She_is_my_Obsession
পর্ব :১৬
লেখনীতেনবনীতাচৌধুরি
ঝড়ের তান্ডবে উত্তাল প্রকৃতি। অন্ধকার ধরনী কে আলোকিত করে বিদ্যুৎ চমকে উঠছে বার বার। দূরে কোথাও ক্ষণে ক্ষণে শুকনো বাজ পড়ছে। বাজ পড়ার শব্দে কেঁপে উঠছে জন মানব। অক্টোবর মাসের শেষের দিকে এমন ঝড় হওয়ার কারণ বুঝলো না কেউ।
ক্লান্ত শরীরে নিজের রুমে প্রবেশ করলো রওনাফ। হরেক রকমের ফুলের সুভাষ আর ফুল দ্বারা সাজানো বেড টা দেখতেই ; মূহুর্তেই মনের ব্যথার জেগে উঠলো তার। চিৎকার করে উঠলো রওনাফ। ছুটে গিয়ে শরীরের সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে, টেনে হিঁচড়ে ছিঁড়ে ফেললো সাজানো ফুলের বিছানা টা।
পুরুষ মানুষের কাঁদতে নেই। তবুও রওনাফ কাঁদলো। মাথার চুল খামছে ধরে বসে পড়লো সাদা টাইলস বিছানো মেঝেতে। বিষাদমাখা কন্ঠে সুধালো সে;-
–” বিষাদের সুর আমার রন্ধে রন্ধে লেপ্টে আছে। আর তুমি বর নিয়ে প্রেম সাগরে ডুব দিলে রুদ্ররাগীনি? আজকের রাত টা আমার আর তোমার হওয়ার কথা ছিলো। তোমায় তো আমি বলেছিলাম। আর একটু সামলে রেখো নিজেকে! কাল দুপুরে এসেই আমার নামের সাথে জড়িয়ে নিবো। সারা জীবনের মতো আমার করে নিবো। কিন্তু বোকা আমি জানতাম ই না। যে আমার পাখি আগেই জোড়া বেঁধেছে দূর দেশে। আমি তার জীবনের কোনো পাতাতেই ছিলাম না।”
জ্বলন্ত মোমবাতি সমেত সেন্টর টেবিল টা ধাক্কা মারলো রওনাফ। মোমবাতি গুলো মেঝেতে পরে নিভে গেলো। থামলো সে; ফের চিৎকার করে বললো রওনাফ।
–” আমার মরণ যন্ত্রণা হচ্ছে রাগিনী। ইচ্ছে করছে মরে যাই। আমার ভাবতে ও কষ্ট হচ্ছে যে, যে তুমি আমার না। বলো তো রাগিনী! কোথায় রাখি এই কষ্ট। আমি মরে যাচ্ছি না কেনো? এই ফুলের সুভাষ আমার গলার কাঁটা হয়ে বিঁধছে।”
রওনাফের চিৎকারে আতিফা ভূঁইয়া ছুটে এলেন। রওনাফের পাশে মেঝেতে বসে ছেলে কে জড়িয়ে ধরলেন তিনি। শান্তনার সুরে বললেন আতিফা;-
–” এমন করে না আব্বা। আমি তোমাকে আরো সুন্দর বউ এনে দিবো।”
মা কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো রওনাফ। আতিফার কোলে মুখ লুকিয়ে চিৎকার করে বললো সে;-
–” কিন্তু আমি তো ইসরাহ কে চেয়ে ছিলাম আম্মু। পৃথিবীতে কতো কিছু নিয়মের বাইরে গিয়ে হয়। তাহলে ইসরাহ কেন আমার হলো না। এতো এতো নিয়মের মাঝে একটু অনিয়ম হলে কি হতো? আমি তো ও কে নিয়ে সহজ সরল একটা জীবন যাবন করতে চেয়ে ছিলাম। সব স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেলো আম্মু।”
–” আব্বা থামো তুমি। ওই মেয়ে তোমার যোগ্য না। যে সৎ ভাই কে বিয়ে করে। তাকে তোমার সাথে মানায় না।”
–” না মা , আমি ওর যোগ্য ছিলাম না। না হলে ও আমার হতো। আমি কি করবো আম্মু? আমার বুকে ব্যথা হচ্ছে। মনে হচ্ছে কেউ আমার বুকে পাথর চাপিয়ে দিয়েছে।”
–” রওনাফ আমি কালকে থেকেই মেয়ে দেখবো। খুব লক্ষী একটা বৌমা আনবো তোমার জন্য। একদম পুতুলের মতো মেয়ে। তুমি এমন ভেঙে পড়ো না আব্বা। তুমি ছাড়া আমার আর তোমার বাবার কে আছে বলো?”
–” আমি আর বিয়ে করবো না আম্মু। আমি ইসরাহর পায়ে পড়বো প্রয়োজনে। জিজ্ঞেস করবো ও আমাকে কেনো বিয়ে করলো না। কি অপরাধ ছিলো আমার? তবে কি ওকে ভালোবাসাটাই আমার অপরাধ ছিলো?”
রুমে বাইরে থেকে দীর্ঘ শ্বাস ফেললো শারাফাত ভূঁইয়া। চোখের পানি টা মুছে সরে দাঁড়ালো দরজা থেকে । ওনার ছেলেটার এই অবস্থা সহ্য করতে পারছেন না তিনি। সেই বিকেল থেকে এমন পাগলামো জুড়েছে রওনাফ।
কোনো মতেই তাকে শান্ত করা যাচ্ছে না। শুধু ইসরাহ ইসরাহ করে চলেছে।
ফারিস দরজা থেকে সরতেই হঠাৎ কেউ আষ্টে-পৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরলো তার গলা। ফারিসের বুঝতে বাকি রইলো না মানুষ টা কে। আলতো হাতে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরলো ইসরাহ কে।
রহস্যময় কন্ঠে ইসরাহ কে ডাকলো ফারিস;-
–” লিটল গার্ল?”
–” ফা..রিস জাওয়া..ন, আমি পাগল হয়ে যাবো। আমাকে বাঁচান ফারিস!”
–” আর ইউ রেডি সুইট হার্ট? বি’কজ আই’ম সো ব্যাড বয়।”
–” ই….য়েস!”
ফারিস পাঁজাকোলে তুলে নিলো ইসরাহ কে। পা দিয়ে দরজা টা খুলে হাঁটা দিলো নিজের রুমের দিকে। রুমে এসে আবার পা দিয়ে ঠেলে দরজা টা লক করে দিলো ফারিস। আবছা আলোর মাঝে, ধীর পায়ে এগিয়ে এসে ফুল ছড়ানো বিছানায় শুইয়ে দিলো ইসরাহ কে।
ইসরাহ কে শুইয়ে দিতে, ফারিস ঝুঁকতেই ইসরাহ বাম হাতে তার কাঁধ চেপে ধরলো। পর পর মাথা উঁচিয়ে নিজের অধর জোড়া পুরে দিলো ফারিসের অধর পানে। আলতো ভাবে ছোটো ছোটো কামড় বসিয়ে, ধীর ধীরে দুজনে কামড় বসালো একে অপরের ওষ্ঠে। ফারিস নিজের শরীরের সম্পূর্ণ ভার ছেড়ে দিলো ইসরাহর উপর। সন্তর্পণে অধর থেকে ইসরাহর গ্রীবায় নামলো সে। ছোটো ছোটো চুমুতে ভিজিয়ে তুললো ইসরাহ গ্রীবা।
ফারিসের মাতাল ছোঁয়াতে কম্পন জাগলো ইসরাহর শরীর মনে। ওষ্ঠ এগিয়ে ফারিসের কানের পাশে কামড় বসালো ইসরাহ। ফলস নখ গুলো দিয়ে আঁচড় কাটলো ফারিসের প্রশস্ত পিঠ জুড়ে।
মুখ তুলে ইসরাহ মুখশ্রী খানা পরোখ করলো ফারিস। ততক্ষণে ইসরাহর বুকের উপর থেকে শাড়ির আঁচল সরে গেছে। বেনারসি শাড়ি খানার ঠাঁই হয়েছে মেঝেতে। লজ্জায় আর অদ্ভূত অনুভূতিতে চোখ খিচেঁ বন্ধ করে রইলো ইসরাহ। ফারিসের উন্মাদনা বাড়তেই, তাকে সামলাতে হিমশিম খেলো ইসরাহ। কম্পমান গলায় সুধালো ইসরাহ;-
–” আহহহহ, ফারিস প্লিজ স্লো!”
ফারিস মোহমোহাচ্ছন্নের ন্যায় আওড়ালো;-
–” নো সুইট হার্ট, ইট’স মাই টাইম। একটু সহ্য করে নাও। নেক্সট টাইম স্লো হবো, প্রমিস।”
ইসরাহ শক্ত হাতে খামচি কাটলো ফারিসের শুভ্র পিঠে। তবুও একটু ও অমনোযোগী হলো না ফারিস। ফের ইসরাহ কাঁদো কাঁদো স্বরে বললো;-
–” আমি আর সহ্য করতে পারছি না।”
–” আফটার ফোর’টি মিনিট’স আই উইল স্টপ। ততক্ষণ পর্যন্ত একটু চিৎকার করে রেসপন্স করো জান।”
ইসরাহর ধস্তাধস্তি তে ফারিস থামলো। সোজা হয়ে উঠে গিয়ে ট্রলি থেকে কিছু একটা নিলো। ফের চেইন টা না লাগিয়ে ই ফিরে এসে মেঝে থেকে বেল্ট টা তুলে নিলো সে। ইসরাহ ভর্য়াত চোখে ফারিসের দিকে তাকালো। তার এক হাতে হ্যান্ডকাফ অপর হাতে কোমরের চামড়ার বেল্ট টা। হ্যান্ডকাফ আর বেল্ট টা বিছানায় রেখে। ইসরাহ ছোট্ট শরীরের উপর ভার ছেড়ে শুয়ে পড়লো ফারিস। গলায় মুখ গুঁজে নাক ঘষতে ঘষতে সুধালো সে;-
–” লিটল গার্ল হ্যান্ডকাফ’স অর বেল্টস? হুইচ ওয়ান উইল ইউ ফিল দা কম্পোট?”
ফারিস হাস্কি স্বরের কথায় কেঁপে উঠলো ইসরাহ। ফারিসের প্রশস্ত বুক শক্ত হাতে খামছে ধরে নেশাক্ত কন্ঠে ইসরাহ সুধালো;-
–” এসব কেনো?”
–” যাতে তুমি ডির্স্টাব করতে না পারো। আমার নড়চড় একদম পছন্দ না। ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড?”
ফারিস ইসরাহ দু’হাত এক হাতে চেপে ধরে; অপর হাতের সাহায্যে হ্যান্ডকাফ টা পরিয়ে দিলো ইসরাহ দু’হাতে। হ্যান্ডকাফ টা লক করে চাবিটা ছুঁড়ে মারলো বেড সাইড টেবিলে। কাজ শেষ হতেই ফিচেল হাসলো ফারিস।
–” দ্যাট’স ফাইন, আই লেফট ইউর মাউথ ওপেন টু রেসপন্ড। সো স্টার্ট সুইট হার্ট।”
ফারিস মুখ ডুবালো ইসরাহর মেদহীন উদোরে। পর পর ঘোর লাগা কন্ঠে গেয়ে উঠলো সে;-
–” Aaj phir tumpe pyar aaya hai….
Behad aur beshumar aaya hai….
Toote toh toote ,,
teri baahon mein aise
Jaise shaakhon se patte be-haya…
Bikhre tujhi se ,,,
Aur simte tujhi mein
Tu hi mera sab le gaya..”
রাত বাড়ার সাথে সাথে বাড়ে ফারিসের অবাধ্য ছোঁয়ারা।
ভদ্র আর রগচোটা পুরুষ টা হয়ে উঠে রহস্যময় ভালোবাসার ফোয়ারা। ইসরাহর দেহবরণ জুড়ে ফারিসের অনুভূতিরা ঠিকরে পড়লো ভালোবাসার ছোঁয়া হয়ে। অবাধ্য আর প্রশস্ত শরীরের ফারিস আদরে আদরে জড়জরিত করে দেয় ইসরাহর কোমল কায়া খানা। লজ্জা আর অদ্ভুত অনুভূতিতে লাল নীল হয়ে উঠে ইসরাহ তনু-মন।
দুজনে ডুব দেয় অতল প্রেমের সমুদ্রে। যেই সাগরের পাড়ি দেওয়ার সঙ্গী, প্রিয় মানুষ হলে জান্নাত দেখায়; আর অপ্রিয় হলে জাহান্নাম।
গম্ভীর মুখে বিছানায় বসে আছেন আসফা বেগম। মাথা নামিয়ে আরহাম সিকদার সোফায় বসে আছেন। নীরবতা ভেঙে আসফা বললেন;-
–” তোমার নির্লজ্জ ছেলে এখন বাসর ঘর সাজাচ্ছে নিজের জন্য। আর তুমি ও চুপচাপ সব কিছু দেখছো, বাহ?”
–” শুনো আসফা। মাথা ঠাণ্ডা করো তুমি।”
–” কিসের মাথা ঠান্ডা করবো। আমার মেয়ে কে আমি রওনাফের সাথেই বিয়ে দিবো। তুমি কালকেই উকিল ডাকবে। আমি ওদের ডির্ভোস করাবো।”
–” দুজনের মতামতে বিয়ে হয়েছে। তুমি ডির্ভোস করাবে কিভাবে?”
–” আরহাম! ইসরাহ না হয় বাচ্চা। কিন্তু তুমি?”
–” ইসরাহ আম্মু মোটেই বাচ্চা না আসফা। ওর বিশ বছর চলছে। তুমি বুঝতে চাইছো না।”
–” যা ইচ্ছে তুমি করো। আমি যাচ্ছি ইসরাহ কে আনতে। কিছুতেই ওই বেয়াদপ ছেলেটার সাথে আমি আমার মেয়ে কে মানবো না।”
দ্রুত পায়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন আসফা। ব্যালকনি পেরিয়ে ইসরাহ রুমের সামনে এসে দরজায় নক করলেন তিনি। কিন্তু ভিতর থেকে সাড়া শব্দ না পেয়ে দরজা ঢেলে রুমে ঢুকলেন আসফা। ওয়াশরুম সহ ব্যালকনি খুঁজে ও ইসরাহ কে না পেয়ে দ্বিগুণ রেগে গেলেন আসফা।
ওনার বুঝতে বাকি রইলো না ফারিস ইসরাহ কে নিয়ে গেছে। শাড়ি সামলে ফারিসের রুমের উদ্দেশ্যে হাঁটা দিলেন তিনি। দরজা-তে কড়া নাড়ার আগেই আরহাম সিকদার ধরে নিলো আসফা বেগমের হাত। পর পর কড়া কন্ঠে তিনি বললেন;-
–” মা হয়ে মেয়ের বাসর ঘরে বাগড়া দিবে?”
–” আরহাম আমাকে ছাড়ো!”
–” তোমার অন্যায় আবদারের সঙ্গী হতে পারলাম না আসফা।”
–” আরহাম! তুমি ভুল করছো।”
চলবে
( প্রিয় পাঠক মহল,
কেমন হয়েছে জানাবেন কিন্তু! যারা পড়বেন রেসপন্স করবেন প্লিজ।)
Share On:
TAGS: She is my obsession, নবনীতা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
She is my Obsession পর্ব ১৭
-
She is my Obsession পর্ব ১১
-
She is my Obsession পর্ব ২৭
-
She is my Obsession পর্ব ২
-
She is my Obsession পর্ব ২১
-
She is my Obsession পর্ব ৫
-
She is my Obsession পর্ব ২৬
-
She is my Obsession পর্ব ৩৫
-
She is my Obsession পর্ব ১০
-
She is my Obsession পর্ব ১৪