শেষ পাতায় সূচনা [২৮]
সাদিয়াসুলতানামনি
—যাক আপদ বিদায় হলো। হ্যা রে ছোট, রাজুকে বলিস এই শুক্রবার আমাদের এলাকার মসজিদের হুজুরকে বাড়িতে আসতে বলতে। একটা মিলাদ দিয়ে সকল কালো ছায়া বাড়ির উপর থেকে সরাতে হবে। ডাইনি অবশেষে বিদায় হলো।
মাঝ দিয়ে ফোড়ন কেটে সেজো জা বলে ওঠে–
—যেই বড় ঘরে বিয়ে হয়েছে ঐ মুখপুরির। দেখো না কয়দিন সংসার করতে পারে। আমার তো মনে হয় ওর শ্বশুর বাড়ির কেউই ওর কীর্তিকলাপের কথা জানে না। জানলে এমন আজাবকে কি কেউ নিজেদের ঘরে নিতে চাইত। তারউপর একটা মেয়েকে এতিম করেছে, একজন মেয়ের সংসার ভেঙেছে, ওর জন্য জাওয়াদের স্ত্রী সন্তান আজ পাঁচ বছর ধরে আলাদা থাকছে। আমার তো এসব মনে পরলেই মন চায়, কবর দিয়ে ফেলি এমন মেয়েকে। আমার মেয়ে হলে তাই করতাম। নারী জাতির কলঙ্ক। আর শারমিনটাই বা কেমন মা? নিজের ছেলের বউকে এমন করে কেউ ভাগায়। জাওয়াদের পায়ের যোগ্য তার এই দুই টাকার ভাতিজি। সেই মেয়ে কত বড় ঘরের মেয়ে ছিল। রূপে, গুণে, ঐশ্বর্যে কোন অংশে কম ছিলো না। কিন্তু তার মন আটকালো এই মুখপুরির উপর। নিজের সাজানো সংসারটা ছাড়খাড় করে দিলো একেবারে।
—ঠিক বলেছিস সেজো। সেদিন হলুদে জাওয়াদের ছেলেটা আঞ্জুর বরের ভাই-বোনদের সাথে এসেছিল তো। বাচ্চাটার থেকে নজর ফেরানো দায়। জাওয়াদের গায়ের রংটা তো কালো, বাচ্চাটা কি দুধের মতো ফর্সা হয়েছে। নিশ্চয়ই মায়ের মতোই হয়েছে। কিছুটা ফেইস কাটিং জাওয়াদের সাথেও মিলে যায়। আহারে ওমন ফুলের মতো একটা বাচ্চার মুখ দেখলেই তো মন চায় বুকে টেনে আদর করতে। কিন্তু জাওয়াদের বউ নাকি ধরতেই দেয় না বাচ্চাকে। কাল বাচ্চাকে নিতে চেয়েছিল নাকি জাওয়াদ, ওর বউ সবার সামনে লাগিয়েছে এক চড়। ঠিকই আছে। দিবে কেন নিজের কষ্টের ধণকে? যখন মায়ের কথায় নেচে বউকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছিলি তখন মনে ছিলো না, আজ বাদে কাল বউ পোয়াতি হলে বাচ্চাটার কি হবে? এখন বাচ্চা বাচ্চা করে হেদিয়ে ম”রছিস কেন?
পাশ দিয়ে মেঝো জা বলে ওঠে–
—আরে ওরই বা দোষ কোথায়? জাওয়াদটা মায়ে নেওটা সেটা তো সবারই জানা। ওর মা’ই তো ওপর বউকে বের করতে কতকিছু করেছে, মনে নেই তোমাদের।
—তা বলেছিস। ভাইঝির জন্য এতকিছু করলো, এখন নিজের পেটের সন্তানরাই বছরের পর বছর চলে যায় কিন্তু মা বলে ডাকে না। মায়েরা চাইলে কিনা পারে? যেই মা সন্তানের সুখের জন্য হাসতে হাসতে বি”ষও গিলে নিতে পারে, সে সামান্য কথা না রাখতে পারত না? ও কি পারত না, ভাইঝিকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে অন্য কোথাও বিয়ে দিয়ে নিজের ছেলের বউটাকে নিয়ে সংসার করতে? এত কিছু করে কি হলো? তার এত আদুরে ভাইঝি তো ঠিকই আরেক জায়গায় বিয়ে করে নিলো। আমি তোদের বলে দিচ্ছি, এই মেয়ে ঐ ছেলেকে নিশ্চয়ই ফাসিয়েছে। নাহলে ওর কি যোগ্যতা আছে ওত বড় বাড়ির বউ হওয়ার? মাঝ দিয়ে শারমিনের একুলও গেলো, অকুলও গেলো।
বড় জা কথাটি শেষ করতেই অপর দুই জা হাসতে শুরু করে দেয়। অন্যদিকে চাচীদের এহন কথায় আঞ্জুমানের খারাপ লেগেও লাগে না। এসব তার সয়ে গিয়েছে এই পাঁচ বছরে। সে এসেছিলো শেষবারের মতো চাচীদের থেকে বিদায় নিতে। কি রান্নাঘরে প্রবেশের পূর্বেই এসকল কথাবার্তা তার কানে আসে আর তার পা ওখানেই থেমে যায়।
যেই আঞ্জুমান পাঁচ বছর আগেও সকলের নয়নের মনি ছিলো, সে আজ তাদের কাছে ডাইনির সমতূল্য। হবেই না বা কেনো? কাজগুলোই তো সে এমনই করেছে। পাঁচ বছর আগে সে তার ফুফুর সাথে মিলে ঐ জঘন্য কাজটার কথা যখন জানাজানি হলো, সবাই তার ফুফুকে যেমন কথা শুনিয়েছে তেমনই আঞ্জুমানকেও ছেড়ে দেয়নি। বিয়েটা যেমনই হোক, পূর্ণতা ওত বড় বাড়ি ছেড়ে এসে বেশ ভালোভাবেই মানিয়ে নিচ্ছিল জাওয়াদদের পরিবারে। কিন্তু তাদের ফুফু-ভাতিজির এমন ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের দরুণ মেয়েটা শ্বশুরালয় থেকে বিতারিত হলো তো সেই সাথে পরে জানা যায়, মেয়ের কষ্ট সইতে না পেরে তার বাবাও মারা গিয়েছে।
এসব শুনে জাওয়াদের বাবা পারে না লজ্জায়, ঘৃণায় মরে যেতে। শান্তশিষ্ট ভদ্রলোকটা সেবার এত রেগে গিয়েছিল যে, স্ত্রীকে পর্যন্ত ছেড়ে দিতে চেয়েছিল। তাকে বুঝাতে চেয়েছিল দেখ, অন্যায়ভাবে একজন মেয়ের সংসার ভেঙে দিলে কেমন লাগে। বেশ কয়েকমাস বাপের বাড়ি ফেলেও রেখেছিলেন, পরে অনেক কষ্টে জাওয়াদের দাদাবাড়ির সকলে ও তার নানাবাড়ির সকলে বুঝিয়েছেন মি.শেখকে। তারপর প্রায় এক বছরের কাছাকাছি সময় পর মিসেস শেখকে নিজের সংসারে নিয়ে গিয়েছে মি.শেখ।
বলে রাখা ভালো, জাওয়াদের দাদা আর তার নানা অতি ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তাই তো জাওয়াদের নানা নিজের একমাত্র মেয়েকে দূরে কোথাও বিয়ে দিবেন না ভেবে তার প্রাণপ্রিয় বন্ধুর ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে দেন। তাদের বাড়িও পাশাপাশি। মিসেস শেখ ছিলেন চার ভাইয়ের একমাত্র বোন। পরপর চারজন ছেলে হওয়ার পর তার বাবা-মা অনেক মান্নতের পর একটা মেয়ে সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। বাবা-মা ও চার ভাইয়ের আদরের দুলালি ছিলেন সে। মিসেস শেখের বেশি সখ্যতা ছিলো তার ছোট ভাইয়া অর্থাৎ আঞ্জুমানের মরহুম বাবার সাথে। সেই ভাইয়ের মৃত্যুর পর সে একপ্রকার পাগল হয়ে গিয়েছিল। ভাই মরে যাওয়ার একবছর পরই সে নিজের প্রিয় ভাইয়ের একমাত্র কন্যাকে নিজের কাছে রাখা জন্য তার ছেলের সাথে বিয়ে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তা আর হয়ে ওঠে না পূর্ণতার জন্য। মিসেস শেখ ভাইয়ের মেয়েকে দেওয়া প্রতিজ্ঞা পূরণ করতে গিয়ে এতটাই উন্মাদ হয়ে গিয়েছিলেন যে, নিজের ছেলেকে বিরহের আগুনে ঠেলে দিতেও কুণ্ঠিত হননি। কিন্তু সময়ের চাকা ঘুরে গিয়েছে।
আঞ্জুমান পা ঘুরিয়ে নিয়ে সেখান থেকে চলে আসে। বাড়ি বাকিদের থেকেও নামে মাত্র বিদায় নিয়ে আসে। সে প্রচন্ড অহংকারী একটা মেয়েতে পরিণত হয়েছে বর্তমানে। এই নামে মাত্র বিদায় নেওয়ার কারণ হলে আরিয়ান যাতে ওকে সন্দেহ না করে। আঞ্জুমানকে নিয়ে আরিয়ান বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতেই সবাই বড় করে হাফ ছাড়ে। যেনো কোন ঘোর কালো ছায়া থেকে মুক্তি পেলো তারা সকলেই।
—ম্যাম, মিসেস আরিয়ানের বাড়ির আশেপাশে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পেলাম মি. আরিয়ান ও তার ওয়াইফের বিয়েটা নাকি পারিবারিক ভাবেই হয়েছে। আবার কয়েকজন বললো মিসেস আরিয়ানের সাথে মি.আরিয়ানের রিলেশন ছিলো। দু’টো মতামতই ঐ এলাকায় বেশ কয়েকজনের থেকেই পেয়েছি।
কথাটা শুনে পূর্ণতার কপালের ভাজ গভীর হয়। তার শহুরে ভাই শহরের এত স্টাইলিশ, মর্ডান মেয়ে রেখে এমন অজপাড়াগাঁয়ের মেয়েকে কেন বিয়ে করলো? আর তার বড় মাও কি করে এমন মধ্যবিত্ত একটি ফ্যামিলির মেয়েকে নিজের পুত্রবধূ বানানোর জন্য প্রস্তাব দিলো? এটা কি আদৌও কি এরেঞ্জ ম্যারেজ ? বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। পূর্ণতা নিজের ভাবনায় বিভোর হয়ে যায়। তার ভাবনায় ছেদ পরে তার যক্ষের ধনের ডাকে। তাজ কার্টুন দেখা থেকে বিরত রেখে মা’কে বলে–
—মাম্মা, আ’ম কিন্ডা হাংগরি রাইট নাউ।
পূর্ণতা ছেলের কথা শুনে একটি চিন্তায় পরে যায়। তারা বর্তমানে হাইওয়েতে আছে। ঢাকায় ফিরছে সকলে। কোন রেস্টুরেন্টে বা দোকানও নেই। সে টনিকে জিজ্ঞেস করে–
—কোন রেস্টুরেন্ট বা হোটেল-মোটেল আছে আশেপাশে টনি দেখো তো জিপিএসে? তাজ সেই একটায় খেয়েছে, এখন পাঁচ টা বাজে। আমারও ক্ষুধা পেয়েছে।
টনি জিপিএসে দেখে বলে–
—ম্যাম আর দশ মিনিটের দূরত্বে একটা ছোট হোটেল আছে। ঐখানে গাড়ি রাখবো?
—রেখো।
তারা দশমিনিটের মাঝে সেই হোটেলে এসে পৌঁছায়। একটা সিটে ব্যাগ রেখে পূর্ণতা তাজওয়াদকে হোটেলের ওয়াশরুম থেকে চোখেমুখে পানি দিয়ে নিয়ে আসে। সে আসার পর টনিও গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসে। টনি আসার পর একজন ওয়েটার মেন্যু কার্ড এগিয়ে দেয় তাদের কাছে। পূর্ণতা বেছে বেছে কম তেল-ঝাল ওয়ালা খাবার অর্ডার দেয়। খাবারের মধ্যে সে সাদা ভাত, ডাল, চিংড়ি মাছের মালাইকারী এসব অর্ডার দেয় তাজওয়াদের জন্য। আর নিজেদের জন্য মাছ-ভাত নেয়। ওয়েটার চলে যেতেই পূর্ণতা টনিকে বলে—
—আমাদের নিয়ে তো টেনশন নেই, কিন্তু এই লাট সাহেবের আবার হোটেলের খাবার সহ্য হয়নি নাকি উপরওয়ালাই জানে। ফুড পয়জিনিং না হলেই হাজার শুকরিয়া। তুমি জানো, আমি লোহাও খেয়ে হজম করে নেওয়া পাবলিক, আর আমার পেট থেকে বের হয়েছে এক লাট সাহেব। সে এটা খাবে তো ওটা খাবে না, ওটা খাবে তো এটা খাবে না। কি একটা অবস্থা ভাবো একবার!
টনি তার কথা শুনে মিটমিটিয়ে হাসতে থাকে। অন্যদিকে তাজ কিছু কিছু বুঝতে পারে তার মায়ের কথা। তার টনি আঙ্কেলের কাছে যে তার মা তার নামে বিচার দিচ্ছে সে এটা বুঝতে পারে। এবার টনি আঙ্কেল কানাডা ফিরে গিয়ে যদি তার ফ্রেন্ডদের এসব বলে দেয়, তাহলে তার প্রেস্টিজ নষ্ট হবে না। টনি আঙ্কেলের পেটে কিছু থাকে নাকি যখন সে বলতে শুরু করে?
এসব ভেবেই সে মুখ গোমড়া করে পূর্ণতার কোলের উপর থেকে নেমে গিয়ে পাশের চেয়ারে বসে অন্যদিকে মুখ করে তাকিয়ে থাকে। পূর্ণতা ছেলের এহেন অভিমানে থতমত খেয়ে যায়। এই ছেলে বুঝলো কিভাবে সে তার নামে নিন্দেমন্দ করছে। তাজ বাংলা কথা ওতটা ভালো করে বুঝে না। জন্মের পর থেকে বিদেশিদের সানিধ্যে থাকার দরুণ তার মাতৃভাষাই এখনও তার ওতটা আয়ত্তে আসেনি।
পূর্ণতা ছেলের কাছে গিয়ে তাকে টেনে আবারও কোলে তুলে নিতে চায়, কিন্তু তাজওয়াদ জেদ ধরে সিট খামচে বসে থাকে। পূর্ণতা জোর খাটিয়ে না পেরে এবার কথার মাধ্যমে ছেলেকে নিজের কাছে আনতে চায়। সে আদুরে গলায় বলে–
—কি হয়েছে বাবা? তুমি মায়ের কোল থেকে নামলে কেনো? আসো মাম্মামের কোলে আসো।
তাজওয়াদ মায়ের কথায় কোন উত্তর দেয় না বরং আগের মতোই মুখ ফুলিয়ে অন্যদিকে তাকিয়েই থাকে। পূর্ণতা আরো কয়েকবার তাকে কোলে আসতে বলে কিন্তু তাজওয়াদ আসে না। পূর্ণতা এবার বিরক্ত হয়েই বলে–
—হোয়াট হ্যাপেন্ড তাজ? জেদ করছো কেনো শুধু শুধু? কোলে আসতে বলছি না কখন থেকে, আসো মাম্মামের কোলে আসো।
এবার তাজওয়াদ মুখ খুলে। সে ঠোঁট কাঁপিয়ে, চোখে অশ্রু নিয়ে এসে বলে–
—তাজ তো পঁচা বয়। তোমাল আমাকে কুলে নেওয়া লাগবে না। তুমি নিউ বেবি এনে তাকে কুলে নিও। তাজ তো এতা কায় না, উতা কায় না। নিউ বেবি চব কাবে, তখন আর তেমাল টনি আনতেলের কাচে বিচাল দেওয়া লাগবে না। টনি আনতেলও আমার ফ্রেন্ডদের বলে দিবে না আর আমালও পেস্টিজ নত্ত হবে না। টনি আনতেল তো বলা শুলু করলে টেরেনের মতো বলতেই থাকে।
তাজওয়াদ প্রত্যক্ষভাবে পূর্ণতা ও টনি দু’জনের নামেই অভিযোগ পেশ করল। পূর্ণতা ছেলের কথা শুনে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকে। এইটুকু ছেলের প্রেস্টিজ নিয়ে কত টেনশন, বাবা গো বাবা! আর সে এই বয়সে দারুণ চঞ্চল কিশোরী ছিলো। একে খামচাতো, ওকে মাটি ছুঁড়ে দিয়ে নোংরা করে দিতো, ওকে মে”রে ভর্তা করে দিতো। এলাকার প্লে গ্রাউন্ড গুলোতে তার আলাদাই একটা প্রভাব ছিলো। এসব তার ওতোটা ভালো করে মনে না থাকলেও, তার বাবা আগে এসব প্রায়ই বলে ক্ষ্যাপাত।
টনি এসব শুনে হাহা করে হেঁসে দেয়। পূর্ণতাও হাসতে নিয়ে গিয়ে দেখে তার ছেলে মুখটা এবার সেই সিরিয়াস করে রেখেছে। সে যদি হাসে তাহলে এবার সত্যি সত্যিই চোখে ধরে রাখা অশ্রু গুলো ছেড়ে দিবে। পূর্ণতা নিজের কান দুইহাত দিয়ে ধরে কিউট ফেইস করে বলে–
—আ’ম সরি সোনা। মাম্মা ভুলে মিস্টেক করে ফেলেছে। আমি নালিশ কই দিলাম বলো? আমি জাস্ট কথার কথা বললাম।
—বালু কলেচো। একন টনি আনতেল আমার ফ্রেন্ডদের বলে দিক।
ছোট বাচ্চাটা অভিমানের চোটে অলরেডি চোখের পানি ছেড়ে দিয়েছে। পূর্ণতা এবার ছেলের চোখের পানি থেকে আর শান্ত থাকতে পারে না। সে এবার শক্তি খাটিয়ে ছেলেকে নিজের কোলে নিয়ে আসে। তারপর বলে–
—আ”ম রিয়েলি ভেরি সরি বাবু। মাম্মা আর কখনো এসব সিক্রেট কথা কাউকে বলবো না। আর অ্যাঁই টনি, তুমি যদি আমার ছেলের এই সিক্রেট কাউকে বলেছো তাহলে তোমাকে বাংলাদেশেই ফেলে চলে যাবো। এটা টপ সিক্রেট বিষয়, বুঝেছো?
পূর্ণতা টনিকে শাসানোর মতো করে কথাগুলো বলে। টনি বাধ্য ছেলের মতো মাথা নাড়িয়ে বলে–
—জ্বি ম্যাম বুঝেছি। কে বলেছে তাজওয়াদ পঁচা ছেলে। সে কত ভালো ছেলে। তার মাকে প্রটেক্ট করে পঁচা লোকদের থেকে। এটা আর কয়টা ছেলে পারে? আমি তো একমাত্র তাজওয়াদকেই দেখেছি।
টনি আর পূর্ণতা মিলে অনেক কষ্টে তাজওয়াদের অভিমান ভাঙায়। তারপর খাবার আসতেই পূর্ণতা খাইয়ে দিতে থাকে। পূর্ণতা তাজওয়াদকে খাওয়াতে খাওয়াতে আনমনেই বলে বসে–
—অভিমানের দিক দিয়ে একদম বাবার উপর গিয়েছে এই ছেলে। কিছু হলেই কথা বলা বন্ধ করে দিয়ে আমার জান নিয়ে টানা লাগিয়ে দিবে।
তার কথা শুনে টনির খাওয়া থেমে যায়। সে অবাক দৃষ্টি নিয়ে পূর্ণতার দিকে তাকিয়ে থাকে। তাজওয়াদ তার কোলে থাকায় সে সহজেই মায়ের কথা শুনতে পায়। সে মুখের ভাতটুকু গিলে নিয়ে বলে–
—বাবা কি মাম্মা? আমি কার উপর গেলাম আবার? আমি তো কোথাও যায়নি, এই তো তোমার কোলে বচে আচি।
তাজওয়াদের কথা শুনে পূর্ণতা খেয়াল হয় সে কি বলে ফেলেছে। নিজের এহেন বোকামির জন্য মনে মনেই থা”প্পড় মা”রে নিজেকে সে। তাজওয়াদ আবারও জিজ্ঞেস করে–
—মাম্মা, বলো না বাবা কি?
পূর্ণতা নিজেকে সামলে নিয়ে বলে–
—বাবা কিছু না সোনা। এখন চুপচাপ খাও।
—কিন্তু তুমি যে আমাকে বাবাচুনা, আব্বু এবচ বলো। কিচু না হলে বলু কিনু?
তাজওয়াদের প্রশ্ন শুনে টনি মুখ নামিয়ে আবারও খেতে থাকে। পূর্ণতা আরও একবার থমকে যায় তাজওয়াদের প্রশ্ন শুনে। সে কি বলবে ভেবে পায় না। সে তো আর বলতে পারছে না, বাবা হলো তোমার জন্মদাতা। যার কারণে তুমি এই দুনিয়ায় এসেছিলে। এসব বললে তাজওয়াদ তার বাবাকে দেখতে চাইবে। তার আদর পেতে চাইবে। তখন কি করে পূর্ণতা তাজওয়াদকে তার বাবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিবে? তার যেই বাবা তার মাকে চরিত্রহীন অপবাদ দিয়ে বের করে দিয়েছে, তার সাথে কি করে পরিচয় করিয়ে দিবে তাজওয়াদকে?
📌গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্প প্রেমী বন্ধুদের নিকট পৌঁছে দিন।
শব্দসংখ্যা ~১৯১২
~চলবে?
[আপনাদের রেসপন্স দিনদিন কমে যাচ্ছে কেনো?🥹 কত ঝামেলা, অসুস্থতা নিয়েও গল্প লেখি, কিন্তু আপনাদের রেসপন্স দেখলে সেই কষ্টগুলো আরো বেড়ে যায়। দুইদিন কলেজে গিয়ে এমন অসুস্থ হয়ে পরেছি, দেখলে বুঝতেন। ছোট বলে অভিযোগ করিয়েন না।🥹
ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। গঠনমূলক মন্তব্য করবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স। ]
Share On:
TAGS: শেষ পাতায় সূচনা, সাদিয়া সুলতানা মনি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৭
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৯
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৭
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৬
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৮
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৭
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২২