নিষিদ্ধ_চাহনা
পর্ব_৩৩
লেখিকাসারাচৌধুরী
🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫
এভাবেই মন খারাপ কষ্টের মধ্যে দিন চলতে শুরু করেছে।সাদি হসপিটালের পাশেই একটা ফ্লাট কিনেছে।যেখান থেকে পিহুর কলেজ আর হসপিটাল দুটোই কাছে।হাজার চেষ্টা করেও খুনি খুজে পাওয়া যায়নি।পুলিশ রা এক প্রকার হাল ছেড়ে দিয়েছে।তবে সাদি ছাড়ে নি।সেদিন বোম ব্লাস্ট এর কারনে বাড়ির অর্ধেক ধ্বসে পড়ে।সেটা মুলত সাদি দের মারার জন্যই ছিলো।আতিয়া বেগম ও ইলিয়াস চৌধুরীর মৃত্যুর খবর মেহু বা ইরিনা কেও জানেনা।আর যানবেই বা কিভাবে। সাদিএ সেই ভুলের পরে আর তাদের সাথে কথা হয় নি সাদির।মেহুর সাথে পিহুর মাজগে মাঝে কথা হতো।তবে মেহুকেও আর বলা হয়নি।
হটাৎ সাদির ডাকে পিহুর ধ্যান ভাঙে।কল্পনা থেকে বেরিয়ে আসে পিহু।চোখের পানিতে গাল ভিজে গেছে।দরজায় হেলান দিয়ে বুকে হাত গুজে দাঁড়িয়ে আছে সাদি।আজ একটু বেশিই ঘুমিয়েছে সে।সাদির ডাক শুনে পিহু তাড়াতাড়ি করে চোখের কোন মুছে নেয় হাতের তালু দিকে।পিহু উড়না দিয়ে তাড়াতাড়ি মাথায় কাপড় তুলে দিয়ে সাদির দিকে ফিরে।তারপর ভাঙা গলায় কাপা কাপা কন্ঠে বলে…
-“কি..কিছু বলবেন..?
সাদি কিছু বলে না।চুপ করে একই ভাবে তাকিয়ে থাকে পিহুর দিকে।এই ছয় মাসে মেয়েটা কতটা বদলে গেছে। হাত গুলো শুকিয়ে গেছে।চোখের নিচে কালো হয়ে গেছে।চুল গুলোর ও মনে হয় যত্ন নেয় না।সাদিকে একই ভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে পিহুর ভ্রুদ্বয় কুচকে যায়।ভ্রু কুঞ্চিত রেখেই আবার বলে উঠে…
-“এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন কিছু বলবেন..?
পিহুর এবারের কথায় সোজা হয়ে দাঁড়ায় সাদি।মনে মনে বেশ লজ্জা পায় ভাবনায় ডুবে যাওয়ার জন্য। সাদি বুজতে পেরেছে আগেই পিহুর মন খারাপ।চোখের পানিও তার চোখ এড়াইনি।তবে এই কথা তুলে পিহুর মন আরো খারাপ করতে চাই না সে।তাই গলা ঝেড়ে ঠান্ডা কন্ঠে বললো…
-“বারোটা তো বাজতে চললো পেটে ইদুর দৌড়াচ্ছে কিছু খেতে হবে।
সাদির কথায় পিহুর টনক নটে। এই জাহ।সে সকালে রান্না করবে করবেও তো করে যায়নি।কলেজ গিয়ে মনে হয়েছিলো করে গিয়েছে।তবে আসলে সে তো রান্না করিনি।এখন কি খেতে দিবে সাদিকে?পিহুর চিন্তিত মুখ দেখে সাদি হাসে।উলটো ঘুরে দরজা দিয়ে বেরিয়ে যেতে যেতে বলে….
-“আমি বাইরে থেকে নিয়ে এসেছি।একটু পরিবেশন করে দিলে তৃপ্তি সহকারে খেতাম।
সাদি চাই যত তাড়াতাড়ি সম্বভ।তার বাবা-মায়ের খুনিকে খুজে পেতে।তবে পিহুর পরিক্ষার পরে পুরোপুরি গোপন ভাবে খুজবে সে। এক একটা ক্লু খুনির কাছে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে তাদের।এখন সে পিহুর পড়াশোনার দিকে খেয়াল রাখতে চাই।আর কিছুদিন পর পরিক্ষা।তারপরেই পিহুকে নিয়েই বের হবে এই অভিযানে।তার আগে যেভাবেই হোক পিহুর সাথে নিজের সম্পর্ক টা ঠিক করতে চাই সে।স্বামি-স্ত্রীর না হোক তবে বেস্ট ফ্রেন্ড মতো বন্ধুত্ত্বের সম্পর্ক করতে চাই সাদি পিহুর সাথে।
সাদি রুম থেকে বের হতেই পিহু হাসে।লোকটা নিজে অগোছালো থাকলেও তার খেয়াল রাখে খুব করে।পিহুর খুব খারাপ লাগে দুটো গোছালো মানুষ কে নিজের চোখের সামনে অগোছালো হয়ে যেতে দেখতে।একজন নিজের মানতে না পারা স্বামি আর একজন তার ভালোবাসা।পিহু কোনো একজন কে নির্ধারন করে বেছে নিতে পারছে না।পিহু চাইলেও এই বিবাহের সম্পর্ক থেকে বের হতে পারছে না।আবার চাইলেও নাবিল এর সাথে আর কিছু হওয়ার চান্স নেই।তবে সাদির সাথে সব ঠিক করা যায়।পিহু আর ভাবে না ফ্রেশ হতে ওয়াশরুমে চলে যায়।
পরিক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে জেরিন।বাসাই আসা পর্যন্ত পড়ার টেবিল এ বসে আছে।বই সামনে খোলা থাকলেও মন ঘুরে বেড়াচ্ছে।যত দিন এগোচ্ছে জেরিনের মনে ভয় জিনিস বেশ ঘাটি গেড়ে বসছে।এখন প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতেও ভয় করে।কোচিং এ জাওয়াও অফ করে দিতো শুধু মাত্র পিহুর জন্য যেতে হয়।মেয়েটাকে বড্ড ভালোবাসে সে।আঙ্কেল আন্টি মারা যাওয়ার পরে মেয়েটার খারাপ সময়ে সব সময় জেরিন পাশে ছিলো।
সব সময় কাদতো পিহু তবে শান্তনা দেওয়ার মতো কিছুই ছিলো না জেরিনের মুখে।সে সব যেনেও চুপ ছিলো।আচ্ছা মিথ্যা বলা আর মিথ্যা যেনেও চুপ থাকা কি সমান পাপ নয়।জেরিনের মনে হয় এর মতো পাপ আর হয় না।তার পিহুকে সব জানিয়ে দিতে ইচ্ছা হয়।তবে নিজের পরিবার এর দিকে তাকিয়ে তার গলা আটকে আসে।বলতে চেয়েও বলা হয় না।
জেরিন জানে না। তার জীবনের গ্যারান্টি আদেও আছে কিনা।আচ্ছা সে যদি মারা যায় তাহলে খুনের একমাত্র প্রমান ও নিঃশব্দে হারিয়ে যাবে।পিহু কি কখোনো খুনিদের ধরতে পারবে না।জেরিনের মাথা যন্ত্রনা শুরু হয়ে যায় এসব ভাবতেই।তবে মনে মনে চরম না বলার আফসোস ও বেস্ট ফ্রেন্ড কে এক প্রকার ঠকানোর অনুশুচনায় ভুগতে থাকে সে।
জেরিন আর দেরি করে না। পড়ার টেবিল এর ডয়ার থেকে পারছোনাল ডাইরি টা বের করে একে একে সব লিখতে শুরু করে।মুখে না বলুক লিখে অন্তত পিহুর কাছে দিতে চাই সে।তবে জেরিনের হাত চলে না।আটকে যায় পৃষ্ঠায়।জেরিন ফুফিয়ে কেদে উঠে নিরবে।
খাওয়ার টেবিল এ বসে আছে সাদি ও পিহু।নিজেদের মতো খেয়ে যাচ্ছে দুজনে। খাবার টেবিল এ চলছে পিনপতন নিরবতা।নরবতা ভেঙে হটাৎ খাবারের দিকে তাকিয়েই সাদি বলে উঠলো…
-“কয়টা পরিক্ষা হবে…?
পিহু খাচ্ছিলো খেতে খেতে থেমে যায়।খাবার টুকু গিলে নিয়ে সাদির দিকে তাকিয়ে বলে উঠে…
-“ছয়টি।
সাদি পানির গ্লাস থেকে পানি খেয়ে পিহুর দিকে তাকিয়ে কপাল গুটিয়ে প্রশ্ন করে…
-“ছয়টি কেনো..?
-“কোনো একটা কারনে হাফ সিলেবাস দিয়েছে প্রতিটা সাবজেক্ট পঞ্চাশ মার্ক। প্রথম পত্র আর দ্বিতীয় পত্র মিলিয়ে একশো মার্ক এর পরিক্ষা।
-“ওহ আচ্ছা।
-“জিহ।
দিজনেই আবার খাবার খাওয়াই মনযোগ দিলো তবে সাদির কেন জানি খাওয়াই মনযোগ বসছে না।খাবারের প্লেটে হাত ঘুরাচ্ছে খালি।পিহু এক বার তাকিয়েছে সাদির হাতের দিকে তবে কিছু বলে নি।এদিকে সাদির মন অশান্ত।কিছুতেই শান্তি পাচ্ছে না সে।বুকের ভিতরে উঠানামা করছে।কাল রাত থেকেই ভেবে রেখেছে পিহুকে বলবে।সে জানে পিহু খুব বেশি রুড বিহেভ করবে কথাটি শুনলে তবে মনের অশান্তি দূর করতে তাকে বলতে হবে।সাদির এমন অমনোযোগী হয়ে খাবারের প্লেটে হাত ঘুরাতে দেখে পিহু বিরক্ত হয়।বিরক্তি কন্ঠে বলে উঠে…
-“খাচ্ছেন না কেন..?
পিহুর কথায় চমকে উঠে সাদি।সাথে সাথে বুকে ফু দেয়।পিহু যেনো আরো বিরক্ত হয়।গম্ভীর রাগ চটা ছেলেটাও কেমন নার্ভাস হয়ে যাচ্ছে।সভাব এর বিরুদ্ধে গিয়ে কিছু করবে বলে।পিহু খাওয়া শেষ করতেই সাদি পিহুর দিকে তাকিয়ে সাবলীল ঠান্ডা স্বরে বলে উঠলো…
-“পিহু আমার একটা কথা বলা ছিলো অত্যন্ত জরুরি।
-“আমারো আপনাকে একটা কথা বলার আছে..!
পিহু শান্ত মায়াবী চোখে সাদির দিকে তাকিয়ে কথাটি বলে।সাদি পিহুর দিকে একই ভাবে চেয়ে বলে..
-“কীহ…?
-“আগে আপনি বলেন..?
-“নাহ আগে তুই…!
-“আপনি আগে বলতে চেয়েছেন আপনি বলেন। নয়তো বলার দরকার নাই আমি উঠলাম।
বলেই উঠে যেতে ধরে পিহু চোখ মুখ শান্ত।যেনো শীতল জলধারা।পিহু উঠতে দেখে তাড়াহুড়ো করে উঠে দাঁড়ায় সাদি।উত্তেজিত কন্ঠে বলে দাড়া বলছি।পিহু জানতো সাদি বলবেই। তাইতো উঠে দাড়িয়েছিলো।পিহু আবারো বসে পড়ে।সাদি মনে মনে অ এক সাহস জুগিয়ে বলে…
-“যা মনে করার করতে পারিস।তুই জানিস আমি কোনো কাতন ছাড়া কিছু বলি না।আর এটাও কোনো কারন ছাড়া বলবো না।শুধু এটুকু বলবো রাগ কর,, অভিমান কর,,ঝগড়া কর শুধু একটা কথা দয়া করে কথাটার খারাপ মিনিং বের করে আমাকে ভুল বুজিস না।
-“আপনি বলবেন..?-(পিহু কপাল গুটিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে)-
সাদি একটা ঢোক গিলে।বুজতে পারে না এমন নার্ভাস হওয়ার কি আচজে।কত মাতলো পিহুকে কই এমন তো বুক কাপেনি তবে আজ কেন বুক কাপছে ঠোঁট শুকিয়ে যাচ্ছে।সজখের নারী সামনে থাকলে বোধহয় এমনই হয়।সাফি জোরে একটা দম নিয়ে ঠান্ডা স্বরে বলে উঠে…
-“পিহু আমরা কি আমাদের সম্পর্ক টা ঠিক করতে পারি না।বাকি পাঁচ দশটা স্বামি – স্ত্রীর মতো এক সাথে থাকতে পারি না।একে অন্যর সুখ দুঃখ গুলো ভাগাভাগি করে নিতে পারি না।
চলবে……
-(হাত নাড়াতে পারছি না।হটাৎ ব্যাথা।সাথে মাথা যন্ত্রনা। জেরিনের কাহিনী টুকু একটু এলোমেলো।তবে খুব তাড়াতাড়ি জেরিনের কাহিনী ক্লিয়ার হয়ে যাবে।শুধু অপেক্ষা করো।আচ্ছা সাদির এই কথার পর পিহুর তিয়েকশন কি হবে।আজকের পর্বে বেশি বেশি রেসপন্স করো।কেমন লেগেছে বলে জেয়ো আশা করি ভালো লাগবে)-
Share On:
TAGS: নিষিদ্ধ চাহনা, সারা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৬
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৬
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৩২
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২২
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৫
-
চার বছরের চুক্তির মা গল্পের লিংক
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৪
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৩০
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১৫
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৪