাচ্ছি ফারিস।”
বাঁধন শেষে ইসরাহ গলার ওড়না টা টেনে ফ্লোরে ফেলে দিলো সে। একে একে ইসরাহর শরীরের শেষ সুতোটি ও নিচিহ্ন করে নিলো ফারিস। শেষে কোলে তুলে নিলো ইসরাহ কে। ওয়াশরুমে ঢুকে পানি ভর্তি বাথটবে শুইয়ে দিলো। শীতল পানি শরীরে লাগতেই কেঁপে উঠলো ইসরাহ। কাঁপতে থাকা শরীর নিয়ে ফুঁপিয়ে ফের ডাকলো ফারিস কে;-
–” ফারিস? কি করছেন আপনি?”
–” একটু অপেক্ষা করো লিটল প্রিন্সেস!”
ইসরাহর সামনে হাঁটু গেড়ে বসলো ফারিস। বাথটাবের পেছন থেকে বের করলো সাদা একটা ব্যাগ। ব্যাগের চেইন খুলে; ভেতর থেকে মাঝারি মাপের একটা ধারালো ছুরি বের করলো সে। ছুরিটাতে লাইটের সাদা আলো পড়তেই চিকচিক করে উঠলো। ব্যাগ থেকে ছোটো পাথর টা নিয়ে ফের ছুরিটা ধারালো ফারিস। ধার দেওয়া শেষে বাথটাবের সাইডে হাত ঠেকিয়ে চুমু খেলো ইসরাহ কপালে। ভয়ার্ত চোখে সব টা পরোখ করলো ইসরাহ।
সেকেন্ডর মধ্যেই ফারিস ছুরি দিয়ে আঘাত করলো নিজের কব্জিতে। ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটলো তার কব্জি দিয়ে। টপ টপ করে রক্তের ফোঁটা গুলো বাথটাবের সাদা পানিতে পড়তে লাগলো। সাদা পানিতে লাল তরলের অস্তিত্ব দেখে চিৎকার করে উঠলো ইসরাহ। ইসরাহর চিৎকারে হাতে আরো কয়েক টা পোছ দিলো ফারিস। রক্তের স্রোত বাড়লো। বলিষ্ঠ ফারিসের শরীর থেকে চুইয়ে চুইয়ে পড়তে লাগলো রক্ত। ছুরি টা মেঝেতে ফেলে দিলো সে। টাইলসের উপর পড়ে ছুরিটা ঝনঝন করে উঠলো। হাতের মুঠো শক্ত করতেই র*ক্তের স্রোতের তীব্রতা বাড়লো। নিভে আসা কন্ঠে ফারিস ইসরাহর মুখপানে চেয়ে বললো;-
–” অবসেশন ছাড়তে নেই। জোর করে কেড়ে নিতে হয়। ইউ আর মাই আনহেলদি অবসেশন, ভালোবাসা ভোলা যায়, কিন্তু অবসেশন না।”
ফারিস থামলো,
–“তোমাকে কষ্ট দেওয়ার সাধ্যি আমার নেই লিটল গার্ল। কিন্তু নিজেকে আঘাত করতে আমার বিন্দু মাত্র আফসোস হয় না।”
–” ফার….ইরিসস আপনার র*ক্ত বের হচ্ছে। পাগল হয়ে গেছেন আপনি?”
–“ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরিকে জাগানো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তবু ও তুমি লাইটার ছুড়ে দিয়েছ, এবার সামান্য তাপ তো সহ্য করতেই হবে। ফারিস জাওয়ান মোটেও ভালো না লিটল গার্ল।”
–” সৌন্দর্যের মাঝে ভয়ংকরতা লুকানো থাকে। আপনাকে দেখলে বোঝা যায় ফারিস জাওয়ান।”
–” ভয়ংকরতার কিছু ই দেখোনি লিটল গার্ল।”
পর পর নিজের অধরের মাঝে পুরে নিলো ইসরাহ অধর জোড়া।
চলবে
Share On:
TAGS: She is my obsession, নবনীতা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
She is my Obsession পর্ব ১
-
She is my Obsession পর্ব ১০
-
She is my Obsession পর্ব ১৭
-
She is my Obsession পর্ব ৯
-
She is my Obsession পর্ব ৫
-
She is my Obsession পর্ব ১৮
-
She is my Obsession golper link
-
She is my Obsession পর্ব ৪
-
She is my Obsession পর্ব ৩৫
-
She is my Obsession পর্ব ২৮