প্রণয়ে_গুনগুন
পর্ব_৬
মুন্নিআক্তারপ্রিয়া
গুনগুনের জন্য বিয়ের প্রস্তাব এসেছে। গুনগুন এটা জানতে পারল পরীক্ষার দিন সকালে। রেডি হয়ে বের হওয়ার সময় সুমনা বেগম পিছু ডেকে জিজ্ঞেস করলেন,
“পরীক্ষা শেষ কখন?”
গুনগুন জবাব দিল,
“১২টায়।”
“আচ্ছা। এটা ঐ ছেলের ফোন নাম্বার। দুপুরে দেখা করে আসিস আসার সময়।”
গুনগুন বিভ্রান্ত হয়ে জিজ্ঞেস করল,
“কোন ছেলে?”
“তোর বাবা বলেনি তোকে কিছু রাতে?”
“না। কী বলবে?”
“তোর বিয়ের জন্য ছেলে দেখছে।”
“আমার বিয়ের জন্য ছেলে দেখছে মানে কী? আমি-ই জানিনা আশ্চর্য!”
সুমনা বেগম ধমকের সুরে বললেন,
“আমার সাথে চেঁচাবি না। তোর বাপকে গিয়ে বল।”
“ঠিক আছে। আব্বুর সাথেই কথা বলে নেব আমি।”
গুনগুন ছেলের ফোন নাম্বার না নিয়েই পরীক্ষা দিতে চলে গেল। একের পর এক যে কীসব নতুন মুসিবত এসে জুটে যাচ্ছে গুনগুন বুঝতে পারছে না।
ভার্সিটিতে যাওয়ার সময় আপনা-আপনি গুনগুনের দৃষ্টি গেল চায়ের টং দোকানে। প্রণয় নেই সেখানে। হঠাৎ করে প্রণয় পাশের গলি থেকে সামনে এসে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল,
“কাকে খুঁজছ?”
গুনগুন চোখমুখ কুঁচকে বলল,
“কাউকে না।”
“ভার্সিটিতে যাচ্ছ?”
“না, নাচতে যাচ্ছি।”
“আচ্ছা ভালো করে নেচো।”
“বিরক্তিকর!”
গুনগুনকে রাগিয়ে দিয়ে প্রণয় দারুণ আনন্দে আছে। তবে গুনগুন তখনো বিয়ের বিষয়টা নিয়ে চিন্তিত ছিল।
পরীক্ষা দিয়ে বাসায় আসার পর ওসমান গণি কল দিয়ে ভীষণ রাগারাগি করলেন। ঐ ছেলে রেস্টুরেন্ট গিয়ে ঘুরে গিয়েছে। সুমনা বেগমও কথা শোনাতে ছাড়লেন না। গুনগুন নিরব রইল। এখন কথা বলাই মুশকিল। তবে খুব বেশিক্ষণ তার নিরবতায় কাটল না। সন্ধ্যায় ওসমান গণি অফিস থেকে ফিরে আরেক দফা রাগারাগি শুরু করে দিলেন। গুনগুন শুধু একটা কথাই বলল,
“আমি বিয়ে করব না।”
ওসমাণ গণি বললেন,
“কেন করবি না?”
“ইচ্ছে নেই এখন তাই।”
সুমনা বেগম তেঁতে উঠে বললেন,
“না, না তা কেন ইচ্ছে করবে? ইচ্ছে তো করে শুধু আমাদের হাড়-হাড্ডি জ্বা’লি’য়ে খেতে। আর কত থাকবি ঘাড়ের ওপর বোঝা হয়ে?”
“আমি কারো ঘাড়ে বোঝা হয়ে নেই। নিজের খরচ আমি নিজেই চালাই। আশ্রয় বলতে তোমরা শুধু মাথার ওপর আমাকে একটু ছাদ দিয়েছ। এটাও যদি খুব বেশি হয়ে যায় তাহলে আমি চলে যাই বাড়ি থেকে।”
“তাও তুই বিয়ে করবি না?” জিজ্ঞেস করলেন ওসমান গণি।
গুনগুন নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকে বলল,
“না।”
ওসমান গণি বসা থেকে উঠে দাঁড়ালেন। নিজের রুমে যাওয়ার আগে বললেন,
“তবে একটা কথা শুনে রাখ, যার আশায় বসে আছিস, নিজের সময়টা নষ্ট করছি সেও তোকে বিয়ে করবে না।”
গুনগুন দাঁতে দাঁত চেপে চুপ করে রইল। রুমে যাওয়ার পর গিয়ে দেখে আননোন নাম্বার থেকে দুবার কল এসেছে। গুনগুন কলব্যাক করল। কিন্তু ওপাশের ব্যক্তি কল রিসিভ না করে কেটে দিল। তারপর আবার নিজেই কল দিয়ে বলল,
“গুনগুন?”
গুনগুন দোনোমনা করে বলল,
“ইয়েস, কে?”
“আমি প্রণয়।”
কয়েক সেকেন্ড নিরব থেকে গুনগুন বলল,
“বলেন।”
“পরীক্ষা কেমন হলো?”
“ভালো। আমার নাম্বার কোথায় পেলেন?”
“জোগাড় করেছি।”
“কেন?”
“এমনি। দেখা করা যাবে?”
“আগে বলেন, কোথায় পেয়েছেন নাম্বার?”
“কুলসুমের থেকে নিয়েছি।”
“ওহ।”
“বললে না তো দেখা করা যাবে কিনা?”
“কী দরকার?”
“আমার তেমন কোনো দরকার নেই। আজ সবাই মিলে একটু বাইরে যাচ্ছি খেতে। কুলসুম তোমাকেও সাথে নিতে বলল। শিহাবকে নিয়ে আসো।”
প্রথমত গুনগুনের যাওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই। কিন্তু মন-মেজাজও এখন ভালো না। বাসায় থাকলে মাইন্ড রিফ্রেশ হবে না। এরচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত হচ্ছে বাইরে থেকে একটু ঘুরে আসা। তাই গুনগুন রাজি হয়ে গেল। শিহাবকে ডেকে চুপিচুপি বলল চটজলদি রেডি হয়ে নিতে। এরপর দুই ভাই-বোন মিলে বাইরে গেল।
প্রণয় ও মাসুদ আগেই কুলসুমের সাথে বাইরে অপেক্ষা করছিল। এরপর পাঁচজন মিলে গেল একটা রেস্টুরেন্টে। এখানকার ডেকোরেশন খুব সুন্দর। শিহাব ছবি তোলার বায়না করছে। গুনগুন কয়েকটা ছবি তুলেও দিয়েছে। কিন্তু ও আরো ছবি তুলবে। গুনগুন তখন ধমক দিয়ে বলল,
“চুপ করে বোস এখানে।”
শিহাবের মনটা খারাপ হয়ে গেল। প্রণয় এটা লক্ষ্য করে মাসুদকে বলল,
“যা শিহাবকে ছবি তুলে দে।”
মাসুদ বিরক্ত হয়ে ভ্রু কুঁচকাল। বিড়বিড় করে বলল,
“এই শা’লা তোর শা’লাকে আমি ছবি তুলে দিমু ক্যান?”
প্রণয় কটমট করে তাকাতেই মাসুদ বলল,
“দিতাছি।”
প্রণয় ও কুলসুম মিলে সবার পছন্দের খাবার অর্ডার দিল। এরপর কুলসুম বলল,
“জানো গুনগুন, আজ কিন্তু প্রণয় আমাদের ট্রিট দিচ্ছে।”
“কী উপলক্ষে?”
“ও উপলক্ষ ছাড়াই ট্রিট দেয় মাঝে মাঝে।”
গুনগুন এবার সরাসরি প্রণয়কে জিজ্ঞেস করল,
“আপনি টাকা কোথায় পান? আপনার ইনকাম সোর্স কী?”
প্রণয় মনে হচ্ছে প্রথমবারের মতো ধাক্কা খেল। কেউ কখনো প্রণয়কে এই প্রশ্ন করেনি। এসব জানতে চায়নি। আজ যখন প্রথমবার কেউ জানতে চাইল, তখন প্রণয়ের কাছে কোনো জবাব নেই। আর যেই জবাবটা আছে সেটা কেমন যেন একটু লজ্জাজনক!
প্রণয়ের হয়ে কুলসুম বলল,
“ওর বাড়ি থেকে টাকা দেয়।”
“ওহ। আপনার বাসা কোথায়?”
প্রণয় বলল,
“গুলশান।”
“তাহলে আপনি এখানে থাকেন কেন?”
প্রণয় মেজাজ হারাচ্ছে। রাগ কন্ট্রোল করতে পারছে না। কেউ ওর পরিবার বা ওর সম্পর্কে জানতে চাইলে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। কারো সাথে এসব বিষয় নিয়ে ওর কথা বলতে ভালো লাগে না। স্বাভাবিক থাকতে চেয়েও রাগ দেখিয়ে বলল,
“তুমি এতকিছু জেনে কী করবা? তোমার জানতে হবে না কিছু। আমি কই থাকব না থাকব ঐটা আমার বিষয়। আমার ব্যাপারে একদম নাক গলাবা না।”
কুলসুম, গুনগুন দুজনই হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে প্রণয়ের দিকে। তবে প্রণয়ের রাগের পেছনের কারণ কুলসুম জানলেও গুনগুনের জানা নেই। সে এসব ব্যবহার সহ্য করার মতো মেয়ে নয়। আত্মসম্মানে লেগেছে খুব। গুনগুন একটা কথাও বলল না আর সেখানে। চুপচাপ বসা থেকে উঠে শিহাবের হাত ধরে টেনে নিয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে গেল। কুলসুম বেশ অনেকবার পেছন থেকে ডাকার পরও গুনগুন আর দাঁড়ায়নি।
কুলসুম তখন প্রণয়কে রাগ দেখিয়ে বলল,
“তুই ওর সাথে এরকম খারাপ ব্যবহার করলি কেন? কাজটা তুই একদম ঠিক করিস নাই।”
প্রণয়ও শেষবার কিছু বলল না। খাবারের বিল টেবিলের ওপর রেখে নিজেও চলে গেল। কুলসুমের এখন মেজাজ খারাপ হচ্ছে। সে মাসুদের দিকে তাকিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,
“সবাই চলে যাইতাছে। তুইও যা।”
মাসুদ অসহায়ের মতো বলল,
“আমি কী করছি?”
“আমার মাথা! ওয়েটারকে গিয়ে বলে আয় খাবারগুলো পার্সেল করে দিতে।”
বাড়িতে গিয়ে কুলসুম কয়েকবার কলও দিল গুনগুনকে। কিন্তু গুনগুন রিসিভ করেনি। ইচ্ছে করেই ইগনোর করেছে। নিশ্চয়ই প্রণয়ের হয়ে ওকালতি করবে। কিন্তু গুনগুনের সেসব কথা শোনার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই। সে আসলে ভুল। প্রণয়কে ভালো ভাবতে শুরু করেছিল। এখন প্রণয় ঠিকই নিজের জায়গাটা দেখিয়ে দিয়েছে।
রাত আনুমানিক বারোটা বাজে। প্রণয়ের চোখে ঘুম নেই। মনে শান্তি নেই। গুনগুনের সাথে খারাপ ব্যবহার করার পর থেকেই মনটা অস্থির অস্থির লাগছে খুব। রাতে সে খেতেও পারেনি। অনুশোচনা হচ্ছিল। গুনগুন নিশ্চয়ই ওর ওপর রাগ করে আছে। ওকে ভুল বুঝেছে, খারাপ ভেবেছে। অবশ্য ভাবারই তো কথা। সে তো কাজটা একদম ঠিক করেনি।
অনুশোচনার অনলে দ’গ্ধ হয়ে আর থাকতে না পেরে প্রণয় কল করল গুনগুনকে। গুনগুন তখন পড়ছিল। ফোনের স্ক্রিনে প্রণয়ের নাম্বার ভাসতে দেখেও কোনো রেসপন্স করছে না সে। প্রণয় ক্রমাগত কল করছে। তবুও কল তুলছে না গুনগুন। প্রণয় বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মাসুদ জিজ্ঞেস করল,
“কই যাস এই রাতে?”
প্রণয় নির্দ্বিধায় বলল,
“গুনগুনের কাছে।”
মাসুদ দীর্ঘশ্বাস নিল। ওর যাওয়ার পথে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল,
“এই ছ্যামড়া পুরা গ্যাছে!”
গুনগুনদের বাড়ির কাছে যেতে যেতে প্রণয় টেক্সট করল,
“ছাদে আসো।”
গুনগুন টেক্সট খেয়ে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে তাকিয়ে আছে। এত রাতে ছাদে যাবে মানে? এসব ভাবতে ভাবতেই প্রণয়ের আরেকটা মেসেজ এলো,
“ছাদে না এলে আমি তোমার বাসায় চলে আসব।”
গুনগুন এবার নিজে থেকেই কল দিল। মৃদু কিন্তু রাগী কণ্ঠে বলল,
“আপনি কি আমাকে থ্রে’ট করছেন?”
প্রণয় নরম কণ্ঠে বলল,
“না, অনুরোধ করছি। প্লিজ! একবার আসো। আর জ্বা’লা’ব না তোমাকে।”
গুনগুন বলল,
“মনে থাকে যেন কথাটা।”
“থাকবে।”
প্রণয়ের সাথে সব যোগাযোগ বন্ধ করার জন্য গুনগুন ছাদে গেল। গিয়ে দেখে প্রণয় ছাদে পায়চারি করছে। জিজ্ঞেস করল,
“ছাদে এলেন কীভাবে? বাড়ির মেইন গেইট তো তালা দেওয়া।”
প্রণয় পাশের বাড়ির ছাদের দিকে তাকাল। গুনগুন বিস্মিত হয়ে বলল,
“ঐ ছাদ থেকে এই ছাদে এসেছেন?”
“হ্যাঁ।”
“যদি পড়ে যেতেন?”
“ম’রে যেতাম।”
“আজব!”
প্রণয় হেসে বলল,
“মজা করলাম। পড়লে হয়তো ম’র’তা’ম না। হাত-পা ভা’ঙ’ত এই আরকি!”
“জীবনের মায়া নেই?”
প্রণয় হাসল। রাতের অন্ধকারে সেই হাসি ধরা পড়ল না গুনগুনের চোখে। যদি দেখতে পেত তাহলে বুঝতে পারত ঐ হাসিতে বেদনা ছাড়া আনন্দ নেই। দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে প্রণয় বলল,
“সত্যি বলতে নেই।”
গুনগুন আর এই বিষয় নিয়ে কথা বলল না। শীতে একটু পরপর কেঁপে উঠছিল সে। বলল,
“কী বলবেন তাড়াতাড়ি বলুন।”
“বেশি কিছু না। শুধু একটা কথা।”
“কী কথা?”
“সরি।”
“হু?”
“সরি। তখন ঐভাবে কথা বলা উচিত হয়নি আমার।”
গুনগুন শ্লেষাত্মক কণ্ঠে বলল,
“আপনি আবার উচিত-অনুচিত বোঝেন নাকি?”
“হয়তো বুঝি না অনেক কিছুই। তবে এতটুকু বুঝেছি যে, আমি তোমাকে ইচ্ছে করে কষ্ট দিতে চাইনি।”
গুনগুন একটু থমকাল। এই কথার প্রেক্ষিতে সে বলার মতো কিছু খুঁজে পাচ্ছে না। অনেকক্ষণ চুপ করে থেকেও যখন বলার মতো কিছু ভেবে পেল না তখন বলল,
“ঠিক আছে, আমি এখন আসছি। আমার সাথে আর যোগাযোগ করবেন না।”
প্রণয় পেছন থেকে বলল,
“গুনগুন, আমি ব্রোকেন ফ্যামিলির ছেলে। বাবা বেঁচে নেই। মা দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। মায়ের নতুন সংসার হয়েছে, পরিবার হয়েছে। কিন্তু আমার কোনো পরিবার নেই। মা থেকেও নেই। শুধু মাস শেষে বিশ হাজার টাকা পাঠায় সে আমাকে। আমি সেই টাকাতেই চলি। নিজস্ব কোনো ইনকাম সোর্স নেই আমার। তাই তখন যখন এসব জিজ্ঞেস করছিলে তুমি, আমি রিয়েক্ট করে ফেলেছি।”
গুনগুন যায়নি। দাঁড়িয়ে প্রণয়ের কথা শুনছিল এতক্ষণ। তার জীবনের সাথে প্রণয়ের জীবনের বেশ অনেকটা মিল আছে। সে ফিরে তাকিয়ে বলল,
“এটা কি কোনো সম্মানের জীবন?”
প্রণয় মাথা নত করে দাঁড়িয়ে আছে। গুনগুন এগিয়ে এলো। প্রণয়ের মাথায় হাত দিয়ে সোজা করে বলল,
“এভাবে মাথা নিচু করে নয়, উঁচু করে বাঁচতে জানতে হবে। একদিন বাঁচুন কিংবা একশো বছর কিন্তু সম্মানের সাথে বাঁচুন। কারো দয়াতে না। আপনার মা যেই টাকা পাঠায় এটা কি ওনার ইনকামের টাকা?”
“না।”
“তাহলে নিশ্চয়ই তার স্বামীর থেকে নিয়ে পাঠায়। একটাবার কি ভেবে দেখেছেন তারা কীভাবে দেখে এটা? আপনি কেন নিজ থেকে কিছু করছেন না? জব করছেন না কেন?”
“গুনগুন, আমি পড়াশোনা কমপ্লিট করিনি। জব কে দেবে আমায়? পড়াশোনা করেও তো আজকাল ভালো চাকরি পাওয়া যায় না।”
“বেশ তো! জব না পেলে ব্যবসা করুন। নিজে থেকে কিছু করুন। অর্থ উপার্জনের অনেক উপায় আছে। কোনো পেশা-ই তো ছোটো নয়।”
“আমি কখনো এসব ভাবিনি।”
“ভাবতে শিখুন। ভাবুন যে, মায়ের থেকে টাকা নিয়ে প্রতি মাসে নিজের টাকা থেকে আপনি আপনার মাকে শাড়ি উপহার দিচ্ছেন। তিনি কতটা খুশি হবে ভেবে দেখেছেন?”
প্রণয় নিরুত্তর। গুনগুন বলল,
“সম্মান আসলে কখনো বলে-কয়ে আদায় করা যায় না। আপনার আচরণ, কাজকর্ম-ই মানুষকে বাধ্য করবে আপনায় সম্মান করতে। যাই হোক, এসব কথা বলার অধিকার আমার নেই। আপনার জীবন নিয়ে নাক গলাতেও চাই না। কিন্তু আপনি আমার উপকার করেছিলেন। হয়তো সেই কারণেই আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে কথাগুলো বলেছি। শুনবেন নাকি শুনবেন না আপনার ব্যাপার। এনিওয়ে, রাত অনেক হয়েছে। আমি এখন যাই। কেউ জানলে সর্বনাশ হয়ে যাবে।”
“গুনগুন?”
“হু?”
“সত্যিই কি আর যোগাযোগ রাখবে না আমার সাথে? কথা বলবে না?”
“আত্মসম্মানবোধহীন কারো সাথে আমি কথা বলি না।”
“যদি আমি সম্মান নিয়ে বাঁচতে চাই, নতুন কিছু করতে চাই তাহলে কথা বলবে তো? পাশে থাকবে?”
“পাশে থাকব কিনা জানিনা। তবে গাইড করতে পারি।”
প্রণয় হেসে বলল,
“চলবে।”
“আসছি তাহলে।”
“শোনো?”
গুনগুন ফিরে তাকিয়ে বলল,
“আবার কী?”
“আর একটাবার মাথায় হাত রাখবে, গুনগুন? অনেকদিন কেউ এভাবে মাথায় হাত রাখেনি!”
চলবে…
Share On:
TAGS: প্রণয়ে গুনগুন, মুন্নি আক্তার প্রিয়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
তুমি অজান্তেই বেঁধেছ হৃদয় গল্পের লিংক
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ৭
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ২
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ৮
-
প্রণয়ে গুনগুন গল্পের লিংক
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ১
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ৩
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ৪
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ৫