নিজের একমাত্র সখীকে, প্রাণপ্রিয় স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে হাসিমুখে বরণ করছে গুঞ্জরিকা। হাতে রঙিন ফুলে পরিপূর্ণ ডালা। আলতো করে ফুলগুলো দুজনের গায়ে ছুঁড়ে দিল গুঞ্জরিকা। একটা ফুল সযত্নে আটকে রইল শুভ্র রঙা পাঞ্জাবীর বুকপকেটে। সম্মুখে বউ বেশে দাঁড়িয়ে থাকা যুবতীর মুখ থেকে যেন হাসি সরছে না। আজ সে যে ভীষণ রকমের খুশি সেটা তার হাস্যোজ্জ্বল আননেই স্পষ্ট। গুঞ্জরিকার ঠোঁটের কোণে লেপ্টে আছে ক্ষীণ হাসি। স্থির দৃষ্টি নিবিষ্ট প্রিয়-অপ্রিয় স্বামীর বুকপকেটে। এই পর্যায়ে চোখ সরিয়ে তাকাল সখী চন্দ্রার দিকে। মানুষ যখন খুব কাঙ্ক্ষিত কিছু পেয়ে যায় তখন এভাবেই হেসে অপরপক্ষকে জানিয়ে থাকে। হাহ্!
গুঞ্জরিকার পাশেই দাঁড়িয়ে আছেন বাড়ির কর্তী রোকেয়া শেখ। সম্পর্কে গুঞ্জরিকার শাশুড়ি আম্মা। উনি দুই পা এগিয়ে যেয়ে চন্দ্রার মুখোমুখি দাঁড়ালেন। কপালে চুমু এঁকে দিলেন। প্রাণোচ্ছল কণ্ঠে বললেন,
“আমার ঘর আলোকিত করতে লক্ষ্মী এসেছে। এইবার এই বাড়ি পরিপূর্ণ করে সুখ এনে দিবে চন্দ্রা মা। সবার কি আর সেই সাধ্য আছে নাকি?”
কথাগুলো বলার সময় আড়চোখে একঝলক গুঞ্জরিকার দিকে তাকালেন। আকারে ইঙ্গিতে কিছু বোঝাতে চাইলেন। এতে গুঞ্জরিকার মুখের হাসি বাড়ল বই কমল না। অবাঞ্চিত প্রশংসায় চন্দ্রা খুশিতে গদগদ হয়ে উঠল। লজ্জায় মুখ নামিয়ে নিল।
এই সবকিছুতে তীব্র বিরক্ত চন্দ্রার পাশে বরবেশে দাঁড়িয়ে থাকা বত্রিশ বছরের প্রাপ্তবয়স্ক যুবক। শরীরে তার পাঞ্জাবী এবং লুঙ্গি জড়ানো। পাঞ্জাবীর উপরে একটা শুভ্র রঙা শাল জড়িয়ে রেখেছে। কপালে তার নিগূঢ় ভাঁজের সৃষ্টি হয়েছে। আঁখি জোড়া সরু হয়ে এসেছে। এইসব অহেতুক কথাবার্তায় তিতিবিরক্ত সে। রোকেয়া শেখ ছেলের দিকে তাকাতেই বোধহয় সবটা বুঝতে পারলেন। ঘাড় ঘুরিয়ে পাশে দেখলেন। গুঞ্জরিকার উদ্দেশ্যে আদেশ ছুঁড়লেন, “বড়ো বৌ দেখো তো বাসর ঘর সাজানো কতদূর হলো?”
গুঞ্জরিকা বাধ্যর মতো মাথা নাড়ল। প্রস্থানের উদ্দেশে পা বাড়াল। ঠিক তার আগ মুহূর্তে আড়দৃষ্টি মিলল অদূরে দাঁড়ানো স্বামী নামের মানুষটার দৃষ্টিতে। নারী বদনে তাচ্ছিল্যের হাসির দেখা মিলল। দ্রুত পায়ে দোতলার সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল।
.
দোতলা বিশিষ্ট পুরোনো রাজকীয় বাড়িটার দক্ষিণ পাশের শেষ কক্ষটা আরুষ শেখ এর। গুঞ্জরিকা গুটি গুটি পায়ে সেদিকেই অগ্রসর হচ্ছে। যত সামনে এগোচ্ছে ততই বুকের মধ্যিখানে সুক্ষ্ম চিনচিনে একটা ব্যথা জোরাল হচ্ছে। মেয়েটা অবশ্য সেদিকে বেশি পাত্তা দিল না। ভাগ্যকে যখন মেনে নিয়েছে তখন বাহ্যিক আর কোনো যন্ত্রনা ওকে ব্যথা দিতে পারবে না।
কাঠের তৈরি বড়ো চৌকাঠের সম্মুখে এসেই থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল গুঞ্জরিকা। কাঁচা ফুলের সুগন্ধে চারপাশ ম ম করছে। নাসারন্ধ্রে ঝড় তুলেছে তারা।গুঞ্জরিকাকে দিব্যি বুঝিয়ে চলেছে এই কক্ষ আর তোর নেই গুঞ্জন। কক্ষ আজ নতুনভাবে সেজেছে নবদম্পতির আগমনে। তুই ফিরে যা। নয়নজোড়া বুজে বুক ভরে শ্বাস নিল মেয়েটা। সবটুকু ঘ্রাণ বুকের মাঝে বন্দী করল। শুনল না বাতাসে ভেসে চলা ওদের কান ভাঙানো কথাগুলো। মুচকি হেসে কক্ষের মধ্যে পা রাখল।
গুঞ্জরিকাকে দেখতেই কক্ষের ভেতরে অবস্থান করা চারজন কিশোরী উঠে দাঁড়াল। মাথা নুইয়ে সম্মান জানাল। গুঞ্জরিকা সেইসব দেখল না। দৃষ্টি ভাসমান হলো ঘরজুড়ে। কী সুন্দর কাঁচা ফুলের সমাহারে সজ্জিত কক্ষখানা। অকস্মাৎ নজর থমকাল পালঙ্কের দিকে। সফেদ রঙা বিছানায় গোলাপের পাপড়ি দিয়ে লেখা ‘আরুষ এবং চন্দ্রা’ নামদুটো দৃশ্যমান। বড্ড মিলেছে। গুঞ্জরিকা দ্রুত চোখ ফিরিয়ে নিল। বাতায়নের দিকে চাইল। ধরিত্রীর আলো ফিকে হয়ে আসছে। মাগরিবের আজানের সময় হয়ে এসেছে। আর দেরি করল না।
গুঞ্জরিকা নিজেকে সামলিয়ে নিল। সামনে তাকিয়ে মেয়েগুলোকে প্রশ্ন করল, “ঘর সাজানো শেষ তোমাদের?”
তন্মধ্যে একজন চোখ নামিয়েই জবাব দিল, “জি, বড়ো বেগম।”
“আচ্ছা তাহলে এসো তোমরা।”
ওরা চারজন মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। নিজেদের সরঞ্জাম গুলো নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। গুঞ্জরিকা পালঙ্কের হাতল আশ্রয় করে দাঁড়াল। নেত্রজোড়া বুজে নিল। অমনিই গাল বেয়ে বারিধারা নামল। গুঞ্জরিকা পারল না আর নিজেকে দমিয়ে রাখতে। বুকটা ভীষণ জ্বলছে। অদৃশ্য এক বিষব্যথা মাংসের তৈরি হৃদয়টা ক্ষতবিক্ষত করে দিচ্ছে। অথচ অধরযুগলে স্পষ্ট অবজ্ঞার হাসি।
“বিয়েটা আমি তোমার অনুমতিতেই করেছি গুঞ্জন।”
গুঞ্জরিকার শ্রবণেন্দ্রিয়ে প্রবেশ করল পিছন থেকে ভেসে আসা পুরুষালী গুরুগম্ভীর কণ্ঠস্বর। ভীষণ পরিচিত এই গলার স্বর। চিনতে একটুও বিলম্ব হলো না মেয়েটার। ব্যস্ত হাতে চোখ দুটো মুছে নিল। মাথায় তুলে রাখা ঘোমটা টা ঠিকঠাকভাবে টেনে নিল। পিছু ফিরল। অদূরের অদ্ভুত মণির দুটো চোখে চোখ রেখেই মুচকি হাসল। উত্তর দিল,
“জি, অনুমতি ছিল আমার। এই বংশের পরবর্তী প্রজন্মের বড্ড প্রয়োজন। যা আমার সাধ্যের বাইরে তা আমি ধরে কেন রাখব?”
গুঞ্জরিকা নিজেকে শক্ত দেখানোর সবটুকু প্রয়াস চালাল। অথচ বেইমানি করে বসল চোখের জল। পুনরায় লোচন জোড়া ছলছল করে উঠল। আরুষ পায়ে পায়ে সামনে এগিয়ে এল। গুঞ্জরিকার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। গুঞ্জরিকার হঠাৎ কেমন যেন অস্বস্তি অনুভব হলো। এর আগে কখনো তো এমন হয়নি! দীর্ঘ পাঁচ বছরের সংসার জীবনে কখনো মানুষটার সামনে দাঁড়িয়ে বুকে এতটা বিতৃষ্ণা জাগেনি। ওই দৃষ্টির মাদকতায় নিজেকে খুইয়েছে বহুবার। সঁপেছে নিজেকে। অথচ আজ কী অদ্ভুত অনিহা!
গুঞ্জরিকা অধর নাড়িয়ে কিছু বলতে নিবে ঠিক তক্ষুনি নজর আটকাল দরজার দিকে। হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে চন্দ্রা। গুঞ্জরিকা মুখের কথাটুকু গিলে নিল। কোনো কথা ছাড়াই আরুষের সামনে থেকে সরে গেল। চন্দ্রার সামনে এসে দাড়াল। মিষ্টি করে হাসল, “বিশ্রাম নে তোরা। পরিহিত কাপড় পরিবর্তন করে ফ্যাল। আমি খাবার পাঠিয়ে দিচ্ছি।”
“আচ্ছা, কিন্তু তুই আর আসবি না এখানে? আমার তো বড্ড একা লাগছে। একসাথে আড্ডা দিলে বোধহয় একটু একাকীত্ব কমত।”
চন্দ্রা কথাগুলো ঈষৎ মন ভার করে বলল।গুঞ্জরিকা আড়চোখে একপলক পাশে দেখল। আরুষ ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। দৃষ্টিতে দৃষ্টি মিলল কিয়ৎসময়ের জন্য। গুঞ্জরিকা নিজেই আগে চোখ ফিরিয়ে নিল। চন্দ্রাকে বলল, “বিয়ের পর স্বামীই সব। তার সাথে কথা বলে মন হালকা কর। আমি আর আসব না এই কক্ষে। মাথাটা বড্ড ধরেছে। বিশ্রামের প্রয়োজন।”
মুখের কথাতে সমাপ্তি টেনে কাউকে একটা শব্দ উচ্চারণের সুযোগ না দিয়েই হনহনিয়ে প্রস্থান করল গুঞ্জরিকা। আরুষ সেদিকে একদৃষ্টে চেয়ে রইল। চন্দ্রা কী করবে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। ঠায় দাঁড়িয়ে উশখুশ করছে। গুঞ্জরিকা দৃষ্টি সীমানার বাইরে যেতেই আরুষ চোখ ফিরিয়ে নিল। চন্দ্রার দিকে চাইল। কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে আলমিরার দিকে অগ্রসর হলো। চন্দ্রার কর্ণগোচর হলো ভারী, রসকষহীন কণ্ঠস্বর,
“আম্মা তোমাকে কাপড় দিয়ে যাবে। বাথরুম থেকে পরিবর্তন করে নিও।”
কথাগুলো বলে আলমিরা থেকে নিজের জন্য একটা ট্রাউজার এবং টি-শার্ট নিয়ে বাথরুমে চলে গেল আরুষ। আস্তে ধীরে চন্দ্রার মুখের হাঁসি টুকু মিলিয়ে গেল। চোখ মুখ কঠিন হয়ে উঠল। দাঁতে দাঁত চেপে দাঁড়িয়ে রইল।
.
মধ্যরাতে প্রকৃতি নিঃসাড় নীরবতায় আচ্ছন্ন। গ্রামের সকলে গভীর তন্দ্রাচ্ছন্ন। অথচ ঘুম ধরা দেয়নি গুঞ্জরিকার নেত্রপল্লবে। তারা অদৃশ্য বিচ্ছেদের অস্পষ্ট বিষাদের সাক্ষী হতে মরিয়া। বদ্ধ কক্ষের খিড়কি সংলগ্ন পালঙ্কে বসে আছে গুঞ্জরিকা। দৃষ্টি নিবদ্ধ দূরাকাশের শশীর পানে। একচিত্তে চেয়ে আছে। ক্ষণে ক্ষণে গবাক্ষ গলিয়ে প্রবেশ করছে মধ্য নিশিথের হিম শীতল হাওয়া। কেঁপে উঠছে শীর্ণ কায়া। অথচ গুঞ্জরিকা অনুভূতিহীন। আজ কক্ষের লণ্ঠনটা পর্যন্ত নেভানো।
এই পর্যায়ে আঁখি জোড়া বুঁজে নিল গুঞ্জরিকা। অমনিই মানসপটে উঁকি দিল সুখকর কিছু দৃশ্য। গুঞ্জরিকা যখন বিয়ে করে এই বিত্তশালী শেখ পরিবারে পদযুগল রেখেছিল তখন ও সবে অষ্টাদশী। আরুষ শেখের সাথে ওকে রাতে একাকী থাকতে দেওয়ায় কেঁদে বুক ভাসিয়েছিল। অথচ মানুষটা একটুও বিরক্ত হয়নি। উলটো পরম যত্নে, ছোট ছোট করে কথা বলে নিজেদের মধ্যে সখ্যতা গড়েছিল। সেই রাতটা পুরোটাই দুজনে গল্প করে কাটিয়েছিল। তারপর আস্তে ধীরে প্রণয়ের সূচনা হয় কিশোরী অন্তরে। সেই সংসারে আজ পাঁচটা বছর কাটিয়ে দিল। সময় কী দ্রুত চলে যায়! সময়ের সাথে জীবনের ও কত উত্থান পতন হয়। গতকাল ও যা ওর ছিল, কেবল ওর ছিল আজ তা অন্যকারো।
গুঞ্জরিকা যখন ভাবনার অথৈ সায়রে নিজেকে হারিয়েছে তখন খোলা জানালার কার্নিশে এসে বসল একটা টিয়া পাখি। পোষা পাখি গুঞ্জরিকার। আরুষের থেকে পাওয়া জীবনের প্রথম উপহার ছিল এই কথা বলা পাখিটা। গুঞ্জরিকা ভালোবেসে দুজনের নামের সাথে মিলিয়ে তোতা পাখির নাম রেখেছিল আরিকা। অথচ সেই সব আজ কেবল অতীত।
আরিকা গুঞ্জরিকার ম্লান আননে কিছুক্ষণ চেয়ে বলে উঠল, “বাবা আদর নতুন বউ।”
গুঞ্জরিকা ওর দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকাল। পরক্ষণেই মৃদু শব্দে হেসে উঠল। হাসতে হাসতে চোখের কোণে জল জমল। আরিকাকে তুলে বুকের মধ্যিখানে নিল। মাথায় চুমু বসিয়ে দিল। মুখের হাসি বজায় রেখে বলল, “আমার তুই থাকলেই চলবে। আর কাউকে প্রয়োজন নেই।”
আরিকা মায়ের স্নেহ পেতেই বুকের মাঝে ঘাপটি মেরে শুয়ে রইল। হঠাৎ গুঞ্জরিকার ভীষণ অশান্তি অনুভূত হলো। বড্ড পানির পিপাসা পেল। আজ সারাদিন পেটে কিছুই পড়েনি। শরীরটা ভীষণ দুর্বল লাগছে। আরিকাকে পাশে রেখে পালঙ্ক থেকে নেমে দাঁড়াল। টেবিলের উপরে রাখা কলসটা তুলতেই অনুভব করল সেটাতে এক চিলতেও পানি নেই। ওটা উঠিয়ে নিল। পাশ ফিরে আরিকাকে বলল, “এখানেই বসে থাক তুই। আমি নিচ থেকে পানি নিয়েই চলে আসব।”
“ঠিক আছে, ঠিক আছে।”
আরিকা মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে বলল। গুঞ্জরিকা মুচকি হেসে মাথার ঘোমটা ঠিকঠাকভাবে গুছিয়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেল। সিঁড়ির সম্মুখে আসতেই দক্ষিণের ঘর থেকে আরুষ, চন্দ্রার সমস্বরে হাসির আওয়াজ ভেসে এল। গুঞ্জরিকা থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। সেভাবেই কিছুসময় কক্ষের বন্ধ দরজাটার দিকে তাকিয়ে রইল।
“ভাবীজান পুরুষ মানুষ বড়ো অদ্ভুত তাই না?”
আকস্মিক এমন কথায় ঈষৎ ভয় পেল গুঞ্জরিকা। বুকে হাত দিয়ে পিছু ফিরল। চোখের পর্দায় ভাসল অদিতির গোলগাল মুখটা। নিজেকে ধাতস্থ করে মৃদু হাসল মেয়েটা। প্রত্যুত্তরে বলল,
“একজনের জন্য সবাইকে দোষারোপ কীভাবে করি বলো তো? নতুনের আগমনে সবাই নিজের খোলস বদলায়। পাখিও তার নতুন পাখার আশায় পুরোনো খোলস ত্যাগ করে। সেখানে আমরা তো মানবকুল। পুরোনোদের ভুলতে কয়েক ঘণ্টা যথেষ্ট নয় কি?”
চলবে
পরগাছা |১|
ইসরাত_তন্বী
(নোট বার্তা: পড়ুন নতুন একটা গল্প। এই পর্বে আপনাদের সকলের রেসপন্স চাইইইইইইই। ছোট একটা গল্প হবে এটা এবং বাস্তবতা ভিত্তিক। আর আমার লেখা ভালো কিছু। আশাকরি ভালো লাগবে আপনাদের। নিরাশ হবেন না।)
টাইপো: রোজা
Share On:
TAGS: ইসরাত তন্বী, পরগাছা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE