প্রিয়_প্রণয়িনী২
জান্নাত_নুসরাত
(২৮) প্রথম অংশ
আরশ নুসরাতের কথা শুনে কী বলবে বুঝে উঠতে পারল না। রাগে উঠলে তার মাথা ঠিক থাকে না। নুসরাতের উদ্ধ্যতা সে মেনে নিতে পারল না। নিজেও চিৎকার করে ওঠে বলল,”আল্লাহর কসম করে বলছি নুসরাত নাছির, পরের জন্ম বলে যদি কিছু হয় তাহলে তোর মতো বেয়াদব, অবাধ্য, অভদ্র মহিলাকে আমি বিয়ে করব না।
নুসরাত দমে যাওয়ার পাত্রী নয়, সে ফোনের অপাশ থেকে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে ওঠে বলল,”এ্যাঁহ আমি মনে হচ্ছে মরে যাচ্ছি আপনাকে বিয়ে করার জন্য। ফোন রাখ শালা! আর লিখে নে দু-দিনের ভেতর আমি বিয়ে করব, তোর সামনে বসে! তারপর আমার জামাইকে তুই দুলাভাই ডাকবি।
নুসরাত আরশকে ফোন রাখার কথা বলে নিজেই মুখের উপর ফোন কেটে দিল। আরশের রাগে ঘি ঢালার মতো কাজ করল নুসরাতের মুখে দ্বিতীয় বিয়ের কথ শোনে। সে কী সত্যি বলেছে নাকি ওই কথা। রেগে গিয়েছে বলেই তো বলেছে কিন্তু ওই বেয়াদব মহিলার মুখে মুখে তর্ক করার বদ অভ্যাস কখনো যাবে না। আজ একটা উচিত শিক্ষা দিয়ে আসবে সে। সৈয়দ বাড়ির ফটক থেকে বের হয়ে আসলো বড় বড় পা ফেলে। কানে তখনো ফোন লাগানো, বেমালুম ভুলে বসেছে সেটা। নুসরাত ফোন কেটেছে তার মুখের উপর এটা ভাবতেই আরশের রাগ বাড়ছে তরতর করে। কত্ত বড় সাহস তার মুখের উপর ফোন কাটে। আরশ ফোনটা শক্ত হাতে চেপে অন্য হাতে নাক ঘঁষল। কয়েকবার ঘঁষল এরকম করে। কিৎকাল অতিবাহিত হতেই নাকের ডগায় খসখসে অনুভব হলো। এরপর জ্বালা পোড়া শুরু হলো। নাকের ভেতর চাপ অনুভব হতেই হাত দিয়ে নাকের ডগায় স্পর্শ করল আরশ। সামান্য ঘষে হাত চোখের সামনে আনতেই বিরক্ত হলো। নাক কুঞ্চিত করল। মুখ দিয়ে নিচু স্বরে ধ্বনিত হলো,”নাউ দিজ ফাকিং ব্লাড হেজ টু স্টার্ট কামিং আউট? হোয়াট দ্যা হেল ইয়ার?
আরশ আরো দুয়েকবার হাতের তালু দিয়ে নাকে ঘঁষল শক্ততার সাথে। চোখে অন্ধকার দেখল, সাথেমাথা ঘোরে উঠল। আরশ পাত্তা দিল না! তার মাথায় আজ আগুন চড়ে বসেছে। এই বেয়াদবটাকে কয়েকটা না দিলে এর কাঁচির মতো চলা জিহ্বা বন্ধ হবে না। শিকদার বাড়িতে যেতে যেতে নাক এমনভাবে হাতের তালুতে ডলল নাকটা লাল টকটকে হয়ে গেল। হাতের রাবার বলটা দূরে ছুঁড়ে ফেলল রাগে। এটা কোনো কাজের না! সামান্য পরিমাণ রাগে রিলিফ আসেনি এত প্রচেষ্টা করার পর।
শিকদার বাড়ির গেট খুলে দাঁড়িয়ে ছিলেন নিজাম শিকদার। আরশকে দেখে এগিয়ে আসলেন কথা বলতে, আরশ কোনো কথা কানে নিল না তার। ধুপধাপ পায়ে এগোলো বাড়ির ভেতর। অচেনা একটা বাড়িতে, কোনোদিকে না তাকিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে গিয়ে ঢুকে গেল। নিজাম শিকদার তব্ধা খেয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন বাড়ির সামনে। ছেলেটা তাকে এমনভাবে অদেখা করে গেল যেন সে এখানে দাঁড়িয়েই নেই। তার বাড়িতে ঢুকে গেল সুরসুর করে, তাকে রেখে। অবাক হয়ে যখন নিজাম শিকদার চেয়ে রইলেন আরশের যাওয়ার দিকে,তখনই বাড়ির ভেতর থেকে আসলো বিকট শব্দ। নিজাম শিকদার দৌড় দিলেন ভেতরে। ড্রয়িং রুমে উপস্থিত হতেই কানে আসলো নুসরাত আর আরশের তর্কাতর্কি। নিজাম শিকদার চিৎকার অনুসরণ করে এসে উপস্থিত হলেন সৌরভির রুমের সামনে। ভেতরে ঢুকে পরিবেশ পরিলক্ষণের পূর্বেই তার মুখের উপর ধুপ করে দরজা লাগিয়ে দিল আরশ। সৌরভির দিকে তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে শুধালেন,”কী হয়েছে?
সৌরভি শ্রাগ করল। অতঃপর দু-জনকে ফুল প্রাইভেসি দেওয়ার জন্য নিজের দাদা নামক লোকটাকে টেনে নিয়ে চলে গেল দো-তলার দিকে। এই লোক এখানে থাকলে আরো ভেজাল করবেন, তাই এই মুহুর্তে উনাকে নিয়ে যাওয়া উত্তম।
আরশ ধুপধাপ পায়ে রুমে ঢুকতেই নুসরাত হকচকাল। সে মনে করেনি আরশ চলে আসবে শিকদার বাড়িতে। অতিরিক্ত রাগে, চিৎকারে কপালে ঘাম জমা হয়েছে দু-জনের। শ্বাস ফেলছে দু-জনেই ঘন ঘন। আরশ তখন নাকের রক্ত মোছার জন্য এখনো লেগে আছে চারিদিকে ছড়িয়ে। সরু নলি দিয়ে মৃদু রক্ত বের হচ্ছে নাসারন্ধ্রের ভেতর থেকে। আরশ সৌরভির দিকে না চেয়ে হাত দিয়ে চুটকি বাজাল। তারপর ইশারা করল রুম থেকে বের হওয়ার জন্য। সৌরভি কোনোপ্রকার বাক্য ব্যয় না করে নিঃশব্দে বেরিয়ে পড়ল রুমের বাহিরে। আরশ দ্রুত হাতে দরজার ছিটকিনি লাগাল। অতঃপর খেপাটে চোখে নুসরাতের দিকে এগিয়ে যাবে, নুসরাত সতর্কতা জারী করল,”এক পা আগাবি না?
আরশ কথা কানেই নিল না, নুসরাতের কথা না শোনার ভান করে চুপচাপ পা বাড়াল বিছানার দিকে। নুসরাত তখন রাগে বিছানায় দাঁড়িয়ে আরশের সাথে চিৎকার করে কথা বলছিল এখনো পর্যন্ত বিছানার মধ্যে দাঁড়িয়ে। আরশ হেঁটে এগিয়ে গেল বিছানার কাছে। নুসরাত পেছনে সরার পূর্বেই নিজের বলিষ্ঠ একহাত দিয়ে মেয়েলি পিঠ পেঁচিয়ে ধরল। অতঃপর একটানে বিছানার উপর থেকে কোলে তুলে নিল। নুসরাত চোখ গোল গোল করে তার পানে চাইতেই আরশের শান্ত চোখের সাথে চোখাচোখি হলো। চোখ স্থির রেখেই আলগোছে নুসরাতের পিঠ থেকে নিজের হাত সরিয়ে নিল। ব্যালেন্স হারিয়ে তখনই ধুপ করে মাটিতে পড়ল নুসরাত। মেঝেতে পড়ে কোমড় ব্যথা পেল। অস্বাভাবিক ব্যথায় কুকিয়ে উঠল কোমড় চেপে ধরে। একহাতে ভর দিয়ে উঠে বসল। নুসরাত চিৎকার করে উঠল গলা ফাটিয়ে।
আরশ দাঁত কিড়মিড়িয়ে নিজের রাগ সামালানো বৃথা চেষ্টায় রপ্ত হতেই নাকের সরু দ্বারা দিয়ে সুরসুর করে লাল তরল গড়িয়ে পড়ল। বিরক্তির সাথে তা আবার মুছল হাতের তালুতে। নুসরাতের দিকে কিছুক্ষণ লাল চোখ দিয়ে চেয়ে একটানে বসা থেকে দাঁড় করালো। ফিরেও দেখল না হাতে ব্যথা পেয়েছে কি না! আরশের হঠাৎ এমন আক্রমণে নুসরাতের মাথা ঘুরে উঠল। কোমড়ের ব্যথায় আর হাতের ব্যথায় মুখ কুঁচকাতেই ঠাটিয়ে বাঁ-গালে থাপ্পড় পড়ল। নুসরাতের উপর জমা হওয়া এতক্ষণের রাগ সামান্য কমল না। অতঃপর আবারো রুম কাঁপিয়ে আরেকটা থাপ্পড় পড়ল ডান-গালে। নুসরাত বাঁ-হাতে বাঁ-গাল চেপে ধরল, নিজের গাল বাঁচানোর জন্য। আরশ সেদিকে চোখ বুলিয়ে নিয়ে আবারো ডান গালে বাজিয়ে আরেকটা থাপ্পড় বসাল। নুসরাত দু-গালে দু-হাত চেপে রাগে চিৎকার করে ওঠল,”তোকে আমি ডিভোর্স দিব কুত্তা। তোর মতো পাঠার সাথে সংসার আমি করব না। তোকে আমি বিয়ে করব না। তোর সংসার তুই কর! তোর সাথে আমি থাকব না। তুই পাঠা, পাঠা, পাঠা!
নুসরাত একহাতে চেপে ধরা গাল ছেড়ে নিজের পকেট থেকে ছুরি বের করল। সেটা চালাতে যাবে তার পূর্বেই আরেকটা বাজিয়ে থাপ্পড় পড়ল। চোখে অন্ধকার দেখল মেয়েটা। এবারের থাপ্পড়টা এত জোরালো ছিল, নুসরাতের কান লেগে এসেছে একদম। নুসরাত চোখের পাপড়ি ঝাপটে শক্ত হাতে ছুরি মুঠোয় পুরে তা আরশের বুকের ভেতর চালাতে যাবে তার আগেই আরশ তার হাত মুচড়ে ধরল। তা ঘুরিয়ে নিয়ে নুসরাতের পিঠের মধ্যে চেপে ধরল। হিসহিসিয়ে পুরু ঠোঁট দিয়ে অস্ফুটে সুরে বলে ওঠল,”তুই সংসার করবি, তোর বাপ সংসার করবে, তোর চৌদ্দ গুষ্টি সংসার করবে। তাছাড়া এই ছুরি ছুরি খেলা অনেক দেখিয়েছিস, আমিও দেখেছি! আক্রমণের প্রন্থা পরিবর্তন কর,সব পুরোনো হয়ে গেছে। এই দেখ আমার চোখ ধাঁধিয়ে গিয়েছে এসব দেখতে দেখতে।
নুসরাত হাত চালাতে না পেরে, রাগে চিৎকার করে ওঠল। আরশের হাতের কবল থেকে নিজের হাত ছাড়ানোর বৃথা প্রচেষ্টা করল। বাঁ-হাত দিয়ে আরশকে খাঁমচি দিবে সেটা আরশের রাগ বাড়িয়ে দিল আরো বেশি। নুসরাতের দু-হাত একহাতের সাহায্যে পিঠের কাছে পেঁচিয়ে নিল। তারপর মুচড়ে ধরল। হাত মোচড়ানোর জন্য দু-হাত ব্যথায় ঝিমঝিম করে ওঠল। আরশের দিক থেকে তবুও নুসরাতের খেপাটে দৃষ্টি সরলো না। রাগে কিড়মিড়িয়ে উঠে বলল,”করব না আমি তোর সংসার! বিয়ে করব না আমি তোকে। তোকে ডিভোর্স দিয়েই আমি আরেকটা বিয়ে করব। কথায় কথায় তুই আমাকে চড়, থাপ্পড় মারিস!
আরশ দন্ত কপাটি চেপে ধরল একটার সাথে অন্যটা। দাঁতের সাথে দাঁতে পিষে হিসহিসিয়ে বলে ওঠল,”
“নুসরাত নাছির লিসেন কেয়ারফুললি, ইউ আর অনলি মাইন। আই সোয়ার, আমাকে ছাড়া দ্বিতীয় কাউকে নিজের জীবনের সাথে জড়ানোর কথা ভাবলেও, তোমাকে আমি নিজ হাতে মেরে ফেলব।
নুসরাত চোখ বন্ধ করে শ্বাস ফেলল শব্দ করে। জোরে জোরে শ্বাস ফেলে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করল, হলো না! কালো মণির চোখগুলো জ্বলজ্বল করে উঠল। আরশের দিকে তাকিয়ে ক্ষীপ্ততার সাথে আওড়াল,”আমি আপনাকে ডিভোর্স দিব, এটাই আমার শেষ কথা।
আরশ নাকের মধ্যে নিজের বাঁ-হাত ঘঁষল। আজ একটু বেশি জ্বালাপোড়া করছে এই বুলশিটটা। নুসরাতকে ঠেলে পেছনে নিয়ে গেল। যতক্ষণ পর্যন্ত পিঠ না ঠেকে যায় টেবিলের সাথে। পিঠ টেবিলে ঠেকতেই নুসরাত মাথা তুলে উপরে তাকাল। আরশ শক্তহাতে তার থুতনি চেপে ধরল। কন্ঠ খাদে নামিয়ে কড়মড় করে বলে ওঠল,” নুসরাত নাছির আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করো আজ আমি যে তোমায় মারিনি, আমাকে রাগিও না!
নুসরাত চাপা ক্লেশ ভেতরে চেপে চিৎকার করে বলে ওঠল,”আপনি ও আমাকে রাগাবেন না। কথায় কথায় গায়ে হাত দেন কেন আপনি! আমি আপনার নামে নারী নির্যাতনের মামলা করব।
নুসরাত অতিরিক্ত রাগে গলার কাছে কান্না দলা পাকাল। আরশ নুসরাতের চোখে চোখ রেখে হাত ছেড়ে দিল। নিজেদের ভেতরে দূরত্ব মিটানোর পূর্বেই নুসরাত হাত ঘুরিয়ে এনে আরশের গালে থাপ্পড় মারতে নিল, আরশ সামান্য বিরক্ত হলো এতে। কী থাপ্পড় থাপ্পড় খেলা শুরু করেছে এই বেয়াদব মহিলা! আরশ চাইলেই এই মহিলাকে একহাত দিয়ে তুলে আছাড় মারতে পারবে, কাকে সে তেজ দেখায়,এই ছোট শরীর নিয়ে! নুসরাতের দ্রুত বেগে আসা হাত থেমে গেল, আরশের বলিষ্ঠ হাতের পিষ্টনে। আরশ ভ্রু নাচিয়ে আওড়াল,” নুসরাত নাছির ইউ আর সো মিন। এতক্ষণ ধরে কী ক্লাস করালাম! নিজের টসটসে গালগুলোকে কেন থাপ্পড় খাওয়াতে উঠে পড়ে লেগেছো? এত যদি আমার হাতে মার খেতে ভালোবাসো তাহলে প্রথমেই বলে দিতে, আমি না হয় নিজ দায়িত্বে এর ব্যবস্থা করে দিতাম।
পরপর বাজিয়ে দুটো থাপ্পড় পড়ল নুসরাতের গালে। নুসরাত চোখ কুঞ্চিত করে আরশের পানে চাইতেই আরশ তার থুতনিতে বল প্রয়োগ করে চেপে ধরল। প্রখর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে একহাতে কোমর পেঁচিয়ে তুলে বসাল টেবিলের ওপর। ধারালো কন্ঠে পুরুষালি পুরু ঠোঁট দিয়ে সতর্কী বাণী উচ্চারিত হলো,”এই ছোট শরীরে এত তেজ আসে কোথা থেকে? আছাড় মেরে সব তেজ বের করে দেব, বেয়াদব! বেশি লাফালাফি করবা না, পা দুটো কেটে ঝুলিয়ে রেখে দেব। অসভ্য মহিলা..!
দুপুর দুইটা বেজে আঠারো মিনিট। আরশের মোবাইলে কল আসলো আননন নাম্বার থেকে। আরশ ফোন পিক করে না আননন নাম্বার হলে কিন্তু আজ কী মনে করে কল পিক করল। ফোন কানে লাগিয়ে হ্যালো বলার পূর্বেই অপাশ থেকে গমগমে সুরে কর্কশ আওয়াজে কেউ বলে ওঠল,”সৈয়দ আরশ হেলাল, একটু পুলিশস্টেশনে এসে হাজিরা দিয়ে যান, আপনার স্ত্রী আপনার নামে নারী নির্যাতনের কেস করেছেন।
চলবে…….
প্রিয়_প্রণয়িনী২
জান্নাত_নুসরাত
(২৮) শেষ অংশ
সৈয়দ বাড়ির ড্রয়িং রুমে হেলাল সাহেব থমথমে মুখে বসে আছেন। হেলাল সাহেব ছাড়া সকলের ঠোঁটে মিটি মিটি হাসি লেগে আছে। যথা সম্ভব নিজেদের গম্ভীর রাখার চেষ্টা করছেন সবাই তারপর ও ঠোঁট ঠেলে ঠিকই হাসির ফোয়ারা বের হচ্ছে। হেলাল সাহেবের কানে কানে সুফি খাতুন কিছু বলতেই উনার শক্ত দৃষ্টি নিজেদের দিকে অনুভব করলেন শোহেব সাহেব। ভাইয়ের পানে চেয়ে মেকি হাসার চেষ্টা করলেন। পরপর আবার নিজেকে সামলে নিলেন। হেলাল সাহেব হাতের মোবাইল সোহেদ সাহেব আর শোহেব সাহেবের দিকে তুলে ধরে শুধালেন,”এসব কী?
দু-জনেই চোয়াল ঝুলিয়ে মাথা দু-দিকে নাড়িয়ে বোঝালেন এসব কী তারা জানেন না! হেলাল সাহেবের মুখ দেখার মতো কালো বর্ণের হলো। শক্ত মুখ বানিয়ে ঝর্ণা বেগমকে ডেকে ওঠলেন,”ঝর্ণা, বোন আমার এদিকে আয় একটু!
ঝর্ণা বেগম মাথায় ওড়না টেনে তড়িঘড়ি করে আসলেন ড্রয়িং রুমে। উনার পেছন পেছন এসে হাজির হলেন লিপি বেগম ও। প্রশ্নাত্মক ভঙ্গিতে দু-জনেই নিজেদের স্বামীদের দিকে তাকালেন। ঝর্ণা বেগম ঈষৎ নিচু সুরে জানতে চাইলেন,”বড় ভাইয়া ডেকেছেন?
হেলাল সাহেব শক্ত হাতে মোবাইলটা ঝর্ণা বেগমের দিকে তুলে ধরে শুধালেন,”এসব কী?
ঝর্ণা বেগম সামান্য থমকালেন স্ক্রিনে থাকা ভিডিও এর দিকে চেয়ে। পর্দা আড়াল থেকে দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখছিলেন রুহিনী। ভিডিওটা দেখেই বুঝতে দেরি হলো না এসব কার কারসাজি। ইচ্ছে করল এখান থেকে নিজের ঝাটা ছুঁড়ে মারতে বেয়াদব ছেলেটার উপর কিন্তু সম্ভব হলো না তাই চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলেন। ঝর্ণা বেগম ঠোঁট চেপে ধরে নীরবে চোখ নামিয়ে নিলেন। কথা বের হলো না। হেলাল সাহেব চিৎকার করে উঠলেন,”বাড়ির বউ-মেয়েদের ভিডিও এখানে কী করে? কে এসব আপলোড করেছে? তোর ছেলে এই ভিডিওয়ে কী করে? আর মেয়েদের মাথায় ওড়না কোথায়?
হেলাল সাহেবের ক্রোধানিত গলার আওয়াজ দো-তলার প্রতিটি রুম ভেদ করল। আবারো তিনি চোয়াল শক্ত করে বলে উঠলেন,”কথা কেন বের হচ্ছে না মুখ দিয়ে? ইরহাম এখানে কী করছে? আহান এখানে কী করছে? নাছিরের বউ এখানে কী করছে? বাড়ির মানুষের ভিডিও সোসাল মিডিয়ায় কীভাবে যায়? উত্তর দাও?
হেলাল সাহেবের পাশে বসে তাকে আরো উস্কে দিলেন সুফি খাতুন। সুফি খাতুনের এমন কান্ডে সকলেই বিমূর্ত হয়ে গেলেন। রুহিনী লজ্জায় দু-পাশে মাথা নাড়ালেন। চোখ মেঝেতে নামিয়ে স্থির দাঁড়িয়ে রইলেন ঝর্ণা। হঠাৎ হঠাৎ কেঁপে উঠলেন ভয়ে। ভদ্র মহিলার চোখে ঈষৎ পানির স্পর্শ দেখা গেল। ঠোঁট চেপে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করলেন৷ শুভ্র মুখে আধাঁর নামল।
জায়িন বাড়ির ভেতর ঢুকতেই এমন অবস্থা দেখে কপালে সামান্য ভাঁজ পড়ল। ভ্রু কুঞ্চিত করে শুধাল,”কী হয়েছে?
হেলাল সাহেবের ক্রোধানিত ভরা চোখ ঘুরে গেল জায়িনের দিকে৷ দাঁতের মাড়ি চেপে চেপে আওড়ালেন,”নিজের বউয়ের খোঁজ খবর রাখো? তোমার বউ কী করে বেড়াচ্ছে তার খেয়াল আছে?
জায়িন ভ্রু সামান্য উচিয়ে এসে বসল হেলাল সাহেবের সম্মুখে। নিজের অক্ষিগোলকের সামনে চেপে ধরা ডিভাইসটার দিকে তীক্ষ্ণ আখিঁ মেলে কিৎকাল দেখল। অতঃপর পায়ের উপর পা তুলে বসে উত্তর করল,”বউয়ের খোঁজ খবর রাখব কেন, বউ কি পালিয়ে যাচ্ছে নাকি, আজব কথা বার্তা বলেন আপনি! আর এমনি এমনি চিৎকার করে নিজের ব্লাড প্রেশার বাড়াচ্ছেন কেন! পরে অসুস্থ হয়ে হাই হুতাশ করবেন বলে! আপনার এই কাজটা বড় অদ্ভুত, ছোট একটা জিনিস টেনে টেনে লম্বা করে ফেলেন। এটা কোনো বিষয় হলো, আর যদি বেশি সমস্যা হয় এটা নিয়ে তাহলে সাইবার ইউনিটের সাথে কথা বলে সব জায়গা থেকে ভিডিওগুলো সরিয়ে ফেললেই হয়। সামান্য বিষয় টেনে কীভাবে লম্বা করা যায় তা আপনার থেকে শিখা উচিত। এনয়িং পার্সন!
জায়িনের শক্ত কথায় হেলাল সাহেবের চোয়াল ঝুলে পড়ল। এতক্ষণ বাঘের মতো গর্জন করলেও এবার ভেজা বেড়ালের মতো মুখ বানিয়ে বসে রইলেন। জায়িন শার্টের ভাঁজ ঠিক করে নিয়ে, হাতা গোটাতে গোটাতে উঠে দাঁড়াল। গম্ভীর গলায় বলে ওঠল,”আমি কথা বলে নিব। আর যেন এই বিষয় নিয়ে কোনো কথা বলতে না দেখি। বৌ-মা, আম্মু যার যার কাজে যান আপনারা। আর দাদি আপনি উস্কে দেওয়ার কাজটা খুব ভালো পারেন। মাইন্ডব্লয়িং! এগিয়ে যান!
শোহেব সাহেব উল্টো পাশ ফিরে হাসলেন। সুফি খাতুনের মুখ কালো হয়ে গেল। জায়িনের পানে তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে তাকে ভালোভাবে পরখ করতে ভুললেন না।
পুলিশস্টেশনে পায়ের উপর পা তুলে বসে নুসরাত। তার একপাশে আহান অন্যপাশে ইরহাম। দু-জনেই সাক্ষী হিসেবে বসে। কর্মকর্তা মৃন্ময় তুষার একবার সামনে বসা ভদ্র মহিলার দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে তাকে অবলোকন করে চোখ নামিয়ে নিল নিজের টেবিলের দিকে। জানতে চাইল,”জ্বি বলুন আপনাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি?
নুসরাত চোখের পানি মুছে নিল। চোখে পানির অস্তিত্ব নেই তারপরও এমন করল। শব্দ করে নাক টেনে বলে ওঠল,”আপনি কেস ফাইল করুন ওই ব্যাটার নামে! নারী নির্যাতনের যেই যেই ধারা আছে সবগুলা। আপনি না জানলে আমি বলে দিচ্ছি, ধারা ৭, ধারা ৩৫৪, ধারা ৩৯৪, ধারা ৩৯৫, সবগুলা ধারা ওই পাঠার উপর এপ্লাই করেন। আপনি চাইলে আরো দু-একটা নিজের ইচ্ছে মতো বসাতে পারেন।
মৃন্ময় তুষার ঠোঁট টিপে নুসরাতের দিকে তাকাল। মৃদু আওয়াজে বলল,”আপনি পা নামিয়ে বসুন! তারপর কথা বলুন! ফার্স্টে একটু পানি খেয়ে নিন।
নুসরাতের দিকে পানি বাড়িয়ে দিল মৃন্ময় তুষার। নুসরাত পুলিশ নামক এই ভাদাইম্মা কর্মকর্তাকে দেখে বিরক্ত হলো। নাক টেনে বলে ওঠল,”আগে FIR কাটুন, তারপর পানি খাব।
মৃন্ময় তুষার জিজ্ঞেস করল,
“আপনার স্বামী আপনাকে কীভাবে মেরেছেন?
নুসরাত বিস্ময় নিয়ে শুধাল,
” কীভাবে মেরেছে মানে কী? আপনি কী দেখতে চাচ্ছেন, আমাকে আবার মেরে আপনাকে ওই পাঠা দেখাক?
মৃন্ময় তুষার ঠোঁট টিপে বলল,
“আমি এটা বলতে চাইনি মিসেস..!
নুসরাত হাত তুলে থামিয়ে দিল। শক্ত কন্ঠে বলে ওঠল,
” মিসেস না অন্য কিছু বলুন!
মৃন্ময় তুষার মাথা নাড়ালেন। শুধাল,
“আপনার স্বামী আপনাকে কীভাবে মেরেছেন? পিঠে মেরেছেন নাকি হাতে?
নুসরাত নিজের গাল বাড়িয়ে দিয়ে বলে ওঠল,
” গালে মেরেছে গণে গণে ছয়টা! এবার নারী নির্যাতনের কেস ফাইল করুন।
মৃন্ময় তুষার অবাক কন্ঠে বললেন,
“মাত্র ছয়টা..!
“তো ছয়টা কী আপনার কাছে কম মনে হচ্ছে?
“না না তেমন কিছু না!
নুসরাত বলল,
” আপনি চাইলে আমি প্রমাণ দেখাতে পারি। এর জন্য দু-জন সাক্ষী নিয়ে আসছি। এই যে এই দু-জন আমাকে পেটানোর সময় ওই জায়গায় উপস্থিত ছিল।
আহান আর ইরহামের জ্বরে অবস্থা কাহিল। নিভু নিভু চোখে চেয়ে দু-জনে মাথা নাড়াল। মৃন্ময় তুষার গম্ভীর কন্ঠে বলে ওঠল,”আপনার স্বামী আপনাকে মারধর করল আর আপনি মার খেতেই থাকলেন, কোনো বিরুধীতা করলেন না? উনার বিরুদ্ধে নিজে কোনো পদক্ষেপ নিলেন না?
নুসরাত দুঃখী মুখ বানিয়ে কপালে হাত রাখল। জ্বরের প্রকোপ বাড়ছে সময়ের সাথে। চোখের পানি কাপড়ে মুছে নিয়ে বলে ওঠল,”ওই পাঠার সাথে আমি কী পারব? ওই ব্যাটা গরুকে আমি দুটো গালি ও দিতে পারিনি! মহিষের মতো শক্তি সুদির ভাইয়ের!
মৃন্ময় তুষারের পেট ঠেলে হাসি হাসল, তারপরও হাসি পেটে চাপল। সে একজন কর্মকর্তা, এভাবে হাসা বেমানান। তাই বলে ওঠল,”তাতো বুঝতেই পারছি, আপনি কেমন গালি দিতে পারেননি!
নুসরাত বলে ওঠল,
“আপনার খোশগল্প রাখেন নিজের কাছে, এখন ধারা সাত উনার নামে এপ্লাই করেন!
মৃন্ময় তুষার বলল,
“ধারা সাত তো অপহরণ, এটা কীভাবে হলো!
” দু-সপ্তাহ পূর্বে আমাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে গিয়েছিল কুত্তাটা।
মৃন্ময় তু্ষার কিছু বলার পূর্বেই নুসরাত বিরক্তি সাথে তার কথা কেটে দিল। চোয়াল শক্ত করে বলে ওঠল,”কাটেন ভাই নারী নির্যাতনের সকল ধারা। নাকি আবার বলে দেব কোনটা কী!
আহান আর ইরহাম চোখ বুজে চেয়ারে শুয়ে পড়ল মাথা এলিয়ে। জ্বরের জন্য মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না, আর এই মহিলা তাদের নিয়ে আসছে সাক্ষী দিতে। এর চেয়ে ঢের ভালো এখানে বসে বসে এক ঘুম দেওয়া। মৃন্ময় শুধাল,”আপনি ল এর স্টুডেন্ট?
নুসরাত কাটকাট কন্ঠে বলল,
“আরে দূর না, ল এর স্টুডেন্ট হতে যাব কেন? এখানে আসার আগে ধারাগুলো দেখে এসেছি। এখন কেস করেন তাড়াতাড়ি! সাথে বাল্যবিবাহের কেস দিবেন আমার মরহুম দাদার নামে, আর আমার স্বামীর নামে। সাড়ে সাত বছরের একটা মেয়েকে সে কীভাবে বিয়ে করে এজন্য!
মৃন্ময় চোয়াল ঝুলিয়ে বসে রইল। আসলে সে কথা বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না। হাতের কাছে থাকা রেজিস্ট্রারের খাতা নিয়ে শুধাল,”আপনার স্বামীর নাম?
নুসরাত ঝটপট উত্তর দিল,
“সৈয়দ আরশ হেলাল।
মৃন্ময়ের খাতায় লিখা হাত থামল। ভ্রু উচিয়ে আবার নিশ্চিত হওয়ার জন্য বলে ওঠল,” আপনার স্বামীর নাম কী আবার বলুন?
“কানে কম শুনেন নাকি! আমি আর পারব না বলতে, যা শুনেছেন তাই লিখুন চুপচাপ। এসব ছোট ছোট কথা বলে নিজের মহামূল্যবান সময় নষ্ট করার কোনো ইচ্ছে আমার নেই।
মৃন্ময় অদ্ভুত চোখে নুসরাতকে কিছুক্ষণ দেখল। এতক্ষণ যে বকরবকর করে সময় নষ্ট করল তার বেলা কিছু না, আর সামান্য এককথা দু-বার জিজ্ঞেস করায় তার সময় নষ্ট হয়ে যাবে বলে এই মহিলা। অদ্ভুত!
মৃন্ময় তুষার জিজ্ঞাসা করল,
” আপনার স্বামীর নাম্বার দিন।
নুসরাত ঝরঝর করে বলে গেল নাম্বার। মৃন্ময় নিজের মোবাইলে ফোন নিয়ে কল লাগাল আরশের নাম্বারে। অপাশ থেকে ফোন পিক হতেই বলে ওঠল,”সৈয়দ আরশ হেলাল, একটু পুলিশস্টেশনে এসে হাজিরা দিয়ে যান, আপনার স্ত্রী আপনার নামে নারী নির্যাতনের কেস করেছেন।
কথাটা শেষ করে মুখের উপর ফোন কেটে দিল। অপাশের উত্তরের আশা করল না। নুসরাত নড়েচড়ে বসল। মৃন্ময় বলে ওঠল,”আপনার স্বামী আসার পর সব ক্লিয়ার হবে।
নুসরাত বলে ওঠল,
“কী ক্লিয়ার হবে! সোজা লকাপে ঢুকিয়ে পশ্চাৎে কয়েকটা বারি লাগিয়ে দিবেন। এর বেশি কিছু করবেন না।
মৃন্ময় গম্ভীর মুখ বানিয়ে বসে রইল সামনের চেয়ারে। নুসরাত কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে বিরক্ত হয়ে গেল। পাশে তাকিয়ে দেখল ইরহাম, আর আহান ঘুম দিচ্ছে। তাই নিজেও চোখ বুজে নিল।
মৃন্ময় ভেতরে ভেতরে এদের অবস্থা দেখে অবাক হলো। সবগুলো পুলিশ স্টেশনে এসে ঘোমাচ্ছে। নুসরাতকে উদ্দেশ্য করে মৃন্ময় জানতে চাইল,” এটা কি আপনার শ্বশুরবাড়ি যে ঘুমাচ্ছেন এখানে?
নুসরাত নাক টেনে নিয়ে বলে ওঠল,
“আরশ ভাই না আসা পর্যন্ত এটা আমার শ্বশুর বাড়ি। এখন ঘুমাতে দিন, ডিস্টার্ব করবেন না তো!
নুসরাত এক চোখ খুলতেই প্রথমেই অক্ষিপটে ভাসল চশমা পরিহিত পুরুষালি দুটো চোখ তার উপর ঝুঁকে আছে। দুটো চোখ বললে ভুল হবে পুরো শরীর তার দিকে ঝুঁকে আছে। নড়েচড়ে পাশে তাকাতেই দেখল মৃন্ময় এর চেয়ারে সে বসে। বিস্ময়ে কবলিত চোখগুলো তড়িৎ আশেপাশে ঘুরে গেল, মৃন্ময়কে খোঁজার উদ্দেশ্যে। না নেই কোথাও পুলিশ অফিসারটা! একহাত ঘাড়ে রেখে মাথ কাত করতেই কানে আসলো,” ঘুম শেষ মিসেস?
নুসরাত থমকে গেল। ঘাড় কাত রেখে অভাবেই আরশের পানে নিজের পরিপূর্ণ দৃষ্টি নিবিষ্ট করল। এত ঠান্ডা আচরণ সে আশা করেনি আরশের কাছ থেকে। এতটা কুল কীভাবে এই লোক। নুসরাত বুঝল ঠিক ঘাপলা আছে এখানে। তাই নিজের জায়গায় স্থির থেকে শুধাল,”কতক্ষণ হলো এসেছেন?
আরশ নুসরাতের থেকে চোখ সরিয়ে হাতের কালো বেল্টের ঘড়ির দিকে তাকাল। রোলেক্স সাবমেরিনের ঘড়ির দিকে চোখ রেখে পুরু ঠোঁট নাড়িয়ে আওড়াল,”থ্রি হাওয়ার, থারটি নাইন মিনিট এন্ড থারটি সেকেন্ড।
নুসরাত মাথা নাড়াল। উঠে বসতে যাবে নাকে ধাক্কা খেল পুরুষালি শরীর থেকে আসা কড়া ঘামের সাথে কস্তুরির ঘ্রাণ। নুসরাত ঠিক বুঝে উঠতে পারল না আসলে কীসের ঘ্রাণ এটা। ঠোঁট টিপে আড় চোখে দেখল আরশকে। আরশ গ্রীবা বাঁকিয়ে নুসরাতের দিকে সামান্য ঝুঁকে আসতেই ঘ্রাণটা আরো কড়াকড়িভাবে তার নাসারন্ধ্রে ভেতর দিয়ে সুরসুর করে ঢুকে গেল। অতিরিক্ত কোনোকিছুরই ঘ্রাণ সহ্য করতে পারে না নুসরাত। তাই নাক টেনে হা হা বলে হাচ্চি দিয়ে ওঠল। হাচ্চির সাথে মুখ থেকে কিছু জিনিস এসে লাগল আরশের অফ সোল্ডার টি-শার্টে। আরশ বিরক্ত হলো। পুরুষালি ঠোঁট জোড়া নাড়িয়ে শক্ত কন্ঠে বলল,”ওয়াট ইজ দিজ নুসরাত নাছির? যত্তসব ছোটলোকি কারবার!
নুসরাত টিপটিপ চোখে তাকাল আরশের দিকে। আরশ বিরক্ত হয়ে নিজের কাপড় মুছতে মুছতে ধমকে উঠল,”গেট দ্যা ফাক আউট নুসরাত নাছির!
নুসরাত ঘোলাটে চোখে তাকাল। কী হলো! এক মুহুর্তে এই লোকের এমন রঙ পালটে গেল কেন! অবাক চোখে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কানে এসে আবারো শক্ত কন্ঠে, ঝাঁঝ মিশানো চিৎকার লাগল,”আই সে গেট আউট!
নুসরাত উঠে দাঁড়ানোর পূর্বেই আরশ হাত টেনে দাঁড় করাল তাকে। অস্বাবিক গরম গা উপলব্ধি হলো তার। শক্ত করে ধরে রাখা হাত কিছুটা নমনীয় হয়ে আসল। একহাতে নুসরাতে কব্জি চেপে ধরে বের করতে করতে বলে ওঠল,”Are you n’t listening to what I’m saying? I’m telling you—get the fuckk out of here! Gooooo…!
নুসরাত নিজের হাত ছাড়িয়ে নিল আরশের হাতের মুঠো থেকে। সে কী যাচ্ছে না, এমন ঠেলে বের করছে কেন! আর ওই পুলিশ অফিসার মরেছে কই? নির্ঘাত আরশের থেকে টাকা খেয়ে ভেগেছে! নুসরাত ওখানে দাঁড়িয়ে ভেবে নিল ওই পুলিশ অফিসার এর ব্যান্ড বাজাবে সে। এত বড় সাহস নুসরাত নাছিরের সাথে ধোঁকাবাজি। একে ও জেলের ভাত খাওয়াবে। কোর্টে আপিল করবে পুলিশের নামে। তারপর দুটোকে জেলে ঢুকাবে। নুসরাত নাছিরের সাথে পাঙ্গা! এত সহজ না নুসরাতের হাত থেকে রেহাই পাওয়া। সবগুলোকে জেলে পুরে, ওদের সব সম্পত্তি হাতিয়ে নিবে সে। হা করে শ্বাস মুখে পুরে গাল ফুলিয়ে নিল। বড় বড় পা ফেলে যখন সামনে যাওয়ার জন্য অগ্রসর হবে কানে বাজল দুটো শব্দ। যা পেছন থেকে আরশ তার উদ্দেশ্যে ছুঁড়ে দিয়েছে। এই দুটো শব্দ নুসরাতের রাগ বাড়াতে ভালো কাজ করল। সাপের মতো ফনা মেলে হিসহিসিয়ে শুধাল,”কী বললেন, আবার বলুন?
আরশ নুসরাতের দিকে চেয়ে থেকে, গম্ভীর আওয়াজে ঠোঁট নাড়িয়ে থেমে থেমে বলল,”F.U.C.K Y.O.U Nusrat nasir.
নুসরাত ফুস করে ওঠল। দাঁতের মাড়ি চেপে আবার ঝাঁঝ মিশিয়ে বলে ওঠল,”Say it again.
আরশ সিগারেট ঠোঁটে গুজল। আরাম করে বসে ঠোঁট নাড়িয়ে আওড়াল,”Fuck you MRS AROSH.
নুসরাত রাগে থরথর করে কেঁপে উঠল। হাতের মুঠো শক্ত করে চেপে ধরে নিজের রাগ সামলানোর বৃথা প্রয়াস জারী করল। দাঁত খিঁচে আবারো বলে ওঠল,”Say it again, i wanna hear it .
আরশ মৃদু হাসি দিল,যা নুসরাতের রাগের পরিধি বাড়িয়ে দিতে কাজ করল। শুধাল,,”Did you fucking like it that much,nusrat nasir? If you want we can do it for real. By the way, fuck you nusrat nasir.
নুসরাত শব্দ করে শ্বাস ফেলল। আরশের যদি কোনো অদৃশ্য জিনিস দেখার শক্তি থাকতো তাহলে দেখতে পেত, রাগে নুসরাতের মাথার উপর দিয়ে ধোঁয়া উড়ছে টগবগ করে। নুসরাত হাতের মুঠ পকেটে পুরে নিয়ে বলে ওঠল,”When baby? I’m desperately waiting for this. Come closer! God promise, i’ll fucking kick your di*ck so hard.
আরশ উপহাস করে হাসল নুসরাতকে। ঠোঁট কুঁচকে, নিজেও সুর বদলে ফেলল। ধারালো ক্লিন সেভ চোয়ালে হাত বুলাতে বুলাতে আওড়ায়,”অহ রিয়েলি ওয়াইফি?
নুসরাত রেগে তেড়েমেড়ে এগিয়ে গেল আরশের দিকে। পকেটে থাকা আপেল কাটার ছুরিটা শক্ত করে হাতের তালুতে চেপে ধরল। শক্ত হাতে সেটা আরশের বুকে বৃদ্ধ করার পূর্বেই আরশ নুসরাতের হাত তার সৌষ্ঠব পুরুষালি হাতের আয়ত্তে এনে মুচড়ে পিঠে চেপে ধরল। কন্ঠে নিচে নামিয়ে হিসহিসিয়ে কানের লতির কাছে ঠোঁট চেপে আওড়ায়,”মেয়ে মানুষ পিটানো আমি দু-চোখে ঘৃণা করি, কিন্তু সেটা যদি তুই হস তাহলে অন্য ব্যাপার।
নুসরাত ঘাড় বাঁকিয়ে নিয়ে বলে ওঠল,
“জ্বি বউ পিটানো তো গর্বের কাজ!
আরশ নিজের খশখশে হাতের সাহায্য নুসরাতকে ঘুরিয়ে কোলে বসিয়ে দিল। তখনো একহাত আটকে আরশের মুঠির মধ্যে। আরশ গলা নামিয়ে বলল,”বেয়াদব মহিলা এটাকে বউ পিটানো বলে না শাসন বলে। কখন বউকে কী দিতে হয় তা সৈয়দ আরশ হেলাল খুব ভালো করে জানে, আর তোকে এই মুহুর্তে কয়েক ঘা দেওয়া জরুরি তাও আমি খুব ভালো করে বুঝতে পারছি।
আরশ নুসরাতকে ওভাবে চেপে ধরে রাখল। ধীরে ধীরে মেয়েটাকে শান্ত হয়ে যেতে সামান্য বিরক্ত হলো। কানের কাছে ঠোঁট এগিয়ে নিয়ে মৃদু সুরে বলে ওঠল,” নুসরাত নাছির, ফাক ইউ!
নুসরাত চ্যাত করে উঠল না। নীরবে বসে রইল। কিন্তু ভেতরে ভেতরে রাগের পারদ ছুঁয়ে ফেলছে আকাশ বরাবর। তীক্ত শ্বাস ফেলল সে। আরশের কথায় শব্দ করে হেসে ফেলে উত্তর দিল,”Fuck me? Please, you couldn’t even handle me!
নুসরাতের কথা শেষ হওয়ার আগেই সে গিয়ে ছিটকে পড়ল। শক্ত মেঝেতে পড়তেই কব্জার হাড্ডিতে ব্যথা লেগে তা অসাড় হয়ে উঠল। এক হাতের সাহায্যে অন্যহাত চেপে উঠে বসতেই আরশ চিৎকার করে উঠে বলল,”গেট দ্যা ফাক আউট নুসরাত নাছির। আই সে গেট আউট।
নুসরাত এত অপমান সহ্য করতে পারল না। রাগী চোখে আরশের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ধপধপ পায়ে বের হয়ে আসলো। এই গরুকে সে উচিত শিক্ষা দিবে। এই মুহূর্তে কোনো বুদ্ধি মাথায় আঁটছে না। বাড়িতে গিয়ে একটা দীর্ঘ ঘুম দিতে হবে তারপর এই আরশের ব্যবস্থা করবে। পুলিশ স্টেশন থেকে বের হতে হতে দেখা হলো মৃন্ময়ের সাথে। নুসরাত এক আঙুল চেপে শাসাল তাকে,”আপনার নামে কেস করব ধোঁকাবাজির। আরশ ভাইয়ের টাকা খেয়ে আমার সাথে ধোঁকাবাজি, এই নুসরাত নাছির কখনো ধোঁকাবাজদের মাফ করে না। আপনার নামে কোর্টে আপিল করব, যদি প্রয়োজন পরে হাই কোর্টে যাব। তবুও আপনাকে হাজতে ঢোকাব।
নুসরাত আহান আর ইরহামকে গাড়িতে উঠে বসতে বলে এগিয়ে গেল। হঠাৎ কিছু মনে হতেই মৃন্ময়ের সামনে এসে দাঁড়াল। কোমরে হাত রেখে শুধাল,”জায়গা জমি আছে?
মৃন্ময় আকস্মিক এমন প্রশ্নে হকচকাল। তড়িৎ গতিতে মাথা নাড়াল উপর-নিচ। নুসরাত তর্জনী আঙুল ঠোঁটে রেখে মিনমিন করে,”এবার এর সব সম্পত্তি আমার হয়ে যাবে। একে হাজতে পাঠিয়ে সব আমার কব্জায় নিয়ে আসতে হবে।
মৃন্ময় একহাত পকেটে ঢুকিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলল,
“সম্মান দিয়ে কথা বলুন!
নুসরাত কপালে ভাঁজ ফেলে একবার তেছরা চোখে তাকিয়ে চোখ উল্টে ফিরিয়ে নিল যেন মৃন্ময় কোনো আবর্জনা। ঠোঁটের কোণা উচিয়ে বলে ওঠল,” সম্মান… মাই ফুট। যার কোনো সম্মান নেই সে আবার সম্মান চায়। ঘুষখোরদের সম্মান আমি দেই না। সাইডে হাঁটেন তো! মুখের সামনে এসে দাঁড়িয়ে আছে আবার!
ধীরে ধীরে দিনের আলো নিভে গেল। ঘড়ির কাটা ঘুরতে ঘুরতে গিয়ে থামল ছয়টা ঊনষাটে। নাছির মঞ্জিলে আসা সৈয়দ বাড়ির মানুষ বিদায় নিয়ে বের হলো সেখান থেকে। ঘড়ির কাটা সাতটায় ঠেকতেই গায়ে ধাক্কা লাগল নুসরাতের। চোখ সামান্য খুলে নিজের জন্মদাত্রী মাকে দেখে আবার বুজল তা সে। নাজমিন বেগম আবার তর্জনী আঙুল দিয়ে ধাক্কা দিলেন। নুসরাত আবারো নিভু চোখে চেয়ে ঘুমানোর পয়তারা করতেই নাজমিন বেগম নিজের জুতো পা থেকে খুলে হাতে নিয়ে নিলেন। সেটা চোখে লাগতেই নুসরাত লাফ দিয়ে উঠে বসল। অবাক চোখে জুতোর দিকে চেয়ে থেকে বিরক্তির সহিত আওড়ায়,”কী হয়েছে কী? তুমি আমাকে ঘুমাতে দিবে না?
নাজমিন বেগম চোখ রাঙালেন। রাগী গলায় জানতে চাইলেন,”এমন ঘোড়া গাধা বেচে ঘুমাচ্ছিস কেন?
নুসরাত অবাক চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
“ঘোড়া গাধা কবে বেচলাম, আজব! ঘুমানোর আগে তো কোনো ঘোড়া গাধা বেচিনি। আর বেচে থাকলে বা টাকা কোথায়? আমি জানি আমার টাকা নির্ঘাত তুমি মেরে দিয়েছ! চুপচাপ টাকা বের করে আমার হাতে দাও, নাহলে আজকে এই বাড়ি বম মেরে মহাকাশে উড়িয়ে দিব।
নাজমিন বেগম ঠাস করে বারি বসালেন নুসরাতের পিঠে। নুসরাত পিঠ কুঁজো করে নিল। বিছানায় কুঁচকে গেল ব্যথায়। বিরক্তির সাথে ডেকে ওঠল,” আম্মা..!
নাজমিন বেগমের চোখের রাঙানি খেয়ে নুসরাত নিজের অভার একটিং বন্ধ করে দিল। ঠোঁট কুঞ্চন করে উঠে বসে মিনমিন করে আওড়াল,”একবার ধনী হয়ে নেই তারপর এই বাড়িকে ঠ্যাং দেখাব, ঠ্যাং!
নাজমিন বেগম নুসরাতকে ভেঙিয়ে বললেন,
“জীবনেও ধনী হতে পারবি না, আর এই বাড়িকেও ঠ্যাং দেখাতে পারবি না। এখন উঠ!
” আম্মা আরেকটু ঘুমাতে দাও, প্রমিজ উঠে যাব দশ মিনিট পর।
নাজমিন বেগম বিরক্ত হলেন নুসরাতের প্রতি। হাত বাড়িয়ে নাইটস্ট্যান্ড থেকে এসির রিমোট নিয়ে তা চেপে বন্ধ করে দিলেন। নুসরাতকে টেনে তুলে বসাতে বসাতে বলে ওঠলেন,”এমন ভঁইষের মতো পড়ে পড়ে ঘুমালে তোকে রিকশাওয়ালা ও বিয়ে করবে না..!
নুসরাত সারা শরীরের ভার ছেড়ে দিল। নাজমিন বেগমের কথার সাথে মিলিয়ে নির্লজ্জের মতো গলা টেনে উচ্চ শব্দে গেয়ে ওঠল,
“ময়ূরপঙ্খী ঘোড়ায় চড়ে,
আসবে রাজপুত্র সঙ্গোপনে ।
প্রেমিক পুরুষ আরে রহিম মিয়া,
আম্মা নাচে কোমর দুলাইয়া।
গান শেষ করে খিকখিক করে হেসে উঠল। নাজমিন বেগম কিছুক্ষণ ত্যাড়া চোখে মেয়েকে দেখে নিজে হেসে দিলেন। নুসরাত গলা ফাটিয়ে গান গেয়ে গেয়ে দো-তলা থেকে নাজমিন বেগমের পিছু পিছু নামল। ইরহামের গানের গলা ভালো। শরীর এখন ভালো থাকায় নাছির মঞ্জিলে এসেছে সে। তাই নিজেও নুসরাতের সাথে গলা মিলাল। দু-জনেই একসাথে গেয়ে উঠল,”আকাশ থেকে নামবে পরি,
রূপের বাহারে তার নেইকো জুড়ি,
ময়ূরপঙ্খী ঘোড়ায় চড়ে,
আসবে রাজপুত্র সঙ্গোপনে ।
পরের লাইন গাওয়ার আগেই গলার কাছে আওয়াজ থেমে গেল। নাছির সাহেবের সাথে কথা বলে বলে আরশ ভেতরে ঢুকছে। তার দিকে চোখ স্থির। নুসরাত আলগোছে চোখ সরিয়ে নিল। না দেখার মতো করে চলে গেল কিচেনে।
কিচেনে যেতেই দেখল নাজমিন বেগম নাস্তার পিরিচ ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে রাখছেন। নুসরাত অবাক হলো। এগুলো তার মায়ের জাদুঘরে রাখা থাকে।তাহলে সেখান থেকে এগুলো বের হলো কীভাবে! নুসরাত নাজমিন বেগমের জাদুঘর থেকে বের করা পানির গ্লাস হাতে নিতেই কচি বাঁশের বারি পড়ল হাতে। নাজমিন বেগম বড় বড় চোখে চেয়ে আদেশ দিলেন,” যেখান থেকে নিয়ে এসেছিস চুপচাপ ওখানে রেখে আয়!
নুসরাত বিরক্তি নিয়ে গ্লাস রেখে দিল সিঙ্কে। কপালে ভাঁজ ফেলে জিজ্ঞেস করল,”কে এসেছে? এত নাস্তা-ই বা কার জন্য করেছ?
নাজমিন বেগম ব্যস্ত সুরে বললেন,
“ইসরাতের বিয়ের শপিং নিয়ে কথা বলতে এসেছিলেন তোর বড় আম্মু, আর তো বেশি দিন নেই। আর কথা পাকাপাকি করে গিয়েছেন।
নাজমিন বেগমকে নুসরাত শুধাল,
” আজ কত তারিখ?
নাজমিন বেগম বললেন,
“আজ আগস্টের এক তারিখ!
নুসরাত মাথা নাড়িয়ে কিচেন থেকে বের হলো। ড্রয়িং রুম এমনভাবে পার করল যেন আরশ সেখানে বসেই নেই। শক্ত পায়ে এগিয়ে যেতে যেতে বাঁকানো সিঁড়ির মাঝে ইসরাতের সাথে দেখা হলো। সে নিচে নামছে। ইসরাত পাশ কাটিয়ে নামতে যাবে নুসরাত আবারো তার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। ইসরাত অন্যপাশ ঘুরতে গেল সেখানে ও গিয়ে নুসরাত তার মুখের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ল। দীর্ঘ শ্বাস ফেলে ইসরাত শুধাল,” কী হয়েছে, সামনে এমনভাবে দাঁড়িয়ে আছিস কেএএএএএন?
ইসরাতের মুখ থেকে বিকট শব্দ বের হয়ে আসলো। নিজেকে শূণ্যে ভাসতে দেখে ভয়ে, শঙ্কায়, মুখ ফ্যাকাশে বর্ণের হলো। দু-হাতে নুসরাতের গলা পেঁচিয়ে ধরে চোখ বড় বড় করে উপরে দিকে তাকাতেই দেখল নুসরাত দাঁত কেলিয়ে হাসছে। মুখ দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে চিৎকার বেরিয়ে আসলো,”আব্বু বাঁচাওওও, এই পাগল মহিলা আমাকে এখান থেকে ফেলে দিব।
বলা শেষ হতেই নুসরাত ইসরাতকে ওভাবে ধরে রেখে গোল গোল ঘুরতে লাগল। মেয়েলি হাতের তালু দিয়ে আরো শক্ত করে চেপে ধরে মৃদু সুরে বলে ওঠল,”কংগ্রাচুলেশনস মিসেস জায়িন।
নাছির সাহেব নিজের জায়গা থেকে উঠে এসে নুসরাতকে বলে ওঠলেন,”পড়ে যাবে তো, ইসরাতকে নিচে নামাও!
ইসরাত গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠল,
“আম্মু ফেলে দিবে আমায়। একে থামাও!
পরপরই ধুপ করে শব্দ হলো। সিঁড়ির মাঝে পড়ে থাকা ইসরাত কুঁকিয়ে উঠল কোমর চেপে। নুসরাত ইসরাতের দিকে তাকিয়ে দু-হাত ঝাড়ল ময়লা ঝাড়ার মতো। বিরক্ত ভঙ্গিতে কিৎকাল চেয়ে থেকে বলে ওঠল,”বিরক্তিকর! এসব নিব্বি নিয়ে কে সংসার করবে! বেচারা জায়িন ভাই!
মুখ দিয়ে চুক চুক করে শব্দ বের করল। একহাত পকেটে ঢুকিয়ে সদর্পে হেঁটে চলে গেল সামনে। নাজমিন বেগম পেছন থেকে ফ্যাসফ্যাসে গলায় জানতে চাইলেন,”ওকে ফেলে দিলে কেন?
নুসরাত বলল,
“ও আর আব্বা বলল ফেলে দিব তাই ফেলে দিয়েছি। ওরা আমার শক্তি সামর্থ্যের দিকে আঙুল তুলেছে, আমি অপমানিত বোধ করেছি! অতিরিক্ত অপমান মাথায় উঠে, সার্কিট হিট করে, যান্ত্রিকভাবে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তাই কাজটা সত্যি করে দেখালাম।
কথা শেষে নুসরাত নিজের রুমে চলে গেল গা দুলিয়ে। আরশ তীক্ষ্ণ চোখে অবলোকন করল করিডোর পার করা নুসরাতকে টানটান হয়ে দাঁড়িয়ে। সৌষ্ঠব রেখা সম্বলিত হাতগুলো ঢোকাল থ্রি কোয়াটার প্যান্টের পকেটের ভেতর। জিহ্বা একপাশ থেকে অন্য পাশ ঘুরিয়ে গালে নিয়ে চোখা করে রাখল। ততক্ষণে দু-য়েকবার চোখাচোখি হয়ে গিয়েছে তাদের। নুসরাত অনিহা নিয়ে সেই দু-য়েকবার চোখ সরিয়েও নিয়েছে। আরশ শান্ত মনে, নির্মলতার সহিত শুধু দেখল নুসরাতের অঙ্গ-ভঙ্গি। তাকে যে ইগনোর করছে তাও খুব ভালো করে টের পেল। আরশের আঁখিদ্বয় হঠাৎ আটকাল পর্দা ভেদ করে উঁকি দেওয়া মেয়েলি মাথাটায়। ঠোঁটের উপর হাত রেখে তীর্যক হেসে নুসরাত ইসরাতকে শুধাল,”ব্যথা পেয়েছেন মিসেস জায়িন? উফ, দুক্কু পাইলাম, কুষ্টু পাবেন না আপনি!
চলবে…..
[আরেকটা পর্ব কবে চান?]
Share On:
TAGS: জান্নাত নুসরাত, প্রিয় প্রণয়িনী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রিয় প্রণয়িনী সিজন ২ পর্ব ১৭
-
প্রিয় প্রণয়িনী সিজন ২ পর্ব ১১ শেষ অংশ
-
প্রিয় প্রণয়িনী সিজন ২ পর্ব ১৯
-
প্রিয় প্রণয়িনী সিজন ২ পর্ব ১১ প্রথম অংশ
-
প্রিয় প্রণয়িনী সিজন ২ পর্ব ২০
-
প্রিয় প্রণয়িনী সিজন ২ পর্ব ৪
-
প্রিয় প্রণয়িনী সিজন ২ পর্ব ৯
-
প্রিয় প্রণয়িনী সিজন ২ পর্ব ৭
-
প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৩০
-
প্রিয় প্রণয়িনী সিজন ২ পর্ব ১৫