Golpo কষ্টের গল্প পরগাছা

পরগাছা পর্ব ৬


পরগাছা |৬|

ইসরাত_তন্বী

(অনুমতি বিহীন কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ)

দিনের প্রথম প্রহর। প্রকৃতিতে এখনো আঁধার বিরাজমান। পক্ষী কুলের গুঞ্জনে হঠাৎ আরুষের ঘুম ভেঙে গেল। আস্তে ধীরে আঁখি জোড়া মেলে তাকাল। পাশেই গভীর নিদ্রায় মশগুল চন্দ্রা। দুজনের মাঝে দুরত্ব কম। মেয়েটা নিজের কাঁথা পাশে ফেলে আরুষের কাঁথার মধ্যে শুয়ে আছে। আরুষের অধরপল্লব দুপাশে প্রসারিত হলো। হাসল ক্ষীণ। গতরাত তিনটা অবধি ব্যবসা সংক্রান্ত হিসেব করে ক্লান্ত থাকায় সোফায় শোয়া হয়নি। কোনোরকমে বিছানায় শরীর ছোঁয়াতেই ঘুম ধরা দিয়েছিল।

চন্দ্রার ফর্সা তুলতুলে ঘুমন্ত মুখটা দেখতে বাচ্চাদের মতো লাগছে। বদনে অদ্ভুত এক মায়া স্পষ্ট। আরুষ আলগোছে পাশ ফিরল। ডান হাতটা উঠিয়ে চন্দ্রার কপাল সহ গালের একাংশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চুলগুলো যত্নের সাথে সরিয়ে দিল। একদৃষ্টে কিছুক্ষণ চন্দ্রার স্নিগ্ধ আননে চেয়ে রইল। হাতটা পুনরায় উঠিয়ে গাল স্পর্শ করতে নিলেই মানসপটে ভাসল গুঞ্জরিকার নিষ্পাপ মুখটা। পরপরই স্মরণ হলো গুঞ্জরিকার বলা একটা কথা,

“পুরুষ মানুষ সৌন্দর্যের পাগল আর মেয়ে মানুষ ভালোবাসার কাঙাল শেখ বাবু।”

গুঞ্জরিকার বলা সেদিনের কথাতে আরুষ উচ্চ শব্দে শরীর দুলিয়ে হেসেছিল। বুক ফুলিয়ে বলেছিল, পুরুষেরা তাদের শখের নারী ব্যতীত আর কারোর দিকে চোখ তুলেও তাকায় না। অর্ধাঙ্গিনী ব্যতীত সকল নারী তাদের কাছে নিষিদ্ধ, পাপ থাকে। শেষ পর্যন্ত নিজের বলা কথাতে গুঞ্জরিকা নিজেই লজ্জা পেয়েছিল। অথচ আজ কথাটা আরুষ নিজেই একপ্রকার সত্য প্রমাণিত করল। ছিটকে চন্দ্রার থেকে দূরে সরে এল। পালঙ্ক জুড়ে ঝাঁকুনি খেলে গেল। আরুষ বিছানা থেকে দ্রুত নেমে দাঁড়াল। ওভাবেই বড়ো বড়ো পা ফেলে বারান্দার দিকে অগ্রসর হলো। চন্দ্রার ঘুম ভেঙেছে ততক্ষণে। কিন্তু হঠাৎ কী হলো মস্তিষ্ক ঠিক ঠাহর করতে পারল না। ভ্রু কুঁচকে ঘুম ঘুম চোখে বারান্দার দিকে তাকিয়ে রইল।
.

কমলিকা পুকুর থেকে পানি এনে রাতের এঁটো বাসন পরিষ্কার করছে বাড়ির উঠানে। শাহরিয়ার পাশেই দাঁড়িয়ে দাঁত মাজছে। দুজনই সদ্য স্নানিত। কুঁড়ে ঘরে তাদের অভাবের সাথে আছে অফুরন্ত ভালোবাসা। কমলিকার মুখে লেপ্টে আছে লাজুক হাসি। শাহরিয়ার আড়চোখে ক্ষণে ক্ষণে দেখছে মেয়েটাকে। এত লজ্জা কোথায় থেকে পায় এই মেয়ে? এই পর্যায়ে নিঃশব্দে কমলিকার পাশ থেকে একটা মগে পানি উঠিয়ে নিল শাহরিয়ার। হাত মুখ ধুয়ে মগটা যথাস্থানে রাখল। কমলিকার আঁচল ধরতেই মেয়েটা আঁতকে উঠল, “এখানে আঁচল ধরছেন কেন? ছাড়ুন দয়া করে। মানুষ দেখলে নিন্দে করবে।”

শাহরিয়ার এর কপালে ভাঁজের সৃষ্টি হলো। কপালে গুটিকয়েক ভাঁজের সৃষ্টি হলো, “বউ আমার, শাড়ির আঁচল আমার বউয়ের তাহলে অন্যের কথা নিয়ে মাথাব্যথা কেন করব?”

কমলিকা হতাশ হলো। কথায় কথা বাড়ে। তার থেকে মানুষটা যেটা করতে চাইছে সেটা করে সরে যাক। কমলিকা আর কিছু বলল না। নিজের কাজে মনোযোগী হলো। শাহরিয়ার শাড়ির আঁচল দিয়ে হাত মুখ মুছে ওটা ছেড়ে দিল। কিছু একটা মনে পড়তেই জিজ্ঞাসা করল, “শেখ বাড়িতে কি গিয়েছিলে তুমি? ভাবীর সাথে কথা হয়েছিল? এত বড়ো শোক কীভাবে কাটাচ্ছেন?”

কমলিকার কাজে ব্যস্ত হাতটা থেমে গেল। ঘাড় ঘুরিয়ে পাশে দেখল। কণ্ঠস্বর ম্লান শোনাল, “গিয়েছিলাম, ভাবী উপরে সবসময়ের মতোই ফিটফাট। কিন্তু মনের অবস্থা ভালো না। আফসোস ওই বাড়িতে একটা মানুষ নেই ভাবীর অসুস্থ মনের যত্ন নেওয়ার জন্য।”

শাহরিয়ার শুনল তবে তৎক্ষণাৎ প্রত্যুত্তর করল না। চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। আরুষকে তো সেই ছোট্ট থেকে চেনে। এত নিকৃষ্ট কাজ স্বেচ্ছায় কখনো করার ছেলে সে না। তবুও করেছে। কিন্তু কেন করল? এটাই সবচেয়ে বড়ো প্রশ্ন। কমলিকা তখনও শাহরিয়ার এর দিকেই তাকিয়ে আছে। হয়ত মন শান্ত হওয়ার মতো কিছু বাক্য শুনতে মুখিয়ে আছে। শাহরিয়ার বুঝল। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “আরুষকে আমি চিনি। ও খারাপ ছেলে নয় কমলিকা। কোথাও কোনো ঘাপলা হয়ত আছে।”

কমলিকা মাথা নেড়ে মেনে নিল প্রাণপ্রিয় স্বামীর কথা। শাহরিয়ার ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। বাজারে যেতে হবে। কমলিকা নিজের কাজে মনোনিবেশ করল। হাতের কাজ শেষ করে চুলোয় রান্না বসাতে হবে। অসুস্থ শাশুড়ি নিজের ঘরে আছেন। তাকেও একটাবার দেখতে যেতে হবে।
.

বসার ঘরে সকালের নাস্তার আয়োজন করা হয়েছে। আরুষ, আসমান শেখ এবং গুঞ্জরিকা ব্যতীত সকলেই উপস্থিত আছে। আয়েশা শেখ , রোকেয়া শেখ এবং সালেহা শেখ পাশাপাশি বসে আছেন। আর মেয়েগুলো অন্যপাশে বসে তাদের নিজেদের মতো গল্পে মজেছে।

আয়েশা শেখ একটা বিস্কুট তুলে এক কামড় খেলেন। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে রোকেয়া শেখের দিকে তাকালেন। শুধালেন, “দাদু ভাইরে ক্যামনে বশ করলে বউমা? মুই তো ভাইবাছিলাম তুমি পারবা না।”

রোকেয়া শেখ চানাচুর চিবোনো অবস্থায় ওষ্ঠজোড়া বাঁকিয়ে হাসলেন, “জায়গা মতো কোপ দিতে খুব পারদর্শী আমি। আমি ছোট থাকতে আব্বা বলত রোকেয়া তোর তীক্ষ্ণ বুদ্ধি বড়োদের ও হার মানিয়ে দেয়।”

শাশুড়ি-বউমার কথার মাঝে ফোড়ন কাটল সালেহা শেখ। মুখে পান তুলে চিবিয়ে বললেন, “হাতে মারব না ভাতে মারব তাই তো ভাবী?”

রোকেয়া শেখের মুখের হাসি প্রসারিত হলো, “একদম তাই। যাকে আমার ভালো লাগে না তার কোনো কিছুই ভালো লাগে না, সে যতই গুণী হোক না কেন। ওই জঞ্জাল মেয়েটাও ঠিক তাই। এই বাড়ির ত্রিসীমানার বাইরে পাঠানো না অবধি আমার শান্তি নেই।”
পরপরই আড্ডায় মশগুল চন্দ্রার হাসি মুখের দিকে তাকালেন, “ঘরের লক্ষী এনেছি আমি। কাঁটা দিয়েই কাঁটা তুলতে হয়।”

“ভাবী, যদি আপনার ঘরের লক্ষী ও বন্ধ্যা হয় তখন কী করবেন?”

অকপটে প্রশ্নটা করলেন সালেহা শেখ। তার মুখে কোনো কথা আটকায় না। কথাগুলো কর্ণগোচর হতেই রোকেয়া শেখ থমকে গেলেন। এভাবে তো কখনোই ভাবেননি। বন্ধ্যা তো কেউই ছিল না। মুখ ফুটে কিছু বলতে নিবে তক্ষুনি শোনা গেল গুরুগম্ভীর পুরুষালী গলার আওয়াজ,

“গুঞ্জ কোথায় অদিতি? সবাই এখানে অথচ ও নেই কেন?”

কণ্ঠস্বর লক্ষ্য করে সবাই সেদিকে চাইল। চৌকাঠের সম্মুখে আরুষ দাঁড়িয়ে আছে। অদিতি দ্রুত জবাব দিল, “ভাইজান ভাবীজানের কক্ষে গিয়েছিলাম। আজ নাকি তার শরীরটা ভালো লাগছে না তাই নিচে নামেনি এখনো। শুয়ে আছে কক্ষেই।”

আরুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ দৃশ্যমান হলো। আড়চোখে দেখল বাড়ির বড়োদের। অধিকতর রাশভারী কণ্ঠস্বর ভাসমান হলো কক্ষজুড়ে,

“মানুষের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অন্যতম একটা বৈশিষ্ট্য মনুষ্যত্ব। আশাকরি সেটা আপনারা খুইয়ে বসবেন না।”

মুখের কথাতে সমাপ্তি টেনে হনহনিয়ে ওখান থেকে প্রস্থান করল আরুষ। প্রত্যেকে হতবাক হয়ে ওর চলে যাওয়াটা দেখল। আরুষ কথাটা কোনদিক থেকে বলেছে বিচক্ষণ মস্তিষ্কের সকলে বুঝল। এতকিছুর পরেও ওই মেয়ের নাম ছেলেটা কেন জপে সবসময়? আরুষের মুখে গুঞ্জরিকার নাম শুনতেই চন্দ্রার মনটা তিক্ততায় ছেয়ে গেছে। মুখটা কালো করে বসে আছে। গতকাল থেকে কেমন হিংসা হচ্ছে গুঞ্জরিকাকে। বারবার দাদীর বলা কথাগুলো স্মরণ হচ্ছে। এখানে এসে নিজের সব অধিকার পেলেও, সবচেয়ে বড়ো অধিকার, স্বামীর অধিকারটাই পাচ্ছে না। এর কারণ কেবল গুঞ্জরিকা। কিন্তু প্রাণপ্রিয় সখীকে তো কখনোই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবেনি চন্দ্রা। ভাগ্য এই কোথায় এনে দাঁড় করিয়ে দিল? এতটা নিম্ন মন মানসিকতা কীভাবে দেখাবে নিজের সখীকে? অথচ স্বামীর অধিকার তো ওর ও চায়।

আরুষের চোখে প্রস্ফুটিত গুঞ্জরিকার জন্য যত্ন, ভালোবাসা আর দেখতে পারছে না চন্দ্রা। ওকে ভেতর থেকে ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে। এই কয়দিনেই তো হাঁপিয়ে গেল। বাকি জীবন তো এখনও পড়ে আছে। কীভাবে কী করবে? এই দীর্ঘ পথ কীভাবে পাড়ি দিবে? তবে কি লোভ সব শেষ করে দিল? চন্দ্রা আলগোছে আখিজোড়া বুজে নিল। মানসপটে ভাসল অতিব সাধারণ নিষ্পাপ একটা মুখ। যাকে ও এই ছোট্ট জীবনে সবচেয়ে বাজেভাবে ঠকিয়েছে। কানে বাজল পুরুষালী সুমিষ্ট কণ্ঠে আওড়ানো একটা শব্দ, “আমার চন্দ্রাবতী।”
.

গুঞ্জরিকা নিজ কক্ষে অবস্থান করছে। পালঙ্কের একপাশে জড়ো সড়ো হয়ে শুয়ে আছে। শরীরের উপরে কাথা মেলে দেওয়া। মেয়েদের প্রাকৃতিক সমস্যাটাই হয়েছে। আজ সকাল থেকে পেটের যন্ত্রণায় নিজকে বিছানা বন্দি করে রেখেছে। অথচ একটা মানুষ নেই যে একটু সঙ্গ দিবে। অসহনীয় যন্ত্রণা সহ শরীরের বিষ ব্যথায় জ্বর আসার উপক্রম। গুঞ্জরিকার বন্ধ নেত্রপল্লব ঘেঁষে পানি গড়িয়ে পড়ল। মানসপটে ভাসল সুখকর অতীত।

গুঞ্জরিকার বিয়ের তখন চারমাস। রজঃচক্রের মাত্রাতিরিক্ত যন্ত্রণায় ছটফট করছে মেয়েটা। তবুও লজ্জায় কাউকে কিছু বলার সাহস পাচ্ছে না। বিয়ের ওতগুলো দিনেও কারোর সাথে আহামরি সখ্যতা গড়ে ওঠেনি গুঞ্জরিকার। কারণ একটাই ও গরীব ঘরের কন্যা। তবে স্বামী নামক মানুষটাকে বড়ো ভাগ্য করে পেয়েছিল। তখন এটাই ভাবত গুঞ্জরিকা।

গুঞ্জরিকা ওই যন্ত্রণাকে সঙ্গী করেই রান্না সহ বাড়ির সকল কাজ করেছিল। আরুষ ছিল ব্যবসায়িক কাজে নগরে। ওইদিন সন্ধ্যা নাগাদ বাসায় ফেরার কথা ছিল। চিঠিতে সেটাই জানিয়েছিল। নিজের প্রতি অবহেলায় বিকাল নাগাদ কঠিন জ্বরের তোপে পড়ল মেয়েটা। তবুও রক্ষা পেল না পরিবারের সদস্যদের কটুক্তি থেকে। দাঁতে দাঁত চেপে সব সয়ে নিল। বিপরীতে একটা শব্দ উচ্চারণের দুঃসাহস দেখাল না। কেবল দরজায় খিল লাগিয়ে বিছানায় মরার মতো পড়ে রইল।

আরুষের ফিরতে রাত হয়েছিল। ফিরেই গুঞ্জরিকাকে ওই অবস্থায় দেখে সেই কী এলাহি কাণ্ড বাঁধিয়ে ছিল। এক কাপড়েই কবিরাজের কাছে ছুটেছিল। না খেয়ে সারাটা রাত গুঞ্জরিকার সেবা করেছিল। মেয়েটাকে বুকে আঁকড়ে বাচ্চাদের মতো চোখের পানি ফেলেছিল। তার কাছে সম্পূর্ণ পৃথিবীর বিপরীতে ছিল গুঞ্জরিকা। ছেলেটাকে সত্য বলার সাহস হয়নি গুঞ্জরিকার। ইনিয়ে বিনিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছিল। ওই মানুষটার ছায়ায় বেঁচে থাকার স্বপ্ন বুনেছিল তাই তো কখনো এই নরক থেকে মুক্তির কথা কল্পনাতেও আনেনি। অথচ আজ সব স্বপ্ন কাঁটার ন্যায় বুক বিঁধছে। মানুষ ভালোবাসার কাঙাল হলে বুঝি এভাবেই প্রিয়জনের আঘাতে ধুঁকে ধুঁকে ম র তে হয়?

আকাশ কুসুম ভাবনার মাঝেই দরজা খোলার শব্দে নেত্র যুগল মেলে পিটপিট তাকাল গুঞ্জরিকা। চোখের পর্দায় পরিচিত একটা মুখ ভাসল। দুয়ারের ওপাশে আরুষ দাঁড়িয়ে আছে। গুঞ্জরিকার রক্তাভ ফুলো নিদ্রাহীন আঁখি জোড়া দেখতেই আরুষের বুকটা যাতনায় পিষ্ট হলো‌। অথচ অবাক হলো পরিপাটি গুঞ্জরিকাকে দেখে। বাসন্তী রঙের সুন্দর একটা শাড়ির আঁচল পালঙ্ক থেকে ঝুলে মেঝেতে ছড়িয়ে আছে। গুঞ্জরিকা হেসে জিজ্ঞাসা করল, “হঠাৎ এইখানে যে শেখ বাবু?”

“কেন আসতে পারি না?” গম্ভীর অথচ শান্ত গলার স্বর আরুষের।

“না, অন্তত আমার অনুমতি ব্যতীত নয়।”

আরুষের ঠোঁট দুটো কিঞ্চিৎ প্রসারিত হলো। মুচকি হাসল,

“”গুঞ্জরিকারা ভেতর থেকে ভেঙে চুরমার হয়ে যেয়েও নিজেদের সাজিয়ে গুছিয়ে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার ক্ষমতা রাখে।”

গুঞ্জরিকা ততক্ষণে উঠে বসেছে। আরুষের মুখনিঃসৃত এমন কথাতে অসুস্থ শরীর নিয়েই মৃদু শব্দে হেসে ফেলল,

“আমি আঘাতপ্রাপ্ত, অগ্নিদগ্ধ হয়ে ছাই হয়ে যাওয়া নারী, নিজের ধ্বংসের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও আপনার মতো কাপুরুষকে ধ্বংস করতে পারি।”

‘কাপুরুষ’ শব্দটা আরুষের বড্ড আত্মসম্মানে লাগল। উঁচু কণ্ঠে একপ্রকার ধমকে উঠল,

“মুখ সামলিয়ে গুঞ্জ। নরম আছি বলে মাথায় চড়ে বসো না।”

গুঞ্জরিকা ভড়কাল না। কেবল ওষ্ঠজোড়ায় উঁকি দিল তাচ্ছিল্যের হাসি। নিষ্প্রভ, নরম কণ্ঠে বলল,

“এই যে আপনি আর আমার নেই, এই শোক সমুদ্রের গভীরতার মতোই বিশাল শেখ বাবু।”

কথাটা থমকে দিল আরুষের হৃৎস্পন্দন। অবিশ্বাস্য নেত্রে চেয়ে রইল অদূরের ক্লান্ত আননে। জীবনে এই প্রথম বারের মতো ভাগ্যের কাছে, পরিস্থিতির কাছে নিজেকে বড্ড অসহায় অনুভব করল আরুষ। নিজের ভালোবাসা থেকে এতটা দুরত্ব তো কখনো চায়নি।

চলবে

(ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। প্রিয় পাঠক আপনাদের সকলের গঠনমূলক মন্তব্য ও রেসপন্সের আশা রাখি।)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply