মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
পর্ব_৫
কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা
হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫
কুহেলি এবার ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলে কেনো আমি আপনার কথা শুনবো..? আমি কি নিজের ইচ্ছে এসেছি..? না আপনি জোর করে ধরে এনেছেন আমি আপানার কথা শুনবো না। ওমনি কুহেলির গালে পড়ে এক চড় কুহেলি এতোক্ষণ নিচের দিকে তাকিয়ে কথা বলছিলো এবার মাথা তুলে তাকাতেই আত্নকে উঠে কুহেলি..!
আবরারের মুখ রাগে টকটকে লাল হয়ে গেছে শিরাগুলো গলার পাশে ফুলে উঠেছে। চোখের মণি লালচে আগুনের মতো,তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সরাসরি কুহেলির দিকে। আবরারের চোখে এমন এক দৃষ্টি, যা ভেদ করে দিতে পারে যে কারও বুকের ভেতর পর্যন্ত।কুহেলি চমকে উঠল। ভয়ে তার ঠোঁট কাঁপতে লাগল, নিঃশ্বাস ছোট ছোট হয়ে আসছে পরক্ষণেই ছোট্ট মেয়ের মতো মাথা নিচু করে কান্নায় ভেঙে পড়ল। চোখ বেয়ে টলটল করে পানি গড়িয়ে পড়ছে তার গালে।
আবরার হঠাৎ একধরনের বিরক্তিতে গর্জে উঠল এই মেয়ে, তোর সমস্যা কী?এভাবে ফেঁপে ফেঁপে কাঁদিস কেন? এমন করে…? আবার থাপ্পড় খেতে ইচ্ছে করছে?
তার কণ্ঠে বজ্রপাতের মতো ঝাঁঝ গলা ভারী, তীক্ষ্ণ, রাগে কাঁপছে।
কুহেলির ছোট্ট শরীরটা যেন এক মুহূর্তে জমে গেল। তার কাঁধ দুটো কেঁপে উঠল,চোখে ভয়ের ছায়া আরও গাঢ় হলো ঠোঁটের কোণে আটকে থাকা কান্না চেপে রাখতে চাইলেও তা থামল না।
কুহেলি আর একফোঁটা শব্দও করল না, শুধু নিঃশব্দ কান্নায় ভিজে উঠল তার মুখটা।
আবরারের বুক ওঠানামা করছে রাগে, কিন্তু তার ভেতরে একটা অজানা অস্থিরতাও কাজ করছে যেন সে নিজেই জানে না, কেন এই মেয়েটির প্রতি তার রাগ এত প্রবল, আবার কেনই বা তাকে আঘাত করতে গিয়েও সে থেমে যায়।
রুমের নিঃশব্দতা তখনও ছুরি দিয়ে কাটা যায় এমন ভারী।একপাশে কুহেলির কাঁদা, অন্যপাশে আবরারের নিঃশ্বাসে মিশে থাকা আগুন দুজনের মাঝখানে ঝুলে আছে এক অজানা সম্পর্কের সূক্ষ্ম সুতোর মতো কিছু ভয়, কৌতূহল, আর একরাশ অদ্ভুত সংযোগ।
ঠিক সেই মুহূর্তে দরজার ওপর হঠাৎ টোকা পড়ল। আবরারের ভেতরের রাগ যেন আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ল। সে মুখ কেঁপে উঠল কোল থেকে কুহেলিকে নামিয়ে বেডের ওপর বসাল। কুহেলি এখন পুরোপুরি চুপচাপ চোখে ভয়ের ছায়া বুক কাঁপছে।
আবরার দরজার কাছে যেয়ে শক্ত হাতে দরজার দিকে গিয়ে পাসওয়ার্ড দিয়ে দরজার খোলে দেখলো ওপারে দাঁড়িয়ে আছে ফেটিক্স..!কি হয়েছে? ডিসটার্ব করছো কেন? আবরারের কণ্ঠ রাগে কাঁপছে।ফেটিক্স একদম অস্বস্তিতে, একটু ধীরে ধীরে বলল,আমতা আমতা করে বললো পতিতালয় আপনার…!
আবরারের চোখে আগুন! সে হঠাৎ হাত উঁচু করে ফেটিক্সকে থামিয়ে দিল। শব্দটাও কেটে গেলো।
ওই মহিলা কি আবার ঝামেলা করছে? আবরারের কণ্ঠে এতটুকু ক্ষোভ, যা শোনার সঙ্গে সঙ্গে রুমের বাতাস ভারী হয়ে গেল।
ফেটিক্স মাথা নেড়ে হালকা ভাবে সম্মতি জানালো।
আবরারের চোখে ঝাপসা রাগ আর বিরক্তি মিশে আছে। সে ধীরে, তবে স্থিরভাবে কুহেলির দিকে ফিরে তাকালো।কুহেলি এখনও বেডে বসে, ছোট ছোট নিঃশ্বাস নিচ্ছে, ভয়ে দেহ কাঁপছে।
তারপর আবরার ফেটিক্সের দিকে তাকালো ওর মুখে তখনও সেই কঠিন নিয়ন্ত্রণহীন রাগের ছায়া। কয়েক সেকেন্ড নীরব থাকার পর সে গম্ভীর গলায় বলল তুমি যাও গাড়িটা বের করো। আমি আসছি।
ফেটিক্স নিচু মাথায় সম্মতি জানিয়ে দ্রুত সরে গেল। সাথে সাথেই আবরার দরজাটা খানা বন্ধ করে দিলো আর রুমজুড়ে আবার নেমে এল নিঃশব্দতা।
আবরার ধীরে ধীরে ফিরে দাঁড়ালো। তার চোখের লালচে আগুন এখনো নিভে যায়নি। সে কুহেলির দিকে এগিয়ে গেল ধীর স্থির কিন্তু ভয়ানক দৃঢ় পদক্ষেপে।কুহেলি বেডের কিনারায় বসে ছিল। নিঃশ্বাস গলায় আটকে আছে, চোখে অদ্ভুত ভয় আর কৌতূহলের মিশ্রণ হঠাৎ আবরার এক টানে তাকে দাঁড় করিয়ে নিল।
আঁঁ শব্দটা বেরোতেই পারল না কুহেলির মুখ থেকে।এক মুহূর্তে আবরারের শক্ত বাহু তার কোমর জড়িয়ে নিল। এতটাই শক্ত করে যেন পৃথিবীর কোনো শক্তিও তাকে আর আলাদা করতে পারবে না।
তাদের মাঝে কোনো দূরত্ব নেই এক নিঃশ্বাসের ফাঁকও নয় আবরারের বুকের ধাক্কায় কুহেলির শরীর হালকা কেঁপে উঠছে তার নিঃশ্বাস মিশে যাচ্ছে আবরারের উষ্ণ নিঃশ্বাসে।
কুহেলি আস্তে করে চোখ তুলল পিটপিট করে তাকালো আবরারের দিকে ভয়, বিভ্রান্তি আর এক অজানা অনুভূতির ঢেউ একসাথে তার চোখে।
আবরারের চোখের দৃষ্টি তখন এমন যেন আগুনের ভেতরে পানি ফেলা হয়েছে দাউ দাউ করে জ্বলছে কিন্তু কোথাও একটা নরম ছায়া লুকিয়ে আছে।
রুমজুড়ে তখন শুধু তাদের নিঃশ্বাসের শব্দ,
আর জানালার বাইরে জঙ্গলের হালকা হাওয়ার সোঁ সোঁ শব্দ যেন প্রকৃতিও বুঝে গেছে, এখন এই মুহূর্তে কিছু একটা বদলে যেতে চলেছে।
আবরার কুহেলির দিকে তাকিয়ে সেই চিরচেনা ভয়ংকর স্নান হেসে বললো, মাই ফা*কিং হোয়াইট রোজ..! আমি এখন বাহিরে যাবো কাজে নয়তো তুমি কখনোই আমার হাত থেকে বাঁচতে পারতে না। তোমাকে দেখলেই কন্ট্রোলেস হয়ে যায় আমার শরীরের লোম সহ আরো অনেক জিনিস দাঁড়িয়ে যায় যা কন্ট্রোল করা মশকিল…!
কুহেলি ঘৃণার দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো, আপনি কখনোই আমার মন পাবেন না সব সময় শুধু আমার দেহ ভোগ করতে পারবে। ভালোবাসা বা মন কখনোই কোনো টাই পাবেন না মিস্টার মাফিয়া কিং…!
আবরার বেশ অবাক হলো কুহেলি কে এভাবে কথা বলতে দেখে পরক্ষনেই আবার মজাও পেলো মেয়েটার বোকা বোকা কথা শুনে..! ও কখন ভালোবাসা বা মন চাইছে ওর তো দেহ হলেই যথেষ্ট..!
কথা খানা ভেবে বাকা হাসলো আবরার তারপর কুহেলির কানের কাছে ওর মুখ খানা নিয়ে হাস্কি কন্ঠে ফিসফিস করে বললো, বিশ্বাস করো আমার ছোট্ট পাখি তোমার শরীর হলে আমার আর কিছু চাই না এটাই অনেক বিশেষ করে তোমার ঠোঁট দুটো পুরোই চকলেটের মতো মিষ্টি উপস সরি মধুর মতো মিষ্টি সারাদিন চুষতে মন চাই….!
আবরারের এরকম কথাই কুহেলির গা ঘিন ঘিন করে উঠলো, কাঁপা কন্ঠে বললো আই হেড ইউ মিস্টার মাফিয়া কিং আবরার স্নান হেসে বললো, আই হেড ইউ টু মাই ফা*কিং হোয়াইট রোজ। তারপর কুহেলির ঠোঁটে শব্দ করে চুমু খেয়ে ওকে ছেড়ে দিয়ে গটগট করে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে। আর কুহেলি আবরারের যাওয়ার পানে তাকিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো কিভাবে বের হবে এই নরক থেকে কিভাবে কি করবে..? ওর মাথায় কিচ্ছু আসছে না…!
~~
নিচে আসতেই গাড়ির দরজা খুলে দিল একজন বডিগার্ড। আবরার ঢুকে পড়ল গাড়ির ভিতরে। ফেটিক্স সামনের সিটে ধীরগতিতে বসল,কিন্তু তার চোখ বার বার আবরারের দিকে ফিরছে যেন কোনো অদৃশ্য বিপদ খুঁজছে।
গাড়ির ইঞ্জিনের আওয়াজ দিয়ে গাড়ি চলতে শুরু করল।রাস্তায় অন্ধকার এবং জঙ্গলের ছায়া মিশে গেছে, কিন্তু গাড়ির ভেতরে এক অদ্ভুত নীরবতা।
কেউ কিছু বলছে না। কারও মুখে কোনো শব্দ নেই। শুধু নিঃশ্বাস আর দমবন্ধ করা চুপচাপ।
ফেটিক্স বারবার আবরারের দিকে তাকাচ্ছে চোখে মিশ্রিত অস্বস্তি, ভয় আর অব্যক্ত কৌতূহল।
আবরারের মুখে কোনো ভাব নেই শুধু তার চোখের লালচে আগুন যা মুহূর্তে ফেটিক্সের ভেতরের শূন্যতা বেড়ে দিচ্ছে।
ফেটিক্স মনে মনে ভাবছে না জানি কি করে বসে স্যার আজকে পতিতালয় যেয়ে…! কিছু বলার সাহস পাই না ফেটিক্স যদি আবরার রেগে যেয়ে কুড়াল দিয়ে ওকে দুই টুকরো করে ফেলে তখন..? জীবন উপভোগ করার আগেই ওকে উপরে পাঠিয়ে দিবে তার থেকে ভালো আবরার যা করছে তা করুন ও দেখেও না দেখার ভান ধরবে..! এসব ভেবেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে সিটে গা এলিয়ে বসে রইলো ফেটিক্স
প্রায় পঞ্চাশ মিনিটের নীরব পথচলা শেষে গাড়িটি ঢুকে পড়ল হিরমান্ডির ভেতরে আবরারের নিজের তৈরি শহরে। এই শহরটা কোনো সাধারণ শহর নয়। এখানে আবরারের নিয়মই শাসন আর আবরারের কথার বাইরে কেউ কোনো কাজ করার সাহস পায় না।
রাস্তার দুপাশে থাকা ভবনগুলো ছায়ার মতো নিস্তব্ধ। একটুখানি শব্দ একটুখানি অঙ্গভঙ্গি সবকিছুই মুহূর্তের মধ্যে আবরারের নজর এড়িয়ে যেতে পারে না। আবরার শহর তৈরি করেছে এক নিয়মিত পতিতালয় হিসেবে এখানে যারা আসে তাদের জন্য যা ঠিক করবে আবরার তাদেরকে তাই মেনে চলতে হবে..!
আবরারের গাড়ি দেখা মাত্রাতেই রাস্তার মানুষগুলো ঝাঁপ দিয়ে সরে গেল। কেউ দৃষ্টি খোঁজার সাহস পেল না। নিঃশব্দে একে একে দশটি গাড়ি শহরের ভিতরে ঢুকে পড়ল প্রতিটি গাড়ি যেন আবরারের অদৃশ্য শক্তির সম্মান দেখাচ্ছিল।
শেষে আবরারের গাড়ি পতিতালয়ের সামনে থামল গাড়ি থামতেই মুহূর্তের মধ্যে একজন বডিগার্ড এগিয়ে এসে দরজাটা খুলে দিলো আবরার ধীরে গাড়ি থেকে নেমে এল তার পা মাটিতে পড়তেই মনে হলো শহরটা যেন তার পদক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গী হতে চাচ্ছে।
রাস্তার নিঃশব্দতা, হিরমান্ডির ভীতিকর পরিবেশ, আর আবরারের উপস্থিতি সব মিলিয়ে এমন এক দৃশ্য সৃষ্টি করল, যা সহজে কোনো চোখ অমোঘভাবে উপেক্ষা করতে পারবে না।
এখানে আবরারের আধিপত্যই চূড়ান্ত, আর সে জানে এই মুহূর্তে তার পা যেখানে যাবে, তাকেই সবাই মনে রাখবে।
আবরার পতিতালয়ের ভিতরে ঢুকতেই সবকিছু স্তব্ধ হয়ে গেল সঙ্গীতের শব্দ নেই, হাসি-কান্নার কোনো আওয়াজ নেই যেন মুহূর্তের মধ্যে পুরো জায়গাটাই নিঃশব্দে স্থির হয়ে গেছে।
হঠাৎ এক মেয়ে দৌড়ে এলো তার শরীর ঘিরে টিশার্ট আর প্যান্ট চুলগুলো কাঁধ স্পর্শ করছে ছোট ছোট লুকানো কার্ল চুলের ছায়ায় রঙের খেলা, কালার করা কোনো জায়গা চোখে পড়ে।
মেয়েটি আবরারের দিকে তাকিয়ে বলল,তুমি এসেছো দেখো ঐ মহিলা কী চিৎকার করছে। তাই আমি ওকে উপরের রুমে নিয়ে আটকে রেখেছি যাতে চিৎকার করলেও কেউ শুনতে না পায়।
আবরারের কণ্ঠ তখনও গম্ভীর কন্ঠে বললো,
শিশা তোমরা এতোগুলো মানুষ তবু ঐ মহিলাকে কন্ট্রোল করতে পারো না? তার চোখে রাগ যা নিয়ন্ত্রণহীনতা এক অদ্ভুত উত্তেজনা তৈরি করল।
শিশা ধীরে ধীরে নিচু কন্ঠে বললআমরা সবাই যথেষ্ট চেষ্টা করেছি, আবরার কিন্তু ওনি শুধু তোমার কথাই বলছে। তোমার সাথে কথা বলবে তোমার সাথে দেখা করবে এসব বলছে আর চিৎকার করছে..!
আবরার কোনও শব্দ না করে সোজা দাঁড়িয়ে রইল তারপর এক মুহূর্তের নিস্তব্ধতার পর আবরার গটগট করে সিঁড়ি বেয়ে উপরের তালায় উঠে যেতে লাগল।
পিছনে শিশা যেতে চাইল, কিন্তু ফেটিক্স থামিয়ে বলল,তুমি জানো তো, স্যার ওনার সঙ্গে একা কথা বলতে পছন্দ করে। তবুও কেনো পিছনে যাচ্ছো?
শিশা হঠাৎ থেমে গেল। তার মনে এক অদ্ভুত ভীতি এবং সম্মান মিশ্রিত অনুভূতি ঘিরে ধরল।সাধারণত আবরার শিশার সঙ্গে সব সময় কঠোর আর খারাপ ব্যবহার করেও থাকে। এভেন সবার সঙ্গে।
কিন্তু আজ কেবল তার গম্ভীর কণ্ঠ এবং দৃঢ় উপস্থিতি শিশার মনে এক অদ্ভুত প্রভাব ফেলেছে।
শিশা ফেটিক্সের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,ভুলে গেছিলাম আবরার আজকে ভালো ব্যবহার করেছে, তাই…!
তার কণ্ঠে অদ্ভুত এক প্রশান্তি, কিন্তু চোখে এখনও একটা অনিশ্চিত আশঙ্কা।ফেটিক্স শুধু চুপচাপ তাকিয়ে রইল।উপরের তালার দিকে গটার আওয়াজ আর আবরারের স্থির ধাপের সঙ্গে মিলিয়ে শিশার মন যেন ধীরে ধীরে উত্তেজনা এবং অনুশোচনায় ভরে উঠল।
চলবে.....!
[আজকে একটু বেশি ছোট হয়ে গেলো কালকে বড় করে দেওয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ]
Share On:
TAGS: তাসনিম তালুকদার বুশরা, মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৯
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২০
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১০
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৬
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১২
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৬
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৭