মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
পর্ব১৪প্রথমাংশ
কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা
হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫
বাইরের আকাশটা তখনো বৃষ্টিতে ভেজা জানালার কাঁচ বেয়ে ফোঁটা ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ছে, যেন আবরারের ভেতরের অস্থিরতার প্রতিচ্ছবি।কুহেলির নিথর শরীরটা তার বাহুতে ওর নিঃশ্বাস আছে কিন্তু মুখে কোনো সাড়া নেই। আবরারের বুকের ভেতর ধুকপুকানিটা যেন থেমে যাওয়ার উপক্রম।
চুপচাপ, একটাও শব্দ না করে সে কুহেলিকে কোলে করে সোজা ওয়াশরুমে নিয়ে যায়। দরজাটা ধীরে বন্ধ করে দেয় তারপর ঝর্ণার সামনে ওকে দাঁড় করায় ঠান্ডা পানির ফোঁটা ঝরে পড়তে থাকে কুহেলির মাথার ওপরে, ধীরে ধীরে গড়িয়ে নামে ওর কাঁধ বেয়ে।
আবরার নিজের দু’হাত দিয়ে ওকে আঁকড়ে ধরে, বুকের মাঝে টেনে নেয় এক মুহূর্তের জন্যও যেন কুহেলি পড়ে না যায়। ওর নিস্তব্ধ মুখে ঝর্ণার জল গড়িয়ে পড়ে, আর সেই জলের ভেতরেই একটুখানি কম্পন দেখা দেয় কুহেলির চোখের পাতা কাঁপে, তারপর ধীরে ধীরে খুলে যায়।
চোখ খুলে সে কিছুই বলে না শুধু তাকিয়ে থাকে আবরারের মুখের দিকে।নিঃশব্দ এক দৃষ্টি যেখানে লুকিয়ে থাকে ভয়, কৃতজ্ঞতা, আর একরাশ অজানা প্রশ্ন।
আবরার কিছু বলে না। নীরবে কুহেলির ভেজা চুলগুলো একপাশে সরিয়ে তোয়ালে দিয়ে মুছিয়ে দেয়। তারপর ওর ভেজা পোশাক পরিবর্তন করে দেয়, যেন একটা শিশুকে যত্নে গুছিয়ে দিচ্ছে কেউ সবকিছু শেষ হলে, কুহেলিকে কোলে তুলে নিয়ে যায় বেডরুমে। আলতো করে বিছানায় বসিয়ে দেয়। কুহেলি তখনও চুপচাপ, যেন নিজের শরীরের ভেতরেই বন্দি হয়ে আছে।
আবরার একবার ওর মুখের দিকে তাকায়। ঠোঁট নড়ে, কিন্তু কোনো শব্দ বের হয় না।তারপর নিঃশব্দেই আবার ওয়াশরুমে ফিরে যায় নিজের পোশাক বদলাতে।
রুমের বাতাসে তখনো বৃষ্টির গন্ধ, ভেজা চুলের গন্ধ, আর কিছু অজানা অনুচ্চারিত অনুভূতি ভাসছে।দু’জন মানুষ একটা রুমে, কিন্তু হাজার শব্দের চেয়ে গভীর নীরবতার মাঝে ডুবে আছে।
রুমের নরম আলোয় কুহেলিকে দেখা যাচ্ছে বিছানার কিনারে নিঃস্তব্ধ বসে আছে ভেজা সাদা আর সোনালী চুল কাঁধে লেগে আছে, চোখ দুটো স্থির, যেন কোনো কিছু অনুভব করার ক্ষমতাই হারিয়ে ফেলেছে সময় যেন থেমে গেছে এই নীরব রুমটায়।
প্রায় দশ মিনিট পর ওয়াশরুমের দরজাটা ধীরে খুলে যায়।আবরার বেরিয়ে আসে গা থেকে হালকা বাষ্প উঠছে, চুলের প্রান্তে এখনো পানির ফোঁটা ঝুলে আছে চোখে ক্লান্তি, তবুও একরাশ কোমলতা মেশানো দৃষ্টি।
সে একটু দূরে দাঁড়িয়ে কুহেলির দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ কুহেলি একটুও নড়ে না। সেই একই ভঙ্গি হাত দুটি কোলে রাখা, দৃষ্টি শূন্যে স্থির।
আবরার নিঃশব্দে এগিয়ে আসে, তারপর বিছানার পাশে বসে।তার কণ্ঠ নরম, কিন্তু তাতে এক অদ্ভুত উষ্ণতা মিশিয়ে বললো,
কি হয়েছে আমার সাহসী বউয়ের…?আজকে যে সাহস দেখালে, তাতে তো আমি নিজেই ভুলে গেছিলাম যে আমি একজন মাফিয়া।
আবরার হালকা হাসে, কুহেলির দিকে তাকিয়ে বলে,বাট তোমার এই রূপটা আই লাইক ইট।
শব্দগুলো যেন ঘরের নিস্তব্ধ বাতাসে গলে যায়।
হঠাৎই কুহেলি দু’হাত বাড়িয়ে আবরারের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে।এক মুহূর্তে তার নীরবতা ভেঙে যায় হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে কুহেলি বলে,
আমার সাথেই কেনো এরকম হলো আবরার..? আমি তো নিজের সব টা দিয়ে ভালোবেসেছিলাম তাকরিম কে আর ও কি করলো আমার মা বাবা কেই মেরে ফেললো..? আমার জীবনের সব খুশি কেড়ে নিলো..? আমি দিনের পর দিন কষ্ট পেতাম কান্না করতাম আর কতো ছটফট করতাম সব দেখতো লোকটা তাও কি মায়া হতো না..? যদি আগেই সত্যি টা বলে দিতো তাহলে কি আমি ভুল কাজে যেতাম..? যদি আমার কাছে যেয়ে মাফ চেয়ে নিতো তাহলে আমি ওকে মারতাম না কিন্তু দিনের পর দিন আমাকে ভুল পথে ঠেলে দিয়েছে..! আমার সাথে কেনো এটা হলো আমি এখন কি নিয়ে বাঁচবো..? আমার আর কেউ রইলো না আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম একদম নিঃস্ব হয়ে গেলাম…!
আবরার কুহেলি কে আরো শক্ত করে জরিয়ে ধরে বললো, কে বলেছে তোমার কেউ নেই তুমি একা..? তুমি একা না পাখি আমি আছি তো আমি সব সময় তোমাকে আগলে রাখবো, আমি… আমি ভালোবাসার মানে ঠিক কি তা বুঝি না জানি না আর বুঝতে বা জানতে চাই না। তবে আমি শুধু জানি তুমি আমার সাথে থাকলে আমার ভালো লাগে, আর কেনো ভালো লাগে তা জানিনা। আমি তোমাকে ভালোবাসি না তবে আমার মন চাই তুমি আমার সাথে থাকো আর আমি আমার মনে কথা সব সময় শুনি তাই তোমাকেও আমার সাথেই থাকতে হবে…! আর কখনোই এই সব কথা যেনো তোমার মুখে না শুনি।
কুহেলি তখনো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে আবরার ওর বুকে থেকে কুহেলির মুখ খানা দুই হাত দিয়ে উপরের তুললো, কুহেলির অশ্রু ভেজা চোখে আবরারের লাল টকটকে মনিওয়ালা চোখের দিকে তাকালো বুঝার চেষ্টা করলো এই চোখের ভাষা কিন্তু না এই চোখের ভাষা এতোটাই গভীর যে তা বুঝা ওর পক্ষে সম্ভব না।
কুহেলি তখনো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে তার কাঁধ কাঁপছে, আঙুলগুলো আবরারের খালি পিঠে শক্ত করে আঁকড়ে ধরা চেরি ঢুকে গেছে তবুও আবরার কিছু বলছে না কুহেলির প্রতিটি নিঃশ্বাসে কষ্টের ভার যেন আরো বেড়ে যাচ্ছে।
আবরার ধীরে ধীরে ওর মুখটা বুক থেকে আলগা করে নেয় দুই হাতের তালু দিয়ে কুহেলির মুখখানা আলতো করে তুলে ধরে ওর আঙুলের ছোঁয়া গরম, অথচ নরম যেন সেই ছোঁয়াতেই আশ্রয় লুকিয়ে আছে।
কুহেলির চোখ ভিজে অশ্রুতে। লালচে পাতা ভেজা পাপড়ি, তবুও সেই চোখে একরাশ অসহায় সৌন্দর্য। কুহেলি তাকায় সোজা আবরারের চোখের দিকে।সেই চোখ লাল টকটকে যেন রক্তের রঙ মিশে আছে ভালোবাসার ভেতর মনির মতো চকচকে, অথচ গভীরতা এমন যে কেউ চাইলে তল পাওয়া যায় না।
কুহেলি কিছু বলতে চায়, কিন্তু শব্দ বের হয় না।
তার ঠোঁট কাঁপে নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসে।
কুহেলি শুধু তাকিয়ে থাকে, বোঝার চেষ্টা করে এই চোখের ভাষা কী বলে?ভালোবাসা, না ভয়, না কি প্রতিশ্রুতির কোনো অদৃশ্য শপথ?
কিন্তু না এই চোখের ভাষা এতটাই গভীর, এতটাই অচেনা যে তা কুহেলির পক্ষে পড়া সম্ভব না।
তার ভেতরে কেমন যেন অদ্ভুত অনুভূতি জন্ম নেয়
ভয় নয়, আকর্ষণও নয় বরং এক অজানা টান, যে টান তাকে টেনে নিয়ে যায় আবরারের ভেতরের অন্ধকারে।
আবরারের মুখ আস্তে আস্তে কুহেলির মুখের দিকে এগোতে লাগলো কুহেলির বুক ধক ধক করতে লাগলো আবরার কুহেলির চোখে থেকে গালে গড়িয়ে পড়া অশ্রু গুলো জিহ্বা দিয়ে চেটে নিলো..! সাথে সাথে কুহেলির সারা শরীর কেঁপে উঠলো তা দেখে আবরার হাসলো তবে খুবই ক্ষীন সময়ের জন্য..! আবরার নিজের মুখ কিছু টা দূরে সরিয়ে বললো,
আজকের পর থেকে তুমি কাঁদলে শুধু আমার জন্যই কাঁদবে আর হাসলে শুধু আমার জন্যই হাসবে বুঝলে…?!
আবরারের কথা শুনে কুহেলি চোখ পিটপিট করে খোলে কাঁপা কন্ঠে বললো,
সমুদ্রে যে পাথর নিক্ষেপ করলো সে কখনোই বুঝবে না পাথর কতো টা গভীরে গেলো…?!
ঠিক তেমনি আঘাত করা ব্যাক্তি টা কখনোই বুঝবে না, আঘাত প্রাপ্ত ব্যাক্তি কতো টা কষ্ট পেলো…!
আবরারের কষ্ট লাগলো আবরার জেলাস ফিল হলো ওর বউ কেনো অন্য কারো জন্য কষ্ট পাবে অন্য কারো জন্য কাঁদতে..? ওর বউ তো শুধু ওর জন্য কাঁদবে ওর জন্য কষ্ট পাবে আবার ওর জন্যই হাসবে…!
এরপর হঠাৎ আবরারের চোখ কুহেলির গোলাপি তরতর করে কাঁপা অধরের দিকে গেলো এক ঘোর লাগার দৃষ্টিতে আবরারের তাকালো, কুহেলি ওর বুঝতে পেরে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে চাইলো কিন্তু আবরার এক হাত দিয়ে কুহের পাতলা কোমড় খানা শক্ত করে জরিয়ে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো অপর হাত কুহেলির চুলের ভাঁজে দিয়ে শক্ত করে চুল ধরলো কুহেলি কিছু বলতে যাবে তার আগেই আবরার কুহেলির উষ্ঠজুগর চেপে ধরে নিজের রক্ষ উষ্ঠ দিয়ে। সাথে সাথে কুহেলি মৃদু গোঙানি দিয়ে উঠে, আবরার কুহেলির থেকে এরকম আওয়াজ শুনে আরো বেশি উন্মাদ হয়ে যায়।
আবরার পুরো উন্মাদের মতো চুম্বন করতে থাকে যেনো অনেক দিনের না পাওয়ার জিনিস পেয়ে নিজের তৃষ্ণার্ত তৃষ্ণা মিটাচ্ছে..! কখনো অধর জোরে বিচরণ করছে তো কখনো চুষে নিচ্ছে বা কখনো শুধু একভাবে চুম্বন করে যাচ্ছে আস্তে আস্তে আবরারের চুলে থাকা হাত নেমে এলো নিচের দিকে তারপর কুহেলির জামার নিচে ঢুকিয়ে দিলো। হাত দিয়ে স্পর্শ করতে লাগলো কুহেলির উদরে ঠান্ডা হাতের স্পর্শে যেনো কুহেলি নেতিয়ে গেলো যেমন বড় কোনো গাছের নিচে পড়লে চোখ গাছ নেতিয়ে পড়ে তেমন…!
আবরার আস্তে করে ওর অধর খানা ছাড়লো কিন্তু হাতের স্পর্শ আরো গাঢ় হলো, হাত একেবেকে উঠলো উপরের দিকে আবার কখনো নিচের দিকে কুহেলি আর না পেরে ছটফট করতে করতে উদ্বিগ্ন কন্ঠে বললো, ছেড়ে দিন প্লিজ আপনার এরকম শক্তপোক্ত স্পর্শ আমি নিতে পারি না।
আবরার নিজের কাজ চালাতে চালাতে হাস্কি কন্ঠে ফিসফিস করে বললো, কিন্তু তোমাকে নিতে হবে মাই ফা*কিং হোয়াট রোজ সারাজীবন নিতে হবে কজ আমি রোমান্সের সময় কোনো অজুহাত শুনবো না আমি আমার টা ঠিক বুঝে নিবো…!
কুহেলি এবার ফুঁপিয়ে উঠে বলে, কিন্তু আমি ব্যাথা পাই তো…!
আবরার স্নান হেসে বলে, তোমার বর একটু আকটু রোমান্স করতে পছন্দ করে না বেবি, তোমার বর যেখানে ছুঁবে যেখানে একদম চিহ্ন রেখে যাবে তাই তুমি এটা যতো তাড়াতাড়ি বুঝবে তত ভালো।
ঠিক তখনি দরজায় শব্দ হয় আবরার বিরক্ত হয়ে উঠে দাঁড়িয়ে দরজার কাছে যায় তারপর দরজা খোলে দেখে ফেটিক্স আবরার রাগি কন্ঠে বলে কি প্রবলেম এভাবে দরজায় শব্দ করছো কেনো..?
আবরার রেগে আছে দেখে ফেটিক্স ভয় পাই তবুও মিন মিন করে বলে স্যার আপনি মন্ত্রী কে মেরেছেন না ঐটা নিয়ে অনেক ঝামেলা হয়ছে মন্ত্রীর বোনের ছেলে রিফাত অনেক বেশি লাফালাফি করছে আর বলেছে আপনি দেশে ফিরার আগ পর্যন্ত নাকি আপনার সব বিজনেস বন্ধ করে দিবে..!
আবরার রাগ তরতর করে মাথায় উঠে যায় রাগি কন্ঠে চিবিয়ে চিবিয়ে বলে এতো এতো লোক কি আমি বাল ফালাইতে রাখছি…? তাড়াতাড়ি প্রাইভেট জেট রেডি করো আমরা আধা ঘন্টার মধ্যেই বের হবো…! তারপর দেখি ঐ মন্ত্রীর বোনের ছেলের কতো বড় কলিজা। ওর কলিজা মেপে না দেখা অবধি আমার শান্তি হবে না।
ফেটিক্স মাথা নিচু করে বললো, আচ্ছা। আবরার সাথে সাথে দরজা লাগিয়ে দিলো। আর ফেটিক্স দীর্ঘশ্বাস ফেললো, আবরারের হুটহাট করে রাগ উঠে যাওয়া টা নতুন কিছু না…! তারপর ফেটিক্স পা বাড়ালো নিজের কাজের দিকে।
চলবে....!
সামনে আরো নতুন চরিত্র বের হবে…..!😑🤏
মাইটক্সিকহাসব্যান্ড
পর্ব১৪শেষাংশ
কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা
হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫
বিমানবন্দরের কাচের দরজা পেরিয়ে বাইরে বেরিয়েই কুহেলির মুখে হালকা বাতাস এসে লাগল। বাংলাদেশের রাতের গন্ধ অদ্ভুত চেনা অথচ নতুন। আবরার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল গম্ভীর মুখে পিছনে বডিগার্ড লাগেজ টানছিল ট্যাক্সির দিকে। আকাশে ছিটেফোঁটা তারা, নিচে শহরের আলো ঝলমলে সব মিলিয়ে এক ধরনের নিস্তব্ধ উষ্ণতা ছড়িয়ে আছে বাতাসে।
প্রায় রাত দশটা ছুঁইছুঁই। এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়েই গাড়ি তে উঠলো ওরা,দীর্ঘ ফ্লাইটের ক্লান্তিতে কুহেলির চোখ বুঁজে আসছিল, কিন্তু তার ভেতরে এক অজানা কৌতূহলও ছিল আবরার ওকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? সেই জঙ্গলের বাড়িটা?
কুহেলি ভেবেছিল হয়তো সেই ভয়ানক নিঃসঙ্গ বাড়িতে উঠতে হবে,যেখানে একসময় কেবল ছায়া আর শীতলতা বসবাস করত। কিন্তু গাড়ি যখন শহরের ব্যস্ত রাস্তা পেরিয়ে উঁচু দালানের দিকে মোড় নিল, তখন তার ধারণা ভেঙে গেল।
আবরার নিঃশব্দে বলল,
এই তো, পৌঁছে গেছি।
কুহেলি অবাক চোখে জানালার বাইরে তাকাল। চকচকে গেট, নিরাপত্তারক্ষী, আলোকিত বাগান সব মিলিয়ে যেন কোনো বিলাসবহুল সিনেমার দৃশ্য। গাড়ি থামতেই গেট খুলে গেল, আর ভেতর থেকে দেখা গেল এক বিশাল ডুপ্লেক্স বাড়ি দোতলা, কাচের বারান্দা, ছাদের বাগানে ঝুলে থাকা লাইটগুলো হালকা দুলছে বাতাসে।
তার মনে অদ্ভুত এক স্বস্তির ঢেউ উঠল।
ভালোই হয়েছে অন্তত সেই গা ছমছমে জায়গাটা নয়, মনে মনে ভাবল কুহেলি।
আবরার বলল চলো ভেতরে যাই। ক্লান্ত লাগছে নিশ্চয়ই?
কুহেলি মৃদু হাসল, হ্যাঁ, একটু। কিন্তু… আমি ভেবেছিলাম আপনি আমাকে সেই জঙ্গলের বাড়িতে নিয়ে যাবে।
আবরার গম্ভীর কন্ঠে বললো, কেনো এই বাড়ি ভালো লাগছে না..?
কুহেলির চোখে এক মুহূর্তের জন্য অদ্ভুত ছায়া নেমে এলো যেন সেই জঙ্গলঘেরা বাড়িটা শুধু ইট-পাথরের নয় ভেতরে লুকিয়ে আছে কিছু স্মৃতি, কিছু অজানা রহস্য।
কুহেলি আমতা আমতা করে বললো,না ভালো লাগছে আমি তো…!
কথা খানা শেষ করার আগেই আবরার আচমকা কুহেলি কে কোলে তোলে নিয়ে বাড়ির মেইন দরজার দিকে হাটা ধরলো, কুহেলি হকচকিয়ে গেলো আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো অনেক গুলো বডিগার্ড যদিও ওদের দিকে তাকিয়ে নেই তবুও কুহেলির লজ্জা লাগলো কুহেলি নিচু কন্ঠে মিনমিন করে বললো,
আমাকে নামিয়ে দেন সবাই দেখছে আমার অনেক লজ্জা লাগছে প্লিজ নামিয়ে দেন।
আবরার গম্ভীর কন্ঠে বললো, কানের নিচে একটা দিবো বেয়াদব মেয়ে স্বামী কোলে বসে অন্য কেউ দেখছে সেটা খেয়াল করছো…? রুমে যেয়ে এর শাস্তি দিবো…!
সাথে সাথে কুহেলি আবরারের বুকে মুখ লুকিয়ে চুপচাপ লেপে রইলো তা দেখে আবরার স্নাত হাসলো কিন্তু কুহেলি তা দেখলো না।
বাড়িতে ঢুকে আবরার সোজা রুমে গেলো কুহেলি কে নিয়ে তারপর খাটে নামিয়ে দিয়ে বললো, তুমি ফ্রেশ হয়ে রেস্ট নাও আমার কাজ আছে আমি বাহিরে যাবো। সাথে সাথে কুহেলি বলে কোথায় যাবেন..?
আবরার বাকা হেসে বললো, কেনো আমাকে কি মিস করবে নাকি তুমি বেবি…?!
কুহেলি এবার নিজের প্রশ্নে নিজেই ফেঁসে গেলো আমতা আমতা করে বললো, না এমনি জিজ্ঞাসা করছিলাম আর কি…!
আবরার ঝুকে কুহেলির ঠোঁটে কয়েক বার ঠোঁট ছোঁয়ালো হালকা করে সাথে সাথে কুহেলির সারা শরীর হালকা কেঁপে উঠলো তা দেখে আবরার কুহেলির কানের কাছে মুখ নিয়ে হাস্কি কন্ঠে ফিসফিস করে বললো,
এখন তোমার হাসব্যান্ডের কাজ আছে সো এসব কাঁপা কাপি তোলে রাখো এসে সব এক সাথে পোষে দিবো..! বলেই ওর কানে হালকা করে কামড় দিয়ে উঠে দাঁড়ায় তারপর চলে যেতে নেয় দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আবার পিছনের দিকে তাকিয়ে বলে,
ডালিং খেয়ে নিবো কজ আমি এসে তোমাকে খাবো বলেই সেই চিরচেনা ভায়ঙ্কর স্নান হাসি দিয়ে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে। কুহেলি তা দেখে ঠোঁটের কোণে এক চিল হাসি দেখা গেলো….!
~~
রাত নয়টা…!
রুমজুড়ে নিস্তব্ধতা বাতাসে হালকা পারফিউমের গন্ধ, জানালার পাশে আধখোলা পর্দা দুলছে আলতোভাবে। রুমের ভেতর এক নারী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন চোখের পাতা কাঁপছে, যেন কোনো স্বপ্নের ভেতর হারিয়ে গেছে সে হঠাৎই নিস্তব্ধতা ভাঙলো।বালিশের নিচে রাখা ফোনটা হালকা ভু…ভু… শব্দে কেঁপে উঠলো। রুমটা অন্ধকার, শুধু ফোনের আলো এক মুহূর্তের জন্য মুখটাকে আলোকিত করে তুললো।
সে চমকে উঠে বসল। নিঃশ্বাস দ্রুত হয়ে গেলো, যেন কোনো আশঙ্কা বুকে চাপ দিচ্ছে। চোখ আধখোলা তবুও তাড়াহুড়ো করে ফোনটা ধরলো কে ফোন করেছে, সেটাও না দেখে।
আর সাথে সাথেই তার কণ্ঠে বিস্ফোরণ কুহেলি! তুই..? কোথায় ছিলি এতোদিন?
ওর কণ্ঠে রাগ, বিস্ময়, আর কিছুটা স্বস্তির ছোঁয়া যেন দীর্ঘদিনের হারানো কোনো ছায়া হঠাৎ ফিরে এসেছে।আমি তর বাড়ি পর্যন্ত গেছিলাম, কুহেলি! সে তড়িঘড়ি বলে যেতে লাগলো গলা কাঁপছে,তর বাড়িতে তালা দেওয়া ছিল! কোথায় ছিলি তুই বল!
ফোনের ওপাশে একচিলতে হাসি ভেসে এলো একটা মিষ্টি, শান্ত হাসি। সেই হাসি শুনেই শায়লার বুকের ভার কিছুটা হালকা হলো কুহেলি হাসছে ঠিক সেই আগের মতো যেমন হাসত কলেজের ছাদে দাঁড়িয়ে বাতাসে সাদা আর সোনালী মিশ্রিত চুল উড়িয়ে দিয়ে।
শায়লা তো এরকমই সবসময় ছটফটে, মুখে রাগ ঝরে, কিন্তু ভিতরে ভালোবাসায় ভরা ওর কণ্ঠে উত্তেজনা রাগ, আর স্বস্তি সব একসাথে মিশে গেল।
তুই জানিস আমি কতটা টেনশনে ছিলাম?
শায়লা ঝাঁঝালো গলায় বলে উঠলো,শয়তান ছেরি! এখন আবার এসে বলছিস শুন! আগে একবার বলে গেলি না কেনো রে?
একটু থেমে নিঃশ্বাস টেনে বললো,আর আমি বা কাকে বলি, হ্যাঁ? আমি কি কারো কিছু হয় নাকি?
ওর গলায় কষ্টের ঝাঁজ, কিন্তু কুহেলি তবুও হেসে ফেললো সেই নরম, মায়াময় হাসি।
আরে আস্তে শোন আমার কথা আগে ওর কণ্ঠ নরম, তবু তাতে একটা অদ্ভুত রহস্য লুকিয়ে আছে।
শায়লা আবার মুখ ভার করে বললো,
শুনবো না কী করবি?
ফোনের ওপাশে নীরবতা। তারপর কুহেলির হাসি ভেসে এলো, এবার একটু আদুরে সুরে তুই তো আমার জান, সোনা বাবু! রাগ করে না প্লিজ কারণ তুই রাগ করলে তুই আরো কিউট লাগে। কিন্তু আমি চাই না আমার বেস্টুকে কেউ কিউট বলে নিয়ে যাক উড়াল দিয়ে!
শায়লার ঠোঁটে না চাইলেও একফোঁটা হাসি এসে খেললো। কিন্তু সেই হাসির আড়ালে এখনো একটা প্রশ্ন লুকিয়ে আছে কুহেলি এতদিন কোথায় ছিল? কেন হঠাৎ এমনভাবে চলে গেছিলো?
ফোনের ওপাশে কুহেলির কণ্ঠ এবার অনেক শান্ত, অনেক পরিচিত শোনালো বাতাসে যেন একটুখানি নরম উষ্ণতা মিশে গেল।
আচ্ছা শুন কুহেলি ধীরে বললো আমাদের কি রেজাল্ট দিছে?
শায়লা একটুখানি অবাক হলো প্রশ্নটা শুনে।
রেজাল্ট সেই একাডেমিক ফলাফলের কথা, যার মধ্যে এখনো তাদের হাসি চাপা উত্তেজনা আর একসাথে কাটানো মুহূর্তগুলো লুকিয়ে আছে।
না রে, দেয় নি এখনো,শায়লা নরম গলায় উত্তর দিলো দিবে কালকে। তুই আসবি না? আর আমার প্রশ্নের উত্তর দে, তুই কোথায় ছিলি এতদিন?
ওর গলায় এবার একটুখানি মান-অভিমান মেশানো সুর।
ফোনের ওপাশে কিছুক্ষণের জন্য নিস্তব্ধতা নেমে এলো শুধু শোনা গেল কুহেলির নিঃশ্বাসের শব্দ যেন কিছু বলতে চায়, আবার যেন থেমে যেতে চায়।
তারপর কুহেলি আস্তে বললো,আচ্ছা
একটা ছোট্ট শব্দ তবুও তার ভেতরে লুকানো ছিল অসংখ্য অপ্রকাশিত কথা।
তারপর দু’জনের মধ্যে আরেকটু কথা হলো অতীত, রেজাল্ট, হালকা হাসি, কিছু নিরীহ কথাবার্তা।শায়লা ধীরে ধীরে স্বস্তি ফিরে পেলো, ভাবলো সব আগের মতোই আছে।
কিন্তু হঠাৎ কুহেলি বললো,ঠিক আছে, পরে কথা বলি।আর কোনো কিছু না বলে ফোন কেটে দিলো।
লাইনটা কেটে যাওয়ার পর রুম টা আবার নিঃস্তব্ধ হয়ে গেল।শায়লা কিছুক্ষণ ফোনের পর্দার দিকে তাকিয়ে রইলো স্ক্রিনে এখন শুধু লেখা Call Ended.
শায়লার মুখে মিষ্টি হাসি এতো দিন পর কুহেলির সাথে কথা বললো ভালো লাগছে মন টা। হঠাৎ পিছনে থেকে গম্ভীর কন্ঠে ভেসে এলো কে ফোন করেছিলো রে..? সাথে সাথে শায়লা হকচকিয়ে যেয়ে পিছনে তাকায়….!
চলবে....!
Share On:
TAGS: তাসনিম তালুকদার বুশরা, মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৭
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৯
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১০
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৬
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৫
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৮