ভালোবাসার_সমরাঙ্গন || ৫ ||
সারিকা_হোসাইন
সকাল থেকেই মির্জা বাড়িতে শুরু হয়েছে অদম্য হৈচৈ।বাড়ির সকলেই চূড়ান্ত ব্যস্ত।তার চাইতেও ব্যস্ত আক্কাস।তার ভাব গাম্ভীর্য বলে দিচ্ছে এবাড়ির সব কিছুতেই তার আধিপত্য।সে ছাড়া কোনো কিছুর সমাধান নেই।কাজের মেয়ে চামেলি আজ রান্না ঘর থেকে বের হয়ে দুনিয়া দেখতে পারেনি।রেহনুমা শায়লা দুজনেই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত।দেওয়ান মির্জা বাজারে গেছেন জরুরি কাজে।ফিরবেন একটু পর।রণ নিজ ঘরে বসে বসে ল্যাপটপে নিজের কিছু কাজ গুছাচ্ছে।এমন সময় দরজার নক পড়লো।ল্যাপটপ বুজে রেখে রণ গলা বাড়িয়ে ডাকলো
“এসো ভাইয়া।
রণ’র সম্বোধনে দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করলো রেহনুমার বড় ছেলে সৌম্য।ছেলেটা রণ’র বিপরীত।খুব সহজ-সরল আর মিশুকে।মানুষের সাথে ঝামেলা এড়িয়ে চলতে বেশি পছন্দ তার সেই সাথে সকলকে আপন করে নেবার অদ্ভুত ম্যাজিক আছে তার কাছে।মির্জা বাড়ি থেকে শুরু করে পুরো ফতেহপুর গ্রামে সৌম্য’র প্রশংসা শোনা যায়।দেখতেও রণ’র থেকে আলাদা।তাদের দুই ভাইয়ের চেহারায় কোনো মিল নেই।সৌম্য দেখতে রেহনুমার মতো টকটকে ফর্সা।উচ্চতায় সৌম্য’র থেকে চার ইঞ্চি খাটো ।কিন্তু চেহারা রণ’কে ছাপিয়ে।হয়তো শ্যাম বরণের জন্য রণ’র সৌন্দর্য কিছুটা চাপা পড়েছে।
সৌম্য রণ’র বিছানার কোনে বসে উচ্ছসিত গলায় বলল
“কিভাবে বুঝলি আমি?
“বুঝতে পারি ভাইয়া।যেখানে অন্ধকারে চোখ বেঁধে পথের নিশানা খুঁজে শত্রু বধ করি সেখানে কাছের মানুষের চলন বুঝবো না?
“এসব ট্রেনিং দেয় ওরা তোকে?
“আরো অনেক কঠিন।সময় করে বলবো।
“আচ্ছা ওরা ওখানে তোকে তোর প্রিয় মাংস ভুনা খেতে দেয় রোজ রোজ?
সৌম্য’র উজ্জ্বল চোখের পানে তাকিয়ে অল্প হাসলো রণ।এরপর বললো
“আমি খুব ব্যাকওয়ার্ড রেঞ্জে থাকি ভাইয়া।খুব কম পরিমাণ খাবার খেয়ে সার্ভাইভ করতে হয় আমাকে।মাঝে মাঝে না খেয়েই কাটিয়ে দিতে হয় দু,তিন দিন।গভমেন্ট আমাকে প্যাকেটজাত খাবার সার্ভ করে।ওসব টেস্টলেস।তুমি মুখে দিয়েই বমি করবে।
রণ’র কথায় সৌম্য কষ্ট পেলো।তার ভাই ইচ্ছে করেই কমান্ডো ট্রেনিং নিয়ে ভয়াবহ বর্ডার,পাহাড়,জনমানব হীন ভয়ানক জায়গা বেছে নিয়েছে।এখানে যেকোনো সময় মৃত্যু চিৎকার করে ডাকে।বেশ কয়েকবার অনুরোধ, কান্নাকাটি করেও তাকে ফেরানো যায়নি।ধীরে ধীরে সেসবে অভ্যস্ত হয়ে গেছে বাড়ির সকলে।রণ’র সামনে বাড়ির সকলের কান্নাকাটি ছিলো চোর না মানে ধর্মের কাহিনীর মতো।তাই সকলে তাকে আর অনুরোধ করেনি।ছেড়ে দিয়েছে নিজের মতো।
সৌম্য কে নিশ্চুপ দেখে রণ শুধালো
“সিরিয়াস কিছু বলতে এসেছিলে?
সৌম্য মুখের হাসি থামিয়ে মাথা ঝাঁকালো।এরপর নত মস্তিষ্কে ধীর গলায় বললো
“অনু বলেছে একটু তাড়াতাড়ি আমাদের যেতে।ওরা আজই আকদ করে রাখতে চাইছে।আগামী সপ্তাহে বিয়ে।দাদা ভাই আজ শুধু আংটি পড়াতে চাইছে।তুই তো জানিস বিয়েটা অনেক দিন ধরে ঝুলে আছে।আর দাদা ভাইয়ের উপর কারো কথা বলার হিম্মত নেই।যদি দাদা ভাইয়ের সাথে বিষয়টা নিয়ে একটু কথা বলতি…
কথা গুলো শেষ করে ভরসাযোগ্য চাহনি নিক্ষেপ করে রণ’র কঠিন মুখের পানে তাকিয়ে রইলো সৌম্য।রণ সৌম্য’র মনের কথা স্পষ্ট বুঝলো।অনু আর সৌম্য দুজন দুজনকে প্রায় ন’বছর ধরে ভালোবাসে।ভালোবাসার মানুসকে দূরে রাখার কষ্ট কতোটা হৃদয় পোড়ায় তা রণ’র থেকে বেশি আর কে জানে?এদিকে দেওয়ান মির্জা একটু খামখেয়ালি টাইপের মানুষ।সোজা জিনিস কঠিন করে করতে তিনি পছন্দ করেন।যেখানে দুটি মানুষ দুজনকে চাচ্ছে,দুই পরিবার পর্যন্ত রাজি সেখানে আংটি পড়ানো অযৌক্তিক।রণ তপ্ত শ্বাস ফেলে বলে উঠলো
“ঠিক আছে আমি বাবা আর মার সাথে কথা বলে দাদা ভাইয়ের সাথে কথা বলবো।তুমি ভেবোনা।তাছাড়া শহরে বা দূরে কোনো আত্মীয় স্বজন নেই আমাদের।যা আছে সব গ্রামে।আজ আকদ হলে এক সপ্তাহে বিয়ের আয়োজন অসম্ভব কিছু নয়।আমি দাদা ভাইকে বোঝাবো।
ভাইয়ের প্রতি বরাবর ভরসা করে সফল হয়েছে সৌম্য।আজো যে তার বিপরীত হবে না তা সৌম্য’র বিশ্বাস ছিলো। পকেট থেকে রণ’র পছন্দের একটা মিন্ট চকলেট বের করে সৌম্য উচ্ছসিত গলায় বলে উঠলো
“আগামীবার যখন ফিরবি তখন তোকে একটা বাইক গিফট করবো।
সৌম্য’র বাহুতে ছোট পাঞ্চ মেরে রণ বলে উঠলো
“ঘুষ দেয়া হচ্ছে?এসব ছোট ঘুষে আমার পোষাবে না।
সৌম্য চট করে বলে উঠলো
“অনুর ছোট বোন তনু খুব সুন্দরী।ডাক্তারি পড়ছে।তাহলে ওকে এনে দেই?
রণ দুই হাত জোড় করে বলে উঠলো
“মাফ কর ভাই।আমার কোনো ঘুষের দরকার নেই।এমনিতেই তোর বিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে করিয়ে দেব আমি।
“সেকি বিয়ে করবি না?
“কখন না বললাম?
“তাহলে তনু কি সমস্যা?
বলেই তনুর একটা ছবি রণ’র সামনে মেলে ধরলো সৌম্য।রণ সেই ছবি না দেখেই নাক উঁচিয়ে বললো
“মৌন গাঁধীতার সামনে পৃথিবীর সমস্ত সৌন্দর্য ফিকে বড় ভাইয়া”
সৌম্য কথাটা শুনলো না ।তার আগেই কর্কশ শব্দে তার ফোন বেজে উঠলো।ফোনটা করেছে অনু।সৌম্য রা কখন ওদের বাড়িতে যাবে তাই জানতে কল করেছে।ঝটপট ফোন কানে তুলে রণ কে হাত ইশারা করে বেরিয়ে গেলো সৌম্য।রণ ঠোঁট গোল করে শ্বাস ছুড়ে ওয়াশ রুমে পা বাড়ালো।দুপুরের আগে আগে বসন্তপুর গ্রামে তাদের যেতে হবে।দূরত্ব বেশি নয়।ত্রিশ মিনিটের রাস্তা।দুপুরের খাবার আয়োজন ওবাড়িতেই।
রেহনুমা, শায়লা গায়ে দামি জামদানি জড়িয়ে আভিজাত্য চলনে বেরিয়ে এলেন।বয়স তাদের সৌন্দর্য কে ছুতে পারেনি।দেওয়ান মির্জার মনে হয় তার ছেলের বউ কম মেয়ে দুটো আজো সেই কিশোরী বয়সেই আটকে আছে।মেয়ে তুল্য পুত্র বধূর সৌন্দর্যে বৃদ্ধ তৃপ্তির হাসি হাসেন।আজ মৌনতার দাদি বেঁচে থাকলে তার পরিবার পরিপূর্ণ হতো।সেই সাথে বড় নাতির বিয়েতে কত খুশিই না হতেন তিনি!
দাওয়ায় বসে ফল মিষ্টি আরো আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র চেক করছেন দেওয়ান মির্জা ।এমন সময় শার্টের হাতা গুটাতে গুটাতে উপস্থিত হলো রণ।সদ্য গোসল সেরে বেরিয়েছে।শরীরে বেলি ফুলের সাবানের গন্ধ।নাতির উচ্চতা আর গাম্ভীর্যতায় মুগ্ধ হলেন দেওয়ান মির্জা।তিনি হাসি ঠোঁটে বললেন
“এখনো তৈরি হলেনা দাদা ?
রণ দেওয়ান মির্জার হাত থেকে লিস্টের কাগজ কেঁড়ে নিয়ে বলে উঠলো
‘কিছু কথা ছিলো দাদা ভাই।
কাজের বাহানায় দেওয়ান মির্জা অন্যমনস্ক হয়ে বললেন
“বলো শুনছি।
“কথাটা জরুরি।
গম্ভীর গলা রণ’র
এবার নড়েচড়ে বসলেন বৃদ্ধ।এরপর বললেন
“বলো।
“ভাইয়ার আকদ আজই হোক।বিয়েটা অনেক দিন ধরে ঝুলে আছে।আমার যখন তখন ফেরত যেতে হবে।আজ রাতে হেড কোয়ার্টার থেকে ফোন এলে আজই ফিরে যেতে হবে।তাই চাচ্ছিলাম আজই বিয়ে পড়ানো হোক।এক সপ্তাহ পর বউ তুলে অনেলেই হবে।
বৃদ্ধ থমথমে মুখে শুধালেন
“সৌম্য কিছু বলেছে তোমায়?
“ভাইয়ার সাথে আমার এখনো দেখা হয়নি।মাত্র শুনলাম সকালেই নাকি ঢাকা থেকে এসেছে।
দেওয়ান মির্জা ইতস্তত করে বললেন
“আত্মীয় স্বজন ছাড়াই বিয়ে হবে?
“আত্মীয় স্বজন কোথায় পেলে দাদা ভাই?মুইন মাহির গত রাতেই এসেছে।ভাইয়াও এসেছে।তোমার তো কোনো মেয়েও নেই।বাবার দু চারজন বন্ধু আর ছোট মামা।সবাই গ্রামেই আছে।সহজ জিনিস অহেতুক কঠিন করে কি লাভ?
রণ’র সাথে যুক্তি দিয়ে কুলাতে পারবেন না দেওয়ান মির্জা।তাই কথা বাড়ালেন না।তাছাড়া ছেলেটার মনে ভয় নামক বিশেষন এর উপস্থিতি নেই।কাউকেই পরোয়া করে না সে।তাই অযথা কথা খরচ করলেন না তিনি।শুধু বলে উঠলেন
“তোমার চাচাকে বলো আকরাম কাজী কে ডাকতে।
রণ উঠে দাঁড়িয়ে বলে উঠলো
“আগেই বলেছি।আপনি তৈরি হোন।একটু পরেই আমরা রওনা দেবো।
রণ লম্বা পা ফেলে বাড়ির ভেতরে ঢুকে গেলো।দেওয়ান মির্জা তাকিয়ে তার চলার ধরন দেখলেন।রণ’কে দেখলেই তার বুক কেঁপে উঠে।মনে হয় দেওয়ান মির্জার দাদা রেদোয়ান মির্জা হেটে যাচ্চেন।যার পদচ্ছাপে কম্পিত হতো মাটি,উড়ত ধুলো।যার এক কথা একশত কথার সমান এবং যার তর্জনী আঙ্গুলির ইশারায় থরথর কাপত মির্জা বাড়ির প্রত্যেকে।নিজ পুত্রের ঘরে এমন জলজ্যান্ত বাঘ দেখে আনমনে দেওয়ান মির্জা বলে উঠলো
“তবে কি মির্জা বাড়ির ভবিষ্যৎ কর্ণধার মির্জা ইবতেহান রণ?
সকলেই তৈরি হয়ে গেটের সামনের গাড়ির কাছে এসে দাড়ালো।আক্কাস ফল,মিষ্টি ,আরো নানান জিনিস পত্র গাড়িতে তুলছে।মেরুন রঙা একটা আনারকলি আর সোনালী ওড়না চুরিদার গায়ে জড়িয়ে হেলে দুলে বেরিয়ে এলো মৌনতা।পিঠ সম চুল গুলো একপাশে বিনুনি করা।কানে সোনালী ,খয়েরি মিশেলের ঝুমকা।হাত ভর্তি সোনালী চুড়ি।ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক, কপালে কালো টিপ।
মৌনতা কে দেখে মৌনতার বড় ভাই মাহির চোখ মুখ কুঁচকে ধমকে উঠলো
“এতো সেজেছিস কেনো?ওখানে কি তোর বিয়ে হচ্ছে?যা লিপস্টিক মুছ,টিপ খোল।
মৌন মাথা নিচু করে ওড়নার খুট আঙুলে মোচড়াতে লাগলো।এমন সময় সৌম্য এগিয়ে এসে হেসে মৌনতার মাথায় হাত বুলিয়ে বলে উঠলো
“এভাবে ধমকাচ্ছিস কেনো ওকে?আর ও তো ঠিকই সেজেছে।টিপ ছাড়া আমাদের মৌন রানীকে মোটেও ভালো দেখায় না।মনে হয় কি যেনো নেই।
মাহির তবুও গজগজ করে শায়লা কে বলে উঠলো
“তোমার মেয়েকে কিন্তু ঠাটিয়ে মারবো মা।এক্ষুনি বলো এই লাল জামা খুলে ভদ্র কোনো কালার পড়তে।নইলে ওকে আমার গাড়িতে নেবো না আমি।
সকলের সামনে ভাইয়ের হম্বিতম্বিতে মৌনতার কান্না পেলো।এমন সময় ভারী গলা ভেসে এলো
“আমার গাড়িতে আয় মৌন
মৌনতা উপরে চোখ তুলে সামনে তাকালো।শুভ্র পাঞ্জাবি গায়ে জড়িয়ে হাত গুটিয়ে এগিয়ে আসছে রণ।কাটকাট ক্লিন শেভের শ্যামলা চোয়াল,তীক্ষ্ণ নাক,বাদামি ঠোঁট আর ভয়ংকর চোখ সঙ্গে মিলিটারি কাটিং চুল।গায়ের পাঞ্জাবিতে রণ’র সৌন্দর্য যেনো চোখে আগুন লাগিয়ে দিলো সকলের।মৌনতা নির্লজ্জ্ব’র মতো রণ’র পানে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে রইলো।কেমন দম্ভ নিয়ে হেটে আসছে রণ।পদ যুগলের পিস্টনে মাটি যেনো কেঁপে কেঁপে উঠছে।সকলকে মাড়িয়ে মৌনতার সামনে এসে দাড়ালো রণ।এরপর বললো
“আমার সঙ্গে জিপে আয়।একা গাড়ি চালাতে বোরিং লাগে।আর অনুদের বাড়ি আমি চিনিনা।ছোট মা বললো তুই নাকি চিনিস?
মৌনতা মাথা ঝাঁকালো।এমন সময় মুইন বলে উঠলো
“রণ ভাই আমি ও চিনি ভাবীদের বাড়ি।আমি তোমার সঙ্গে যাই?
রণ মুইন এর কথার জবাব না দিয়ে ধমকে বলে উঠলো
“তুই সব সময় লেট লতিফ মৌনতা সাবেরি।জিপে উঠবি নাকি তোকে পিষে দিয়ে চলে যাবো?
ভয়ে মৌনতা জিপে উঠার জন্য দরজা খুলতে চাইলো।কিন্তু খুললো না।মৌনতার হাত সহ গাড়ির দরজার গ্রিপ টেনে ধরে রণ বলে উঠলো
“মোমের শরীর?ভাত খাসনি?নাকি ওবাড়িতে গিয়ে কব্জি ডুবিয়ে খাবি বলে দুদিন ধরে পেট খালি রেখেছিস?
মৌনতা উত্তর না দিয়ে নিশ্চুপ জিপে উঠলো।কাউকে কিছু না বলে সৌম্য কে চোখ ইশারা দিয়ে ঠোঁটে বাঁকা হাসি টেনে চোখে কালো সান গ্লাস তুললো রণ।এরপর ঠোঁট কামড়ে ক্ল্যাচে পা চেপে স্টিয়ারিং হুইল ঘুড়িয়ে ছুটলো বসন্তপুর গ্রামের উদ্দেশ্যে।
ধীরে ধীরে মির্জা বাড়ীর গাড়ির বহর চলতে লাগলো।রণ সবাইকে ছাড়িয়ে অনেক দূর।যখন আর কারোর গাড়ি দেখা যাচ্ছে না তখন এল সাইডে গাড়ি রেখে সৌম্য কে মেসেজ পাঠালো রণ
“আমাদের দেরি হবে।কেউ জিজ্ঞেস করে বলো মৌনতাও পথ ভুলে গেছে।
এরপর ইউ টার্ন নিয়ে অন্য রাস্তা ধরলো রণ।মৌনতা চেঁচিয়ে উত্তেজিত গলায় বলল
“পথ তো এটা না ভাইয়া।তুমি ভুল পথে যাচ্ছ।
হুইলে হাত রেখে মৌনতার পানে অদ্ভুত মায়ায় তাকিয়ে রণ বলে উঠলো;―
“তুই আছিস কি করতে?আমাকে সঠিক পথের নিশানা দে ।পথ চিনিনা বলেই তো তোকে সওয়ারী বানালাম।
বলেই স্পিড বাড়ালো।
এলোমেলো বাতাসে মৌনতার চুল আর ওড়না উড়ে রণ’র নাক মুখ ঢেকে দিলো।সেই সাথে রিনিঝিনি মূর্ছনায় বেজে উঠলো চুড়ি আর ঝুমকা ।সেগুলো না সরিয়ে হাসি মুখে গাড়ি চালাতে ব্যস্ত হলো রণ।মৌনতা ভয়ে ভয়ে ওড়না চুল আটো করতে নিলেই রণ হুঁশিয়ারি করলো
“মেরে ফেলবো মৌন।আমার ভালো লাগছে।সরাস না প্লিজ।
চলবে…
Share On:
TAGS: ভালোবাসার সমরাঙ্গন, সারিকা হোসাইন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩৩
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৮
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৬
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৯
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৮
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৫
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৭
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৩
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২২
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩