ভালোবাসার_সমরাঙ্গন ||১৫||
সারিকা_হোসাইন
দুপুরের আগে আগেই বরযাত্রী রওনা হবে বসন্তপুর গ্রামে।সকলের মধ্যে উচ্ছাস,বাঁধভাঙা আনন্দ আর কর্ম ব্যাস্ততা।শহর থেকে কিনে আনা বিয়ের জিনিস গুলো দুটো লাগেজে সুন্দর করে গুছিয়ে তালা আটকে দিলেন রেহনুমা।এরপর শায়লার তদারকিতে রেখে বলে উঠলেন
“এগুলো তোমার ঘরে রাখো শায়লা।রণ এগুলো নিয়ে সবার আগে বসন্তপুর যাবে।আমার ঘরে আজ মানুষের আনাগোনা বেশি।কখন কি হারিয়ে যায় বলা যায়না।কিছু খোয়া গেলে মুখ দিয়ে একটা শব্দ পর্যন্ত উচ্চারণ করা যাবে না।তাছাড়া বিয়ের জিনিস হারানো ভালো নয়।
শায়লা হাসি মুখে লাগেজ দুটো নিয়ে ঘরে রেখে ঘর তালাবদ্ধ করে আচঁলের খুটে চাবি বেঁধে বলে উঠলো
“এইজে তালা বদ্ধ করলাম বড় আপা।মানুষ তো দূর একটা পিঁপড়েও ঢুকতে পারবে না।তুমি নিশ্চিন্তে থাকো।
বলেই স্বামীর ডাকে সাড়া দিয়ে হন্তদন্ত করে দৌড়ে গেলেন শায়লা।দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে রুলি জ্বলে উঠলো।সে মুখ ভার করে রেহনুমার সামনে এসে বলে উঠলো
“জিনিস গুলো তো আমার ঘরেও রাখতে পারতে বড় আপা!আমার চাইতেও শায়লা তোমার আপন হলো?
রেহনুমা কীয়তখন নিশ্চুপ রইলেন।এরপর ভারী গলায় জবাব দিলেন
“এই বাড়িতে সবচাইতে দায়িত্বজ্ঞান সম্পন্ন মানুষ শায়লা।স্বয়ং দেওয়ান সাহেব বাড়ির টাকা পয়সা,সোনা দানা তার কাছে জমা রাখেন।কারন সেগুলো সুরক্ষিত থাকে তার কাছে।আমরা সেভাবেই মেনে আসছি বহু বছর ধরে।আজ হঠাৎ এমন কথা কেনো?
রুলি বুঝতে পারলেন শায়লার কথা বলাতে তার বড় বোন রাগান্বিত হলেন তার উপর।কিন্তু তাতে বিশেষ পাত্তা দিলো না রুলি।তিনি কথার মোড় ঘুরিয়ে রুলি বলে উঠলেন
“বিশ্বাস করছো করো।তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই।উনাকে আমিও শ্রদ্ধা করি।কিন্তু কদিন ধরে তোমাদের বাড়িতে এসে যা দেখছি!তাতে?
“কি দেখছিস?
ফট করে শুধালেন রেহনুমা।
“শায়লা আপা ওতো ভালোমানুষ মোটেও নয়।যথেষ্ট চতুর আর বুদ্ধিমতী।ঘটে বেশ কুটিল বুদ্ধি।সাবধানে থেকো আপা।পরে না সব লুটে নেয়।
ব্যস্ততার অন্তিম মুহূর্তে রুলির এসব কথায় রাগ হলো প্রচুর রেহনুমার।তার ইচ্ছে হলো রুলিকে ধমকে গালাগাল করতে।কিন্তু বড় ছেলের বিয়েতে কোনো ঝামেলা চাননা তিনি।রণ টাও যথেষ্ট বদমেজাজি।হুট করে কোথাও থেকে এসে শায়লা সম্পর্কে এসব কথা শুনলে অপমান অপদস্থ করে রুলিকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে এক মুহূর্ত বিলম্ব করবে না।আর যদি দেওয়ান মির্জার কানে কোনো ভাবে এসব কুকথা যায়।তবে রুলি কোনো দিনও আর এ বাড়িতে আসতে পারবে না।রেহনুমা নিজের ভাবনা ফেলে ব্যস্ততা দেখিয়ে বললেন
“শায়লা যথেষ্ট জ্ঞানী আর ভালো একজন মানুষ।আমি তোর সাথে পরে কথা বলবো রুলি।একটু পর বরযাত্রী চলে যাবে।আমার কাজ আছে।
“কাজ তো করবেই।তবে শায়লা আপা আর তার মেয়ের থেকে ছোট ছেলেকে দূরে রেখো।মৌনতা কিন্তু ঢলে পড়ছে।
এবার ধমকে উঠলেন রেহনুমা।
“মুখ সামলে কথা বল রুলি।যাকে নিয়ে এসব বলছিস সে এবাড়ির আদরের মধ্যমনি।নিজের সন্তানের মত ভালোবাসি ওকে আমি।আমার কাছে রণ ,সৌম্য যা মৌনতা ও তাই।ওর বিষয়ে আর একটাও বাজে কথা বললে আমি ভুলে যাবো তুই আমার বোন।বিয়ে খেতে এসেছিস খেয়ে বউ দেখে চলে যাবি।শায়লা বা মৌনতা কে নিয়ে তোর মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই।
বলেই নাকের ডগায় রাগ জমিয়ে লম্বা পায়ে চলে গেলেন রেহনুমা।বোনের কাছে বিশেষ সুবিধা করতে না পেরে বোন জামাইকে গুটি হিসেবে ঠিক করলেন রুলি।এরপর মুখ কালো করে সেখান থেকে প্রস্থান নিলো।
শায়লার কেনা ফ্লোরাল প্রিন্টের সুন্দর জর্জেট আনারকলি খানা বিছানায় রেখে গোসলে ঢুকলো মৌনতা।ঘরের দরজা খুলেই রাখলো।তার ঘরের ড্রেসিং টেবিলে সিমি,তুবা, আরো অনেকে এসে সেজে যাচ্ছে।দরজা বন্ধ করলে বেমানান দেখাবে।
মৌনতা গোসল শেষ করে ঘরে এসে দেখলো কেউ নেই।তাই দরজা আটকে গায়ের সুতি জামা খুলে সেই জামা হাতে নিলো।এমন সময় বেলকনি থেকে ঘরে ঢুকলো কেউ।মৌনতা ধাতস্থ হয়ে পেছন ফিরে আগত মানব কে দেখেই বিস্ফারিত চোখে দাঁড়িয়ে রইলো।চিৎকার করার আগেই রণ দৌড়ে চেপে ধরলো মৌনতা ভেজা মুখ।এরপর হিসহিস নিস্পৃহ গলায় বলে উঠলো
“এসব দেখার কোনো ইন্টারেস্ট আমার নেই।দুদিন পর তুই নিজেই দেখাবি।যাক সেসব কথা।এসেছি দরকারে ।বাইরে অনেক মানুষের আনাগোনা তাই বেলকনিতে ঝুলে ঝুলে এসেছি।দোষ তোর।তোর উচিত ছিল বেলকনীর দরজাও লাগানো।কারন এহেন অপার্থিব সৌন্দর্য অনুভূতি হীন সিমেন্টের দেয়াল ও গিলে খাবে।আর আমি তো মাত্র মানুষ।
মৌনতা এক হাতে বুকে জামা খামচে ধরে অন্য হাতে রণ’র চোখ চেপে ধরলো।এরপর বললো
“আমি জানি তুমি কিছুই দেখো নি।
রণ বাঁকা হেসে বলে উঠলো
“এখন আর ধরে লাভ নেই জানেমান।যা দেখার দেখে ফেলেছি।অনিন্দ্য সুন্দর।আজ আমি মরে যাবো।কেউ আমাকে বাঁচাতে পারবে না।তুই ও না।
মৌনতা চট করে বিছানা থেকে নিজের ওড়না নিয়ে এক হাতে রণ’র চোখ মুখ পেঁচিয়ে রণ’র হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে দৌড়ে ওয়াশরুমে গিয়ে দরজা আটকে দিলো।এরপর লজ্জায় কাবু হয়ে অসাড় দাঁড়িয়ে রইলো দেয়ালে হেলান দিয়ে।
রণ বাথরুমের দরজায় মাথা ঠুকে দাঁড়িয়ে ধীর লয়ে বললো
“কোমরের নিচের কালো তিলটা আমাকে মরন বান মেরেছেরে মৌন।কিছুতেই দৃষ্টি থেকে সড়ছে না।ইন্টিলেজেন্স কমান্ডো চোখ।সব ক্যাপচার করে নিয়েছে।এখন ওগুলো সামনে দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।যতদিন তুই আমার না হবি এগুলো মস্তিষ্কে শক্ত আসন গেড়ে আমায় জ্বালাবে,পোড়াবে, ভস্মীভূত ছাই বানিয়ে হাওয়ায় উড়াবে।খুব কঠিন অসহনীয় জন্ত্রনা হয়ে গেল আমার জন্য।আমি বাঁচবো তো?
মৌনতা লজ্জায় হাতের আজলায় মুখ লুকিয়ে লম্বা সময় দাঁড়িয়ে রইলো।এরপর হাতের জামা গায়ে জড়িয়ে ডাকলো
“রণ ভাই!
সাড়া পাওয়া গেলো না।মৌনতা ধরে নিলো রণ চলে গিয়েছে।তাই বার কয়েক বড় শ্বাস ফেলে দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে এলো সে।এসেই নিজের বিছানায় সটান শুয়ে থাকতে দেখলো রণকে।চোখে মুখে ওভাবেই ওড়না পেঁচিয়ে শুয়ে আছে সে।
মাথার পেছনে এক হাত আর বুকে আরেক হাত রেখে রণ স্পৃহ গলায় বলল
“বাঁকানো কোমরের মাঝ বরাবর শিরদাঁড়ায় ছোট একটা লাল তিল।কাঁধে আরেকটা,কোমরে একটা কালো তিল।আর সুডৌল…..
মৌনতা বালিশ চেপে ধরলো তাৎক্ষণিক রণ’র মুখে এরপর চিবিয়ে বললো
“আচ্ছা দুশ্চরিত্র আর লম্পট তুমি।তোমাকে এক্ষুনি মেরে ফেলবো আমি।
“মেরে ফেল।তবেই শান্তি মিলবে আমার।নয়তো অশান্তি আর নির্ঘুমতা নিয়ে বাঁচতে হবে আমায়।মৃত্যুতে কোনো আফসোস নেই আমার।যা দেখেছি তাতে স্বর্গ লাভ হয়ে গেছে।প্লিজ মেরে ফেল আমায়।প্লিজ !
মৌনতা বালিশ সরিয়ে বলে উঠলো
“বেরিয়ে যাও ঘর থেকে।আমার কাজে দেরি হচ্ছে।
রণ চোখ মুখ থেকে পেঁচানো ওড়না খুলে হাতে নিয়ে কাতর গলায় বলে উঠলো
“আজ রাতে চলে যাবো মৌন।ভেবেছিলাম যাবার আগে মনে ব্যাথার মেঘ উড়বে।কিন্তু ট্রাস্ট মি।তোর এই উন্মুক্ত সৌন্দর্য আমার কষ্টের মিশনটাকে একদম ইজি করে দেবে।না খেয়ে পাহাড়ে পাহাড়ে ঘোরা, সাপ খোপের সাথে যুদ্ধ করে রাত জাগা,ঝর্ণার ঠান্ডা পানিতে সারাদিন ডুবে থাকা,জোঁকের কামড় কিচ্ছু গায়ে লাগবে না আমার।
বলেই উঠে এসে মৌনতার মেদহীন কোমর চেপে ধরে পেটে মাথা গুঁজে চুপ করে রইলো।রণ’র স্পর্শে মৌনতার শরীর ঝাকুনি দিলো।সেই সাথে বুক ভার হলো।সমস্ত আনন্দ খুশি নিমিষেই ধূলি ঝড়ে রূপান্তরিত হলো।না চাইতেও রণ’র মাথায় হাত রাখলো মৌনতা।মৌনতার মনে হলো রণ কাঁদছে।চট করে রণ’র দুই গাল জড়িয়ে রণর মুখ উপরে তুললো মৌন।মানুষটা সত্যিই কাঁদছে।
মৌনতা নিজেও ব্যাথিত হলো।রণ’র বিরহ তাকেও জলে ভাসালো।মৌনতা কে হ্যাচকা টানে নিজের কোলে বসিয়ে শক্ত আলিঙ্গনে বেঁধে মৌনতার কাঁধে মুখ লুকিয়ে শব্দ করে কেঁদে ফেললো রণ।অতঃপর বললো
“তোকে ছেড়ে থাকতে আমার এবার অনেক কষ্ট হবে মৌন।ইচ্ছে করছে চাকরি ছেড়ে দিতে।শুধু তোর পা জড়িয়ে বসে থাকতে ইচ্ছে করে সারাদিন।কিভাবে বাঁচবো তোকে ছাড়া বলতো?
মৌনতা কম্পিত গলায় বলল
“তোমার জন্য অপেক্ষা করবো আমি রণ ভাই।
“যদি আর না আসি?
“তবুও অপেক্ষা করবো।
“তোর কষ্ট হবে না?
“না রণ ভাই।ওই অপেক্ষায় আমি সুখ পাবো।তোমার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ার সুখ।
“এবার পরীক্ষায় পাস করতে পারবি তো?
বলেই মৌনতার পানে অনিমেষ তাকালো রণ।নিজের চোখের জল হাতের উল্টোপিঠে মুছে মৌনতা বললো
“তুমি দেখো আমি এবার সত্যিই পাস করবো।
মৌনতার গালে টুপ করে চুমু খেলো রণ।এরপর মৌনতার ভেজা চুল মুখের উপর থেকে সরিয়ে বলে উঠলো
“নোমান শাহরিয়ার এর থেকে দূরে থাকবি।ওর মতিগতি ভালো নয়।ও তোকে ভালোবেসে ফেলেছে।
“তুমি কি করে জানলে?
রণ নাক টেনে বললো
“আমি সব জানি।
মৌনতা মাথা ঝাকিয়ে বললো
“আমি সবার থেকে নিজেকে আড়াল করে রাখবো।
“আমি চলে গেলে কোয়েল তোকে জ্বালাবে।বড্ড শয়তান আর কুটনী ও।নিজেকে বাঁচাতে পারবি ওর থেকে?
“পারবো।
মৌনতার গাল টেনে রণ বললো
“গুড গার্ল।
এরপর রণ একটা কালো ডিভাইস বের করলো নিজের পকেট থেকে।সেটা মৌনতার হাতে গুঁজে বলে উঠলো
“খুব সাবধানে আর লুকিয়ে রাখবি এটা।কারো হাতের নাগাল যেনো এটাতে না পরে।
“কি এটা?
অবাক হয়ে শুধালো মৌনতা।
“মিলিটারি স্যাটেলাইট ফোন।এটা অন করলে আমার লোকেশন জানতে পারবি তুই।আমি মরে গেলেও জানতে পারবি।রেড সিগন্যাল দেখাবে তখন।আর যখন তোর মনে হবে আমার সাথে কথা না বলতে পেরে তুই মরে যাচ্ছিস তখন অনলি ত্রিশ সেকেন্ড কথা বলতে পারবি আমার সাথে।
মৌনতা ফট করে শুধালো
“যদি প্রতি মুহূর্তে কথা বলতে চাই?
“পারবি না।একটা মিশনে তিন থেকে চার বার কথা বলতে পারবি তুই।তাই হিসেব করে বাটন চাপবি।নয়তো পরে আমাকে আর পাবি না।
মৌনতা স্যাটেলাইট ফোন রণ’র হাতে গুঁজে বলে উঠলো
“এটা আমি নেবো না রণ ভাই।
“কেনো?
“যদি কখনো এটাতে লাল সিগন্যাল জ্বলে তবে আমি সহ্য করতে পারবো না।আমি মরে যাবো।
“জ্বলবে না রেড সিগন্যাল।তোর ভালোবাসার শক্তি আমায় বাঁচিয়ে নেবে।উপর ওয়ালা ওতোটাও নিষ্ঠুর নয়।
মৌনতা নিশ্চুপ রইলো।রণ চলে যাবে সে এটা মানতে পারছে।কোন শক্তি বলে রণ কে সে আটকে রাখবে এটাও ভেবে পাচ্ছে না।এমন সময় রণ আবদার করলো
“একটা জিনিস চাইবো দিবি?
মৌনতা মাথা দুলিয়ে বললো
“কি চাও?
“আমায় একবার নিজে থেকে চুমু খাবি?
রণ’র আকুল আবদারে সায় দিলো মৌন।রণ’র গলা জড়িয়ে অধরে অধর ছোয়াল।রণ চোখ বুজে অশ্রু ফেললো।সেই সাথে অঝোর কাঁদলো মৌনতা।
রণ মৌনতা কে ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো।হাতে আর সময় নেই।এখনই যেতে হবে অনুদের বাড়ি।তার কাছেই গহনা ,সাজগোজের জিনিস পত্র সব।রণকে ছেড়ে মৌনতা যখন ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো তখন রণ শুধালো
“এটা তোর নতুন জামা না?
চুল আচড়াতে আচড়াতে মৌন জবাব দিলো
“হ্যা।মা এনেছে।
রণ কপাল কুঁচকে পেছনের জামা মৌনতার সামনে এনে বললো
“এটা তো ছেড়া!
বিস্মিত হয়ে জামায় নজর বুলাতেই মৌনতার চোখ কপালে উঠলো।পেছনের পার্ট একদম ছিড়ে কুচি কুচি।দেখে মনে হচ্চে ইদুরে কেটেছে।মৌনতা ভার মুখে বললো
“এটা এমন হলো কি করে?
কঠিন বুদ্ধিদীপ্ত রণ নিমিষেই বুঝে গেলো সবটা।চোখে মুখে ক্রোধ ছলকে উঠলো তার।নিজের সঙ্গে করে আনা নতুন জামা মৌনতা কে দিয়ে রণ বলে উঠলো
“এটা পড়।ঢাকা থেকে এনেছিলাম।এটা দিতেই এসেছিলাম তোর ঘরে।এমনিতেও ছোট মার দেয়া জামা তোকে আজ পড়তে দিতাম না আমি।তুই তৈরি হয়ে নীচে আয়।যে জামাটা এভাবে কেটেছে তাকে আমি দেখছি।
মৌনতা বিস্মিত হয়ে বলল
“তুমি কি করে জানলে কে করেছে এটা?
মৌনতার প্রশ্নে বিচক্ষণ চোখে আশেপাশে কিছু খুজলো রণ।এরপর মেঝে থেকে একটা ছেড়া বেলিফুল হাতে নিয়ে বলে উঠলো
“বলতো কে করেছে এই কাজ?
সকালেই কোয়েলকে বাগান থেকে বেলিফুল তুলতে দেখেছে মৌন।তুবা সেই ফুল দিয়ে তাকে গাজরা বানিয়ে দিয়েছে শাড়ির সাথে পড়ার জন্য।মৌনতা তাজ্জব হয়ে বললো
“কোয়েল?
রণ মাথা ঝাকিয়ে বেলকনি দিয়ে লাফিয়ে নিজের ঘরে চলে গেলো।এরপর দৌড়ে বেরিয়ে এলো বাইরে।উদ্দেশ্যে মাহিরের কুকুর কালু।কালুর গলার বেল্ট ধরে টেনে বাড়ির নির্জন জায়গায় নিয়ে এলো রণ।এরপর ঝুকে বসে কালুর চোখে চোখ রেখে সেই বেলি ফুল কালুর সামনে এনে মিলিটারি ভাষায় বলে উঠলো
“এ্যাটাক!
চলবে…..
Share On:
TAGS: ভালোবাসার সমরাঙ্গন, সারিকা হোসাইন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৬
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন গল্পের লিংক
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৮
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩৩
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৯
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩০
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৮
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৪
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৪