ভালোবাসার_সমরাঙ্গন || ১০ ||
সারিকা_হোসাইন
সকাল সকাল সৌম্য বাড়ির সবাইকে নিয়ে ছুটলো জেলা শহরে বিয়ের শপিং এর জন্য।গহনা আর বউয়ের ভারী জিনিস গুলো রণ নিজেই কিনেছে।সৌম্য যেভাবে বলেছে সে মোতাবেক।কারন রণ’র পছন্দ ভালো এবং রুচিশীল।বাকি টুকিটাকি জিনিস আজ কিনলেই হয়ে যাবে।আদনান মির্জা আর সাদনান মির্জা দুই ভাই সেই ভোরে চলে গিয়েছে গরু ছাগল কিনতে ।সঙ্গে গিয়েছে আক্কাস।দেওয়ান মির্জা লোক মারফত বিয়ের কার্ড বিলি করে ফেলেছেন দুদিন আগেই।এখন শুধু গায়ে হলুদের প্যান্ডেল আর বউ ভাতের আয়োজন এর প্যান্ডেল বাকি।ওগুলো এক দিনেই হয়ে যাবে।
মৌনতার শরীর এখনো তেমন সুস্থ নয় বলে সে গেলো না।শায়লাও রাজি হলো না মেয়েকে একা ফেলে যেতে।কিন্তু রেহনুমা ধরে বেঁধে নিয়ে গেলেন এবং শায়লাকে বললেন
“বাড়িতে যেহেতু রণ আর আব্বা আছে তবে কিসের এতো পেরেশানি তোমার শায়লা?আমরা সন্ধ্যা বেলায়ই ফিরে আসবো।তাছাড়া চামেলির মা তহুরা বেগম তো আছেন ই।কোনো অসুবিধা হবেনা।তুমি চলো।
যাত্রা পথে শায়লা মৌনতা কে শুধালেন
“কেমন জামা কিনবো তোর জন্য?আনারকলি নাকি শাড়ি নিবি?
শরীরের অসুস্থতার জন্য মৌনতার মনে কোনো উচ্ছাস কাজ করলো না।সে ধীর গলায় বললো
“ছোট মামার বিয়েতে যেমন জামা কিনেছিলে অমন পেলে নিয়ে এসো।নয়তো এনো না।বিয়ের আর দুদিন আছে।স্যালোয়ার কামিজ আনলে ওটা পরেই থাকবে।বানানো হবে না এত অল্প সময়ে।
সায় জানিয়ে শায়লা চলে যেতেই মুইন এসে মৌনতার জুতার মাপ দেখে গেলো।এরপর বললো
“উঁচু হিল নেবো মৌন?
মৌনতা মাথা ঝাকিয়ে শুধু হ্যা বললো।মুইন চলে গেলো।মৌনতা কাঁথা গায়ে দিয়ে বিছানায় ঝিম ধরে পরে রইলো।জ্বরের পর শরীরটা কেমন শক্তিহীন লাগছে।উঠে দাঁড়ানোর শক্তি টুকুও নেই।দাঁড়ালেই মাথায় টনটনে ব্যথা হয়।শুয়ে থাকলে একটু আরাম লাগে।
রেহনুমা গাড়ি ছাড়ার আগ মুহূর্তে পইপই করে তহুরা বেগমের উদ্দেশ্যে বললেন―
“চামেলির মা মৌনতার খেয়াল রেখো।আমরা গেলাম।সন্ধ্যার আগেই ফেরার চেষ্টা করবো।বড় মিয়া আর ছোট মিয়া বাড়ি ফিরলে ফ্রিজ থেকে গরুর মাংসের তরকারি বের করে গরম করে দিও।আর রণ কে একটু পাতলা ডাল করে দিও যদি খাবার নিয়ে ঝামেলা করে তবে।
তহুরা বেগম জবাবে বললো
“বড় বউ আফনে কোনো চিন্তা করবেন না।ছোট থেকে পালতাছি এগর সবাইরে।নাড়ি নক্ষত্র সব জানা আমার।নিশ্চিন্তে আফনেরা যান গা।
রেহনুমা গাড়িতে উঠার আগে চামেলিকে তাড়া দিলেন
“লেবুর পাতা নিয়ে তাড়াতাড়ি গাড়িতে উঠ চামেলি।আমার আবার বমি পায়।
তহুরাকে আর রণ কে সব বুঝিয়ে বেরিয়ে গেলো সকলে।বাড়িতে পরে রইলো শুধু মৌনতা ,রণ আর বৃদ্ধা তহুরা।
নিজ ঘরে বসে বসে ফোনে জরুরি ইমেইল আদান প্রদান করছে রণ।ইমেইলের তথ্য মোতাবেক ছুটি শেষ হবার আগেই তাকে ফিরে যেতে হবে।এবারের মিশন রাঙ্গামাটি তে।সেখানে সন্ত্রাস হামলা বেড়েছে প্রচুর।তারা আর্মিদের উপর হামলা করেছে সমান তালে।গতকাল দুজন সোলজার আহত হয়েছে চরম ভাবে।কিন্তু কে বা কারা হামলা করেছে তা জানা যায়নি।কারন নাইট প্যাট্রোলিং এর সময় এই ঘটনা ঘটেছে।উপস্থিত টিম ইনচার্জ ক্যাপ্টেন রাশেদ এর ভাষ্যমতে এখানে বড় কেউ কলকাঠি নাড়ছে।প্রথমে তারা ভেবেছিলো উপজাতি রা পাহাড় দখলের জন্য এমন আকস্মিক আক্রমন চালাচ্ছে।কিন্তু ঘটনা পরক্ষনে জলের মতো পরিস্কার হয়েছে। পাহাড় দখলের সাথে এই হামলার কোন সম্পর্কই নেই।খোঁজ নিয়ে আরো জানা গিয়েছে হুট করেই পাহাড়ি ছোট ছোট বাচ্চা গুলো হারিয়ে যাচ্ছে।কোনো ভাবেই তাদের আর খুঁজে বের করা যাচ্ছে না।ভীত আদিবাসীরা ভেবে নিয়েছে কোনো ভয়ানক জন্তু জানোয়ার হয়তো খেয়ে নিচ্ছে তাদের বাচ্চা গুলোকে।কিন্তু টহল রত আর্মিরা জানাচ্ছে ভেজা মাটিতে অনেক মানুষের জুতার ছাপ স্পষ্ট পাওয়া যাচ্ছে।যা কোনো আর্মি পার্সন এর নয়।এমনকি আদিবাসী দের ও নয়।কারন ওই পথে আদিবাসী তো দূর আর্মীরা ও সচরাচর হাটে না।
পুরো ঘটনা মাথায় ক্যাপচার করে তপ্ত শ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়ালো রণ।হারিয়ে যাওয়া বাচ্চা গুলোর কথা চিন্তা করে তার মন খারাপ হলো।সেই সাথে তাদের পরিবারের অবস্থা চিন্তা করেও তার দম বন্ধ লাগলো।সেইসাথে হঠাৎ মনে পড়লো ছোট বেলায় মৌনতার একবার হারিয়ে যাবার ঘটনা এবং বাড়ির সকল মানুষের করুন চিৎকার চ্যাচামেচি।
স্কুল থেকে বাড়ি না ফিরেই মৌনতা একদিন তার বান্ধবীর বাড়িতে চলে গিয়েছিল।বয়স তখন সাত কি আট।সন্ধ্যা হলেও যখন মৌনতা বাড়িতে না ফিরলো তখন শায়লা মাটিতে পড়ে কাঁদতে লাগল।পুরো গ্রাম চসে বেড়ানো হলো।রেহনুমা,সৌম্য সাদনান মির্জা,আদনান মির্জা হন্যে হয়ে উদ্ভ্রান্তের ন্যয় মৌনতা কে মানুষের বাড়ি বাড়ি খুজলো।দেওয়ান মির্জা লোক লাগিয়ে গ্রামের সমস্ত পুকুরে খুজলো।কিন্তু মৌনতা কোথাও নেই।মাহির মুইন কেঁদে কেঁদে জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরলো।কিন্তু পাওয়া গেলো না একমাত্র আদরের মৌনতা সাবেরিকে।
রণ তখন কেবল এস,এস,সি এক্সামের প্রস্তুতি নিচ্ছে।মৌনতা হারিয়ে গেছে ভেবে সে বেশ খুশিই হলো।সারাদিন তার আনন্দে কাটলো।কারন মেয়েটা তার দুই চক্ষের বিষ।হারিয়ে গেছে বেশ হয়েছে।ঘর থেকে টাকা নিয়ে বিকেলে বন্ধুদের পেট ভরে মিষ্টি খাওয়ালো ।মৌনতার গলার স্বর,আহ্লাদী আবদার আর ভ্যা ভ্যা কান্নার সুর শুনতে হবেনা ভেবেও তার ভারী আনন্দ হলো।কিন্তু সেই আনন্দ বেশি খন স্থায়ী হলো না।মনটা কেমন কু গাইতে আরম্ভ করলো।
“আচ্ছা মৌনতা যদি মরে যায়?হাজার হলেও বোন হয়তো!
মৌনতা মরে যাবে ভেবেই কেমন কান্না পেলো তার।যদিও মৌনতার মৃত্যুতে তার কিছু আসে যায় না।মেয়েটা মরলেই সে বেশ খুশি হবে।স্কুল থেকে আজেবাজে খবর এনে বাড়িতে বলে রণকে বেশ কয়েকবার বকা খাইয়েছে সে।রণ অবশ্য এর জন্য গোপনে জঙ্গলে নিয়ে বেশ শাস্তি দিয়ে কাদিয়েছে তাকে।কান ধরে এক পায়ে দাঁড় করিয়ে রেখেছে প্রায় ঘন্টা খানেক।এছাড়াও মৌনতার মিথ্যে বলার অভ্যেস ছিলো।মুহূর্তেই দেওয়ান মির্জার সামনে আজগুবি মিথ্যে বানিয়ে বলে নাকানি চুবানি খাওয়াতো বাড়ির সবাইকে।রণ’র প্রিয় জিনিস ভেঙেছে বহু বার।শখ করে লাগানো সূর্যমুখী ফুলের গাছটাও টেনে তুলে ভেঙে কুটি কুটি করেছে।কেঁচি দিয়ে ইচ্ছে করে কেটে কুচিকুচি করেছিলো রণ’র প্রিয় টিশার্ট।একদিন রণ এবং তার বন্ধুদের চুরি করে সিগারেট খাওয়া দেখে ফেলে বাড়িতে বলে কম মার খাওয়ায়নি সে রণকে।মৌনতার উপর আকাশ সম রাগ রণ’র।মৌনতা না মরলেও রণ নিজেই একদিন তাকে মেরে ফেলতো।মেয়েটার সাথে বেশ হিসেব নিকেশ বাকি আছে তার। এতো তাড়াতাড়ি মেয়েটা মরে বেঁচে গেলে সব খেলাই তো শেষ।
রণ নিজেই বেরিয়ে গেলো বাড়ি থেকে।সে নিজের বন্ধু বান্ধব চেনা পরিচিত সকলের বাড়ি খুজলো মৌনতাকে।খুঁজতে খুঁজতে অনেক রাত হলো।এমন সময় পথিমধ্যে দেখা হলো এক অপরিচিত মানুষের সাথে।রণ কি ভেবে যেনো তাকে শুধালো
“আমার বোন আপনাদের বাড়িতে?
মানুষটা কপাল কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো
“তোমার বোন কেরা?
রণ’র রাগ হলো এই প্রশ্নে।গ্রামের এমন কেউ কেউ মির্জা বাড়ির মানুষকে না চিনে।তন্মধ্যে মৌনতা বাচ্চা হিসেবে মার্কা মারা।তাকে আরও বেশি বেশি চিনে সবাই।আর এই লোক জিজ্ঞেস করছে তোমার বোন কে?
রণ দাঁত মুখ চিবিয়ে বললো
“আমি দেওয়ান মির্জার নাতি।আমার ছোট বোন হারিয়ে গেছে।
মানুষটা কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থেকে বলে উঠলো
“আমার বাড়ি পাশের গ্রামে।আমার ভাগ্নির সাথে একটা ছোট বাচ্চা মেয়ে আমগর বাড়িতে গেছে।কিন্তু সে তোমার বোন কি না তা জানিনা।
রণ ফট করে শুধালো
“ধবধবে সাদা পরীর বাচ্চার মতো?গায়ে দামি ফ্রক।দেখলেই মনে হবে বড়লোকের বাচ্চা।এমন?
দরিদ্র মানুষটি মাথা নাড়ালো।এরপর বললো
“আহো আমার সাথে।
রণ আর দেরি না করে মানুষটার সাথে ভ্যানে করে পাশের গ্রামে গেলো।লোকটা রণ কে বাড়ির বাইরে রেখে ঘরে ঢুকে মৌনতা কে শুধালো
“তুমি মির্জা বাড়ির মেয়ে?
গরম ডিম ভাজি দিয়ে হারিকেন এর আলোতে ভাত খাচ্ছিলো মৌনতা।মানুষটার প্রশ্নে তার খাওয়া থেমে গেল।তার ভয় লাগলো।তবে কি শায়লা খুঁজতে খুঁজতে এখানে চলে এসেছে?মৌনতা উত্তর দেবার আগেই মৌনতার বান্ধবী তুলি বলে উঠলো
“হ মামা।ও আর আমি একই ক্লাসে পড়ি।আমি ওরে জোর কইরা বেড়াইতে নিয়া আইছি।ও আমারে কৈছে ওর মা ওরে বেড়াইতে আইতে কৈছে।কিরে মৌন সত্য না?
বলেই গুঁতো দিলো মৌনতা কে।মৌনতা ভয়ে ভয়ে মাথা নাড়ালো।সে তুলিকে মিথ্যে বলে বেড়াতে চলে এসেছে।শায়লা তো জানেই না এব্যাপারে কিছু।তুলির মামা বুঝলো ছোট মেয়েটা মিথ্যে বলেছে।তাই সে আর মৌনতা কে ভয় না দেখিয়ে হাসি মুখে বললো
“তোমার ভাই তোমারে নিতে আইছে।তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ করে বাড়ি চলো।
তুলি চোখ গোল করে বলে উঠলো
“কাল সকালে আমরা ইস্কুলে যামু এক সাথে।এহন মৌন যাইবো না।
কিন্তু ভয়ে মৌনতার গলা দিয়ে খাবার নামলো না।সে জামায় হাত মুছে বলে উঠলো
“স্কুলে দেখা হবে তুলি।আমি যাই।
বলেই উঠে দাঁড়ালো।এমন সময় ঘরে ঢুকলো রণ।রণকে দেখেই মৌনতার ছোট শরীর কেঁপে উঠলো।সে তুলির মামাকে বলতে চাইলো এই ছেলেকে আমি চিনি না।এ আমার ভাই নয়।রক্তের সম্পর্কও নেই আমাদের।কিন্তু রণ’র চোখের চাহনি তে সে নিভে গেলো।রণ আজ কোনো হুংকার ছাড়লো না।সে ঠান্ডা গলায় বললো
“ছোট মা খুব কাঁদছে।বাড়ি চল মৌন।
তুলির মামা সৌজন্য হেসে বলে উঠলো
“আমি তুলির মামা।ওরা দুইজন আজই সন্ধ্যায় আইছে এইহানে।এইটা তুলির নানীর বাড়ি।তুলির গ্রাম ফতেহপুরেই।
রণ অল্প হাসলো বিনিময়ে।এরপর মৌনতার হাত চেপে বলে উঠলো
“অনেক রাত হয়েছে।চল।
লোকটা গলা বাড়িয়ে বলে উঠলো
“এখন তো ভ্যান পাইবা না।আমি আগায় দিমু?
রণ ভারী গলায় বললো
“বেশি দূর নয়।হেঁটেই যেতে পারবো।আপনাকে এমনিতেই কষ্ট দিলাম।আসছি।
বলেই মৌনতার হাত ধরে হিরহির করে টেনে বাইরে আনলো।মৌনতা ভয়ে ভয়ে হাটলো রণ’র পেছনে পেছনে।কিন্তু তার পা চলছে না।রণ নিশ্চুপ।মৌনতার সাহস কোন লেভেলের তা সে হিসেবে করে মেলাতে পারছে না।রণ’র ইচ্ছে করছে চুলের ঝুটি টেনে গাল ফাটিয়ে দিতে।কিন্তু নিজেকে সমলালো রণ।এদিকে রণ’র সাথে পাল্লা দিয়ে চলতেই ভাঙা ইটের সাথে লেগে নখ উল্টে গেলো মৌনতার।সে ব্যথায় পা চেপে বসে কেঁদে উঠলো।চাঁদের আবছা আলোয় রক্তের ধারা দেখে কান্নারত মৌনতার বিশ্রি চেহারায় একবার নজর বুলালো রণ।এরপর মৌনতা কে কাঁধে তুলে ছুটলো বাড়ির পথে।
সেদিন মৌনতা কে লাঠি দিয়ে পেটাতে এলো শায়লা।ভয়ে রণ’র প্যান্ট টেনে ধরে রণ’র পেছনে লুকালো মৌন।শায়লার উচানো আঘাত লাগলো রণ’র কানে।মুহুর্তেই কান ফেটে রক্ত বেরুলো।সেটা দেখে মৌনতা কেঁদে বলে উঠলো
“আমার রণ ভাইয়া কান কেটে গেছে।আমার রণ ভাই বাঁচবে না।মা ভাইকে মেরে ফেলেছে।
আরো নানান কথা বলে কত কান্না তার।সেদিন এক অদ্ভুত ভালো লাগা শুরু হলো কিশোর রণ’র মনে।এরপর রণ হাজার বার খেয়াল করেছে কোনো বিপদ আপদে একমাত্র ভরসাস্থল হিসেবে রণ’কেই বেছে নিয়েছে মৌনতা।শুধু কি তাই?রণ’র সামান্য ব্যথায় মৌনতার চোখে যেই ব্যথার ছাপ তা কি কেউ খেয়াল করেছে?
মৌনতার কথা মনে পড়তেই নিজ কক্ষ থেকে বেরিয়ে মৌনতার ঘরে এলো রণ।এসে দেখলো গায়ে কাঁথা জড়িয়ে হা করে ঘুমুচ্ছে মৌন।দুটো নাকই সর্দিতে বন্ধ।ঠোঁটের কোণ বেয়ে টলটলে লালা ঝরছে।
মৌনতার বিছানার পাশে বসে অল্প হাসলো রণ।এরপর বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে সেই লালা মুছে নিজের শার্টে মুছল।অতঃপর পরম যত্নে মৌনতার চুলে বিলি কাটতে কাটতে বলে উঠলো
“ঘুমা মৌন ঘুমা।তুই বড্ড ক্লান্ত আমার মন শহরে ছুটতে ছুটতে।তোর ঘুম খুব প্রয়োজন।কিন্তু আমাকে দ্যাখ!আমি ঘুমুতে পারছি না।আমি ঘুমুলে তোর পায়ের প্রতিটা ছাপ কে গুনবে?আনমনে মন কুঠুরির দেয়াল গুলো যে আলতো হাতে ছুঁয়ে দিয়ে যাস?তার জন্ত্রনা কে সয়ে নেবে?
উঠে দাঁড়ালো রণ।বেরিয়ে আসতে চাইলো নিজ ঘরে।এমন সময় মৌনতার পড়ার টেবিলে নজর গেলো।ইংরেজি বইয়ের ভাঁজে একটা চিরকুট দেখা যাচ্ছে।খোলা বই দেখে মনে হচ্ছে কিছুক্ষণ আগে মৌনতা পড়তে বসেছিলো।টেবিলের কাছে গিয়ে চিঠিখানা হাতে নিলো রণ।তাতে স্পষ্ট লিখা
“যদি ভালোবাসা নিবেদন করি তবে গ্রহণ করবেন মেজর সাহেব?
চিঠিখানা পড়ে রণ’র বুকে কঠিন যন্ত্রনা শুরু হলো।সে বুক চেপে ধরে মৌনতার ঘুমন্ত মুখের পানে তাকিয়ে বলে উঠলো
“একবার করে দেখ।মাথায় তুলে রাখবো।
(দুই হাজার রিয়াক্ট আর 500 কমেন্টস না উঠলে পরের পার্ট দেবো না)
চলবে
Share On:
TAGS: ভালোবাসার সমরাঙ্গন, সারিকা হোসাইন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১১
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৬
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২২
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৭
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৯
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৪
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২১
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৮