Golpo romantic golpo She is my Obsession

She is my Obsession পর্ব ১০


She_is_my_Obsession

পর্ব :১০

লেখনীতেনবনীতাচৌধুরি

ফারিস কল দিয়েছে। ফারিসের কল দেখেই আঁতকে উঠলো জাইমা। কাঁপা কাঁপা হাতে ফোনটা রিসিভ করলো সে। অপর পাশ থেকে শোনা গেলো ফারিসের গম্ভীর কন্ঠ স্বর।

–” হ্যালো?”

কাঁপা গলায় উত্তর দিলো জাইমা;-

–” ব…লুন।”

–” কাজ হয়েছে?”

–” হ্যাঁ, ইসু… মা..নে আপনার লিটল গার্লের হাতে আলতা পরিয়ে দিয়েছি।”

জাইমার মনে হলো ফারিস কিঞ্চিত হাসলো। কে জানি। লোকটার কথা ভাবতে ও গায়ে কাঁটা ফুটছে তার। কি ভয়ংকর।

–” ভেরি গুড, চিঠি টা ভাঁজ করে লিটল গার্লের ড্রেসিংএ রেখে দিবে।”

–” ঠিক আ..ছে।”

জাইমা ফের জিজ্ঞেস করলো:-

–এক..টা কথা বল.. বো?”

–” বলো?”

–” আপনি তো চাইলেই ইসু কে তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করতে পারেন। তা না করে এতসব করছেন কেন?”

–” তুলে নিয়ে আসলে, আমার ঠিক পোষায় না। আমার প্রিন্সেস কে আমার মহলে রানীর বেশে আনবো। বাই দ্য ওয়ে তুমি কে এতো কথা বলার?”

ঢোক গিললো জাইমা। কল কেটে দিলো ফারিস। ফোনটা হাতে নিয়ে বাইরের দিকে তাকালো জাইমা। সারা বাড়িময় ঝলমল করছে। বাগানের দিকটাতে আস্তে আস্তে মানুষের ভীড় বাড়ছে।

দীর্ঘ শ্বাস ফেলে, চোখ বন্ধ করতেই সকালের সেই বিপদসংকুল মুহূর্তের কথা মনে পড়ে গেলো তার। কি দমবন্ধ কর মূহুর্ত ছিলো সকাল টা।


হাই ভলিয়মের গানের শব্দ জ্ঞান ফিরলো জাইমার।

চোখ পিটপিট করে আশপাশে টা দেখলো সে। সোফায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শুয়ে আছে সে। পুরো রুমটা সাদা রঙ করা। জাইমা মাথা উঠিয়ে ডান দিকে তাকাতেই দেখলো হুডি পরিহিত কেউ একজন ছবি আঁকছে। হুডির টুপিটা ঘাড়ে ঝুলছে। খুব দক্ষ হাতে ক্যানভাসে একের পর এক আঁচড় কাটছে সে। সোফার ফ্রোমে চেচড় কেটে আরেকটু উপরে উঠে শুলো জাইমা। এবার ক্যানভাসের ছবিটা ঠিকভাবে দেখা যাচ্ছে।

ঘোলা চোখে ক্যানভাসের ছবিটা দেখে কেঁপে উঠলো সে। এটা তো ইসরাহর ছবি। কিন্তু লোকটা কে? মুখ দিয়ে “উমম” শব্দ করলো জাইমা। পানির তৃষ্ণা পেয়েছে তার। জাইমা শব্দ করতেই লোকটা পেছনে ফিরে তাকালো। এগিয়ে গিয়ে বাতি জ্বালালো ঘরের।মূহুর্তেই অন্ধকার রুমটা পরিষ্কার হয়ে উঠলো। সেই সাথে সাউন্ড সিস্টেমে চলা ইংরেজি গানটাও বন্ধ করে দিলো সে। ফের আগের স্হানে এসে দাঁড়ালো ফারিস। জাইমার উদ্দেশ্যে গম্ভীর কন্ঠে সুধালো সে:-

–” উঠে পড়েছো?”

–” উমমমমম।”

–” ওয়ান সেকেন্ড, মুখের স্কচ টেপ টা খুলে দেই।”

ফারিস ধীর পায়ে এগিয়ে এসে কাউচটাতে বসলো। সেন্টর টেবিল থেকে সাদা গ্লোভস টা নিয়ে বাম হাতে পরে নিলো সে। যাতে জাইমার মুখের কোনো অংশের স্পর্শ তার হাতে না লাগে। শক্ত হাতে টান মেরে জাইমার মুখের স্কচ টেপ টা খুলে নিলো ফারিস। ফারিস স্কচ টেপটাতে টান বসাতেই মুখ দিয়ে ব্যথাতুর শব্দ করলো জাইমা। অনেক ক্ষণ পর ছাড়া পেয়ে হাঁপড়ের ন্যায় দম নিলো সে। মুখ হা করে বার কয়েক শ্বাস নিয়ে নিজেকে স্থির করে; ভর্য়াত কন্ঠে জাইমা প্রশ্ন করলো;-

–” কে আপনি? আমাকে কিডন্যাপ করেছেন কেনো?”

জাইমার ভর্য়াত কন্ঠ শুনে, বিদ্রূপ হেসে সুধালো ফারিস;-

–” তোমাকে কিডন্যাপ করার ন্যানো পরিমাণ ইচ্ছে ও আমার ছিলো না। নেহাত, আমার লিটল গার্লের জন্যই এতোসব করা।”

ফারিস, ফের উঠে গিয়ে; প্যালেট থেকে ব্রাশ ভর্তি রঙ তুলে ক্যানভাসের চোখ গুলো আঁকায় মনোনিবেশ করলো।

–” কে আপনার লিটল গার্ল? আমার পরিচিত এমন কোনো ছোটো বাচ্চা কাচ্চা নেই। আর আপনাকে তো বাচ্চার বাপ ও মনে হয় না।”

জাইমার প্রশ্নে তার দিকে রাগী চোখে তাকালো ফারিস। রঙ শুদ্ধ প্যালেট টা ছুঁড়ে মারলো জাইমার দিকে। সঙ্গে সঙ্গে মাথা নামিয়ে ফেললো জাইমা। প্যালেট টা গিয়ে ফ্লোরে পড়লো। অল্পের জন্যই জাইমার শরীর ঘেঁষে গেছে। আরেকটু হলেই মাথায় লাগতো প্যালেট টা। হাতের ব্রাশ টা মুঠোয় নিয়ে দুমড়ে মুচড়ে ফ্লোরে ছুঁড়ে ফেললো ফারিস। ধারালো কন্ঠে বললো সে;-

–” সাট আপ, আমার লিটল গার্লের নাম এভাবে নিবে না। মুখ থেতলে দিবো একেবারে। দেখছো না সুইট হার্টের ছবি পেইন্টিং করছি! ডিস্টার্ব করছো কেন?”

ফারিস এমন আচরণে ভয়ে কুঁকিয়ে উঠলো জাইমা। তার পরণের কালো পোশাক টা জুড়ে রঙের দাগ ছড়িয়ে পড়েছে। লোকটা এমন সাইকো কেন? সামান্য একটা প্রশ্নে ও কি অভার রিয়েক্ট করছে। জাইমা ফের সামনে চাইলো। ফারিস এক দৃষ্টিতে ইসরাহর আধ সম্পূর্ণ করা ছবিটার দিকে তাকিয়ে আছে। আচানক ছবিটা ক্যানভাস থেকে খুলে বুকে জড়িয়ে নিলো। সারা ছবি জুড়ে ছোটো ছোটো চুমু এঁকে দিতে দিতে ; অস্পষ্ট স্বরে ফারিস সুধালো:-

–” আমার লিটল গার্ল! সুইট হার্ট, তোমার নামটা, ও কেউ ব্যাঙ্গাতক করে ডাকলে আমার র*ক্তে আগুন ধরে যায়। তুমি তো জানো সুইট হার্ট আমি তোমাকে কত ভালোবাসি।”

কথা শেষে ক্যানভাসের ছবি টা রেখে দিলো ফারিস। নিজের মাথার চুল গুলো দু’হাতে টেনে ধরে শান্ত হওয়ার চেষ্টা করলো। মিনিট পাঁচেক ফেরোতেই ফারিস জাইমার সামনে এসে দাঁড়ালো। সেন্টর টেবিল থেকে ফল কাঁটার ছুরিটা নিয়ে জাইমার দিকে এগোতেই জাইমা চোখ খিচেঁ বন্ধ করে ; কাতর কন্ঠে ফারিসের উদ্দেশ্যে বললো;-

–” আমাকে মারবেন না দয়া করে। আপনি যা বলবেন ! আ..আমি তাই করবো।”

বাঁকা হাসলো ফারিস। ইডিয়েট , এসব ছোটো খাটো ভিতু মানুষকে ফারিস মারে না। এদের কোনো যোগ্যতাই নেই তার পেইন্টিং রুমে জায়গা পাওয়ার। জাইমার হাতের বাঁধন গুলো কেটে দিয়ে কাউচে বসলো ফারিস। সেন্টর টেবিলের কাঁচের অংশটার সাথে ধার দিয়ে নিলো ছুরিটা।

–” ক্লোজ ইউর আই।”

ফারিসের গম্ভীর কন্ঠের হুমকি শুনে চোখ মেলে তাকালো জাইমা।

–” পায়ের বাঁধন টা নিজে নিজে খুলে নাও। তোমাকে দেখতে ও আমার বিরক্ত লাগছে। পা ছোঁয়া তো দূরের কথা।”

–” তাহলে কিডন্যাপ করেছেন কেনো?”

–” স্টপ, গ্লাস টা এগিয়ে দাও তো।”

বিনা বাক্যে ব্যয়ে জাইমা গ্লাস টা এগিয়ে দিলো ফারিসের দিকে। ফারিস গ্লাস টা সামনে নিয়ে ছুরি টা দিয়ে একটান দিলো নিজের বাম হাতের তালু পিষ্ঠে। টপ টপ করে ফারিসের হাত বেয়ে র*ক্ত পড়তে শুরু করলো গ্লাসে। এমন দৃশ্য দেখে চোখ বুঁজে চিৎকার করে উঠলো জাইমা। হাত – পা কাঁপতে শুরু করলো তার।

–” আহহহ, এটা কি করলেন?”

উত্তর দিলো না ফারিস। উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন বোধ হলো না তার। জাইমা তাকালো ফারিসের মুখভঙ্গির দিকে। লোকটা এখনো কি সুন্দর শান্ত ভাবে বসে আছে। ব্যথার ছিটে ফোঁটা ও নেই তার চোখে মুখে। ফারিস উঠে গেলো কাউচ ছেড়ে। ট্রলি ব্যাগটার চেইন খুলে একটা ছোটো শিশি বের করে; তাতে অল্প পরিমাণ সাদা পাউডার, নিয়ে আবার জায়গা মতো এসে বসলো। গ্লাসের লাল তর*ল গুলো শিশিটাতে ঢেলে ভালো ভাবে ঝাঁকিয়ে নিয়ে জাইমার সামনে বরাবর টেবিলে শিশিটা রেখে বললো;-

–” এই ব্লা*ড টা আমার সুইট হার্ট কে পরিয়ে দিবে। তাহলেই তোমার মুক্তি।”

–” মানে?”

–” খুব সহজ! আজ সন্ধ্যায় ইসরাহর হাতে আলতা না কি যেনো? ওটার বিকল্পে আমার ব্লা*ড পরিয়ে দিবে। ওকে?”

কথা শেষে ছুরিটা গ্লাসের মধ্যে রেখে দিলো ফারিস। ছুরিতে থাকা র*ক্তের ফোঁটা গুলো একে একে গড়িয়ে পড়লো সেন্টর টেবিলের কাঁচে। শিশি টা থেকে চোখ সরিয়ে ফারিস জাইমার দিকে ধারালো দৃষ্টি নিক্ষেপ, করতেই সে সুধালো;-

–” ওকে , ওকে।”

–” দ্যাটস গুড।”


রবিনের ডাকে ধ্যান ভাঙলো জাইমার। আকাশ থেকে চোখ ফিরিয়ে পাশে তাকালো সে। রবিন ব্যস্ত গলায় বললো;-

–” ইসু কে স্টেজে নিয়ে গেছে, সেই কখন। তুই এখনো এখানে দাঁড়িয়ে আছিস যে?”

–” কি? ওহ হ্যাঁ, চল।”

–” কি ভাবছিলি জামি? আমি খেয়াল করেছি; তুই সেই কখন থেকে অন্যমনস্ক হয়ে আছিস, বল আমাকে?”

ছলছল চোখে রবিনের দিকে তাকালো জাইমা। উচ্চতায় রবিনের বুক সমান লম্বা সে। হলুদ পাঞ্জাবি পরা ফর্সা মুখশ্রীর ছেলেটার দিকে বিস্ময় চোখে কিছুক্ষণ চাইলো জাইমা। পর পর ঝাঁপিয়ে পড়লো রবিনের বুকে। জাইমা সুদ্ধ নিজের ভার ধরতে দু’পা পিছিয়ে গেলো রবিন। দেওয়াল ধরে নিজেকে সামলে নিলো রবিন। রবিন বুঝতে পারলো না; সে স্বপ্ন দেখছে কিনা! জাইমা কি সত্যিই তাকে জড়িয়ে ধরেছে? সিউর হতেই রবিন ব্যতিব্যস্ত গলায় বললো;-

–” কি হয়েছে বল জামি?”

–” ভালো লাগছে না রবিন। দম বন্ধ হয়ে আসছে আমার।”

–” ইসুর জন্য মন খারাপ করছে?”

–” হুম।”

–” থাক কাঁদিস না, চল নিচে যাই।”

রবিন জাইমা কে সোজা করে দাঁড় করিয়ে দু’হাতে সযত্নে চোখ মুছে দিলো। জাইমার তুলতুলে হাতটা নিজের মুঠোয় নিয়ে ইসরাহর বারান্দা থেকে বাগানে এসে দাঁড়ালো।


স্টেজে পাশাপাশি বসে আছে রওনাফ আর ইসরাহ। রওনাফের পরণে সাদা পাঞ্জাবী – পাজামা; ইসরাহ পরণে হলুদ শাড়ি। হলুদের গন্ধ, লাইটিং, আর ক্যামেরার ঝলকে ক্লান্ত ইসরাহ। তবুও মুখে হাসি নিয়ে বসে আছে সে।

একে একে সবাই হলুদ ছুঁইয়ে গেছে ইসরাহ আর রওনাফ কে। বাকি আছে রবিন আর জাইমা। ওরা দুজন একসাথে উঠলো স্টেজে। রবিন গাঁদা ফুলটাতে হলুদ নিয়ে রওনাফ আর ইসরাহ দুজনের গালে ছুঁয়ে দিলো। পর পর জাইমা ও একই ভাবে হলুদ টা মেখে দিলো। হলুদের অনুষ্ঠান শেষ হতেই সবাই কে খেতে বসিয়ে দিলেন আরহাম আর মনির সাহেব মিলে। রাত অনেক হয়েছে; বাকি অনুষ্ঠান খাওয়ার পরেই শুরু হবে।

রওনাফের মুখশ্রী জুড়ে প্রাপ্তির হাসি। ইসরাহ অনুভূতি হীন হয়ে বসে আছে। তার মন পুড়ছে, তবে কার জন্য। তা বুঝতে পারছে না ইসরাহ। বার বার ফারিস জাওয়ানের কথা মনে পড়ছে। মনে পড়ছে সেই বারো বছর আগের চকলেট দিয়ে কবুল বলানোর মূহুর্তটার কথা। পরক্ষণেই, চিন্তা ভাবনা রেখে; সোজা হয়ে বসলো ইসরাহ। হাতের ফুলের গাজরা ঠিক করতে গিয়ে ইসরাহর চোখ আটকালো হাতের আলতার দিকে। আলতা গুলো লাল রঙের থেকে ধীরে ধীরে কালো লাল বর্ণের হয়ে যাচ্ছে। কৌতূহল না দমিয়ে শাহাদাত আঙুলের আলতাটাতে একটু ঘষা দিলো ইসরাহ। কুচো কুচো হয়ে আলতা টা উঠে গেলো। নিজের মনের ভাবনা টা সত্যি নাকি, বুঝতে পারলো না সে। আচানক ভর্য়াত কন্ঠে চিৎকার করে আসফা বেগম কে ডাকলো ইসরাহ;-

–” আম্মু , আম্মু, এটা আলতা না এটা র*ক্ত।”

আতিফা ভূঁইয়ার সাথে কথা বলা রেখে আসফা বেগম ছুটে আসলেন। ওনার সাথে এগিয়ে এলেন আতিফা ও। আসফা বেগম মেয়ের হাতজোড়া টেনে সামনে মেলে ধরলেন তিনি। রওনাফ সহ সবাই অবাক চোখে দেখলো সে দৃশ্য। ইসরাহর আরেকটু ঘনিষ্ঠ হয়ে বসলো রওনাফ। হাতটা ধরে নিরট চোখে পরোখ করে, সিউর হয়ে বললো সে;-

–” আসলেই তো ! এটা তো র*ক্ত, কিন্তু আলতা তো আমি নিজে বেছে কিনে ছিলাম।”

–” কি বলছিস রওনাফ? হতে পারে হলুদের সংস্পর্শে এসে আলতা খয়েরি বর্ণ ধারণ করেছে। আরেক বার ভালো করে দেখ তুই।”

–” তুমি দেখো! আলতা এমন কুচো হয়ে উঠে আসবে?”

–” আ..মি কিছু জা..নি না।”

অস্পষ্ট স্বরে কথা গুলো বলে উদভ্রান্তের ন্যায় স্টেজ ছেড়ে দৌড়ে নিজের ঘরে চলে গেলো ইসরাহ। পেছনে রেখে গেলো রওনাফ, আতিফা, আর আসফার অবাক মুখশ্রী। ইসরাহর উঠে যেতেই রওনাফ তার পেছনে যেতে; নিতেই আতিফা ভূঁইয়া থামিয়ে দিলেন। ইসরাহর যাওয়ার পথে নির্নিমেষ দৃষ্টিতে চেয়ে সুধালেন;-

–” ও কে কিছুক্ষণ একা থাকতে দে রওনাফ। এমন খুশির একটা দিনে এই ঘটনা কারো জন্যই স্বাভাবিক না। একটু স্থির হোক মেয়ে টা, পরে আমি গিয়ে কথা বলবো।”

মায়ের কথায় আবার স্টেজে বসে পড়লো রওনাফ। সবার বদন জুড়ে চিন্তার রেশ। এমন বাজে অভিজ্ঞতার স্বীকার হতে হবে; চারজনের মধ্যে কেউ ই ভাবেনি তারা।

চলবে

( প্রিয় পাঠক মহল
আজ ইয়া বড় একটা পর্ব দিয়েছি। কেমন হয়েছে জানাবেন কিন্তু। যারা পড়বেন রেসপন্স করবেন প্লিজ।)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply