Golpo কষ্টের গল্প পিদিম জ্বলা রাতে

পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ১৭


পিদিমজ্বলারাতে. ১৭ ✍️ #রেহানা_পুতুল

তৌসিফ ঘাড় ঘুরিয়ে কথাগুলো বলা ব্যক্তিটির দিকে চাইল। তিন পা এগিয়ে গিয়ে তার গলা টিপে ধরল। ক্রুর হেসে বলল,
“ঘর ভাগে না পেতেই এত খবরদারি শুরু হয়ে গেল? আপনি নারী জাতির কলংক! নিজে একজন নারী হয়ে বোনরূপী আরেকজন নারীর প্রতি কোনো সহমর্মিতা নেই। কোনো সুবিচার নেই। এটা দাদার ঘর। সেই হিসেবে সবাই এই ঘরে থাকার অধিকার রাখে।”

সলিমুল্লাহ উড়ে গিয়ে তৌসিফের গালে কষে চড় বসিয়ে দিলেন। রা গে গরগর করতে করতে বললেন,
“বেয়াদবের শেষ সীমানায় চইলা গ্যাছত তুই। চাচীর গলা টিপে ধরলি কোন বিবেকে ও সাহসে?”

“উনি চাচী হয়ে যদি অবিবেচকের মতো,আগ্রাসী আচরণ করতে পারে,তাহলে আমি কেন সেটা পারব না? আপনার জন্যই তো আমি সেই সুযোগটা পেয়ে গেলাম। উনি কথাটা বলার সাথে সাথে যদি আপনি তাকে শাসাতেন,তাহলে তো আমি তেড়ে যেতে বাধ্য হতাম না। আমাদেরকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার উনি কে?এই ঘরে তার অনেক আগে আমার মায়ের পদধূলি পড়েছে। অতএব,উনার চেয়ে আমার মায়ের অধিকার,আবদার ঢের বেশি। ছোট ভাইয়ের স্ত্রী হয়ে উনি বড় ভাসুরের পরিবারকে বের হয়ে যেতে বলে! উনার এই আস্পর্ধা আপনার চোখে পড়ল না দাদা?”

সলিমুল্লা দিশেহারা হয়ে উঠলেন। নাতির কথার জালে আটকে গেলেন। প্রত্যুত্তরে কথা খুঁজে পেলেন না জবাব দেওয়ার মতো। শুধু ভাবছেন, জাবেদের কানে গেলে মারাত্মক কিছু ঘটে যাবে। মনিকে কীভাবে দমন করা যায় বুঝে উঠতে পারছেন না। তিনি জাহেদ ও রাবেয়ার সামনে গেলেন ত্রস্ত পায়ে। গলা খেঁকিয়ে ইচ্ছেমতো ঝাড়লেন তাদের দুজনকে।

জাহেদ অনুতপ্তের সুরে বলল,
“আমাদের কী দোষ বাবা? আমারা তাকে শিখিয়ে দিছি নাকি? এটা অন্যায় হয়েছে তৌসিফের। আমি তার হয়ে মার্জনা ভিক্ষা চাই বাবা। আর আপনি তো তাকে মারলেনই।”

রাবেয়া সিঁটিয়ে যাচ্ছে একেবারে। ভারাক্রান্ত মুখে নোয়ানো স্বরে বলল,
“বাবা,আমিও স্বীকার করি,তৌসিফের এইটা উচিত হয়নাই। আসলে মনির অমন অন্যায় আচরণে তৌসিফ আক্রোশে ফাইটা পড়ছে। নিজেরে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনাই।”

আকস্মিক ঘটনায় মনি থরথরিয়ে কাঁপছে। নিজের গলার এদিক ওদিকে হাত বুলাতে বুলাতে উগ্র স্বরে বলল,
“সবকিছু ভাগ হইয়া গ্যাছে। বাপের ঘর ছোট ছেলে পায়। তাইলে এই ঘর তো এখন আমাদের। আর কারো না। আমাদের ঘর থেইকা আমি বাইর হইতে কইলে দোষ হইব ক্যান? তুই মানুষ না। জালিম! কসাই! তোর চাচায় যদি তোর থেইকা এই বদলা না নেয়,আমি মনি তার ঘর করুম নাতো। মনে রাখিস তুই!”

“এটা আমাকে শুনিয়ে লাভ নেই মনি বেগম। আপনার স্বামীকে বলবেন।”
কণ্ঠে উপহাসের ঝাঁপি ঢেলে বলল তৌসিফ।

মনি জড়ানো পায়ে ঘরে চলে গেল। স্বামীকে ফোন দিয়ে ফোঁফানো স্বরে বিশদ জানাল। ওপাশ হতে জাবেদ বাঘের ন্যায় হুংকার ছাড়ল। মনি নিজেই আঁৎকে গেল মুঠোফোনের এপাশ হতে। পরক্ষণেই জাবেদের বজ্রকণ্ঠ স্তিমিত হয়ে এল অস্তমিত সূর্যের ন্যায়। সে স্ত্রীকে বরফ গলায় কিছু কথা বলল। মনি মনোযোগ দিয়ে শুনল সব। আর কেবল হুঁ হ্যাঁ করে সাংকেতিক ভাষায় স্বামীর কথায় সম্মতি পোষণ করলো।

মর্জিনা বদরাগী গলায় তৌসিফকে বলল,
“ঘরে গিয়া চাচির কাছে মাফ চা। নইলে বড় কেলেংকারী ঘইটা যাইব কইলাম।”
তৌসিফ দাদীর কথা সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করল। মা,বাবার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। বেলা ফুরিয়ে গেল। মিস্ত্রীরা কাজ শেষ করে চলে গেল।
তৌসিফকে তার মা,বাবা অনুরোধ করে বলল,
“বাবা,যত যাই হোক সে তোর চাচী। আরেকদিকে মেয়ে মানুষ। তার গায়ে হাত দেওয়া খুবই বিচ্ছিরি কাণ্ড হইছে। যা,ঘরে গিয়া মাফ চা। নইলে এইটার খেসারত আমাগো পরিবারের সবার উপর দিয়া যাইব তুফানের মতন।”

“গায়ে হাত দিলাম কোথায়। গলা টিপে ধরেছি একটা শিক্ষা দেওয়ার জন্য। যেন ভবিষ্যতে আর এমন কথা বেফাঁসভাবে না বের হয় তার এবং বাকিদের মুখ দিয়ে। কতবড় কথা বলেছে,দেখেছ? মা কাজ না করলে সেই ঘরে আর থাকা যাবে না আমাদের?কী অমানবিক নিষ্টুর কথাবার্তা!”

“তোর কথাও ফেলনার নয়। তুই অন্যভাবে কিছু করতে পারতি। এখন ঘরে যা। গিয়া মাফ চা ভুল হইয়া গ্যাছে বইলা।”
আকুতি করে বলল রাবেয়া।

“দেখি। আমি তো র * ক্তে মাংসে গড়া একজন মানুষ। উপস্থিত মাথা ঠিক রাখা সম্ভব হয়নাই। আমার স্থানে তার স্বামী হলেও সেইম কাজ করতো।”

নিকট মসজিদ হতে মাগরিবের আজান শোনা যাচ্ছে। সলিমুল্লা চলে গেলেন মসজিদে। তৌসিফ নলকূপ চেপে হাতে লেগে থাকা মাটি ধুয়ে নিল। ফোল্ড করা শার্টের হাতা মেলে দিল হাতের কবজি পর্যন্ত। নামাজ পড়তে সেও মসজিদে চলে গেল। বাকিরাও হাত মুখ ধুয়ে ঘরে চলে গেল। সিমা তার ছোট ছেলেকে নিয়ে নিজের রুমে চলে গেল। সাথী বাড়িতে নেই। চারদিন কলেজ বন্ধ পেয়ে নানার বাড়ি বেড়াতে চলে গেল। সিমা কুটিল হাসল গোপনে। সংঘাতের উদ্দেশ্য তারা। কথা উঠল তাদের ঘর করা নিয়ে। অথচ তার কোনো উচ্চবাচ্যই করতে হল না। এ দেখি ধরি মাছ না ছুঁই পানি। সে কেবল নিরব দর্শক হয়ে বোকা বোকা চোখে তামাশা দেখল ও শুনল।

মনি রুদ্র মেজাজে তার একমাত্র ছেলে অভ্রকে পড়াতে বসালো টেবিলে। মর্জিনা নিজেদের রুমে গেল। নামাজের ছোট চৌকিটায় জায়নামাজের উপর বসে রইলেন আদায় করে। একহাত দিয়ে তসবিহ গুনছেন অপর হাত বাড়িয়ে পানের বাটা নিজের দিকে টেনে নিলেন। আস্ত একটা পান মুখে পুরে দিলেন প্রয়োজনীয় উপাদান মিশিয়ে। আশু ঘটে যাওয়া ঘটনা উনার মনটাকে বড় ভীতসন্ত্রস্ত করে দিয়েছে। মাথার ভিতর শনশন শব্দ হচ্ছে যেন। মনে মনে বলছেন,
“জাবেদের কানে মনে হয় এতক্ষণে চইলা গ্যাছে কাহিনী। না জানি কী তুলকালাম কাণ্ড কইরা ফালায় ওই বাড়ি আইসা৷ করারও দরকার। ইতরটায় মায়ের মাঞ্জার ছুতায় নানান কীর্তি কইরা ফালাইছে এই কয়মাসে। এর শইললে দপাদপ কয়টা পড়ন দরকার ভাদ্র মাসের তালের মতন। তবেই না এর টগবগ করা র * ক্ত পানি হইব।”

একই মসজিদে একই কাতারে সারিবদ্ধ হয়ে দাদা নাতি নামাজ পড়ল। কিন্তু কেউ কারো সাথে কথা বলল না। ফিরেও তাকাল না। দাদার চড়ের জন্য তৌসিফের অন্তরে ততটা ক্ষোভ নেই। তিনি মুরুব্বি। তার চোখে ভুল মনে হলে নাতির গায়ে হাত তুলতেই পারেন। তার যত অসহিষ্ণুতা,সবই মনির উপরে। এখনো তার হাত নিশপিশ করছে। সে যদি মনিকে গলাটিপে মেরে ফেলতো পারতো,তবেই তার মনে স্বস্তি মিলতো। তৌসিফ বাড়ির বাইরে থেকেই ছোট ভাই তানভিরকে ফোন দিল। ঘরে গেলে ফোনে কথা বলা যাবে না ভালো করে। সে দিনের আলোয় ঘটে যাওয়া সব অঘটন জানাল।

শুনে তানভির উৎকন্ঠাজনিত কণ্ঠে বলল,
“ভ্রাতা,তুমি আর বিলম্ব করিও না। বিদ্যমান পরিস্থিতি সুবিধার ঠেকছে না। মনি বেগম এখন ফনিমনসা সর্প হইয়া আছে৷ তার বদলে জাবেদ মিয়া তোমারে দংশন করিতে দুইবার ভাবিবে না। আগামীকালই গৃহ ত্যাগ করো। তোমার গন্তব্য ও কার্যস্থলে চলিয়া যাও। আমি বিদ্যালয় হইতে ছুটি নিয়া দুই দিনের জন্য আসিব। মাতা পিতার সাহচর্যে থাকিব।”

তৌসিফ বলল,
“ঘরের কাজ মিস্ত্রীদের বুঝিয়ে চলে যাব। আমার এমনিতেই এক সপ্তাহ শেষ হবে আগামীকাল। কাল কাজ আছে। পরশু যাবো। তুই পারলে চলে আসিস দ্রুত।”

তৌসিফ বাড়ি গিয়ে মা বাবার রুমে গেল। জাহেদ মেঘমুখে শুয়ে আছে। রাবেয়াও বিষাদগ্রস্ত মুখে স্বামীর পাশে বসে আছে। তৌসিফ পলকহীন চোখে মা,বাবার অভিব্যক্তি অনুধাবন করলো। বেতের পুরোনো মোড়াটা টেনে বসল। হাতে থাকা নাস্তার প্যাকেটটা মায়ের হাতে দিল। চাপা স্বরে বলল,
” গরম গরম ডাল পুরি ও মুচমুচে পেঁয়াজু। মাত্রই কড়াই থেকে নামাল তারা। বাবাকে দাও। তুমিও খাও। আমি বাজার থেকে খেয়ে আসছি।”

জাহেদের ক্ষুধা লেগেছে বেশ। রাবেয়ারও পেটটা চনমনিয়ে উঠল। তারা বিরস মুখে খেয়ে নিল খেতে হবে বলে। অন্যদিন সন্ধ্যায় কিছু না কিছু নাস্তার ব্যবস্থা হয়। আজ সবার এক বিকেল কেটেছে হাঙ্গামা করেই। জাহেদ ও রাবেয়া বেজায় মনঃক্ষুন্ন ছেলের উপরে।

তৌসিফ আস্তে করে মা,বাবাকে বলল,
“এই ঘরে এই রাতই আমাদের জীবনের শেষ রাত। ভোর হলেই আমরা বেরিয়ে যাব। মিস্ত্রীরা সকালে এলে কিছু টিন ও বাঁশ দিয়ে আমাদেরকে বড় একটি রুম করে দিতে বলব নতুন ঘরের পাশে। সেখানে এই খাটটা সেট করে নিব। আর আমাদের সবকিছু উপর নিচে করে রাখতে পারব। মাটিতে বড় প্লাস্টিক বিছিয়ে নিলে আরো সুবিধা হবে৷ ঘর কমপ্লিট হওয়া পর্যন্ত আমরা সেই এক রুমের ঘরেই থাকব। মা,একটি মাটির চুলা বানিয়ে নিও আস্তে ধীরে। বড় ঘর হয়ে গেলে এগুলো রান্নাঘরের কাজে লেগে যাবে। এত বড় কথা বলার পরেও এই ঘরে পড়ে থাকা বেহায়ামি ছাড়া কিচ্ছু নয়। আমাদের আত্মসম্মান আছে। নাকি বল তোমরা?”

“তোর কথাই আমার কথা। আমারও মন উঠে গেছে। আমার বাপে ছোট ছেলের বউর লাগামহীন বেপরোয়া কথার প্রতিবাদ করল না। কিন্তু ঠিকই তোর গায়ে হাত তুলল। একই কাজ তো তিনি মনির ক্ষেত্রেও করতে পারতো। শ্বশুর হলো পিতার মতো। অপরাধ দেখলে এভাবে শাসন করতেই পারে। তাই আর একদণ্ডও থাকতে চাই না এই ভিটায়। তোর মায়েরও আর সবার জন্য চ্যাপ্টা হয়ে এতো এতো রুটি,কাপে কাপে চা বানাতে হবে না।”

“এই বিষয়টা আপনি আরো দশ বছর আগে বুঝলে মায়ের কোমর,মেরুদণ্ড আরো হৃষ্টপুষ্ট থাকতো। শারীরিক সৌন্দর্যেরও এতো ঘাটতি হতো না।”

প্রগাঢ় অভিমান মুখ গোঁজ করে বলল তৌসিফ। রাবেয়া বলল,
“আইচ্ছা অন্য জায়গায় না কইরা যেইখানে আমাগো পাকেরঘর হইব,সেখানেই করলেই ত হয়। এক ঢিলে দুই পাখি মারা হইব।”

“তোমার মাথায় আসলেই গোবর। পাক ঘর কীভাবে করবে। কাঁঠল গাছটা কেটে সরাতে হবে না? মাটির গভীর থেকে শেকড় তুলতেও বেশ সময় লাগবে। পাকের ঘর যেভাবে মজবুত করে করা হবে,সেভাবে করতে গেলে সময় লাগবে। আমরা কাল রাত কই থাকব? তাই কাল বড় ঘরের কাজ বাদ দিয়ে আলাদা করে কোনভাবে একটা রুম করে দিলেই হবে।”

“ওহ! এবার বুঝলাম। মাথায় আসেনাই।”
ধীর গলায় বলল রাবেয়া।

রাতের খাবার সেরে সবাই ঘুমিয়ে গেল। পরেরদিন ভোরেই তারা তিনজন ঘুম থেকে জেগে গেল। মা,ছেলে মিলে তাদের সব আসবাবপত্র বের করা শুরু করলো। জাহেদও হাত লাগাল স্ত্রী, ছেলের সাথে। তাদেরকে থামাতে আপ্রাণ চেষ্টা করলো সলিমুল্লা ও মর্জিনা। তারা সেদিকে ভ্রুক্ষেপও করল না। নিজেদের মতো করে সব বের করে উঠানে জড়ো করলো। রাবেয়ার বোবা অশ্রুপাতে ভেসে যাচ্ছে। কত সুখ,দুঃখ,আনন্দ- বেদনার সঙ্গী এই ঘর। এই শয্যা! বউ হয়ে এসেছে এই ঘরটাতেই। অথচ আজ তাদের সেই ঘর ছেড়ে দিতে হচ্ছে। দিতে হচ্ছে ঘরের সমস্ত অধিকারটুকুও।

মিস্ত্রিরা চলে এল নিদিষ্ট সময়ে। তৌসিফ তাদের নির্দেশ দিয়ে বলল,
“এই ঘরের কাজ বন্ধ। আলাদা করে বড় এক রুম করে দেন এইখানটায়। আজকের ভিতরে পারবেন না?”

” কি কন ভাই? এইটা তো আমাগো কয়েক ঘন্টার খেলা মাত্র।”

তারা ছয়জন মিস্ত্রি মিলে এক রুমের ঘর তৈরিতে হাত দিল। কেউ বাঁশ পোঁতার জন্য মাটিতে গর্ত করছে শাবল দিয়ে। কেউ করাত দিয়ে বাঁশ কেটে নিচ্ছে মাফ অনুযায়ী।

তৌসিফ বলল,
“মা, তাদের নাস্তা তারা বানাক। আমাদের জন্য আমি নাস্তা নিয়ে আসছি।”
সে বাজারে গিয়ে পরোটা, ডাল ভাজি নিয়ে এল। রাবেয়া উঠানের একপাশের বরইগাছ তলায় একটি বেতের পাটি বিছিয়ে নিল। এটা তার হাতে বোনা পাটি। মা,ভাবা,ছেলে মিলে নাস্তা খেয়ে নিল। নলকূপ থেকে এলুমিনিয়ামের পানির পানির জগটা ভরে নিল তৌসিফ। মনি বোরকা পরে বাড়ির বাইরে গেল। সবাই ধরে নিল হয়তো মার্কেটে যাচ্ছে কোন প্রয়োজনে।

ঘড়ির কাঁটা ঘুরে এগারোটায় চলে গেল। হেমন্তের মিঠে রোদে ভরে গিয়েছে আঙিনার চারপাশ। জাহেদ গাছের ছায়ার মাঝে একটি চেয়ারে বসে আছে। রাবেয়া দু’হাত লাগিয়ে কাজ করছে জিনিসপত্র বের করার। তৌসিফকে পরেরদিন সকালে ঢাকায় যেতেই হবে। তাই সেও মিস্ত্রীদের সাথে মাটির কাজে হাত দিয়েছে৷

তখনই সবাইকে অদ্ভুতভাবে চমকে দিয়ে তিনজনে পুলিশের আগমন ঘটল বাড়ির আঙিনায়। সলিমুল্লা বের হয়ে এলেন ঘর থেকে।
উনাকে দেখেই একজন পুলিশ রাশভারী কণ্ঠে বলল,
“তৌসিফ কে? ডাক দেন। নারী নির্যাতন ও মানহানি মামলায় তাকে এরেস্ট করতে এসেছি আমরা।”

চলবে..১৭

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply