Golpo romantic golpo প্রেমবসন্ত প্রেমবসন্ত সিজন ২

প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৬


প্রেমবসন্ত_২ ।২৬।

হামিদাআক্তারইভা_Hayat

অর্ণ বিছানায় উঠে বসেছে আড়মোড় ভেঙে।কায়নাত ভীতু হলেও বেহায়ার মতো অর্ণর উন্মুক্ত বুকের দিকে তাকিয়ে রইল।অর্ণ চোখ রাঙিয়ে তাকিয়ে আছে।কায়নাতকে ওমন করে তাকিয়ে থাকতে দেখে ধমকে উঠল সে,

“বেয়াদব মহিলা,সকাল সকাল কী করছিলে এটা?চুমু খাচ্ছিলে কেন?”

কায়নাত আমতা আমতা করে বলল,
“আপনি বোধহয় স্বপ্ন দেখেছেন।আমি আপনার ধারের কাছে যাই?চুমু তো দূরের কথা।”

“আমাকে তোমার বলদ মনে হয়?”

“নাতো!বলদ তো আমি।”

“তা ঠিক বলেছ।”

অর্ণ বিছানা থেকে নেমে দাঁড়াল।সে ওয়াশরুমের দিকে যেতে যেতে ফ্লোরে তাকায়।কায়নাত তার পিছু পিছু আসছে বিড়াল ছানার মতো।অর্ণ ঠোঁট কামড়ে কপাল কুঁচকে পিছু ফিরতেই তার বুকের সাথে ধাক্কা লেগে দুপা পিছিয়ে যায় কায়নাত।হতভম্ব হয়ে উল্টো ঘুরে দৌঁড়ে পালায় ঘর থেকে।অর্ণ অবাক হয় এই মেয়েকে দেখে।আদৌ কি ঘটে কিচ্ছুটি নেই?

কায়নাত ঘর থেকে বেরিয়ে লম্বা শ্বাস টানে।লজ্জায় দুহাত দিয়ে মুখে ঢেকে ফেলে।আজ কি নতুন এসব?অর্ণ তো জানেই না তার পাগল বউ অগোচরে ঠিক কী কী করে বেড়ায়।নিচ থেকে আতিয়া বেগম তাকে গলা ছেড়ে ডাকলেন উপরে দেখতে পেয়েই।কায়নাত অবাক হয়ে নিচে তাকাল।পুরো বাড়ি কী সুন্দর করে সাজানো হচ্ছে।সে পিঠ থেকে আঁচল টেনে মাথায় টেনে সিঁড়ি দিয়েও নামতে নামতে দেখল সবটা।বিশাল বাড়ি সাজাতে ব্যস্ত মানুষ।কয়েকজন লোক এসেছেন বাড়ি পরিষ্কার করতে।আতিয়া বেগম কায়নাতকে দেখে মুখ কুঁচকে বললেন,

“এখনও পরিষ্কার হোসনি?তোর মা যে তোকে ডাকছে।”

“মা ডাকছে কেন?”

“দরকার আছে বোধহয়।নিচ থেকেই মুখটা ধুইয়ে লতার ঘরে যা।”

কায়নাত নিচেই পরিষ্কার হয়ে মায়ের সাথে দেখা করে এলো।সকালে খাবার দেয়া হচ্ছিল তখন।রেখা বেগম জয়াকে ডাকছেন গলা ছেড়ে।আজ ভীষণ গরম পড়েছে।বাড়ির প্রত্যেকটা জানালা,দরজা খুলে দেয়ার কারণে পুরো বাড়ি স্বর্ণের মতো চকচক করছিল।আজ যেন বাড়িটাকে বাড়ি মনে হচ্ছে।

নাজনীন বাজার থেকে এসে সোফায় বসতেই সিঁড়ি দিয়ে জয়া নামতে নামতে বলল,
“এইযে বুড়ো জামাই,আমি যা আনতে বলেছিলাম এনেছেন?”

নাজনীন সকাল সকাল জয়ার মুখে এমন ধরনের কথা শুনে বেশ রেগে গেল।বাজারে একপ্রকার ঝগড়া হয়েছিল মাছের দোকানে।মেজাজ গরম থাকায় ধমক দিয়ে বলল,

“ভদ্রতার ছিটে-ফোঁটাও আছে তোর মধ্যে?”

রেখা বেগম বললেন,
“বেজায় রেগে যাচ্ছিস।ও তো এমনই,জানিস।”

“কেন তোমরা ওকে মাথায় তুলছো আম্মা?আমি ওর হাসব্যান্ড।আমাকে সম্মান দিয়ে কথা বলবে ও।”

ভাগ্যিস ড্রয়িংরুমে তখন কেউ ছিল না।জয়া ভয় পেয়েছে একটু।নাজনীনের রাগ সে ভয় পায়।নাজনীন সোফা ছেড়ে হনহন করে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেল।রেখা বেগম জয়াকে ওমন ভীতু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বললেন,
“তোর কী মাথায় বুদ্ধি হবে না?জানিস না ওর মেজাজ সম্পর্কে?”

জয়া মিনমিন করে বলল,
“ভুল হয়ে গেছে বড় আম্মা।কী করব এখন?”

“এক গ্লাস ঠান্ডা পানি নিয়ে যা।আর শোন,ওর যা যা প্রয়োজন সব এগিয়ে দিবি।আবার বকবক করে ওর মাথা খারাপ করিস না।”

জয়া মাথা নাড়িয়ে ঠান্ডা পানি নিয়ে উপরে এলো।ওয়াশরুম থেকে পানির শব্দ হচ্ছে।সে খানিকক্ষণ ঘরে ঘুরঘুর করতেই বেরিয়ে এলো নাজনীন।চোখ মুখ বড্ড গম্ভীর।সেই গম্ভীর দৃষ্টি ষোড়শীর দিকে যেতেই জয়া একগাল হেসে গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বলল,

“তুমি এত রেগে যাও কেন?আমি না তোমার ছোট বাচ্চা বউ?একটু-আধটু তো কথা বলবই বলো?”

নাজনীন চোখ বন্ধ করে লম্বা শ্বাস টেনে ওকে পাশ কাটিয়ে বারান্দায় গেল।হাতে ছিল ভেজা কাপড়।জয়া তাড়াতাড়ি গ্লাস রেখে বারান্দায় দৌঁড়ে গিয়ে ছোঁ মেরে নাজনীনের হাত থেকে কাপড় নিয়ে বলল,
“বউ থাকতে আমার কষ্ট করছো কেন?সরো দেখি,আমি করে দিচ্ছি।”

নাজনীন বুকে হাত গুটিয়ে দাঁড়ায়।কপালে বিরক্তিকর একটা গাঢ় ভাঁজ।জয়া কাপড় ছড়িয়ে দিয়ে মিষ্টি করে হেসে পিটপিট করে পলক ফেলল।নাজনীনের মনে হলো জয়াকে তুলে বাগানে ছুড়ে মারতে।মেয়েটার মাথায় একটু যদি বুদ্ধি থাকত,তাহলে সে নিজেকে ভাগ্যবান স্বামী মনে করত।

বাইরে রোদের প্রখরতা বেড়েছে।রোদের চিকচিক আলো জয়ার জ্বলমলে মুখটায় আঁচড়ে পড়ছিল।নাজনীন সেদিকে তাকাতেই তার দৃষ্টি স্থির হলো ষোড়শীর দিকে।জয়া অস্থির হয়ে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে লোহার গ্রিলে হাত রেখে বাইরে তাকাল।নিচে দেখা যাচ্ছে সুহা মাহির সাথে ঝগড়া করছে বাগান পরিষ্কার করতে করতে।বাড়ির চারপাশটা পরিষ্কার করা হচ্ছে যত্ন করে।বিশাল বাগান পেরিয়ে বাড়ির গেটের সামনে কাঠের চেয়ারে বসে বাড়ির দারোয়ান মুড়ি মাখা খাচ্ছে।দাদিই নিশ্চিত বানিয়েছেন।

হঠাৎ নাজনীন এগিয়ে এসে তার এলোমেলো চুল গুলো কানের কাছে গুঁজে দিতেই চমকে উঠল জয়া।আতঙ্কিত হয়ে পাশে তাকাতেই নাজনীন নরম গলায় বলল,

“মাথায় বুদ্ধি হবে কবে?বড় হচ্ছিস না?”

জয়া দৃষ্টি সরিয়ে নিভু গলায় বলল,
“কী করলাম আবার?”

“আমি তোর বড় না?আমাকে বিয়ে করে আফসোস করছিস তুই?”

চোখ তুলে তাকায় জয়া।বলে,
“আফসোস?”

“হুম!আফসোস হচ্ছে আমাকে বিয়ে করে?”

“তা কেন হবে?”

নাজনীন তার বড় বারান্দার বেতের চেয়ারে বসে ভেজা চুলে হাত চালিয়ে বলল,
“হতেই পারে আফসোস।তোর আর আমার বয়সের গ্যাপটা বিশাল বড়।”

নাজনীন তাকাল জয়ার দিকে।
“কিন্তু তোকে ছাড়তে পারব না আমি।আল্লাহকে সাক্ষী রেখে কবুল করেছি,ছেড়ে দেই কি করে?”

জয়া ঠোঁট চেপে অস্থির বুক নিয়ে ঘনঘন নিঃশ্বাস ফেলছিল।নাজনীন ফের হাসল।শ্যামবর্ণের শুদ্ধ পুরুষের মুখে সেই হাসিটা জয়ার কাছে স্বর্ণের মতো দামি মনে হলো।অস্থির হচ্ছে তার পরাণ।ফ্লোরে পা খুড়িয়ে বলল,

“আফসোস করব কেন?আপনি কী আমায় ভালোবাসেন না?”

“বাসি ভালো?তোর মনে হয়,নাজনীন তোকে ভালোবাসে?”

জয়া যেন ভীষণ লজ্জা পেল।মিষ্টি রোদ টুকু যেন তার টুকটুকে গালে চুমু এঁকে বলছে,
“ষোড়শী বধূও এত লজ্জা পেতে জানে?”

সে নাজনীনের প্রশ্নে জবাব দিল,
“আমার নিচে এত কাজ,সব রেখে এখানে দাঁড়িয়ে আছি।রাস্তা ছাড়ুন দেখি!”

নাজনীন দুই পা গ্রিলে উঠিয়ে দিয়ে বলল,
“বাটপারিতে নাজনীনের বাচ্চা বউ সেরা।কী এমন কাজ আছে তার গিন্নির,যে এখানে একটু স্বামীর পাশে বসে দুটো কথা বলার সময় নেই?”

জয়া অস্থির হয়ে বলল,
“দম আঁটকে আসছে আমার।নিচে যাব আমি।”

নাজনীন জয়ার কথায় আর এক পা এগোল না।গ্রিলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা হঠাৎ যেন অনেকটা ক্লান্ত দেখাল।কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

“যা,নিচে যা।কাজ থাকলে আগে কাজটাই কর।”

কণ্ঠে আর রাগ নেই,বরং চাপা একধরনের বিষণ্ণতা।জয়া থমকে দাঁড়াল।এই নরম স্বরটাই তাকে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে ফেলে।সে কিছু না বলে দ্রুত পা বাড়াল দরজার দিকে।বারান্দা ছাড়ার আগে একবার পেছনে তাকিয়েছিল—নাজনীন তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে,যেন কিছু খুঁজছে।

নিচে নামতেই ঘরের ব্যস্ততা আরও বেড়েছে।রেখা বেগম রান্নাঘরের দিকে যাচ্ছেন বারবার।কায়নাত লতার ঘর থেকে বেরিয়ে সদর দরজার দাঁড়িয়ে সব দেখছে চুপচাপ।জয়ার চোখে পড়তেই কায়নাত এগিয়ে এসে ফিসফিস করে বলল,

“আজ কী আমার শ্বশুর বাড়ির মানুষ আসবে?”

জয়া কাঁধ ঝাকিয়ে বলল,
“আমি তো জানি না।”

“মিলাদ তো শুক্রবারে,তাহলে আজ এত আয়োজন কেন?”

“সব সময় তো এমনই হয়।বাড়িতে কোনো আয়োজন হলে সবাইকে দাওয়াত করা হয়।বাড়ি নোংরা রেখে কী আর অতিথি আপ্যায়ন করা যায়?”

কায়নাত জানত না একথা।খানিকক্ষণ পর সে মায়ের কাছে গিয়ে জানতে পারল আজ ঢাকা থেকে সবাই আসবেন।রাত হবে খুলনা আসতে।কায়নাত খুশি হলো।আজ বেহরুজ বেগমের সাথে তার কথা হয়েছে ফোনে।সে ভীষণ অবাক হয় শাশুড়ির আচরণ দেখে।তাকে দেখে বোঝার উপায় নেই কায়নাত তার ছেলের বউ হয়।বরং মেয়ের মতোন যত্ন করে তাকে।

দুপুরে খাওয়া দাওয়া শেষে বাড়ির মহলে বসেই গরম নারকেল দিয়ে নাড়ু বানানো হচ্ছিল।ফারিহা চুপচাপ বসে আছে সোফায়।পাশে বসে আতিয়া বেগম গুনগুন করে দোয়া পড়ছেন।কায়নাত জয়ার পাশে বসে বসে ফিসফিস করছে।সুহা তখন ওর মাকে বলল,

“আম্মা!আব্বা কী আসবে এবার?”

রেখা বেগম মেয়ের প্রশ্নে একটু হকচকিয়ে বসলেন।বললেন,
“তোর দাদা জানে।”

“আব্বার সাথে আন্টিও আসবে?”

রেখা বেগম বেজায় বিরক্ত হলেন এবার।ধমক দিয়ে বললেন,
“আমি জেনে রেখেছি?তোর বাপকে গিয়ে জিজ্ঞেস কর কাকে নিয়ে আসবে।”

ভয়ে সুহা চুপটি করে বসে রইল।আতিয়া বেগম মুখ কুঁচকে বললেন,
“ওর উপর রাগ ঝাড়ছ কেন?”

“তো কী করব আম্মা?ওর বাপের সাথে আমার কথা হয়?তার বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন কেন করা হচ্ছে?”

“বুঝে তো আর প্রশ্ন করেনি তোমায়।”

রেখা বেগম চুপ করে গেলেন।কায়নাত না বুঝেই বলে বসল,
“বড় চাচা কোথায় থাকেন?”

রেখা বেগম তৎক্ষণাৎ উঠে চলে গেলেন সেখান থেকে।লতা বেগম ধমক দিয়ে বললেন,
“তোদের আক্কেল হবে কবে?”

কায়নাত বলল,
“হয়েছে কী বলবে তো?”

জয়া বলল,
“বড় চাচার আরেকটা সংসার আছে।তিনি বিয়ে করেছেন আরেকটা।”

কায়নাতের এই কথা মনেই ছিল না।কে যেন তাকে বলেছিল নিধির বাবা এখানে থাকেন না ছোট বউকে নিয়ে।মেয়েটার খারাপ লাগল।এমন ধরনের পুরুষ তার পছন্দ নয়।ঘরে স্ত্রী-সন্তান রেখে আবার অন্য সম্পর্কে লিপ্ত হওয়া পুরুষদের প্রতি ভীষণ ঘৃণা তার।দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো।পুরো বাড়ি তখন চকচক করছে।বাড়ির প্রত্যেকটা জানালা,দরজা লাগানো হচ্ছে।পুরো বাড়িতে খাবারের ঘ্রাণ ছড়িয়ে গেছে।আজ কায়নাত নিজের হাতে মাংস রান্না করেছে।মাশফিক চৌধুরী তার হাতের রান্নার প্রশংসা করেছিলেন ঢাকায় যাওয়ার পর।সেখানে গিয়ে শ্বশুরের মুখে রান্নার প্রশংসা শুনে বেশ অনেক কিছু শিখেছিল।আজ ভাবল সবাই যেহেতু আসছে,তাই আজ সে রান্না করলে মন্দ হয় না।

রাত তখন বেশ।১১টার কাটা ছাড়িয়েছে খানিকক্ষণ আগে।বাড়ির কেউই তখন রাতের খাবার খায়নি মাশফিক চৌধুরীদের জন্য।নিচে বড় টিভির সামনে বাড়ির প্রত্যেকে বসে আছেন।বড় টিভিতে চলছে বেশ পুরনো দিনের ভারতীয় একখানা ছবি।কায়নাতের চোখে জল চিকচিক করছে।নিচে সুহা কান্না থামাতে না পেরে নাক টেনে যাচ্ছে।

আজগর চৌধুরী কখনও টিভির সামনে বসেন না।তবে আজ গিন্নির আবদারে বসেছিল সেখানে।এখন সবার কান্না-কাটি দেখে বললেন,
“তোমরা কী শুরু করলে?এইটুকুতে কাঁদলে হয়?মেয়েটার বিয়েই তো হয়েছে নাকি?”

আতিয়া বেগম বললেন,
“আপনার বংশের রক্তে পাষাণগিরি মিশে আছে।আপনার কষ্ট হচ্ছে না?”

“আশ্চর্য!আমার কষ্ট হবে কেন?”

আতিয়া বেগম রেগে তাকালেন।আজগর চৌধুরী চুপ করে গেলেন।বাইরে থেকে গাড়ির হর্নের শব্দ শুনতেই হাসান বাইরে গেল দৌঁড়ে।কায়নাত মাথায় কাপড় টেনে উঠে দাঁড়াল।এখন নিশা আসবে।এসে কায়নাতকে দেখেই একগাল হেসে,দৌঁড়ে এসে ঝাঁপটে ধরবে তাকে।গাল দুটো টেনে দিয়ে বলবে,

“জানো,তোমাকে কত মিস করেছি?”

হলোও তাই।প্রথমেই ছোট্ট আদি চোখে কালো চশমা পরে পকেটে হাত ঢুকিয়ে এগিয়ে আসছে নীরবে।কায়নাত মুখ বাঁকাল তাকে দেখে।আদি মুখ গম্ভীর করে হঠাৎ হাঁটু মুড়ে বসে ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে মাশফিক চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বলল,

“নানাভাই,হিসি লাগছে।”

বেহরুজ বেগম ব্যাগ নিয়ে ঢুকতে ঢুকতে বললেন,
“প্রত্যেকবার বাড়িতে পা রাখলেই তোমার হিসি পায়?”

সবাই বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই হাসান আদিকে নিয়ে বাইরে গেল।কায়নাত মিষ্টি হেসে শ্বশুর-শাশুড়িকে সালাম করল।মাশফিক চৌধুরী কায়নাতকে দেখেই বললেন,
“আমার বড় বউমার যত্ন-আত্মিতে ত্রুটি আছে কী?দুইদিন এত শুকিয়ে গেল কী করে?”

কায়নাত লজ্জা পেল।আতিয়া বেগম ঠোঁট টিপে বললেন,
“সেইতো!তোর বউমাকে ধরে-বেঁধে খাওয়াতে হয়।শুকাবে নাতো মোটা হবে?”

কায়নাত লজ্জায় মিনমিন করে বলল,
“বাবা,ছাড়ুন এসব কথা।পরিষ্কার হয়ে আসুন আপনারা।”

সবাই উপরে গেলে অর্ন নেমে আসে তখন।আদি কায়নাতের পিছু পিছু ঘুরঘুর করছিল বিরক্ত করার জন্য।অর্ণকে দেখেই ছুটে এসে সোজা কোলে উঠে চড়ল।কায়নাত হতভম্ব হয়ে পিছু ফিরে আদিকে অর্ণর কোলে দেখে বিড়বিড় করে বলল,
“আলাদা করে আর সতীনের দরকার নেই।”

(২.৫ রিঅ্যাক্ট পূরণ করার অনুরোধ রইল।যাকগে,আজকে আমার মনটা এত ভালো পাখিরা।বেশ কয়েকদিন ধরে ইনবক্সে এসে পাঠকরা গল্প নিয়ে রিভিউ দিয়ে যায়।আপনাদের রিভিউ গুলো দেখে মন ভরে গেছে আমার।আজ সত্যি মনে হচ্ছে এই অল্প কয়েকদিনে গুটি কয়েক মানুষের মনে একটু হলেও জায়গা করে নিতে পেরেছি।আনন্দ আর আনন্দ।সবাইকে ভালোবাসা জানাই আমার।আর হ্যা,নিচের কভার পিকটা আমার এক কিউট পাঠক নিজের হাতে আর্ট করে দিয়েছে।সুন্দর না বলুন?তার হাতের কাজের প্রশংসা করবেন সবাই।আসসালামু ওয়ালাইকুম❤️‍🩹)

চলবে…?

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply