নিষিদ্ধ_চাহনা
পর্ব_২৯
লেখিকাসারাচৌধুরী
🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫
নাবিল জলন্ত সিগারেট চেপে রেখেছে ডাবাম হাত দিয়ে ডান হাতের তালুতে।চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে চোখের চারিপাশ লালচে হয়েগেছে।দেখেই বোজা যাচ্ছে ছেলেটা কেদেছে খুব।আচ্ছা পুরুষ মানুষ কি কাদে…?হয়তো কাদে।প্রিয় মানুষ হারানোর জন্য।মৃত্যুর চেয়েও বেশি কষ্ট লাগে যখন নিজের প্রিয় মানুষ চোখের সামনে অন্য কারোর হয়ে থাকে।
নাবিলের মা এসে তাড়াহুড়ো করে সিগারেট টেনে নিয়ে ছুড়ে ফেললো জানালার গ্রিল দিয়ে।নাবিল কে একটা চড় বসালো।তার নিজেই চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে নাবিল মুখ নিজের দু হাতের আজলায় নিয়ে ভাঙা কন্ঠে বলে উঠলো…
-“এমন হয়ে যাচ্ছিস কেন বাবা।দুনিয়াতে মেয়ের কি অভাব পড়েছে।ওর মতো শত শত মেয়ে আছে।এর চেয়ে ভালো।ও একটা নষ্টা মেয়ে….
আর কিছু বলার আগেই নাবিল নিজের মায়ের হাত ঝাড়া মেরে রাগী কন্ঠে চিল্লিয়ে বলে উঠলো…
-“ওরে নিয়ে একটা কথাও বলবা না। ও আমার সব আমার বেচে থাকার একমাত্র আশা ও।আমি অপেক্ষা করবো।
-“মাথা খারাপ হয়ে গেছে তোর..?
-“হ্যা মাথা খারাপ হয়ে গেছে আমার।তুমি ঠিকি বললে পিহুর মতো আরো মেয়ে আছে।কিন্তু তুমি তো তো জানো পিহু তো আর নেই।ও তো একজনই। ওর মতো দিয়ে কি হবে আমার ওকেই লাগবে..?
-“কিন্তু..?
নাবিল এবার দ্বিগুন গর্জে উঠে বলে..
-“লাস্ট টাইম মাফ করছি ওকে নিয়ে যদি আর বাজে কথা বলো আমার থেকে খারাপ আর কেও হবে না।ওকে আমি আমার করবোই।চেলেঞ্জ দিয়ে গেলাম তোমারে মিলিয়ে নিও।আর আমি যা চেলেঞ্জ নেই তা পুরন করি।
বলেই নাবিল রুম থেকে বেরিয়ে গেলো হন হন করে।একটু আগে কান্নারত থাকা ছেলেটার চোখে এখন ক্রোধ বিদ্যমান।নাবিলের মা চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না তার।সে কি বললো আর তার ছেলে কি বললো।আচ্ছা নাবিল কি করবে?কোনো বড় ঝামেলা পাকাবে না তো।পাগলামী বেড়ে যাচ্ছে। এই বলে নাবিলের মা জেরিনের ফোনে ফোন দিলো।সব বকার জন্য।
~সবার আগে গল্প পেতে আমার পেজ টি ফলো করে রাখুন:-https://www.facebook.com/share/17zNs5FiSF/
বাড়ির বারান্দায় বসে আছে জেরিন। পরনে কাচা হলুদ রঙের থ্রিপিচ।মাত্র গোছল সেরে এসে বারান্দায় কড়া রোদে চুল শুকাতে ব্যাস্ত সে।মনে হাজারো প্রশ্নের ঘুরপাক।বিশেষ করে সেই অচেনা চিঠিওয়ালা কে নিয়ে।অচেনা বললে ভুল হবে সে তো চিনতো ছেলেটাকে।তবে এখন কল্পনা করলেও গা শিউরে উঠে।একটা মানুষ কত টুকু খারাপ হতে পারে ছিহ।জেরিনের বাড়িতে থাকতেও ভয় করে।কখন না জানি তার কোনো ক্ষতি হয়ে যায়।ছেলেটার যত দেখেছে তত অবাক হয়েছে।শ্যামলা গায়ের রঙ। মুখে খোচা খোচা দাড়ি।চোখের কোনে এক টা লাল তিল।
জেরিন যদিও শিওর ছিলো না ওই ছেলেটাই দোষি।তবে সেদিনের চিঠি টা পড়ার পর জেরিন এর আত্মা বেরিয়ে আসার মতো হয়েছে।যদিও জেরিন এ কথা জাওকে বলেনি।বলবেই বা কি করে।চিঠিতে স্পষ্ট লেখা আছে যেনো কাওকে না বলি।জেরিন ভাবতে লাগলো সেদিনের কথা যেদিন চিঠিটা তার হাতে এসে পৌছেছিলো সাইত্রিশ বারের মতো নতুন এক চিঠি।এই আধুনিক যুগে চিঠি দেই কে তবে ছেলেটা জেরিন কে চিঠি দেয় সব সময়।
ফ্লাসব্যাক…
রোজকার মতো আজও জেরিন জ্যামে রিকশায় বসে আছে।ঠিক তখনই প্রতিবারের মতো একটা বাচ্চা ছেলে এসে জেরিনের হাতে চিঠি দিয়ে বললো শেষ চিঠি।সাথে একটা কালো আধপোড়া গোলাপ।জেরিন বেশ অবাক হয়েছিলো।তবে জেরিন চেয়েছিলো এগুলো প্রমান হিসেবে দিতে কারন সেই সব চেয়ে বড় প্রমান সব কিছুর।
জেরির মনের অনিচ্ছা সত্তেও চিঠি টা খুললো।আজ চিঠি দেখে বোজা যাচ্ছে বেশ যত্ন নিয়ে লিখেছে তবে ধুসর কাগজে।জেরিন মনে মনে পড়তে শুরু করলো চিঠিটা..
প্রিয় জেরি,,উহু আর জেরি না অনলি মাই লাভ।
আশা করি ভালো আছো।আমার চিঠি পেয়ে বেশ আনন্দিত। আনন্দ পাবেই বা না কেনো এই চিঠি তো প্রমান তাই না পাখি।তবে চিন্তা করিও না আজকের চিঠি আনন্দের না তবে বেশ মজার।তুমি খুব বড় ভুল করলে জেরি।একটু চোখ বন্ধ রাখলেই কি হতো।যাস্ট তোমাকে ভালোবাসি বলে ছেড়ে দিয়েছিলাম আমি। নয়তো সবার মতো তুমি ও যাইতে।আর যাইহোক যদি আমাকে নিয়ে তুমি কোনো প্রমান দাও পুলিশের কাছে।তাজলে তোমার অতিপ্রিয় পিহু রানী আর তোমার পরিবার খালাস করে দিবো।বা তোমাকেহ।সাবধানে থাকিও।আর এই চিঠির কথা কাওকে বলিও না।বললে বিপদ বাড়বে তোমার।
ইতি…IFS…
চিঠি টা সামান্য হলেও জেরিন ঘামতে শুরু করলো।হাত কাপা শুরু হয়ে গেলো।এই IFS মানে সে জানে না।অনেক বার পেয়েছে চিঠিতে। তবে হাজার খুজেও পাইনি।এর মানে।হটাৎ ফোনের বিরক্তিকর শব্দে জেরিনের ধ্যান ভেঙে গেলো।বারান্দা থেকে উঠে ঘরের দিকে ছুটলো ফোন নিতে।
পিহু নিজের ফ্লাটের সামনে এসে দরজার লক খুলে ভিতরে প্রবেশ করলো সে।এই ফ্লাট টা তার বেশ মনের মতো।হবেই বা না কেনো দুটো বড় বড় ঝুল বারান্দা।তিন টা বড় বড় বেড রুম।কিচেন ডাইনিং সব বড় বড়।আর সব থেকে বড় কথা এটা হলো পিহুর ফ্লাট।নিজের পুরোটাই নিজের।যদিও সাদি ই পিহুর নামে কিনেছে।তবে পিহুর এটা ভালো লাগে তার ও একটা নিজের ঘর আছে।
পিহু ভিতরে ঢুকে সোজা নিজের রুমে চলে গেলো।সাদির রুমে উকি মারলো একটু।এখোনো ঘুমিয়ে সে।পিহুর চোখ গেলো তার বিছানার পাশের দেয়ালে টাঙানো তাদের পরিবার এর ফটো ফ্রেমে।কত সুন্দর হাস্যজ্জল একটা পরিবার।যদিও পিহুর ঠোঁটে সেদিন ছিলো মিথ্যা হাসি তবুও সবার কথা ভেবে হেসেছিলো।কেও দেখলে বুজতে পারবে না।ছবিটা পিহুর বিয়ের পরের দিন সকালে তোলা।পিহু হয়তো কখোনোয় বুজতে পারেনি এমন ছবি আর উঠানো হবে না একসাথে।পিহু এক পা এক পা করে এগিয়ে যায় ছবিটার দিকে চোখ দিয়ে পানি পড়ছে তার।ছবির সামনে গিয়ে আস্তে করে স্পর্শ করলো ছবিটায়।বুকের ভিতর কেমন যানি কেদে উঠলো সাথে সাথে।পিহু ভাবতে লাগলো সেদিনের কথা….
ফ্লাসব্যাক…..
এমনিতেই পিহুর মন মেজার ভালো নেই।তার উপর ফিজিক্স টিচার কল দিয়ে বলেছে আজকে কোচিং এ এক্সাম নিবে। আর এপছেন্ট থাকলে কলেজ থেকে নাম্বার কাটবে।বেলা গড়িয়ে দুপুর দুটো ত্রিশ।পিহুর কোচিং শুরু সাড়ে চারটেই।পিহু এখনি নেমেছে উপর থেজে।পরনে হালকা গোলাপি রঙের একটা গাউন। উড়না টা গল্য পেচিয়ে নিয়েছে।কাধে কলেজ ব্যাগ ঝুলছে।সিড়ি দিয়ে নামতে পিহুর চোখ গেলো সোফায় বসে থাকা তিনজনের দিকে।বেশ পরিপাটি সবাই।একটু আগেই এই জামাটা আতিয়া বেগম দিলেন তাকে পরার জন্য। যদিও পিহুর পছন্দ হয়েছে বলে পরেছে।
পিহু সিড়ি দিয়ে নিচে নামতেই সোফা থে ইলিয়াস চৌধুরী পিহু ডেকে উঠলো।পিহু ও চুপচাপ তার কাছে গিয়ে দাড়াতেই। সাদি একটা সেলফি স্টান্ড এ তার ফোন রেখে টাইমার সেভ করে এলো।পিহু কিছু বুজার আগেই পিহুকে সাদির পাশে বসিয়ে দিয়ে হাস্তে বললো।পিহু হাসলো সাথে সাথে মোবাইল এর ফ্লাস জলে উঠে ছবি উঠে গেলো।
আজ পিহুর সাদির উপরে রাগ নেই কারন সাদি কাল রাতেই তাকে বলেচজে আজ কাজি অফিসে গিয়ে ডিভোর্স করিয়ে নাবিল এর সাথে বিয়ে দিয়ে দিবে নিজে দাড়িয়ে থেকে।যদিও এই বিয়ের চুক্তি অন্য রকম ছিলো তবে সাদি বলেছে দাঁড়িয়ে থেকে সব ছিড়ে আগুনে পুড়ইয়ে দিবে।সেজন্যই হাসিটা মানান সই হয়েছিলো।
সাদি মোবাইল নিয়ে বেরিয়ে যেতে গিয়েও কি মনে করে ফিরে এলো।কেমন যানি মনের ভিতর অশান্তি হচ্ছে তার।হয়তো পিহুকে মুক্তি দেওয়ার জন্য। সাদি এগিয়ে আসতেও গিয়ে আসলো না।শুধু আতিয়া বেগমের দিকে তাকিয়ে বললো…
-“আম্মু আসি ফিরতে একটু দেরি হবে…!
সাদি বের হতেই পিহু ও তাড়াহুড়ো করে বের হতে থাকলো।আতিয়া বেগম ভ্রু কুচকে বললো..
-“তুই আবার কই যাবি..?
-“আমার কোচিং আছে আমার যেতে হবে..?
-“আচ্ছা শোন..?
-“বল মামুনি..?
-“একটা জিনিস এনে দিবি সাদিকে বলতে গিয়েও মনে থাকছে না।
-“হুম বলো কি..?
-“আশার সময় মোড়ে যে নতুন দোকান বসেছে ওইখান থেকে কয়েক রকমের আচার নিয়ে আসিস। অনেক দিন ধরে খাওয়ার ইচ্ছা হচ্ছে বের হওয়ার সুজোগ হচ্ছে না।
-“আর কিছু মামনি..?
-“না মা ভালোভাবে যাস..?
বলে আতিয়া বেগম পিহুর কপালে চুমু আকলো।ইলিয়াস চৌধুরী দূর থেকে বললো বউ মার কপালে একা তুমিই চুমু খাও।মেয়েটা তো আমারে ভুলে গেছে।ইলিয়াস চৌধুরীর কথা শুনে পিহু কোমরে হাত দিয়ে চোখ ছোট ছোট করে বললো..
-“বউমা কে..?
-“ধুর বোকা মেয়ে আমি মজা করলাম ত্যি সিরিয়াস নিচ্ছিস কেন..?
পিহু দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে ইলিয়াস চৌধুরী কে।ইলিয়াস চৌধুরী ও আগলে নেয় ছোট্ট পিহুকে।ইলিয়াস চৌধুরী ফিসফিস করে বললো আমার বউমা ডাকার সখ টা পুরন হলো তাহলে..!
-“আবার..?
-“উহু না মা।।
পিহু ও বিদায় নিয়ে চলে এলো।পিহু তেমন রিয়েক্ট করলো না আজ।কারন আজ তার খুশির দিন।তার ব্যাগ এই বিয়ের সকল কাগজ।সাদি আজ তাকে মুক্ত করে দিবে।তার আবার নাবিল এর সাথে একটা জীবন হওয়ার পথ হবে।পিহু বাইরে বেরিয়ে সাদির দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে উঠে বসলো।পিহু বসতেই সাদি গাড়ি স্টার্ট দিলো।উদ্দেশ্য উকিলের কাছে।
চলবে….
-(যেদিন মাথা যন্ত্রনা করে সেদিন গুছিয়ে লিখতে পারি না।তাই এলোমেলো।আচ্ছা IFS মানে কি হতে পারে গেজ করো।আর আগামী পর্বে বিগ সাইজ কিছু একটা পাইবা।অপেক্ষা করো।কেও বাজে মন্তব্য করবেন না।ভালো না লাগলে ইগনোর করুন)-
Share On:
TAGS: নিষিদ্ধ চাহনা, সারা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১০
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৮ (ক)
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৪
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৫
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২০
-
নিষিদ্ধ চাহনা গল্পের লিংক
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৬
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৩
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৩