শেষপাতায়সূচনা [৩০]
সাদিয়াসুলতানামনি
মি.শেখ ফোন হাতে ধরে হতভম্ব হয়ে বসে আছেন। তার মা যে তার ছেলেকে নিয়ে এমন কিছু ভাবছেন সেটা সে কল্পনাও করেনি। সে অবাক গলায় বিছানায় শুয়ে থাকা তার মা’কে জিজ্ঞেস করে–
—মা তুমি জাওয়াদের দ্বিতীয়বার বিয়ে করার কথা বলার জন্য ডেকেছিলে ওকে?
হাসনা বেগমের বয়স আশি বছরের কাছাকাছি হলেও এখন বেশ ভালোই আছেন। বয়সের কারণে নানান অসুখ-বিসুখ শরীরে বাসা বাঁধলেও তেমন একটা কাবু করতে পারেনি। তার ভয়ে এখনও তার চার ছেলেমেয়ে কাঁপে। বৃদ্ধা খ্যাকখ্যাক করে বলে–
—হুম, তো কি হয়েছে? কি এমন বয়স হয়েছে আমার কালা মানিকের যে সে দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবে না? শুন না নিয়াজ, আমার কালা মানিকের জন্য শরীফের শালার বড় মেয়েকে পছন্দ করেছি আমি। জাওয়াদেরও তো একবার বিয়ে হইছে আগে, অহনারও তাই। তাই এই বিয়ে করতে সমস্যা হবে না আশা করি।
নিয়াজ শেখ চোখ বড় বড় করে অবাক কণ্ঠে বলে–
—মিয়া ভাইয়ের শালার বড় মেয়ে মানে ঐ অহনা। যার একবার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর তালাক হয়েছে ওর আচার-আচরণ খারাপ দেখে।
—হুম।
মি.শেখ আর মিসেস শেখ এতটা হতভম্ব হয়ে যান হাসনা বেগমের কথা শুনে যে, তারা কোন প্রতিক্রিয়া দেখাতেও ভুলে যান। হ্যাঁ, মানছে তাদের ছেলেও বিবাহিত এবং এক বাচ্চার বাবা। তাই বলে হাসনা বেগম এমন এক মেয়ের সম্বন্ধ নিয়ে আসবেন যার আচার-আচরণ, চরিত্র কোনটাই ঠিক নেই।
অহনা মেয়েটার তালাক হয়েছে শুধু শ্বশুড় বাড়িথে তার খারাপ আচরণের জন্যই নয়, বরং তার নাকি অন্য জায়গায় সম্পর্কও ছিলো। সেই ছেলে নেশাখোর বলে জোর করে তাকে বিয়ে দেওয়া হয় অন্য জায়গায়। কিন্তু বিয়ের পরও স্বামীর সংসারে প্রায়শই অশান্তি করে ইচ্ছে করে তালাক নিয়েছে নিজের প্রেমিককে বিয়ে করার জন্য। কিন্তু তার প্রেমিক বিয়ে তো দূরের থাক জনসম্মুখে স্বীকারই করেনি তার সাথে সম্পর্কের কথা । অহনা এখন পরেছে মাঝ সমুদ্রে। শ্বশুর বাড়ির পথ চিরতরে বন্ধ করেছে সে নিজেই, বাপের বাড়িও আছে বহু লাঞ্চনা-গঞ্জনা সহ্য করে। মেয়েটা দেখতে সুন্দর হলেও, চরিত্রের দোষ এত কিছুর পরও যায়নি।
মি.শেখ নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে তারপর মুখ খুলেন। সে স্ত্রীকে কঠোর গলায় আদেশ দেন–
—জাওয়াদের মা, জিনিয়াকে গিয়ে বলো গোছগাছ করে নিতে। কাল সকাল হলেই আমরা বের হবো ঢাকার উদ্দেশ্যে।
মিসেস শেখ স্বামীর গম্ভীর মুখ দেখে বিনা বাক্য ব্যয়ে চলে যান নিজেদের রুমে। তার স্বামী যে রেগে গিয়েছেন সেটা সে খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে। তাই সে আর কথা বাড়ায় না। মিসেস শেখ চলে যাওয়ার পর রুমে বাকি তাকে হাসনা বেগম, তার বড় ছেলে শরীফ শেখ, তার স্ত্রী, নিয়াজ শেখ আর তাদের ছোট ভাই আকরাম শেখ।
নিয়াজ সাহেব বসা থেকে উঠে চলে যেতে নিলে, হাসনা বেগম তার পেছন ডেকে বলে–
—কি রে নিয়াজ, কিছু বললি না যে বিয়ে সম্পর্কে। আমি কি বড় বউয়ের বাপের বাড়ি খবর পাঠামু জাওয়াদের জন্য?
নিয়াজ শেখ হাঁটা থামিয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলেন–
—একটু আগে জাওয়াদের সাথে কথা বললাম, দেখলেই তো। মনে হয় কিছুটা শুনেওছো। জাওয়াদ সাফ সাফ বলে দিয়েছে, সে তার স্ত্রী ব্যতীত আর কোন নারীকে নিজের জীবনে গ্রহণ করতে না পত্নী রূপে। তোমার কি মনে হয় মা, এরপর আর কোন কথা বাকি থাকে?
হাসনা বেগম ভ্রু কুঁচকে তাচ্ছিল্য করে বলেন–
—ও বললেই হলো নাকি? তুই, আমি ওর গার্জিয়ান। আমরা যা বলবো তা করতে ও বাধ্য।
—তোমার কথা সঠিক মা। সন্তানরা তার বাবা-মা এবং বড়দের কথা শুনতে বাধ্য, কিন্তু সেটারও একটা সময় থাকে। সেই সময় অতিক্রম করার পর আর এই জোর খাটে না। তোমার কি মনে হয়, আমার পঁয়ত্রিশ বছরের ছেলের উপর এই জোর খাটবে? ধরো কসম-টসম দিয়ে বিয়েও দিয়ে দেই, তাহলে আমার ছেলে সুখী হবে? আমি তোমায় লিখে দিতে পারি, ও কখনোই সুখী হবে না এই বিয়েতে।
আচ্ছা ওকে অসুখী দেখে তুমি শান্তি পাবে তো? নাকি আমরা পাবো? এমনতেই আমার ছেলের জীবনটা কেমন ছন্নছাড়া হয়েছে গিয়েছে, তার উপর দয়া করে এমন সব কথা তুলো না। আমার সুখের পরিবারটা ভেসে গিয়েছে মা, দোয়া করো সেটা যাতে উপরওয়ালা জোড়া লাগিয়ে দেয়। আমাকে না জানিয়ে অনুগ্রহ করে এসব পরিকল্পনা করো না।
আর হ্যাঁ, এসব বলার জন্যই যদি আবার ডাকো তাহলে এবার আমার পক্ষ থেকেও কোন সাড়া পাবে না। আসছি। কাল ভোরের ট্রেনে রওনা হবো আমরা।
কথাগুলো বলে মি.শেখ চোখে পানি নিয়েই চলে যান। মায়ের সাথে এমনভাবে কথা বলতে তার একটুও ভালো লাগেনি। কিন্তু তারা সবটা জানার পরও এমন চিন্তাভাবনা করছে দেখে সে মানসিকভাবে আরো ভেঙে পরেছেন।
রাত পেরিয়ে নতুন দিনের আগমন ঘটে। অতিরিক্ত ক্ষুধার তাড়নায় পূর্ণতার ঘুম ভেঙে যায়। চোখ খুলতেই তার বিড়ালছানা রূপী ছেলেকে নিজের বুকেই গুটিশুটি হয়ে ঘুমিয়ে থাকতে পায়। গভীর ঘুমে বিভোর তাজওয়াদ। এত আদুরে একটা বাচ্চা তার ছেলেটা, কানাডায় প্রায়শই তার প্রতিবেশীরা তাজওয়াদকে আদর করতে তার বাসায় আসত। তখন অনেকেই জানতে চাইত তাজওয়াদের বাবা নিশ্চয়ই অনেক হ্যান্ডসাম আর দেখতে সুন্দর। তাই তে বাবা-মায়ের রূপের সংমিশ্রণে তাজওয়াদও এত সুন্দর হয়েছে। কিন্তু পূর্ণতা এক্ষেত্রে বরাবরই নিরবতা অবলম্বন করত।
পূর্ণতা ছেলেকে আস্তে করে বালিশে শুয়ে দিয়ে শোয়া থেকে উঠে বসে। এলোমেলো চুলগুলো খোঁপায় গুজে নিয়ে বেড ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। কাল রাত দুইটার দিকে বাসায় এসেছে তারা। এসেই ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পরেছে। রাত নয়টায় হালকা পাতলা খাবার খেয়েছিলো বলে ফিরে আর কিছু খায়নি, কিন্তু এখন তার প্রচন্ড ক্ষুধা পেয়েছে। আগের মতো ক্ষুধা পেলে সহ্য করে থাকতে পারে না, মাথা ঘুরাতে শুরু করে, হাত-পা কাঁপতে থাকে। এসবই হচ্ছে তার প্রেগ্ন্যাসির পর থেকে। ট্রিটমেন্ট নেওয়ার কারণে তার হেল্থ কন্ডিশন আগের থেকে ভালো হলেও বেশি স্ট্রেস নিলেই অসুস্থ হয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে ব্যাক করে কেমন অসুস্থ বোধ হচ্ছে। জাওয়াদ ও তার পরিবারের টেনশনে মেয়েটা সবসময় তটস্থ থাকে। একমাত্র বেঁচে থাকার অবলম্বনকে যাতে তার অতীত কোন ক্ষতি বা তার থেকে কেড়ে নিতে না পারে এর জন্য কত শারীরিক ও মানসিক যুদ্ধ লড়তে হচ্ছে। জীবনের এই পর্যায়ে এসে মনে হচ্ছে, সে প্রচন্ড ক্লান্ত। জীবনটা তার জন্য অনেক ভারী মনে হচ্ছে।
কি হতো, যদি জাওয়াদ আর তার একটা সুখের সংসার হতো? বিয়ের প্রথম দিনগুলোর মতোই সব থাকত। জাওয়াদ ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরত আর সে তেলমশলা মাখানো হাতে তার এজন্য এক গ্লাস সরবত এনে তার হাতে ধরিয়ে দিতো। জাওয়াদের কপালে লেপ্টে থাকা ক্লান্তির ঘাম সযত্নে মুছিয়ে দিতো আচলের কোণা দিয়ে। রাতে সকলে একসাথে আসে ডিনার করত, ডিনার শেষে অল্পস্বল্প গল্পগুজব করে ঘুমাতে যেতো। কয়েকবছর পর তাজওয়াদ আসত তাদের সংসারে। সে একটু একটু করে বড় হতো।
পূর্ণতার মনে প্রশ্ন জাগে, আচ্ছা তাদের মধ্যে যদি সব স্বাভাবিক থাকত আর জাওয়াদ তার প্রেগ্ন্যাসির কথা জানতে পারত তাহলে কি করত? সে কি খুশি হতো? তাকে জড়িয়ে ধরে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করত? নাকি সবসময়ের মতো গম্ভীর মুখ করে থাকত? তাজওয়াদ জন্মগ্রহণ করার পর জাওয়াদ তাকে প্রথমবার কোলে নিয়ে কি খুশির অশ্রু ঝরাতো? নাকি তখনও শুধুই গোমড়া মুখ করে রাখত?
সকাল তখন বেশি না। বেলকনিতে আসার আগে দেওয়াল ঘড়িতে চোখ বুলিয়েছিল। তখন দেখেছিল মাত্র সাতটা বাজে। এখনও তেমন একটা মানুষ উঠেনি ঘুম থেকে। পরিষ্কার আকাশে পাখিদের কিচিরমিচির করে উড়ে যেতে দেখতে তার বড়ই ভালো লাগে। সে আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবে, মিসেস শেখ একটু কষ্ট করে হলেও তাকে মেনে নিতো, তাহলে আজ তার ভাবনাগুলো বোধহয় বাস্তবতার মুখ দেখত। কোনকিছুই হতো, পারত, দেখত শব্দ গুলোতে আঁটকে থাকত না। সে তো মিসেস শেখকে নিজের মায়ের স্থানেই বসিয়ে ছিলো। নিজের মা’কে ছোট বেলায় হারানোর দরুন সে নিজের সবটা দিয়ে মিসেস শেখকে আপন করে নিয়েছিলো। কিন্তু…….
পূর্ণতা বুক চিঁড়ে দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে আসে। এসব ভাবনা বাদ দিয়ে সে রুমে এসে ওয়াশরুমে ঢুকে যায়। ফ্রেশ হয়ে এসে কিচেনে চলে যায়। মালতি কাকী অলরেডি নাস্তা বানানো শুরু করে দিয়েছে। তিনি এই বাড়ির অনেক পুরাতন কাজের লোক। প্রায় বাইশ বছর ধরে কাজ করছে তাদের বাড়িতে। তার স্বামী অকালে মা’রা যাওয়ায় কাকীর শ্বশুর বাড়ির লোকেরা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। নিঃসন্তান কাকী বাবার বাড়িতে গেলেও সেখানে ভাইয়েরা জায়গা দেয় না। এক দূরসম্পর্কের আত্নীয়র মাধ্যমে সে পূর্ণতাদের বাড়িতে কাজ পায়। তারপর থেকেই এখানে আছে আজ প্রায়ই বাইশ বছর।এর মধ্যে পূর্ণতার বাবা-চাচা মালতি কাকীর বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনিই করেন নি।
মালতি কাকী পূর্ণতাকে এত বছর পর দেখে অনেক ইমোশনাল হয়ে যায়। বেশ কিছুক্ষণ কান্নাকাটি করে তারপর শান্ত হোন। তারপর সে আর পূর্ণতা মিলে ব্রেকফাস্ট বানিয়ে টেবিলে পরিবেশন করে। পূর্ণতা খাবার সাজিয়ে নিজের রুমে চলে আসে। রুমে এসে দেখতে পায় তার বিড়ালাছানাটা এখন বেশ আয়েশ করে ঘুমাচ্ছে। পূর্ণতা গিয়ে তাজওয়াদের ঘুমটা ভাঙিয়ে দেয়। তাজওয়াদ ঘুম থেকে উঠে মায়ের সাথে কিছুক্ষণ খুনশুটি, দুষ্টুমি করে। তারপর পূর্ণতা তাকে ফ্রেশ করিয়ে রেডি হয়ে নিচে নেমে আসে।
এতক্ষণে তার বড় বাবা আহনাফ সাহেব, অজান্তা বেগম, আরিয়ান ও আঞ্জুমানও এসে বসে পরেছে ডাইনিং টেবিলে। পূর্ণতা খেয়াল করে দেখে আঞ্জুমান আরিয়ানের পাশে না বসে তার চেয়ারটাতে বসে যেখানে সে সবসময় বসে। তার চোয়াল শক্ত হয়ে যায় রাগে। সে আঞ্জুমানের সামনে এসে বলে–
—এটা আমার চেয়ার। উঠে অন্য চেয়ারে গিয়ে বসুন।
আঞ্জুমান কিছু বলতে নিবে তার আগেই মিসেস আহমেদ বলেন–
—তোর চেয়ার হয়েছে কি হয়েছে? দেখতে পাচ্ছিস না, আমার বউমা বসেছে ঐখানে। তুই না হয় কর্ণারের চেয়ারে বসে পর।
পূর্ণতা মিসেস আহমেদের কথা আমলে নেওয়া তো দূরে থাক, এমন একটা ভান করে যেনো সে শুনতেই পায়নি। সে সরাসরি তার ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলে–
—ভাইয়া আমার চেয়ার কি আমি খালি পাবো নাকি চলে যাবো?
পূর্ণতার চোখ-মুখ শক্ত থেকে আরিয়ান ঘাবড়ে যায়। এই মেয়ে এক নাম্বারের ঘাড়ত্যাড়া। আরিয়ান বেশ ভালো করেই জানে, পূর্ণতার চেয়ারে কেউ বসলে পূর্ণতা কতটা রেগে যায়। এই চেয়ার নিয়ে ছোটবেলায় কত ঝগড়া করেছে তারা দু’জন। এখন যদি রুহীকে না সরায় ঐ চেয়ার থেকে, দেখা গেলো আর কখনো বসলোই না ডাইনিং টেবিলে তাদের সাথে খেতে।
সে আঞ্জুমানকে বলে–
—রুহী ঐ চেয়ারটা ছেড়ে আমার পাশে এসে বসো।
আঞ্জুমান জায়গা ছাড়তে চায় না, কিন্তু স্বামী ও শ্বশুরের গম্ভীর মুখশ্রী দেখে কথা বাড়ায় না। কথায় কথা বাড়বে, এবং সেই কথাতেই যদি তার অতীত উঠে আসে তাহলে সে যে সফল হবে না নিজের উদ্দেশ্যে। আঞ্জুমান এমন একটা ভান করে যেন সে স্বামীর খুবই বাধ্যগত স্ত্রী আর এক অবলা মেয়ে। সে তার স্বামীর পাশে না বসে একে একে সকলের প্লেটে নাস্তা বেড়ে দিতে শুরু করে। নাস্তা বাড়তে বাড়তে বলে–
—আজকের নাস্তাটা আমার বানানো না হলে, মাং”সটা আমি রেঁধেছি।
পূর্ণতা ছেলেকে খাওয়াতে খাওয়াতে ভ্রু কুঁচকে নেয়। ভেবে পায় না এই মিথ্যুকের গোডাউন কখন মাংস রান্না করলো। সব রাঁধল তো সে আর মালতি কাকী। আহনাফ সাহেব খেতে খেতে বলেন–
—কিন্তু মাংসের তরকারিতে এমন ফোড়ন তো একমাত্র আমার পূর্ণতা মা দেয়।
আঞ্জুমান থতমত খেয়ে যায় এমন ধরা খেয়ে। সে কিছু বলবে তার আগেই তার ঢাল হয়ে দাঁড়ায় অজান্তা বেগম। সে মুখ কুঁচকে বলে–
—তোমার পূর্ণতা মা ছাড়া মনে হয় দুনিয়ার আর কেউ মাংসের তরকারিতে ফোড়ন দেয় না? তোমার যত্তসব আদিখ্যেতা!
মি.আহমেদ কিছু বলতে নিয়েও বলেন না। বলবেন পরে, একদম এক বলে ছক্কা হাঁকাবেন। সবাই আবার খেতে ব্যস্ত হয়ে যায়। খাওয়া শেষে সকলে উঠতে নিবে তখন পূর্ণতা বলে–
—বড় বাবা, আমি একটা কথা বলতে চাই।
—হ্যা বলো আম্মাজান।
—আমি অফিসে জয়েন করতে চাইছি কাল থেকে।
—তা তো ভালো কথা। তোমার জিনিস এতদিন আমরা পাহারাদার ছিলাম, এখন তুমি বুঝে নিলে আমরা টেনশন ফ্রি হই।
আরিয়ান শব্দ করে শ্বাস ফেলে বলে–
—যাক আলহামদুলিল্লাহ। এত বড় কোম্পানি সামলাতে গিয়ে অকালেই আমার সব চুল পরে যাচ্ছি। এবার আমি লম্বা একটা ছুটিতে যাবো।
মি.আহমেদ বলেন–
—তা বাপজান, তোমার বাপের কোম্পানি সামলাবে কে তুমি যদি ছুটিতে যাও? আমার বয়স তো বাড়ছে না কমছে, তাই না? তোমাদের রিসেপশনের পর থেকে আমার অফিসে গিয়ে বসবে। কথার যেন নড়চড় না হয়।
বাবার কথা শুনে আরিয়ান মুখটা স্যাড স্যাড করে নেয়। তাজওয়াদ তার স্যাড মুখ দেখে কপাল কুঁচকে নেয়। তার ছোট মস্তিষ্ক ভেবে নেয়, নানাভাই তার প্রিয় আলুমামাকে বকা দিয়েছে তাই আলু মামার মনটা স্যাড হয়ে গিয়েছে।
তাজওয়াদ আহনাফ সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলে–
—নানাভাই, তুমি আমাল আলুমামাকে বকচু কিনু? আলুমামার মনতা স্যাড স্যাড হয়ে গিয়েচে। একদম আমাল আলুমামাকে বকবে না।
আহনাফ সাহেব বুঝলো তা তার অনেক কথাই। আলুমামাটা আবার কে? সে জিজ্ঞেসই করে বসেন–
—তাজওয়াদ নানাভাই, আলুমামা কে আবার?
—কিনু তুমার চেলে। মাম্মামের বাই। ঐ যে উতা।
আঙুল দিয়ে আরিয়ানকে দেখিয়ে বলে তাজওয়াদ। পূর্ণতা তাদের বুঝাতে বলে–
—বড় বাবা, ভাইয়াকে সবাই আরু বলে না। বিয়েতে তাজকে কে জানি বলেছে ভাইয়াকে আরুমামা ডাকতে। ওর র’ উচ্চারণে সমস্যা হয়, তাই আরুকে আলু বানিয়ে দিয়েছে।
পূর্ণতার কথা শুনে সকলের কাছে বিষয়টা স্পষ্ট হয়। আহনাফ সাহেব উচ্চস্বরে হেঁসে দেন। অজান্তা বেগমও হাসেন আজ। ছেলেটা এত কিউট আর এত কিউট করে কথা বলে যে শুনবে তারই মুখে হাসি ফুটে উঠবে।
📌গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্পপ্রেমী বন্ধুদের কাছে পৌছে দিন।
শব্দসংখ্যা~১৯০০
~চলবে?
[সবাই একটা করে হলেও কমেন্ট করিয়েন, পেইজের রিচ হুট করে কমিয়ে দিয়েছে জুকার কাক্কু😞
ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। গঠনমূলক মন্তব্য করবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]
Share On:
TAGS: শেষ পাতায় সূচনা, সাদিয়া সুলতানা মনি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৪
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৮
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৬
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১০
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৭
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৫
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৯
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৪
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৬