নিষিদ্ধ_রংমহল 🥀
পর্ব_২৪
লেখকঃ Atia Adiba – আতিয়া আদিবা
[ গল্প যেন না হারায় তার জন্য পর্বটি শেয়ার করে রাখবেন]
মনসুর আলীর বিশাল কুঠির সেই জলসাঘরটি তখন এক লোলুপ কামনার প্রজ্জ্বলিত অগ্নিকুণ্ড। কক্ষের প্রতি কোণ থেকে ভেসে আসা অট্টহাসি আর সারেঙ্গীর আর্তনাদপূর্ণ সুর যেন বাতাসের প্রতিটি অণুতে বিষ ছড়িয়ে দিচ্ছে। ঝাড়লণ্ঠনের সহস্র স্ফটিক হতে বিচ্ছুরিত আলোকচ্ছটা মদিরার আধারে প্রতিফলিত হয়ে এক রক্তিম আভার সৃষ্টি করেছে। আসরের মধ্যমণি হয়ে বসে থাকা মনসুর আলীর ক্ষুদ্র চক্ষুদ্বয় আজ কামনার আতিশয্যে রক্তবর্ণ ধারণ করেছে। তিনি যখন নিজের মখমলের আসন ত্যাগ করে টলমলে পায়ে হেমাঙ্গিনীর দিকে অগ্রসর হলেন, তখন চারপাশের মদমত্ত সওদাগররা এক পৈশাচিক উল্লাসে ফেটে পড়ল।
হেমাঙ্গিনী তখন ক্লান্তিতে আর অপমানে পাথর হয়ে গেছে। তার ললাটে ঘামের বিন্দুগুলো বেদনার মুক্তোর মতো চিকচিক করছে। মনসুর আলী তার খুব কাছে এসে দাঁড়ালেন। তার মুখ হতে নির্গত মদিরার উৎকট গন্ধে হেমাঙ্গিনীর নাড়ি উল্টে আসার উপক্রম হলো।
মনসুর আলী তার রত্নখচিত স্থূল আঙুল দিয়ে হেমাঙ্গিনীর অবাধ্য চিবুকটি স্পর্শ করে এক ঘৃণ্য হাসি হাসলেন। বললেন,
- আহা! গজনবী মহলের জান! সিকান্দার গজনবী কথা রেখেছেন। বাঈজী মহলের রত্ন আজ আমার হাতের তালুতে। আজ রাতটি কেবল তোমার আর আমার। আর কারো নয়!
ঠিক সেই মাহেন্দ্রক্ষণে, যখন অন্ধকারের সবকটি হাত হেমাঙ্গিনীকে গ্রাস করতে উদ্যত, তখনই কুঠির সিংহদ্বারের বাইরে এক অকল্পনীয় শোরগোল উত্থিত হলো। অশ্বখুরের প্রচণ্ড শব্দে ধরিত্রী থরথর করে কেঁপে উঠল। ফটকের প্রহরীদের ভয়ার্ত চিৎকার ছাপিয়ে এক গম্ভীর ও বজ্রকণ্ঠ অন্দরমহলের গুমোট নিস্তব্ধতা চূর্ণ করে দিল।
- সাবধান! জমিদারপুত্র তাইমুর গজনবী তশরিফ আনছেন!
মুহূর্তের মধ্যে জলসাঘরের সেই উন্মত্ত কোলাহল এক হিমশীতল নিস্তব্ধতায় রূপান্তরিত হলো।
তবলার চাঁটি মাঝপথে থেমে গেল, সারেঙ্গীর ছড়ি থমকে দাঁড়াল। মনসুর আলীর হাতটি হেমাঙ্গিনীর স্পর্শের ইঞ্চিখানেক দূরেই জমাট বেঁধে গেল। তিনি অত্যন্ত বিস্ময় ও ত্রাসে দ্বারপ্রান্তের দিকে তাকালেন।
ভারী বুটের রাজকীয় শব্দে অলিন্দের প্রতিটি স্তম্ভ যেন কেঁপে উঠছিল। মখমলের গাঢ় লোহিত যবনিকাখানি এক প্রবল টানে সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেন তাইমুর গজনবী। তার অবয়বে কোনো দৃশ্যমান ক্রোধ নেই, বরং সেখানে এক অস্বাভাবিক ও ভয়ংকর প্রশান্তি বিরাজ করছে।
তার কালো আচকানের ওপর রৌপ্যসূত্রের কারুকার্যগুলো মশালালোকে বিদ্যুৎচ্ছটার ন্যায় ঝলসে উঠছে। তাইমুর অত্যন্ত ধীরপদে আসরের মাঝখানে প্রবেশ করলেন। তার প্রতিটি পদক্ষেপে ছিল এক অমোঘ আধিপত্য।
তিনি একবারও হেমাঙ্গিনীর দিকে তাকালেন না। তার তীক্ষ্ণ নেত্রযুগল নিবদ্ধ রইল কেবল মনসুর আলীর ওপর। তাইমুর এক রহস্যময় ও শীতল হাসিতে ওষ্ঠাধর রঞ্জিত করে এগিয়ে এলেন।
- আহা! মনসুর সাহেব যে দেখছি আজ বড়ই প্রমোদলিপ্ত। আমি কি তবে কোনো অশুভ লহমায় তশরিফ আনলাম? আমি ভেবেছিলাম, আমার ভাবী শ্বশুরমশাইয়ের এই বিশেষ জলসা আমার উপস্থিতি ব্যতিরেকে অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে। গজনবী বংশের সাথে যে আত্মীয়তার সোপান আপনি নির্মাণ করতে চলেছেন, তার ভিত্তিপ্রস্তর বুঝি এক বাঈজীর নূপুরধ্বনিতে প্রোথিত হবে?
’শ্বশুরমশাই’ সম্বোধনটি শোনা মাত্রই মনসুর আলীর মেরুদণ্ড দিয়ে এক শীতল স্রোত বয়ে গেল। তিনি স্বীয় ললাটের ঘর্মবিন্দু মুছে কিছুটা কুণ্ঠিত স্বরে আরজ করলেন,
- জমিদারপুত্র! আপনি… এই নিশীথ রাত্রে? আমি তো অত্যন্ত লজ্জিত যে আপনার অভ্যর্থনার নিমিত্ত উপযুক্ত আয়োজন এখানে নেই। আমি তো কেবল আপনার মান্যবর পিতা সিকান্দার গজনবী সাহেবের পাঠানো এই সামান্য উপহার নিয়ে কিঞ্চিৎ বিনোদনে রত ছিলাম।
তাইমুর অত্যন্ত আভিজাত্যের সাথে আসরের মধ্যস্থলে রক্ষিত রত্নখচিত কেদারায় উপবেশন করলেন। তার বসার ভঙ্গিমায় এক অপ্রতিম গাম্ভীর্য। তিনি সম্মুখের স্বর্ণপাত্রে রাখা মদিরা হাত দিয়ে সরিয়ে দিয়ে অত্যন্ত গম্ভীর স্বরে বললেন,
- পিতা বড় গূঢ় মানুষ, মনসুর সাহেব। তিনি আপনার নিকট একজন সামান্য বাঈজীকে পাঠিয়ে আসলে এক সুগভীর ব্যবসায়িক জালের বিস্তার করেছেন। আপনি কি ভেবেছেন পিতা আপনাকে এই অমূল্য রত্নটি কেবল আপনার লালসা নিবৃত্তির জন্য পাঠিয়েছেন? ছিঃ মনসুর সাহেব! আপনার বুদ্ধির এই দৈন্যদশা দেখলে পিতা বড়ই ব্যথিত হবেন। আপনি কি অবগত নন যে, দিল্লির শাহী দরবার হতে তুলার যে একচ্ছত্র রাজকীয় ফরমান আসছে, তার প্রধান অংশীদার হিসেবে পিতা আপনার নাম প্রস্তাব করার সংকল্প নিয়েছেন?
ব্যবসায়িক স্বার্থের কথা শোনা মাত্রই মনসুর আলীর লোভী দুই চক্ষু উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তাইমুর আরও এক ধাপ এগিয়ে বাণিজ্যের আসল তাসটি ফেললেন,
- পিতা আমাকে নির্জনে বলেছিলেন_
তাইমুর, মনসুর আলীর কন্যার সাথে তোমার বিবাহবন্ধন তো কেবল এক লৌকিকতা। আমি দেখতে চাই, তিনি কি এক সামান্য বাঈজীর প্রলোভনে পড়ে দিল্লির সেই লক্ষ স্বর্ণমুদ্রার বাণিজ্যিক সুযোগ হারাতে পারেন? যদি তিনি এই হেমাঙ্গিনীকে স্পর্শ করে নিজের সম্মান বিসর্জন দেন, তবে সেই ফরমান অন্য কোনো যোগ্য বণিকের হাতে অর্পণ করা হবে।
মনসুর সাহেব, আমি কেবল আমার হবু শ্বশুরমশাইকে এই নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এসেছি। আপনি কি সত্যিই এক রাতের কামনার বিনিময়ে গজনবী মহলের প্রভাব আর দিল্লির শাহী ফরমান ধূলিসাৎ করতে চান?
মনসুর আলী তখন আতঙ্কে পাণ্ডুর বর্ণ ধারণ করেছেন। তিনি অনুধাবন করলেন হেমাঙ্গিনীকে ভোগ করার অর্থ হলো, গজনবী বংশের সাথে চিরস্থায়ী বিচ্ছেদ এবং দিল্লির সেই মহামূল্যবান বাণিজ্যিক অধিকার হারানো। তার নিকট এক বাঈজীর জীবনের চেয়ে রাজকীয় প্রভাব ও ধনসম্পদ বহুলাংশে শ্রেয়। তিনি তৎক্ষণাৎ দণ্ডায়মান হয়ে বিনম্র কুর্নিশ জানালেন,
- তওবা! তওবা! জমিদারপুত্র, আপনি আমাকে অত্যন্ত ভুল বুঝেছেন। এই বাঈজীকে তো আমি কেবল পিতার আজ্ঞা শিরোধার্য করে এখানে স্থান দিয়েছিলাম। তাকে স্পর্শ করার দুঃসাহস আমার নেই। আমি তো কেবল তার নৃত্য দেখার আর গীত শোনার প্রতীক্ষায় ছিলাম। আপনি যখন এসেছেন, তখন আমি আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না।
তাইমুর এক রহস্যময় তৃপ্তির হাসি হাসলেন। তার বুদ্ধির এই চালে মনসুর আলী এখন এক নিরুপায় ক্রীড়ানক মাত্র।
- চমৎকার! আপনার এই চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখলে পিতা অত্যন্ত প্রীত হবেন। আমি এখনই মহলে ফিরে পিতাকে জানাব যে, মনসুর সাহেব কেবল দক্ষ বণিকই নন, তিনি গজনবী বংশের মর্যাদার প্রকৃত রক্ষক। তবে মনসুর সাহেব, এই অন্ধকার রাত্রে একাকী এক নর্তকীকে আপনার কুঠিতে রাখাটা আপনার নির্মল যশের অন্তরায় হতে পারে। চতুর্দিকের এই লোলুপ দৃষ্টি হতে আপনার আভিজাত্য রক্ষা করা আমার কর্তব্য। তাই আমি মনস্থ করেছি, হেমাঙ্গিনীকে এখনই সসম্মানে মহলে ফিরিয়ে নিয়ে যাব।
মনসুর আলী তখন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। তিনি ব্যস্ত হয়ে তার খিদমতগারদের আদেশ দিলেন,
- শীঘ্রই কর! বাঈজী সাহেবাকে রাজকীয় পালকিতে তুলে দাও। তার অঙ্গে যেন একবিন্দু ধূলি স্পর্শ না করে। আর শোনো, আমার পক্ষ হতে এই বহুমূল্য রত্নহারটি উপহার হিসেবে তাকে দাও, যেন তিনি জমিদারের নিকট আমার মহত্বের কথা ব্যক্ত করেন।
হেমাঙ্গিনী বিস্ময়াভিভূত হয়ে তাইমুরের দিকে তাকিয়ে রইল। যে পুরুষটি তার সম্মান রক্ষার্থের দায়িত্ব নিয়েছিল সে কোনো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ব্যতীত কেবল শব্দের মায়াজালে তাকে যমদুয়ার হতে ছিনিয়ে আনলেন!
কুঠির বাইরে তখন জমাট অন্ধকার। ঝোড়ো হাওয়া তখনো স্তিমিত হয় নি। মেঘের ঘনঘটা তখনও কাটেনি। পালকিটি যখন মনসুর আলীর সেই পৈশাচিক কুঠির ছায়া মাড়িয়ে মেঠো পথের অন্ধকারে পা বাড়াল, ঠিক তখনই তাইমুর তাঁর দুর্ধর্ষ অশ্ব ‘জুলফিকার’ এর বলগা টেনে এক তীক্ষ্ণ হ্রেষাধ্বনিতে অরণ্যের নিস্তব্ধতা খানখান করে দিলেন। অশ্বের খুরের আঘাতে পথের ধূলিকণা যেন এক প্রলয়ের সংকেত দিচ্ছিল। তাইমুর পালকির যবনিকা সরাতেই দেখলেন, হেমাঙ্গিনী কুঁকড়ে বসে আছেন, তার হরিণচক্ষুদ্বয় হতে অবিরত ঝরা অশ্রুতে পোশাক সিক্ত হয়ে এক করুণ দৃশ্যের অবতারণা করেছে। এই দৃশ্যটি নবাবজাদার হৃদপিণ্ডের গহীনে যেন এক তপ্ত শেলের ন্যায় বিঁধল।
তিনি অত্যন্ত কোমল কণ্ঠে, যাতে রাজকীয় দর্পের লেশমাত্র নেই, বরং এক অতলান্ত আর্তি মিশে আছে – বললেন,
- এই রুদ্ধশ্বাস পালকির অন্তরালে আপনি আর একটি মুহুর্তও থাকবেন না। এই যবনিকা আপনার মর্যাদাকে অবরুদ্ধ করে রাখছে। নেমে আসুন এক্ষুনি।
হেমাঙ্গিনী বিস্ময়বিস্ফোরিত নেত্রে তার কম্পিত হাতটি বাড়িয়ে দিতেই তাইমুর এক বলিষ্ঠ ও সুরক্ষিত টানে তাকে পালকি হতে অবলীলায় নামিয়ে আনলেন।
মুহূর্তের ব্যবধানে তিনি হেমাঙ্গিনীকে পাঁজাকোলা করে নিজের বুকের সাথে একদম মিশিয়ে নিলেন। জমিদারপুত্রর সেই নিবিড় সান্নিধ্যে হেমাঙ্গিনী স্তব্ধ হয়ে গেল। সে অনুভব করল তাইমুরের বুকের ধুকপুকানি, যা কোনো অশান্ত সমুদ্রের গর্জনের চেয়ে কম নয়। তাইমুরের উষ্ণ নিঃশ্বাস হেমাঙ্গিনীর মুখমণ্ডলে আছড়ে পড়ছিল। আর হেমাঙ্গিনীর তপ্ত নিঃশ্বাস নবাবজাদার গ্রীবায় এক অদ্ভুত শিহরণ জাগাচ্ছিল। দুজনের দেহ কেঁপে উঠছিল ক্ষণে ক্ষণে।
সেই মায়াবী অন্ধকারে দুজনের চোখের মণি স্থির হয়ে রইল একে অপরের ওপর। তাইমুরের সেই গভীর নেত্রযুগলে আজ কোনো শাসন নেই, আছে কেবল এক সর্বগ্রাসী অধিকারবোধ।
হেমাঙ্গিনী সেই চোখের গহীনে নিজেকে হারিয়ে ফেলে ক্ষণিকের জন্য ভুলে গেল যে সে এক সামান্য বাঈজী আর সামনের পুরুষটি এই বিশাল গজনবী এস্টেটের হবু জমিদার। তাইমুর অত্যন্ত সন্তর্পণে তাকে নিজের অশ্বের পিঠে তুলে নিলেন এবং নিজেও বিদ্যুৎবেগে আরোহণ করলেন।
বাইরে তখন ঝোড়ো হাওয়ার উন্মাদনা। সেই উদ্দাম বাতাসে তাইমুরের কান অবধি প্রলম্বিত, ঘন কুচকুচে কৃষ্ণবর্ণের কেশরাশি অবাধ্যভাবে উড়ে এসে হেমাঙ্গিনীর ললাটে আর চোখেমুখে আছড়ে পড়ছিল। তার সেই উন্নত নাসা আর বীরত্বব্যঞ্জক চোয়ালের রেখায় মেঘাচ্ছন্ন রাতের আলোছায়া পড়ে এক অপূর্ব মায়াবী দ্যুতির সৃষ্টি করেছে। তাইমুর অশ্বের কানে কানে কী এক গোপন সংকেত দিতেই জুলফিকার বাতাসের বেগে ধাবিত হতে শুরু করল।
অশ্বের সেই ক্ষিপ্র গতি আর ঝোড়ো বাতাসের ঝাপটায় হেমাঙ্গিনী নিজেকে সামলাতে না পেরে পেছন থেকে তাইমুরকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল। তাইমুরের পেশিবহুল বলিষ্ঠ পিঠে মুখ লুকিয়ে সে অনুভব করল এক দিব্য নির্ভরতা। তার আচকানের রেশমী তন্তুর সুগন্ধ আর শরীরের উষ্ণতা হেমাঙ্গিনীর সমস্ত আতঙ্ককে নিমেষে ধুয়ে মুছে সাফ করে দিল।
তাইমুরের অবাধ্য চুলগুলো যখন বারবার হেমাঙ্গিনীর গণ্ডে আলতো করে দোলা দিয়ে যাচ্ছিল, তখন সে প্রথমবারের মতো উপলব্ধি করল, এই পুরুষটির রাজকীয় কঠিন বর্মের আড়ালে এক সুগভীব অনুরাগের সমুদ্র লুকানো আছে।
তাইমুর অশ্বের গতি কিঞ্চিৎ কমিয়ে দিয়ে ঘাড় বাঁকিয়ে অত্যন্ত আর্দ্র কণ্ঠে বললেন,
- ভয় পাবেন না। আজ যদি আকাশ ভেঙে পড়ে তব ধরণীতে ধসে আসে, তবুও আপনাকে স্পর্শ করার সাধ্য আমি ব্যতীত এই ব্রহ্মাণ্ডে কারও নেই। আপনি গজনবী মহলের কোনো সাধারণ বাঈজী নন। আপনি আমার আমানত, হেমাঙ্গিনী।
আপনাকে ওরূপ পাষাণহৃদয় শেয়ালদের আসরে যেটুকু সময়ই কাটাতে হয়েছে তার জন্য আমায় মার্জনা করবেন।
হেমাঙ্গিনী তাইমুরের আচকান আরও দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরল। বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দে কথা বলা অসম্ভব ছিল, কিন্তু তার অশ্রুসিক্ত নয়ন এবার আর যন্ত্রণার সাক্ষ্য দিচ্ছিল না, বরং সেখানে ছিল এক অপার্থিব প্রশান্তি। বিদ্যুৎ চমকানোর ক্ষণিক আলোয় তিনি একবার তাইমুরের প্রশান্ত মুখচ্ছবি অবলোকন করলেন। তিনি বুঝলেন, আজ রাতে এই ঝোড়ো হাওয়ায় কেবল পথ অতিক্রম করা হচ্ছে না, বরং দুটি বিচ্ছিন্ন প্রাণের মাঝে এক অচ্ছেদ্য সেতুবন্ধন রচিত হচ্ছে।
অশ্বের পিঠে বসে সেই দ্রুত গতির দোলায় হেমাঙ্গিনী আঁখি পল্লব মুদ্রিত করল। সে মনে মনে প্রার্থনা করল, গজনবী মহলে প্রত্যাবর্তনের এই পথটুকু যেন মহাকালের গহ্বরে বিলীন হয়ে অনন্তকাল ব্যাপী হয়। এই ঝোড়ো হাওয়া, এই অশ্বের খুরের ছন্দোবদ্ধ ধ্বনি আর তাইমুরের এই সান্নিধ্য। এর চেয়ে বড় মুক্তি তার জীবনে আর কী-ই বা হতে পারে?
- টার্গেট পূরণ করে দিয়েন প্রতিদিনের মত। ৪০০০ লাইক, ৫০০ কমেন্টস। ❤️
নিষিদ্ধ_রংমহল 🥀
Share On:
TAGS: আতিয়া আদিবা, নিষিদ্ধ রংমহল
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ৯
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ২১
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ১২
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ১৭
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ২৮
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ২৬
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ২৩
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ৩
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ২
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ৪