Golpo romantic golpo প্রেমবসন্ত প্রেমবসন্ত সিজন ২

প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১০


প্রেমবসন্ত_২

হামিদাআক্তারইভা_Hayat

১০.

নাজনীনের ঘরে আতিয়া বেগম,কায়নাত আর জয়া উপস্থিত এই মুহূর্তে।কায়নাত বিরক্ত হয়ে বিছানার এক কোনায় বসে আছে।জয়ার মুখ ভার।লাল টুকটুকে বউ সেজে চুপটি করে বসে আছে।আতিয়া বেগম দুধের গ্লাস দেখিয়ে বললেন,

“সারাদিন কানের কাছে লাং লাং করিস,নে আজীবনের জন্য লাং বানিয়ে দিয়েছি।এখন নাজনীন ঘরে আসলে সালাম দিয়ে এই দুধের গ্লাস এগিয়ে দিবি।”

জয়া গাল ফুলিয়ে দাঁত চাপল।
“বুড়ি বেশি কথা বলবা না।লাং চেয়েছি বলে একটা বুড়ো লোকের সাথে বিয়ে করিয়ে দিবে?”

কায়নাত পাশ থেকে তাল মিলিয়ে বলল,
“সেই’তো!আমাকেও তো একটা বুইড়া লোকের সাথেই বিয়ে দেয়া হয়েছে।”

আতিয়া বেগম চোখ পাকিয়ে বললেন,
“কিসের বুড়ো বুড়ো করছিস তোরা?ওদের নিয়ে বাজে কথা বলবি না।”

জয়া বলল,
“কেন বলব না?বাড়ির ছেলে দেখে কিছু বলতেও পারব না?আক্কেল হাঁটুতে রেখে ওই দাঁমড়া লোকের সাথে আমায় বিয়ে দিলে?আমার কিন্তু ভীষণ রাগ হচ্ছে দাদি।আমার চোখের সামনে থেকে যাও।”

আতিয়া বেগম জয়ার মাথায় চাপড় মেরে উঠে দাঁড়ালেন।
“তোর পিঠে আজকে লাঠি ভাঙলে আমি বেশি খুশি হব।নাজনীনকে ঘরে পাঠানোর আগে বলে দিব তোর শরীরের হাড্ডি ভে’ঙে নদী’তে ফেলে দিয়ে আসতে।”

“তা তো বলবেই।যাও তো বুড়ি।আমার মেজাজ খারাপ হচ্ছে।”

আতিয়া বেগম ঘর থেকে বেরিয়ে গেলে কায়নাত বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ায়।জয়া আতঙ্কিত হয়ে বলে,
“ওই দ্বারা।দাদি এসব কী বলে গেল?কী করব আমি?”

কায়নাত দাঁত চেপে বলল,
“আমার কী বাসর হয়েছে?”

“হয়নি?ওহ,আচ্ছা থাক।”

কায়নাত বের হলো ঘর থেকে।আশ্চর্য ব্যাপার।কী একটা বিয়ে করেছে জামাইয়ের একটু কাছেও থাকতে পারে না। সে ঘর থেকে বেরিয়ে সোজা সিঁড়ির পাশের আগের ঘরে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে পিছু ফিরল।সাথে সাথে আতঙ্কে চোখ আঁকারে বড় হয়ে এলো।অর্ণ কোমরে টাওয়াল প্যাঁচিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল।মাথা থেকে ঝরঝর করে পানির বিন্দুকোণা গুলো ঝরে পড়ছে।দরজায় শব্দ হওয়ায় সে পিছু ঘুরে কায়নাতকে দেখে হতভম্ব।কায়নাত মুখের উপর হাত চেপে বিস্মিত গলায় বলে,

“অসভ্য লোক,আমার ঘরে আপনি কী করছেন?”

অর্ণ আশ্চর্য হয়ে ঘরে চোখ বুলালো।তারপর দাঁত চেপে তিরিক্ষি মেজাজে বলল,
“বেয়াদব মহিলা!এটা আমার ঘর।কানা-টানা হয়েছেন নাকি এই রাত করে নেশা করেছেন?”

কায়নাত এবার পুরো ঘরের দিকে দৃষ্টি পর্যবেক্ষণ করল।এটা তো তার ঘর নয়।বেচারি শুষ্ক ঢোক গিলে আমতা আমতা শুরু করল।
“একই তো হলো।জামাইয়ের ঘর মানে তো আমারও ঘর।”

বলতে বলতে মেয়েটা চোখ রাখল অর্ণর উন্মুক্ত সুঠাম দেহে।লজ্জায় গাল দুটো টমেটোর মতো লাল টুকটুকে রং ধারণ করল।অর্ণ চোখ ছোট ছোট করে মেয়েটার দৃষ্টি পর্যবেক্ষণ করে বিরক্তিতে দাঁত চাপল।
“বেয়াদব মহিলা,নজর ঠিক করে ঘর থেকে বের হন।”

হকচকিয়ে উঠল মেয়েটা।পিছু ঘুরে ঘরের দরজা খুলতে চাইলে খুলতে পারল না।আতঙ্কে গলা শুকিয়ে এসেছে।পেছনে অর্ণ এই ঠান্ডার মধ্যেও ভেজা শরীরে চুপটি করে দাঁড়িয়ে।কায়নাত দরজা খুলতে না পেরে মিনমিন করে বলল,
“আজকে আমি বরং এই ঘরেই থাকি,কেমন?”

“হোয়াই?”

“হোয়াই আবার কী?এখন হেঁটে হেঁটে ঐ ঘরে যাওয়ার মতো শক্তি আমার শরীরে নেই।”

কায়নাত ঘাড় হালকা ঘুরিয়ে চোরা চোখে তাকাল।অর্ণ মাথার ভেজা চুল হাত দিয়ে ঝাড়তে ঝাড়তে বলল,
“এই ঘরে থাকলে কাল সকালে আপনার লা শ নদীতে ভাসবে।”

কায়নাত মুখ বাঁকাল।অসভ্যের মতো কথা-বার্তা।সে বলল,
“আপনার তো কোমরের তোয়ালে খুলে যাচ্ছে।”

“যাক।”

“আমি তো দেখে ফেলব সব।”

“দেখুন।”

“আপনার শরম করবে না?”

“আপনার দেখতে যদি শরম না করে তাহলে আমার দেখাতে শরম লাগবে কেন?”

থতমত খেয়ে গেল মেয়েটা।ভারী নির্লজ্জ লোক।তার বুঝতে বাকি রইল না,এখানে থাকা মানেই নিজেকে পাগল প্রমাণিত করা।একটু আগেই সে দরজা নিজ হাতে লাগিয়েছে; অথচ এখন খুলতে পারছে না।বেচারি দরজা ধরে টানাটানি শুরু করেছে।অর্ণ এগিয়ে এলো।কায়নাত অর্ণর লম্বাটে ছাঁয়া দেখতে পেয়ে পিছু ফিরতেই অর্ণর বুকে চাপ দিয়ে আতঙ্কিত কণ্ঠে বলল,

“কাছে কেন আসছেন?ভারী নির্লজ্জ লোক তো আপনি।দেখতে চেয়েছি বলে সত্যি সত্যি কাছে আসছেন?”

অর্ণ দাঁত চেপে ফ্যালফ্যাল করে খানিকক্ষণ মেয়েটার মুখখানা দেখল।একটা মানুষ কী পরিমাণ ব্রেইনলেস হলে এসব কাণ্ড করে?সে ফোঁস করে চাপা নিঃশ্বাস ফেলল।

“আপনি দেখতে চেয়েছেন আর আমি দেখাব না?”

“ওটা তো মজা করে বলেছিলাম।”

“আপনি মজা করেছেন কিন্তু আমি তো সিরিয়াস মানুষ।আমার সঙ্গে মজা করতে আসবেন না।”

কায়নাত মুখ ভার করে দাঁড়িয়ে রইল।বুকের ভেতর যেন ঢোল বাজছে।এই লোকটা সত্যিই ভীষণ ভয়ঙ্কর।
“আপনি না.আপনি..বেশি কথা বলেন।”

অর্ণ তোয়ালে টেনে কোমর ঠিক করে নিল।
“আপনি তো খুব সাহসী মনে হচ্ছে,নিজের ভুল বুঝেও এখানে দাঁড়িয়ে আছেন এখনো।”

“ভুল?”
কায়নাত গলা উঁচু করল,
“ভুল আবার কী করলাম?”

অর্ণ ধীর কণ্ঠে বলল,
“রাত বারোটায় ভুল ঘরে ঢুকে অন্যের ব্যক্তিগত স্পেস দখল করে রেখেছেন।”

“আমি ভুল করে ঢুকেছি।”

“তাহলে ঠিক করেই বের হন।”

কায়নাত আবার দরজা টানল—তবু খুলল না।
“দরজা আঁটকে গেছে।”

অর্ণ ভ্রু কুঁচকে এগিয়ে এলো,
“দেখতে দিন।”

কায়নাত হাত তুলে বলল,
“না না! আপনি থাকুন দূরে।”

অর্ণ পিছিয়ে গেল।উন্মুক্ত বুকে দুই হাত গুঁজে বুক টানটান করে দাঁড়াল।কায়নাত জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে শুকনো ঢোক গিলে বলল,
“তাকিয়ে আছেন কেন?অন্যদিকে তাকান,আমি নাহলে দরজা খুলতে পারব না।”

বিরক্তির চূড়ান্ত পর্যায় অর্ণ।সে বাঁধা না মেনে কায়নাতের নিকটে এসে দরজা খুলে দিয়ে ধমক দিয়ে বলল,
“বেয়াদব মহিলা,খাওয়া দাওয়া করা যায় না ঠিক মতো?এইটুকু চুনোপুটির শরীর নিয়ে এসেছে যুদ্ধ করতে।বের হন ঘর থেকে।”

কায়নাত মুখ কালো করে ঘর থেকে বের হলো।অর্ণ দরজা লাগিয়ে দেয়ার আগে সে পিছু ফিরে চঞ্চল গলায় বলল,
“সেই’তো দিন শেষে আমার কাছেই আসতে হবে।আমিও দেখে নিব তখন আপনার সম্মান কোথায় থাকে!”

জয়া নাজনীনের ঘরে ফুলে সাজানো বিছানার উপর বসেছিল।মেয়েটার মুখ একদম শুকিয়ে কাঠ কাঠ।নাজনীন!এই লোকটাকে আজীবন নিজের বড় ভাই বলেই জেনে এসেছে।অথচ…অথচ আজ সেই লোকটার সাথেই তার বিয়ে হলো।
নাজনীনের হাতে বেচারি আজ অব্দি বহু চড়-থাপ্পড় খেয়েছে।এই জেদেই সে নাজনীন’কে পছন্দ করত না।নিশ্চই আজ তুলে আছাড় মারবে তাকে।ভয়ে মেয়েটার অবস্থা নাজেহাল।ঘাম ছুটে গেছে কপালে।হঠাৎ দরজায় শব্দ হলো—নাজনীন এসেছে।জয়া দেখল নাজনীন ঘরের দরজা আঁটকাচ্ছে।মেয়েটা শুকনো ঢোক গিলল।দাদি ঘর থেকে যাওয়ার আগে বলেছিল সালাম দিয়ে দুধের গ্লাস এগিয়ে দিতে।কাঁপাকাঁপির কারণে সে একচুল পরিমাণ নড়তে পারল না।

নাজনীন এগিয়ে এলো কপালে ভাঁজ ফেলে।জয়াকে এমন বউ সেজে বসে থাকতে দেখে খানিক বিরক্ত হলো।তার হাঁটুর থেকেও ছোট এই মেয়ে।ল্যাংটাকাল থেকে বড় করে এখন এই মেয়েকেই বিয়ে করতে হলো।নাজনীন হাত-মুখ ধুয়ে এসেছে নিচ থেকে।সে আর ওয়াশরুমে গেল না।ঘরের জানালা গুলো সব খোলা।ঠান্ডা বাতাস আসছে বলে সে জানালা লাগাতে এগিয়ে গেল সেদিকে।জয়া খেয়াল করল নাজনীন ঘরের সব কিছু বন্ধ করে দিচ্ছে।আত্মা লাফাচ্ছে মেয়েটার।নাজনীন কাজ সেরে বিছানায় এসে আধ-শোয়া হয়ে পা মেলে দিয়ে বসল।চোখ বন্ধ করে গম্ভীর গলায় বলল,

“পা টিপে দে।”

হঠাৎ নাজনীনের এমন আবদারে তব্দা খেলো জয়া।সে স্থির হয়ে বসে রইল।চোখের পলকও ফেলছে না।তার কানে বাজছে শুধু সেই তিনটা শব্দ—“পা টিপে দে।”
মনে হচ্ছিল বুকের ভেতর কেউ ঢোল বাজাচ্ছে।সে একটাও শব্দ করল না,শুধু নিচের দিকে তাকিয়ে চুপচাপ বসে রইল।
নাজনীন কোনো উত্তর না পেয়ে চোখ খুলল।রাগে তার কপালের শিরা ফুলে উঠেছে।গলাটা নিচু অথচ গর্জে উঠল,
“বধূ সাজবি, অথচ কথা শুনবি না? বললাম না পা টিপে দে!”

জয়া ভয়ে সিটিয়ে গেল,তবু গলা শক্ত করে বলল,
“আমি…আমি পারব না।”

নাজনীন খানিকক্ষণ স্থির হয়ে তাকিয়ে রইল তার দিকে।মেয়েটার চোখে কাঁপুনি, কিন্তু জেদও আছে।এই জেদটাই নাজনীনকে আরও চড়াও করে তুলল।ঠোঁটের কোণে একরকম ব্যঙ্গভরা হাসি টেনে নিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
“পারবি না? তাহলে অন্য কাজ কর।”

এই বলে নাজনীন হঠাৎ হাত বাড়িয়ে জয়ার কোমর জাপটে ধরল।এক ঝটকায় টেনে নিল নিজের দিকে।জয়ার শরীর হালকা,ভয়ে কাঁপছে।তার মুখের রঙ উধাও। নাজনীন ঠান্ডা অথচ কাঁপন ধরানো গলায় বলল,

“তাহলে চল,বাসর করি!”

জয়ার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।সে নাজনীনকে সরিয়ে দিতে গিয়ে কাঁপা গলায় বলল,
“ছিঃ,ছাড়েন!আমার ভয় করছে।”

নাজনীন কাছে ঝুঁকে পড়ল,গলার স্বর নরম অথচ দাঁত চেপে বলল,
“ভয় পাস কেন? আমি তো ভাই…না,এখন তোর স্বামী।কবুল পড়েছিস না?অধিকার তো আছে আমার?”

জয়ার চোখ ছলছল করে উঠল।তার ঠোঁট কাঁপছে, বুকের মধ্যে কান্না গুমরে উঠছে।বাইরে রাত নিঃশব্দ, জানালার বাইরে বাতাস বইছে ধীরে।
ঘরের ভেতর শুধু জয়ার শ্বাসের শব্দ—আর নাজনীনের চোখের আগুন। জয়ার চোখে তখন আতঙ্ক আর অশ্রু মিলেমিশে একাকার।ঠোঁট কাঁপছে,বুক ধড়ফড় করছে।নাজনীন তার দিকে তাকিয়ে আছে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে—যেন কোনো অপরাধীকে ধরেছে। হঠাৎ করেই সে ধমক দিয়ে উঠল,

“এই! নাটক করিস না।নাম বিছানা থেকে!”

জয়া হকচকিয়ে গেল।ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে নামল নিচে।শাড়ির আঁচল মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ল।মুখটা তার ফ্যাকাসে,গলা শুকনো।
নাজনীন আবার গম্ভীর গলায় বলল,
“এত সাহস তোর,না বলিস আমাকে? বিয়ে করেছিস,তবু কথা শুনবি না? কান ধরে ওঠবোস কর এখন।”

জয়ার মুখ হাঁ হয়ে গেল। “কী?”—বলার আগেই নাজনীন গর্জে উঠল,
“শুনতে পাসনি? বললাম, কান ধরে ওঠবোস কর!”

মেয়েটা ভয়ে একবার দরজার দিকে তাকাল,তারপর ধীরে ধীরে দুই কান ধরে নরম কণ্ঠে বলল,
“আপনি রাগ করছেন কেন?আমি…”

“কথা না বলে ওঠবোস কর!” নাজনীন আবার ধমকাল।

জয়া আর কিছু না বলে নিচু হয়ে কান ধরে ওঠবোস শুরু করল।একবার, দু’বার, তিনবার—চোখ বেয়ে অশ্রু পড়ছে নিঃশব্দে।
নাজনীন হাত বেঁধে বুকের উপর রাখল,ঠান্ডা গলায় বলল,
“ভালো।এখন থেকে মনে রাখবি,আমি তোর আগের ভাই নই—তোর স্বামী। আমার কথায় না চললে এমনই শাস্তি হবে।”

জয়া হাঁপাতে হাঁপাতে চোখ মুছল।রাগে পুরো শরীর কাঁপছে তার।দাঁত চেপে দাঁড়িয়ে আছে ঘরের মধ্যখানে।নাজনীন কপাল কুঁচকে জয়ার পায়ের দিকে দৃষ্টি রাখল।সাদা ঠান্ডা টাইলসের উপর খালি পায়ে দাঁড়িয়ে আছে জয়া।সে গম্ভীর হলো।

“কাছে আয়!”

জয়া গাল ফুলিয়ে এগিয়ে এলো।নাজনীন ধমক দিয়ে বলল,
“বিছানায় উঠে বোস।”

জয়া রাগ দেখিয়ে চওড়া গলায় বলল,
“কী সমস্যা আপনার?ঘরে আসার পর থেকে এত ধমকাচ্ছেন কেন?আপনাকে কিছু বলেছি আমি?”

“ওরে বাবা,কী সুন্দর কথা ফুটেছে মুখে।কোত্থেকে শিখেছিস এসব?চোয়ালে দু’ঘা বসাব?”

“নাজনীন ভ..”

“এক থাপ্পড় মারব।জামাই হই,ভাই ভাই করছিস কেন?”

“আমার যা ইচ্ছা তাই বলে ডাকব,তাতে আপনার কী?আপনি শুধু শুধু আমার উপর রাগ দেখাচ্ছেন কেন?কোন মহা পুরুষ বাসর রাতে নতুন বউয়ের সাথে এমন করে?”

নাজনীন কপাল কুঁচকে বলল,
“তাহলে কী করে?”

মাথা ধরে এসেছে মেয়েটার।সে উত্তর না দিয়ে বিছানায় এক কোণায় গিয়ে শুয়ে পড়ল।মোটা কম্বল গায়ে জড়িয়ে ভারী গলায় বলল,
“বুড়ো বয়সে বিয়ের শখ জেগেছে।দুনিয়ায় আর কোনো মেয়ে ছিল না?শেষে আমাকে ধরে-বেঁধে বিয়ে করতে হলো।”

ভোর হয়েছে এইতো কিছুক্ষণ আগে।বাইরে এখনো ঘন-কালো অন্ধকার।আদি শেহেরের কাছে ঘুমিয়েছিল কাল রাতে।ছেলেটার গায়ে জ্বর-জ্বর ভাব।ঠান্ডাও লাগবে বোধহয়।শেহের রাতে ঔষধ খাইয়ে দিয়ে ঝাঁপটে ধরে ঘুমিয়েছিল রাতে।ভোর হতেই ছেলেটা গুনগুন করে কান্না ধরেছে।শেহের রাতে ভালো করে ঘুমাতে পারেনি।সাথে স্বার্থ আর বাকি মামুরাও ছিল।আয়মান বিছানায় উঠে বসল।ঘুমঘুম চোখে আদির ফ্যাঁকাসে মুখখানা দেখে কাছে টেনে নিল নিজের।ওরা সবাই উঠে গেছে আদির কান্নায়।আয়মান বুকে টেনে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,

“কী হয়েছে আদি?বেশি খারাপ লাগছে?”

প্রেম আদিকে ভালো করে দেখে বলল জ্বরের কারণে এমন করছে।হয়তো শরীর ব্যথা করছে।বাচ্চাটার মুখখানা এক রাতেই ভীষণ মলিন হয়ে গেছে মনে হলো।সে মায়ের কাছে যাবে বলে বায়না ধরেছে।এতক্ষণে বোধহয় নুসরাত উঠে গেছে নামাজ পড়ার জন্য।আদাল ঘর থেকে বেরিয়ে নিধির ঘর থেকে নুসরাতকে ডেকে নিয়ে এলো।নুসরাত ঘরে এসে দেখল স্বার্থরা সবাই আদিকে ঘিরে বসে আছে বিছানায়।সে চিন্তিত হয়ে এগিয়ে আসতেই আদি মায়ের কোমর জড়িয়ে ধরে বলল,

“তুমি কোথায় ছিলে?”

নুসরাত ছেলের পাশে বসে মুখ-খানায় হাত বুলিয়ে চুল ঠিক করতে করতে বলল,
“কী হয়েছে তোমার?জ্বর কমেনি?বেশি খারাপ লাগছে?”

আদি মাথা নাড়ায়।নুসরাত প্রেমকে বলে কিছু করতে।প্রেম বলেছে ঔষধ খেলেই ঠিক হয়ে যাবে।শেহের কপাল কুঁচকে ওদের কাহিনি দেখছিল এতক্ষণ।এবার সে বিরক্ত হয়ে আদিকে ডেকে বলল,

“মাই স্ট্রং বয়,আমার কাছে আয়।”

আদি শেহেরের কাছে গেলে শেহের ওকে কম্বলে মুড়িয়ে ঝাঁপটে ধরে গম্ভীর গলায় বলে,
“রাত,তুমি যাও।”

নুসরাত বলল,
“আদিকে আমি নিয়ে যাই।”

“দরকার নেই।আমরা আছি না?তুমি যাও!”

প্রেম বলল চলে যেতে।নুসরাত দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলে শেহের বলে ভোরের আলো ফুটলে আদিকে নিয়ে বাইরে বের হবে হাঁটতে।সাথে তার সব মামুরাও থাকবে।যেই’না এই কথা শুনেছে অমনি আদি খুশিতে গদগদ হয়ে বলল,

“আমাকে সত্যি নিয়ে যাবে?”

শেহের মাথা নাড়ায়।স্বার্থ আশ্চর্য হয়ে বলে,
“বিচ্ছু এতক্ষণ নাটক করছিলি?ঘুরতে যাওয়ার কথা শুনে সুস্থ হয়ে গেলি কী করে?”

আদি মুখ কালো করল।প্রেম এগিয়ে এসে বাচ্চাটার পেটে সুড়সুড়ি দিতেই সে খিলখিল করে হাসতে শুরু করল।শেহের ওদের কাণ্ড দেখে হেসে ফেলল।সব বাচ্চা-কাচ্চার দল।

(২k রিয়াক্ট পূরণ করুন😒
আজকে গ্রামে যাচ্ছি কিছু দরকারে।বড় পর্ব লিখার সময় পাইনি।#কিশোরী_কন্যা আগামী কাল আসবে ইনশাআল্লাহ।যারা ওয়েট করতে পারেন না তারা গল্প শেষ হলে পড়বেন।আমি এখন পরীক্ষার জন্য বিজি।)

চলবে..?

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply