She_is_my_obsession
পর্ব:২৮
লেখনীতেনবনীতাচৌধুরি
আলাস্কার ছোট্ট দিন শেষে সন্ধ্যা পড়েছে। সাদা বরফের পাহাড়ের খাঁজ কেটে সূর্য আবার আকাশে ফিরে গেছে। যদি ও এখানে তেমন একটা সূর্যের দেখা মিলে না। তাই বলা চলে আকাশের আলো আবার আকাশেই ফিরে গেছে।
সদ্য শাওয়ার নিয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়েছে ইসরাহ। পুরো রুমে চোখ বুলিয়ে খুঁজলো ফারিস কে; সে নেই। রুম টা আবছা আলো আঁধারিতে ডুবে আছে। ইসরাহ ভয় লাগলো এমন ভুতূরে পরিবেশে দাঁড়িয়ে থাকতে। দ্রুত পায়ে এগিয়ে এসে দরজা খুলে বেরিয়ে পড়লো ইসরাহ। ব্যালকনির দিক টা ও অন্ধকার।
উপর থেকে ঝুকতেই সে দেখলো ড্রয়িং রুমের দক্ষিণ পাশটাতে আলো জ্বলছে। ওদিকে কিচেন, তখন দেখেছিলো সে। ইসরাহ ছুট লাগালো এক ছুটে এসে থামলো কিচেনের সামনে। বুকে হাত চেপে হাপড়ের রোগীর মতো করে দম নিলো সে। পর পর কিচেনের ভেতরে উঁকি ঝুঁকি দিলো ইসরাহ। কিচেন এপ্রোণ পরিহিত ফারিস রান্না করছে। কড়াইয়ের তেল গরম হতেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিলো ফারিস। ইসরাহ এসে দাঁড়ালো তার পেছনে। তার অস্তিত্ব বুঝতে পেরে ঘুরে দাঁড়ালো ফারিস।
–” শাওয়ার শেষ লিটল গার্ল?”
–” হু, আমি বাকি রান্না টা করি?”
ফারিস জবাব দিলো না। ইসরাহ কোমর চেপে কাউন্টারের উপর বসিয়ে দিলো তাকে। খোসা ছাড়ানো চিংড়ি মাছ ভেজে রাখা; প্লেট টা ইসরাহ হাতে ধরিয়ে দিয়ে সুধালো সে;-
–” শ্রিম্প ফিস তো তোমার পছন্দ তাই না। খেয়ে দেখো কেমন হয়েছে।”
ইসরাহ কাঁটা চামচে গেঁথে একটা চিংড়ি মাছ মুখে দিলো। ফারিস ততক্ষণে খিচুড়ির গ্রেভিতে চাউল ঢেলে দিয়েছে। দক্ষ হাতে চাউল নেড়ে পরিমাণ মতো পানি দিয়ে ঢেকে দিলো ঢাকনা দিয়ে।
–” আপনি রান্না ও পারেন?”
–” একা থাকি যেহেতু তাই সব কাজ ই টুকটাক শিখে রাখতে হয় লিটল প্রিন্সেস।”
–” একা থাকতেন কেনো?”
–” তুমি ছিলে না যে, তাই একা থাকতাম।”
–” এই জঙ্গলে কেন থাকেন ফারিস? ভয় লাগে না আপনার?”
–” না লিটল গার্ল।”
–” আমার তো ভয় লাগছে! মনে হচ্ছে এই বুঝি জঙ্গল টা এগিয়ে এসে আমাকে খেয়ে ফেলবে।”
–” আমি থাকতে ও ভয় পাও লিটল গার্ল? আমি তোমার পাশে থাকতে পৃথিবীর কোনো খারাপ শক্তি ই তোমার ক্ষতি করতে পারবে না। কেউ তোমাকে ছোঁয়ার আগে আমাকে মোকাবিলা করতে হবে প্রিন্সেস!”
–” আপনি এতো সিরিয়াস হয়ে যাচ্ছেন দেখি। আমি তো ফাজলামি করেছি।”
হ্যান্ড গ্লাভস খুলে হাত ধুয়ে নিলো ফারিস। টাওয়ালে হাত মুছে সুধালো সে;-
–” চলো তোমাকে পুরো প্যালেস টা ঘুরিয়ে আনি।”
ইসরাহর ছোট্ট শরীর খানা নিজের শক্ত সামর্থ্য বাহুডরে তুলে নিলো ফারিস। অপর হাতে চিংড়ি মাছের প্লেট টা ইসরাহর পেটের উপর রেখে দিলো সে। যাতে রুম গুলো দেখার ফাঁকে ফাঁকে ইসরাহ খেতে ও পারে। কিচেন থেকে বেরিয়ে ফারিস ড্রয়িং রুমের লাইট গুলো জ্বালিয়ে নিলো। সোনালী আর সাদা বাতির আলোয় সাদা কাঁচ গুলো চকচক করে উঠলো। ড্রয়িং রুমের একপাশটাতে পুরোটাই কাঁচের দেওয়াল।
এদিক থেকে পেছনের জঙ্গল টা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। সবার আগে সিঁড়ির পাশের রুমটাতে গেলো ফারিস। বিছানা সহ যাবতীয় আসবাবপত্র দিয়ে রুম টা সাজানো। ফারিসের রুম থেকে এই রুমটা তুলনা মূলক ছোটো। পর পর পাশের রুমটাতে গেলো সে। এই রুম টা পুরোটাই লাইব্রেরি। বড় বড় সেল্ফে থরে থরে বই সাজানো। ইসরাহর ফারিসের হাতের বাঁধন ছাড়িয়ে মেঝেতে নেমে পড়লো।
–” এই সব বই আপনার ফারিস?”
মাঝারি টেবিলটাতে গিয়ে বসলো ফারিস। কপালের পাশটা চুলকাতে চুলকাতে ভরাট গলায় জবাব দিলো সে:-
–” ইয়েস লিটল গার্ল।”
অবাক কন্ঠে ইসরাহ বললো,
–” সব গুলো পড়া শেষ?”
–” না, পেছনের সেল্ফের গুলো পড়া শেষ। এই সেল্ফের গুলো এখনো বাকি।”
–” আমি কি এই বই গুলো পড়তে পারি?”
–” অফ কোর্স বেবি গার্ল, হোয়াটস মাইন ইজ ইয়োরস।”
ইসরাহ অবাক চোখে ঘুরে ঘুরে লাইব্রেরি টা দেখলো। হাতের নাগালে পাওয়া বই গুলো ছুঁয়ে দিলো আলতো হাতে। খুশিতে গদগদ কন্ঠে সুধালো সে;-
–” আমার বই কতো ভালো লাগে আপনি জানেন ফারিস? লাইব্রেরিতে বই দেখলেই; ইচ্ছে করে লাইব্রেরির সব বই আমার বাড়ি নিয়ে আসি।”
–“এই সব গুলো বই তোমার লিটল প্রিন্সেস। প্রয়োজন হলে রিজভি কে বলে দিও, ও আরো বই এনে দিবে।”
ইসরাহর হাঁটতে হাঁটতে রুমের শেষ সেল্ফের কাছে এসে দাঁড়ালো। এখানে তেমন কোনো বই নেই। কিছু ধূলো পড়া কাগজ আর পুরোনো মোটা বই আছে। যেগুলো দেখেই বোঝা যাচ্ছে পড়ার অবস্থায় নেই। হঠাৎ ইসরাহর চোখে বাঁধলো কালো কাপড়ে পেঁচানো অদ্ভুত একটা বইয়ে। বইটার পাশের আরো একটা লাল তাঁরা আঁকা বই। কালো কাপড়ে পেঁচানো বইটা ইসরাহ ধরতেই ফারিস আচমকা এসে চট করে তার হাত থেকে বই টা কেড়ে নিলো। অবাক হওয়ার সাথে ইসরাহ সেল্ফের কাঠে ব্যথা ও পেলো কিছু টা। খর খরে কাঠের খোঁচাতে কনুইয়ের জায়গা টা ছিলে গেছে। ফোঁটা র*ক্তের অস্তিত্ব দেখা দিয়েছে সেখানে।
–” এই বই টা ধরো না লিটল গার্ল। এটা পুরনো বই। পড়ার অবস্থা তে নেই। ফেলে দিবো দিবো করে আর ফেলে দেওয়া হয়নি।”
ততক্ষণে ইসরাহ কনুইয়ে হাত চেপে চোখ মুখ কুঁচকে নিয়েছে। মুখ বাড়িয়ে ঠোঁট গোল করে ফু দিলো জায়গাটাতে। ফারিস বই দুটো একদম উপরের থরে তুলে রাখলো। হাত ঝেরে ইসরাহর দিকে তাকালো সে। ইসরাহর হাতে র*ক্তের অস্তিত্ব বুঝতে পেরে ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠলো ফারিস। কব্জি চেপে টেনে নিয়ে, ইসরাহ কে টেবিলের উপর বসিয়ে দিয়ে; ড্রয়িং রুমে ছুটলো সে। পর পর ফাস্টএইড বক্স টা নিয়ে ফিরে এলো ফারিস। তুলোতে জীবাণুনাশক নিয়ে গম্ভীর কন্ঠে সুধালো সে;-
–” পুরো লাইব্রেরির সব বই তোমার লিটল প্রিন্সেস। কিন্তু ওই বই গুলো তোমার ধরা নিষেধ। আমাকে জিজ্ঞেস করা ব্যতীত ওই বই গুলো সেল্ফ থেকে নামাবে না। একদম ই না, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা আমার মোটেই পছন্দ না লিটল জান।”
ফারিসের মুখের দিকে তাকিয়ে পা দুলিয়ে ইসরাহ প্রশ্ন করলো;-
–” ও গুলো কিসের বই ফারিস?”
–” তোমার প্রয়োজনীয় না।”
–” বলুন না?”
ইসরাহর কৌতূহলী কন্ঠে বিরক্ত হলো ফারিস।
–” আমায় রাগিয়ো না লিটল গার্ল।”
ওয়ান টাইম ব্যান্ডেজ টা ইসরাহর কনুইয়ে মেরে। অপরিষ্কার তুলো গুলো মুঠোয় নিয়ে বেরিয়ে গেলো ফারিস। ইসরাহর আরো একবার পুরো লাইব্রেরিতে চোখ বুলিয়ে নিলো। শুভ্র বাতির আলোতে ও কেমন গুমোট বেঁধে আছে রুমটাতে। গা কাঁটা দিয়ে উঠলো তার। তড়িৎ বেগে টেবিল থেকে নেমে লাইব্রেরি রুম থেকে বেরিয়ে গেলো ইসরাহ। যাওয়ার আগে স্লাইডিং ডোর টা বন্ধ করে দিলো সে।
ফারিস কিচেনে, চপিং বোর্ডে শসা আর টমেটো কাটছে সালাদ বানানোর জন্য। ইসরাহর ধীর পায়ে এগিয়ে এসে তার পাশে দাঁড়ালো। আলতো হাতে উদোম দেহের ফারিস কে জড়িয়ে ধরলো সে। নিজের মেদহীন সুঠাম পেটের উপর আড়াআড়ি ভাবে ইসরাহর হাতের অস্তিত্ব টের পেতেই ফারিস কিঞ্চিত ঠোঁট বাঁকালো। আগের মতোই নিজের কাজে মনোনিবেশ করলো সে।
নরম কন্ঠে ইসরাহ ডাকলো,
–” ফারিস?”
–” ……. “
–” ফারিসসসস?”
–“………”
ফারিসের বুকে দুআঙুলের সাহায্যে মৃদ্যু টিজ করলো ইসরাহর। এইবারে ও ফারিস জবাব দিলো না। বরং একই তালে শসা গুলো কে টুকরো টুকরো করে চলেছে সে। যেনো ইসরাহ কে সে দেখতেই পারছে না। ইসরাহর চেপে ধরলো ফারিসের দু’হাত। ফারিস কে নিজের দিকে ঘুরিয়ে দাঁড় করালো সে।
ঘুরে দাঁড়ালো ফারিস। ইসরাহর দিকে না তাকিয়ে বরং কিচেন কাউন্টারের দিকে তাকালো সে। ইসরাহ ফারিসের গাল চেপে নিজের দিকে পেরানোর চেষ্টা করলো। কিন্তু এইবারে ও ব্যর্থ হলো সে। পর পর ফারিসের পায়ের পাতার উপর উঠে দাঁড়ালো ইসরাহ। দু’হাত ফারিসের মাথার পেছনে নিয়ে মাথা নামিয়ে নিজের সমান করতে চাইলো তাকে। অতঃপর ফারিস কে অবাক করে দিয়ে নিজের অধরের মাঝে পুরে নিলো ফারিসের অধর বৃন্ত। ফারিস ইসরাহ গাল চেপে ধরে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নিলো তাকে।
–” ফারিস!”
–” সিডিউস করতে চাইছো?”
–” হু,”
–” আমার সান্নিধ্য চাইছো?”
এইবারে লজ্জা পেলো ইসরাহ। মুখ নামিয়ে নিলো সে। ফারিস তার কামিজের ফাঁক গলিয়ে ঠান্ডা হাত জোড়া রাখলো ইসরাহ কোমরে। ধীরে ধীরে ফারিসের হাতের বিচরণ বাড়লো। তার সাথে ইসরাহর শরীরের মৃদ্যু কম্পন।
–” ফারিস প্লি….জ।”
–” হোয়াট বেবি গার্ল?”
–” আপ….নি আ..মি প্লি..জ।”
–” মুখে বলো? তাহলেই তো হলো।”
–” আমার আপনাকে চাই ফারিস। আপনার ভালোবাসা চাই ফারিস, প্লিজ।”
–” আর ইউ সিউর?”
–” ই…ইয়েস।”
ইসরাহ কে আরেকটু জ্বালাতে তার কোমরে চিমটি কাটলো ফারিস।
–” ডেম সিউর?”
–” কোটি পার্সেন্ট সিউর।”
ইসরাহর স্বীকারোক্তি পেয়ে, তাকে কোলে তুলে নিলো ফারিস। দু’পায়ের সাহায্যে ফারিসের কোমর জড়িয়ে ধরলো ইসরাহ। পর পর হাস্কি স্বরে ফারিস সুধালো;-
–” আরেকটু নিচে নামো লিটল গার্ল। তাহলে বেটার ফিল করতে পারবে।”
ফারিসের কথার মানে ধরতে পেরে মুখ লুকিয়ে হাসলো ইসরাহ।
সারা রাতের ঘনিষ্ঠ ভালোবাসার মূহুর্ত কাটিয়ে শেষ রাতে ঘুমিয়ে ছিলো ফারিস আর ইসরাহ।
বর্তমানে সকাল সাড়ে সাত টা বাজে। সবে সবে আকাশের রঙ লাল হতে শুরু করেছে। ফারিসের ফোন টা বিকট শব্দে বেজে উঠলো। বেড সাইড টেবিলে হাতরে ফোনটা নিয়ে রিসিভ করলো ফারিস। ঘুম ঘুম চোখে ভরাট কন্ঠে ” হ্যালো ” বললো সে। অপর পাশ থেকে রিজভি জবাব দিলো;-
–” বস রিজভি বলছি।”
–” বলো?”
–” বস রেস দুপুরে শুরু হবে। আপনি আর ম্যাম কখন আসবেন?”
রিজভির কথায় ইসরাহর দিকে তাকালো ফারিস। মেয়েটার চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ। সারারাত নির্ঘুম থাকার দরুন এমন দশা হয়েছে।
–” তুমি সব রেডি করো রাখো। আমরা দুপুরেই আসবো।”
–” সব প্রস্তুত বস। শুধু আপনি শেষ বারে একবার চেকিং দিলেই হবে।”
–” ওকে,”
কল কেটে বেড ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো ফারিস। সোফার উপর থেকে সাদা টাওয়াল টা নিয়ে কোমরে পেঁচিয়ে নিলো তা। জানলার পর্দা সরিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়লো ফারিস। হিটার অন করে বাথটাবে পানি ছেড়ে দিলো সে। ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে বেডের পাশে এসে দাঁড়ালো ফারিস।
আলুথালু শরীরে ইসরাহ এখনো ঘুমিয়ে আছে। কম্পোটার টা সরিয়ে ইসরাহ কে তুলে নিলো সে। বড় বড় কদমে ওয়াশরুমে ঢুকে, বাথটাবের মৃদ্যু গরম পানিতে ইসরাহ কে শুইয়ে দিতেই সে জেগে উঠলো। অবাক চোখে নিজের অবস্থান নির্ণয় করে চেঁচিয়ে উঠলো ইসরাহ;-
–” ফারিসস এসব কি? আমি পানিতে কি করছি?”
–” শাওয়ার নিবে প্রিন্সেস।”
–” এতো সকালে কেনো?”
–” কাল রাতের কথা মনে নেই লিটল গার্ল?”
চলবে
( প্রিয় পাঠক মহল,
কেমন হয়েছে জানাবেন কিন্তু! আজ ইয়া বড় একটা পর্ব দিয়েছি।)
Share On:
TAGS: She is my obsession, নবনীতা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
She is my Obsession পর্ব ২৫
-
She is my Obsession পর্ব ৩৫
-
She is my Obsession পর্ব ১৯
-
She is my Obsession পর্ব ২৭
-
She is my Obsession পর্ব ২৯
-
She is my Obsession পর্ব ৬
-
She is my Obsession পর্ব ৩২
-
She is my Obsession পর্ব ২
-
She is my Obsession পর্ব ৭
-
She is my Obsession পর্ব ২২