ভালোবাসার_সমরাঙ্গন ||২৮||
◆◆◆◆◆
বাইরের বৃষ্টির তান্ডব এখনো থামেনি।বছরের শেষ বৃষ্টি বলেই হয়তো অবিরত ঝড়ছে।বিদ্যুতের গর্জনও পূর্বের তুলনায় দ্বিগুন হলো।মুহূর্তে মুহুর্তেই তীক্ষ্ণ আলোয় হলুদ হয়ে উঠছে চারপাশ।ভ্যাপসা গরম দূর হয়ে শীতল হাওয়ায় হীম হয়েছে সবকিছু।
বিধ্বস্ত মৌনতা রণ’র বাহুতে শুয়ে শক্ত করে রণকে জড়িয়ে আছে।মৌনতার মাথায় আলতো বিলি কাটছে রণ।একটু আগের ঘটনা বিশ্বাস করতে কেমন অবিশ্বাস্য লাগছে।রণ মৌনতার কপালে ঠোঁট ছোয়ালো এরপর ফিসফিস করে কানের কাছে মুখ এনে বললো
“সকালে আমায় মুখ দেখাবি কি করে?
মৌনতা রণ’র বুকে মুখ লুকিয়ে মিনমিন করে বলে উঠলো
“এখন যেভাবে দেখাচ্ছি ওভাবে।
রণ ঠোঁট কামড়ে হেসে বললো
“পারবি না দেখিস।
“কেনো?
“সকালেই টের পাবি।নিজের মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ অনুভব করবি।কিছুক্ষণ আগেও তুই যেই মৌনতা ছিলিস সকালে আর তা থাকবি না।আমার ছোয়া তোকে বদলে দিয়েছে পুরোপুরি।
মৌনতা আবেশীত হয়ে রণ’র বুকে নাক মুখ ঘষে বলে উঠলো
“তুমি চলে যাও রণ ভাই।আমার কেমন যেনো লাগছে।
মৌনতার চিবুক চেপে ধরে রণ নিজের সামনে আনলো মৌনতা কে।শুধালো
“কেমন লাগছে?
মৌনতা জবাব দিতে পারলো না।সে কাঁথা টেনে নিজের উন্মুক্ত শরীর আবৃত করতে চাইলো।রণ দিলো না সে সুযোগ।মৌনতাকে সজোড়ে টেনে নিজের উপরে উঠিয়ে চেপে ধরে ঘোর লাগা গলায় বলল
“উষ্ণতা বিনিময় হচ্ছে দেখতে পাচ্ছিস না?দেয়াল কেনো টানছিস?
মৌনতা মিইয়ে গিয়ে বলল
“শয়তান দেখছে রণ ভাই।
ভ্রুকুটি করে রণ জবাব দিলো
“আমার চাইতেও বড় শয়তান পৃথিবীতে এক্সিস্ট করে বলে তো আমার মনে হয়না।রাজা নিজেই এখানে উপস্থিত।প্রজারা এখানে আসার সাহস পাবে না।তুই নিশ্চিন্তে থাক।
মৌনতা লজ্জায় আড়ষ্ট হলো।কাচুমাচু করে বললো
“ভয় লাগছে।
“কেনো?
আরেকটু চুপসে গেলো মৌনতা।ঠোঁট টিপে কিছুক্ষণ চুপ থেকে ইতস্তত করে বললো
“যদি বেবি এসে যায়?
মৌনতার কথায় রণ পাত্তা না দিয়ে বললো
“হলে হবে,তাতে কার কি এসে যায়?আমার সন্তান কি চোর নাকি?এতো ভয়ের কি আছে?আমরা তো কোন পাপ করিনি।পবিত্র সম্পর্ক আমাদের।
“আমি পড়তে চাই রণ ভাই।
রণ মৌনতার উন্মুক্ত পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে বললো
“আচ্ছা সকালে সব ঠিক করে দেব।
“সব কিছু আবার আগের মতো হয়ে যাবে?
বলেই উৎসুক হয়ে রণ’র পানে তাকালো মৌনতা।রণ চোখ সরু করে প্রশ্ন করলো
“কখনো দেখেছিস আনবক্স করা জিনিস আবার বক্সিং করতে?
“তাহলে কিভাবে সব ঠিক করে দেবে?
“বড় হবি কবে বলতো?
মৌনতা ঠোঁট উল্টে সরে গেলো, এরপর বললো
“ওমা জানতেও পারবো না?
রণ সরল জবাব দিলো এবার
“পিল এনে দেব।ওষুধের দোকানে আছে।নিশ্চিন্তে থাক।আমি থাকতে তোর কোনো চিন্তা নেই।ওসব আমার উপর ছেড়ে তুই রিলাক্স মোডে থাক।এবার কিন্তু পাক্কা সাত দিন থাকবো।বউ ছাড়া অনেক ঘুমিয়েছি।বাকিটা কিভাবে তুই ম্যানেজ করবি তোর ব্যাপার।
মৌনতা হাত বাড়িয়ে জামা টেনে গায়ে জড়িয়ে বিছানায় বসলো রণ’র পাশে।এলোমেলো খোলা চুল গুলো হাতে পেঁচিয়ে খোপা করলো।গলার ভাঁজে টকটকে লাভ বাইট স্পষ্ট।রণ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে সেই সৌন্দর্য উপভোগ করলো।মৌনতার সৌন্দর্যে রণ’র গলা শুকিয়ে এলো,সে ফাঁকা ঢোক গিললো।হৃদয়ে ক্রমাগত কম্পন হচ্ছে।রণ হাত বাড়িয়ে শক্ত করে মৌনতার কোমর জড়িয়ে ধরলো,পোড়া জায়গায় চাপ পড়তেই আর্তনাদ করে উঠলো মৌনতা।রণ তড়িঘড়ি করে উঠে কাতর গলায় বলল
“সরি জান ,সত্যিই সরি।জেনে বুঝে ধরিনি রে।খুব ব্যথা হচ্ছে তাই না কলিজা?তুই ,তুই এক কাজ কর,তুই আমার সারা শরীরে এভাবে ক্ষত করে দে।প্লিজ।নয়তো এই অপরাধবোধ আমার কাটবে না কিছুতেই।
মৌনতা রণ’র অপরাধে দগ্ধ হওয়া চোখ গুলোর পানে তাকালো।এরপর দৃষ্টি নামিয়ে বললো
“আমার দোষ ছিল রণ ভাই।
মৌনতা কিছু বলার জন্য উশখুশ করলো রণকে।রণ মৌনতার চঞ্চল চোখের ভাষা পড়তে পারলো।বললো
“কি বলতে চাইছিস?এতো দ্বিধা কিসের?
মৌনতা রণ’র হাত জড়িয়ে ধরলো শক্ত করে এরপর নিজেকে গুছিয়ে বলে উঠলো
“বড় মা তোমার জন্য একটা মেয়ে দেখেছে রণ ভাই।শিউলি আন্টির মেয়ে পিউ কে।বড় মা দাদা ভাই কে অনুরোধ করেছে যাতে ওই মেয়েকেই নিয়ে আসে তোমার জন্য।আমার খুব ভয় করছে রণ ভাই।তোমাকে ছাড়া আমি সত্যিই বাঁচবো না।এমন কিছু হলে আমার গলায় দড়ি দেয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।তুমি কিছু একটা করো প্লিজ।
রণ কপাল কুঁচকে শুধালো
“দাদা ভাই কিছু বলেনি আম্মুকে?
“বলেছে।দাদু বলেছে তোমার জন্য তিনি আমাকে পছন্দ করে রেখেছেন কিন্তু অনু ভাবি দাদাভাই এর মুখের উপর বলেছে তোমার সঙ্গে আমাকে চলে না।
অনুর ঐদ্ধত্বে রণ’র কপালের শিরা ফুলে উঠলো।ক্রোধে ফুঁসে উঠে বললো
“অনুর গলা টিপে ধরি এখন গিয়ে?
“না প্লিজ এমন কিছু করো না।আর বড় মা…
বলেই থামলো।এতো এতো কথা মৌনতা কি করে রণ কে বুঝিয়ে বলবে তার সুরাহা পেলো না।কিন্তু রণ ছাড় দিলো না।সে শক্ত গলায় বলল
“কি করেছে আম্মু?বল,থামলি কেন?অর্ধেক কথা অপছন্দ করি জানিস না?
মৌনতার চোখ জলে ভরে উঠল এবার।মা সম্পর্কে ছেলের কাছে কথা লাগাতে তার বাঁধছে।কিন্তু সেও নিরুপায়।এত বড় ঝামেলার গিট রণ ছাড়া কেউ খুলতে পারবে না।তাই রণ’র সব কিছু জানা প্রয়োজন।
মৌনতা জিভ দিয়ে শুষ্ক ঠোঁট ভিজিয়ে ছোট গলায় বলল
“দাদা ভাই কে বড় মা বলেছে উনি নাকি তোমাকে আমার কথা জানিয়েছিলো।তুমি নাকি রিজেক্ট করেছো।আমাকে বিয়ে করা তোমার পক্ষে পসিবল নয়।
রণ’র ভ্রু সরু হয়ে উঠলো।তার মা মিথ্যে বলেছে এটা ভেবেই তার মাথা ঘুরে উঠলো।মৌনতা এক পলক রণ’র ক্রোধিত চেহারা দেখলো।ভয়ে দৃষ্টি নামিয়ে রণ’র আঙ্গুলে হাত বুলাতে বুলাতে বললো
“আমার হাত টা ছেড়ে দিও না রণ ভাই।যাই হোকনা কেনো আমাকে একটু আগলে নিও।আমিবড্ড নাজুক।এতবড় শক্তিশালী ঝড় আমি পাড়ি দিতে পারব না।আমি ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবো।আমার সব কিছু আমি তোমাকে দিয়ে ফেলেছি।এমন কিছু হলে আমি দেখেই মরে যাবো।
বলেই ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো মৌনতা।রণ’র ইচ্ছে হলো চড়িয়ে মৌনতার গাল ফাটিয়ে দিতে ।এতবড় মেয়ে অথচ জ্ঞান বুদ্ধি তলানিতে।হাত ছাড়ার জন্য রণ এভাবে তাকে আটকে রাখলো নাকি?মেয়েটা রণ’র ভালোবাসার পরিধি বুঝবে কবে?হৃদয় কেটে ফেঁড়ে তবে কি রণ দেখাবে?
“দেখ মৌনতা এই বুকের ভেতর তোর জন্য কতো ভালোবাসা?এই বুকের দখল তুই ছাড়া আর কেউ কস্মিনকালেও নিতে পারবে না।আমি শুধুই তোর।আমার আমিকে তোর কাছে বেচে দিয়েছি সেই কবেই।তুই আমায় একটু শক্ত করে ধরে রাখনা শুধু।বাকিটা আমি সামলে নেবো।
রণ মৌনতার চোখের জল মুছিয়ে বুকে টেনে নিলো অতঃপর বললো
“আমি কাল কথা বলবো দাদা ভাইয়ের সাথে তোর আর আমার বিয়ের ব্যাপারে।প্রয়োজনে দাদাভাই কে বলে কালই বিয়ের ব্যবস্থা করবো।আমার এতো অনুষ্ঠানের দরকার নেই।তোকে আমার ঘরে তুলতেই পারলেই আমার জীবনের সমস্ত খুশি আমার হাতে ধরা দেবে।তুই প্লিজ কাদিস না।তুই কাঁদলে আমার খুব কষ্ট হয়।তুই বড্ড সিচকাদুনে।আদর করলেও কাদিস দুঃখ পেলেও কাদিস।শুধু কান্নার সুর একেক সময় একেক রকম।
মৌনতা চোখের জল মুছল।সে আশ্বাস পেলো।রণ মৌনতা কে টেনে বাহুডোরে আবদ্ধ করে ঠোঁটের কোণে চুমু খেলো।এরপর ধীর লয়ে বললো
“আরেকবার যদি তোকে ব্যথা দেই তবে কি আমাকে নিষ্ঠুর নির্দয় পুরুষ ভাববি?
মৌনতা মাথা নাড়ালো।রণ ঠোঁট বাকিয়ে হেসে বললো
“একটু কম চিৎকার করিস প্লিজ।নয়তো তোর মা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে পড়বে।ভাববে বোবা জ্বিনে ধরেছে তোকে।
সকালে খোশ মেজাজে গোসল সেরে শার্টের হাত গুটাতে গুটাতে নিজ ঘর থেকে বেরিয়ে এলো রণ।রণ’র গাড়ি দেখেই বাড়ির সকলে অবগত হয়েছে রণ এসেছে অনেক রাতে।দরজা বন্ধ ছিল বিধায় কেউ তাকে ডাকেনি।খাবার টেবিলে মাথা নিচু করে বসে আছে দেওয়ান মির্জা।রেহনুমার বিষয়টা কিভাবে গুছিয়ে নিবেন ভেবে পাচ্ছেন না।রণ দেওয়ান মির্জার পাশে বসে শুধালো
“কেমন আছো দাদা ভাই?
“ভালো
আনমনে জবাব দিলেন বৃদ্ধ।টেবিলে খাবার গুছাচ্ছে শায়লা,রেহনুমা।পাশেই পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে আছে অনু।সৌম্য ঢাকায়।রণ’র রাগ তরতর করে বাড়লো অনুকে দেখে।মা চাচী কাজ করছে আর নবাবজাদী সঙ ধরে দাঁড়িয়ে আছে।রণ’র হাত নিশপিশ করলো দুটো চড় লাগাতে।কিন্তু বড় ভাইয়ের বউয়ের সাথে এমন করা যাবেনা।ওকে মারতে হবে মুখে।রণ ধারালো গলায় অপমানের স্বরে বললো
“কি ব্যপার অনু এভাবে ভং ধরে দাঁড়িয়ে কি তামাশা দেখছ?এই গরমে বয়স্ক দুজন মানুষ কাজ করছে চোখে লাগছে না?টেবিলের খাবারটা তো বেড়ে দিতে পারো নাকি?নাকি বাড়ি থেকে এসব কিছুই শিখিয়ে দেয়নি?
কথা গুলো বৃহৎ ডাইনিং রুমে তুমুল আওয়াজ তুললো।অনু স্তম্ভিত হলো রণ’র কথায়।সে বিস্ফারিত তাকিয়ে বলল
“আমি তোমার ভাবি রণ।
এবার রণ’র আরো ক্রোধ জন্মালো।টেবিলে জোড়ে চাপড় মেরে ধমকে বলে উঠলো
“সৌম্য’র থেকে দেড় বছরের ছোট আমি।সেই হিসেবে মতো তোমার চাইতে পাঁচ বছরের বড়।সম্মান নামক চিজ শিখেছো নাকি শিখনি?আমার নাম ধরে ডাকার দুঃসাহস কে দিয়ে গেছে? ভাইয়া?
অনু কেঁপে উঠলো রণ’র ধমকে ।রেহনুমা দৌড়ে এসে অনুকে টেনে সরিয়ে ব্যস্ত গলায় বলে উঠলো
“ঘুম থেকে উঠেই তোর কি হলো বাবা বলতো!ওকে এভাবে ধমকে চলেছিস কেন?সৌম্য জানলে কি ভাববে?তোর কি হয়েছে আমাকে বল আমি সব ঠিক করে দিচ্ছি।
“ম্যানার্স শেখাও মা।মির্জা বাড়ির বউ,মেয়ে কেমন নমনীয় হয় তার শিক্ষা দাও।যদি কখনো কুটনীতি,শয়তানি করতে দেখেছি তবে জিভ টেনে ছিঁড়ে নিতে দু সেকেন্ড ভাবব না।সে যেই হোক।হোক বড় ভাইয়ের বউ হোক আমার বউ।
বলেই রণ অনুর মুখের পানে তীক্ষ্ণ নজর নিবদ্ধ করলো।চোখা চোখি হলো দুজনের।রণ চোখের শাসানিতে বুঝিয়ে দিলো অনুর অপরাধ কোথায়।রেহনুমা ছেলের রাগ নিয়ন্ত্রণে আনতে অনুকে বলে উঠলো
“রণ’র খাবারটা আর তোমার দাদা শ্বশুরের খাবারটা গুছিয়ে দাও অনু।আমি রান্না ঘর থেকে বাকি খাবার গুলো আনছি।
এমন সময় শায়লা দৌড়ে এসে রণকে বলে উঠলো
“অনু না বুঝে একটু ভুল না হয় করেই ফেলেছে বাবা।বয়সে না হোক সম্পর্কে তোর বড় সে।বড় ভাইয়ের বউয়ের সাথে এভাবে কথা বলতে হয় না।
রণ নাক ফুলিয়ে বললো
“সম্পর্কে তোমার বাপ লাগি আমি শায়লা শিরিন।ছোট মা না বলে শায়লা ডাকলে খুশি হবে তুমি?বেয়াদবি ঠেকবে না?
শায়লা বাক্যহারা হলো।শুরু নীরব দৃষ্টি ফেলে অনুকে রণ’র খাবার গুলো ইশারা করে নিজ কাজে চলে গেলো।কিন্তু কাজে অপটু অনু বুঝলো না চতুর শায়লার ইঙ্গিত।
শায়লা চলে যেতেই রণ দাঁত পিষে বসে রইলো।অনু ভয়ে ভয়ে খাবার দিতে এলো।রণ কি খায় না খায় সে জানেনা।সৌম্য’র সাথে এই বিষয়ে কথাও হয়নি কোনো দিন।অনু কাঁপা কাঁপা হাতে দুটো মোটা পরোটা রণ’র প্লেটে দিয়ে মুগের ডালের ভুনা সাইডে তুলে দিলো।খাবার পরিবেশনের নমুনা দেখে রণ’র চোখ এবার রক্তচক্ষু হলো।তেল চিপচিপে পরোটা সহ প্লেট শব্দ করে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে গর্জে ডাকলো রণ
“মৌন
রণ’র ডাকে ঘর ছেড়ে দৌড়ে বেরিয়ে এলো মৌনতা।এরপর হাত গুটিয়ে মাথা নিচু করে রণ’র পাশে দাঁড়িয়ে রইলো।মৌনতার উপস্থিতিতে রণ বললো
“অধিক স্মার্ট ,কখনো কাজ না করা ডাক্তার সাহেবা দশ বছর এবাড়ির সাথে কানেক্ট থেকেও আমার খাবার মেনু জানে না।গত রাতে না খেয়ে ঘুমিয়েছি।শিগ্গির খেতে দে আমায়।নয়তো বাড়ির সবকটাকে আস্ত গিলে নেব।
মৌনতা মাথা ঝাকিয়ে নতুন একটা প্লেট নিয়ে এলো।তাতে পাশের ছোট ঝুড়ি থেকে দুটো তেল হীন পাতলা রুটি তুললো।ছোট আরেকটা প্লেট নিয়ে তাতে ঘিয়ে ভাজা ডিমের পোচ তুলে গ্লাসে কমলার জুস ঢাললো।রণ এক প্লেটে মাখামাখি করে খেতে বড্ড অপছন্দ করে।
মৌনতা রান্না ঘর থেকে একবাটি সালাদ এনে গুছিয়ে রণ’র সামনে খাবার দিয়ে বলে উঠলো
“বাসার কাজু বাদাম শেষ হয়ে গেছে।আজ বিকেলেই আনতে বলবে বড় মা।
দেওয়ান মির্জা এতক্ষন পর্যন্ত চুপ রইলেন।অনু মেয়েটা প্রথম থেকেই তার অপছন্দ।সৌম্য’র জেদের কারণে একে ঘরে তুলতে হয়েছে।মেয়েটা প্রথমে নমনীয় থাকলেও দিনকে দিন বেয়াড়া হচ্ছে।কাউকে দেখে ভয় পাচ্ছে না সে।
দেওয়ান মির্জার ভাবনার মাঝেই রণ বলে উঠলো
“দুবছরের জন্য কঙ্গোতে যাচ্ছি মিশনে।যাবার আগে মৌনতা কে বিয়ে করে রেখে যেতে চাইছি।ফিরতে ফিরতে ওর কলেজের গন্ডি শেষের দিকে যাবে।আমার মনে হয়না কারোর কোন আপত্তি আছে।
“আপত্তি আছে অবশ্যই।আমার মেয়েকে আমি তোর কাছে বিয়ে দেবো না রণ।আমি অন্য জায়গায় ওর বিয়ে ঠিক করেছি।
রণ’র হাত থেকে জুসের গ্লাস খসে পড়লো।টাইলসে পড়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে চুরচুর আওয়াজ তুললো ডাইনিং রুমে।রণ কথা বলার ভাষা হারালো ।তার চোয়াল কেঁপে উঠলো।দেওয়ান মির্জা দাঁত পিষে ধমকে উঠলেন
“পাগল হয়ে গেছো সাদনান?কার অনুমতি নিয়ে বিয়ে ঠিক করেছো?
“আমার মেয়ে আমি কেটে ভাসিয়ে দেবো।কারোর অনুমতি আমার প্রয়োজন নেই।বয়স হয়েছে সেভাবেই থাকুন আব্বা।জীবনে অনেক সিদ্ধান্ত আপনি একাই নিয়েছেন।এবার আমাকে নিতে দিন।
চলবে….
সারিকা হোসাইন – Sarika Hossain ®
Share On:
TAGS: ভালোবাসার সমরাঙ্গন, সারিকা হোসাইন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৫
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩১
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৮
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৪
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৬
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩৩
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৪
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১০
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৭
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৬