She_is_my_obsession
পর্ব সংখ্যা:০২
লেখনীতেনবনীতাচৌধুরি
দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছে ধরনীতে।
নিজের রুমে মাথা নিচু করে বসে আছে ফারিস জাওয়ান। তার হাত চুইয়ে ফোঁটায় ফোঁটায় লাল তরল মেঝেতে গড়িয়ে পড়ছে। সেদিকে কোনো হুঁশ নেই ফারিসের। চোখে মুখেও নেই ব্যথার ছিটে ফোঁটা চিহ্ন। রোবটের মতোই অনুভূতি শূন্য চোখে সামনে তাকিয়ে আছে সে। অস্পষ্ট কন্ঠে মুখে শুধু একটা কথাই জপছে ফারিস।
–” সে আমার! আমার মানে আমার ই। শি ইজ মাই অবসেশন। ছাড়বো না ও কে।”
ফারিসের সামনেই পড়ে আছে কাঁচের ভাঙা অংশ। মিনিট দুয়েক আগে ঘরে ফিরে রাগের বশে। সেন্টর টেবিলে ঘুষি মেরেছিলো সে। যার ফলে ঝর ঝর করে গুড়িয়ে গিয়ে ছিলো টেবিল টা। কাঁচের ভাঙা অংশ গুলো গেঁথে গিয়েছিলো ফারিসের শক্ত পোক্ত হাতে। মূহুর্তেই ডান হাতের নিম্নভাগ সম্পূর্ণটাই কেটে গেছে।
ভয়ে ভয়ে ছোট্ট ইসরাহ ধীর পায়ে এগিয়ে এসে উঁকি দিলো জাওয়ানের ঘরে। মেয়েটা ঝুকতেই তার ফ্রগের লম্বা গোলাপি অংশ টা মেঝেতে ছড়িয়ে পড়লো। মেঝের দিকে তাকিয়ে থাকা জাওয়ান পাশে তাকাতেই দেখতে ফেলো ইসরাহর জামার অংশটা। ছেলেটা ঘাড় বাঁকিয়ে তাকালো ইসরাহর দিকে। কেটে যাওয়া হাতটা সরিয়ে নিলো পিঠের পিছনে। ছোট্ট বাচ্চাটা র*ক্ত দেখে ঘাবড়ে যেতে পারে বলে। নিজেকে যথেষ্ট শান্ত রেখে ইসরাহ কে ডাকলো জাওয়ান;-
–” প্রিন্সেস কাম হেয়ার। কাছে আসো!”
দরজার আড়ালে সরে গেলো ইসরাহ। মলিন কন্ঠে বললো সে:-
–” যাবো না। আম্মু তোমার কাছে যেতে নিষেধ করেছে।”
পিঠের পেছনের হাতটা মুষ্টিবদ্ধ করে নিলো জাওয়ান। সঙ্গে সঙ্গে রক্তের স্রোত বাড়লো। সাদা শার্টের পিঠের সম্পূর্ণ অংশটা ভেসে গেলো রক্তে। বাচ্চাটার ব্রেইন ওয়াশ করছে? ভালোই! বাঁকা হাসলো ফারিস:-
–” কিছু করবো না। আসো!”
ছোটো ছোটো কদমে জাওয়ানের রুমে ঢুকলো ইসরাহ।জাওয়ানের পাশে এসে বসলো বাচ্চাটা। ছোটো ছোটো চোখে পরোখ করলো মেঝেতে ছড়িয়ে থাকা কাঁচের টুকরো গুলোকে। পর পর জাওয়ানের দিকে তাকিয়ে ভর্য়াত কন্ঠে সে সুধালো:-
–” তোমাকে আমার ভয় লাগে।”
গম্ভীর মুখশ্রী খানা শিথিল করার ব্যর্থ চেষ্টা করলো জাওয়ান। কিঞ্চিত ঠোঁট এলিয়ে সে বললো;-
–” কেন?”
–” তুমি কথায় কথায় রাগ করো। সব ভেঙে ফেলো।”
জাওয়ান বিস্তর হাসলো। ইসরাহর ছোটো দু’হাত নিজের বাম হাতে পুরে শব্দ করে চুমু খেলো তাতে। একই ভাবে দ্বিতীয় চুমুটা খেলো ইসরাহর কপালে। আদুরে কন্ঠে সুধালো তাকে;-
–” আমি আর তোমার ভয়ের কারণ হবো না লিটল গার্ল। অনেক দূরে চলে যাবো তোমার থেকে। তখনি ফিরবো যখন তুমি আমাকে আর ভয় পাবে না।”
ফারিসের কথায় কৌতূহলী কন্ঠে প্রশ্ন করলো ইসরাহ;-
–” কোথায় যাবে তুমি?”
–” জানি না। আমি চলে গেলে কি তুমি আমায় ভুলে যাবে লিটল প্রিন্সেস?”
দুপাশে মাথা নাড়ালো ইসরাহ। যার উত্তর হ্যাঁ ও হতে পারে। আবার না ও। তার জানা নেই।
মসৃণ বিছানায় ছেড়ে ধড়ফড়িয়ে উঠে বসলো ফারিস। রুম জুড়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিণ থাকা শর্তে ও ঘেমে আছে তার পুরো শরীর। ফারিসের কপাল জুড়ে খেলা করছে একরাশ সিল্কি চুল। টেবিল ল্যাম্পের লাল আলোর আবছা আলো আঁধারিতে সামনের দেওয়ালে ফ্রেম গুলোর দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলে উঠলো সে:-
–” তুমি আমাকে ভুলতে পারবে না লিটল গার্ল। আমি ভুলতে দিবো না । তোমার একমাত্র ভবিষ্যত এবং ভবিতব্য হবে ফারিস জাওয়ান সিকদার। ইউ আর মাই অবসেশন!”
আলাস্কা!
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অঙ্গরাজ্য।পাহাড় আর জঙ্গলে ঘেরা এক অপার প্রকৃতির ভাণ্ডার। বরফে ডাকা এই রাজ্যের ঘন অরণ্যে ভাল্লুক, মুজ, কারিবু আর নেকড়ের মতো বন্যপ্রাণীর বিচরণ। পাহাড়ি রাস্তার উঁচু নীচু গর্তে বেষ্টিত পথ গুলো। সাদা বরফে আচ্ছাদিত হয় আছে। বরফের আস্তরণে ঢালু রাস্তা গুলো পিচ্ছিল হয়ে আছে।
অক্টোবর মাস চলার দরুন শীত পড়তে শুরু করেছে প্রকৃতিতে। বরফে ডাকা গাছ পালা আর পাহাড়ের মাঝেই মাঝারি ধাচের একটি আধুনিক প্যালেস। প্যালেসটির চারপাশে কালো মার্বেল পাথরের তৈরি বিশাল আকৃতির দেওয়াল দ্বারা আবৃত। দেওয়ালের উপর কাঁচের ভাঙা অংশ দিয়ে ঢালাই করা। যাতে কেউ বিনা অনুমতিতে ভিতরে প্রবেশ করতে না পারে।
প্যালেসটার বাহির থেকে দেখতে জনমানব শূন্য মনে হলে ও প্যালেসের ভিতরের সম্পূর্ণ পরিবেশটাই ব্যতিক্রম।প্যালেসের প্রবেশ পথেই মাঝারি ধাঁচের একটা ঘোড়াশাল। ঘোড়াশালে পাশাপাশি দুটো ঘোড়া রাখা। একটি কালো অপরটি ধূসর রঙের। ঘোড়াশালের সাথেই ছোটো পরিসরে বসার দুটো টুল পাতা। তার বিপরীত পাশটাতে কালো গোলাপের ঝাড়। বাগানের অর্ধেকের বেশি অংশ জুড়ে কালো গোলাপের সমারহ। গোলাপ গুলোর কলি আর পাপড়ি জুড়ে তুষারের অস্বস্তি।
বিশাল এক কক্ষ জুড়ে সাজানো অদ্ভুত সব সামগ্রী। সেই অদ্ভুত বস্তু গুলো সামনে নিয়ে কিছুটা জায়গা জুড়ে আগুন জ্বালিয়ে বসে আছে জাওয়ান। পুরো কক্ষ জুড়ে চলছে শতাধিকের বেশি রঙিন মোমবাতি।
সামনেই তাকের মধ্যে থরে থরে সাজানো কিছু অদ্ভুত চিহ্ন খন্ডিত বই। পাশ থেকে রঙিন একমুঠো ছাই নিয়ে আগুনে ছুড়লো ফারিস। পর পর ধারালো ছুরিটা দিয়ে নিজের কড়ে আঙুল টা কেটে ফেললো সে। আঙুল টা কাটতেই ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটলো। হাতটা বাড়িয়ে আগুনের লেলিহান শিখায় রক্তের ফোঁটা গুলো ফেললো ফারিস।
আগুন টা নিমিষেই কমে এলো। মিনিট দুয়েক যেতেই পুরো পুরি নিভে গেলো। উঠে পড়লো জাওয়ান। সময়ের তারতম্য সে করে না। করার প্রয়োজন ও বোধ হয় না। তবে ভোর হয়ে এসেছে। বরফে ঢাকা বিশাল পাহাড়ের বুক ছিঁড়ে হালকা সোনালী আভা ফুটে উঠছে।
ফারিস কক্ষ টা থেকে বেরিয়ে আবার দরজা বন্ধ করে দিলো। বড় বড় পায়ে লাল গালিচা মাড়িয়ে দোতলায় নেমে এলো সে। এই প্যালেসের শেষ কর্ণারের কক্ষটা তার। পুরো কক্ষ জুড়ে কালো রঙের ফার্নিচারে সজ্জিত। কার্বাড থেকে টাওয়াল টা নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়লো ফারিস।
এক ঘন্টার মতোন সময় লাগিয়ে শাওয়ার নিলো সে। টাওয়াল টা কোমরে পেঁচিয়ে রুমের মাঝ বরাবর দাঁড় করিয়ে রাখা আয়নাটার সামনে এসে দাঁড়ালো ফারিস জাওয়ান। আয়নার প্রতিচ্ছবিতে ভেসে উঠলো চোখ ধাঁধানো এক সৌন্দর্যের অধিকারী পুরুষ অবয়ব।
যার বলিষ্ঠ দেহের প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে সৌন্দর্যের অচর্ণা ঠিকরে পড়ছে। মুখ জুড়ে সুন্দরভাবে ছাঁটাই করা খোঁচা খোঁচা বিয়ার্ড। গলার মাঝখানটাতে বাদামী একটা তিল। কপাল জুড়ে একরাশ চুল। দু’হাত দিয়ে চুল গুলো ঝেরে নিলো ফারিস। পূর্ণ দৃষ্টিতে নিজের দিকে একবার তাকিয়ে বাঁকা হাসলো। ফিচেল কন্ঠে সুধালো সে;-
–” বারো বছর! টোয়েলভ ইয়ার্স, ফোর থাউজেন্ড থ্রি হান্ড্রেড এইটি – থ্রি ডেইস। অনেক সময় দিলাম তোমায় লিটাল প্রিন্সেস! এবার তোমাকে কেড়ে নেওয়ার পালা। সহজ ভাবে ধরা দিলে তোমার নিজের জন্যই ভালো। কিন্ত ! কিন্তু!”
নিজের কথায় ঘর কাঁপিয়ে নিজেই হাসলো ফারিস। কিন্তুর বিপরীত পথটাও সে শিখে রেখেছে। এতোদিনের এতো শিক্ষা আর ট্রেনিং সব তার জন্যই নেওয়া।
কথা শেষে কার্বাড থেকে কালো ফর্মাল স্যুট টা নিয়ে তৈরি হয়ে নিলো ফারিস।বিকেলে জুনোতে একটা আর্ট একজিবিশন আছে। সেখানে জাওয়ানের কিছু আর্ট নিলামে তোলা হবে। সেখানে দুপুরের মধ্যেই পৌঁছাতে হবে তাকে।
দুপুর গড়িয়ে এসেছে।
বেলা তিনটে বাজে। ঢাকা শহরের জ্যাম কাটিয়ে ক্লান্ত শরীরে মাথা ঝুঁকিয়ে রাস্তার পাশ ধরে হেঁটে যাচ্ছে এক বালিকা। ক্লান্তিতে তার সমস্ত শরীর নুইয়ে এসেছে। কাঁধের ব্যাগ টা চেপে ধরে ধীর পায়ে এগিয়ে আসা মেয়েটার হঠাৎ ধাক্কা লাগলো কারো সাথে। পড়তে পড়তে বেঁচে গেলো সে। তবে আলগোছে ধরে রাখা ব্যাগটা পড়ে গেলো পিজ ঠালা রাস্তায়।
চলবে
( প্রিয় পাঠক মহল
কেমন হয়েছে জানাবেন কিন্তু! আমার হাতের ব্যথায় অবস্থা খারাপ। মাথা ও ব্যথা করছে। একদিনে দুটো গল্পের দুটো থিম নিয়ে লেখা একটু কষ্ট সাধ্যিই। তার উপর একটা সাধারণ প্রেম কাহিনী। অপর টা থ্রিলার।😫)
Share On:
TAGS: She is my obsession, নবনীতা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
She is my Obsession পর্ব ১০
-
She is my Obsession পর্ব ৮
-
She is my Obsession পর্ব ৫
-
She is my Obsession পর্ব ১৪
-
She is my Obsession পর্ব ৬
-
She is my Obsession পর্ব ৯
-
She is my Obsession golper link
-
She is my Obsession পর্ব ১৫
-
She is my Obsession পর্ব ১
-
She is my Obsession পর্ব ১১