ভালোবাসার_সমরাঙ্গন || ৭ ||
সারিকা_হোসাইন
মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে নোমান আর রণ।রণ’র হাত কেটে ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরছে।সেটা এক পলক দেখলো নোমান।মানুষটাকে তার কাছে অদ্ভুত রহস্যময় ঠেকছে।একজন আর্মি পার্সন রহস্যময় জটিল হবে এটাই স্বাভাবিক।কিন্তু নিজের হাতের মুঠোয় কোন দুঃখে মানুষটা কাঁচের গ্লাস চূর্ণ করবে?
নিজের আকাশ সম চিন্তা ভাবনার সমাপ্তি ঘটিয়ে নোমান ব্যস্ত গলায় বলে উঠলো
“মিস্টার রণ আপনার হাত কেটে রক্ত ঝরছে।এটার চিকিৎসা দরকার।নয়তো পরে অনেক সাফার করতে হবে আপনাকে।
রণ নির্লিপ্ত নির্বিকার ভঙ্গিতে গম্ভীর গলায় জবাব দিলো
“এসব মামুলি বিষয় আমার জন্য।গ্লাস টা বড্ড ঠুনকো নোমান সাহেব।ধরতেই গুঁড়িয়ে গেলো।আসলে গ্লাস ঠুনকো নাকি হাতটাই শক্ত বুঝতে পারছি না।
বোকার মতো হেসে প্রস্থান নিতে চাইলো নোমান।এই জটিল মানুষটার সামনে তার কেমন যেনো অস্বস্তি ফিল হচ্ছে।নোমান মাথা চুলকে সামনে পা বাড়াতেই রণ ভারী গলায় বললো
“একটু আগে যেই পাখির সৌন্দর্য বিশ্লেষণ করছিলেন সে এক পাখিওয়ালার পোষ মানানো পাখি।পাখিওয়ালা বড্ড দয়ালু পাখিটার উপর।তাই উড়ে বেড়ানোর স্বাধীনতা দিয়েছে।ওই পাখি ভুলেও শিকার করার কথা মাথায়ও আনবেন না।পাখি ওয়ালা পাখির প্রতি দয়ালু হলেও অন্যের প্রতি বড্ড নির্দয় ।
বলেই পকেট থেকে রুমাল বের করে নিজে নিজেই কাটা হাতে পেঁচিয়ে গিট্টু দিয়ে ঘরের ভেতর ঢুকে গেলো।
মৌনতা ড্রয়িং রুমে এসে শায়লার কাছে ভীত মুখে বসে মিনমিন করে জিজ্ঞেস করলো
“আমায় ডেকেছিলে?
শায়লা ভুত দেখার মতো চমকে শুধালো
“ও বাবাগো!কোন ঠেকায় তোকে ডাকতে যাবো?কোনো কাজে আদৌ লাগে আপনাকে মা জননী?
মায়ের ত্যাড়া কথায় কপাল কুঁচকে অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলো মৌন।রণ’র চোখ দুটো বুকের ভেতর হাঙ্গামা দাঙ্গা বাধিয়েছে।অমন ভয়ানক চাহনি মনে পড়তেই কেমন গলা শুকিয়ে উঠছে।শরীর অনুভূতি শূন্য মনে হচ্ছে আর হাত কেপে কেঁপে উঠছে।
এদিকে মৌনতার ফ্যাকাসে রঙ হীন মুখের পানে তাকিয়ে তনু নামক মেয়েটি হাতের ইশারায় মৌনতাকে ডাকলো।মৌনতা তাকাতেই মেয়েটা আবারো দোতলায় যেতে ইশারা করলো।মৌন চুপচাপ আলগোছে উঠে তনুর সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।মৌনতাকে বগল দাবা করে তনু সিঁড়ি বেয়ে ছুটলো নিজের ঘরে।মেয়েটির আকস্মিক এহেন টানা হ্যাচড়াতে অবাক হলো মৌনতা।সে কিছু জিজ্ঞেস করবার আগেই তনু তাকে নিজের কক্ষে এনে দরজা আটকে দিলো।এরপর হাসি মুখে শুধালো
“তোমার মিলিটারি ভাইয়ের কোনো এফেয়ার আছে কারো সাথে?
মৌনতা দ্বিধানিত মাথা নাড়ালো।এরপর বললো
“জানামতে নেই।কিন্তু অজানায় থাকতেও পারে।
নিজের ঝলমলে চুলগুলো কাঁধের দুপাশে ছড়িয়ে তনু বলে উঠলো
“একটা হেল্প করবে?
“কি হেল্প?
মৌনতার প্রশ্নে ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়ে বইয়ের তাক থেকে একটা চিঠি বের করে নিয়ে এলো তনু।সেটা মৌনতার হাতে গুঁজে বলে উঠলো
“এটা উনাকে দেবে প্লিজ।বলবে আমি দিয়েছি।
ইতস্ততা আর ভয় নিয়ে মৌনতা বললো
“যদি নিতে না চায়?কারন উনি একটু শক্ত মনের মানুষ।
এবার চিন্তার রেখা ভাসলো তনুর চোখে মুখে।দাঁত দিয়ে নখ কামড়ে তনু বলে উঠলো
“উনার ফোন নম্বর দিতে পারবে?
মৌনতা নিঃশব্দে মাথা নাড়িয়ে বলে উঠলো
“উনি ফোন চালায় না।কেউ তার নম্বর জানে না।বাসায় কেউ উনার সাথে যোগাযোগ করতে পারে না।বড় জটিল মানুষ তিনি।
তনু তপ্ত শ্বাস ফেলে বলে উঠলো
“তাহলে তুমি এক কাজ করো।তুমি এটা জোর করে উনার হাতে গুঁজে দিও।নয়তো তার অগোচরে তার ঘরে রেখে এসো।বাকিটা আমি সামলে নেবো।
মৌনতা চিঠি খানা হাতে চেপে ঘাড় কাত করে বেরিয়ে এলো।
মৌনতার যাবার পানে তাকিয়ে উৎফুল্ল হয়ে হাত দিয়ে নিজেকে বাতাস করতে করতে তনু বলে উঠলো
“বোন বোন জা হবো।উফ দারুন ইন্টারেস্টিং ব্যাপার।
রেহনুমা ছেলের হাতে রুমাল বাধা দেখে উৎকণ্ঠা নিয়ে সকলের অগোচরে চেপে শুধালেন
“সেকি বাবা হাত কা টলো কি করে?
হাতের পানে তাকিয়ে রণ ভাবলেশহীন জবাব দিলো
“ও কিছুনা মা।বাইরে পাখির খাঁচার ওখানে ভাঙা মরিচা ধরা টিনে পোঁচ লেগে কেটে গেলো।তেমন লাগেনি।
“তোর হাতে টিনের পোচ লাগতে যাবে কোন দুঃখে?
“বে খেয়ালে হাত রেখেছিলাম।
আর কিছু জিজ্ঞেস করলেন না রেহনুমা।এক পলক ছেলের হাত দেখে বলে উঠলেন
“বাসায় গিয়ে মলম লাগিয়ে নিতে হবে।
একটু পর দেওয়ান মির্জা সবাইকে ডেকে বসার ঘরে বসালেন।আকরাম কাজী কিছু কাগজপত্র নিয়ে হাজির হলেন।ধীরে ধীরে দূতলা থেকে নিচে আনা হলো অনুকে।সোনালী জামদানিতে তাকে বড্ড সুন্দর লাগছে।রণ’র ভয়ে চারপাশে মাথা তুলে কিচ্ছুটি দেখলো না মৌনতা।শায়লা অনুর রূপে মুগ্ধ হয়ে হাতের বালা খানা খুলে অনুর কোমল হাতে পরিয়ে বলে উঠলো
“ছোট মা খুশি হয়ে আজ এই টুকুই দিলাম।পরের বার ভরিয়ে দেবো।
সৌম্য মুগ্ধ চোখে অনুকে দেখলো।তার মনে হলো বিয়ের সময় মেয়েদের আলাদা একটা সৌন্দর্য শরীরে বসতি স্থাপন করে।নয়তো অনুকে এর আগে এতো সুন্দর লাগেনি কেনো.?এ যে চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য!
অনুর বাবা মা আত্মীয় স্বজনের সাথে আলাপ চারিতা শেষে আকদ সম্পন্ন হলো।সৌম্য খাতায় সিগনেচার করার আগ মুহূর্তে ইশারায় রণ’কে থ্যাঙ্কস জানালো।
এরপর ঘসঘস করে সাইন করে বুকে হাত গুঁজে বসে রইলো।কাজী অনুকে দেনমোহর এর কাগজে সাইন করতে বললেন।যেহেতু দীর্ঘ দিনের চেনাজানা ভালোবাসা তাই অনুও সময় নিলো না।সকলের হাসি আনন্দ আর খুনসুটির মধ্যে আকদ শেষ হলো।দেওয়ান মির্জা সকলের সাথে আলাপ করে ঘোষণা দিলেন আগামী শুক্রবার বিয়ে।
বর কনেকে আলাদা ঘরে সময় কাটানোর জন্য পাঠানো হলো সন্ধ্যার আগে মুহূর্তে।আর বসার ঘরে সকলের চা নাস্তার আয়োজন করা হলো।অনুদের বাড়ির কাজের মেয়ে আর তনু আয়োজন করলো সব কিছুর।ট্রে তে করে তনু যখন ধোয়া উঠা চা নিয়ে এলো তখন একপলক মৌনতার পানে তাকালো রণ।মেয়েটা সাংঘাতিক ভয়ে গুটিয়ে আছে।চড়ুইয়ের মতো চঞ্চল মেয়েটার এহেন নীরবতায় রণ’র রাগ হলো।তবুও নিজেকে সংযত করে বসে রইলো হাত কামড়ে।
সকলের হাতে চায়ের পেয়ালা তুলে দিতে দিতে মৌনতার সামনে এসে টেবিলের সাথে হোঁচট খেয়ে পড়ে যেতে উদ্যত হলো তনু।হাতের ট্রে ভর্তি গরম চা পড়তে নিলো মৌনতার শরীরে।রণ বসা থেকে উঠে এসে তনুকে ট্রে সহ ছুড়ে মারলো মেঝেতে।ছিটকে দূরে পড়লো তনু আর মেঝেতে ঝনঝন শব্দে ভাঙলো কাপ।মেঝেতে পরেই আর্তনাদ করে উঠলো তনু।
এদিকে রণ চোখ মুখে ব্যস্ততা ফুটিয়ে উঁচু গলায় বলে উঠলো
“তোর গায়ে লেগেছে?ঠিক আছিস তুই?
সকলেই এহেন কাণ্ডে বিস্মিত হলো।শায়লা গিয়ে তনুকে মেঝে থেকে তুলে সোফায় বসালো।মেয়েটি এখনো কেমন ঘোর থেকে বেরুতে পারেনি।তনুর মা দৌড়ে এসে কাজের মেয়েকে সাথে নিয়ে ভাঙা সিরামিকের টুকরো পরিস্কার করে মেয়ের কাছে এলেন।তনু হতভম্ব নজরে রণ’র পানে তাকিয়ে রয়েছে।অথচ মানুষটার সমস্ত ধ্যান জ্ঞান মৌনতা কে ঘিরে।
রণ মৌনতার জামা উল্টে পাল্টে হাত পা ছুয়ে দেখলো।বিষয়টা শায়লার নজর এড়ালো না।রেহনুমা স্তব্ধ হয়ে ছেলের পাগলামি দেখলেন।দেওয়ান মির্জার কাছে তনু মেয়েটাকে বড্ড বেখেয়ালি আর ইচড়ে পাকা মনে হলো।এসে থেকেই মেয়েটার অতিরিক্ত পাকামো দেখেছেন তিনি।হাত অপরিপক্ক অথচ মাতব্বরি পক্ক।
আদনান মির্জা আর সাদনান মির্জা ব্যস্ত হয়ে তনুকে নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করতে লাগলেন।লজ্জিত হলেন সব কিছুর জন্য অনুর বাবা।সে তনুকে ঘরে যাবার নির্দেশ দিলেন।
নোমান নামক ছেলেটি দূর থেকে সব পরখ করে যা বোঝার বুঝলো।তাই আর ঘরে না ঢুকে বাইরে পাখিদের সঙ্গে একান্তে গল্প করতে মজল সে।
“বুঝলি পাখি আমার ভালোবাসা শুরুর আগেই শেষ হয়ে গেলো।মিলিটারি বড্ড হুঁশিয়ারি পাখিওয়ালা।
রাতের খাওয়াদাওয়ার পর সকলেই বিদায় নেবার জন্য তৈরি হলো।মৌনতা ঘুমে দুনিয়া তাকিয়ে দেখতে পারছে না।শরীর ঢুলছে সাংঘাতিক ঘুমে।মনে হচ্ছে বিছানায় শরীর ছোয়াতে পারলেই ধরণীর সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন হবে তার।
ধীরে ধীরে সবার থেকে বিদায় নিয়ে যার যার গাড়িতে উঠলো সকলে।শায়লা মৌনতাকে ডেকে বললো
“আমার সাথে আয় মৌন।
শায়লার ডাক শুনে পা বাড়াতেই রণ বলে উঠলো
“আমার গাড়িতে যাবে ও ছোট মা।তুমি মাহির,মুইন আর ছোট চাচ্চুর সাথে যাও।
মৌনতার ঘুম উবে গেলো এহেন কথায়।শায়লা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাড়িতে উঠে চুপচাপ বসে রইলেন।রণ মৌনতার পানে তাকিয়ে হুংকার ছাড়লো
“চল আমার সাথে তোর হাতের রেখা গণনা করবো।
ভয়ে সিটিয়ে উঠলো মৌনতা।গাড়িতে না উঠে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে রইলো।রণ পুনরায় শীতল কন্ঠে বললো
“চল দেরি হয়ে যাচ্চে।নাকি নোমান শাহরিয়ারকে ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না?
মৌনতা আর দাঁড়ালো না।চপল পায়ে গাড়িতে উঠে বসলো।এরপর রণ ড্রাইভিং সিটে বসে সবাইকে ফেলেই চলে গেলো।
ধীরে ধীরে রণ’র পিছনে এলো বাকি সকলে।
গাড়িতে ভয়ের চোটে ঘুমের ভান ধরে চোখ বুজে পরে রইল মৌন।রণ বার কয়েক সেই ভং ধরা চেহারা দেখলো।মৌনতার এহেন ছলচাতুরীতে রণ’র ক্রোধ সপ্তম আকাশ ছুলো।এরপর হিসিসিয়ে বলে উঠলো
“আমি জানি তুই ঘুমাসনি।চোখ খোল মৌন।নয়তো ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেবো গাড়ি থেকে।
ভয়ে আরো চোখ চেপে পরে রইলো মৌন।রণ গম্ভীর গলায় শুধালো
“ছেলেটির হাত ধরে বেশ সুখ অনুভুত হচ্ছিলো তোর তাই না?তোর ঠোঁটে কমলা রঙের হাসি খেলছিলো।প্রেম করতে মন চেয়েছিলো তার সাথে?
মৌনতা জবাব দিলো না।আরো কিছুক্ষণ বকবক করলো রণ।নিশ্চুপ মৌনতার সাহস দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলো না রণ।সে রাস্তার এক সাইডে জোরে ব্রেক কসে গাড়ি থামালো।আকস্মিক ঝাকুনিতে রণ’র কাঁধে হেলে পড়লো মৌনতার মাথা।
রণ স্তব্ধ হয়ে বসে রইলো।মৌনতার ভারী শ্বাস পড়ছে।মেয়েটা সত্যিই ঘুমিয়ে গেছে।তার এলোমেলো চুল মুখ চোখ জুড়ে হুটোপুটি করছে।আলগোছে সেই এলোমেলো চুলগুলো মৌনতার কানের পিঠে গুঁজে রণ তাচ্ছিল্য হেসে বলে উঠলো
“আমাকে জ্বালিয়ে,পুড়িয়ে নিশ্চিন্তে তুই কি করে ঘুমাচ্ছিস?তুই বড্ড নির্দয় মৌন।তোর দিলে আমার জন্য একটুও দয়া মায়া নেই।তাও আমি তোর কাঙাল।
বলেই গাড়ি স্টার্ট করলো রণ।এরপর এক হাতে মৌনতার মাথা জড়িয়ে অন্য হাতে ড্রাইভিং করে সাবধানে সন্ত্পর্নে ছুটলো বাড়ির মুখে।
পরের দিন খুব সকালে ঘুম ভাঙল মৌনতার।সীয় কক্ষে নিজেকে আবিস্কার করে চোখ ডললো মৌনতা।গত রাতের ঘটনা সবটাই তার কাছে স্বপ্ন মনে হলো।তাই মাথা থেকে সমস্ত চিন্তা ভাবনা ঝেড়ে ফেলে হারমোনিয়াম আর গানের খাতা নিয়ে বসলো দেওয়ান মির্জার দাওয়ার উঁচু জায়গাটায়।এরপর হারমোনিয়াম এ কিছুক্ষন সা রে গা মা বাজনা বাজিয়ে ধরলো রবীন্দ্র সঙ্গীত।
“সেদিন দুজনে দুলেছিনু বনে
“ফুলডোরে বাধা ঝুলনা….
মৌনতার গানের শব্দে ঘুম ছেড়ে উঠে গেলো সকলে।সেই সাথে ডেকে উঠলো দাঁড় কাকের ঝাঁক।
গত রাতে সকলেই দেরিতে ঘুমিয়েছে।সকাল সকাল মেয়েটির এহেন অত্যাচার কারোর সহ্য হলো না।সাদনান মির্জা বিছানাতেই শায়লার উপর চড়াও হলেন।তিনি জোর গলায় বললেন
“নাহ শায়লা নাহ।উহু।এ কিছুতেই আমার মেয়ে নয়।কিছুতেই না।
বলেই কানে আঙ্গুল গুঁজে পাশ ফিরলেন।
মৌনতার সঙ্গীত সাধনা যখন তুঙ্গে তখন ট্রাউজার এর পকেটে এক হাত গুঁজে হাই তুলতে তুলতে বেরিয়ে এলো রণ।এরপর চোখ মুখ কুঁচকে বুকে হাত ভাঁজ করে পুরো গানটা শুনলো।রণ’র মনে হলো হারমোনিয়াম কেঁদে কেঁদে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছে।মৌনতার হাত থেকে এই জড়বস্তু কে রক্ষা না করলে রণ কে ঘোর অভিশাপ দেবে এই হারমোনিয়াম।তাই রণ মৌনতার গানের মাঝেই হাত তালি দিয়ে বলে উঠলো
“বাহ বাহ বা বা..সেরা মৌনতা সাবেরি সেরা।তোর কাছে সাবিনা ইয়াসমিন ও ফেইল।বাহ কি সুরেলা কন্ঠ তোর।বাট গানটা তুই ভুল ভাল গাচ্ছিস।গানটা এভাবে হবে না।
আকস্মিক রণ’র গলা মৌনতার মধ্যে ভয় ঢুকালো।সে হারমোনিয়াম দূরে সরিয়ে মিনমিন করে বলে উঠলো
“তুমি কি করছো এখানে?আর আমি গান ঠিকই গেয়েছি।
রণ মাথা নাড়িয়ে বললো
“তুই ঠিক গান গাসনি তোর গানটা এভাবে হবে মৌন―
“সেদিন দুজনে হেগেছিনু বনে,আশেপাশে পানি ছিলো না…
কাচুমাচু হইয়া,পকেটে খুজিয়া দেখি কোনো টিসু ছিলো না…
চলবে
Share On:
TAGS: ভালোবাসার সমরাঙ্গন, সারিকা হোসাইন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১০
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৮
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২০
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩২
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৬
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৩
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন গল্পের লিংক
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৯
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৬