একশ্রাবণমেঘের_দিনে পর্ব ২৩
neela_rahman #romance #school
সবাই নিচে খাবারের জন্য অপেক্ষা করছে ।মেঘলা উপরে গিয়েছে প্রায় ৫-১০ মিনিটের মত হবে এখনও নিচে নামছে না ।তানিয়ার মন কেমন ছটফট করছে একা উপরে কি করছে মেঘলা?
তানিয়া উপরে গেলে তো শ্রাবণ রুমের ভিতর ঢুকতে দেয় না ।দরজা থেকে বের করে দেয় ।কিন্তু এতক্ষণ ধরে মেঘলা উপরে অথচ মেঘলা কে বের করছে না বা তাড়িয়ে দিচ্ছে না কেনো?
এদিকের রুমের মধ্যে পুতুলটাকে বারবার এদিক ওদিক নাড়িয়ে চালিয়ে দেখছে মেঘলা ।কোথায় কিভাবে কথা রেকর্ডিং করতে হবে মেঘলা এখনো জানেনা এটার সিস্টেম ।তাই শ্রাবনের দিকে তাকিয়ে বললো,” ভাইয়া এটা থেকে কিভাবে কথা রেকর্ডিং করতে হয়?”
মেঘলা যেন ভুলে গিয়েছে ওকে শ্রাবণ ভাইয়া কে ডাকার জন্য পাঠিয়েছিল ছাদে।এখানে এসে পুতুল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গিয়েছে ।শ্রাবণ সাথে সাথে মেঘলা কে নিয়ে বিছানায় বসে পুতুলের ফাংশন একটা একটা করে শিখাতে লাগলো।
পিঠের দিকে একটি সুইট আছে রেকর্ডিং বাটন অন করার ।আরেকটি সুইট আছে পূর্বে রেকর্ডিং করার কথা শুনতে পাওয়ার।
মেঘলার কথা রেকর্ডিং করা শিখতে চাচ্ছে ।কিভাবে রেকর্ডিং করবে তাই শ্রাবণ একটি কথা রেকর্ডিং করে শিখিয়ে দিচ্ছে।
শ্রাবণ রেকর্ডিং বাটনটি অন করে বলতে শুরু করলো,” হায় আই এম শ্রাবণ ।নাইস টু মিট ইউ ।হাউ আর ইউ?”
শ্রাবণ সাথে সাথে পুতুলটির সুইচ অন করলো। এখন পুতুল বলছে ঠিক অবিকল শ্রাবণের মতোই ,”হায় আই এম শ্রাবণ ।নাইস টু মিট ইউ ।হাউ আর ইউ?”
শ্রাবণ বললো,” জবাবে তুই কিছু বল ।রেকর্ডিং কর ।”
মেঘলা বললো,” না এখন না ।আমার লজ্জা করছে আপনার সামনে।আমি একা একা বলে রেকর্ডিং করব।”
দাঁত দিয়ে জিভ কা*টলো মেঘলা । বললো,” হায় হায় আমি তো ভুলে গিয়েছি ভাইয়া নিচে খাওয়ার জন্য সবাই অপেক্ষা করছে ।আমাকে আপনাকে ডাকার জন্যই পাঠিয়েছিল আমি তো এখানে কতক্ষণ ধরে বসে আছি ।সবাই না খেয়ে অপেক্ষা করছে আপনার জন্য।”
শ্রাবণ তাড়াহুড়া করে উঠতে যেয়ে খাটের বাম পাশে লেগে আহ শব্দ করে উঠলো।পুরনো দিনের খাট যেহেতু সেখানে ছোট্ট একটু লোহার সাথে হাত লেগে হাত কেটে গেল। শ্রাবণ সাথেই হাত ঝাড়া দিয়ে উঠলো ।দুই এক ফোঁটা রক্ত বের হচ্ছে ।মেঘলা দেখে সাথে সাথে শ্রাবণের হাতটি নিয়ে কা*টা আঙ্গুলটি মুখে পুরে নিল।
শ্রাবণ বোকা হয়ে গেল ।এত দ্রুত ঘটে গেল ঘটনাটি কোন কিছু ভেবে ওঠার সময় পাইনি ।ও শুধু দেখছে ওর কাঁটা আঙ্গুলটি এখন মেঘলার মুখে ।মেঘলা রক্ত বন্ধ করার জন্য ব্যবস্থা করছে। মেঘলা চোখ তুলে তাকালো শ্রাবণের দিকে ।যেন শ্রাবণ ভাইয়া কত ব্যথা পাচ্ছে !মেঘলাকে দেখলে সেটাই মনে হচ্ছে যেনো ব্যাথা মেঘলা পাচ্ছে।কিন্তু শ্রাবণ সবকিছু ভুলে গেল ।শুধু অবাক নয়নে তাকিয়ে রইল মেঘলার দিকে।শ্রাবণের আঙ্গুল এখন মেঘলার মুখে। হঠাৎ কেমন যেন শ্রাবণের দেহ মন এক অজানা আনন্দে আন্দোলিত হলো। সময় থমকে গেলো।
হঠাৎ মেঘলাল কেমন যেন ইতস্তত ফিল হতে লাগলো । শ্রাবণ ভাই যেভাবে তাকিয়ে আছে ।তখন তো ঘটনার কোন কিছু না বুঝেই হন্তদন্ত হয়ে কান্ড ফেলেছে এখন ধীরে ধীরে মুখ থেকে শ্রাবণের আঙ্গুলটি বের করে উঠে আমতা আমতা করে বললো,” দুঃখিত আমি আসলে ইচ্ছে করে করিনি।আমার হাত কাটলে এভাবে মুখে নিলেই রক্ত বন্ধ হয়ে যায় তাই আপনার আঙুল মুখে নিয়েছি। প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দিন।সবাই নিচে অপেক্ষা করছে চলুন ভাইয়া ।”
বলেই পুতুলটি নিয়ে এক দৌড়ে নিচে চলে গেল মেঘলা।
শ্রাবণ হা করে তাকিয়ে রইল হাতের দিকে ।রক্ত পড়া থেমে গিয়েছে কিন্তু কি ভয়ানক কাজ করে গেল মেয়েটি ,মেয়েটাকে জানে?
হাতের দিকে এক নজরে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে একটু মুচকি হাসলো শ্রাবণ ।তারপর উঠে ধীরে ধীরে সিড়ি ভেঙ্গে নিচে নেমে এলো খাওয়ার জন্য।
সিড়ি দিয়ে নিচে নামতে নামতেই দেখতে পেল বারান্দায় দুটো পাটি বিছানো হয়েছে ।মেঘলা গিয়ে কিছুক্ষণ আগে বসেছে শ্রাবণের পাটিতে। শ্রাবণের চোখ পড়ল সরাসরি মেঘলা দিকে ।মেঘলা দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে শ্রাবণ সিঁড়ি ভে*ঙে নিচে নামলো।
মেঘলা নিচের দিকে তাকিয়ে আছে ।আজ আর তাকাবেনা শ্রাবণ ভাইয়ের দিকে ।কেমন যেন লজ্জা লজ্জা লাগছে মেঘলার ।কিন্তু শ্রাবন তাকিয়ে আছে মেঘলার দিকে।আশেপাশে কে আছে না আছে কিছুই আর খেয়াল নেই শ্রাবণের ।মেঘলাকে দেখেই নিচে নেমে এসে সরাসরি পাটিতে বসলো।
এমন সময় রাফি প্রশ্ন করলো,” এত দেরি হল কেন ভাইয়া ?মেঘলাকে তোমাকে আনতে কখন পাঠিয়েছিলাম ?এত দেরি কেন হল।”
শ্রাবণ তাকালো মেঘলার দিকে।কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না ।তাই বললো,” একটু হাত কে*টে গিয়েছিল তাই ।”
শহিদুল খান সাথে সাথে বললো,” কোথায় হাত কেটে গিয়েছে ?” শ্রাবণ বললো,”তেমন কিছু না খাটের সাথে লেগে আঙুল কেটে গিয়েছে।”
সবাই খাওয়া-দাওয়া শেষ করলো একসাথে ।আসমা বেগম খাবার মেখে দিয়েছিলেন চামচ দিয়ে খেল শ্রাবণ ।কারণ কিছুক্ষণ আগেই আঙ্গুল কে*টেছে এখন এই হাত দিয়ে আর খেতে পারবে না।
সাজ্জাদ খান বললেন ,”তোমার রুমে এন্টিসেপটিক ক্রিম আছে লাগিয়ে নিও । শ্রাবণ তেমন কোন কিছু না ভেবে বললো,” তার থেকেও ভালো এন্টাসেপটিক ক্রিম লাগানো হয়ে গিয়েছে সমস্যা নেই।”
মেঘলা সাথে সাথেই তাকালো শ্রাবণের দিকে।
রাফি বললো,” তুমি কি সাথে করে নিয়ে এসেছো ?”
শ্রাবণ আমতা আমতা করে বললো,” হ্যাঁ একটি নিয়ে এসেছিলাম ওইটাই লাগিয়েছি।”
সবাই খাওয়া-দাওয়া শেষ করে যার যার রুমে গেল না । শহীদুল খান বসে বললেন,” একটু চা-কফি কিছু খাওয়াও ।খেজুর গুড়ের চা শুনেছি মেঘলা নাকি ভালো বানাতে পারে ।আজ মেঘলার হাতে খাব ।”
শহিদুল খানের কথা শুনে সাথে সাথে খুশি হয়ে মেঘলা বললো,” আমি এখনই করে আনছি বড় আব্বু।”
আসমা বেগম বললেন,” তুমিও শুধু শুধু মেয়েটা কে কষ্ট দিচ্ছো।”
শহিদুল খান ছেলের দিকে তাকালেন ।দেখলেন এখনো মেঘলার দিকেই তাকিয়ে আছে ।তাই হালকা কেশে শ্রাবণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন ,”আমার সাথে একটু বাহিরে আয়।কথা আছে ।”
শ্রাবণ বুঝতে পারছে না কি কথা হতে পারে তাই চুপচাপ উঠে গেল কথা শোনার জন্য। শহিদুল খান এবং শ্রাবণ বাহিরে এসে দাঁড়াতেই শ্রাবণ জানতে চাইলো ,”এই ঠান্ডার মধ্যে বাহিরে কি জন্য নিয়ে এসেছ বাবা ?”
শহিদুল খান বললেন ,”কি চিন্তা ভাবনা করেছ উকিলের সাথে কথা হয়েছে?”
শ্রাবণ মাথা নিচু করে বললো,” হুম।”
শহিদুল খান বললেন ,”যা যা চেয়েছে সবকিছু দিয়েছো ?তাহলে কাজ তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে।”
শ্রাবণ বললো,” মাত্রই তো গ্রামে এলাম তাই আমি জানিয়েছি ২-৩ দিন পর যখন ঢাকা ব্যাক করবো তখন দিব।”
শহিদুল খান বললেন ,”তোমার না তারা ছিল তানিয়ার বাবা কথা বলবে বিয়ের ব্যাপারে ?এনগেজমেন্ট এর ব্যাপারে?”
শ্রাবণ চুপ করে রইল ।কোন কথার উত্তর দিল না ।শহিদুল খান আবার জিজ্ঞেস করলেন ,”তুমি কি সত্যি বিয়েটা ভেঙে ফেলতে চাচ্ছ ?না মানে যদি আরেকবার চিন্তা ভাবনা করে দেখতে ?”
শ্রাবণ এবারও চুপ ।কোন কথা বলল না ।শহিদুল খান আবার নীরবতা ভেঙে বললেন,” তুমি কি তানিয়া ব্যাপারে সিওর ?মানে সত্যি তানিয়াকে বিয়ে করতে চাও ?বিয়েটা তো কোন ছেলে খেলা নয় !যদি ভেবে দেখতে !”
শ্রাবণ এবারও চুপ ।কোন কথা বলল না।
শহিদুল খান বুঝলেন ছেলে হয়তো নিজের মনের সাথে বোঝাপড়া করছে তাই আর জোর দিলেন না ।বললেন ,”যাই করো ভেবে চিন্তে করো ।প্রয়োজন হলে সময় নাও ।তাড়াহুড়া করোনা ।জীবন একটাই তাই ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নাও ।আমাদের দ্বারা না হয় একটা ভুল হয়ে গিয়েছে আমাদের উপর দোষ দিয়ে নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পারবে ,কিন্তু সেই ভুলটাই যদি তুমি নিজে কর কখনো নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পারবে না ।নিজের করা ভুলের উপর যে নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়া যায় না।”
বলেই বললেন ,”ঠিক আছে চলো ভিতরে চলো ।আমাকে উত্তর দিতে না পারলেও নিজের মনকে উত্তর দিও ।নিজেকে নিজে প্রশ্ন করো উত্তর পেয়ে যাবে।”
কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলে ভিতরে আসতেই দেখল মেঘলা চা বানানো শেষ ।সবার জন্য ট্রেতে করে নিয়ে এসেছে চা।একজন একজন করে সবাইকে চা সার্ভ করতে লাগলো ।রাফির কাছাকাছি আসতেই বিড়ম্বনা হলো ।মেঘলার চুলের খোঁপা টা খুলে গেল।
ঝরঝরিয়ে পড়লো মেঘলার কালো কুচকুচে চুল গুলো । শ্রাবণ তাকিয়ে রইল মেঘলা চুলের দিকে ।মেঘলার দিকে ।এদিকে রাফিও মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল মেঘলা দিকে। মেঘলা চায়ের ট্রে নিচে রেখে আবার সুন্দর করে খোপা টা করে নিল।
মেয়েদের খোপা করাও যে একটা আর্ট এতটা শৈল্পিক সুন্দর হতে পারে শ্রাবণ যেন জীবনে এই প্রথমবার অবলোকন করলো।
কি করে মেয়েরা সুন্দর করে দুই হাতে ভাঁজে ভাঁজে চুলগুলো নিয়ে উল্টিয়ে পাল্টিয়ে পেচিয়ে সুন্দর একটি খোপা তৈরি করে এ যেন মাটির হাড়ি পাতিল বা পুতুল তৈরি করার চেয়েও কঠিন কাজ শ্রাবণের মনে হলো।
শহিদুল খান তানিয়ার দিকে তাকিয়ে বললেন ,”তা মা আমাদের গ্রামে এখানে তোমার কেমন লাগছে? তুমি তো শহরের তাছাড়া বহু বছর বিদেশ থেকেছো ।তোমার তো গ্রামে কোন বাড়ি ঘর নেই তাই হয়তো গ্রামে কখনো থাকনি। “
তানিয়া ভদ্রতা সূচক বললো,” না আঙ্কেল ভালো লাগছে না হলে তো আসতাম না।”
সাজ্জাদ খান তানিয়াকে লক্ষ্য করলেন ।সাজ্জাদ খান এর মনে হচ্ছে তানিয়া শুধুই বন্ধু নয় অন্য কোন সম্পর্ক আছে কিন্তু যাই থাকুক এখন তো আর এগুলো চিন্তা ভাবনা করে কোন লাভ নেই ।যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার।
শুধু মেঘলা এর দ্বারা কোনোভাবে প্রভাবিত না হলেই হল ।এর চেয়ে আর বেশি কিছু চাওয়ার নেই সাজ্জাদ খানের ।৬ বছর আগে যে ভুল তারা করেছিল সে ভুলে প্রায়শ্চিত্ত যেন মেঘলা চোখে পানি দিয়ে দিতে না হয় এটিই একমাত্র চাওয়া।
তানিয়া শ্রাবণের দৃষ্টি লক্ষ্য করল ।কিছুদিন ধরেই লক্ষ্য করছে ।আসার পর থেকেই মেঘলার দিকে শ্রাবণে তাকানোটা কখনোই লামিয়ার দিকে তাকানোর মত মনে হয় না।
লামিয়া চায়ে চুমুক দিচ্ছে আর একটু একটু করে আর চোখে তাকাচ্ছে সিয়ামের দিকে ।সিয়াম যেন কেমন ! কখনোই লামিয়ার দিকে সরাসরি তাকায় না বা তাকালেও লামিয়া কখনো সেটা ধরতে পারে না।
লামিয়া মনে মনে বুদ্ধি করছে সিয়াম কে একটু শিক্ষা দিতে হবে এটা কেমন ধরনের ব্যবহার আপন চাচাতো বোন সেই হিসেবে একটু কথা বলতে পারে ?
সিয়াম নিচের দিকে তাকিয়ে চা খেলেও জানে এক জোড়া চক্ষু ওকেই দেখছে ।কিন্তু সিয়াম মাথা তুলে তাকাতে পারছে না বা চাচ্ছে না। চায়না ৬ বছর আগে যে ঘটনা ঘটেছে সেরকম একটি ঘটনার আবার পুনরাবৃত্তি ঘটুক।আবার কোন ঝামেলা হোক যা শেষ হয়ে গেছে তা একেবারেই নির্মূলেই শেষ করে দিতে চায় সিয়াম।
মেঘলা ও শ্রাবণ ভাইয়ের বিয়ে হয়েও সংসার হলো না । শ্রাবণ ভাই মেনে নিল না সেখানে নতুন করে চাচাতো বোনের সাথে কোনোভাবেই জড়াতে চায়না সিয়াম।
রাতে রুমে শুয়ে শুয়ে মেঘলা চিন্তা করছে পুতুলের কানে কি কি কথা বলে রেকর্ডিং করবে ?মনে মনে ভাবল ।হঠাৎ কিছু একটা ভেবে দেখলো রুমে এখনো লামিয়া আপু ঢোকেনি তাই চুপচাপ পুতুলের সামনে গিয়ে ধীরে ধীরে বললো,” জানিস বিম্বু আমার না শ্রাবণ ভাইকে দেখলে অনেক সুন্দর লাগে ।দেখলে শুধু তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করে ।আচ্ছা একটা ছেলে মানুষ এত সুন্দর কি করে হয় বলতো ?পায়ের পাতা থেকে শুরু করে মাথার চুল পর্যন্ত অদ্ভুত সুন্দর ।আমি তো সবই দেখেছি আমার কাছে সবই ভালো লাগে।”
বলেই সাথে সাথে এদিক-ওদিক তাকিয়ে আবার নিজের রেকর্ডিংটা শুনতে লাগল ।নিজে রেকর্ডিং শুনে নিজেই লজ্জা পেয়ে গেল।
এমন সময় ভিতরে প্রবেশ করলো লামিয়া ।সাথে সাথে রেকর্ডিং টি অফ করে দিল ।ডিলিট করার কথা ভুলেই গেল ।মেঘলা চিন্তা করল পরে ডিলিট করে দিবে।
দুজন বিছানায় শুয়ে গল্প করছে ।লামিয়া বললো,” আচ্ছা রনি ছেলেটা কেরে ?তোর দিকে কেমন ড্যাব ড্যাব করে চেয়ে থাকে?”
মেঘলা বললো,” ড্যাবড্যাব করে মানে ?ডেব ডেপ করে আবার কিভাবে তাকায় ?ছোটবেলা থেকে তো দেখছে।কখনো তো ড্যাব ড্যাব করে তাকাতে দেখলাম না?”
লামিয়া বললো,” গাধী ট্যাব ট্যাব করে মানে এক দৃষ্টিতে মুগ্ধ নয়নে তোর দিকে তাকিয়ে থাকে ।আমি কিন্তু খেয়াল করেছি ব্যাপারটা।”
মেঘলা হেসে বললো,” তাই এক দৃষ্টিতে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে থাকলে কি হয় ?”
লামিয়া বললো,” ও তোকে পছন্দ করে মিলিয়ে নিস ।আমি ১০০% শিওর ও তোকে পছন্দ করে।”
সাথে সাথে মেঘলার মনে পড়ে গেল মেঘলা ওতো শ্রাবণ ভাইয়ের দিকে যখনই দেখে একদৃষ্টিতে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে থাকে ।তাহলে কি মেঘলা ও অবচেতন মনে পছন্দ করে শ্রাবণ ভাইয়াকে? তখনই ভাবলো ,”না ছি ছি উনি তো আমার চাচাতো ভাই হয় ।বড় ভাই হয় ।সব সময় বড় ভাইয়ের মত শাসন করে ।উনি যদি শুনতে পারেন এই কথা আমি মনের মধ্যে একবার ভেবেছি উনি আমার মনের মধ্যে লবণ মরিচ লাগিয়ে দিবে।”
তাই সাথে সাথে বলে উঠলো ,”না আপু তাকিয়ে থাকলে ভালোবাসা হয়না ।পছন্দ করা হয় না ।তুমি ভুল মনে করেছো ।ঘুমাও ।”
বলেই লামিয়া কে ধরে ঘুমিয়ে গেল মেঘলা।
লামিয়া চোখ বন্ধ করলেও ভাবতে থাকলো শুধু সিয়ামকে ।সিয়াম ওকে এক নজর দেখেও না কিন্তু লামিয়া তো দেখে এইভাবে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে থাকে।
মেঘলা সব সময় সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে ।আজও তার ব্যতিক্রম হলো না ।তানিয়া অ্যালার্ম সেট করে রেখেছে সবাই ঘুম থেকে ওঠার আগে মেঘলার সাথে কথা বলবে ।তাই যেমন চিন্তা তেমন কাজ ।মেঘলা ঘুম থেকে উঠেছে বুঝতে পেরেই তানিয়া রুম থেকে বের হল ।দেখল মেঘলা বাহিরের দিকে যাচ্ছে।
সাথে সাথে তানিয়া পিছন থেকে মেঘলা নাম নিয়ে ডাকলো ।মেঘলা দাড়িয়ে গেল । বললো,” জি আপু ডেকেছেন ?”
তানিয়া বললো,” হ্যাঁ তোমার সাথে একটু কথা আছে ।”
মেঘলা বললো,” ঠিক আছে বলুন ।”
তানিয়া এদিক ওদিক তাকিয়ে বললো,” দরজার বাইরে চল বাহিরে দাড়িয়ে কথা বলি।”
সুজন মেইন গেটের বাহিরে এসে দাঁড়ালো ।তানিয়া মেঘলার দিকে তাকিয়ে বললো,” আমি কে ?তোমার কি মনে হয় ?”
মেঘলা বললো,” শ্রাবণ ভাইয়ার বন্ধু ।”
তানিয়া বললো,” শুধু বন্ধু ?”
মেঘলা যেন এবার বুঝতে পারলো । বললো,” না হয়তো আপনাদের বিয়ে হবে।”
তানিয়া বললো,” তুমি শ্রাবণের থেকে একটু দূরত্ব বজায় রেখো কেমন ?যদিও আমরা সবাই জানি তুমি ওর চাচাতো বোন কিন্তু আপন বোনতো না ।লামিয়ার মত না ।তাই আমি চাইনা বাহিরের কেউ দেখে এটা নিয়ে কথা বলুক। যেহেতু কিছুদিন পর শ্রাবণের সাথে আমার বিয়ে তাই তুমি ওর থেকে একটু দূরত্ব বজায় রাখবে।”
মেঘলা সাথে সাথে চোখ তুলে তাকালো তানিয়ার দিকে ।কি বলতে চাইলো তানিয়া আপু?মেঘলা যেন বোঝার চেষ্টা করছে !
চলবে_
শ্রাবণমেঘেরদিনে
neela_rahman #romance #familytime
পর্ব ২৪
মেঘলা তানিয়ার কথাগুলো শুনে সকাল-সকাল বাহিরে গিয়ে শিউলি ফুলের গাছের নিচে চুপচাপ এসে বসে রইল। কেমন যেন লাগছে মেঘলার। তানিয়ার কথাগুলো শুনে নিজেকে নিজে আর ধরে রাখতে পারছে না বারবার কান্না পাচ্ছে ।কি মিন করে কথাগুলো বলেছে তানিয়া আপু ?এমন কি বা দেখেছে বা শুনেছে যার জন্য এসব ধরনের কথাগুলো বলল? মেঘলা তো ভাইয়া বলে ডাকে। ভাইয়া বলেই মিশে।
চোখ দিয়ে গর গরিয়ে পানি পড়ছে মেঘলার ।মেঘলা নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি ।দু হাতের পিঠ দিয়ে চোখে পানি গুলো মুছল। মিশবে না আর আগের মত যাবে না ওনার সামনে ।তারপরও মেঘলা কারো কোন কথা শুনতে চায় না? কি মনে করেছে মেঘলা ছোট তাই মেঘলা কোন আত্মসম্মান নেই ?মেঘলার আত্মসম্মান আছে তাই যাবে না এই লোকের সামনে আর।
সকাল ৯ টা সবাই যার যার মতো ঘুম থেকে উঠে নিচে চলে এসেছে ।শ্রাবণ ও নিচে এসেছে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে ।কিন্তু কোথাও মেঘলা কে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।
অনেকক্ষণ এদিক-ওদিক তাকিয়ে লামিয়ার দিকে তাকিয়ে শ্রাবণ বললো,” কিরে মেঘলা কই ?সবাই এখানে আছিস মেঘলা কোথায় ?”
লামিয়া বললো,” ও তো সকাল-সকাল ঘুম থেকে উঠে কোথায় যেন চলে গিয়েছে ।আর দেখিনি।”
রাফি বললো,” আমিও দেখিনি পুরো বাড়ি খুঁজে ফেলেছি কোথাও মেঘলা কে পাচ্ছি না।”
সাবিহা সুলতানা বললেন ,”রাফি বাবা দেখতো শিউলি গাছ তলায় আছে কিনা ?ওকে তো খুঁজে না পেলে সেখানে খুজে পাওয়া যায় ওইখানেই বসে থাকে।গিয়ে দেখ একা একা হয়তো এখানেই বসে আছে।”
রাফি বের হবে এমন সময় শ্রাবণ বললো,” চল আমিও গিয়ে দেখে আসছি।”তারপর দুই ভাই মিলে মেঘলাকে খুঁজতে বের হলো
কিছু দূর হাঁটতে হাঁটতে এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতেই সত্যি সত্যি শিউলি ফুল গাছের নিচে পেয়ে গেল মেঘলা কে ।মেঘলা দু হাটু ভাঁজ করে দুহাত দিয়ে হাঁটু জোড়া ধরে বসে আছে শিউলি ফুল গাছের নিচে।
রাফি মেঘলাকে দেখে সাথে সাথে মেঘলা বলে চিৎকার দিয়ে উঠলো ।যেন রাফির কলিজাটা উড়ে যাচ্ছিল মেঘলাকে না পেয়ে ।দৌড়ে গিয়ে মেঘলা কাছাকাছি বসে হাঁপাতে হাঁপাতে বললো,” কোথায় ছিলে তুমি ?সকাল থেকে তোমাকে খুঁজছি।”
শ্রাবণ ধীরে ধীরে হেটে হেঁটে আসছে ।মেঘলা চোখ দেখলেই যে কেউ বুঝতে পারবে কিছুক্ষণ আগে হয়তো কেঁদেছে মেঘলা ।রাফি তেমন কিছু একটা না বুঝলেও বললো,” তোমার কি হয়েছে চেহারা এমন লাগছে কেন?”
সাথে সাথে মেঘলা চোখগুলো সুন্দর করে মুছে ঠিক করে নিয়ে হেসে হেসে বললো,” কই কি হয়েছে? কুয়াশা পড়েছে হয়তো শীতে এরকম লাগছে ।অনেকদিন ধরে এখানে বসি না তো মিস করছিলাম ।তাই এখানে বসে বসে আগের কথাগুলো মনে করছিলাম।”
এমন সময় শ্রাবণ সামনে এসে দাঁড়াতেই মেঘলা থতমত খেয়ে গেল। রাফিকে কিছু একটা দিয়ে বুঝানো গেল বড়দের বোঝানো সম্ভব নয় তাই চোখ সরিয়ে সাথে সাথে উঠে দাঁড়িয়ে বললো,” চলো ভিতরে যাই ।”
বলেই রাফির হাত ধরে ভিতরে দিকে চলে গেল মেঘলা।
শ্রাবণের চোখে চোখ রাখলো না ।মুখোমুখিও হলো না ।চুপচাপ ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল বাড়ির দিকে ।শ্রাবণ অবাক হয়ে গেল ।গতকাল রাতেও তো হেসে হেসে কথা বলছিল মেঘলা আজ এমন কি হল এরকম ওর থেকে লুকিয়ে কেন চলে গেল?
শ্রাবণ ও মেঘলা দের পিছনে পিছনে হেঁটে বাড়িতে চলে এলো ।সবাই একসাথে নাস্তা শেষ করে বসে রইল উঠানের রোদে।
সাজ্জাদ খান চা খেতে খেতে জিজ্ঞেস করলেন ,”আর কয়দিন থাকবে এখানে ?”শ্রাবণ বললো ,”আর দুই তিন দিন থাকবো ভালো লাগছে আমার এবার। “
সাবিহা সুলতানা বললেন ,”তাহলে আগামীকাল সকালে পিঠার আয়োজন করতে চাচ্ছি। কে কি পিঠা খান সবাই আমাকে বলবেন ।আগামীকাল সকালে খেজুর গুড়ের রস দিয়ে পায়েস রান্না করবো আর খেজুর গুড় দিয়ে পিঠা তৈরি করবো।”
রাফি ও লামিয়া চিৎকার করে বলে উঠলো ,”খুব মজা হবে ।শহরের বাড়িতে তো তাজা তাজা খেজুরের রস দিয়ে কখনোই পায়েস খাইনি ।এবার খেয়ে দেখব কেমন লাগে?”
সাজ্জাদ খান বললেন শহিদুল খানের দিকে তাকিয়ে ,”তাহলে ভাই জান কালকে সকাল ভোরবেলা আমি চলে যাচ্ছি রস আনার জন্য ।”
সাথে সাথে শ্রাবণ বললো,”ছোট আব্বু তোমার যেতে হবে না ।কোথায় যেতে হবে আমাদের বলো এই বাচ্চা পার্টি নিয়ে আমি যাব যেয়ে তাজা তাজা গাছ থেকে রস পেড়ে খাব আর বাড়ির জন্য নিয়ে আসবো।”
রাফি ও লামিয়া খুশিতে লাফ দিয়ে উঠলো । বললো,” জীবনে প্রথম গাছ থেকে পেড়ে রস খাবো ওয়াও খুব মজা হবে ।”
সিয়াম বললো,” আচ্ছা ঠিক আছে ভাইয়া আমি আপনাকে চিনিয়ে নিয়ে যাব। তবে সকাল ৪ টা ৪:৩০ টার দিকেই বের হতে হবে না হলে সব আগেই বিক্রি হয়ে যায়।”
শ্রাবন বললো,”ঠিক আছে তাহলে বাচ্চা পার্টি সকাল চারটার মধ্যে সবাই রেডি হয়ে থাকবে ।”
ঠিক তখনই মেঘলা বলে উঠলো ,”আমি যাব না আমার ভালো লাগছে না ।”
সাথে সাথে শ্রাবণ বললো,” সবাই যাবে মানে তুইও যাবি ।কোন না শুনতে চাই না ।”
মেঘলা বললো ,”আমি যাব না ভাইয়া।শরীর ভালো লাগছে না।”
শহিদুল খান তাকালেন মেঘলার দিকে ।মেঘলা চেহারাটা কেমন বিষন্ন লাগছে ।অসুস্থতার জন্য নয় কোন কারণে কি মন খারাপ মেঘলার ?মনে মনে ভাবতে লাগলেন শহিদুল খান ।
এদিকে সাজ্জাদ খান মেঘলার মাথায় হাত রেখে বললেন ,”কি হয়েছে মা যাবে না কেন?”
মেঘলা বললো,” শরীর ভালো লাগছে না বাবা তাই এত সকালে শীতের মধ্যে আর বের হব না ।”
বলেই উঠে চুপচাপ নিজের রুমে চলে গেল।
শহিদুল খান বুঝতে পারছে না এই মেয়ে তো সবসময় ভোরবেলা উঠে আর এসবের দিকে তো খুব ঝোঁক মেয়েটার ।ঘুরাঘুরি এসবের দিকে খুব নেশা।তবে আজ কেন যেতে চাইছে না ?কিছু কি হয়েছে ?মনে মনে ভাবলো সাজ্জাদ খান।
শ্রাবন চুপচাপ চোয়াল শক্ত করে বসে রইল ।মেঘলার ওর মুখের উপরে না বলা আর সকালবেলা ওকে এইভাবে উপেক্ষা করে চলে আসা কোনভাবে মানতে পারছে না শ্রাবণ।
দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর সবাই যার যার রুমে ঘুমাচ্ছে ।সাবিহা সুলতানা ও আসমা বেগম গিয়েছে পাশের বাড়িতে ।এক বাড়িতে খেজুরের গুড় বিক্রি করে সেগুলো আনতে ।শহিদুল খান সাজ্জাদ খান বাজারে গিয়েছে ।এত বছর পর গ্রামে এসেছে তাই বাজারে একটু পরিচিত লোকদের সাথে আড্ডা মা*রার জন্য ।রাফি নিজের রুমে ঘুমাচ্ছে ।সিয়াম একটু বাইরে গিয়েছে। তানিয়া ও নিজের রুমে শুয়ে ছিল ।ঘরে শুধু লামিয়া ও মেঘলা ।শ্রাবণ লামিয়া দের রুমের বাইরে এসে দরজার নক করল ।দেখলো লামিয়া ও মেঘলা ভিতরে শুয়ে আছে ।শ্রাবণ মেঘলা দিকে তাকিয়ে বললো,” আমার একটু মেঘলা সাথে কথা আছে ।লামিয়া আমার জন্য একটু কফি করে নিয়ে আয়।”
সাথে সাথে মেঘলা বিছানায় উঠে বসলো ।লামিয়া জি ভাইয়া আচ্ছা বলে শ্রাবণের জন্য কফি তৈরি করতে গেল।
মেঘলা ইতস্তত বোধ করছে বিছানা বসেই থাকবে নাকি নামবে? কিছু বুঝে উঠতে পারছে না শ্রাবণ। বিছানার কাছে এসে বসলো ।বসে বললো,” কি হয়েছে ?তুই আমার থেকে এভাবে চোখ লুকাচ্ছিস কেন ?আর সকাল বেলা আমাকে দেখেও না দেখার ভান করলি কেন?”
মেঘলা বললো,” কিছু না তো ভাইয়া। কি হবে ?”
শ্রাবণ বললো,” কাল সকালে যাবি না কেন ?”মেঘলা বললো,” আমার শরীর ভালো লাগছে না তাই।”
শ্রাবণ বললো ,”কি হয়েছে ?আমার মনে হচ্ছে কিছু একটা হয়েছে তুই কিছু একটা গোপন করছিস।”
শ্রাবণ একটু পর পর শীতের জন্য চা কফি খায় তাই পানি গরম দেওয়াই থাকে ।বেশি সময় লাগলো না পাঁচ মিনিটের মধ্যেই লামিয়া কফি নিয়ে রুমে এসে পড়ল ।শ্রাবণ আর কথা বাড়ালো না। সাথে সাথে টপিক চেঞ্জ করে বললো,” সকালে রেডি থাকিস।”
মেঘলা চুপ করে রইলো।আগামীকাল সকালে কি কি করবে কিভাবে রস পারবে লামিয়ার সাথে আর মেঘলা সাথে বসে গল্প করতে লাগলো ।চোখ জোড়া নিবন্ধ মেঘলা দিকে ।দেখছে মেঘলার কোন ব্যাপারে উৎসাহ নেই। মনে মনে ভাবছে শ্রাবণ কি এমন হয়ে গেল গতকাল রাতেও কতটা উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে শ্রাবণের সাথে কথা বলেছিল ।কিন্তু সকাল হতে যেন মেঘলা পুরোপুরি চেঞ্জ হয়ে গেছে ।কি এমন হতে পারে যা শ্রাবণ জানে না।
তবে যাই হোক মেঘলার এরকম শ্রাবণকে উপেক্ষা করা শ্রাবণের দিকে না তাকানো শ্রাবণের একটুও ভালো লাগছে না ।কেমন যেন অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে।
শ্রাবণ কফিটা খেয়ে চুপচাপ নিজের রুমে চলে গেল ।এদিকে তানিয়া নিজের রুমে দরজার কাছাকাছি ছিল ।শ্রাবণ দেখতে পারেনি ।কিন্তু তানিয়া লক্ষ্য করেছে শ্রাবণ লামিয়া ও মেঘলাদের রুম থেকেই বের হল।
তানিয়া মনে মনে ভয় পাচ্ছে মেঘলা কি সবকিছু বলে দিবে নাকি শ্রাবণকে ?যদিও শ্রাবণ বা
অন্য কেও যদি জানতে পারে তখন নিশ্চয়ই এটি ভালোভাবে নিবে না।
যদিও তানিয়া মেঘলাকে বারণ করে দিয়েছিল এই ব্যাপারে কারো সাথে কথা বলার জন্য।
সন্ধ্যা সাতটা শ্রাবণ সিয়ামকে নিয়ে একটু বের হয়েছে বাহিরে ।একটু দূরে সামনে দোকান আছে সেখান থেকে বাচ্চাদের জন্য কিছু চিপস স্ন্যাকস নিয়ে আসবে এবং নিজের জন্য সি*গারেটের প্যাকেট নিয়ে আসবে।
মেঘলা এই ফাঁকে একটু ছাদে যেতে চাইছে মন খারাপ হলে মেঘলা ছাদে যেয়ে একটু দোলনায় বসে ।কিন্তু শ্রাবণ ভাইয়ার জন্য এই দুদিন ছাদে যেতে পারছে না। এই সুযোগে একটু ছাদে গেল মেঘলা ।কিছুক্ষণ পর শ্রাবণ এবং সিয়াম বাসায় ফিরলো ।সিয়াম নিজের রুমে চলে গেলে শ্রাবণ ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল ছাদে নিজের রুমের দিকে।
শ্রাবণ জানে না মেঘলা ছাদে। শ্রাবণ ছাদের রেলিং এর কাছে ঘেঁষে দাঁড়িয়েই প্যাকেট থেকে একটি সিগারেট বের করে সিগারেট ধরালো ।আকাশের দিকে তাকিয়ে সি*গারেটের ধোঁয়া ছুড়তে লাগলো।
চলবে__
Share On:
TAGS: নীলা রহমান, শ্রাবণ মেঘের দিনে
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ১৪৮+১৪৯+১৫০
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৬৬
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ৪০
-
এক শ্রাবণ মেঘের দিনে পর্ব ৩
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৬৫
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ১৩৩+১৩৪
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ১৪১+১৪২
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৩৯
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৬
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ২৭+২৮