Golpo কষ্টের গল্প শেষ পাতায় সূচনা

শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২২


শেষ পাতায় সূচনা [২২]

সাদিয়াসুলতানামনি

সময় কেটে যায় আরো বেশ কিছুদিন। ইতিমধ্যে জিনিয়ার পরীক্ষা শুরু হয়ে গিয়েছে। সে কোমড় বেঁধে লেগে পরেছে ফার্স্ট পজিশন অর্জনের জন্য। সে যেমন পরীক্ষায় ফার্স্ট পজিশনের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে, তেমনি আঞ্জুমানও পূর্ণতার সাথে জাওয়াদকে হাসিল করার পরীক্ষায় নেমেছে। প্রায়ই একমাস হয়ে যাওয়ার পরও সে এখনও তাদের বাসায় রয়েছে। সে আর মিসেস শেখ উঠেপড়ে লেগেছে জাওয়াদ, মি.শেখ ও জিনিয়ার কাছে পূর্ণতাকে খারাপ, অযোগ্য প্রমাণ করার জন্য।

বিচক্ষণ পূর্ণতা তার শাশুড়ী মায়ের ভালো মানুষীর নাটক ঠিকই ধরতে পেরে যায় এতদিনে। মিসেস শেখ ছেলে ও স্বামীর সামনে পূর্ণতার সাথে স্বাভাবিক আচরণ করলেও, তাদের আড়ালে পূর্ণতাকে কষ্ট দিয়ে বিভিন্ন কথা বলেন। পূর্ণতাও এখন আর তার কথায় চুপ থাকে না। দুই-একটা জবাব দিয়ে দেন কখনোসখনো। সেটা আবার মিসেস শেখ জাওয়াদের কানে ভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করেন। এককথায় বলা যায়, শেখ পরিবারের বর্তমান অবস্থা অনেকটা বাংলা সিরিয়ালের মতো হয়ে গিয়েছে।

জাওয়াদ পূর্ণতা এমন জবাব দেওয়ার আচরণ মোটেই ভালো চোখে দেখছে না। কারণ তার সামনে তার মা পূর্ণতাকে মেনেই নিয়েছে, জিনিয়ার পরীক্ষার পর তাদের আবারও বিয়ে হবে তাদের বাবা-মায়ের উপস্থিতিতে, সম্মতিতে। তাহলে পূর্ণতা কেন এখন এমন করছে সেটাই সে বুঝে উঠতে পারছে না।

পূর্ণতা কয়েকবার তাকে বলেওছে, মিসেস শেখ একেক সময় একেকরকম আচরণ করেন তার সাথে। কিন্তু জাওয়াদ সেগুলো বিশ্বাস করেনি। জিনিয়াও তার প্রিয় ভাবীর পক্ষ নিয়ে কিছু বলতে পারে না, কারণ বেচারী বর্তমানে নিজের পড়া নিয়ে এত বিজি যে, কোনদিকে নজর দেওয়ার সুযোগ হয়ে ওঠে না। আবার তার সামনে মিসেস শেখ বা আঞ্জুমান এমন কোন আচরণও করেন না।

এসব নিয়েই পূর্ণতা ও জাওয়াদের মাঝে নীরব অভিমান চলছে। মাঝে যাও একটু স্বাভাবিক হয়েছিল তাদের সম্পর্কটা, কিন্তু মিসেস শেখ ও আঞ্জুমান ষড়যন্ত্র করে আবারও আগের মতোই করে দিচ্ছে।

একদিন ছুটির সন্ধ্যায় পূর্ণতা ও জিনিয়া ড্রয়িংরুমে বসে বসে গল্প করছিলো, তখন আঞ্জুমান তাদের কাছে এসে জিনিয়াকে ধমক দিয়ে বলে–

—অ্যাঁই জিনি, তোর পড়ালেখা নেই? যা পড়তে বস, এত গল্প করার কি আছে যারতার সাথে?

জিনিয়া কিছু বলবে, তার আগেই পূর্ণতা হালকা উঁচু গলায় বলে–

—অ্যাঁই, তুমি যারতার বলতে কাকে বুঝালে? এখানে যারতার কে আছে?

—যার কথাটা গায়ে লেগেছে তাকেই বলেছি।

আঞ্জুমান ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে কথাটা। পূর্ণতা এবার প্রচন্ড ক্ষেপে যায়। তার শশুড় বাড়ি এসে তাকেই যারতার বলছে এই দুইদিনের উটকো ঝামেলা। পূর্ণতা আঞ্জুমানের সামনে এসে আঙ্গুল দেখিয়ে বলে–

—মেহমান মেহমানের মতো থাকো। অন্যের বাড়িতে এসে এত বকবক করা শোভনীয় দেখায় না।

—পূর্ণতাআআআ….. এটা কেমন ধরণের আচরণ?

জাওয়াদ তাদের রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে কথাটা বলে। জাওয়াদ এতক্ষণ বেলকনিতে দাড়িয়ে ফোনে একজনের সাথে কথা বলছিলো, পূর্ণতার গলার স্বর শুনেই বাহিরে আসছিলো, তখন আঞ্জুমানের কথাটা স্পষ্ট ভাবে না শুনলেও পূর্ণতা যেহেতু উঁচু গলায় কথা বলছিল, তাই সে এই কথাটুকু শুনে উপরিউক্ত কথাটা বলে। মিসেস শেখ তার রুমে থেকে সবই দেখছিলেন, কিন্তু এগিয়ে এসে কিছু বলছিলেন না। কিন্তু এবার জাওয়াদকে আসতে দেখে সেও বাহিরে আসে। ভাব এমন একটা নেয় যেনো সে কিছুই জানে না। মি.শেখ বর্তমানে বাসায় নেই।

জাওয়াদ তাদের সামনে এসে বলে–

—পূর্ণতা, এসব কেমন আচরণ? ও আমাদের গেস্ট কম আমাদের পরিবারের লোক। আমার কাজিন হয় আঞ্জুমান।

—আপনার কাজিন যেই আচরণটা আমার সাথে করলো, সেটা বুঝি খুব ভালো ছিলো?

পূর্ণতাও ক্ষ্যাপাটে গলায় কথাটা বলে। জাওয়াদ তার এমন আচরণে ভ্রু কুঁচকে নেয়। পূর্ণতা আগে কখনো এমন আচরণ করেনি তার সাথে আর নাই বা উঁচু গলায় কারো সাথে তেমন একটা কথা বলতে শুনেছে। জাওয়াদ গুরুগম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করে–

—কি করেছে আঞ্জুমান তোমার সাথে?

—ও আমাকে যারতার বলেছে জিনিয়া আমার সাথে বসে গল্প করছিলো বলে। আমি যার-তার? আমার কোন পরিচয় নেই এই বাসায়?

রাগে, দুঃখে পূর্ণতার চোখে পানি এসে ভীড় করে। জাওয়াদ পূর্ণতার কথা শুনে ও তার চোখে পানি দেখে অবাক হয়ে যায়। মানুষের মুখ মিথ্যে বললেও, চোখ কখনোই মিথ্যে বলে না। চোখ মিথ্যে বলতে পারেই না। জাওয়াদ এবার আঞ্জুমানকে জিজ্ঞেস করে–

— আঞ্জুমান তুমি সত্যিই পূর্ণতাকে এটা বলেছো?

আঞ্জুমান চোখ টিপে টিপে কাঁদো কাঁদো ভাব করে বলে–

—জাওয়াদ ভাই, আমি শুধু জিনিয়াকে বলেছি ওর এক্সাম চলছে, পড়তে বসতে। গল্প করার জন্য তো আরো অনেক সময় পাবে। তখনই পূর্ণতা ক্ষেপে ওঠে আমাকে এসব কথা বলা শুরু করে।

তার কথা শুনে পাশ দিয়ে জিনিয়া বলে ওঠে–

—মিথ্যে কেনো বলছো আপু? তুমি তো সত্যি…..

—অ্যাঁই মেয়ে বড়দের মাঝে তোমার কি কথা? থাপড়ে গাল লাল করে দিবো, যাও পড়তে যাও। আজকাল উচ্ছনে যাচ্ছো মদদ পেয়ে পেয়ে। মিথ্যে বলাও শিখে গিয়েছো। কি হলো যাও নিজের ঘরে।

মিসেস শেখ জিনিয়াকে থামিয়ে দিয়ে কথাগুলো বলেন। জিনিয়া মায়ের ধমক জিনিয়া নিজের রুমে চলে যায়। পূর্ণতা বুঝে যায় সে জাওয়াদের থেকে মিছেই সুবিচার আশা করছে। জাওয়াদ হয়ত তার কাজিনের কথাই বিশ্বাস করবে। তাকে তো আর ভালোবাসে না, যার কারণে তাকে বিশ্বাস করবে। সে চোখে অশ্রু নিয়েই নিজের রুমে চলে যায়। আঞ্জুমানও কান্নার ভান করে মিসেস শেখের রুমে চলে যায়।

জাওয়াদ তার পেছন পেছন যেতে নিলে মিসেস শেখ তাকে ডেকে ওঠে। তারপর জাওয়াদকে বলে–

—তোমাদের বিয়ের দুইমাস পেরিয়ে তিনমাসে পা দিতে না দিতেই তোমার বউ এমন অশান্তি শুরু করে দিয়েছে। এমন করে সংসার চলে আদৌও? তোমার বউ এখন কি চাইছে একটু বলবে? আমার এতিম ভাতিজিকে নিয়ে ওর এত কি সমস্যা? মেয়েটার পেছন লেগেই থাকে। ও কি চাচ্ছে আলাদা সংসার করতে? তুমিও কি এটাই চাও? যা চাও স্পষ্ট ভাবে বলে দাও। আমি সবধরনের উত্তর শোনার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে আছি।

জাওয়াদ গম্ভীর গলায় বলে–

—এতদিন পূর্ণতার সাথে থাকার পরও যদি আপনার এটা মনে হয় আম্মা, তাহলে বলবো আপনি এখনও পূর্ণতাকে চিনতে পারেন নি। ও শুধু আমায় নিয়ে না, আমাদের সকলকে নিয়ে সংসার করতে চায়। আঞ্জুমান যদি এতিম হয়, আমার বউও তো এতিম। তারও তো মা নেই। আপনি শুধু আঞ্জুমানেরটা দেখছেন, পূর্ণতার দিকটা ভাবছেন না কেনো একবারও?

মিসেস শেখ জাওয়াদের কথা শুনে হা হয়ে যায়। পূর্ণতার হয়ে স্ট্যান্ড নিচ্ছে জাওয়াদ। ছেলে তো মায়ের আঁচল ছেড়ে বউয়ের গীত গাইতে শুরু করে দিয়েছে। সে যে এটা কিছুতেই মানতে পারবে না। মিসেস শেখ হায় হায় করে বলেন–

—বাহ বাহ! তিন মাসেই বউয়ের আঁচলে বাঁধা পড়ে গেলে যে, সত্য-মিথ্যের মধ্যে ফারাক করতে পারছো না?

—কথাটা বউয়ের আঁচলে বাঁধা পরার না। কথাটা হচ্ছিল, আঞ্জুমান পূর্ণতাকে যার-তার বলা নিয়ে। পূর্ণতা যারতার হলো কিভাবে? ও আমার স্ত্রী, এই শেখ বংশের বউ ও।

—তোমার বউ বললো আর বিশ্বাস করে নিলে? আঞ্জুমান বললো তো ও’ কি বলেছিল জিনিয়াকে।

—আসলেই কি তাই? পূর্ণতাও তো সত্যিটা বললো। আপনি আপনার ভাতিজির কথা বিশ্বাস করতে পারলে, আমি আমার স্ত্রীর কথা কেন বিশ্বাস করতে পারবো না আম্মা?

—তোমার স্ত্রী ইচ্ছে করে এসব বলেছে, যাতে আঞ্জুমান এ বাসা থেকে চলে যায়। ও একটুও আঞ্জুমানকে সহ্য করতে পারে না, এসব কি তুমি দেখছো না?

—আম্মা আমি সবই দেখছি। আপনি হয়ত পূর্ণতাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করে উঠতে পারেন নি, কিন্তু আমি আমার স্ত্রীকে বিশ্বাস করছি। ও কিছুতেই আঞ্জুমানকে বাসা থেকে তাড়াতে এসব মিথ্যে কথা বলতে পারে না। আর ধরেই নিলাম পূর্ণতা মিথ্যে বলছে। তাহলে জিনিয়া তো তখন সামনে ছিলো, ওকে ডাকুন আবার। ও বলুক কে সত্যি বলছে, আর কে মিথ্যে?

আঞ্জুমান মিসেস শেখের ঘরে গিয়ে দরজার আড়াল থেকে সবই শুনছিলো। দাবার গুটি উল্টে যাওয়ায় এবার সে ঘাবড়ে যায়। সে ঘর থেকে বের হয়ে কাঁদো কাঁদো গলায় বলে–

—কাউকে ডাকতে হবে না জাওয়াদ ভাই। আমিই সব দোষ নিজের কাঁধে তুলে নিলাম। আর আমি কালই গ্রামে চলে যাবো, ভাবীকে আমায় নিয়ে আর টেনশন করতে বলো না। ফুপি, একটু ঘরে আসো না। আমার ব্যাগটা আলমারি উপর থেকে নামাবো।

মিসেস শেখ কিছু বলতে নিবেন তার আগেই জাওয়াদ বলে–

—তোমাকে কেউ একবারও এখান থেকে চলে যেতে বলেনি আঞ্জুমান। তোমার ফুপির বাসায় তুমি যতদিন ইচ্ছে ততদিন থাকো।

কিন্তু তুমিই বলো, আজকের কাজটা কি তুমি ঠিক করেছো? পূর্ণতা যার-তার না, ও’ আমার বউ। মিসেস জাওয়াদ শেখ ও’। আমাদের পরিবারের বড় বউ।

কথাগুলো বলে জাওয়াদ চলে যায় বাসার বাহিরে। বাসার পরিবেশ তার মোটেই ভালো লাগছে না। এখন সে পূর্ণতাকে কিছু বুঝাতে গেলেও পূর্ণতা উল্টাপাল্টা বলে তার মেজাজ আরো বিগড়িয়ে দিবে।

সে রাতে জাওয়াদ বাসায় ফিরতে ফিরতে একটু লেটই হয়ে যায়। পূর্ণতা না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়ে। জাওয়াদ বাসায় এসে অল্প কিছু খেয়ে সেও শুয়ে পড়ে। আজ আর নিজ থেকে আগ বাড়িয়ে পূর্ণতাকে বুকে টেনে নেয় না। অন্যদিকে ঘুরে শুয়ে থাকে। রুমের লাইট অফ হতেই পূর্ণতা চোখ খুলে তাকায়৷ জাওয়াদকে অন্যদিকে ঘুরে শুতে দেখে তার চোখ বেয়ে বেহায়া অশ্রু গড়িয়ে পরে। সে ভেতরে গুমরে গুমরে কাঁদে, কিন্তু সেই কান্নার আওয়াজ জাওয়াদ পর্যন্ত পৌঁছায় না।

দিন যত যায়, জাওয়াদ ও পূর্ণতার মধ্যকার দেওয়াল আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। পূর্ণতা স্বাভাবিক হয়েও হতে পারছে না মিসেস শেখ ও আঞ্জুমানের জন্য। ইতিমধ্যে জিনিয়ার প্রায় অনেকগুলো পরীক্ষা শেষ। দুটো ভাইবা আছে শুধু। সামনে জাওয়াদের বার্থডে। পূর্ণতা জিনিয়ার সাথে প্ল্যান করতে থাকে, জাওয়াদের বার্থ ডে কিভাবে সেলিব্রেট করা যায়।

অফিসে তেমন গুরুত্বপূর্ণ কাজ না থাকায় আজ পূর্ণতা ছুটি নিয়েছে। সে বিকেলের দিকে জিনিয়াকে নিয়ে বের হয় জাওয়াদের বার্থডে উপলক্ষে গিফট কেনার জন্য। তাদের পিছু পিছু আঞ্জুমানও যায়, কিন্তু সে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে হাঁটে। সে যেই মার্কেটে যায় সৌভাগ্য বসত তার চাচাতো ভাই আরিয়ানও সেই একই মার্কেটেই যায়। আরিয়ান কাল দেশের বাহিরে যাবে তার কিছু কাজের কারণে, সেজন্য সে শপিং করতে এসেছে। পূর্ণতা তাকে জিনিয়ার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পর আরিয়ান নিজ ইচ্ছে থেকেই পূর্ণতাদের পেছন পেছন ঘুরতে থাকে আর পূর্ণতার হাতে থাকে শপিং ব্যাগগুলো টানতে থাকে।

শপিং শেষে তারা তিনজন কিছু স্ন্যাকস খায়। আইসক্রিম খাওয়ার সময় আরিয়ান স্বভাব সুলভ পূর্ণতার নাকে একটুখানি লাগিয়ে দেয়। তারপর আবার নিজ থেকে মুছেও দেয়। তাদের দু’জনের মধ্যে এত সুন্দর বন্ডিং দেখে জিনিয়া মুগ্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে আঞ্জুমান তাদের ছবি তুলে কতগুলো। সবগুলো ছবি এমনভাবে তুলে যেগুলোতে পূর্ণতার ফেইস দেখা গেলেও আরিয়ানের মুখ দেখা যাচ্ছে না। মজামাস্তি করে তারা যখন বিদায় নিবে তখন পূর্ণতা আরিয়ানকে একপাশ দিয়ে জড়িয়ে ধরে। এই মুহুর্তের ছবিও আঞ্জুমান তুলে নেয়। তারপর তাড়াতাড়ি করে বাসায় চলে আসে এসে মিসেস শেখের সাথে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র করতে থাকে। তারা প্ল্যান করে, এই ছবিগুলো এডিট করে জাওয়াদকে পাঠাবে। এবং আঞ্জুমান নিজেই ফাহিম নামে একটা আইডি খুলে জাওয়াদকে পূর্ণতার ডাবল টাইমিং সম্পর্কে বলবে। পূর্ণতা তাকে চিট করেছে। জাওয়াদ যদি তার কাছে প্রমাণ চায়, তখন সে এসব ছবি দেখাবে। এখনও পূর্ণতা তার সাথে সম্পর্ক রাখছে এসব বলবে।

আঞ্জুমান তাদের প্ল্যান মতো সেদিন রাত থেকেই কাজে লেগে পড়ে। প্রথমেই সে পূর্ণতার সম্পর্কে বলে না। প্রথমদিন হাই-হ্যালো বলেই সমাপ্ত করে কথা। তৃতীয় দিন থেকে সে জাওয়াদকে নানান ধরণের কথা বলতে থাকে। এই যেমন সে একজনের থেকে দারুণ ভাবে প্রতারিত হয়েছে। জাওয়াদ যতোই তাকে ইগনোর করতে চায়, ফাহিম রূপী আঞ্জুমান ততই তাকে এসব স্যাড কথা বলতে থাকে। একসময় জাওয়াদও ভেবে নেয় আসলেই ছেলেটি হয়ত কারো থেকে অনেক কষ্ট পেয়েছে এবং কষ্টগুলো শেয়ার করার মতো কেউ নেই বলে জাওয়াদের সাথে শেয়ার করছে।

জিনিয়ার পরীক্ষা শেষ হয়ে গিয়েছে। পরশু জাওয়াদের জন্মদিন। পূর্ণতা ভাবে, রাতের খাবার সবগুলো জাওয়াদের পছন্দ মতোই রান্না করবে। পরেরদিন দুপুরে আবার বড়সড় পরিসরে রান্না হবে।

জাওয়াদের জন্মদিনের দুইদিন আগে গ্রাম থেকে খবর আসে, জাওয়াদের দাদা বাড়িতে জমিজমা নিয়ে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। মি.শেখ যেনো অনতিবিলম্বে গ্রামে যায়। মিসেস শেখ অসুস্থতার অজুহাত দিয়ে যান না তার সাথে। সে গেলো তো পূর্ণতাকে তাড়ানো কঠিন হয়ে যাবে। তারা ভাবে, মি.শেখ আসার আগেই পূর্ণতাকে ছলেবলে কৌশলে বিদায় করবে। তার বুদ্ধি করে জিনিয়া কেও পাঠিয়ে দেয় ঘুরে আসার কথা বলে। জিনিয়া যেতে চায় না, তাও মিসেস শেখ তাকে পাঠিয়ে দেয়। বাসায় রয়ে যায় শুধু পূর্ণতা, জাওয়াদ, মিসেস শেখ ও আঞ্জুমান।

পূর্ণতা জাওয়াদের জন্মদিনের আগের দিন রাতের খাবারগুলো নিজেই রান্না করে। হাফ বেলা অফিস করে নিজের অসুস্থতার অজুহাত দিয়ে দুপুরের দিকে বাসায় এসে পড়ে সে। তারপর লেগে পরে রান্নার কাজে। সন্ধ্যার আগেই সে সব রান্না শেষ করে ফেলে, শুধু মিষ্টিতে জাওয়াদের পছন্দের হালুয়াটা দেরি করে রাঁধে। রান্না শেষ করে রুমে আসতেই তার ফোনে কল আসে আহমেদ বাড়ি থেকে। তার বাবা হুট করে অসুস্থ হয়ে গিয়েছে, মেয়েকে দেখতে চাচ্ছেন। পূর্ণতা মিসেস শেখকে কোনমতে এই খবর টুকু দিয়ে বাবার বাড়ির উদ্দেশ্যে ছুট লাগায়।

সে চলে যাওয়ার পর আরে একটি ঘৃণ্য চাল চালে মিসেস শেখ ও আঞ্জুমান।

📌গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্পপ্রেমী বন্ধুমহলের নিকট পৌঁছে দিন।

শব্দসংখ্যা-১৮২৫
~চলবে?

[অতীত নিয়ে সম্ভবত আর ১টা পর্ব আসবে। তারপর বর্তমান দেখানো হবে ইন শা আল্লাহ।

ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। গঠনমূলক মন্তব্য করবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply