প্রেমবসন্ত_২
হামিদাআক্তারইভা_Hayat
৬.(প্রথমাংশ)
প্রেম হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।সে কী সত্যিই কায়নাতকে বিয়ে করেছে?তাহলে মা কেন বলল কায়নাত অর্ণর বউ?বেচারার মাথা ঘুরছে।
নিধি তখন পেছন থেকে হালকা গলায় বলল,
“উনি তোমার জামাই নয়,দেবর হয়।”
কায়নাত আতঙ্কিত হয়ে পিছু ঘুরে।নিধির কথা শুনে চোখ বড় বড় করে বলে,
“নাউযুবিল্লাহ,আস্তাগফিরুল্লাহ।তাহলে আমার জামাই কে?”
নিধি মুখ খোলার আগেই অর্ণ কায়নাতের সামনে এসে দাঁড়ায়।নিধি শুকনো ঢোক গিলে সরে যায় সেখান থেকে।অর্ণ ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে বাড়ির বাইরে চলে যায়।কায়নাতের সাথে কথা বললেই যেন মাথা গরম হয়ে যাবে।কায়নাতের আর জিজ্ঞেস করা হলো না-“আমার জামাই তাহলে কে?” বেচারি একবার পিছু ঘুরে প্রেমের প্যাঁচার মতো মুখখানা দেখে লজ্জায় আঁচল চাপল মুখে।এমনই লজ্জা পেয়েছে যে চোখে পানি চলে এসেছে।কায়নাত তওবা তওবা করে বাড়ির ভেতরে দৌঁড়ে গেল।বাড়িতে ঢুকে ড্রয়িংরুমের সোফায় বসতেই আদি এসে দাঁড়াল তার সামনে।কায়নাত চোখ মুছে তার দিকে তাকায়।মাটি ফাঁক করে ভেতরে চলে যেতে ইচ্ছে করছে তার।শেষে কিনা দেবরকে জামাই ভেবে…ছিঃ,ছিঃ!
আদি ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকিয়ে আছে।কায়নাত বলল,
“কী চাই?”
“তুমি কে?”
“তোমার মামি।”
“আমার কোন মামু বিয়ে করেছে?”
“যে মামু বিয়ে করেছে।”
“সেটাই তো,কোন মামুন বিয়ে করেছে?”
“তোমার কয়টা মামু?”
“৯টা।”
“তাহলে ১নাম্বারটা বিয়ে করেছে।”
“এক নাম্বারটা ২টা বিয়ে করেছে?আল্লাহ,এখনই বড় নানিকে গিয়ে বলছি দাঁড়াও।”
কায়নাত হতভম্ব বাচ্চাটার কথা শুনে।মাথা ঘুরছে তার।আসল জামাইটা কে?বজ্জাত লোক তার সামনে কেন আসছে না?আজব ব্যাপার!তার থেকে বড় কথা ছাগলামী করে যে দেবরকে এতক্ষণ জামাই জামাই করল,এখন সেই দেবরের মুখোমুখী কি করে হবে?যদি এমন হতো সে নিজের ভাবনাটুকু নিজের মধ্যে রেখেছে তাহলে একটা কথা ছিল।কিন্তু সে তো সোজা দেবরের সামনে গিয়ে গলা ফাটিয়ে বলছে—“আপনি আমার বিয়ে করা জামাই”।
•
বিকেল বেলায় আকাশটা সোনালি রঙে রাঙিয়েছে নিজেকে।সুহা,আর নিশা বাকি বোনদের সাজগোজ দেখছে।আজকে এসেই আবার আজকেই ঘুরতে যেতে বারণ করেছিলেন রাহেলা বেগম।কিন্তু তার কথা শোনে কে?তিনি ঘরে এলেন গম্ভীর মুখে।একে একে সবাইকে দেখে শেষে চোখ আঁটকে এলো নুসরাত আর কায়নাতের দিকে।বিশেষ করে কায়নাতকে দেখে চোখে ভাঁজ পড়ল তার।তিনি এগিয়ে এলেন নিকটে।ঘরের ছোট বারান্দার সামনে কায়নাত মুখ কালো করে বসে ছিল সোফায়।রাহেলা বানু সামনে আসতেই সোজা হয়ে বসল।
“”তুমিই লতার বড় মাইয়া না?”
কায়নাত মাথা নাড়ায়।রাহেলা বানু বলেন,
“তোমার না বিয়া হইছে?”
কায়নাত আবারও মাথা নাড়ায়।তিনি কড়া গলায় বলেন,
“মুখ নাই?কথা কও না কেন?বোবা তুমি?”
নুসরাত পাশ থেকে বলল,
“ও এমনই বড় দাদি।কথা একটু কম বলে।”
“আমি ওর শ্বশুর বাড়ির লোক।কথা কম কয় দেইখা আমি প্রশ্ন করলে উত্তর দিব না?”
কায়নাত বলল,
“মাফ করবেন।”
রাহেলা বানু দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
“বাইরে যাইবা,বাড়ির বউয়ের মতো।বুঝেছ?”
তিনি কিছুক্ষণ জ্ঞান দিয়ে সব মেয়েদের বললেন সাবধানে বাইরে যেতে।গ্রামে লাফাঙ্গা ছেলেদের অভাব নেই।তারা বাড়ি থেকে বের হলো কিছুক্ষণ পর।কায়নাত ঘরে বসে আছে।নিধি টেনে টুনেও নিতে পারল না তাকে।বেচারি এই মুখ কী করে দেখাবে দেবরকে?কায়নাত আর গেল না তাদের সাথে।এই মুখ দেখাবার মতো সাহস তার নেই।
রাত ৯টার দিকে বাড়িতে পিঠা বানানো হচ্ছে।নুসরাত বাইরে উঠোনের মাঝে চেয়ারে পা গুটিয়ে বসে আছে।দৃষ্টি খানা আকাশ পানে স্তব্ধ।উঠোন হালকা আপছা আলোয় আলোকিত।নিশা বোনকে একা বসে থাকতে দেখে এগিয়ে এলো।পিছু পিছু বিচ্ছু আদিও আছে।সেখানে কিছু কাঠের চেয়ার পাতা ছিল।প্রায় ভিজে গেছে সেগুলো।তবুও নিশা সেখানে এসে বসল পাশে।আদি মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে গলা জড়িয়ে ধরল।নুসরাত মুচকি হেসে বলল,
“এখন এত ভালোবাসা দেখাচ্ছ কেন?”
আদি বলল,
“তোমাকে তো আমি খুব ভালোবাসি মা।তুমিই আমার কলিজা ভুনা ভালোবাসা বুঝো না।”
“এসব ভাষা তোমায় কে শিখিয়েছে?”
“স্বার্থ ভাই,শেহের ভাই।”
“ওরা তোমার মামা হয়।ভাই ডাকবে না।”
আদি উত্তর না দিয়ে বাড়ির ভেতর দৌঁড়ে গেল।নিশা আড়চোখে সেদিকে তাকিয়ে বোনের কাঁধে মাথা রাখল।
“আপু,কতগুলো বছর কেটে গেছে।এবার কী নিজের জীবন নিয়ে একটু ভাবা যায় না?”
“জীবন তো দিব্যি কেটে যাচ্ছে নিশু।”
“সঙ্গীহীন কেন?কার জন্যই বা এই একাকিত্ব?”
“নিজের জন্যই।”
“আমার মনে হয় তোর আরেকটাবার জীবনকে সুযোগ দেয়া উচিত।”
নুসরাত দীর্ঘশ্বাস ফেলল।পেছনে কারোর পায়ের শব্দ পেয়ে নিশা পিছু ফিরল।শেহেরকে দেখে বলল পাশে এসে বসতে।শেহের এসে বসার পর নুসরাত নিজেকে স্বাভাবিক করল।তখন বাইরে ঝিরিঝিরি কুঁয়াশায় গায়ের শাল ভিজে এসেছে।তবু যেন সেখান থেকে উঠতে ইচ্ছে করছে না।
“তুমি কী বিয়ে সাদি করবে না শেহের ভাই?তোমরা ৪বন্ধু তো পিছিয়ে আছো।”
শেহের শান্ত ভঙ্গিতে শার্টের হাতা গুটিয়ে বলল,
“করব,বিয়ে তো করতেই হবে।”
“কবে করবে?বুড়ো হয়ে যাচ্ছ তো!”
“তাহলে কোনো বুড়িকেই বিয়ে করব।”
নিশা খিলখিল করে হেসে উঠল।নুসরাত ঠোঁট টিপে বলে,
“মজা করছি না।বিয়ের বয়স তো পেরিয়ে গেল,এবার নাহয় আমাদের খুশির মিষ্টিটা খাওয়াও।”
“জীবনসঙ্গী তো খুঁজেই পেলাম না রাতপাখি।মনের মতন একটা মানুষ পেলেই বিয়েটা করে ফেলব।”
নিশা ভ্রুযুগল কুঁচকে ফেলল।
“এই,তুমি নাটক বন্ধ করো।তুমি না বলেছিলে তুমি একটা মেয়েকে খুব ভালোবাসো?”
শেহের বলল,
“বাসি,এখনো বাসি আজীবন ভালোবেসে যাব।”
নুসরাত আলতো হেসে মাথা নোয়ালো।মানুষের ভালোবাসা দেখতেও ভীষণ ভালোলাগে।অথচ তাকে কেও ভালোবাসল না।জীবনে মানুষ তো ঠিকই এসেছে,তবে আজীবন থেকে যাওয়ার জন্য নয়।বহু বছর আগে একজনকে খুব করে ভালোবেসেছিল সে।তার বিনিময়ে বিচ্ছেদ,বুক ভরা যন্ত্রণা ছাড়া কিছুই পায়নি।তবু কোনো আফসোস নেই।আল্লাহ তাকে একটা সন্তান দিয়েছেন,যাকে নিয়ে গোটা একটা জীবন কাটিয়ে দিতে পারবে সে।নাই বা হলো পূর্ণতা,বিচ্ছেদই নাহয় থাক তার এইটুকু জীবনে।
পরেরদিন সকাল বেলা সূর্য মামা উকি দিতেই রাহেলা বানু বাড়ির বউদের কাজের হুকুম দিলেন সকাল সকাল।নিশারা তখনও ঘুমে আচ্ছন্ন।কায়নাত মাথায় কাপড় চেপে বের হলো ঘর থেকে।রোদ ওঠায় আর আলাদা করে শাল কিংবা সুয়েটার জড়ায়নি গায়ে।মনটা ভীষণ ভার তার।হবে না?কাল কী ঘটল তার সাথে?রাতে লজ্জায় সে বাইরে এসে সবার সাথে খাবারেও খায়নি।প্রেমের মুখোমুখী হওয়ার সাহস তার নেই।বেচারি লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।অর্ণ ঘর থেকে বেরিয়ে দেখল কায়নাত মন খারাপ করে বাড়ির বাইরে সদর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।সে মাথার চুল ঠিক করে গম্ভীর মুখে কড়া গলায় বলল,
“এই বেয়াদব মহিলা,এদিকে আসেন!”
কায়নাত পিছু ঘুরে দাঁড়ায়।অর্ণকে দেখে মুখখানা আরও কালো হয়।এই লোককে তার একদমই পছন্দ নয়।মুখটা সব সময় ঘুঘুর মতো করে রাখবে।কায়নাত মুখ বাঁকিয়ে দৃষ্টি সরালো।অর্ণ ভ্রু কুঁচকে ধমক দিয়ে বলল,
“বেয়াদব মহিলা,কাছে আসতে বলেছি না?”
কায়নাত চোখ রাঙিয়ে পিছু ঘুরে দাঁড়াল।গটগট পায়ে এগিয়ে এলো অর্ণর কাছে।
“আমাকে মহিলা কেন বলছেন?আমি মহিলা?”
“তাহলে কী পুরুষ?”
“আমি মেয়ে।”
“মেয়েরা কী মহিলা না?”
“মহিলা হয় বুড়ি হলে।আমাকে কোন দিক থেকে বুড়ি মনে হচ্ছে?”
অর্ণ ঠোঁট কামড়ে ধরল।তীক্ষ্ণ চোখে মেয়েটার চোখে চোখ রাখল।কায়নাত তাকিয়ে থাকতে পারল না।গলা কেঁশে মিনমিন করে বলল,
“যাকগে,যার তার সাথে ঝগড়া করে লাভ নেই।একটা প্রশ্ন করলে উত্তর দিবেন?”
“হোয়াট?”
“চৌধুরী বাড়ির বড় ছেলে কে?”
“হাসান ভাই।”
কায়নাতের বুকটা ফেটে যাওয়ার জো হলো এবার।হাসান ভাইয়ের তো বউ আছে।এক বউ থাকতে নিশ্চই আরেকটা বিয়ে করবে না সে?দুঃখে কষ্টে মেয়েটার যা-তা অবস্থা।অর্ণ দেখল সেই অস্থিরতা।শেষে ঠোঁট টেপে বলল,
“আপনার নাম কী?”
“কায়নাত সুবাহ।”
“আপনার বিয়ে হয়েছে?”
“হ্যা।”
“জামাইয়ের নাম কী?”
“জানি না।”
“চেনেন তাকে?”
“না।”
“তাহলে কোন আক্কেলে আমার ভাইকে নিজের জামাই মনে করেছেন?”
“আমার তো আক্কেলই নেই।আক্কেল থাকলে অবশ্যই ভেবে বলতাম।”
“ইডিয়ট।”
তখন নিধি ঘর থেকে বেরিয়ে ওদের নিকট এগিয়ে এসে অর্ণর পাশের সোফায় বসল।কায়নাতও ওর দেখাদেখি বসার পর সে নিধির কানে কানে বলল,
“তুমি তো আমার বিয়ের ব্যপারে জানো বলো?আমার জামাইটা কে জানো?”
নিধি শুকনো ঢোক গিলে অর্ণর দিকে তাকায়।অর্ণর দৃষ্টি অন্যদিকে বুঝে ফিসফিস করে বলল,
“তোমার সামনে যে বসে আছে,উনিই তোমার হাসব্যান্ড।”
কায়নাতের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল।বিশ্বাসই যেন হচ্ছে না অপছন্দের লোকটা তার হাসব্যান্ড হয়।নিধি ফিসফিস করে বললেও কথাটা অর্ণর কান অব্দি পৌঁছে গেছে।কায়নাত চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে তার দিকেই।অর্ণ মাথার চুল পেছনে ঠেলে দিয়ে শুষ্ক ঠোঁট ভিজিয়ে বলল,
““আপনার জামাই আমি,আমাকেই চেনেন না।অথচ দেবরকে না চিনেই জামাই বানিয়ে ফেলেছেন।আপনাকে পাগল বলব নাকি গর্দভ?”
কায়নাত বিস্মিত গলায় ফট করে বলে বসল,
“পাগল বললে বেশি খুশি হবো।কারণ আমি আসলেই পাগল!”
(ছোট পর্ব আমি খুবই কম দেই।আমি ব্যস্ত থাকলে গল্প লিখব কখন বলুন?তবু ব্যস্ততার মধ্যে যতটুকু পেরেছি লিখেছি।আমার আলাদা লাইফ আছে,পড়াশোনা আছে।সেগুলো রেখে গল্প নিয়ে বসে থাকলে হবে না। লিখতে ইচ্ছা করে নাআআআআআআআ।কবে যেন হুট করে লেখালেখি ছেড়ে দিব পাপীর দল🧝🏿♀️)
চলবে…?
প্রেমবসন্ত_২
হামিদাআক্তারইভা_Hayat
৬.(শেষাংশ)
আজগর চৌধুরীর একটাই বড় বোন।আর সে হলো রাহেলা বানু।খুব ছোট থাকতে বিয়ে হয়েছিল তার।বিয়ের পর ২সন্তান গর্ভে ধারণ করার পর পর’ই ৫ বছরের মাথায় স্বামী মারা যান।সে অনেক বছর আগের কথা।বর্তমানে তার নাতির ঘরেও বাচ্চা কাচ্চা আসতে চলেছে।মহিলা একটু রুষ্ট স্বভাবের।বাড়ির বউদের একটু কড়া শাসনে রাখতে পছন্দ করেন।কায়নাতের ক্ষেত্রেও সেই একই ব্যাপার।কায়নাত বর্তমানে এক সপ্তদশী নারী।একটু দুষ্টুমি করলেও সংসারের প্রতি যথেষ্ট বুঝদার।মা ছোট থেকে শিখিয়ে এসেছেন স্বামীর ঘর’ই আসল ঘর।স্বামীর ঘরের খুঁটি নিজেকেই শক্ত করে ধরে রাখতে হবে।শ্বশুর বাড়ি কী হয়,সে সম্পর্কে ধারণা কম থাকলেও একদমই যে নেই তা নয়।সকালে অর্ণর সাথে ওই মুহুর্হে কথা বলার পর থেকে আর তার সামনে যায়নি মেয়েটা।
সকালে নাস্তার আয়োজন করা হচ্ছে।আজ বিকেলে তারা চলে যাবে চৌধুরী।
কায়নাত ভাবিদের সাথে বসে বসে হাত লাগিয়ে কাজ করছিল।বিনা,অর্থাৎ রাহেলা বানুর ছোট ছেলের একমাত্র ছেলের বউ বিনা কায়নাতের সাথে কথায় কথায় কাজে হাত লাগিয়েছে।সম্পর্কে কায়নাতের ভাসুরের বউ হয়।মেয়েটা শ্যামবর্ণের।ভীষণ মিষ্টি।সে কায়নাতের পড়াশোনার ব্যপারে জানতে চাইলে কায়নাত বলে এবার উচ্চমাধ্যমিক দিবে।
“আমি পড়াশোনা শেষ করেছি গত বছর।”
কায়নাত অবাক হয়ে বলল,
“পড়াশোনা করতে দিয়েছে?”
বিনা হেসে বলল,
“আমার স্বামী আমাকে পড়িয়েছেন।যদিও দাদি শাশুড়ি চাননি বাড়ির বউ পড়াশোনা করে শিক্ষিত হবে।”
কায়নাত দৃষ্টি নত করল।সে কী পড়াশোনা করতে পারবে না?সবে তো টেস্ট পরীক্ষা শেষ হয়েছে।সামনেই ফাইনাল পরীক্ষা।মা হাতখানা শক্ত করে আঁকড়ে ধরে বলেছিলেন,
“শুভু যাই হয়ে যাক,পড়াশোনা ছাড়বি না।”
কে জানে কী লেখা আছে ভাগ্যে!
সকালের নাস্তা বানানো হলো।সবাই একত্রে বসে খাবারও খেলো।কায়নাত প্রেমের কাছে ক্ষমা চেয়েছে নিজের বোকামির জন্য।প্রেমও ভীষণ লজ্জিত ভাবির এহেন কাজে।তবুও দিন শেষে সব ভুলবুঝাবুঝি মিটে গেছে এই অনেক।দুপুর পেরিয়ে বিকেল যখন নামলো তখন সবাই তৈরি হয়ে নিল।কথা ছিল আজ তারা থেকেই যাবে তবে সিদ্ধান্ত পাল্টে আজই ফিরছে সবাই।রাহেলা বানু একাই যাবেন বাড়ি থেকে।ছেলে,ছেলের বউ সবাই যাবেন বিয়ের দিন।ফাঁকা বাড়ি রেখে কেউ যেতে চাননি আজই,তাই তিনি একাই যাচ্ছেন।বিদায় নেয়ার আগে বড় বউকে বলে গেলেন বাড়ির দেখ-ভাল করতে।হাঁস-মুরগি গুলোকে সময় মতো আহার দিতে।শেষে বিদায় নিয়ে বের হলেন বাড়ি থেকে।রাস্তায় আশেপাশের প্রতিবেশীদের সাথে দেখা হলো তার।কথা বলতে বলতেই তিনি সন্ধ্যা বানিয়ে ফেললেন।চৌধুরী বাড়ি পৌঁছাতে অনেকটা সময় লেগে গেল।তখন চারপাশে ঘনকালো অন্ধকারে ঢেকে গেছে।শীতের কুঁয়াশায় ভিজে গেছে গাছার পাতা,মাঠের ঘাস।
আজগর চৌধুরী গম্ভীর মুখে বসে ছিলেন বাড়ির বাগানে।সাথে কিছু মরুব্বি লোকজন আছেন।তাদের থেকে খানিকটু দূরে নাজনীন ভাই এবং হাসান ভাই বসে ছিল খোলা আকাশের নিচে।নাজনীন ভাই সাদা পাঞ্জাবি গায়ে চুপচাপ বসে তখন।হাসান ছোট ভাইয়ের মুখখানা দেখে বলল,
“মেয়ে কী পছন্দ হয়নি নাজনীন?”
নাজনীন হঠাৎ ভাইয়ের মুখে এমন কথা শুনে হেসে ফেলল।ধীর স্বরে বলল,
“তোমরা পছন্দ করেছ ভাই,তাহলে আমার খারাপ কী করে লাগবে?”
“আজ কাল একটু বেশি’ই চুপচাপ হয়ে গেছিস।”
“আগে কী খুব বেশি কথা বলতাম?”
“না নয়,তবে কেমন যেন।”
নাজনীন হাসল,গাল ভরে হাসল।ভাইয়ের কথা শুনে হাসি আসছে তার।খানিকক্ষণ পর নিধি আর মাহি এসে দাদা,ভাইদের জন্য গরম গরম চা দিয়ে গেল।চায়ের কাপে তখন গরম ধোঁয়া উড়ছে সমান তালে।
কুয়াশার সাথে মিশে যেন বাতাসে এক ধরনের ঘন উষ্ণতা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নামছে আস্তে আস্তে।চারপাশের মাঠজোড়া নিস্তব্ধতা,শুধু মাঝেমাঝে কোথাও ঝিঁঝি পোকার আওয়াজ,আবার দূরে কোন পুকুরপাড়ে ব্যাঙের ডাকে তাল মিলিয়ে ছন্দ পড়ছে।
আকাশে আধো চাঁদ ভেসে উঠেছে,চারদিকের কুয়াশা সেই চাঁদের আলোয় রুপালি হয়ে ঝিকিমিকি করছে।
চৌধুরী বাড়ির বাগানে স্নান আলোয় গাছের ছায়াগুলো লম্বা হয়ে পড়েছে মাটির বুকে।
বাতাসে শীতের হালকা ছোঁয়া—নরম, অথচ নিঃশব্দে হাড়ে হাড়ে ঢুকে পড়ছে।
বাগানের গাছগুলোয় শিমুল ফুল ফুটেছে কয়েকটা, মাটিতে ঝরে পড়া লাল পাপড়িগুলো যেন আগুনের দাগ হয়ে আছে।বাতাসে ভেসে আসে মাটির গন্ধ, সঙ্গে শুকনো পাতার খসখস শব্দ।
অর্ণর পুরো বন্ধুমহল ছাদে বসে এককোনায়।শেহের মাথা চেপে বসে আছে।বাড়ি থেকে কল করেছিল তাকে।বিয়ের জন্য মা পাগল হয়ে গেছেন।মেয়েও দেখতে শুরু করেছেন।খানিকক্ষণ আগেই মায়ের সাথে কথাকাটাকাটি হয়েছে বিয়ে নিয়ে।স্বার্থ সমান টানে সিগারেট টেনে যাচ্ছে।প্রেম নাক চেপে বসে আছে ওদের পাশেই।সবকটাকে দেখে মনে হচ্ছে দুনিয়ার সবচেয়ে দুঃখী মানুষ এরাই।কেউ সমানে বিড়ি টানছে,কেউ বা গম্ভীর হয়ে বসে আছে আবার কেউ বা মেজাজ খারাপ করে বসে আছে।তার নিজেও তো শান্তি নেই।নিচে থেকে খাওয়ার জন্য সবাইকে ডাকা হচ্ছে।প্রেম স্বার্থ আর মেহরাবকে নিয়ে নিচে নেমে গেল।ছাদে শুধু শেহের আর অর্ণ।অর্ণ খেয়াল করল শেহেরের মুখটা একটু বেশি’ই ভার।
“কিছু হয়েছে?”
শেহের বলল,
“ভালোবাসায় এত যন্ত্রণা কেন?”
অর্ণ শান্ত গলায় বলল,
“কাকে ভালোবাসিস?”
“আছে!”
অর্ণ চোখ বন্ধ করল।ঠান্ডা বাতাস শরীর ছুঁয়ে যাচ্ছে তার।সে বোধহয় লম্বা একটা শ্বাস টানল।
“ভালোবাসায় যন্ত্রণা এই কথা কে বলেছে?ভালোবাসা হলো শান্তি,সুখ,আস্ত একটা ঘর।ভালোবাসা তখনই যন্ত্রণা দেয়,যখন সেটা অসম্পূর্ণ কিংবা একতরফা থাকে।যদি এমন হয়,তুই এখনো সেই মানুষের কাছে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করিসনি,তাহলে করে ফেল।কথায় আছে মানুষ দাঁত থাকতে দাঁতের মূল্য বোঝে না।এমনও তো হতে পারে,সে নিজেও তোকে ভালোবাসে।”
“আর যদি না বাসে?”
“তাহলে তার সুখ কামনা কর।ভালোবাসার মানুষকে ভালো থাকতে দেখাটাও একধরনের শান্তি।”
শেহের যেন হাসল।সুখ?প্রিয় মানুষের খুশিটা দেখার জন্য তো সে নিজের জীবনের সুখ শান্তি সব বিসর্জন দিয়ে বসে আছে।৯টা বছর ধরে যাকে ভালোবেসে আসছে তার সুখ কামনা না করে যাবে কোথায় সে?
রাতটা এখন আরও ঘন হয়ে এসেছে।
আকাশে আধো চাঁদ ঝুলে আছে।বাতাসে শীতের ছোঁয়া আরও তীব্র হয়েছে,তবু সেই ঠান্ডার ভেতরেও একটা নরম শান্তি ছড়িয়ে আছে চারপাশে।
ছাদের একপাশে দাঁড়িয়ে শেহের নিচের দিকে তাকাল।বাগানে আলো জ্বলছে।চৌধুরী বাড়ির চারদিকে এখন এক অদ্ভুত নীরবতা,যেন এই নীরবতার ভেতরেই লুকিয়ে আছে অজস্র না-বলা গল্প,না-বলা ভালোবাসা।অর্ণর কথাগুলো তার বুকের ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে।
সে হালকা চোখ তুলে চাঁদের দিকে তাকাল।
“যদি ভালোবাসা অসম্পূর্ণ হয়,তবে মানুষ এতদিন ধরে তা ধরে রাখে কেন?”
নিজের মনেই ফিসফিস করে প্রশ্নটা করল শেহের।
অর্ণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল, ঠান্ডা বাতাসে তার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।শেহের তাকিয়ে থাকল অর্ণর দিকে।তার মুখে কোনো বাড়তি আবেগ নেই, কিন্তু চোখের গভীরে যেন এক নিঃশব্দ যন্ত্রণা।যে মানুষ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে না, তার চোখই সব বলে দেয়।
ছাদের উপরে হালকা কুঁয়াশা জমেছে। পাশের গাছের পাতাগুলো ভিজে যাচ্ছে শিশিরে।
শেহের ধীরে বলল,
“তুই কখনো কাউকে ভালোবেসেছিস,অর্ণ?”
অর্ণ কোনো জবাব দিল না।
দু’জন একসাথে ছাদ থেকে নিচে নামল।
তাদের পায়ের শব্দ মিলিয়ে গেল ছাদের কুঁয়াশার ভেতর।আকাশে চাঁদটা তখন আরও উজ্জ্বল,বাতাসে শিশিরের গন্ধ।
•
লতা বেগমের ঘরে লতা বেগম তার দুই মেয়েকে ডেকেছেন।কায়নাত আর জয়া বিছানায় পাশাপাশি বসে ছিল তখন।লতা বেগম শান্ত হয়ে বিছানায় একটা মাঝারি সাইজের ব্যাগ এনে রাখলেন।জয়া অধৌর্য হয়ে বলল,
“ও মা,কী করছ এসব?”
লতা বেগম উত্তর না দিয়ে ব্যাগ খুললেন।খুলে সেখান থেকে কিছু হালকা গয়না বের করলেন।আড়চোখে কায়নাতের দিকে তাকিয়ে বললেন,
“যাদের জিনিস তাদের ভাগ করে দেয়ার সময় হয়েছে।আমার তেমন কিছু নেই।যা আছে,সব তোমাদের’ই।”
তিনি কিছু অল্প গয়না গড়িয়ে রেখেছিলেন।সেগুলো দুই মেয়েকে ভাগ করে দিয়ে বিছানায় বসলেন।কায়নাত শুষ্ক ঠোঁট ভিজিয়ে মায়ের মুখ পানে একবার তাকাল।ভীষণ অস্বস্বি নিয়ে বলল,
“তুমি আমায় এসব দিচ্ছো কেন মা?আমার তো এসব চাই না।”
লতা বেগম বললেন,
“কেন নিবি না?”
“আমি কী করব এসব নিয়ে?”
“মানুষ যা করে তাই করবি।”
কায়নাত মাথা দুইপাশে নাড়িয়ে গয়না গুলো মায়ের কোলের উপর রাখল।মৃদু গলায় বলল,
“আমার এসব চাই না মা।তুমি আমাকে একটু দোয়া দিও তাতেই হবে।এসব নাহয় তোমার কাছেই রাখো।”
লতা বেগম জয়াকে ঘর থেকে বের হতে বললেন।জয়া মাথা নাড়িয়ে বেরিয়ে গেল নিঃশব্দে দরজা চাপিয়ে।কায়নাতের সাথে লতা বেগম কথা বললেন বেশ কিছুক্ষণ।কায়নাত মায়ের সব কথাই শুনলো।মায়ের জীবন কাহিনি শুনেও কেন যেন একটু অভিমান হলো।তবু গিলে ফেলল সেটা।সে বুঝতে পারছে মা পরিস্থিতির স্বীকার হয়েছিল।লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো তার।সেই রাত কেটে মাঝে কেটে গেল আরও দুদিন।আজ নাজনীন ভাইয়ের গায়ে হলুদ।এই দুইদিনে কায়নাতের সাথে অর্ণর দেখা হয়েছে হাতে গোনা কয়েকবার।ইতোমধ্যে বাড়ির সকলে জেনে গেছেন তাদের বিয়ের ব্যপারে।ভীষণ আশ্চর্য হয়েছেন সবাই বিয়ের কথা শুনে।এত কিছুর মাঝেও দুজন নর-নারী নীরব দর্শক।যাদের বিয়ে হয়েছে তাদের’ই খোজ খবর নেই।
সময়টা ছিল ভোর সকাল।নিধি নামাজ শেষে দাদির সাথে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল।পাশের বাড়ি থেকে প্রত্যেকদিন দেশি মুরগির ডিম আনা হয়।আজও তাই হয়েছে।দাদি ডিম নিয়ে বাড়িতে ঢোকার পর নিধি বাড়ির বাইরেই একা একা হাঁটছিল।হঠাৎ চৌধুরী বাড়ির সরু রাস্তা দিয়ে চেনা পরিচিত মুখ দেখে মেয়েটা দৌঁড়ে গেল বাইরে।সোহাগকে দেখে পিছু ডেকে উঠল সে।সোহাগ তার বন্ধু,একই স্কুলে একসাথে পড়েছে।সোহাগ পরিচিত কণ্ঠ পেয়ে পিছু ঘুরল।নিধিকে এই শীতের সকালে বাড়ির বাইরে দেখে আশ্চর্য হয়ে বলল,
“আরে,নিধি তুই গ্রামে?কবে এসেছিস?”
সে এগিয়ে আসতেই নিধি বলল,
“এসেছি কয়েকদিন আগে।নাজনীন ভাইয়ের বিয়ে জানিস না?”
“জানব না আবার?দাওয়াত পেয়েছি তো।”
“তোর কী খবর?পড়ছিস?”
“পড়ছি,সাথে কয়েকজন বাচ্চাকেও পড়াচ্ছি।”
ওরা কথা বলছিল।কথা শেষে সোহাগ চলেও গেল।নিধি বাড়ির ভেতর এসে বাগানে গিয়ে দোলনায় বসল।আজ বাদে কাল আবার ঢাকায় চলে যেতে হবে।সামনেই পরীক্ষা।চুপচাপ পা দুলিয়ে বসে ছিল সে।প্রেম সদর দরজা পেরিয়ে বাগানে এসে নিধির পাশে বসল।নিধি মোটেও অবাক হলো না।প্রেম,আদাল কিংবা অর্ণ,এরা সব সময় ভোর সকালেই ঘুম থেকে উঠে যায়।নিধি ঘাড় বাঁকিয়ে প্রেমের গম্ভীর মুখ দেখে বলল,
“কী হয়েছে আপনার?”
প্রেম উদাস কণ্ঠে বলল,
“হসপিটাল থেকে কল এসেছিল।বিয়ে শেষ না করে যাই কী করে?”
“ওহ!”
দুজনের মাঝে আর কথা হলো না।সকালে আয়োজন শুরু হলো।দুপুরের একটু আগ দিয়ে মেয়ের বাড়ি যাবেন অনেকেই।কায়নাত হলুদ শাড়ি পরেছে আজ।সেটার আঁচল কোমরে গুঁজে রান্নাঘরে হলুদ বাটছিল।রাহেলা বানু হলুদ বাটতে বলেছেন তাকে।সে হলুদ বেটে ভালো করে হাত ধুয়ে মাত্রই রান্না ঘর থেকে বেরিয়েছে।অমনি অর্ণর সাথে চোখাচোখী হলো।অর্ণ কোনো কারণ ছাড়াই তাকিয়ে ছিল এদিকে।হঠাৎ কায়নাতকে দেখে ভ্রু কুঁচকে এলো।কানে ধরা ফোন তখনও কানে।কায়নাত তখন পাশ কেটে উপরে চলে গেল।দুপুরের আগে নাজনীনের হলুদ শেষে মেয়ের বাড়ি গেলেন অনেকেই।১০-১২জন গেছেন এই বাড়ি থেকে।নুসরাত যায়নি।সে কায়নাতের সাথে থেকে গেছে।বিকেলে যখন সবাই বাড়ি ফিরল তখন পুরো চৌধুরী বাড়ি জমজমাট।হৈচৈ-এ মুখরিত পুরো বাড়ি।আজ মেয়েরা সবাই হাতে মেহেদী দিয়েছে।কায়নাতও তাই।তার হাতের মধ্যখানে অর্ণর নাম লিখে দিয়েছে নিশা।ছাদে আয়োজন করা হয়েছিল।ছাদ ভর্তি কাজিন গুষ্টি মিলে আড্ডা আলোচনায় ব্যস্ত।কায়নাত দুই হাত বাড়িয়ে চেয়ারে বসে সবার আনন্দ দেখছে।গান বাজনা হচ্ছে,তবু অল্প সাউন্ড দিয়ে।সে শুষ্ক গলা ভিজিয়ে ছাদের ডানপাশে এক কোণায় তাকাল।অর্ণ দাঁড়িয়ে আছে গম্ভীর হয়ে।গায়ে কালো ট্রাউজার আর কালো হুডি।অদ্ভুত নীরব লোকটা।
(আমার লেখা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।এই পর্বটা এক প্রকার জোর করে লিখেছি আমি।লিখতে গেলে একটা শব্দও আগায় না।বুঝতে পারছি না কী করব।আমি একটু ২দিনের ব্রেক নেই গাইস।যদি এর আগেই সব ঠিক হয়ে যায় তাহলে ইনশাআল্লাহ আগেই ফিরব।ভুল ত্রুটি মাফ করবেন।)
এটা আমার গল্পের গ্রুপ।চাইলে জয়েন হতে পারেন।
চলবে…?
Share On:
TAGS: প্রেমবসন্ত সিজন ২, হামিদা আক্তার ইভা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৬
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ গল্পের লিংক
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৩
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৭
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৯
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৯
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৮
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১০