নিষিদ্ধ_চাহনা
পর্ব_২৬
লেখিকাসারাচৌধুরী
🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫
কি হলো বলেন আপনি কে আমার..?
সাদি চুপ করে গেলো গলা দিয়ে আর কথা এলো না।হয়তো কন্ঠনালী চাচ্ছে না কিছু বলতে।সাদিকে চুপ থাকতে দেখে পিহু আবারো বলে উঠে..
-“কি হলো বলুন আপনি কে আমার..কি হলো বলছেন না কেন। কি বা বলবেন চাচতো ভাই হন শুধু আর কিছুই না। আমার বিষয়ে আপনার মাথা না ঘামালেও চলবে।
পিহু কথাটা বলেই উঠে দাঁড়ায়।সাদি স্থির চোখে পিহুকে দেখে।সে নিজেও উঠে দাঁড়ায়।পিহুর কথাগুলো কেমন যেনো লাগলো তার কাছে।সাদির স্থির মুখশ্রীর দিকে পিহু একবার দেখে উলটো ঘুরে গটগট পায়ে সাদির ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।পিহুর চোখ লাল।আজ তার ও রাগ হচ্ছে।ইচ্ছা করছে সাদির সকল কথা গুলো অমান্য করতে। তবে পিহু জানে এতে আতিয়ক বেগম ও কষ্ট পাবেন।পিহু নিজের ঘরে চলে যায় সোজা।
পিহু চলে যেতেই পাশে থাকা দেয়ালে সজোরে ঘুষি বসায় সাদি।চোখ গুলো গাড়ো লাল বর্ন ধারন করে।সাদি ফুশতে ফুশতে দু হাত দিয়ে নিজের চুল টেনে ধরে।ইচ্ছা করেই মেয়েটা তার কাছে মার খাই।সে তার কথা রাখতে পারলো না।সে তো বলেছিলো পিহু সিগনেচার করার পর আর তার গায়ে হাত তুলবে না তবুও কেন মারলো তাকে।
সাদি পর পর আরো দুটো ঘুশি বসায় দেয়ালে।হাত কেটে রক্ত পড়তে শুরু করে।তবে সাদির মধ্যে কোনো অনুভুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।তার মনে শুধু এটুকুই হচ্ছে সে তার কথা রাখতে পারে নি।তবে যে হাত দিয়ে পিহুকে কষ্ট দিয়েছে সেই হাত কেও সে কষ্ট দিলো।ইতিমধ্যে ঘরের মেঝেতে টপটপ রক্ত পড়ছে।সাদি মেঝেতে পড়তে থাকা রক্ত আর নিজের কাটা হাতের দিকে এক পলক তাকিয়ে জোরে একটা সয়তানি হাসি দিয়ে উঠে।চার দেওয়ালের হাসির ধ্বনি ধাক্কা খেয়ে আবার সাদির কানে এসে লাগে। সাদি রক্ত মাখা হাতে একটা চুমু খেয়ে হাসতে হাসতে বিছানায় সুয়ে পড়ে।হুট করেই খুব হাসি পাচ্ছে তার।
সময় চলে যায় স্রোতের মতো ইশান রা এ বাড়িতে এসেছে আজ চার দিন হয়ে গেলো।বাড়ির ভিতরের পরিবেশ যেনো প্রতিদিন আরো গুমোট ভাব ধরছে।এমন একটা ভাব ধরছে যেনো খোলা নীল আকাশ হটাৎ বিশাক্ত কালো মেঘে ছেয়ে গেছে।ইশান বাড়িতে আছে বলে সাদি খুব একটা বাড়িতে আসে না সব সময় ই প্রায় হসপিটাল এই থাকে।তবে মন পড়ে থাকে বাড়িতে।সবার অজান্তে ছোট্ট পিহুর কাছে।উকিল এর কাছ থেকে সকল কাগজ পত্র রেডি করে নিয়েছে সে।নিজের বন্ধুদের দিয়ে প্রধান শাক্ষির স্বাক্ষর গুলো করিয়েছে।সাদি কখোনো ভাবি নি পরিবার এর অজান্তে সিদ্ধান্ত ছাড়ায় এমন কি যাকে জীবনসঙ্গী করলো তার অজান্তেই তাকে বিয়ে করে সহধর্মীনি করে নিয়েছে।
সাদি জানেনা কেন এতো তাড়াহুড়ো করলো তবে সাদি এটা জানে একটা মেয়ের ইজ্জত মেয়েটার কাছে সব থেকে দামি আর সেটা সে মেয়েটার কাছ থেকে নিয়েছে।এখন কিভাবে মেয়েটাকে ছুড়ে ফেলবে। যদিও ভুল ছিলো।সবার চোখে ক্ষমার যোগ্য হলেও সাদির নিজের বিবেকের কাছে এই ভুলে ক্ষমা নেই আর এই ভুল শুধরানোর একটায় উপায় মেয়েটাকে বউ হিসাবে স্বিকৃতি দেওয়া।
সাদি এটাও জানে যে।বাড়ির মানুষ পিহুর অন্য যায়গায় বিয়ে ঠিক করবে।আর পিহু কখোনো সাদিকে হটাৎ এভাবে স্বামি হিসেবে তাদের বিয়ে মানবে না। তবুও সাদি কাগজ কলমে পিহুকে নিজের বউ করে রেখেছে।যেনো পিহু আর যাই হোক অন্য কারোর না হয়।সাদি বাড়িতে একজন কাজের লোক রেখেছে যদিও তার আসল কাজ পিহু কখন কি করছে সেটার আপডেট দেওয়া। কারন ফাইজ এর আচরন সাদির কাছে কখোনো সুবিধার লাগে নি।
সকাল সকাল প্রতিদিনের মতো সাদি চলে যেতেই ইশান আবার শুরু করেছে।নতুন নাটক।এতদিন যদিও জমি জায়গা নিয়ে ছিলো। তবে আজ উদ্দেশ্য ভিন্ন।কিছুক্ষন আগেই তারা ঘর থেকে আলোচনা করে এসেছে।যদিও এই কথা ফারজু এক চুল ও জানে না।আর ফারজুকে পিহুর সাথে সাদে পাঠিয়েই আলোচনা করতে বসেছে।
সোফায় বসে আছে ইলিয়াস চৌধুরী চোখ মুখ গম্ভীর।সে জানে ইশান আবারো জমিজায়গা নিয়ে কথা বলবে ঢাকার বাইরের প্রোপার্টি সব চাই তার।তবে ইলিয়াস চৌধুরী কখোনোই রাজি হয় নি আর হবেও না।যদিও ইলিয়াস চৌধুরীর চালাক মন ইশান এর উদ্দেশ্য বুজেছে।সেজন্য মোটেই রাজি না সে।যেহেতু ইশান রা বিদেশ চলে যাবে সেহেতু টাকা নিয়ে আবারো চলে যাওয়ার ধান্দা।তাকে আবারো একা করে ফেলে যাওয়ার ইচ্ছা।শুধু মাত্র আতিয়া বেগম কষ্ট পাবেন বলে তিনি চুপ আছেন।নয়তো ছেলের এখানে আসার আসল উদ্দেশ্য জানার পর পরই বাড়ি থেকে বের করে দিতেন তিনি।
ইলিয়াস চৌধুরী কে চুপ থাকতে ইশান বলে উঠে…
“বাবা তোমার সাথে কিছু বলার ছিলো।
“‘আমার কিছু শোনার ইচ্ছা নেই আমি আমার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়ে দিয়েছি..!
-” কিন্তু বাবা..?
-“কোনো কিন্তু না আমি শুনতে চাচ্ছি না..!
ইলিয়াস চৌধুরী কথা শেষ করতে না করতেই ইশানের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আতিয়া বেগম শান্ত শুরে ইলিয়াস চৌধুরীর উদ্দেশ্যে বলে উঠে..
-“আহা শুনো না ছেলেটা কি বলতে চায়।আর আমরা এতো জমিজমা রেখে কি করবো ওর ভাগের টা ওকে দিয়ে দিলেই তাও হয়।আমরা যখন থাকবো না তখন তো এমনিতেই পাবে।
-“তুমি চুপ করো। আমি আমি আমার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়ে দিয়েছি এটাই শেষ।
ইশান জোরে একটা নিঃশ্বাস ছাড়ে।ফাইজ এর রাগে শরীরে রক্ত টগবগ করে ফুটছে।ইশান বোদহয় লক্ষ করলো ফাইজ এর রাগ। তবে শেষ উপাই এটা।এতো কষ্ট করে নাটক করে খালি হাতে ফিরতে চায় না সে।ইশান গলা ঝেড়ে ইলিয়াস চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো….
-“বাবা আমি জমিজায়গা নিয়ে আর কথা বলতে চাচ্ছি না।আর ওগুলা বলার জন্য সরি।আমাকে মাফ করে দাও।আর আমি আজ অন্য বিষয়ে কথা বলতে চাচ্ছি..?
ইলিয়াস চৌধুরী সন্দিহান চোখে ইশান এর দিকে তাকালো।ইশান আগেই আতিয়া বেগম কে বলে রাজি করিয়েছেন।যেনো সফলতার এক ধাপ এগিয়ে গেলো তারা।আতিয়া বেগম প্রথমে অবাক হলেও ফাইজ এর ব্যাবহার আচরনে সে মুগ্ধ হয়েছে আর পিহুর সাথে বেশ মানাবেও তাকে।ইলিয়াস চৌধুরী নিজের গম্ভীরতা বজায় রেখেই বলে উঠলো…
-“আবার কিহ বলবা..?
-“আসলে বাবা আমি ফাইজ আর পিহুর বিয়ের সম্মন্ধ করতে চাচ্ছি।দুজন কে বেশ মানাবে..!
ইশানের কথায় যেনো আকাশ থেকে পড়লেন ইলিয়াস চৌধুরী। চোখ বড় বড় হয়ে অবাক হয়ে বলে উঠলো…
-“কিহহহহহ..?
-“হ্যাঁ বাবা আসলে ফাইজ পিহুকে পছন্দ করেছে।আর ফাইজ খুব ভালো ছেকে তুমি যানোই।আমরা বিদেশ চলে যাচ্ছি।আর আমি চাচ্ছি।পিহুকে ফাইজ এর সাথে বিয়ে দিয়ে বিদেশ নিয়ে যেতে।পরে আবার বাংলাদেশ আসবো কিছু বছর পর।
প্রথমে মন একটু ঘুরলেও বিদেশের কথা শুনে ইলিয়াস চৌধুরী আর ভাবে না।মোটেই পিহুকে কোল ছাড়া করবেন না।আশেপাশে বিয়ে দিবেন।নয়তো নিজের ছোট ভাইয়ের সম্বল তার কাছে সারাজীবন পড়ে থাক।একটা তো ইন্ডিয়ার বুকে আছে। বছর সালেও যোগাযোগ খুব একড়া হয় না বললেই চলে। আবার পিহুকেও দেশের বাইরে কোনোদিন ও না।
এদিকে ইলিয়াস চৌধুরীর ভাবনা দেখে ইশান আর ফাইজ মনে মনে হাসে।ইশান জানে ফাইজ এর কোনো খারাপ রেকর্ড নেই।সব কিছুই করে খুব নিখুঁত ভাবে। আর এ কদিন তো পুরো মাটির পুতুল হয়ে আছে ফাইজ।যেনো ভাজা মাছ উলটে খেতে পারে না। ইলিয়াস চৌধুরী ও রাজি হবেন এতে।
ইলিয়াস চৌধুরী আগের মতোই গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠে..
-“আমি পিহুকে দেশের বাইরে বিয়ে দিবো না সাথে ওকে এখন বিয়ে দিবো না কোনোভাবেই।
-“কিন্তু বাবা।।
ইশান আর কিছু বলতে যাবে তার কথার মাঝেই আতিয়া বেগম এগিয়ে আসে ইলিয়াস চৌধুরীর পাশে। নমনীয় কন্ঠে বলে…
-“মেয়ে তো একদিন না একদিন পরের ঘরে যেতেই হবে। রাজি হয়ে যাও।ফাইজ ছেলেটাও বেশ ভালো।আর বিদেশ তো কি হয়েছে। প্রতিদিন ই কথা হবে আমাদের।
-“আমি একবার বলেছি আমার সিদ্ধান্ত শেষ সিদ্ধান্ত। আমি বিয়ে দিবো না তো দিবো না।শেষ আর একটা কথা হবে না এই বিষয়ে।
কথাগুলো বেশ জোরেই বলে ইলিয়াস চৌধুরী।আতিয়া বেগম কেপে উঠে। স্বামির এমন জোরে কথা বলা অনেক দিন শুনেন নি তিনি।ইশান রেগে উঠে দাঁড়ায় সাথে ফাইজ ও। কিছু না বলে সোজা হাটা লাগায় ঘরের দিকে।কত আশা ছিলো।তাদের পিহুকে ফাইজ এর বউ বানাবে।এদিকে জমি জমা না পেলেও।ডুবাই গিয়ে পিহুকে চড়া দামে বিক্রি করে ফাইজ কে নির্ধারিত মেয়ের সাথে বিয়ে দিয়ে দিবে।
সমস্ত ইচ্ছায় পানি ঢেলে দিলো ইলিয়াস চৌধুরী। ইশান ঘরে যাওয়ার পর ফাইজ ও ঘরে ঢুকতে যায় তবে ঢোকার আগে ঘরের প্রবেশ দরজায় একটা লাথি মেরে বিড়বিড় করে বলে উঠে..
-“মি: ইলিয়াস চৌধুরী পিহুকেও আমি নিবো সাথে আপনার বউ এর কথা অনুযায়ী সকল সম্পত্তি ও নিবো।সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাকাতে আমি যানি।বলেই হেসে উঠে ফাইজ।
চলবে…..
বি:দ্রঃ কার মনে কি আছে কেও জানেনা। তবে সাদিকে নায়ক হিসেবে মানতে কারোর কি কষ্ট হচ্ছে।বাকি কাহিনী কাল ক্লিয়ার হয়ে যাবে।
-(এটাই পিহুর কল্পনার শেষ পর্ব। পুরোপুরি ক্লিয়ার করার জন্যই পুরো কাহিনী টা বলছি।আজকেও বেশি বড় পর্ব দিলাম না তবে দিয়েছি। কাল থেকে নিয়মিত গল্প পাবে ইনশাআল্লাহ।আমার জন্য দোয়া করিও।তাড়াতাড়ি সুস্থ হতে পারি)–
Share On:
TAGS: নিষিদ্ধ চাহনা, সারা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৯
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১২
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৩
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৯
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৪
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৫
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৩১
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৮
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১২
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৬