–” নিজের থেকে দশ বছরের ছোটো। নিজের বোনকেই বিয়ে করতে তোমার লজ্জা করলো না জাওয়ান?”
বাবার কড়া কন্ঠের প্রশ্নে। আরামে সোফায় গা এলিয়ে বসলো জাওয়ান। দু’হাত দু’দিকে বাড়িয়ে বাবা দিকে তাকিয়ে সে বললো:-
–” আর কতোবার এক কথা বলতে হবে বাবা!”
জাওয়ানের থেকে ও তীব্র ভাবে চেঁচিয়ে উঠলেন আরহাম সিকদার। রাগী কন্ঠে তিনি বললেন:-
–” যতক্ষণ না আমি আমার প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাচ্ছি জাওয়ান।”
–” তুমি মনে হয় ভুলে যাচ্ছ বাবা। শি ইজ নট মাই রিয়াল সিস্টার। শি ইজ মাই স্টেপ সিস্টার।”
কপাল চেপে সোফায় বসে পড়লেন আরহাম সিকদার। নিজের ছেলের এমন বেহায়াপনা দেখে রাগে শরীর পুড়ে যাচ্ছে ওনার। মাথার রগ গুলো যন্ত্রণাতে ফেটে যাওয়ার দশা। কি করবেন তাও বুঝে উঠতে পারছেন না তিনি। পাশেই আসফা বেগম আট বছরের মেয়েকে বুকে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।
আট বছরের ইসরাহ বোকা বোকা চোখে আরহাম সিকদার আর জাওয়ানের দিকে আছে। এখানে কি হচ্ছে কিছুই তার মাথায় আসছে না। তার মধ্যেই জাওয়ান আদুরে গলায় হাত নাড়িয়ে ইসরাহ কে নিজের কাছে ডাকলো। কিন্তু বাঁধ সাধলেন আসফা। মেয়ে কে শক্ত করে ধরে বললেন:-
–” তুমি কোথাও যাবে না ইসরাহ।”
–” কিন্তু ভাইয়া তো আমাকে ডেকেছে আম্মু।”
মেয়ের মুখ চেপে ধরলেন আসফা। জাওয়ান আসফা বেগমের কথায় বিশেষ পাত্তা না দিয়েই আবার ডাকলো ইসরাহ কে;-
–” লিটল প্রিন্সসেস কাম হেয়ার।”
মায়ের হাত ছাড়িয়ে ইসরাহ ছুটলো জাওয়ান কাছে। ইসরাহ আসতেই জাওয়ান দাঁড়িয়ে পড়লো হাত বাড়িয়ে কোলে তুলে নিলো বাচ্চাটা কে। এই দৃশ্য দেখে তেতে উঠলেন আরহাম সিকদার। তড়িৎ গতিতে এগিয়ে এসে জাওয়ানের কোল থেকে ছিনিয়ে নিলো ইসরাহ কে। পর মুহূর্তেই গমগমে কন্ঠে তিনি জবাব দিলেন:-
–” তুমি ও কে আর ছুঁবে না। এই খেলনা বিয়ে। বিয়ের কাগজ সব আমি ছিঁড়ে ফেলবো।”
ইসরাহকে কোল থেকে নামিয়ে সেন্টর টেবিল থেকে জাওয়ান আর ইসরাহর বিয়ের কাবিননামা খানা নিয়ে নিলেন। মাঝ বরাবর টেনে ধরে মিনিটেই কাগজ খানা ছিঁড়ে কুঁচি কুঁচি করে ফেললেন আরহাম। জাওয়ান শান্ত চোখে চেয়ে কাগজ খানা ছিঁড়তে দিলো বাবাকে। ওনার ছেঁড়া শেষ হতেই সে সুধালো:-
–” এমন আরো দশটা কাবিননামার কপি আমার কাছে আছে বাবা। তুমি যে এটাকে নষ্ট করে ফেলবে। তা আমি আগে থেকেই জানতাম।”
–” চুপ করো বেয়াদপ ছেলে। আমি এখনি সব ব্যবস্থা করছি। ফ্লোরিডাতে তোমার ছোটো চাচ্চুর কাছে তোমাকে পাঠানোর। তার আগে তোমাদের ডির্ভোসের ব্যবস্থা করছি আমি।”
সোফা থেকে নিজের ফোনটা তুলে নিলেন আরহাম সিকদার। ডায়াল লিস্ট গেঁটে কেউ একজন কে কল দিলেন তিনি। কিন্তু অপর পাশের ব্যক্তি কল টা রিসিভ করলো না। বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে নিলেন আরহাম সিকদার। পরণের পাঞ্জাবীর বাম হাতায় কপালের ঘাম টুকু মুছে নিলেন তিনি। প্রয়োজনের সময় কোনো কিছুই সঠিক ভাবে পাওয়া যায় না। যেমন এখন ওনার পারিবারিক উকিল মিস্টার খান ফোন তুলছেন না।
বাবার এহেন ব্যস্ততা দেখে ফের সুধালো জাওয়ান।
–” তুমি যদি ভেবে থাকো আমি ইসরাহ কে ছেড়ে দিবো। তাহলে তুমি ভুল বাবা। এ দেহে প্রাণ থাকতে ; আমি অন্তত সুস্থ মস্তিষ্কে ইসরাহ কে ছাড়ছি না।”
জাওয়ানের এহেন ধমকে আসফা বেগম মুখ খুললেন। কড়া সুরে তিনি বললেন:-
–” তোমার লজ্জা হওয়া উচিত জাওয়ান। আমি তোমার মা হই। আর ইসরাহ তোমার বোন।”
–” নট নট ! আপনি কেবলই আমার বাবার বিবাহিত স্ত্রী। আমার কোনো মা টা নন। আর সেই অনুসারে ইসরাহ ও আমার কোনো বোন টোন নয়।”
অপমানে থমথমে মুখে চুপসে গেলেন আসফা। এই বেয়াদপ, ঘাড় ত্যাড়া ছেলের সাথে কথা বলাটাই ওনার ভুল। শুধু মাত্র নিজের ছোট্ট মেয়েটার ভবিষ্যত জড়িয়ে আছে বলেই তিনি এখনো এখানে দাঁড়িয়ে আছেন। নাহলে ঘন্টা আধ আগেই নিজের ঘরে চলে যেতেন। মেয়েটাকে এই ছেলের সাথে একা ছাড়াটাই ওনার ভুল ছিলো। যা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন আসফা।
–” তুমি কি চাইছো জাওয়ান? সরাসরি বলবে!”
–” ইসরাহ কে।”
জাওয়ানের সহজ সরল স্বীকারোক্তি দেখে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন আরহাম সিকদার। কঠিন কন্ঠে তিনি বললেন:-
–” সম্ভব না!”
–” কেন? কেন সম্ভব না।”
–” কারণ ও তোমার ছোটো বোন হয়।”
–” আমি মানলে তো?”
চলবে
She_is_my_Obsession
সূচনা পর্ব
লেখনীতেনবনীতাচৌধুরি
( প্রিয় পাঠক মহল
আপনাদের রেসপন্স পেলেই দ্বিতীয় পর্ব লিখবো। জানাবেন কেমন হয়েছে!)
বি:দ্র; গল্প পড়বার আগে, অবশ্যই নিজ দায়িত্বে নোটটি পড়ে নিবেন।
Share On:
TAGS: She is my obsession, নবনীতা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
She is my Obsession পর্ব ১১
-
She is my Obsession পর্ব ১০
-
She is my Obsession পর্ব ১২
-
She is my Obsession পর্ব ৪
-
She is my Obsession পর্ব ১৩
-
She is my Obsession পর্ব ৯
-
She is my Obsession পর্ব ২
-
She is my Obsession পর্ব ৫
-
She is my Obsession পর্ব ১৪
-
She is my Obsession পর্ব ৬