ভালোবাসার_সমরাঙ্গন||২২||
সকালে বেশ ফুরফুরে মেজাজে ঘর থেকে বের হলো মৌনতা সেই সাথে চেহারায় ফুটে উঠলো চকচকে আভা।ঘর থেকে বেরিয়েই নিজের হারমোনিয়াম টা নিয়ে বহুদিন বাদে দেওয়ান মির্জার দাওয়ায় বসলো।এরপর অল্প শব্দ তুলে সুন্দর করে গাইবার চেষ্টা করলো―
“তুমি আমার প্রথম সকাল বেলা
একাকী বিকেল, ক্লান্ত দুপুর বেলা
তুমি আমার ,সারাদিন আমার
তুমি আমার সারা বেলা….
প্রথম বারের ন্যয় মন থেকে সুন্দর করে গান গাইলো মৌনতা।দেওয়ান মির্জা ঘুম থেকে উঠে একটু হাঁটাহাঁটি করছিলেন।মৌনতার গানে নিঃশব্দ পায়ে উঠানের কোনে এসে দাঁড়ালেন।এরপর মুগ্ধ হয়ে গান শুনলেন।প্রথম বারের ন্যয় বৃদ্ধের মনে হলো তার স্ত্রীর গলায় গান শুনছেন তিনি।বৃদ্ধ চোখ বুজে গানের অর্থ অনুধাবন করতে লাগলেন।গান শেষ হলেও চোখ খুললেন না তিনি।মৌনতা কিছুক্ষন গানের রেওয়াজ করে হারমোনিয়াম গুটিয়ে চলে গেলো নিজ কক্ষে ।এরপর বই খাতা বের করে পড়ায় মনোনিবেশ করলো।আজ মৌনতার গানে কেউ বিরক্ত হলো না।সাদনান মির্জাও শায়লা কে ধমকালেন না।মুইন মাহির ঘুম থেকে উঠে চেঁচালো না।কালুও ভুক ভুক করে আওয়াজ তুললো না।সবকিছু কেমন সুন্দর ,মনোরম,পরিপাটি।
ভালো মতো ঘন্টা দেড়েক পড়ার পর নিয়ম মাফিক খাবার টেবিলে এসে বসলো মৌনতা।টেবিলে এখনো খাবার দেয়া হয়নি।শায়লা রেহনুমা রান্না ঘরে তড়িঘড়ি করছেন।আট টা বেজে পনেরো মিনিট হলেই বাড়ির সব পুরুষ লোক টেবিলে হাঙ্গামা শুরু করে দিবে।মৌনতা টেবিলে বসে বসে একটা আপেল হাতে তুলে চিবুতে লাগলো।এমন সময় সেখানে এসে উপস্থিত হলো কোয়েল।মৌনতা তাকে দেখেও না দেখার ভান করে আপেল খেতে লাগল।চারপাশে ইতিউতি করে কোয়েল বলে উঠলো
“গত কাল ও দেখলাম না খেয়ে জীবন ছেড়ে দিচ্ছ আর আজ সকাল না হতেই গান বাজনা ঘটনা কি?গিরগিটির চাইতেও মিনিটে মিনিটে রঙ বদলাচ্ছ দেখছি।
বলেই একটা চেয়ার টেনে বসলো।মৌনতা মুখ্যম জবাব দেবার জন্য মুখ খুললো।তার আগেই রেহনুমা এসে বলে উঠলো
“বা পাশের চেয়ারে বস কোয়েল।এটা আব্বার চেয়ার।এই চেয়ারে কারো বসা আব্বা পছন্দ করেন না।এখনই খেতে এসে তোকে দেখলে ঝামেলা করে না খেয়েই চলে যাবেন।
বলেই রেহনুমা রান্না ঘরে পা বাড়ালো।রেহনুমা যেতেই মৌনতা বলে উঠলো
“কাল অব্দি টিশার্ট আর জিন্স পরে ঘুরলে।আজ হঠাৎ কি হলো যে মাথায় ওড়না দিয়ে স্যালোয়ার কামিজ গায়ে জড়ালে?তুমি তো দেখছি গিরগিটির বড় খালাম্মা।
কোয়েল দাঁত চিবিয়ে বললো
“এবাড়ির বউ হতে গেলে একটু স্যাক্রিফাইস তো করতেই হবে তাই না?পড়ে যাতে কষ্ট না হয় তাই এখনই অভ্যেস করে নিচ্ছি।
মৌনতা তাচ্ছিল্য হেসে হাতের মুঠোয় থাকা শায়লার ফোনটা বের করে ভোর রাতে পাঠানো রণ’র ছবিটা কোয়েলকে দেখালো।এরপর বললো
“সারা রাত উনার সাথে আমার উষ্ণ ভালোবাসা চলে।তবুও আমি গলা উঁচিয়ে বলি না সে আমার হবু জামাই।আর তুমি গাছে কাঁঠাল দেখেই গোঁফে তেল মাখতে শুরু করেছো?ডাটি ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট থাকবে তো নাকি?
কোয়েলের চূড়ান্ত রাগ হলো মৌনতার উপর।তবুও নিজেকে সামলে চোখে ক্রোধের ছাপ ফুটিয়ে বলে উঠলো
“আর্মির অফিসার রা এসব সুন্দরী সস্তা মেয়েদের এমনিতেই ভোগ করে।কিন্তু বিয়ের সময় ঠিকই পিউর কাউকে বিয়ে করে ফেলে।
মৌনতা শব্দ করে হাসলো।এরপর বললো
“অন্যের এঁটো করা জিনিস খেতে ঘেন্না লাগবে না তোমার?যদি তাই হয় তবে তোমার আগেই রণ ভাইকে চুষে খেয়ে শেষ করে দেব আমি।তুমি আমের আটি টা হাতে নিয়ে বসে থেকো।
কোয়েলের কাছে মনে হলো মৌনতা মেয়েটা চূড়ান্ত গায়ে পড়া আর বেয়াদব।নইলে প্রতি মুহূর্তে মুহূর্তে এভাবে কেউ কথার জবাব দেয়?কোয়েল মুখ বাকিয়ে বলে উঠলো
“লজ্জা করে না এতোবার ফেইল করতে?কথায় তো খই ফুটে।তবে হাতে জোড় নেই কেনো?
“পড়াশোনা করে কি লাভ করতে পেরেছ তুমি?সেই তো হাত ধুয়ে অন্যের প্রেমিকের পেছনে পড়ে আছো।লেখাপড়া শিখেও যদি এভাবে নির্লজ্জতার পরিচয় দিতে হয় তবে সেই লেখাপড়া আমি চাই না।
কোয়েল মৌনতা কে আরো কিছু অপমান জনক কথা বলতে চাইলো।কিন্তু তার আগেই বৃহৎ ডাইনিং টেবিলে একে একে এসে উপস্থিত হলো বাড়ির সকলে।রেহনুমা, শায়লা এগিয়ে এলো খাবার পরিবেশনে।মৌনতার পাশের চেয়ারটা টেনে বসলেন দেওয়ান মির্জা।খাবার টেবিলে নাতনীকে প্রাণবন্ত দেখে হাসি মুখে শুধালেন
“মন ভালো মৌনতা সাবেরি?
মৌনতা মাথা ঝাকিয়ে হাসি মুখে বলল
“ভালো আছি দাদু ভাই।মনের অসুখ সেরেছে।
মৌনতার বাবা নিজের প্লেটে ভাত তুলতে তুলতে বলে উঠলেন
“তা কিসের এতো মন অসুখ আপনার আম্মা?
মৌনতা জবাব দিলো না।রেহনুমা ভাবলেন হয়তো কারোর সাথে মৌনতার প্রেম,সেই মানুষটির সাথে ঝগড়া করে মৌনতা এমন পাগলামো করেছে।মৌনতার ইতস্ততা বুঝতে পেরে রেহনুমা আগ বাড়িয়ে বলে উঠলো
“খাবার টেবিলে বসে এত কথা বলতে হয় না ছোট ভাইজান।খাবার খেয়ে তাড়াতাড়ি দোকানে চলুন।বিয়ের জন্য এ কদিন ব্যাবসা বাণিজ্য সব তো বন্ধ ছিলো।
রেহনুমার চতুরাতায় দেওয়ান মির্জা হাসলেন।মুইন নিজে র প্লেটের ডিমের অমলেট মৌনতার পাতে তুলে বলে উঠলো
“ডিমটা তুই খা মৌন।না খেয়ে খেয়ে তো মরতে বসেছিস।ডিম দুধ খেয়ে শরীর মাথা ঠিক কর।নয়তো আবার কখন অজ্ঞান হয়ে পড়ে মরে থাকিস কে জানে?
মৌনতা মুখে খানিক ডিম ঠুসে সাদনান মির্জার উদ্দেশ্যে বল
“বড় মামার বাড়িতে বেড়াতে যেতে চাই আব্বু।ঘরে বসে বসে সারাক্ষন মন মরা লাগে।একটু বেড়াতে ইচ্ছে হচ্ছে।
সাদনান মির্জা অমত করে বললেন
“এখন যেতে হবে না।অযথা মানুষের বাড়িতে ঝামেলা পাকানোর কি দরকার?
মৌনতা নাক ফুলিয়ে খাবার প্লেট সামনে থেকে ঠেলে সরালো।অতঃপর ঝাঁঝালো গলায় বলল
“যাবো যখন বলেছি তখন যাবোই যাবো।
দেওয়ান মির্জা খাবার চিবুনো বন্ধ করে মাহিরের উদ্দেশ্যে শুধালেন
“ঢাকা ফিরছ কবে?
“আগামী পরশু দাদা ভাই।
“যাবার সময় মৌনতা কে নিয়ে যেও।
“কিন্তু আব্বা!
বাঁধ সাধলেন মৌনতার বাবা।দেওয়ান মির্জা হাত উঁচিয়ে তাকে থামতে বলে উত্তর কবলেন
“তোমার কথা শুনতে চাই নি।মেয়েদের ঘরের মাঝে বন্দি করে রেখে কষ্ট দেওয়ায় কোনো মহত্ব নেই।এছাড়া মৌনতা কখনো ঢাকা যায়নি।ওর দুনিয়া দেখার হক আছে।
মাহির খেতে খেতে বললো
“ঠিক আছে দাদা ভাই নিয়ে যাবো।
শায়লা এতক্ষনে মুখ খুললেন।তিনি বললেন
“একা কি করে যাবি?তুই তো কিচ্ছু চিনিস না!অযথা তোর মামাকে ঝামেলায় ফেলবি।
“সিমিকে নিয়ে যাবো মা।বাধা দিও না দয়া করে।দিলেও আমি মানব না ।
শায়লা বুঝলেন মেয়ের জেদ।তাই আর কিচ্ছু বললেন না তিনি।কিন্তু কোয়েলের মনে সন্দেহ দানা বাধলো।সে খেতে খেতে রেহনুমা কে শুধালো
“রণ ভাই কোথায় আছে এখন খালামনি?
রেহনুমার ছেলের কথা মনে পড়তেই মন ভার হলো।কোনো মতে ভারাক্রান্ত মনে বললেন
“সেসব আমি কি জানি.? ওর ঠিকানা কেউ জানেনা।বলা নিষেধ আছে।
মৌনতা কোয়েলের পানে তাকিয়ে হেসে শুধালো
“জানলে সেখানে যেতে নাকি?
চট্রগ্রাম আর্মি নিজেদের কৌশল খাটিয়ে সহজেই ধরে ফেললো সেই পুলিশ অফিসার কে সেই সাথে খোঁজ চালানো হলো অজ্ঞাত ব্যাক্তির।যার আদেশে ঘটছে এতো সব অপকর্ম।কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় কেও তার নাম বলতে পারল না।শুধু তাই ই নয়।কেউ তার লোকেশন পর্যন্ত দিতে পারল না।ওসমানের থেকে প্রাপ্ত নম্বরে ডায়াল করে ফোন বন্ধ পাওয়া গেলো।নম্বর অনুসন্ধান করে পাওয়া গেলো এক ব্যক্তির নম্বর ।গোয়েন্দা পুলিশ সেই ব্যক্তির পরিচয় উদঘাটন করতে গিয়ে বিস্ময়ে হতবাক হলো।কারন উক্ত ব্যাক্তি আরো বছর পাঁচেক আগে গুম হয়েছে।
এতো কিছুর মধ্যে স্বস্তির সংবাদ হচ্ছে প্রত্যেকটা বাচ্চাকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।সেই সাথে সিল করে আর্মি টহল বসানো হয়েছে সুড়ঙ্গ এরিয়ায়।জার্মান শেপার্ড দিয়ে চন্দ্রঘোনা রেঞ্জ সার্চ করা হচ্ছে।আপাতত কোথাও গুপ্ত ভয়ানক কিছু পাওয়া যায়নি।খোঁজ চালানো হবে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত।
নিজেদের নির্দেশিত মিশন সাক্সেসফুলি শেষ করার পর আনন্দ আয়োজনে শামিল হলো রণ আর টিম।তাদের সাথে যুক্ত হতে সাজেক থেকে ছুটে এলো মেজর দূর্জয়।রণ আগামী কাল সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে।আর্মি হেলিকপ্টার তাকে পৌঁছে দেবে ঢাকায়।ওখানে নতুন টিম মেম্বারের সাথে তার সূক্ষ একটা মিশন রয়েছে।
চন্দ্র ঘোনা মিলিটারি ট্রেনিং জোনের রাতের কালিমা দূরীভূত হলো মশালের আলোতে।উপস্থিত সোলজার বিভিন্ন মশাল আর কাঠ খড়ি দিয়ে বিশাল আলোকিত আগুন জ্বালালো।এরপর একটু দূরে গোল হয়ে বসলো সকলে।আপাতত একটু চিন্তা মুক্ত সকলেই।কিছুদিন নিশ্চিন্তে কাটানো যাবে।উপস্থিত সোলজার আর ক্যাপ্টেন টুকটাক গান গাইলো।কেউ কেউ হাস্য রসের কৌতুক।কে অফিসার কে সোলজার তার ।মাপকাঠি থাকলো না আজ।সকলের দেয়া বিনোদন শেষ হতেই ক্যাপ্টেন রাশেদ বলে উঠলো
“মেজর রণ শুনেছি আপনি ভালো গান করেন।বিগ রিকোয়েস্ট থাকবে ঢাকা ফেরার আগে আমাদের একটা গান শোনাবেন।
রণ প্রথমে মানা করলো।কিন্তু দূর্জয় সোলজার এর হাত থেকে গিটার নিয়ে রণ’র পানে ছুড়ে মেরে বললো
“নে ধর।না করিস না।মনের মানুষকে ভালোবাসা জাহির করতে পেরেছিস সেই আনন্দে একটা গান শোনা।
রণ দীর্ঘ শ্বাস ফেললো।অনেক কিছু বলতেও ইচ্ছে হলো তার।কিন্তু নিজের জুনিয়র অফিসার দের সামনে সেসব বলা সমীচীন মনে করল না সে।রণ গিটার হাতে নিয়ে অল্প টুংটাং করলো।এরপর চোখ বুঝলো।মুহূর্তেই কানে বেজে উঠলো মৌনতার কাতর গলা
“তুমি বিনে মরন হচ্ছে রণ ভাই।এ কেমন নিঠুর ভালোবাসায় বাঁধলে আমায় বলো তো।এই নিষ্ঠুরতা তো কাউকে বলাও যাচ্ছে না সওয়াও যাচ্ছে না।
রণ ঠোঁট এলিয়ে হাসলো।এরপর গাইলো
“প্রেম যে বোবা ,প্রেম যে কালা
সেই প্রেমে এতো জ্বালা
যে জ্বালায় হৃদয় ভাঙ্গেরে….
জ্বলেরে…জ্বলেরে…..জ্বলেরে…
হিয়া জ্বলে পিয়ার দরদে…
মৌনতা তার মামাতো বোন সিমিকে নিয়ে মাহিরের সঙ্গে ঢাকা এলো।ঢাকা এসে মৌনতার চোখ চড়ক গাছ হলো।বিশাল উঁচু উঁচু বিল্ডিং,আধুনিক পোশাকে আবৃত ছেলে মেয়ে,নানান ঢঙের সাজ গোজ আর তাদের বিলাস বহুল জীবন দেখে স্তব্ধ রইলো মৌনতা।সিমি চুপচাপ রইলো।আর ফিসফিস করে বললো
“মৌনপু এমন করো না।মানুষ গেঁয়ো ভুত বলবে তোমায়।
মৌনতা চুপ মেরে গেলো।মাহির চোখ গরম করে শাষিয়ে বললো
“মানুষের মুখের দিকে যদি আবার এভাবে তাকিয়েছিস তবে ধাক্কা দিয়ে ড্রেনে ফেলে দেব।এসব ছোটলকি মোটেও পছন্দ নয় আমার।
মৌনতা এবার ভয় পেলো।মাহিরের বিশ্বাস নেই।নিজের প্রেস্টিজ রক্ষার্থে যা খুশি তাই করতে পারে সে।
মাহির মৌনতা দের তার বড় মামার বাসার গেটের সামনে পৌঁছে দিয়েই প্রস্থান নিলো।ভাগ্নে ভাগ্নি আর ভাতিজি কে দেখে ভদ্রলোক খুশি হলেন।ব্যাস্ততার জন্য সৌম্য র বিয়েতে যেতে পারেন নি সেটা নিয়েও আফসোস করলেন।শেষমেশ মাহিরের কাণ্ডে রেগে গেলেন।কিন্তু মাহির নিরুপায়।অফিস থেকে মুহূর্তে মুহূর্তে কল আসছে তার।নির্ধারিত ছুটির চাইতেও দুদিন বেশি কাটিয়ে ফেলেছে সে।তাই আর এক মুহূর্ত বিলম্ব করার ফুসরত নেই তার।
মৌনকে ধরে উপরে নিয়ে গেলেন মৌনতার মামা শফিকুল।মৌনতা আর সিমিকে দেখে লাফিয়ে উঠলো মৌনতার মামাতো বোন সায়নী।সিমির সম বয়সী সে।সিমিকে আর মৌনকে ঝাপ্টে ধরে সায়নী বলে উঠলো
“পুরো ঢাকা ঘুরবো আগেই বলে দিলাম।
মৌনতা মেকি হেসে ফিসফিস করে বললো
“তোর ফোনটা আমায় ধার দে কয়েকদিনের জন্য সায়নী।
সায়নী কপাল কুঁচকে শুধালো
“রিজন কি?
সিমি ফিসফিস করে বললো
“লাভ কেইস।
সায়নী অবাক হয়ে বলল
“মানুষটা কে?
সিমি ইতিউতি তাকিয়ে ঠোঁট টিপে বললো
“রণ ভাই।
সায়নী চোখ বড় বড় করে বলে উঠলো
“শেষমেশ শত্রুর সাথে?
রাতে সায়নী ,মৌনতা আর সিমি এক ঘরে ঘুমালো।রাত বাড়লো সিমি সায়নী ঘুমালো কিন্তু ঘুম ধরা দিলো না মৌনতার অক্ষি পটে।সে আলগোছে সায়নির ফোনটা নিয়ে বেলকনিতে গেলো।এরপর রণ’র নম্বর ডায়াল করলো।রিং হলো কেউ তুললো না।মৌনতার মন ভার হলো।সে আরেকবার ডায়াল করলো।এবারও রণ ধরলো না।মৌনতার মুখে অমাবস্যার আধার ভর করলো।
ফোনটা বুকে জড়িয়ে খোলা আকাশের পানে তাকিয়ে রইলো অনিমেষ মৌনতা।ভেতর ঠেলে কান্না পাচ্ছে তার।আজব এক রোগ।চোখে যেনো সমুদ্র বয়ে চলেছে।কিছু হলেই আজকাল খুব করে কান্না পায়।মৌনতার মাঝে মাঝে মনে হয় সে অসহ্যকর ন্যাকা হয়ে যাচ্ছে।নয়তো তার চরিত্র বিশেষন হুট করেই কিভাবে এতোটা বদলে যেতে পারে,?
মনের সাথে যুদ্ধ করে হেরে গেল মৌনতা।চোখ ভিজল তার।এমন মুহূর্তে ফোন বেজে উঠলো।রিসিভ করে হ্যালো বলবার আগেই ওপাশ থেকে ধমক এলো
“না খেয়ে হসপিটালে কেনো ভর্তি হয়েছিলি?দেখা হলে এর জন্য গুনে গুনে চারটে চড় মারবো।বুঝেছিস কি বলেছি?
মৌনতা নিঃশব্দে মাথা ঝাঁকালো।কিন্তু মুখ ফুটে কিছু বলতে পারল না।রণ কিছুক্ষণ নিরব থেকে তপ্ত শ্বাস ফেলে বললো
“কেঁদে কেঁদে আমার হৃদয়টা ক্ষতবিক্ষত করে তুই কি বড্ড সুখ পাশ হার্ট বিট?..
মৌনতা এবারও নিঃশব্দে মাথা নাড়লো।রণ স্মিত হাসলো।এরপর বললো
“তাহলে?
মৌনতা মনে মনে বললো
“তোমার ভালোবাসা আমাকে পাগল বানিয়ে তুলেছে রণ ভাই।সারাক্ষণ তোমার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করে,তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করে।মনে হয় তোমাকে জাপ্টে তোমার বুকের হৃদ গতি গুনি।
রণ শব্দ করে সুন্দর হাসলো।এরপর বললো
“মনের কথা সব পড়ে ফেলছি কিন্তু বুঝলি?আমাকে জাপ্টে ধরার জন্য হলেও তোকে সুস্থ স্বাভাবিক থাকতে হবে।এভাবে নেতিয়ে গেলে আমার আদরের চোট তো কুলাতে পারবি না।বল পারবি?
মৌনতা চোখের জল মুছে শুধালো
“কি করে জানলে এটা আমি?
“তোকে ছাড়া নিজের ব্যাক্তিগত নম্বর আর কাউকে দেইনি রে প্রাণ।আমার মাকেও না।
মৌনতা ঠোঁট কামড়ে বললো
“তোমাকে ছুঁতে ইচ্ছে করছে রণ ভাই।
“এখন?
“হু।
“সত্যি
“হাজারটা সত্যি
“আমাকে শুধু চল্লিশটা মিনিট দে কলিজা।আমি সারা রাত তোকে বুকে জড়িয়ে রাখবো।
“ফোন কেটে দেব?
“অপেক্ষার প্রহর সইতে পারবি?চল্লিশ মিনিট চলি হাজার বছর মনে হবে না?
“তোমার ভালবাসা সব অপেক্ষার যাতনা ঘুচিয়ে দেবে আমি জানি।
“তবে অপেক্ষার মুহূর্ত গুনতে থাক।আসছি।
চলবে
সারিকা হোসাইন – Sarika Hossain
Share On:
TAGS: ভালোবাসার সমরাঙ্গন, সারিকা হোসাইন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩১
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৭
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২১
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১১
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৪
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২০
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৬
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৬
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৮
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৭